কুয়েটের তরুণ শিক্ষক আবদুল্লাহ আল ফাহাদের যুক্তরাজ্যে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ
বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র হলেও এবার যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোতে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ অর্জন করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (রিসার্চ) বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির মর্যাদাপূর্ণ EPSRC Doctoral Landscape Award (DLA) লাভ করেছেন।
এই স্কলারশিপের আওতায় তার সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। পাশাপাশি গবেষণাকালীন জীবনযাপনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক স্টাইপেন্ডও পাবেন, যা পুরো গবেষণা মেয়াদজুড়ে প্রদান করা হবে।
আবদুল্লাহ আল ফাহাদ কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি খুলনার নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
এ পর্যন্ত তার তিনটি আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি Q1, একটি Q2 এবং একটি Q4 মানের জার্নালে স্থান পেয়েছে। এছাড়া স্প্রিংগার থেকে প্রকাশিত একটি বইয়ের অধ্যায়, দুটি IEEE আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন এবং স্প্রিংগারে প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা আরও একটি গবেষণাপত্র রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে নির্বাচিত হওয়ার পেছনে দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পিত প্রস্তুতি, ধারাবাহিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের সঙ্গে নিয়মিত একাডেমিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা প্রতিযোগিতা ও অনিশ্চয়তা থাকলেও তিনি গবেষণার লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।
যুক্তরাজ্যের Engineering and Physical Sciences Research Council (EPSRC) দেশটির প্রকৌশল ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম প্রধান অর্থায়নকারী সংস্থা। তাদের অর্থায়নে পরিচালিত Doctoral Landscape Award-এর মাধ্যমে প্রতিবছর নির্বাচিত গবেষকদের বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ, আধুনিক গবেষণাগার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এখনও পিএইচডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দিলেও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার মান, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আবদুল্লাহ আল ফাহাদ মনে করেন, বিদেশে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়া, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনায় গুরুত্ব দেওয়া, শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইল তৈরি করা এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধৈর্য ধরে আবেদন চালিয়ে যাওয়াও সফলতার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
কুয়েটের একজন তরুণ শিক্ষক থেকে বিশ্বের অন্যতম গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ অর্জনের এই সাফল্য বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। বিশেষ করে যারা যুক্তরাজ্যে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য এটি প্রমাণ করে যে সঠিক পরিকল্পনা, মানসম্মত গবেষণা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreইংল্যান্ড ও ওয়েলসে নবজাতকদের সবচেয়ে প্রচলিত পদবি হিসেবে স্মিথের সঙ্গে খানের ব্যবধান কমে এসেছে। ২০২৫ সালে স্মিথ পদবিতে ৪ হাজার ১০২ শিশুর জন্ম নিবন্ধিত হয়েছে। খান পদবিতে নিবন্ধিত হয়েছে ৩ হাজার ৭৭২ শিশু। দুই পদবির ব্যবধান এখন ৩৩০। যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর ওএনএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালেই নবজাতকদের পদবির তালিকায় স্মিথকে ছাড়িয়ে যেতে পারে খান। তবে এটি সংবাদমাধ্যমটির বিশ্লেষণভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ফলাফল নয়। গত ১৩ অক্টোবর ওএনএস ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধনে ব্যবহৃত শিশুদের পদবির সংখ্যা ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে। এই পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট বছরে নিবন্ধিত নবজাতকদের নিয়ে। পুরো যুক্তরাজ্যের সব বয়সী মানুষের মধ্যে কোন পদবি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত, সেই হিসাব এটি নয়। দ্য টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে খান পদবির তুলনায় স্মিথ পদবিতে নিবন্ধিত শিশুর সংখ্যা ৫ হাজার ৪৬৪ বেশি ছিল। প্রায় তিন দশকে সেই ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সাম্প্রতিক হিসাবে স্মিথ পদবিতে নিবন্ধন কমার এবং খান পদবিতে বাড়ার প্রবণতা থেকেই ২০২৭ সালের সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। অভিবাসন, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্মহারের পার্থক্য এবং কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে তুলনামূলক কমসংখ্যক পদবির ব্যবহার এ ধরনের তালিকায় প্রভাব ফেলতে পারে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির গবেষক নুনি জর্গেনসেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ একই পদবি ব্যবহার করলে সেটির অবস্থানও তালিকায় ওপরে উঠতে পারে। তবে খান ও স্মিথের ক্ষেত্রে এই প্রভাব কতটা, তা নির্ধারণের মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। পদবির তালিকা থেকে কোনো শিশুর নাগরিকত্ব, জন্মস্থান বা ধর্ম নিশ্চিত করা যায় না। একইভাবে নবজাতকদের মধ্যে কোনো পদবির ব্যবহার কমার অর্থ সেই পদবি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নয়। এই পরিসংখ্যান মূলত জন্ম নিবন্ধনে পারিবারিক নাম ব্যবহারের পরিবর্তন তুলে ধরে।
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনকে আবার গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ইয়েমেন, এক হামলাতেই প্রাণ গেল ৫ শিশুসহ ৯ জনের
রাশিয়ায় স্মরণকালের অন্যতম বড় ড্রোন হা মলা ইউক্রেনের, আগুন সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালে
প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ যে চিউইং গাম চিবিয়ে থাকেন, তার অনেকগুলোতেই রয়েছে প্লাস্টিকজাতীয় কৃত্রিম উপাদান। এসব উপাদান চিউইং গামকে দীর্ঘ সময় স্থিতিস্থাপক রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু ব্যবহারের পর রাস্তায় বা খোলা জায়গায় ফেলে দিলে তা সহজে পচে যায় না। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের ২০২৫ সালের একটি বিশ্লেষণে চিউইং গাম থেকে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর আনুমানিক এক লাখ টন প্লাস্টিকজাত বর্জ্য তৈরির দাবি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষক ডেভিড জোন্স তাঁর ‘চিউইং গাম ইজ প্লাস্টিক পলিউশন, নট আ লিটার প্রবলেম’ শীর্ষক বিশ্লেষণে চিউইং গামের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, ব্যবহৃত চিউইং গাম শুধু রাস্তাঘাট নোংরা করে না, কৃত্রিম পলিমারযুক্ত গাম পরিবেশে প্লাস্টিকদূষণের উৎসও হতে পারে। বাজারে প্রচলিত অনেক চিউইং গামের অন্যতম উপাদান হলো ‘গাম বেস’। এটি চিউইং গামের স্থিতিস্থাপকতা ও চিবানোর উপযোগিতা বজায় রাখে। কিছু গাম বেসে পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি কৃত্রিম রাবার ও পলিমার ব্যবহার করা হয়। প্লাস্টিকের বোতল, গাড়ির টায়ার এবং আঠা তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু উপাদানের সঙ্গে এসব পলিমারের রাসায়নিক মিল রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, চিউইং গাম সরাসরি প্লাস্টিকের বোতল বা গাড়ির টায়ারের একই উপাদান দিয়ে তৈরি। চিউইং গামের মোড়কে সাধারণত ‘গাম বেস’ লেখা থাকে। এতে ব্যবহৃত প্রতিটি পলিমারের আলাদা পরিচয় সব সময় প্রকাশ করা হয় না। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে শুধু উপাদানের তালিকা দেখে গাম বেসের সম্পূর্ণ গঠন জানা কঠিন হতে পারে। তবে সব চিউইং গামে কৃত্রিম প্লাস্টিকজাত উপাদান থাকে না। কিছু পণ্য প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ আঠা বা গাছের রস থেকে তৈরি হয়। তাই বাজারের সব চিউইং গামকে একই ধরনের প্লাস্টিকজাত পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। পরিবেশগত সমস্যার একটি বড় কারণ হলো ব্যবহারের পর চিউইং গাম যেখানে-সেখানে ফেলে দেওয়া। কৃত্রিম পলিমারযুক্ত গাম সহজে প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে যায় না। ফলে ফুটপাত, রাস্তা ও অন্যান্য স্থানে দীর্ঘদিন আটকে থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে পরিবেশে পড়ে থাকা এসব উপাদান ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষকদের আশঙ্কা, এভাবে তৈরি হওয়া কণা মাটি ও পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণে ভূমিকা রাখতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের বিশ্লেষণে বিশ্বজুড়ে চিউইং গাম থেকে প্রতিবছর আনুমানিক এক লাখ টন প্লাস্টিকজাত বর্জ্য তৈরির কথা বলা হয়েছে। তবে এই পরিমাণ সরাসরি বিশ্বব্যাপী পরিমাপ করে নিশ্চিত করা কোনো পরিসংখ্যান নয়। এটি একটি আনুমানিক হিসাব। চিউইং গামের বর্জ্য পরিষ্কার করাও শহর কর্তৃপক্ষের জন্য ব্যয়বহুল। ফুটপাত ও জনসমাগমস্থলে আটকে থাকা গাম সরাতে বিশেষ পরিষ্কারপদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসনের অর্থ ও জনবল ব্যয় হয়। ডেভিড জোন্সের বিশ্লেষণে চিউইং গামের উপাদান সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পণ্যের মোড়কে কৃত্রিম পলিমারের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উপাদান দিয়ে তৈরি বিকল্প চিউইং গামের ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হলেই কোনো পণ্য পরিবেশে দ্রুত পচে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। চিউইং গামে প্লাস্টিকজাত পলিমার থাকার বিষয়টি মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির প্রশ্নও সামনে আনে। তবে এসব উপাদান চিবানোর ফলে কতটা ক্ষুদ্র কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। শুধু চিউইং গামে কৃত্রিম পলিমার থাকার তথ্য থেকে সেটিকে মানুষের জন্য বিষাক্ত বা সরাসরি রোগ সৃষ্টিকারী বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। গবেষকদের উদ্বেগের প্রধান বিষয় হলো চিউইং গামের ব্যবহার শেষে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী বর্জ্য এবং পরিবেশে প্লাস্টিকজাত কণা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা। এ কারণে ব্যবহৃত চিউইং গাম নির্ধারিত বর্জ্যপাত্রে ফেলা এবং পণ্যের উপাদান সম্পর্কে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মুনাফার পর শাহ ক্যাপিটাল গুটাচ্ছেন ভারতীয়-মার্কিন বিনিয়োগকারী
ফ্রান্সে বিক্ষোভের মধ্যে আগুনে পুড়ল ১৪৩ বছরের ঐতিহাসিক পৌরভবন, ধসে পড়েছে ছাদ
ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ জিতলে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই লড়তে হবে: ট্রাম্প
বৈশ্বিক ব্যাংকিং খাতের সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স। সদ্য প্রকাশিত এই তালিকায় এশিয়ার অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনের ব্যাংকগুলো তাদের একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। তালিকার শীর্ষ ১০টি ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটিই চীনের এবং সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, প্রথম চারটি স্থানই দখল করে নিয়েছে চীনা ব্যাংকসমূহ। বিপুল অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়, অবকাঠামো খাতে বিশাল সরকারি বিনিয়োগ এবং বন্ড ইস্যুর ওপর ভর করে এই ব্যাংকগুলো তাদের সম্পদের আকার ক্রমাগত বাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে। সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭.৬৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল সম্পদ নিয়ে টানা ১৩তম বছরের মতো বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাংকের মুকুট ধরে রেখেছে চীনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি)। এরপর যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না (৬.৯৭ ট্রিলিয়ন ডলার), চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক করপোরেশন (৬.৫২ ট্রিলিয়ন ডলার) এবং ব্যাংক অব চায়না (৫.৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার)। তালিকার দশম স্থানে থাকা পোস্টাল সেভিংস ব্যাংক অব চায়না মিলিয়ে মোট পাঁচটি চীনা ব্যাংক এই শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, চীনের বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হিসেবে ৪.৪৩ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে তালিকার পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জায়ান্ট জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোং। তবে মোট সম্পদের দিক থেকে পঞ্চম হলেও শেয়ারবাজারের মূলধন বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের বিচারে জেপি মরগান বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ব্যাংক হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। শীর্ষ এই তালিকায় ইউরোপীয় ব্যাংকিং খাতেও বড় ধরনের রদবদল লক্ষ করা গেছে। যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী এইচএসবিসি হোল্ডিংসকে পেছনে ফেলে ইউরোপের বৃহত্তম ব্যাংক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ফ্রান্সের বিএনপি পরিবা, যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩.২৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনা ব্যাংকগুলো যেখানে সম্পদের বিশাল আকারের ওপর ভিত্তি করে দাপট দেখাচ্ছে, সেখানে মার্কিন ও ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো উচ্চ মুনাফা, ক্যাপিটাল মার্কেট ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার (ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট) মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের শক্তিশালী প্রভাব ধরে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক অব আমেরিকা এবং ফ্রান্সের ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল যথাক্রমে ষষ্ঠ ও নবম স্থান নিয়ে এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
দুর্গন্ধযুক্ত বায়ূত্যাগের কারণে চাকরি হারানো বাসচালকের মামলা খারিজ করল ব্রিটিশ আদালত
পুলিশ দেখে জরিমানা ভয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়া স্ত্রীকে রেখেই পালালেন স্বামী, বিদ্রূপে ‘বর্ষসেরা স্বামী’