আমেরিকা

২০ বছর পলাতক থাকার পর ধরা পড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ৮:৪০
আটক হওয়া রোনাল্ড ফিশার। ছবি:সংগৃহীত
আটক হওয়া রোনাল্ড ফিশার। ছবি:সংগৃহীত

দুই দশক ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের দণ্ডিত যৌন অপরাধী রোনাল্ড এল. ফিশার। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক উপকূল থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে সমুদ্রে ভাসমান তার পালতোলা নৌযান থেকে তাকে আটক করে মার্কিন মার্শালস সার্ভিস।

 

মার্কিন মার্শালস সার্ভিস জানিয়েছে, ৭০ বছর বয়সী ফিশার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ‘দ্য সিলভার লাইনিং’ নামের ৫৬ ফুট দীর্ঘ একটি পালতোলা নৌযানে অবস্থান করছিলেন। নৌযানটি ‘রিচার্ড গ্রেডন’ নামে নিবন্ধিত ছিল, যা ফিশারের ব্যবহৃত একাধিক ছদ্মনামের একটি।

 

তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে নিজের ‘লায়ন কিং’ নামের ইয়টে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফিশারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০০৫ সালে রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে সেই মামলার বিচার চলাকালে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। বিচার শেষ হওয়ার আগেই তিনি নিখোঁজ হয়ে গেলেও আদালত তার অনুপস্থিতিতেই বিচার সম্পন্ন করে এবং তাকে প্রথম ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে।

 

মামলার সমাপনী যুক্তিতর্ক শুরুর কয়েক দিন আগে নিজের আইনজীবীকে পাঠানো এক ইমেইলে ফিশার দাবি করেছিলেন, তিনি নির্দোষ। তবে দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তির ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও তিনি লিখেছিলেন।

 

কর্তৃপক্ষ জানায়, ফিশার একসময় অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। তিনি দক্ষ নাবিক এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘদিন গ্রেপ্তার এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন। তার বিরুদ্ধে আদালতে হাজির না হওয়া, প্রথম ডিগ্রির যৌন নিপীড়ন এবং বিচার এড়াতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।

 

রোড আইল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক অবস্থায় তাকে ধরিয়ে দিতে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘আমেরিকাস মোস্ট ওয়ান্টেড’-এ একাধিকবার তার পরিচয় ও তথ্য প্রচার করা হয়েছিল।

 

মার্কিন মার্শালস সার্ভিস জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের আগে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে ফিশারের অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর সমুদ্রে তার নৌযানকে আটকে কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

 

গ্রেপ্তারের পর ফিশারকে প্রথমে নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নেওয়া হয়। পরে তাকে ম্যানহাটনে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত হবে, তিনি বিচার এড়িয়ে পালিয়ে থাকার অভিযোগে ফেডারেল আদালতে হাজির হবেন, নাকি রোড আইল্যান্ডে প্রত্যর্পণের শুনানির জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আদালতে পাঠানো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
আটকের করার সময়। ছবি:সংগৃহীত
উবারে বিয়ার খেতে না চাওয়ায় , কেঁচি দিয়ে বান্ধুবীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে ফ্লোরিডার নারী গ্রেপ্তার

ফ্লোরিডার মিয়ামিতে উবারে যাত্রার সময় বিয়ার পান করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে নিজের বন্ধুকে কাঁচি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত লিন মেরি জামোরা নামের ৩২ বছর বয়সী ওই নারীর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে গুরুতর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।   গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত নথির বরাত দিয়ে আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ল অ্যান্ড ক্রাইম জানিয়েছে, সোমবার রাতে মিয়ামির বেস্ট ওয়েস্টার্ন প্লাস কেনডাল হোটেল অ্যান্ড স্যুটস থেকে উবারে ওঠেন জামোরা ও তার এক পুরুষ বন্ধু। তারা আরেক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন।   পথে জামোরা উবারে বসেই একটি বিয়ার পান করতে চান। কিন্তু তার সঙ্গে থাকা বন্ধু জানান, উবারের গাড়িতে খোলা অবস্থায় মদ্যপান করা যাবে না। পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে জামোরা বিরক্ত হয়ে পড়েন।   অভিযোগ অনুযায়ী, বন্ধুটি একাধিকবার তাকে বিয়ার পান না করার অনুরোধ জানালে জামোরা নিজের ব্যাগ থেকে একটি কাঁচি বের করে তার বাম বাহু ও বাম পায়ের পেশিতে আঘাত করেন।   ঘটনার পর উবারচালক দ্রুত গাড়ি থামিয়ে বাইরে নেমে যান। আহত যাত্রীও গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে চালক জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জামোরাকে আটক করে।   আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার আঘাত গুরুতর হলেও প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল না।   পুলিশ জামোরার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে গুরুতর হামলার অভিযোগ দায়ের করে তাকে টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে পাঠায়।   উবারের কমিউনিটি গাইডলাইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকালে মাদক কিংবা খোলা অবস্থায় অ্যালকোহলের বোতল বহন বা পান করা নিষিদ্ধ।   বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে হাজির করা হলে জানা যায়, জামোরা এর আগেও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী এক ব্যক্তির ওপর হামলার মামলায় প্রবেশনে ছিলেন। আদালতে আরও জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে অতীতেও হামলা ও মারধরের একাধিক দণ্ড এবং ইলেকট্রনিক নজরদারি যন্ত্রে হস্তক্ষেপের একটি দণ্ড রয়েছে।   শুনানিতে জামোরার আইনজীবী তাকে হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন করলেও বিচারক তা নাকচ করে দেন। কারণ, আগের মামলার প্রবেশন ভঙ্গের বিষয়টি আগে আলাদাভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে আদালত উল্লেখ করেন।     বিচারক ৭ হাজার ৫০০ ডলার বন্ড নির্ধারণ করে তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, এ মামলায় জামোরার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১২ আগস্ট।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ৯:২৫
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন, কঠোর হচ্ছে আবেদন যাচাই

নতুন জীবনের সূচনা: পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড। ছবি:সংগৃহীত

ফুড স্ট্যাম্প-মেডিকেইড নিলে গ্রিন কার্ড নাও মিলতে পারে, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি ফিরিয়ে আনছে ট্রাম্প প্রশাসন

আটক হওয়া রোনাল্ড ফিশার। ছবি:সংগৃহীত

২০ বছর পলাতক থাকার পর ধরা পড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী

আমেরিকার ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে অবস্থিত ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাপিটল। ছবি:সংগৃহীত
মেরিল্যান্ডে রেড অ্যালার্ট, ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় মেরিল্যান্ডজুড়ে বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে অঙ্গরাজ্যজুড়ে ‘কোড রেড’ বায়ুমান সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম মেরিল্যান্ডে ‘কোড পার্পল’ বা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বায়ুমানের পূর্বাভাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা।   মেরিল্যান্ডের গভর্নর ওয়েস মুর জানান, ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম কণার প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের বেশির ভাগ সময় পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বায়ুমান বিরাজ করতে পারে। শুক্রবার অঙ্গরাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় বায়ুমান ‘কোড রেড’ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। তবে শনিবার থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।   গভর্নর মুর বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি, তারা যেন ঘরের ভেতরে থাকেন এবং জানালা বন্ধ রাখেন। পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা স্বজনদের খোঁজ নেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।   পরিবেশ কর্মকর্তারা জানান, ‘কোড রেড’ অবস্থায় বায়ুদূষণ শুধু শিশু, বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তিদের নয়, সুস্থ মানুষের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান না করা এবং দীর্ঘ সময় বা ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে পশ্চিম মেরিল্যান্ডে পূর্বাভাস দেওয়া ‘কোড পার্পল’ পরিস্থিতিতে বায়ুর মান আরও খারাপ থাকবে। এ অবস্থায় সবারই বাইরে কষ্টসাধ্য কাজ সীমিত রাখা উচিত। বিশেষ করে ফুসফুস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।   স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন হাঁপানি, সিওপিডি বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু এবং যাদের পেশাগত কারণে বাইরে কাজ করতে হয়। বাইরে যেতে বাধ্য হলে সময় যতটা সম্ভব কম রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনে ভালোভাবে ফিট করা এন৯৫ বা কেএন৯৫ মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে গরম আবহাওয়ায় এসব মাস্ক পরে শ্বাস নিতে কিছুটা কষ্ট হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।   বাসিন্দাদের জানালা ও দরজা বন্ধ রাখতে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থাকলে ‘রিসার্কুলেট’ মোড ব্যবহার করতে এবং সম্ভব হলে ঘরের ভেতরে এয়ার পিউরিফায়ার চালানোর পরামর্শ দিয়েছে মেরিল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ। একই সঙ্গে বাইরের ব্যায়াম, খেলাধুলা ও অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম বায়ুর মান স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে।   কর্মকর্তারা আরও জানান, দাবানলের ধোঁয়ার কারণে কাশি, শ্বাসকষ্ট, শোঁ শোঁ শব্দে শ্বাস নেওয়া, বুকে চাপ অনুভব বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ গুরুতর হলে বা কমে না গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শ্বাস নিতে মারাত্মক সমস্যা বা তীব্র বুকে ব্যথা হলে জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।   এদিকে অঙ্গরাজ্যের সরকারি সংস্থাগুলোকে সম্ভব হলে বাইরের কার্যক্রম ঘরের ভেতরে স্থানান্তর করতে এবং বাইরে কর্মরত কর্মীদের সময় সীমিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাইরে কর্মরত অ-জরুরি সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ ছুটির সুবিধাও রাখা হয়েছে।   কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান বায়ুমানের সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা হালনাগাদ করা হবে।

মিজানুর রহমান প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ৮:১০
যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ছবি:সংগৃহীত

২০৩৩ সাল থেকে অবসরে যাওয়া দম্পতিদের বছরে কমতে পারে ১৭ হাজার ডলারের বেশি সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা

Donald Trump ছবি: সংগৃহীত

ভাষণ সম্প্রচার না করায় এবিসি, এনবিসি ও সিএনএনের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা এবং উইসকনসিন, অঙ্গরাজ্যের কিছু অংশের একটি আবহাওয়া বা সতর্কতার মানচিত্র। ছবি:সংগৃহীত

মিনেসোটার আবহাওয়া আপডেট: টুইন সিটিজে জরুরি সতর্কতা

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে শাহীন-৩ সারফেস-টু-সার্ফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন দেশটির সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। ছবি:সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন করে পাকিস্তানকে কঠিন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের মুখে ফেলেছে। ইসলামাবাদ এখন একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখার চাপের মুখে, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সম্পর্কও অক্ষুণ্ন রাখতে চাইছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে পাকিস্তান সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।    ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই হামলার পর পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, সৌদি আরব যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক সহায়তা চায়, তাহলে দুই দেশের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কারণে ইসলামাবাদকে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। বর্তমানে সৌদি আরবে পাকিস্তানের সেনাসদস্য ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাও অব্যাহত আছে।   একই সময়ে পাকিস্তান ইরানের সঙ্গেও প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগাভাগি করে। সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ। সংঘাত বিস্তৃত হলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ, সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, অস্ত্র ও মাদক পাচার এবং নতুন করে শরণার্থী সংকটের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। এতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।    পাকিস্তানের জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ অর্থনীতি। দেশটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি কিংবা লোহিত সাগরের নৌপথে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে।   এতে পাকিস্তানের আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে হুথিদের লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হামলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।   কূটনৈতিক পর্যায়ে পাকিস্তান এখনো সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করছে। দেশটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে এবং উভয় পক্ষকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যুদ্ধ বিস্তার রোধ করাই তাদের অগ্রাধিকার।    তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত হয় এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে পাকিস্তানের সামনে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা ইসলামাবাদকে অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক সমীকরণের মধ্যে ফেলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যুদ্ধ এড়াতে চাইলেও আঞ্চলিক বাস্তবতা দেশটিকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ৬:২৬
গাড়ি ড্রাইভিং। ছবি:সংগৃহীত

গাড়ির গতি বাড়ালে কি সত্যিই জ্বালানি খরচ কমে? গবেষণা কি বলছে!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

ট্রাম্পের নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে ভাষণ মাঝপথে বন্ধ করল সিবিএস, সম্প্রচারই করল না এবিসি ও এনবিসি

দাবানলের  ধোঁয়া। ছবি: সংগৃহীত

দাবানলের ধোঁয়ায় ওয়াশিংটন ডিসির বায়ু অস্বাস্থ্যকর , ঘরে থাকার পরামর্শ

0 Comments