সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

লকডাউনে বুঝেছিলেন নিজের বাড়ির প্রয়োজন, এখন দাম-সুদের চাপে অধরাই বহু প্রবাসী বাংলাদেশির সেই স্বপ্ন

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৯:১০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও সুদের চাপে স্বপ্নভঙ্গ বহু প্রবাসী বাংলাদেশির I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও সুদের চাপে স্বপ্নভঙ্গ বহু প্রবাসী বাংলাদেশির I ছবি: সংগৃহীত

কোভিড-১৯ মহামারির আগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশি পরিবারের কাছে নিজের বাড়ি কেনা ছিল ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, জরুরি প্রয়োজন নয়। তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ থাকলেও অনেকেই ভাড়া বাসায় থাকাকেই স্বস্তিদায়ক মনে করতেন। কিন্তু ২০২০ সালের লকডাউন সেই ধারণা বদলে দেয়। মাসের পর মাস ঘরে বন্দি জীবন, বাড়ি থেকে কাজ, সন্তানদের অনলাইন ক্লাস এবং সীমিত জায়গায় বসবাসের অভিজ্ঞতা অনেক পরিবারকে উপলব্ধি করায়—নিজস্ব একটি বাড়ি শুধু বিনিয়োগ নয়, জীবনযাত্রার মানেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

কিন্তু যখন অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন আবাসন বাজারের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে গেছে। বাড়ির দাম দ্রুত বেড়েছে, মর্টগেজ সুদের হারও কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে যাদের কয়েক বছর আগে বাড়ি কেনার সুযোগ ছিল, তাদের অনেকেই এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারছেন না।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাংলাদেশি অধ্যুষিত শহর—নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, জর্জিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক এলাকায় কোভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক এলাকায় ২০২০ সালের আগে প্রায় ৩ লাখ ডলারে বিক্রি হওয়া বাড়ির মূল্য এখন ৫ থেকে ৬ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যদিও সব বাজারে একই হারে মূল্য বৃদ্ধি হয়নি, তবে জনপ্রিয় আবাসিক এলাকাগুলোর অধিকাংশেই বাড়ির দাম এবং মাসিক মর্টগেজ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক পরিবার এখন আর ডাউন পেমেন্ট নয়, বরং মাসিক মর্টগেজ কিস্তির হিসাব করেই পিছিয়ে যাচ্ছেন। উচ্চ সুদের কারণে একই দামের বাড়ির মাসিক কিস্তি কয়েক বছর আগের তুলনায় শত শত ডলার বেশি পড়ছে।

 

আটলান্টাপ্রবাসী এক সফটওয়্যার প্রকৌশলী বলেন, “কোভিডের আগে যে বাড়িটি কেনার সুযোগ ছিল, এখন সেই একই বাড়ি কিনতে গেলে মাসিক কিস্তিই আমার বাজেটের বাইরে চলে যায়। তখন সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছি, এখন সামর্থ্য থাকলেও বাজার আর আগের জায়গায় নেই।”

 

আবাসন বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোভিডের সময় কম সুদের হার এবং বাড়ি থেকে কাজের প্রবণতা লাখো পরিবারকে বাড়ি কেনার বাজারে নিয়ে আসে। কিন্তু একই সময়ে নতুন বাড়ির সরবরাহ সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে বাড়ির দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং অনেক এলাকায় একাধিক ক্রেতার প্রতিযোগিতায় বিক্রয়মূল্য আরও বেড়ে যায়। 

 

ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস (NAR)-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. লরেন্স ইউনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এখনও আবাসনের অন্যতম বড় সমস্যা হলো পর্যাপ্ত বাড়ির সরবরাহ না থাকা। তার ভাষায়, ক্রেতাদের জন্য আগের চেয়ে কিছুটা বেশি বিকল্প তৈরি হলেও বাজার এখনও পুরোপুরি কোভিড-পূর্ব অবস্থায় ফেরেনি। তাই অনেক এলাকায় আবাসনের সংকট এখনো রয়ে গেছে। 

 

বর্তমানে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—যদি ভবিষ্যতে মর্টগেজ সুদের হার কমে, তাহলে কি বাড়ি কেনা সহজ হবে?

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, উত্তরটি এতটা সহজ নয়। এনএআরের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ নাদিয়া ইভানজেলো বলেন, মর্টগেজ সুদের হার ১ শতাংশ কমলে প্রায় ৫৫ লাখ অতিরিক্ত পরিবার বাড়ি কেনার যোগ্য হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত বাড়ির সরবরাহ না বাড়লে নতুন ক্রেতাদের এই ঢল আবারও দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ সুদের হার কমলেও প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে। 

 

এ কারণেই অনেক রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শুধু সুদের হার কমার অপেক্ষায় বসে থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও মিলতে পারে। বাজারে যদি ক্রেতার সংখ্যা বাড়ে কিন্তু বিক্রির জন্য বাড়ির সংখ্যা সেই অনুপাতে না বাড়ে, তাহলে দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

 

অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামের শহর বা ছোট শহরগুলোতে এখনও কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি পাওয়া গেলেও অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি সেখানে যেতে আগ্রহী নন। কারণ এসব এলাকায় ভালো স্কুল, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, হালাল গ্রোসারি কিংবা পেশাগত সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম। ফলে কম দামে বাড়ি পাওয়া গেলেও জীবনযাত্রার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় অনেক পরিবার জনপ্রিয় শহরগুলোতেই থাকতে চান।

 

ড. লরেন্স ইউনও মনে করেন, আবাসন বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাভাবিক করতে হলে নতুন বাড়ির নির্মাণ বাড়ানো এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করা ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, শুধু সুদের হার কমানো নয়, বাজারে আরও বেশি বাড়ি আসাটাই ভবিষ্যতে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে। 

 

রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, যারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাড়ি কিনতে চান, তাদের এখন থেকেই ডাউন পেমেন্টের জন্য সঞ্চয়, ক্রেডিট স্কোর উন্নত করা এবং বাজারের পরিবর্তনের ওপর নিয়মিত নজর রাখা উচিত। কারণ আবাসন বাজারে সঠিক সময়ে প্রস্তুত থাকাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ডলার বেতনেও ৪ জনের সংসার চালানো কঠিন হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লক্ষ ডলার বেতন! খরচ বাদে চারজনের পরিবারে মাস শেষে কত থাকে? হিসাব চমকে দেবে

যুক্তরাষ্ট্রে বছরে এক লাখ ডলার বেতন শুনতে বেশ বড় অঙ্ক মনে হলেও, চারজনের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এই অর্থ দিয়ে স্বচ্ছন্দে সংসার চালানো সবসময় সহজ নয়। স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে একটি পরিবারে যদি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী বছরে এক লাখ ডলার আয় করেন, তাহলে কর, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসর সঞ্চয়, রেন্ট, খাবার, গাড়ি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দেওয়ার পর মাস শেষে কতটা অর্থ হাতে থাকে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে বড় প্রশ্ন।   যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, সারা বছর পূর্ণকালীন কাজ করা কর্মীদের মধ্যে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশের বার্ষিক আয় ছিল এক লাখ ডলার বা তার বেশি। অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশ কর্মীর আয় ছিল এক লাখ ডলারের নিচে। অন্যদিকে, শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যম সাপ্তাহিক আয় ছিল ১ হাজার ২০৪ ডলার, যা বছরে প্রায় ৬২ হাজার ৬০০ ডলারের সমান।    অর্থাৎ এক লাখ ডলার আয় করা একজন কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ পূর্ণকালীন কর্মীর তুলনায় বেশি আয় করেন। কিন্তু চারজনের পরিবারের সব খরচ একা বহন করতে হলে সেই বাড়তি আয় কতটা স্বস্তি দেয়, তা নির্ভর করে পরিবারের জীবনযাত্রার ওপর।   ধরা যাক, পরিবারের একজনই কাজ করছেন এবং তার বার্ষিক বেতন এক লাখ ডলার। মাসে কর কাটার আগের মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ ডলার। স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিচ্ছেন এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে। বেতন থেকে ফেডারেল ইনকাম ট্যাক্সের পাশাপাশি সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার কর কেটে নেওয়া হবে।   এর সঙ্গে যদি কর্মী বেতনের ৫ শতাংশ, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৪১৭ ডলার, ৪০১(কে) তে জমা রাখেন এবং পরিবারের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের জন্য মাসে প্রায় ৫০০ ডলার খরচ হয়, তাহলে কর ও এসব কাটাকাটির পর মাসে ব্যবহারযোগ্য আয় আনুমানিক ৬ হাজার ৮০০ থেকে ৭ হাজার ডলারের মতো হতে পারে। তবে প্রকৃত পেচেক নির্ভর করবে করের অবস্থা, হেলথ ইন্স্যুরেন্সের পরিকল্পনা, ৪০১(কে)-তে জমার পরিমাণ এবং পরিবারের অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর।   এবার চারজনের পরিবারের মাসিক খরচের একটি বাস্তবসম্মত হিসাব ধরা যাক। রেন্ট ২ হাজার ২০০ ডলার, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি মিলিয়ে ইউটিলিটি ৩৫০ ডলার, ইন্টারনেট ৭০ ডলার এবং ফোন বিল ১২০ ডলার হলে এসব খাতেই চলে যায় ২ হাজার ৭৪০ ডলার। চারজনের পরিবারের বাজার ও খাবারের জন্য মাসে ১ হাজার ডলার ধরলে মোট খরচ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৪০ ডলার।   এর সঙ্গে গাড়ির কিস্তি ৭০০ ডলার, গাড়ির ইন্স্যুরেন্স ২৫০ ডলার এবং গ্যাসের জন্য ২০০ ডলার যোগ হলে পরিবহন খাতে আরও ১ হাজার ১৫০ ডলার চলে যায়। হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ৫০০ ডলারসহ পোশাক, ব্যক্তিগত প্রয়োজন, ঘরের জিনিসপত্র, সন্তানদের স্কুল ও বিভিন্ন কার্যক্রম, ওষুধ এবং বিনোদনের খরচ ধরলে মাসিক ব্যয় আরও বেড়ে যায়।   এই হিসাব অনুযায়ী, পোশাক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য ২০০ ডলার, ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য ২০০ ডলার, সন্তানদের স্কুল ও বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ৩০০ ডলার, ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য ১০০ ডলার এবং বিনোদন ও বিভিন্ন সদস্যতার জন্য ৫০ ডলার ধরলে সব মিলিয়ে মাসিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ২৪০ ডলার।   অর্থাৎ মাসে ব্যবহারযোগ্য আয় যদি ৬ হাজার ৮০০ থেকে ৭ হাজার ডলারের মধ্যে থাকে, তাহলে নিয়মিত এসব খরচ মেটানোর পর মাস শেষে হাতে থাকতে পারে আনুমানিক ৫৬০ থেকে ৭৬০ ডলার। তবে এই অর্থকে পুরোপুরি সঞ্চয়যোগ্য অর্থ বলা যাবে না।   কারণ এই হিসাবের মধ্যে বড় কোনো গাড়ি মেরামত, জরুরি চিকিৎসা, বাড়ির মেরামত, ছুটিতে যাওয়া, উৎসবের কেনাকাটা, সন্তানদের বড় কোনো খরচ কিংবা অন্য কোনো অপ্রত্যাশিত ব্যয় ধরা হয়নি। এমন একটি বড় খরচ এলেই মাসের অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও ভিন্ন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক বাংলাদেশি শুধু নিজেদের পরিবারের খরচই বহন করেন না, বাংলাদেশে থাকা বাবা-মা, সন্তান বা অন্যান্য স্বজনের জন্যও নিয়মিত অর্থ পাঠান। এর বাইরে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সহযোগিতা, মসজিদ-মাদ্রাসায় অনুদান, পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব এবং সময়-সময় বাংলাদেশে যাতায়াতের বিমানভাড়ার মতো অতিরিক্ত খরচও অনেক পরিবারের বাজেটে থাকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ডলার আয় করা একটি বাংলাদেশি পরিবারের হাতে মাস শেষে কয়েকশ ডলার থাকলেও, সেখান থেকে দেশে অর্থ পাঠানো ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করলে সঞ্চয়ের জন্য অবশিষ্ট অর্থ আরও কমে যেতে পারে।   আর এখানেই উঠে আসে বড় প্রশ্ন। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭৫ শতাংশ পূর্ণকালীন ও সারা বছর কাজ করা কর্মীর আয় এক লাখ ডলারের নিচে, সেখানে তারা কীভাবে রেন্ট, খাবার, গাড়ি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, সন্তানদের খরচ এবং পরিবারের অন্যান্য দায়িত্ব সামলাচ্ছেন? আর বাংলাদেশি প্রবাসীদের ক্ষেত্রে যখন দেশের পরিবারের জন্যও নিয়মিত অর্থ পাঠাতে হয়, তখন ভবিষ্যতের সঞ্চয় বা জরুরি সময়ের জন্য অর্থ রাখার সুযোগই বা কতটুকু?   বাস্তবে অবশ্য সবার পরিস্থিতি এক নয়। কেউ কম রেন্টের এলাকায় থাকেন, কেউ গাড়ির ঋণমুক্ত, কেউ দুইজনের আয় দিয়ে সংসার চালান, আবার কেউ চাকরিদাতার কাছ থেকে তুলনামূলক ভালো হেলথ ইন্স্যুরেন্স সুবিধা পান। অন্যদিকে বেশি রেন্ট, গাড়ির ঋণ, শিশুদের যত্নের খরচ বা বড় চিকিৎসা ব্যয় থাকলে এক লাখ ডলার আয় করেও পরিবারের বাজেট বেশ চাপে পড়ে যেতে পারে।   কাগজে এক লাখ ডলার ছয় অঙ্কের বেতন। কিন্তু চারজনের পরিবার, তার সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের দায়িত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ যোগ করলে মাস শেষে কতটা অর্থ সত্যিই হাতে থাকে, সেই হিসাবই প্রবাসী জীবনের বাস্তব আর্থিক চিত্রটি সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:৩
একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আলিমামি সেসাই। ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতালের বেডে শিকলবন্দী আইসিই আটক অভিবাসী, অস্ত্রোপচারের পরও স্বজনদের সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা

এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স তালিকায় যুক্ত হওয়া তুরস্কের নাগরিক অনুর সিমসেক। ছবি: সংগৃহীত

এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তুরস্কের নাগরিক, পুরস্কার ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে প্রপার্টি ট্যাক্সের হিসাব মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার আগে এই ট্যাক্সের হিসাব না জানলে বাড়বে মানসিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ক্লার্কস্টনে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি অভিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি নেই স্বামীর, বন্ধ খাদ্য সহায়তা, এরপর উচ্ছেদ, দুই শিশুসহ অভিবাসী পরিবারের পাশে কমিউনিটি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ক্লার্কস্টনে চাকরি হারানোর পর তিন মাস ধরে রেন্ট পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছিল একটি অভিবাসী পরিবার। এর মধ্যে সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের কারণে পরিবারটি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাও হারায়। আর্থিক সংকট যখন চরমে, তখন দুই শিশুসহ চার সদস্যের পরিবারটিকে অ্যাপার্টমেন্ট থেকেও উচ্ছেদ করা হয়। তবে বিপদের সেই মুহূর্তে পরিবারটিকে একা থাকতে দেয়নি স্থানীয় কমিউনিটি।   গত শুক্রবার উচ্ছেদের পর পরিবারের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য মালপত্র অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে রেখে দেওয়া হয়। সেদিন রাতে তাদের থাকার মতো কোনো জায়গাও ছিল না। পরে স্থানীয় এক কমিউনিটি সদস্য বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান। সেখান থেকেই শুরু হয় পরিবারটির জন্য সহায়তার উদ্যোগ।   দ্রুত নতুন বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। ক্লার্কস্টনের ইংলিশ ওকস অ্যাপার্টমেন্টস পরিবারটির জন্য নতুন একটি অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা করে। পরদিনই পরিবারের সদস্যদের নতুন বাসায় স্থানান্তর করা হয়।   তবে নতুন ঘরে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই পাশে ছিল কমিউনিটি। পরিবারের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালপত্র সরিয়ে নিতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন। মালপত্র পরিবহনের জন্য ভ্যানও সরবরাহ করে আরিয়ানা হালাল স্টোর।   উচ্ছেদের পর প্রথম রাতের আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হয়। ক্লার্কস্টন কেয়ার্স ফান্ডের উদ্যোগে একজন স্বেচ্ছাসেবক পরিবারটিকে সেই রাতের জন্য নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। একই সময়ে নতুন বাসার জামানত ও প্রথম মাসের রেন্টের জন্য প্রায় ১ হাজার ১০০ ডলার সংগ্রহ করা হয়।   পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ অবশ্য সেখানেই থেমে থাকেনি। এখন তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্যও কাজ শুরু হয়েছে। পরিবারটি জর্জিয়ার আফগান-আমেরিকান জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সংগঠনটি আফগান পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, সরকারি সুবিধা, হেলথ কেয়ার, শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করে।   এই পরিবারের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ, সরকারি সহায়তা ও স্থানীয় সেবার সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার রেফারেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ক্লার্কস্টন কেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে ৪৪টির বেশি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাদের অনেকেই অভিবাসী, শরণার্থী অথবা সীমিত আয়ের পরিবার। সংগঠনটির মতে, একটি চাকরি হারানো, বড় কোনো জরুরি খরচ বা অন্য কোনো আকস্মিক সংকট অনেক পরিবারের জন্য বাসস্থান হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   ক্লার্কস্টন এলাকায় অভিবাসী ও শরণার্থী পরিবারগুলোর আবাসন সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন সংগঠন কাজ করছে। শহর কর্তৃপক্ষের স্থানীয় সম্পদ তালিকাতেও স্বল্পমূল্যের আবাসনের বিভিন্ন সুযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর পাশাপাশি আফগান পরিবারগুলোর জন্য আবাসন ও কর্মসংস্থান সহায়তায় কাজ করছে জর্জিয়ার আফগান-আমেরিকান জোট।   এই পরিবারের সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্য সহায়তা হারানো। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির যোগ্যতার নিয়মে পরিবর্তন হয়েছে, যার প্রভাব কিছু অভিবাসী ও শরণার্থী পরিবারের ওপর পড়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট পরিবারের খাদ্য সহায়তা ঠিক কোন বিধানের কারণে বন্ধ হয়েছে, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   চাকরি হারানো, রেন্টের চাপ, খাদ্য সহায়তা হারানো এবং শেষ পর্যন্ত বাসস্থান হারানো—পরপর এসব সংকট পরিবারটির পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। বিশেষ করে দুই শিশু থাকা অবস্থায় এক রাতের জন্যও নিরাপদ আশ্রয় না থাকা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছিল।   তবে উচ্ছেদের পরের ঘটনাটি দেখিয়েছে, সংকটে পড়া একটি পরিবারকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কেউ দিয়েছেন আশ্রয়, কেউ দিয়েছেন পরিবহনের ব্যবস্থা, কেউ সরিয়ে দিয়েছেন মালপত্র, আবার কেউ অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।   প্রাথমিক সহায়তার পর এখন পরিবারটির সামনে মূল লক্ষ্য হলো স্থায়ী কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া এবং নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রয়োজনীয় সময় ও সহায়তা পেলে পরিবারটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।   তবে সেই পথ এখনো সহজ নয়। পরিবারটির আগামী দুই মাসের রেন্ট পরিশোধে আরও ৩ হাজার ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সহায়তাকারীরা। এই অর্থ সংগ্রহ করা গেলে পরিবারের হাতে নিয়মিত কাজ খোঁজা এবং আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য কিছুটা সময় থাকবে।   প্রাথমিক অর্থ সংগ্রহে ক্লার্কস্টন কেয়ার্স ফান্ডের এলি মায়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এরপর স্থানীয় আরও অনেক মানুষ পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন।   একটি পরিবারের জন্য এই সহায়তা হয়তো একটি নতুন অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাকরি হারানো থেকে শুরু করে খাদ্য সহায়তা বন্ধ এবং শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ—সবকিছুর পর তাদের আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করাই এখন কমিউনিটির সামনে সবচেয়ে বড় কাজ।   ক্লার্কস্টন কেয়ার্সের কার্যক্রমও মূলত সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে জরুরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল জীবনে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেয়। আর এই পরিবারের ঘটনায় সেই উদ্যোগেরই একটি বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১০:৫২
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিন পিয়াচেন্তি। ছবি: সংগৃহীত

মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফিরেই টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই আগস্টে দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। ছবি: সংগৃহীত

আগস্টে রেকর্ড ৫১ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার করেছে আইসিই

হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড থেকে আজ পিএইচডি-এমডি-এমবিএধারী চিকিৎসক রাসেল

সিকিউরিটি গার্ড থেকে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী, অসম্ভবকে সম্ভব করলেন রাসেল

কর ফেরত ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বাড়ায় মার্কিন অর্থনীতিতে শক্তির ইঙ্গিত।
২৯৬ বিলিয়ন ডলার ট্যাক্স রিফান্ড, মার্কিন অর্থনীতি এখনো শক্তিশালী- বলছেন বিশ্লেষকরা

মার্কিন অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে যারা আশঙ্কা করছেন, তাদের দাবির বিপরীতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও কর ফেরতের সাম্প্রতিক তথ্য অর্থনীতিতে শক্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফক্স নিউজের এক মতামতধর্মী প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের কর মৌসুমে আইআরএস প্রায় ২৯৬ বিলিয়ন ডলার কর ফেরত দিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৪৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ আমেরিকানদের হাতে ফিরেছে। গড় কর ফেরতের পরিমাণও ৩৩৩ ডলার বেড়েছে। সরকারি নতুন কর আইনের আওতায় টিপস ও ওভারটাইম আয়ের ওপর নতুন কিছু ছাড় এই বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অনেক কর্মজীবী মানুষ আগের তুলনায় বেশি অর্থ হাতে রাখছেন। একই সময়ে ব্যবসাগুলোও যন্ত্রপাতি কেনা, প্রযুক্তি উন্নয়ন, স্থাপনা আধুনিকায়ন ও কর্মী নিয়োগে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নতুন কর সুবিধার কারণে যোগ্য ব্যবসাগুলো বিনিয়োগের খরচ দ্রুত কর থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিবেদনের লেখক জুলিও গনজালেজের মতে, এসব প্রবণতা অর্থনীতিতে মন্দার বদলে ব্যবসায়ীদের আস্থা ও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এটি ফক্স নিউজের একটি মতামতধর্মী প্রতিবেদন, স্বাধীন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ বা সরকারি মূল্যায়ন নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৮:৪৭
বাংলাদেশিদের মার্কিন ভিসায় নতুন অধ্যায়, স্থগিতাদেশ উঠলেও কড়াকড়ি বহাল

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কী আপডেট, জেনে নিন সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

একসময় ঝকঝকে ও চকচকে থাকা জাহাজটির নিচের অংশজুড়ে এবার বড় বড় জায়গায় দেখা দিয়েছে মরিচা

ঝকঝকে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী আব্রাহাম লিংকন এখন মরিচায় জর্জরিত!

পেনসিলভেনিয়ায় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয় তথ্য মিলবে জিপ কোডে

পেনসিলভেনিয়ায় নতুন! চাকরি, শিক্ষা ও জরুরি সহায়তার ঠিকানা জেনে নিন

0 Comments