বাড়ির মূল দরজায় পৌনে ৮ ফুটের অ্যালিগেটর, গভীর রাতে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে পুরো পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বে শহরে গভীর রাতে এক বিশাল অ্যালিগেটর একটি পরিবারের বাড়ির মূল দরজার সামনে এসে অবস্থান নেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা সরীসৃপটি দীর্ঘ সময় সেখানেই থাকায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের বাইরে বের হতে পারেননি।
ফক্স ৩৫-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বুঝতেই পারেননি যে বাড়ির বাইরে কী আছে। পরে গ্যারেজে লাগানো গতিসংবেদনশীল নিরাপত্তা ক্যামেরা থেকে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা আসার পর বিষয়টি জানতে পারেন তারা।
বাড়ির মালিক উইন জানান, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, কাছের ঘাসের ভেতর থেকে একটি বড় অ্যালিগেটর ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসে সোজা তাদের মূল দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সবাই জানালার আড়াল থেকে পুরো ঘটনাটি দেখেন।
তিনি বলেন, “এমন দৃশ্য দেখে আমরা সত্যিই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।”
পরিবারটির জন্য ঘটনাটি আরও উদ্বেগের কারণ ছিল তাদের ছোট পোষা কুকুর। রাতের দিকে নিয়মিত কুকুরটিকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। উইনের ভাষায়, নিরাপত্তা ক্যামেরার সতর্কবার্তা না পেলে কী ঘটতে পারত, তা ভেবে এখনও তিনি আতঙ্কিত।
তিনি বলেন, “আমি এখন সব সময় সতর্ক থাকি। বারবার চারপাশে তাকাই, যেন আমি বা আমার কুকুর কোনো হামলার শিকার না হই। ও আমার পরিবারেরই একজন সদস্য।”
ঘটনার পরপরই পরিবারটি জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করলে প্রথমে পাম বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের (এফডব্লিউসি) তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত একজন প্রাণী ধরার বিশেষজ্ঞ এসে অ্যালিগেটরটিকে নিরাপদে ধরে নিয়ে যান। সূর্য ওঠার আগেই সেটিকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরিমাপ করে দেখা যায়, অ্যালিগেটরটির দৈর্ঘ্য ছিল ঠিক ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি।
ফ্লোরিডার বিভিন্ন জলাশয় ও সংরক্ষণ পুকুরের আশপাশে অ্যালিগেটর দেখা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে উইন বলেন, এত বড় একটি অ্যালিগেটরকে বাড়ির মূল প্রবেশপথ পর্যন্ত চলে আসতে তিনি আগে কখনও দেখেননি।
এ ঘটনার পর প্রতিবেশীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার পরামর্শ, রাতে বাইরে বের হওয়ার আগে টর্চলাইট দিয়ে চারপাশ দেখে নেওয়া এবং সম্ভব হলে গতিসংবেদনশীল নিরাপত্তা ক্যামেরা ব্যবহার করা উচিত।
ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুরো ফ্লোরিডায় প্রায় ১৩ লাখ অ্যালিগেটর রয়েছে। গরমের সময় এদের চলাচল ও সক্রিয়তা বেড়ে যায়। তাই বাসিন্দাদের জলাশয়ের ধারে সতর্ক থাকার, পোষা প্রাণীকে দড়িতে বেঁধে রাখার এবং কোনো অবস্থাতেই অ্যালিগেটরকে খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, কোনো অ্যালিগেটর মানুষের নিরাপত্তা, পোষা প্রাণী বা সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে দ্রুত তাদের নির্ধারিত হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত কর্মীরা গিয়ে প্রাণীটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেবেন।
সূত্র: ফক্স ৩৫
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর প্রকাশিত দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণের বার্ষিকীকৃত হার আগের মাসের তুলনায় ৪.৬ শতাংশ কমে ৮ লাখ ৫৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়। একই সময়ে ভবিষ্যতে একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন ৪ শতাংশ কমে ৮ লাখ ৪৫ হাজারে নেমেছে, যা সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আবাসন বাজারে এই দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে উচ্চ বন্ধকী ঋণের সুদ ও বাড়ির চড়া দামকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্ধকী ঋণের গড় সুদের হার প্রায় ৭.৪০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ নেওয়া পরিবারগুলোর মাসিক খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহী তরুণ, মধ্যবিত্ত পরিবার এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য নিজস্ব বাড়ির ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে উঠছে। শুধু বাড়ি নির্মাণ কমে যাওয়াই নয়, নির্মাণ খাতের ব্যবসায়ীরাও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বাড়ি তৈরির উপকরণের দাম বৃদ্ধি, ডিজেলের ব্যয় এবং শ্রমিকের ঘাটতি নির্মাণ ব্যয় বাড়াচ্ছে। অভিবাসনবিষয়ক কঠোর নীতির কারণে শ্রমবাজারে চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও নির্মাণশিল্পের দুর্বলতার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, কিছু এলাকায় অবিক্রীত বাড়ির মজুত থাকায় নির্মাতারা নতুন প্রকল্প শুরু করার বিষয়ে সতর্ক হচ্ছেন। পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, পাঁচ বা তার বেশি ইউনিটের আবাসিক ভবন নির্মাণের বার্ষিকীকৃত হার সেপ্টেম্বরে ৭.২ শতাংশ কমে ৩ লাখ ৪৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় বহুতল আবাসন নির্মাণ শুরুর হার কমেছে ২৫.৯ শতাংশ। একই সময়ে সব ধরনের আবাসিক নির্মাণ মিলিয়ে মোট নির্মাণ শুরুর হার কমেছে ৫.২ শতাংশ। বাড়ি কেনার ব্যয় বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বাড়ির দাম, ঋণের সুদ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করছে। তবে নির্মাণ কমে যাওয়ার এই পরিসংখ্যান দিয়ে একা ভবিষ্যতে বাড়ির দাম কতটা বাড়বে বা কমবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যের নাম বদলাতে চান ট্রাম্প, নতুন নাম ‘নিউ আমেরিকা’!
মিশিগানে গাছের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থী নিহত, আশঙ্কাজনক আরও তিনজন
অ্যামাজনে চাকরির সুযোগ, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগ; ঘণ্টায় গড় আয় ২০ ডলারের বেশি
চুল সাজানো, মেকআপ ও পোশাক বাছাইসহ নিজেকে প্রস্তুত করতে নারীরা প্রতিদিন গড়ে ৫৫ মিনিট ব্যয় করেন। যুক্তরাষ্ট্রে টুডে ও এওএলের ২০১৪ সালের একটি জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছিল। তবে এই সময়ের ভিত্তিতে নারীরা জীবনের আড়াই বছর সাজগোজে কাটান বলে যে হিসাব দেওয়া হয়, তা নির্দিষ্ট সময়কাল ধরে করা গাণিতিক অনুমান, সরাসরি জরিপের ফল নয়। ‘আইডিয়াল টু রিয়েল বডি ইমেজ’ শীর্ষক জরিপে ২ হাজার ৫৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী ২০০ কিশোর-কিশোরী অংশ নেন। তাঁদের কাছে দৈনিক নিজের বাহ্যিক উপস্থিতির পেছনে কত সময় ব্যয় করেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। প্রশ্নে চুল সাজানো ও মেকআপের পাশাপাশি পোশাক বাছাই এবং শেভ করার মতো কাজও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে পুরো সময়কে শুধু মেকআপ বা ত্বকের যত্নের সময় বলা যথাযথ নয়। প্রতিদিন ৫৫ মিনিট হিসাবে বছরে মোট সময় দাঁড়ায় প্রায় ৩৩৫ ঘণ্টা, অর্থাৎ টানা প্রায় ১৪ দিন। একই অভ্যাস প্রায় সাড়ে ৬৫ বছর বজায় থাকলে মোট সময় আড়াই বছরের কাছাকাছি হয়। কিন্তু জীবনের সব বয়সে একজন মানুষ একই সময় ব্যয় করেন, এমন সিদ্ধান্ত এই হিসাব থেকে পাওয়া যায় না। জরিপে পুরুষদেরও নিজের বাহ্যিক উপস্থিতির জন্য সময় ব্যয় করার তথ্য পাওয়া যায়। নারীদের ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক গড় সময় ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৪ ঘণ্টা, পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা। তাই নিজেকে প্রস্তুত করার সময়ের চাপ পুরুষদের একেবারেই নেই, এমন দাবিও জরিপের ফলের সঙ্গে মেলে না। নিজের যত্ন নেওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয়টিও জরিপে উঠে আসে। অংশগ্রহণকারী প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ৭৮ শতাংশ নিজের সম্পর্কে ভালো অনুভব করাকে বাহ্যিক উপস্থিতির পেছনে সময় দেওয়ার একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এই উত্তর থেকে সবার অভিজ্ঞতাকে আনন্দ, সৃজনশীলতা কিংবা বাধ্যবাধকতা হিসেবে একভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। এটি ২০১৪ সালের একটি নির্দিষ্ট জরিপের তথ্য। একে বর্তমান সময়ের সব দেশের নারীর দৈনন্দিন অভ্যাসের গড় হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের সময়ের সঙ্গে তুলনা করতে হলে কোর্সের মেয়াদ, ক্লাস ও পড়াশোনার প্রকৃত ঘণ্টা নির্ধারণ করতে হবে। শুধু আড়াই বছরের যোগফল দিয়ে সেই তুলনা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
দাম কমানোর বার্তা দিলেন ওয়ালমার্টের সিইও, আনলেন ১২০ ডলারের মেম্বারশিপ অফার
মিসিসিপিতে দোকানে চুরির অভিযোগে পুলিশের গুলিতে ১ বছরের শিশুর মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে মাংস ও মাছের বিকল্পে থ্রিডি প্রযুক্তির মাংস আনছে স্টেকহোল্ডার ফুডস
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বোন সাহরা নূরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশির পর তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি স্বেচ্ছায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সোমবার, ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর ইলহান ওমরের বাড়িতে তল্লাশি চালান যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) কর্মকর্তারা। এর পরই তাঁর বোন সাহরা নূর তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে নূরের সাক্ষাৎকারের পর তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফেডারেল তদন্তকারীরা ইলহান ওমর এবং তাঁর প্রয়াত বাবাকে ঘিরে সম্ভাব্য অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের মূল বিষয়, অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিপত্রে কোনো ধরনের ভুল তথ্য বা অনিয়ম ছিল কি না। তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং তদন্তকারীদের হাতে থাকা প্রমাণ সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইলহান ওমর যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি। তিনি ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত। তাঁর বাড়িতে তল্লাশির ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। ওমর অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাড়িতে তল্লাশি চালানোর ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টার অংশ। তিনি তদন্তের উদ্দেশ্য ও সময় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এর আগে ১২ অক্টোবরের তল্লাশির পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারীরা ওমরের অভিবাসন-সংক্রান্ত পুরোনো নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে তদন্তের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। সাহরা নূরকে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাটি তদন্তের পরিধি সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আনলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, তাঁর দেওয়া বক্তব্য তদন্তের গতিপথে কী প্রভাব ফেলেছে, সেটিও জানা যায়নি। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, তদন্তকারীরা ইলহান ওমরের অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিপত্র এবং তাঁর পরিবারের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরীক্ষা করছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ওমর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বাড়িতে তল্লাশিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প, চাপে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তারা
এক বছরে ১৩ লাখের বেশি মানুষ পেলেন গ্রিন কার্ড, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হলো নতুন রেকর্ড