যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই মাসের সামাজিক নিরাপত্তা (Social Security) ভাতার দ্বিতীয় ধাপের অর্থ বিতরণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, মাসের নির্দিষ্ট জন্মতারিখের সঙ্গে মিল থাকা লাখো অবসরপ্রাপ্ত, প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য যোগ্য উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে এই সপ্তাহে অর্থ জমা হচ্ছে। যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে কেউ কেউ মাসে সর্বোচ্চ ৫,১৮১ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভাতা পেতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের (SSA) নিয়ম অনুযায়ী, যেসব উপকারভোগীর জন্ম মাসের ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তারা জুলাইয়ের তৃতীয় বুধবার অর্থপ্রদান পান। অন্যদিকে, ২১ তারিখ বা তার পরে জন্মগ্রহণকারীরা চতুর্থ বুধবার ভাতা পান। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করছেন অথবা একই সঙ্গে Supplemental Security Income (SSI) পান, তাদের জন্য আলাদা অর্থপ্রদানের সময়সূচি প্রযোজ্য।
সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। এটি নির্ধারণ করা হয় একজন কর্মজীবনে কত আয় করেছেন, কত বছর সামাজিক নিরাপত্তা কর পরিশোধ করেছেন এবং কোন বয়সে অবসরভাতা গ্রহণ শুরু করেছেন—এসব বিষয় বিবেচনা করে। ফলে সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলার কেবল সেই ব্যক্তিরাই পেতে পারেন, যারা দীর্ঘ কর্মজীবনে সর্বোচ্চ করযোগ্য আয় করেছেন এবং ৭০ বছর বয়সে গিয়ে ভাতা গ্রহণ শুরু করেছেন।
২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, পূর্ণ অবসর বয়সে (৬৬ থেকে ৬৭ বছর, জন্মসালের ওপর নির্ভরশীল) অবসর নিলে সর্বোচ্চ মাসিক ভাতা হতে পারে ৪,১৫২ ডলার। আর ৬২ বছর বয়সে, অর্থাৎ সর্বপ্রথম সুযোগে অবসরভাতা নিলে সর্বোচ্চ প্রাপ্য ভাতা প্রায় ২,৯৬৯ ডলার। বিপরীতে, ৭০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
,অবসরভাতা আগেভাগে গ্রহণ করলে আজীবনের মাসিক ভাতা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে স্বাস্থ্যগত সমস্যা, চাকরি হারানো বা আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই আগেই ভাতা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে, আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য অবসরভাতা গ্রহণ বিলম্বিত করলে দীর্ঘমেয়াদে বেশি মাসিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব।
এদিকে, জুলাই মাসে কিছু SSI গ্রাহক দুটি অর্থপ্রদানও পাবেন। ১ জুলাই নিয়মিত জুলাই মাসের অর্থ দেওয়ার পর ৩১ জুলাই আগস্ট মাসের অর্থ আগাম পরিশোধ করা হবে, কারণ ১ আগস্ট শনিবার হওয়ায় অর্থপ্রদানের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি অতিরিক্ত ভাতা নয়; কেবল ক্যালেন্ডারের কারণে আগাম পরিশোধ।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর একটি। দেশটির কোটি কোটি অবসরপ্রাপ্ত, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা প্রতি মাসে এই কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পান। উপকারভোগীদের অর্থ সময়মতো পেতে ব্যাংক হিসাব, সরাসরি জমা (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) বা অন্যান্য তথ্য হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দিয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে টি-শার্টে লেখা একটি বার্তাকে কেন্দ্র করে এক ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত যাত্রীর সঙ্গে বিমান সংস্থার বিরোধের ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যাত্রীদের অধিকার এবং এয়ারলাইন্সের পোশাকবিষয়ক নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নিউ জার্সির লিনডেন শহরের বাসিন্দা স্যাম সাদেহ জানান, তিনি আটলান্টা থেকে নিউয়ার্কগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় এমন একটি টি-শার্ট পরেছিলেন, যাতে লেখা ছিল, “শিশুদের ওপর হামলা আত্মরক্ষার অধিকার নয়।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই বার্তাটি কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং যুদ্ধ ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে লেখা। সাদেহর অভিযোগ, বোর্ডিংয়ের পর এক সুপারভাইজার তার কাছে এসে টি-শার্টটি পরিবর্তন বা ঢেকে ফেলতে বলেন। অন্যথায় তাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে তিনি শেষ পর্যন্ত পোশাক পরিবর্তনে সম্মত হন। ঘটনার পর সাদেহ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের (U.S. Department of Transportation) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হয়েছে এবং তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। এদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানায়, যাত্রীদের পোশাকসংক্রান্ত একটি আচরণবিধি তাদের রয়েছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো পোশাক বা বার্তা যদি অন্য যাত্রীদের কাছে আপত্তিকর, উসকানিমূলক বা অস্বস্তিকর বলে বিবেচিত হয়, তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মীরা ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেনি। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মানবিক বার্তা বহনকারী একটি টি-শার্টকে আপত্তিকর হিসেবে বিবেচনা করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলেছে। আবার অন্যদের মতে, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বিমান সংস্থার নিজস্ব নীতিমালা প্রয়োগের অধিকার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো সাধারণত যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট আচরণবিধি অনুসরণ করে। এসব নীতিমালায় এমন পোশাক বা বার্তা পরিহারের কথা বলা হয়, যা অশ্লীল, হুমকিমূলক বা অন্যদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তবে কোন বার্তাকে ‘আপত্তিকর’ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক দেখা দেয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ফিলিস্তিন–ইসরায়েল ইস্যু ঘিরে জনমত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নীতিমালার সীমা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে পরিবহন বিভাগের তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই মাসের সামাজিক নিরাপত্তা (Social Security) ভাতার দ্বিতীয় ধাপের অর্থ বিতরণ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, মাসের নির্দিষ্ট জন্মতারিখের সঙ্গে মিল থাকা লাখো অবসরপ্রাপ্ত, প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য যোগ্য উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে এই সপ্তাহে অর্থ জমা হচ্ছে। যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে কেউ কেউ মাসে সর্বোচ্চ ৫,১৮১ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভাতা পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের (SSA) নিয়ম অনুযায়ী, যেসব উপকারভোগীর জন্ম মাসের ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তারা জুলাইয়ের তৃতীয় বুধবার অর্থপ্রদান পান। অন্যদিকে, ২১ তারিখ বা তার পরে জন্মগ্রহণকারীরা চতুর্থ বুধবার ভাতা পান। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকে সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করছেন অথবা একই সঙ্গে Supplemental Security Income (SSI) পান, তাদের জন্য আলাদা অর্থপ্রদানের সময়সূচি প্রযোজ্য। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। এটি নির্ধারণ করা হয় একজন কর্মজীবনে কত আয় করেছেন, কত বছর সামাজিক নিরাপত্তা কর পরিশোধ করেছেন এবং কোন বয়সে অবসরভাতা গ্রহণ শুরু করেছেন—এসব বিষয় বিবেচনা করে। ফলে সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলার কেবল সেই ব্যক্তিরাই পেতে পারেন, যারা দীর্ঘ কর্মজীবনে সর্বোচ্চ করযোগ্য আয় করেছেন এবং ৭০ বছর বয়সে গিয়ে ভাতা গ্রহণ শুরু করেছেন। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, পূর্ণ অবসর বয়সে (৬৬ থেকে ৬৭ বছর, জন্মসালের ওপর নির্ভরশীল) অবসর নিলে সর্বোচ্চ মাসিক ভাতা হতে পারে ৪,১৫২ ডলার। আর ৬২ বছর বয়সে, অর্থাৎ সর্বপ্রথম সুযোগে অবসরভাতা নিলে সর্বোচ্চ প্রাপ্য ভাতা প্রায় ২,৯৬৯ ডলার। বিপরীতে, ৭০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে সর্বোচ্চ ৫,১৮১ ডলার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ,অবসরভাতা আগেভাগে গ্রহণ করলে আজীবনের মাসিক ভাতা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে স্বাস্থ্যগত সমস্যা, চাকরি হারানো বা আর্থিক সংকটের কারণে অনেকেই আগেই ভাতা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে, আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য অবসরভাতা গ্রহণ বিলম্বিত করলে দীর্ঘমেয়াদে বেশি মাসিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব। এদিকে, জুলাই মাসে কিছু SSI গ্রাহক দুটি অর্থপ্রদানও পাবেন। ১ জুলাই নিয়মিত জুলাই মাসের অর্থ দেওয়ার পর ৩১ জুলাই আগস্ট মাসের অর্থ আগাম পরিশোধ করা হবে, কারণ ১ আগস্ট শনিবার হওয়ায় অর্থপ্রদানের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি অতিরিক্ত ভাতা নয়; কেবল ক্যালেন্ডারের কারণে আগাম পরিশোধ। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর একটি। দেশটির কোটি কোটি অবসরপ্রাপ্ত, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা প্রতি মাসে এই কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পান। উপকারভোগীদের অর্থ সময়মতো পেতে ব্যাংক হিসাব, সরাসরি জমা (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) বা অন্যান্য তথ্য হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দিয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন।
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: নিউইয়র্ক সিটির ভাসমান সামরিক ও নৌ-ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্র Intrepid Museum-এর কাছে গড়ে ওঠা গৃহহীনদের একটি শিবির নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েও সরাসরি জবাব দেননি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র Zohran Mamdani। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিক অভিযোগ সত্ত্বেও শিবিরটি কেন এখনও অপসারণ করা হয়নি—সোমবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। ব্রুকলিনে এক পৃথক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো নিউইয়র্কবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাদের জন্য স্থায়ী আবাসনের পথ তৈরি করা। শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরিয়ে দেওয়াই সমাধান নয়।” স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানহাটনের মিডটাউনে ইন্ট্রেপিড মিউজিয়ামের বাইরে গৃহহীনদের এই শিবির নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ৩১১ সেবায় অভিযোগ জমা পড়লেও সেগুলোর কার্যকর সমাধান হয়নি। বর্তমান প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী, গৃহহীনদের শিবির উচ্ছেদের দায়িত্ব এখন আর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (NYPD) নয়; এটি পরিচালনা করছে সিটি Department of Homeless Services (DHS)। প্রচলিত নীতিতে, টানা সাত দিন সামাজিক সহায়তা ও আশ্রয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরও কেউ শিবিরে থাকলে সেটি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ম্যানহাটনের টুয়েলফথ অ্যাভিনিউ ও ওয়েস্ট ৪৬তম স্ট্রিট-সংলগ্ন এলাকায় গৃহহীনদের এই শিবিরে এখনও লোকজন অবস্থান করছেন এবং তা অপসারণ করা হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন ইন্ট্রেপিড এলাকার শিবির অপসারণে বিলম্বের নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।