আমেরিকা

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ২২:১৩
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ায় কানাডার বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, বন ব্যবস্থাপনায় কানাডার ব্যর্থতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে কানাডার পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে আরও অতিরিক্ত শুল্ক যোগ করা হবে। 

 

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কানাডা তাদের বন ও ঝোপঝাড় যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ “দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর” বাতাসের মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে এবং সেই ব্যয় কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তবে এই অর্থনৈতিক ক্ষতির পক্ষে তিনি কোনো তথ্য বা পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেননি। 

 

ট্রাম্প আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কানাডা কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চাইবেন। 

কয়েক দিন ধরে কানাডার শত শত দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, শিকাগোসহ একাধিক শহরে বায়ুর মান উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়ে যায়। অনেক এলাকায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। 

 

এদিকে অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে বলেন, অভিযোগ করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দাবানল মোকাবিলায় সহযোগিতা করা। তিনি জানান, অন্টারিও সরকার ভবিষ্যতে দাবানল মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় এখনও শত শত দাবানল জ্বলছে, যার অনেকগুলোই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রেও গত এক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ দাবানলের মৌসুম চলছে। ফলে দুই দেশেই বনাঞ্চলের আগুন এবং এর ধোঁয়া জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ফ্যালকোনেট প্রযুক্তিসংবলিত নজরদারি গাড়ি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার রাস্তায় ঘুরছে ইসরায়েলি ‘স্পাই ভ্যান’, নজরদারিতে থাকতে পারে আপনার ফোন

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে পৌঁছেছে ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কগনাইট তৈরি অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ‘ফ্যালকোনেট’। শেভ্রোলেট তাহো এসইউভিতে স্থাপিত এই প্রযুক্তি ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এটি অপরাধ তদন্তে সহায়ক হলেও নিরপরাধ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   ফোর্বসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্যালকোনেট মূলত একটি ‘সেল-সাইট সিমুলেটর’। এটি নিজেকে মোবাইল ফোনের একটি বৈধ সেল টাওয়ার হিসেবে পরিচয় দেয়। এর আওতায় থাকা মোবাইল ফোনগুলো সাময়িকভাবে এই কৃত্রিম টাওয়ারের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে। এর মাধ্যমে তদন্তকারীরা নির্দিষ্ট ডিভাইসের অবস্থান শনাক্তসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। প্রযুক্তিটি বহু বছর ধরে ব্যবহৃত ‘স্টিংরে’ সিস্টেমের উন্নত সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি প্রায় ৪৫ লাখ ডলার ব্যয়ে চারটি ফ্যালকোনেট-সজ্জিত শেভ্রোলেট তাহো সংগ্রহ করেছে। একই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশ, ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল’ এনফোর্সমেন্ট এবং নিউ মেক্সিকোর অ্যালবুকার্ক পুলিশও কিনেছে। ফলে এটি ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পনা নয়; প্রযুক্তিটি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা সংস্থার ব্যবহারে এসেছে।    কগনাইটের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তি শুধু গাড়িতেই নয়, ব্যাকপ্যাক বা হেলিকপ্টারেও বহন করা যায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মাত্র কয়েক মিনিটে এটি চালু করা সম্ভব এবং এক মিনিটে হাজারো মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে।    তবে প্রযুক্তিটি ঘিরে উদ্বেগও কম নয়। নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, এ ধরনের সিস্টেম শুধু সন্দেহভাজন ব্যক্তির নয়, আশপাশে থাকা নিরপরাধ মানুষের মোবাইল ফোন থেকেও তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।    সম্প্রতি ওহাইওর এক বিচারক এমন একটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি নির্দিষ্ট এলাকায় হাজারো মানুষের মোবাইল ফোনের তথ্য সংগ্রহের অনুমতি চেয়েছিল। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, এমন অনুমতি দিলে নিরপরাধ নাগরিকদের চলাফেরাও নির্বিচারে নজরদারির আওতায় চলে আসতে পারে।    অন্যদিকে, নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের একজন মুখপাত্র ফোর্বসকে জানিয়েছেন, অপহরণ বা জীবনহানির মতো জরুরি পরিস্থিতিতে আদালতের পরোয়ানা ছাড়াও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। তবে সাধারণ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিয়েই এটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।    কগনাইটের অতীত কার্যক্রম নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালে ব্রাজিলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর নজরদারিতে তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এর আগে মেটাও অভিযোগ করেছিল, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে কগনাইট-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শতাধিক ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করেছিল। কোম্পানিটির পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠান ভেরিন্টের বিরুদ্ধেও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কিত কয়েকটি দেশে নজরদারি প্রযুক্তি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।    বর্তমানে কগনাইট বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করার দাবি করে। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারণ করছে।    বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক অপরাধ তদন্ত ও জাতীয় নিরাপত্তায় উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, এর ব্যবহার যেন আইনের সীমার মধ্যে থাকে এবং নিরপরাধ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অযথা ক্ষুণ্ন না হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্পাই ভ্যান’ ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক মূলত সেই প্রশ্নকেই সামনে এনে দিয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ২৩:২
ডিএনএ পরীক্ষায় ৩৮ বছর পর জন্মের সময় অদলবদলের ঘটনা জানতে পারেন কাইল বাইলিন ও জেরেমি মরিসন। ছবি: সংগৃহীত

ডিএনএ পরীক্ষায় ৩৮ বছর পর জানা গেল জন্মের সময় অদলবদল, হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দুই পরিবারের

নাবালিকাকে অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে শোষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত। ছবি: সংগৃহীত

নিজেকে ১৭ বছরের দাবি করে ১৩ বছরের কিশোরীর সঙ্গে ৫০-বারের শারীরিক সম্পর্ক, ভিডিও রেডিটে ভাইরাল

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

নিজের দপ্তরের তদন্তাধীন এক মামলার অভিযুক্তের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে আলোচনায় মার্কিন প্রসিকিউটর। ছবি: সংগৃহীত
যৌন নিপীড়নের অভিযুক্ত আপরাধীর সাথে প্রসিকিউটরের সম্পর্ক, পালাতে সহায়তা করায় হারালেন পদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের রে কাউন্টির নির্বাচিত সরকারি  প্রসিকিউটর ক্যামিল জনস্টনকে আদালতের নির্দেশে সাময়িকভাবে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিজের দপ্তরের তদন্তাধীন এক যৌন নিপীড়ন মামলার অভিযুক্তের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রাখা, তাকে গ্রেপ্তার এড়াতে সহায়তা করা এবং আরও দুটি মামলায় স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করার অভিযোগ এনেছে মিসৌরির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়।   আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, জনস্টন এমন এক মেক্সিকান নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং তার দপ্তরই তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তদন্ত করছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে না নিয়ে তিনি ওই ব্যক্তিকে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে সহায়তা করেন। এমনকি তাকে নিজের গাড়ি ও গাড়ির মালিকানার কাগজও দিয়েছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্বে থাকাকালে জনস্টনের আরেকটি সম্পর্ক ছিল এমন এক আইনজীবীর সঙ্গে, যিনি তার পরিচালিত মামলাগুলোতে আসামিপক্ষের হয়ে আদালতে লড়তেন। আইন অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে তার মামলাগুলো থেকে সরে দাঁড়িয়ে অন্য প্রসিকিউটর নিয়োগের আবেদন করার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি।   এছাড়া গার্হস্থ্য সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তির সঙ্গেও তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অফিসের এক কর্মী আপত্তি জানালে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মিসৌরির অ্যাটর্নি জেনারেল ক্যাথরিন হ্যানাওয়ে বলেন, একজন সরকারি কৌঁসুলির দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করা। কিন্তু জনস্টনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো জনআস্থা ও বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তাই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হয়।   বিচারক প্রাথমিকভাবে সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি এবং অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদিকে জনস্টনের আইনজীবী এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ২১:৪৩
১৮% বেতন বৃদ্ধি নেবেন না মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

মেয়রের বেতন বাড়লেও অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করবেন না জোহরান মামদানি

মেয়ের শোবার ঘরে এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার কেন্দ্রা স্কট। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ের শোবার ঘরে অপরিচিত যুবককে দেখে গুলি করে হত্যা করলেন মা

লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তে আলোচিত বহুবিবাহ ও প্রতারণার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ পুরুষকে বিয়ে করে লাখো ডলার হাতিয়ে নিলেন চীনা তরুণী

ম্যানহাটনের ৫০৯ ওয়েস্ট ৪৮তম স্ট্রিটে অবস্থিত নতুন এই আবাসিক ভবনে বিভিন্ন আয়ের মানুষের জন্য একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ম্যানহাটনে মাত্র ১,০৩১ ডলারে নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় ২০ জুলাই

নিউইয়র্ক সিটির ব্যয়বহুল আবাসন বাজারে স্বল্প ভাড়ায় ম্যানহাটনে বসবাসের সুযোগ খুবই বিরল। তবে এবার হেলস কিচেন এলাকায় নির্মিত নতুন আবাসিক ভবন ‘রিয়াল্টো ওয়েস্ট’ এর হাউজিং লটারির মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য সেই সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে মাত্র ১,০৩১ ডলার থেকে, আর আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ আগামী ২০ জুলাই ২০২৬।   ম্যানহাটনের ৫০৯ ওয়েস্ট ৪৮তম স্ট্রিটে অবস্থিত নতুন এই আবাসিক ভবনে বিভিন্ন আয়ের মানুষের জন্য একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই লটারিতে নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে শুরু করে বার্ষিক সর্বোচ্চ ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫৬০ ডলার আয়কারী পরিবারও নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন।   হাউজিং লটারিতে স্টুডিও, এক শয়নকক্ষ, দুই শয়নকক্ষ ও তিন শয়নকক্ষের বিভিন্ন ইউনিট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের ভাড়া আবেদনকারীর আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং নির্ধারিত ‘এরিয়া মিডিয়ান ইনকাম’ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। ফলে একই ভবনে বিভিন্ন আয়ের মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ার ইউনিট বরাদ্দ রয়েছে।   হেলস কিচেন ম্যানহাটনের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন আবাসিক এলাকা। টাইমস স্কয়ার, ব্রডওয়ে থিয়েটার জেলা, হাডসন রিভার পার্ক এবং অসংখ্য কর্মস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এ এলাকায় সাধারণ বাজারদরে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তাই বাজারমূল্যের চেয়ে কম ভাড়ায় নতুন ভবনে বসবাসের সুযোগ অনেক আবেদনকারীর কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে।   নিউইয়র্ক সিটি সরকার দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট মোকাবিলায় হাউজিং লটারির মাধ্যমে নতুন আবাসিক ভবনের একটি অংশ স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য সংরক্ষিত রাখছে। এসব ইউনিটে আবেদনকারীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয় এবং নির্বাচিতদের আয়, পরিবারের আকার ও অন্যান্য নথি যাচাই শেষে চূড়ান্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়।   এই লটারিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের ২০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য সময়মতো আবেদন করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৭, ২০২৬ ২০:৩৬
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে নারী বিক্ষোভকারীকে গুলি, গ্রেপ্তার আইসিই ডিটেনশন সেন্টারের কর্মী

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার চেয়ে যে ৫ শহরে ভাড়ায় থাকাই বেশি লাভজনক

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই বেশি লাভজনক, বছরে সাশ্রয় হতে পারে লাখ ডলারের বেশি

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউ জার্সিতে ট্রাম্প-সমর্থক কিশোরীকে চড় মেরে বিপাকে কানাডীয় নারী, চলছে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি

0 Comments