সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

গবেষণা

বর্জ্য প্লাস্টিক ও উদ্ভিদবর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে ভ্যানিলা স্বাদের প্রোটিন বিস্কিট
বর্জ্য প্লাস্টিক ও উদ্ভিদবর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে ভ্যানিলা স্বাদের প্রোটিন বিস্কিট

ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও কৃষিজ বর্জ্যকে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারে রূপ দিতে সক্ষম বিশেষভাবে পরিবর্তিত ইস্ট বা খামির তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলের গবেষকেরা। ‘মাইক্রোবাইটস’ নামে পরিচিত এই খাবারকে থ্রিডি ফুড প্রিন্টারের মাধ্যমে কুকির আকার দেওয়া হচ্ছে। গবেষণাটি ভবিষ্যতে মহাকাশযাত্রা, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ও খাদ্যসংকটে থাকা অঞ্চলে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে খাবার তৈরির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।   আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির ২০২৬ সালের ফল সম্মেলনে ২৪ আগস্ট গবেষণাটির নতুন ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষক দলটি নাসার ‘ডিপ স্পেস ফুড চ্যালেঞ্জ’-এর আওতায় দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশনের জন্য টেকসই খাবার তৈরির এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।   গবেষকেরা পিইটি প্লাস্টিক, ফেলে দেওয়া ভুট্টার কাণ্ড ও পাতা এবং অন্যান্য উদ্ভিদবর্জ্য প্রথমে পানি, তাপ, চাপ ও অক্সিজেন ব্যবহার করে ভেঙে ছোট কার্বনসমৃদ্ধ অণুতে পরিণত করেন। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় অক্সিডেটিভ হাইড্রোথার্মাল ডিসলিউশন। এরপর এসব উপাদান বিশেষভাবে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ইস্টকে খাওয়ানো হয়।   ইস্টগুলো ওই কার্বনসমৃদ্ধ উপাদানকে ব্যবহার করে প্রোটিন, চর্বি ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান তৈরি করে। পরে এসব উপাদানের সঙ্গে স্টার্চ, ফাইবার ও মিষ্টি উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হয় কুকির মিশ্রণ। থ্রিডি ফুড প্রিন্টারের মাধ্যমে মিশ্রণটি স্তর ধরে নির্দিষ্ট আকৃতিতে তৈরি করা হয় ‘মাইক্রোবাইটস’ কুকি।   গবেষণাটির নতুন দিক হলো কুকির স্বাদ ও পুষ্টিমান আরও উন্নত করতে ইস্টের মধ্যেই প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরির ব্যবস্থা করা। গবেষকেরা এমন ইস্ট তৈরি করেছেন, যা উদ্ভিদবর্জ্য থেকে ভ্যানিলার স্বাদ ও গন্ধের জন্য দায়ী ভ্যানিলিন তৈরি করতে পারে। আরেক ধরনের ইস্ট পিইটি প্লাস্টিক থেকে পাওয়া ইথিলিন গ্লাইকোল ব্যবহার করে বিটা-ক্যারোটিন তৈরি করতে পারে, যা শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে।   তবে এই কুকি এখনো সাধারণ বাজারের খাবার নয়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় কুকিগুলো খাওয়ার উপযোগী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও আনুষ্ঠানিক স্বাদ পরীক্ষার জন্য এখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে। এ পর্যন্ত করা গন্ধের মূল্যায়নে বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী সীমিত সম্পদের পরিস্থিতিতে এই খাবার খেতে আগ্রহী হওয়ার কথা জানিয়েছেন।   গবেষকদের লক্ষ্য শুধু প্লাস্টিক দূষণ কমানো নয়, একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান তৈরি করা। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশন, সাবমেরিন, দুর্যোগকবলিত এলাকা বা কৃষির সুযোগ সীমিত এমন অঞ্চলে খাদ্য ও পুষ্টির নতুন উৎস হিসেবে কাজে লাগতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের আগে নিরাপত্তা, উৎপাদন ব্যয়, পুষ্টিমান এবং ভোক্তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান
চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান, পরে জানলেন বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী

মায়ের আলঝেইমার রোগ নিয়ে গবেষণায় সহায়তা হবে, এই বিশ্বাসে ২০১৩ সালে তার দেহ বিজ্ঞানের জন্য দান করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার বাসিন্দা জিম স্টফার। কিন্তু কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন, মায়ের দেহ চিকিৎসা গবেষণায় নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সামরিক পরীক্ষায় দেহ ব্যবহারের অনুমতি তিনি স্পষ্টভাবেই দেননি।    জিমের মা ডরিস স্টফার ২০১৩ সালে ৭৪ বছর বয়সে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত অবস্থায় মারা যান। পরিবারের আশা ছিল, তার মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করলে আলঝেইমার সম্পর্কে নতুন কিছু জানা যেতে পারে। একটি নার্সের পরামর্শে পরিবার যোগাযোগ করে অ্যারিজোনাভিত্তিক বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের সঙ্গে।    দেহ হস্তান্তরের সময় জিম একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেন। সেখানে চিকিৎসা গবেষণার অনুমতি দিলেও সামরিক, ট্রাফিক সেফটি কিংবা বিস্ফোরণসহ ধ্বংসাত্মক পরীক্ষায় মায়ের দেহ ব্যবহার করা যাবে না, এমন অপশনে তিনি ‘না’ চিহ্নিত করেছিলেন।    এর প্রায় ১০ দিন পর পরিবারকে কিছু দাহ করা দেহাবশেষ ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু ডরিসের দেহ আসলে কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। পরে রয়টার্সের তদন্তে উঠে আসে, বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার ডরিসের একটি হাত আলাদা করে দাহ করেছিল এবং সেই ছাই পরিবারকে ফেরত দিয়েছিল। বাকি দেহটি অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি গবেষণা প্রকল্পে পাঠানো হয়েছিল।    সেনাবাহিনীর ওই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল রাস্তার পাশে পাতা বোমা বা আইইডি বিস্ফোরণের সময় মানবদেহে কী ধরনের ক্ষতি হয়, তা বোঝা। ডরিসের দেহ সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অথচ তার মস্তিষ্ক আলঝেইমার গবেষণায় ব্যবহারই করা হয়নি।    রয়টার্সের পর্যালোচনা করা অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যায়, ডরিস ছাড়াও অন্তত ২০টি দেহ একই ধরনের সামরিক বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে দাতাদের বা তাদের পরিবারের প্রয়োজনীয় সম্মতি ছিল না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নিজস্ব নীতিরও লঙ্ঘন ছিল।    সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা পরে জানান, তারা সংশ্লিষ্ট পরিবারের আসল সম্মতিপত্র দেখেননি। বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের কাছ থেকে পরিবারগুলো সামরিক পরীক্ষায় সম্মতি দিয়েছে এমন আশ্বাসের ওপর নির্ভর করেছিলেন তারা।    ডরিসের দেহের প্রকৃত পরিণতি পরিবারকে জানিয়েছিল না বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার, না সেনাবাহিনী। ২০১৬ সালে রয়টার্সের একজন সাংবাদিকের কাছ থেকেই জিম প্রথম জানতে পারেন, তার মায়ের দেহ আলঝেইমার গবেষণায় নয়, বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল।    পরে জিমসহ আরও অনেক পরিবার বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মৃত স্বজনদের দেহ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল এবং সম্মতি ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে দেহ বা দেহাংশ বিক্রি করা হয়েছিল।    ২০১৯ সালে অ্যারিজোনার একটি সিভিল জুরি মামলার ২১ বাদীর মধ্যে ১০ জনের পক্ষে রায় দেয়। মোট ৫৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ মিলিয়ন ডলার ছিল ক্ষতিপূরণমূলক এবং ৫০ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ।    মামলায় উঠে আসে, বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার চিকিৎসা গবেষণার কথা বলে দেহ সংগ্রহ করলেও কিছু দেহ সামরিক পরীক্ষায় বিক্রি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যতালিকায় একটি মাথাবিহীন ধড় ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত বিক্রির তথ্যও আদালতে দেখানো হয়।    বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের মালিক স্টিফেন গোর এর আগে ২০১৫ সালে বেআইনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। রয়টার্সের তদন্ত অনুযায়ী, এক দশকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ হাজার দাতার দেহ থেকে ২০ হাজারের বেশি দেহাংশ বিক্রি করেছিল।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং পুরো দেহ দানের ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রক পার্থক্যও সামনে আনে। অঙ্গ প্রতিস্থাপন কঠোর ফেডারেল নিয়মের আওতায় থাকলেও গবেষণা ও শিক্ষার জন্য দান করা পূর্ণ মানবদেহ বা দেহাংশের বাণিজ্যে সে সময় তুলনামূলকভাবে খুব কম নজরদারি ছিল।    জিম স্টফারের জন্য বিষয়টি ছিল কেবল একটি আইনি লড়াই নয়। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মায়ের অসুস্থতা নিয়ে গবেষণায় সাহায্য করার আশায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত এমন এক ব্যবস্থার মুখোশ খুলে দেয় যেখানে পরিবারের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও দান করা মানবদেহ অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা। যুক্তরাজ্যের বর্তমান অভিবাসন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়া গবেষকরা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে মাত্র তিন বছর পর দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইনের জন্য আবেদন করতে পারেন।   যুক্তরাজ্য সরকারের হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের অনুমোদনের ভিত্তিতে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য তিন বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে। তবে শুধু তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে ধারাবাহিক বসবাসসহ অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়।   গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ হলো ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন বা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদিত গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের ভিত্তিতে আবেদন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ইউকেআরআই অনুমোদিত কোনো যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা গবেষণার জন্য যুক্ত থাকতে হবে এবং তার গবেষণার অর্থায়নও অনুমোদিত কোনো তহবিলদাতার কাছ থেকে আসতে হবে।   এই পথে আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের মূল্য কমপক্ষে ৩০ হাজার পাউন্ড হতে হবে এবং সেটির মেয়াদ অন্তত দুই বছর হতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর চাকরির চুক্তি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হোস্টিং চুক্তির অন্তত এক বছর বাকি থাকতে হবে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারীকে তার মোট কর্মসময়ের অন্তত ৫০ শতাংশ ওই গবেষণা অনুদানের আওতাধীন কাজে ব্যয় করতে হবে। প্রধান গবেষক বা সহগবেষকের ক্ষেত্রে একাধিক যোগ্য গবেষণা অনুদানে কাজের সময় একত্র করে এই ৫০ শতাংশের শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে।   গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার বড় সুবিধাগুলোর একটি হচ্ছে কর্মক্ষেত্রের স্বাধীনতা। এটি সাধারণ স্পনসরনির্ভর ওয়ার্ক ভিসার মতো নির্দিষ্ট একটি চাকরির সঙ্গে একইভাবে আবদ্ধ নয়। ভিসাধারীরা নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে চাকরি করতে, চাকরি পরিবর্তন করতে কিংবা স্বনিযুক্ত হিসেবে কাজ করতে পারেন। ফলে গবেষক ও উদ্ভাবকদের ক্যারিয়ার পরিচালনায় তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা থাকে।   স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে গবেষকদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদন পাওয়া গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারী গবেষকরা গবেষণার কাজে যুক্তরাজ্যের বাইরে যে সময় কাটান, নির্দিষ্ট শর্তে সেই গবেষণাসংশ্লিষ্ট অনুপস্থিতি ধারাবাহিক বসবাসের হিসাবকে বাধাগ্রস্ত করে না।   তবে তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় শুধু ভিসার মেয়াদ পূরণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে আয় করার প্রমাণসহ প্রযোজ্য অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হয়। বর্তমান নিয়মে ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা এবং যুক্তরাজ্যের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত নির্ধারিত পরীক্ষার শর্তও রয়েছে।   ফলে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা শুধু যুক্তরাজ্যে গবেষণা বা চাকরির সুযোগ নয়, যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথও তৈরি করছে। বিশেষ করে ইউকেআরআই অনুমোদিত গবেষণা অনুদান এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের জন্য এই ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ক্যারিয়ার গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
নতুন গবেষণা পর্যালোচনায় দীর্ঘায়ু ও প্রোটিন গ্রহণের সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা

ক্যালোরি কমিয়ে কঠোর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ না করেও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যালোচনা। গবেষকদের দাবি, বিশেষ করে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, তাদের ক্ষেত্রে প্রোটিনের পরিমাণ কিছুটা কমানো একই ধরনের বিপাকীয় সুবিধা দিতে পারে, যা আগে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হতো।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫০টিরও বেশি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Cell Press Blue-এ। এতে দেখা গেছে, খাদ্যতালিকায় প্রোটিন কমানো হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া, কোষের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুষ্টি-সংকেত নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কোষের ক্ষতি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহও কমতে পারে।   গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফাইব্রোব্লাস্ট গ্রোথ ফ্যাক্টর-২১ (FGF21) নামের একটি বিপাকীয় হরমোন। খাদ্যে প্রোটিন কমে গেলে শরীরে এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, FGF21 শক্তি ব্যয় বাড়াতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে, প্রদাহ কমাতে এবং আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।   পর্যালোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রোটিনের তিনটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড মেথিওনিন, আইসোলিউসিন এবং ভ্যালিন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জৈবিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তাদের শরীরে এসব অ্যামিনো অ্যাসিডের অতিরিক্ত উপস্থিতি কোষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে প্রদাহ, কোষের ক্ষতি এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে।   গবেষণার প্রধান লেখক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের গবেষক ডাডলি ল্যামিং বলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করা মানুষের জন্য পেশি গঠন ও পুনর্গঠনে প্রোটিনের উপকারিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অধিকাংশ মানুষ যেহেতু তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় জীবনযাপন করেন, তাই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন গ্রহণ করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   তবে গবেষকেরা এও স্পষ্ট করেছেন, এই গবেষণা নতুন কোনো ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা নয়; বরং পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোর একটি পর্যালোচনা। তাই এটি মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-ফলাফল সম্পর্ক প্রমাণ করে না। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মানবভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, এসব বিপাকীয় পরিবর্তন সত্যিই মানুষের আয়ু বাড়ায় কি না।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সবার জন্য একই মাত্রার প্রোটিন উপযুক্ত নয়। তাই এই ফলাফলকে কোনোভাবেই প্রোটিনের ঘাটতিযুক্ত খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ হিসেবে দেখা উচিত নয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তি, ক্রীড়াবিদ, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরীরচর্চার সময় খাদ্য থেকে পাওয়া অ্যামিনো অ্যাসিড পেশি গঠন ও মেরামতের কাজে ব্যবহৃত হয়। আবার বয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়সজনিত পেশি ক্ষয় রোধেও পর্যাপ্ত প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে।   গবেষকদের অভিমত, ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক খাদ্য নির্দেশিকায় সবার জন্য এক ধরনের প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক কার্যক্রম এবং জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের আমলে আইসিইর গ্রেপ্তার বেড়েছে, তবে কমেছে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর অনুপাত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতি তিনজনের মাত্র একজনের পূর্বে কোনো ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (PNAS)-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের অনুপাত আগের তুলনায় কমেছে।   গবেষণায় অক্টোবর ২০১৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ আইসিই গ্রেপ্তারের সরকারি প্রশাসনিক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মাত্র ৩৪ শতাংশের বিরুদ্ধে পূর্বের ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড ছিল। তুলনায়, জো বাইডেনের শেষ বছরে এ হার ছিল ৫২ শতাংশ, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে ৭০ শতাংশ এবং বারাক ওবামার শেষ বছরে ৭৯ শতাংশ।   গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার-এর অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ক্লোই ইস্ট বলেন, গবেষণার ফলাফল দেখায় যে, আইসিইর বাস্তব অভিযান সরকারের দীর্ঘদিনের জনসম্মুখের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। প্রশাসন যেখানে জননিরাপত্তার স্বার্থে মূলত গুরুতর অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেছে, বাস্তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশের বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো ফৌজদারি দণ্ড ছিল না।   তবে এই গবেষণার ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS)। বিভাগটির এক মুখপাত্র বলেন, গবেষণায় ব্যবহৃত তথ্যের যথার্থতা তারা নিশ্চিত করতে পারছে না। তাদের দাবি, আইসিইর গ্রেপ্তার করা অবৈধ অভিবাসীদের ৭০ শতাংশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি দণ্ড অথবা বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিদেশে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি, গ্যাং সদস্য, সন্ত্রাসী বা ইন্টারপোলের নোটিশভুক্ত ব্যক্তিদের তথ্যও ওই গবেষণায় প্রতিফলিত হয়নি বলে দাবি করে DHS।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কমিউনিটি অ্যারেস্ট বা পাড়া-মহল্লা, কর্মস্থল, বিমানবন্দর ও জনসমাগমস্থল থেকে গ্রেপ্তারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছরে যেখানে মোট গ্রেপ্তারের ১৯ শতাংশ ছিল কমিউনিটি অ্যারেস্ট, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর তা বেড়ে প্রায় ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে।   এদিকে, জুলাই মাসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসিই সর্বোচ্চ সংখ্যক মাসিক গ্রেপ্তারের রেকর্ড গড়ে। অভ্যন্তরীণ DHS তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে ৪৬ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর অবস্থানসহ বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়।   গবেষণার লেখকরা অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, তাদের গবেষণায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা বিচারাধীন মামলার বিষয়টি নয়, শুধুমাত্র পূর্বের ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাই গবেষণার ফলাফলকে সেই প্রেক্ষাপটেই বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
অ্যালকোহল ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’—ধারণাটি ভুল প্রমাণিত নতুন গবেষণায়

জার্নাল অব সাইকোফার্মাকোলজিসহ একাধিক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, অল্প মাত্রার অ্যালকোহলও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের জন্য অ্যালকোহলের কোনো নিরাপদ মাত্রা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।   দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, দিনে অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল পান হৃদ্‌স্বাস্থ্য বা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে নতুন গবেষণাগুলো বলছে, এই ধারণার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং অল্প মাত্রার অ্যালকোহলও দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   সম্প্রতি জার্নাল অব সাইকোফার্মাকোলজি–তে প্রকাশিত গবেষণা এবং এ–সংক্রান্ত একাধিক বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, পরিকল্পনা এবং সমস্যা সমাধানের মতো জ্ঞানীয় দক্ষতাকে দুর্বল করতে পারে।   গবেষকদের মতে, অ্যালকোহল মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার ও হোয়াইট ম্যাটার—উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। গ্রে ম্যাটার চিন্তাভাবনা, বিচার-বিশ্লেষণ ও স্মৃতিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে, আর হোয়াইট ম্যাটার মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করে। নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণে এই দুই অংশের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালকোহল শুধু মস্তিষ্কের কোষেই প্রভাব ফেলে না; এটি ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করে, শরীরে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায় এবং ভিটামিন বি–১ (থায়ামিন)–এর ঘাটতি তৈরি করতে পারে। এসব পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, শেখার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায়ও দেখা গেছে, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ মস্তিষ্কের এমন স্নায়বিক সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিচার-বিশ্লেষণ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যালকোহল ছাড়ার পরও এসব পরিবর্তনের কিছু অংশ দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যেতে পারে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আগেই জানিয়েছে, স্বাস্থ্যের জন্য অ্যালকোহল গ্রহণের এমন কোনো মাত্রা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোও একই ধরনের বার্তা দিচ্ছে—বিশেষ করে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘পরিমিত পান’ও ঝুঁকিমুক্ত নয়।   তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, অল্প অ্যালকোহল গ্রহণ করলেই সবার স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি হবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যায় না। তবে গবেষণাগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে, অ্যালকোহল যত কম গ্রহণ করা যায়, মস্তিষ্কের জন্য তত ভালো। বিশেষ করে যাদের পরিবারে ডিমেনশিয়া, স্ট্রোক বা অন্যান্য স্নায়বিক রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।   নতুন এসব গবেষণার ফলে একসময় প্রচলিত থাকা ‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’ ধারণাটি নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশিকায়ও এ বিষয়ে পরিবর্তন আসতে পারে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
মায়ের স্মৃতিকে অনুপ্রেরণা করে স্নায়ুবিক রোগ নিয়ে গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন জর্জিয়া টেকের শিক্ষার্থী মেঘনা আইয়ার। ছবি: সংগৃহীত
মাকে হারানোর বেদনা থেকে গবেষণায় সাফল্য, ৩ কোটি ৬০ লাখ গবেষণাপত্র বিশ্লেষণে জর্জিয়া টেক শিক্ষার্থীর নতুন আবিষ্কার

মাকে প্রাণঘাতী স্নায়ুরোগে হারানোর বেদনাই যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক)-এর শিক্ষার্থী মেঘনা আইয়ারকে এমন এক গবেষণার পথে নিয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে ALS, আলঝেইমারস ও ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মতো জটিল স্নায়ুবিক রোগ নিয়ে গবেষণার ধরণ বদলে দিতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তিনি ও তার গবেষণা দল প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ বায়োমেডিক্যাল গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে এই তিনটি রোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক সম্পর্কের সন্ধান পেয়েছেন।    জর্জিয়া টেক জানিয়েছে, মেঘনার মা সুনীতি আইয়ার অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (ALS) রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি রোগটি সম্পর্কে গভীরভাবে জানার আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম বছরেই তিনি অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের নেতৃত্বাধীন ‘ল্যাবরেটরি ফর প্যাথোলজি ডায়নামিকস’-এ গবেষণায় যুক্ত হন।    গবেষণায় এআই ব্যবহার করে বিশাল সংখ্যক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ALS, আলঝেইমারস এবং ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মধ্যে এমন কিছু জৈবিক মিল রয়েছে, যা গবেষকদের রোগগুলোকে আলাদা করে নয়, বরং একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই সম্পর্ক নতুন চিকিৎসা আবিষ্কার করে না, তবে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।    ২০২৫ সালের জুনে মেঘনার মা মারা যান। মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের দিনটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু ব্যক্তিগত সেই শোকই মেঘনাকে আরও দৃঢ় করে তোলে। মায়ের মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর তিনি আবার গবেষণাগারে ফিরে আসেন এবং গবেষণার কাজ সম্পন্ন করেন। পরে গবেষণাটি আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউ সাময়িকী Biomedicines-এ প্রকাশিত হয়। একজন স্নাতক শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণাপত্রটির প্রথম লেখক (ফার্স্ট অথর) হওয়ার বিরল কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি।    মেঘনার গবেষণার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে SemNet Explorer নামে একটি নতুন এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষকরা কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র দ্রুত বিশ্লেষণ করে রোগগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে বের করতে পারবেন। একই সঙ্গে এআই কীভাবে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তার ব্যাখ্যাও দেখতে পারবেন গবেষকরা, যা ভবিষ্যৎ গবেষণাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে সহায়তা করবে।    জর্জিয়া টেকের অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের ভাষায়, মেঘনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও গবেষণার প্রতি অঙ্গীকার এই প্রকল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আর মেঘনার আশা, তার মাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলেও এই গবেষণা একদিন হয়তো অন্য কোনো পরিবারকে একই ধরনের বেদনা থেকে রক্ষা করার পথ তৈরি করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ি। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা তুলনামূলকভাবে বেশি সাশ্রয়ী: গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি কেনা ও ভাড়ায় থাকার ব্যয়ের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক একাধিক আবাসনবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অনেক বড় শহরে বর্তমানে বাড়ি কেনার মাসিক ব্যয় একই ধরনের বাড়ি ভাড়ায় থাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা আপাতত বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ায় থাকাকেই অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন।   রিয়েল এস্টেট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উচ্চ সুদের মর্টগেজ, বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি, সম্পত্তি কর, বীমা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ি কেনার মোট খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, অনেক এলাকায় ভাড়ার হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় দুই ধরনের আবাসনের ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়েছে।   গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, টেক্সাসের অস্টিন, অ্যারিজোনার ফিনিক্স, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান জোসের মতো শহরগুলোতে বাড়ি কেনা ও ভাড়ার ব্যয়ের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি। এসব শহরে মর্টগেজের মাসিক কিস্তি, কর ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বাড়ির মালিক হওয়ার ব্যয় ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি।   যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছরে সুদের হার বৃদ্ধির ফলে নতুন ক্রেতাদের জন্য মর্টগেজ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আবাসনের সীমিত সরবরাহ অনেক এলাকায় বাড়ির দাম উচ্চ পর্যায়ে ধরে রেখেছে। এর ফলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের একটি বড় অংশ অপেক্ষার কৌশল বেছে নিচ্ছেন।   ভাড়ায় থাকা স্বল্পমেয়াদে অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এই সময়ে অনেক পরিবার ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য ডাউন পেমেন্ট বা প্রাথমিক বিনিয়োগের অর্থ জমা করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাড়ি কেনা এখনও সম্পদ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।   তাদের মতে, বাড়ি কেনা বা ভাড়ায় থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যক্তিগত আয়, সঞ্চয়, চাকরির স্থায়িত্ব, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সুদের হার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনা করা জরুরি। কারণ একই সিদ্ধান্ত সব অঞ্চলের বা সব পরিবারের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।   যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, স্বল্পমেয়াদে ভাড়ার বাজার অনেক পরিবারের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারের সুদের হার, বাড়ির মূল্য এবং সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

Unknown জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশের রেজওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের টেইলর I ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করতে গিয়ে শুধু ডিগ্রিই নয়, একই গবেষণাগারেই খুঁজে পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জীবনসঙ্গী

বিদেশে উচ্চশিক্ষা অনেকের কাছেই নতুন জ্ঞান, গবেষণা এবং ক্যারিয়ার গড়ার এক অনন্য সুযোগ। তবে বাংলাদেশের রেজওয়ানের জন্য সেই যাত্রা এনে দিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি—নিজের জীবনসঙ্গী।   উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে পিএইচডি করতে যান রেজওয়ান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেখানে গবেষণায় যোগ দেন টেইলর। মলিকুলার বায়োসায়েন্স ভবনের একই গবেষণাগারে কাজ করতে গিয়েই তাদের প্রথম পরিচয়।   রেজওয়ান বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে, আর টেইলর যুক্তরাষ্ট্রের। ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে গবেষণা করতে না এলে হয়তো কোনো দিনই আমাদের দেখা হতো না।”   সে সময় টেইলর স্ট্রাকচারাল বায়োলজিতে পিএইচডি করছিলেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল জিন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক (৩ডি) গঠন, যা ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   অন্যদিকে, রেজওয়ানের গবেষণার বিষয় ছিল ফাঙ্গাল প্রোটিন ব্যবহার করে ন্যানোপার্টিকল কোটিং প্রযুক্তি। বায়োটেকনোলজিতে ন্যানো-ক্যারিয়ার হিসেবে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।   দিনের বেশিরভাগ সময় একই গবেষণাগারে কাটত দুজনের। গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করতে করতেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় ভালোবাসায়, আর শেষ পর্যন্ত তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।   রেজওয়ান ও টেইলরের গল্পটি মনে করিয়ে দেয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শুধু ডিগ্রি বা গবেষণার সুযোগই এনে দেয় না; কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষটির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এআই / আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্প প্রশাসনে চাকরি হারানো বিজ্ঞানীদের নতুন জোট, স্বাধীন উদ্যোগে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সরকারি চাকরি হারানো যুক্তরাষ্ট্রের একদল জলবায়ু বিজ্ঞানী ও গবেষক এবার নিজেদের উদ্যোগেই নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের বাইরে পরিচালিত অলাভজনক ওয়েবসাইট Climate.us-এর মাধ্যমে তারা জলবায়ু–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, গবেষণা এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদনের সংরক্ষিত সংস্করণ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছেন।   প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফিউচারিজম জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর জলবায়ুবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্লাইমেট গভ এর সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার রেবেকা লিন্ডসে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন NOAA-এর আরও বহু সাবেক বিজ্ঞানী, গবেষক এবং তথ্যবিশেষজ্ঞ।   তাদের তৈরি নতুন ওয়েবসাইটে গত ১৫ বছরে প্রকাশিত আবহাওয়া ও জলবায়ু–সংক্রান্ত তথ্য, বিভিন্ন জলবায়ু সূচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম জাতীয় জলবায়ু মূল্যায়ন প্রতিবেদন (Fifth National Climate Assessment) সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য গবেষক, শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য থাকবে।   এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৮০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ কাজ করেছেন। পাশাপাশি ২ হাজার ৫০০-এরও বেশি ব্যক্তি অনুদান দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। সেই অর্থেই অলাভজনক এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে NOAA, পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA)সহ একাধিক ফেডারেল সংস্থায় ব্যাপক জনবল ছাঁটাই করা হয়। এতে জলবায়ু গবেষণা ও জনসাধারণের জন্য তথ্যপ্রকাশে যুক্ত অনেক বিজ্ঞানী চাকরি হারান। এরপর তারা সরকারি কাঠামোর বাইরে একত্রিত হয়ে গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণের এই স্বাধীন উদ্যোগ শুরু করেন।   রেবেকা লিন্ডসে বলেন, নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া উচিত নয়। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা এবং তথ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা যেমন জরুরি, তেমনি জনসাধারণের জন্য তা সহজলভ্য রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাইমেট নিয়ে ওয়েবসাইট শুধু একটি নতুন ওয়েবসাইট নয়; এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে সরকারি চাকরি হারানোর পরও গবেষণা থেমে থাকে না। বরং বিজ্ঞানীরা একত্রিত হয়ে স্বাধীনভাবে জনস্বার্থে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রুয়েট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন সালমা সুমাইয়া

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ম্যাটারিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সালমা সুমাইয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্বনামধন্য গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কলাম্বিয়া (মিজু)-তে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেবেন।   রুয়েটের ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থীর অর্জনকে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। কারণ শুধু পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগই নয়, সালমা পেয়েছেন সম্পূর্ণ অর্থায়নভিত্তিক গবেষণা সহায়তা, যার আওতায় তাঁর টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ থাকবে। পাশাপাশি মাসিক গবেষণা বৃত্তি বা স্টাইপেন্ডের মাধ্যমে তাঁর জীবনযাত্রা ও গবেষণাসংক্রান্ত ব্যয়ও বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়।   রুয়েট ম্যাটারিয়ালস ক্লাব এবং বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রস্তুতি, একাডেমিক সাফল্য এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহের ফল হিসেবেই এই সুযোগ অর্জন করেছেন সালমা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাঁর এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কলাম্বিয়া একটি সুপরিচিত নাম। এটি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিজ (এএইউ)-এর সদস্য, যেখানে দেশটির শীর্ষ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই সংগঠনের সদস্যপদ বিশেষ মর্যাদার বলে বিবেচিত হয়।   বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকৌশল অনুষদও যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। টাইম ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১২৪তম। ফলে সেখানে গবেষণার সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে ভর্তি হওয়া এখন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর লক্ষ্য। সালমা সুমাইয়ার এই সাফল্য সেই ধারাবাহিকতারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।   রুয়েটের শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, সালমার এই অর্জন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। গবেষণার প্রতি একাগ্রতা, একাডেমিক দক্ষতা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব, সেটিই প্রমাণ করেছেন তিনি।   বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, সালমার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি রুয়েটের ম্যাটারিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার মান এবং গবেষণার সক্ষমতারও প্রতিফলন। তাঁর এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।   ক্যাম্পাসজুড়ে ইতোমধ্যে তাঁর সাফল্য নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক, সহপাঠী এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই অর্জন রুয়েটের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাবে।   উচ্চশিক্ষার পথে সালমা সুমাইয়ার এই নতুন যাত্রা শুধু তাঁর নিজের নয়, দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তাঁর এই সাফল্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মহাবিশ্বের প্রসারণ হার নির্ণয়ে বড় সাফল্য, আইইউবি শিক্ষকের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক গবেষণা

মহাবিশ্ব কত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সবচেয়ে নির্ভুল উত্তর বের করার দাবি করেছে আন্তর্জাতিক একদল বিজ্ঞানী। প্রায় ৪০ জন গবেষকের সমন্বয়ে পরিচালিত এ গবেষণায় মহাবিশ্বের প্রসারণ হার বা হাবল ধ্রুবক নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি সেকেন্ডে প্রতি মেগাপারসেকে ৭৩.৫ কিলোমিটার, যার অনিশ্চয়তা এক শতাংশেরও কম।   এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন। তিনি ‘এইচ নট ডিসট্যান্স নেটওয়ার্ক’ (এইচওডিএন) কোলাবোরেশনের সদস্য হিসেবে গবেষণাপত্রটির অন্যতম রচয়িতা। গবেষণাটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।   বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মহাবিশ্বের প্রসারণ হার নিয়ে একমত হতে পারেননি। বিভিন্ন পদ্ধতিতে পরিমাপ করে পাওয়া ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য থাকায় এই মতভেদকে ‘হাবল টেনশন’ বলা হয়। কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড বিশ্লেষণ, সেফিড নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা, সুপারনোভা পর্যবেক্ষণসহ নানা পদ্ধতিতে এই হার নির্ধারণের চেষ্টা হয়েছে।   নতুন গবেষণায় এসব পৃথক পদ্ধতিকে একত্রে বিশ্লেষণের জন্য ‘ডিসট্যান্স নেটওয়ার্ক’ নামে একটি কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির ফলাফল আসলে একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে ‘হাবল টেনশন’ কেবল গণনার ত্রুটি নয়, বরং পদার্থবিজ্ঞানের আরও গভীর কোনো অজানা বিষয়ের ইঙ্গিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।   ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখিয়েছি যে ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেও একই ধরনের ফল পাওয়া যায়। তাই এই অমিলকে শুধু পদ্ধতিগত ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ কমে গেছে।’ গবেষণায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই নতুন কাঠামো ভবিষ্যতে আরও উন্নত টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে সহায়ক হবে এবং মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে আরও নিখুঁত ধারণা দিতে পারবে।   আইইউবির সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস (কাসা)-এর পরিচালক ড. খান মোহাম্মদ বিন আসাদ বলেন, বাংলাদেশে জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্ত করার প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে। তরুণ গবেষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কাসা দেশের প্রথম জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি একটি ট্রান্সিয়েন্ট অ্যারে রেডিও টেলিস্কোপ স্থাপন করেছে, যা বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

Unknown এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা যে ৪ ধরনের আত্মীয়কে পারিবারিক ভিসায় নিতে পারেন, জেনে নিন

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০