সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ব্যবহৃত সিরিঞ্জ জমা দিলে নগদ অর্থ, মামদানি প্রশাসনের বিতর্কিত কর্মসূচি হলো স্থায়ী

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ৫:৫৪
যুবসমাজের ওপর মাদকাসক্তির ভয়াবহ প্রভাব ও সামাজিক সংকট। ছবি:সংগৃহীত
যুবসমাজের ওপর মাদকাসক্তির ভয়াবহ প্রভাব ও সামাজিক সংকট। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি প্রশাসন ব্যবহৃত সিরিঞ্জ জমা দিলে নগদ অর্থ দেওয়ার বিতর্কিত পরীক্ষামূলক কর্মসূচিকে স্থায়ী করেছে।

 

নতুন অর্থবছরের ১২৬ বিলিয়ন ডলারের সিটি বাজেটে এই কর্মসূচি চালিয়ে যেতে ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট অনুমোদনের আগে গত ৩০ জুন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে জমা দেওয়া স্বাস্থ্য বিভাগের নথিতে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

 

এই কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সংগ্রহকেন্দ্রে প্রতিটি ব্যবহৃত সিরিঞ্জ জমা দিলে ২০ সেন্ট করে দেওয়া হয়। একজন অংশগ্রহণকারী প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০টি সিরিঞ্জ জমা দিয়ে ১০ ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন।

 

বর্তমানে নিউইয়র্কের আটটি কেন্দ্রে সিরিঞ্জ জমা দেওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচটি ব্রঙ্কসে, এবং ব্রুকলিন, ম্যানহাটন ও কুইন্সে একটি করে কেন্দ্র রয়েছে।

 

বস্টনভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা Addiction Response Resources ২০২০ সালে একই ধরনের কর্মসূচি চালু করেছিল। সংস্থাটি ১১.১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কের এই কর্মসূচি পরিচালনা করবে।

 

তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ব্যবহৃত সিরিঞ্জের বিনিময়ে নগদ অর্থ দেওয়া অবৈধ মাদক ব্যবহারে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিতে পারে। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ‘হার্ম রিডাকশন’ নীতির অংশ, যার লক্ষ্য ব্যবহৃত সিরিঞ্জ নিরাপদে সংগ্রহ করে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি কমানো।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি ভালোবাসার কথা বলে এইচ-১বি কর্মীদের ‘দাস’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা ভ্যান্সের
ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি ভালোবাসার কথা বলে এইচ-১বি কর্মীদের ‘দাস’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের 'বিদেশি চুক্তিবদ্ধ দাস' বলে আখ্যা দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন টিসিএস, ইনফোসিস, কগনিজ্যান্ট ও মাইক্রোসফটের মতো শীর্ষ আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।   মূলত বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রথম ধাপ এই কর্মসূচি। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে ভ্যান্স মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি ‘দাস’ আমদানি বন্ধ করে আমেরিকান কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। তবে তাঁর এই অবমাননাকর মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।   সমালোচনার মুখে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নামেন জে ডি ভ্যান্স। ঢাল হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন নিজের ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী ও দক্ষিণ ভারত থেকে আসা শ্বশুর-শাশুড়িকে। বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, নিজের অভিবাসী শ্বশুরবাড়ি ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি চরম গর্বিত।   ভ্যান্সের দাবি, বিদেশিদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আমেরিকান কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি ‘ভারসাম্য’ থাকা দরকার। কোনো কোম্পানি আমেরিকান কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি কর্মী আনলে তা কখনো ন্যায্য হতে পারে না।   তবে ভ্যান্সের এই ‘ভারসাম্য’ তত্ত্ব কিংবা শ্বশুরবাড়ির আবেগি গল্পে মন গলেনি ভারতের। ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের 'দাস' বলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে 'অযৌক্তিক ও অত্যন্ত আপত্তিকর' বলে আখ্যা দিয়েছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা কোনো দাস নন; বরং তাঁরা উচ্চশিক্ষিত, অত্যন্ত দক্ষ এবং মার্কিন অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৩:২৪
আমেরিকায় আগামী ট্যাক্স সিজনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাংলাদেশি করদাতাদের কর বছর সঠিকভাবে নিশ্চিত হতে হবে। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেয়ার আগে জেনে নিন কিছু জরুরি বিষয়

যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক সাধারণ একটি মাসেও সব বিল পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারেন না। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মাসের সব বিল মেটাতে পারছেন না ২৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মান্ডেলিনে একটি বাড়ি থেকে অন্তত তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

শিকাগোর উপশহরে বাড়ি থেকে অন্তত ৫ জনের মরদেহ সরিয়েছে পুলিশ, বাড়ছে রহস্য ও উৎকন্ঠা

আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের পর কেনা গাড়ির জন্য ক্লিন ভেহিকল ট্যাক্স ক্রেডিট আর প্রযোজ্য নয়। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়লেও চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার

বিশ্বজুড়ে বছরের প্রথম নয় মাসে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গতি ফিরছে না। ফেডারেল ট্যাক্স ক্রেডিট বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি গাড়ির বেশি দাম ও চার্জিং সুবিধার সীমাবদ্ধতা ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে রয়েছে। ফোর্বসের ১৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের এই চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়েছে।    বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক মিনারেল ইন্টেলিজেন্সের তথ্য উদ্ধৃত করে ফোর্বস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বে প্লাগ ইন হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৩ শতাংশ বেশি। মোট বিক্রির অর্ধেকের বেশি হয়েছে চীনে।    তবে বছরের সম্মিলিত প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সেপ্টেম্বরের চিত্র আলাদা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মাসে বৈশ্বিক বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ শতাংশ কমেছে। ইউরোপে রেকর্ড বিক্রি হলেও উত্তর আমেরিকা ও চীনের পতন তা পুষিয়ে দিতে পারেনি।    সেপ্টেম্বরে উত্তর আমেরিকায় বিক্রি কমেছে ৪৪ শতাংশ। এই তুলনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ট্যাক্স ক্রেডিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অনেক ক্রেতা গাড়ি কেনেন। ফলে ওই মাসের তুলনামূলক উঁচু বিক্রির বিপরীতে চলতি বছরের পতন বড় দেখাচ্ছে। ইউরোপে একই মাসে প্রায় ছয় লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি হয়েছে।    আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের পর কেনা বা অধিগ্রহণ করা গাড়ির জন্য নতুন, ব্যবহৃত ও যোগ্য বাণিজ্যিক ক্লিন ভেহিকল ট্যাক্স ক্রেডিট আর প্রযোজ্য নয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গাড়ি অধিগ্রহণ করে পরে ব্যবহার শুরু করার ক্ষেত্রে অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।    ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আর্থিক সহায়তা হারানো যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির দুর্বলতার একটি কারণ। তবে চীন ও ইউরোপের বাজারের তুলনায় বেশি ক্রয়মূল্য এবং পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামোর অভাব আরও বড় বাধা। তাই শুধু ট্যাক্স ক্রেডিটের পরিবর্তন দিয়ে মার্কিন বাজারের পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১১:৪০
সিটি অ্যান্ড স্টেট নিউইয়র্কের ‘২০২৬ এনওয়াইসি ফর্টি আন্ডার ফর্টি’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন তরুণ নেতা জেমি কাজী। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের সিটি অ্যান্ড স্টেটের ২০২৬ এনওয়াইসি ফর্টি আন্ডার ফর্টি’ তালিকায় বাংলাদেশি জেমি কাজী

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জবস এনওয়াইসি ম্যানহাটন হায়ারিং হল’ নামের চাকরি মেলা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে মঙ্গলবার নিয়োগ মেলা, সরাসরি কথা বলা যাবে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে

যুক্তরাষ্ট্রে বোর্ডিং পাস ছাড়া বিমানে না উঠেও গেটে যাওয়ার বিশেষ ‘গেটসায়ড বাই টিএসএ প্রিচেক’ কর্মসূচি সীমিত করেছে টিএসএ। ছবি: সংগৃহীত

টিকিট ছাড়াই বিমানবন্দরের গেটে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করল যুক্তরাষ্ট্র, ১৩ বিমানবন্দরে এখনো চালু

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক অনাগরিকদের ভোট দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কিত তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত। ছবি: সংগৃহীত
নাগরিক নন, এমন অবৈধ ভোটারের সন্দেহে হাজারো ব্যক্তিকে নিয়ে তদন্তে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার অভিযোগে হাজারো ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের প্রধান হারমিত ধিলন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত চলছে। তবে তাঁর এই বক্তব্য হাজারো ব্যক্তির অবৈধ ভোট দেওয়ার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার ঘোষণা নয়।    সাক্ষাৎকারে ধিলন বলেন, ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার অনুমতি নেই। বিচার বিভাগের তৎপরতা নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস তৈরির উদ্দেশ্যে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তা অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যমান উদ্বেগের মধ্যেই অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ধরনের তদন্তে সময় লাগে।    এই তৎপরতার মধ্যেই গত ১৫ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিচার বিভাগ। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে যৌথ পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, অঙ্গরাজ্যটির ভোটার তালিকায় ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা সম্ভবত মার্কিন নাগরিক নন। সরকারি বিবৃতিতেও এই শনাক্তকরণকে প্রাথমিক বিশ্লেষণ হিসেবে উল্লেখ করে পর্যালোচনা চলমান থাকার কথা বলা হয়েছে।    বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশ্যে পাওয়া ভোটার নিবন্ধনের রেকর্ডের সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়মে প্রত্যেক নিবন্ধিত ভোটারকে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো ডাকব্যালট গণনা বন্ধ রাখার আদেশ চেয়েছে ফেডারেল সরকার।    তবে ভোটার তালিকায় নাম থাকা, ব্যালট পাওয়া এবং বাস্তবে ভোট দেওয়া পৃথক বিষয়। একইভাবে তথ্যের অমিলের ভিত্তিতে কাউকে সম্ভাব্য অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা তাঁর নাগরিকত্ব বা অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। বিচার বিভাগের অভিযোগেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য নাগরিক নন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।    ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট ঠেকাতে অঙ্গরাজ্যে শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়েছে, পুরোনো অভিবাসন তথ্যের কারণে পরে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ভুলভাবে চিহ্নিত করা হতে পারে। একাধিক গবেষণায় নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা বিরল বলে উঠে এসেছে।    পৃথকভাবে গত ১৬ অক্টোবর বিচার বিভাগ নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউইয়র্ক ও আইডাহোতে নাগরিক নন এমন ১৬ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ ভোট, মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অপরাধে অভিযোগ আনার ঘোষণা দিয়েছে। এসব ফৌজদারি মামলা এবং হাজারো ব্যক্তিকে নিয়ে চলমান পর্যালোচনা একই বিষয় নয়। অভিযোগ আনা মানেও আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়।    সাক্ষাৎকারে ধিলন আরও জানান, ভোটকেন্দ্রে আইসিই এজেন্ট পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। কোনো নাগরিক নন এমন ব্যক্তির অবৈধ ভোট শনাক্ত হলে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোট চ্যালেঞ্জের কারণ হতে পারে, পুরো নির্বাচন চ্যালেঞ্জের নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১০:২৮
আমেরিকায় সোশ্যাল সিকিউরিটির রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট পেতে ৪০টি কাজের ক্রেডিট অর্জন প্রয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় সোশ্যাল সিকিউরিটি পেতে ১০ বছর কাজই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কিছু বিশেষ যোগ্যতা, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দেন ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে স্পেসএক্সের মালিকানাধীন একটি শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মাস্কের

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির অক্টোবরের অর্থপ্রদান

যুক্তরাষ্ট্রে ২১ অক্টোবর আসছে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ, জন্মতারিখ অনুযায়ী পাবেন সুবিধাভোগীরা

0 Comments