সুদানে গণহত্যার আশঙ্কা, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান আইসিসির
সুদানের উত্তর কোরদোফানের গুরুত্বপূর্ণ শহর এল-ওবেইদ নতুন করে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ও গণহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)।
Arab News-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দিয়ে আইসিসির উপ-প্রসিকিউটর নাজহাত খান বলেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অতীতের ভয়াবহতা আবারও ফিরে আসতে পারে।
তার ভাষায়, “আমরা বলতে পারব না যে আমরা জানতাম না। এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।”
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) ধীরে ধীরে এল-ওবেইদকে ঘিরে ফেলছে। শহরটিতে প্রায় প্রতিদিন ড্রোন হামলা হচ্ছে, চিকিৎসাকেন্দ্র, জ্বালানি স্টেশন ও জরুরি সেবাগুলো হামলার মুখে পড়ছে। এতে খাদ্য, ওষুধ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ২০২৫ সালে এল-ফাশারে সংঘটিত নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। সেখানে দীর্ঘ অবরোধের পর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও অনাহারে মৃত্যুকে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পাশাপাশি ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ এখন মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য।
এল-ওবেইদ কেবল একটি শহর নয়; এটি দারফুর, কোরদোফান ও মধ্য সুদানকে সংযুক্তকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও মানবিক সহায়তার কেন্দ্র। তাই শহরটি পতনের মুখে পড়লে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয়, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানো এখন জরুরি। তা না হলে সুদানের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে সীমিত পরিসরে চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ রাইড চালু করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা। স্টিয়ারিং হুইল ও প্যাডেলবিহীন দুই আসনের এই গাড়ির মাধ্যমে রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় ওয়েমোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামার পথে আরও এক ধাপ এগোল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সাইবারক্যাব চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। সোনালি রঙের সাইবারক্যাব প্রথমবার প্রদর্শন করা হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে। গাড়িটিতে প্রচলিত স্টিয়ারিং হুইল বা ব্রেক ও অ্যাক্সিলারেটর প্যাডেল নেই। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার জন্য গাড়িটি ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সরনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে। প্রথম ধাপে অস্টিনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাইবারক্যাব রাইড দেওয়া হচ্ছে। এর আগে টেসলা অস্টিনসহ কয়েকটি শহরে মডেল ওয়াই গাড়ি ব্যবহার করে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করেছিল। টেসলার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনসহ টেক্সাসের কয়েকটি শহর এবং ফ্লোরিডার মিয়ামি, অরল্যান্ডো ও টাম্পায় তাদের রোবোট্যাক্সি সেবা চলছে। সাইবারক্যাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে টেসলার স্বয়ংক্রিয় পরিবহন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে এই বিশেষভাবে তৈরি গাড়িকে তাদের রোবোট্যাক্সি বহরের মূল যান হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। জুলাইয়ে টেসলা জানিয়েছিল, সাইবারক্যাবের উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং পাবলিক রোডে এর ইঞ্জিনিয়ারিং টেস্ট ড্রাইভও শুরু করা হয়েছিল। অন্যদিকে, চালকবিহীন রাইড-হেইলিং বাজারে ওয়েমো ইতিমধ্যেই বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি ১ সেপ্টেম্বর ডেনভার, সান ডিয়েগো ও টাম্পায় পাবলিক রাইড চালু করে জানায়, এর মাধ্যমে ১৪টি শহরে তাদের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রাইড সেবা পৌঁছেছে। তবে টেসলার নতুন সেবার বিস্তার নিয়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএ জানিয়েছে, অস্টিনে সাইবারক্যাব চালুর বিষয়টি তারা মূল্যায়ন করছে। সাইবারক্যাবের যাত্রা শুরু হলেও টেসলা কত দ্রুত এই সেবা বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারবে এবং এটি কতটা লাভজনক হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের আস্থাই রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় টেসলার ভবিষ্যৎ সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।
অনাহারে মৃত্যু ৫ বছরের শিশুর, আলমারিতে মিলল মল ও উকুনে ঢাকা অবস্থায় দেহ, বাবা আটক
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বৃদ্ধি! চাকরি না পেয়ে হতাশ লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক
আগামী দিনের সেরা ১০ চাকরির ৬টিই স্বাস্থ্যসেবায়! যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে যে পেশাগুলোর চাহিদা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডিলেতে আইসিইর সাউথ টেক্সাস ফ্যামিলি রেসিডেনশিয়াল সেন্টারে আটক অভিবাসী পরিবারগুলোর শিশুদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা দিচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যাসি রেভকিন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গত বছর কেন্দ্রটি আবার চালু করার পর সেখানে আটক বাবা-মায়েরা খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার এবং ট্যাপের পানি পান করে শিশুদের বমি করার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পরই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন রেভকিন। রেভকিন ‘ইচ স্টেপ হোম’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিলেতে আটক পরিবারগুলোর কমিসারি অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিচ্ছেন। ওই অর্থ দিয়ে অভিভাবকেরা বোতলজাত পানি, নুডলসসহ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার এবং অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারছেন। গত সাত মাসে এভাবে তিনি শত শত পরিবারকে সহায়তা করেছেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ভেনেজুয়েলার এক আটক মা এডগারিয়ান্নি কোর্তেস গেরভিস ও তাঁর মেয়েও এই সহায়তা পেয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় কোর্তেস গেরভিসের ওজন কমছিল এবং তিনি ক্যাফেটেরিয়ার দেওয়া ভাত ও মাংসের মিশ্র খাবার খেতে পারছিলেন না। তাঁর মেয়েও খুব কম খাচ্ছিল এবং ডায়রিয়ায় ভুগছিল। পরে রেভকিনের সহায়তায় তারা কমিসারি থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার ও বোতলজাত পানি কিনতে পারেন। রেভকিন জানান, ডিলের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পর তিনি মনে করেছিলেন, কিছু একটা করা দরকার। তাঁর ভাষায়, শিশুদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জীবন কিছুটা সহজ করতে পারছেন, এটিই তাঁকে স্বস্তি দেয়। ডিলেতে খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক পরিবারগুলোর কাছ থেকে খাবার, পরিষ্কার পানির অভাব এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। মার্চে এবিসি নিউজ জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিলের কেন্দ্র থেকে একাধিক জরুরি ৯১১ কল করা হয়েছিল। এসব কলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থার কথা উঠে আসে। অন্যদিকে, আইসিই এসব অভিযোগের বিষয়ে বলেছে, ডিলেতে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসা, শিক্ষা, বিনোদন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়। কেন্দ্রটি বেসরকারি ঠিকাদার কোরসিভিক পরিচালনা করে। কোরসিভিকের দাবি, ডিলের পানির সরবরাহ শহরের অন্যান্য বাসিন্দাদের মতোই পরিষ্কার পানির ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। তবে অভিযোগের মধ্যেই রেভকিনের মতো বেসরকারি উদ্যোগগুলো আটক পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তায় পরিণত হয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠান শুধু খাবার নয়, শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্যও অর্থ দিচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মদিনের জন্য ক্যান্ডি থেকে শুরু করে ধুলোময় পরিবেশে থাকা শিশুদের নাকের স্প্রে পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে শহর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে ৩ লাখ ডলারের বেশি পেলেন এক ব্যক্তি
অটোপাইলট মোডে আচমকা মহাসড়কে থেমে গেল টেসলা, পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত চালক
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার বিধবা স্ত্রীকে বিশেষ সরকারি সুযোগ সুবিধা না দেওয়ার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ওয়ালমার্টের পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক নারীকে কোনো ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে না। তদন্ত শেষে প্রসিকিউটররা বলেছেন, ঘটনার সময় ওই নারী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন এবং ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইনের সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য। ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ জুন নর্থ লডারডেলের একটি ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায়। নিহত ব্যক্তির নাম বার্ট ডিগুগলিয়েলমো। ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা একটি স্মারকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি পার্কিংয়ের একটি জায়গা নিয়ে বিরোধ থেকে শুরু হয় এবং পুরো ঘটনার বেশির ভাগ অংশই মুঠোফোন ও একটি টেসলা গাড়ির ক্যামেরাসহ একাধিক ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছিল। ফলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তদন্তকারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার তথ্য ছিল। স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের স্মারক অনুযায়ী, গুলি চালানো নারীকে মেলিসা পেইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি তার ভাতিজি ও ভাতিজির শিশুকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে ছিলেন। পেইন ও ডিগুগলিয়েলমো একই পার্কিং স্পটে গাড়ি রাখার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়। এরপর ডিগুগলিয়েলমো নিজের গাড়িটি চলাচলের পথে রেখে দোকানের ভেতরে যান। কিছুক্ষণ পর তিনি গাড়িতে ফিরে আসেন। প্রসিকিউটরদের স্মারকে বলা হয়েছে, একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী তাকে পেইনের গাড়ি নিয়ে ক্ষতি করার কথা বলতে শুনেছেন। এরপর তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে অন্য জায়গায় পার্ক করেন এবং হেঁটে পেইনের গাড়ির দিকে এগিয়ে যান। একজন প্রত্যক্ষদর্শী তাকে তখন দৃশ্যত ক্ষুব্ধ অবস্থায় দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। পেইন তখন গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তার বাঁ হাতে ছিল মোবাইল ফোন এবং ডান হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ডিগুগলিয়েলমোকে সতর্ক করে বলেন, তিনি যদি তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকেন, তাহলে তিনি গুলি করবেন। কিন্তু ওই সতর্কবার্তার পরও ডিগুগলিয়েলমো তার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতেও তাকে পেইনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তদন্ত নথি অনুযায়ী, ডিগুগলিয়েলমো এগিয়ে আসার সময় পেইন পেছাতে থাকেন। ভিডিওতে ডিগুগলিয়েলমোকে তার পিছু নিতে এবং চাবি দিয়ে পেইনের গাড়ির ক্ষতি করার মতো অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি ফিরে গেলেও আবার পেইনের দিকে এগিয়ে আসেন। তখন পেইন গুলি চালান। গুলিটি ডিগুগলিয়েলমোর পেটে লাগে। গুলি চালানোর সময় পেইন তার স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। তার স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর পর পেইন তাকে পুলিশে ফোন করতে বলেন। পরে ব্রোওয়ার্ড শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তাকে অল্প সময়ের জন্য হেফাজতে নেন। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, পুলিশের কাছে পেইনের দেওয়া ঘটনার বিবরণ বিভিন্ন ভিডিওতে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। পরে আত্মরক্ষার দাবি করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর মামলাটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ে যায়। প্রসিকিউটরদের পর্যালোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল, প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের সময় পেইন যুক্তিসংগতভাবে নিজের জীবন বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলেন কি না। ব্রোওয়ার্ড স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের হোমিসাইড ট্রায়াল ইউনিটের প্রধান স্টিফেন জ্যাকর বলেন, পেইন একটি জনসমাগমস্থলে ছিলেন এবং ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায় অবস্থান করার আইনগত অধিকার তার ছিল। তিনি কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীও নন এবং আইন অনুযায়ী আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকার তার ছিল। ফলে গুলি চালানোর মুহূর্তে তিনি অন্য কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে ছিলেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইন আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা দেয়। এই আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তি যদি যুক্তিসংগতভাবে মনে করেন যে তিনি মৃত্যু বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরে না গিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করতে পারেন। প্রসিকিউটরদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পেইনের ক্ষেত্রে তার ভয় অযৌক্তিক ছিল, এমন প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষের হাতে নেই। প্রসিকিউটর জ্যাকরের মতে, এই আইনের কারণে পেইনকে আগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। তার পক্ষে সরে যাওয়াও বাধ্যতামূলক ছিল না, যদি তার আশঙ্কা যুক্তিসংগত হয়ে থাকে এবং বিপরীত প্রমাণ না থাকে। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করেছে, এই ঘটনায় পেইনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালানোর মতো প্রমাণ নেই। ঘটনার কয়েক দিন পর ব্রোওয়ার্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছিল, পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির পর গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে এবং পেইন দাবি করেছিলেন, তিনি আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছেন। সে সময় তদন্ত চলছিল এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, তা স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিল। শেষ পর্যন্ত প্রসিকিউটররা পেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে শুরু হওয়া ওই বিরোধে ডিগুগলিয়েলমোর মৃত্যুর ঘটনায় পেইনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে না। ঘটনাটি আবারও ফ্লোরিডার ‘স্ট্যান্ড ইওর গ্রাউন্ড’ আইন নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে ক্লিয়ারওয়াটারে পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে বিরোধের সময় গুলি করে একজনকে হত্যার ঘটনাতেও একই আইন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। তবে বর্তমান নর্থ লডারডেল ঘটনার ক্ষেত্রে প্রসিকিউটরদের সিদ্ধান্ত ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তদন্ত-তথ্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। সংবাদসূত্র: এবিসি নিউজ
মর্টগেজ রেট এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা আরও ব্যয়বহুল হচ্ছে
আইসিই নিয়োগ নিয়ে হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ, পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই নিয়োগ পাচ্ছেন সশস্ত্র এজেন্টরা