বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র হলেও এবার যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটি অব গ্লাসগোতে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ অর্জন করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (রিসার্চ) বিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির মর্যাদাপূর্ণ EPSRC Doctoral Landscape Award (DLA) লাভ করেছেন।
এই স্কলারশিপের আওতায় তার সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। পাশাপাশি গবেষণাকালীন জীবনযাপনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক স্টাইপেন্ডও পাবেন, যা পুরো গবেষণা মেয়াদজুড়ে প্রদান করা হবে।
আবদুল্লাহ আল ফাহাদ কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি খুলনার নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
এ পর্যন্ত তার তিনটি আন্তর্জাতিক জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি Q1, একটি Q2 এবং একটি Q4 মানের জার্নালে স্থান পেয়েছে। এছাড়া স্প্রিংগার থেকে প্রকাশিত একটি বইয়ের অধ্যায়, দুটি IEEE আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন এবং স্প্রিংগারে প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা আরও একটি গবেষণাপত্র রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে নির্বাচিত হওয়ার পেছনে দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পিত প্রস্তুতি, ধারাবাহিক গবেষণা, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের সঙ্গে নিয়মিত একাডেমিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা প্রতিযোগিতা ও অনিশ্চয়তা থাকলেও তিনি গবেষণার লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।
যুক্তরাজ্যের Engineering and Physical Sciences Research Council (EPSRC) দেশটির প্রকৌশল ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম প্রধান অর্থায়নকারী সংস্থা। তাদের অর্থায়নে পরিচালিত Doctoral Landscape Award-এর মাধ্যমে প্রতিবছর নির্বাচিত গবেষকদের বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ, আধুনিক গবেষণাগার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এখনও পিএইচডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাধিকার দিলেও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার মান, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আবদুল্লাহ আল ফাহাদ মনে করেন, বিদেশে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়া, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনায় গুরুত্ব দেওয়া, শক্তিশালী একাডেমিক প্রোফাইল তৈরি করা এবং সম্ভাব্য সুপারভাইজারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধৈর্য ধরে আবেদন চালিয়ে যাওয়াও সফলতার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
কুয়েটের একজন তরুণ শিক্ষক থেকে বিশ্বের অন্যতম গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ অর্জনের এই সাফল্য বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। বিশেষ করে যারা যুক্তরাজ্যে গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য এটি প্রমাণ করে যে সঠিক পরিকল্পনা, মানসম্মত গবেষণা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমাতে যুগান্তকারী এক পদক্ষেপ নিয়েছে লিবিয়া। দেশটির বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে সরাসরি চীনের ‘ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম’ বা সিআইপিএস-এর সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে লিবিয়ার ব্যাংকগুলো মার্কিন ডলারের কোনো রকম মধ্যস্থতা ছাড়াই সরাসরি চীনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেন ও অর্থ আদান-প্রদান করতে পারবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডি-ডলারাইজেশন প্রক্রিয়ার একটি বড় দৃষ্টান্ত। সম্প্রতি বেইজিং সফরকালে লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নাজি মোহাম্মদ ইসা এবং পিপলস ব্যাংক অব চায়নার (পিবিওসি) গভর্নর প্যান গংশেং-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এর আগে, দুই দেশের গভর্নর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় সূচনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, সিআইপিএস সিস্টেমে যুক্ত হওয়ার ফলে দুই দেশের মধ্যকার আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও দ্রুততর হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউয়ানের ব্যবহার সহজ করতে ২০১৫ সালে পিপলস ব্যাংক অব চায়না এই ব্যবস্থাটি চালু করেছিল। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা দূর হওয়ায় ডলারের ওপর লিবিয়ার নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। এই নতুন চুক্তিটি বিশেষ করে লিবিয়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন থেকে তারা সরাসরি চীনে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। পাশাপাশি, চীনা ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সরাসরি ‘লেটার অব ক্রেডিট’ (এলসি) খোলার প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক ব্যাংকিং সহযোগিতা আরও জোরদার করতে লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে দেশটির বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিচালকদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যাংকিং প্রতিনিধি দল শিগগিরই বেইজিং সফর করবে। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো চীনা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ও আর্থিক স্থানান্তরের ক্ষেত্রে চীনের উন্নত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো। লিবিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে দেশটিতে অবৈধ মুদ্রা বাজারের প্রভাব অনেকটাই কমে আসবে। একইসঙ্গে এটি মানি লন্ডারিং ও অর্থায়ন প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, যা বিশ্ব দরবারে লিবিয়ার ব্যাংকিং খাতের ভাবমূর্তি ও সুনাম আরও উজ্জ্বল করবে।
বেলজিয়ামের ফেডারেল সরকার পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইসরাইলি বসতিগুলোর উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে ইউরোপের চতুর্থ রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের অবৈধ বসতি পণ্যের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান নিল দেশটি, যার আগে স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড একই পদক্ষেপ নিয়েছিল। যদিও এই বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই গ্রহণ করা হয়েছিল, কিন্তু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং দীর্ঘস্থায়ী দরকষাকষির কারণে এটি কার্যকর করতে বেশ বিলম্ব ঘটে। শেষ পর্যন্ত সরকারের গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হওয়ার ঠিক আগে, শনিবার রাতে মন্ত্রিসভার এক দীর্ঘায়িত বৈঠকে সব পক্ষের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। অবশ্য আইনি খসড়াটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণের সামনে প্রকাশ না করায় এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জানা যায়নি। বেলজিয়াম সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের আইনপ্রণেতা শারেন হাস্কেল। তিনি মন্তব্য করেন যে, বেলজিয়াম এমন এক অবস্থানে গেছে যেখান থেকে তাদের আর ফেরার সুযোগ নেই। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, তারা কট্টর ইসলাম আমদানি করতে থাকুক, আর ইসরাইল তাদের উৎপাদিত পণ্য শুধু সেইসব দেশেই পাঠাবে যারা প্রযুক্তি, গুণমান ও নতুন উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দেয়। অনুরূপ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেলজিয়ামের কট্টরপন্থী এমপি স্যাম ভ্যান রয়। তিনি সরকারের এই পদক্ষেপকে একপেশে আখ্যা দিয়ে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে হওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো এড়িয়ে গিয়ে শুধু ইসরাইলকে টার্গেট করা হচ্ছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি শ্রমিকরাও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, দেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইহুদিদের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি থাকা মুসলিম ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই সরকার এই রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। বিপরীতে, মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বেলজিয়ামের এই নতুন আইনকে সাধুবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির ফরাসিভাষী বেলজিয়াম শাখার অ্যাডভোকেসি অফিসার নাথালি জ্যানে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের অন্যায় দখলদারিত্ব ও বর্ণবাদী আচরণ রুখতে খুব কম দেশই বাস্তবে পদক্ষেপ নিতে পেরেছে। সেই তুলনায় দেরিতে হলেও বেলজিয়ামের এই উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অবশ্য বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এই নিষেধাজ্ঞার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, এই আইন কেবল পশ্চিম তীরের বসতির পণ্যের ওপর কার্যকর করা হয়েছে, কিন্তু ইসরাইলের দখলে থাকা গোলান মালভূমিকে এর বাইরে রাখা হয়েছে। ‘ব্রোডারলিজেক ডেলেন’ নামক একটি এনজিওর পলিসি অফিসার রিকর্ট হোরেম্যানস জানান, গোলান মালভূমিকে ছাড় দেওয়ার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এছাড়া অন্যান্য এনজিও সতর্ক করেছে যে, বেলজিয়াম সরাসরি আমদানি বন্ধ করলেও ইসরাইলি পণ্যগুলো ইউরোপের অন্য কোনো দেশের সীমান্ত ব্যবহার করে ‘পেছনের দরজা’ দিয়ে ঠিকই এ দেশের বাজারে ঢুকে পড়তে পারে।
মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকেই ভিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, অন্য কোনো দেশ থেকে আবেদন করলে ভিসা প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং আবেদন ফি ফেরত দেওয়া হবে না। রোববার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ নির্দেশনা জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, শিক্ষা বা অন্য কোনো ধরনের ভিসার জন্য আবেদনকারীদের নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটেই সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা উচিত। এতে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মার্কিন দূতাবাস আরও জানায়, কোনো আবেদনকারী যদি তৃতীয় কোনো দেশ থেকে ভিসার আবেদন করেন, তাহলে তার আবেদন অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখে পড়তে পারে। ফলে ভিসা পাওয়া কঠিন হতে পারে এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বেশি সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে করা ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে পরিশোধ করা আবেদন ফি ফেরতযোগ্য নয় বলেও পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে দূতাবাস। ভিসা আবেদনকারীদের অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াতে নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।