সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বন্যপ্রাণী

কোবরা, অ্যানাকোন্ডা ও বিভিন্ন প্রজাতির র‍্যাটলস্নেক উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
অনুমতি ছাড়াই গুদামে রাখা হয়েছিল ৪৬টি বিষধর সাপ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ২

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে অ্যানাকোন্ডা ও মারাত্মক বিষধর কোবরাসহ মোট ৪৯টি ভয়ংকর সরীসৃপ প্রাণী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গুদামের মালিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   কানেকটিকাট এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি বিস্তারিত তদন্তের সূত্র ধরে হ্যামডেন এলাকার ওই গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো এই অভিযানে উদ্ধারকৃত প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে দুটি বড় আকারের অ্যানাকোন্ডা, একটি ওয়াটার মনিটর লিজার্ড বা গুইশাপ এবং ৪৬টি মারাত্মক বিষধর সাপ।   উদ্ধার হওয়া ৪৬টি বিষধর সাপের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির র‍্যাটলস্নেক ও কোবরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৩টি টিম্বার র‍্যাটলস্নেক, ছয়টি প্রেইরি র‍্যাটলস্নেক, পাঁচটি ডাস্কি পিগমি র‍্যাটলস্নেক, চারটি কেরেটারান ডাস্কি র‍্যাটলস্নেক এবং দুটি করে অ্যারিজোনা ব্ল্যাক, ব্ল্যাক-টেইলড, মটলড রক, নিওট্রপিক্যাল, উরাকোয়ান ও ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক। এ ছাড়াও সেখানে একটি ইস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক, একটি প্যানামিন্ট র‍্যাটলস্নেক, একটি অ্যালবিনো ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটলস্নেক এবং একটি ভয়ংকর কেপ কোবরা পাওয়া গেছে।   এই বেআইনি কাজের দায়ে টাইলর ফস্টার এবং গুদামের মালিক ব্রায়ান রোমান নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ অনুমতি ছাড়া বন্যপ্রাণী নিজেদের দখলে রাখা এবং বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী আটকে রাখার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   কানেকটিকাট পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই প্রাণীগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক। বৈধ এবং সঠিক অনুমতিপত্র ছাড়া কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে এই ধরনের প্রাণী ব্যক্তিগত দখলে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উদ্ধার হওয়া সাপগুলোকে বর্তমানে একটি বিশেষায়িত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।   তবে ঠিক কী কারণে বা কোন উদ্দেশ্যে এই দুই ব্যক্তি এতগুলো বিপজ্জনক ও বিষধর সাপ নিজেদের কাছে রেখেছিলেন, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। প্রাণীগুলো কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
বার্ড ফ্লুর ঝুঁকিতে মেলবোর্নের সেন্ট কিল্ডার ‘লিটল পেঙ্গুইন’ উপনিবেশ। ছবি: এআই
বার্ড ফ্লুর হুমকিতে অস্ট্রেলিয়ার ‘লিটল পেঙ্গুইন’, মারা যেতে পারে ৪০ শতাংশ

অস্ট্রেলিয়ায় এইচ৫ (H5) বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির অন্যতম পরিচিত ‘লিটল পেঙ্গুইন’ উপনিবেশ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের আশঙ্কা, ভাইরাসটি মেলবোর্নের সেন্ট কিল্ডা সৈকতের পেঙ্গুইন উপনিবেশে পৌঁছালে সেখানে থাকা পেঙ্গুইনের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মারা যেতে পারে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রতি প্রথমবারের মতো বন্যপ্রাণীর মধ্যে বার্ড ফ্লুর কারণে ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই সতর্কতা সামনে এসেছে।   মেলবোর্নের সেন্ট কিল্ডা উপকূলে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ‘লিটল পেঙ্গুইন’ বাসা বেঁধে থাকে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় শত শত দর্শনার্থী সৈকতে ভিড় করেন সমুদ্র থেকে এই ছোট আকারের পেঙ্গুইনগুলোর তীরে ফিরে আসার দৃশ্য দেখতে।   ‘লিটল পেঙ্গুইন’ বিশ্বের সবচেয়ে ছোট প্রজাতির পেঙ্গুইন। এদের উচ্চতা সাধারণত প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন জনসংখ্যা রয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপ আইল্যান্ডের উপনিবেশটি সবচেয়ে বড়।   সেন্ট কিল্ডার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আর্থকেয়ার সেন্ট কিল্ডার সভাপতি লানা অস্টিন বলেন, তাদের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী উপনিবেশটির ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পেঙ্গুইন মারা যেতে পারে। তবে এইচ৫ ভাইরাসটি পেঙ্গুইনের ওপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   অস্ট্রেলিয়ার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর দেশটিতে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বন্য সামুদ্রিক পাখির মধ্যে এইচ৫ ভাইরাসের ৭৮টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ঘটনা ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে শনাক্ত হয়েছে।   সোমবার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলের কাছে বাউডিন রকস দ্বীপে বার্ড ফ্লুর কারণে বন্যপ্রাণীর প্রথম গণমৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করা হয়। আকাশপথে নজরদারির সময় সেখানে প্রায় ৫০টি মৃত এবং ৩০টি অসুস্থ পাখি দেখা যায়। পরে পরীক্ষায় পাঁচটি গ্রেটার ক্রেস্টেড টার্ন ও একটি সিলভার গালের নমুনায় এইচ৫ ভাইরাস শনাক্ত হয়।   এর কয়েক ঘণ্টা পর ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ নেলসনের কাছে গ্লেনেলগ নদীর মোহনা এবং লরেন্স রকস এলাকায় আরও অসুস্থ ও মৃত সামুদ্রিক পাখির সন্ধান পাওয়ার কথা জানায়। সেখানকার নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।   ভিক্টোরিয়ার প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা গ্রেম কুক বলেন, গত সপ্তাহে যেখানে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি সংক্রমণের ঘটনা দেখা গিয়েছিল, এখন সেখানে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং এর প্রভাবও বাড়ছে।   অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশমন্ত্রী মারে ওয়াটও সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে আরও বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, বন্য পাখি ও প্রাণীর চলাচল বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় প্রাণীপ্রজাতির টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরই গুরুত্ব দিতে হবে।   ২০২১ সাল থেকে ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকায় ছড়িয়ে পড়ার পর সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে এই এইচ৫ ভাইরাস। এর আগে যুক্তরাজ্যেও ২০২১ ও ২০২২ সালে বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবে বিপুলসংখ্যক সামুদ্রিক পাখির মৃত্যু হয়েছিল।   এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার খামারের মুরগি বা হাঁস-মুরগির মধ্যে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু এলাকায় খামারের পাখিগুলোকে ঘরের ভেতরে রাখা হয়েছে।   বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসে প্রায় ১৪ কোটি খামারের পাখি মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এখনো বিরল। সাধারণত আক্রান্ত পাখি বা তাদের বিষ্ঠার সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লারা হেরেরো জানান, পোলট্রি খামারের কর্মী এবং বন্যপ্রাণী পরিচর্যাকারীরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।   এদিকে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ জনগণকে অসুস্থ বা মৃত পাখি স্পর্শ না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এমন কোনো পাখি দেখা গেলে দ্রুত জরুরি প্রাণীরোগ হটলাইনে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে ভাইরাসের বিস্তার পর্যবেক্ষণ সহজ হয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে আটকে থাকা হরিণকে উদ্ধার করে নিরাপদে বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিতে পরিত্যক্ত কূপে আটকে পড়ে হরিণ, উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দিল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে ১২ ফুট গভীর একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে আটকে যাওয়া একটি সাদা লেজওয়ালা হরিণকে সফলভাবে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় পুলিশ ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা। উদ্ধার অভিযানের পর হরিণটিকে নিরাপদে আবার বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   নিউ জার্সির সাসেক্স কাউন্টির হোপাটকং বরো পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হরিণটি একটি পুরোনো ইটের তৈরি কূপের ঢাকনা ভেঙে নিচে পড়ে যায়। কূপটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত এবং শুকিয়ে যাওয়ায় সেখানে পানি ছিল না। তবে প্রায় ১২ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যাওয়ায় প্রাণীটি নিজে থেকে বের হতে পারেনি।   পুলিশ প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, কূপের একেবারে নিচে আটকে রয়েছে হরিণটি। খবর পাওয়ার পর হোপাটকং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিউ জার্সি ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।   পরে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে সতর্কতার সঙ্গে হরিণটিকে কূপের ভেতর থেকে ওপরে তুলে আনা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় প্রাণীটির যেন কোনো অতিরিক্ত আঘাত না লাগে, সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখেন কর্মকর্তারা।   উদ্ধারের পর হরিণটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে তাকে কাছাকাছি একটি নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাণীটি সুস্থ অবস্থায় প্রকৃতিতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে।   ঘটনার পর হোপাটকং পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, বাড়ি বা জমিতে থাকা পরিত্যক্ত কূপ, খোলা গর্ত কিংবা জরাজীর্ণ স্থাপনা শুধু মানুষের জন্য নয়, বন্যপ্রাণীর জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের স্থান নিরাপদভাবে ঢেকে রাখা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   নিউ জার্সিতে হরিণের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রায়ই তারা বসতিপূর্ণ এলাকায় চলে আসে। খাবারের সন্ধান কিংবা চলাচলের সময় অসাবধানতাবশত পরিত্যক্ত স্থাপনায় পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনাও মাঝে মধ্যে ঘটে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিতভাবে বাসিন্দাদের পরিত্যক্ত কূপ ও বিপজ্জনক গর্তগুলো নিরাপদ করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০
পেনসিলভানিয়ায় জন্ম নেওয়া বিরল দুই মাথার ক্রেস্টেড গেকো। ছবি: সংগৃহীত
এক দেহে দুই মাথা, সব শঙ্কা উড়িয়ে সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে বিরল গেকো

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে জন্ম নেওয়া বিরল দুই মাথার একটি গেকো টিকে থেকে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। জন্মের পর এর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হলেও, চার সপ্তাহ পার করে এখন সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে প্রাণীটি। এর দুটি মাথার নাম রাখা হয়েছে ‘সাইমন’ ও ‘গারফাঙ্কেল’।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব পেনসিলভানিয়ার সরীসৃপ প্রজনন প্রতিষ্ঠান ‘রকস্টার গেকোস’-এ গত ২৯ জুন এই বিরল গেকোটির জন্ম হয়। জন্মের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির ভিডিও প্রকাশ করলে তা দ্রুতই ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।   প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এ ধরনের ঘটনা মাত্র দ্বিতীয়বার ঘটেছে। সাধারণত এ ধরনের প্রাণী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে না। তবু শুরু থেকেই বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রাণীর একাধিক মাথা নিয়ে জন্মানোর ঘটনাকে ‘পলিসেফালি’ বলা হয়। ভ্রূণের বিকাশের সময় জিনগত ত্রুটি বা পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে এমনটি ঘটতে পারে।   দুই মাথার প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রতিটি মাথার আলাদা মস্তিষ্ক থাকে। তবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তারা যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে চলাফেরা, খাবার গ্রহণ কিংবা দিক নির্ধারণে অনেক সময় সমস্যা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দুটি মাথা ভিন্ন দিকে যেতে চাইলে চলাফেরা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ে, যা বন্য পরিবেশে তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা আরও কমিয়ে দেয়।   তবে সাইমন ও গারফাঙ্কেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, শুরুতে দুটি মাথা কখনও কখনও ভিন্ন দিকে যেতে চাইলেও ধীরে ধীরে তারা চলাফেরায় সমন্বয় তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো মাথাকেই অন্যটির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে দেখা যায়নি। সাম্প্রতিক হালনাগাদ তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গেকোটির বয়স এখন চার সপ্তাহ। ওজন মাত্র ১ দশমিক ৮ গ্রাম হলেও এটি স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে পারছে। দুটি মাথাই আলাদাভাবে কোনো সহায়তা ছাড়াই খাবার গ্রহণ করছে।   আরও একটি স্বস্তির বিষয় হলো, গেকোটির মাথা দুটি এমনভাবে অবস্থান করছে যে তারা একে অপরকে আক্রমণ করতে পারে না। ফলে নিজেদের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকিও নেই। নিউ ক্যালেডোনিয়ার স্থানীয় এই প্রজাতির ক্রেস্টেড গেকো পূর্ণবয়সে সাধারণত ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয় এবং ওজন হয় ৩৫ থেকে ৪৫ গ্রাম। তবে দুই মাথার এই গেকোটি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে কি না, তা জানতে এখনও আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   প্রাণীপ্রেমীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেকোটির জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। অনেকেই শুরু থেকেই এর বেড়ে ওঠার খবর অনুসরণ করছেন। কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, বিরল এই প্রাণীটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করবে। রকস্টার গেকোস জানিয়েছে, গেকোটির পাঁচ সপ্তাহ পূর্ণ হলে তারা আবারও এর নতুন অবস্থা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেবে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই মাথার প্রাণী সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সাপ ও কচ্ছপের মধ্যে। তবে মাছ, শূকর, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যেও অতীতে পলিসেফালির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবু সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা এমন প্রাণীর সংখ্যা খুবই কম।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
লেক তাহো অঞ্চলে খাবারের সন্ধানে বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে কালো ভালুক। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের লেক তাহোতে খাবারের খোঁজে ঘরে ঢুকছে কালো ভালুক, ঘরবাড়ি সুরক্ষায় লাখ লাখ টাকা খরচ করছেন বাসিন্দারা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া-নেভাডা সীমান্তবর্তী পর্যটনকেন্দ্র লেক তাহো অঞ্চলে কালো ভালুকের উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। খাবারের সন্ধানে ভালুকের বাড়িতে ঢুকে পড়ার ঘটনা বাড়তে থাকায় অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের বাড়ি সুরক্ষিত রাখতে হাজার হাজার ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত শুধু সাউথ লেক তাহো পুলিশই ভালুক-সংক্রান্ত ১৭৪টি অভিযোগ পেয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৭।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনায় কালো ভালুক সরাসরি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এক দম্পতি জানান, তারা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ ঘুরে দেখেন, একটি কালো ভালুক তাদের বসার ঘরে দাঁড়িয়ে আছে। পরে প্রাণীটি পুরো বাড়ি ঘুরে দেখে, বাথরুমে রাখা টুথপেস্টের টিউব শুঁকে দেখে, মেঝেতে প্রস্রাব করে বেরিয়ে যায়। এক মাসের ব্যবধানে এটি ছিল তাদের বাড়িতে ভালুকের দ্বিতীয় অনুপ্রবেশের ঘটনা।   ঘটনাগুলো বাড়তে থাকায় অনেক বাসিন্দা বৈদ্যুতিক প্রতিরোধক ম্যাট, স্টিলের দরজা, শক্তিশালী তালা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করছেন। লেক তাহোর বাসিন্দা মার্গারেট ডিনেসলি জিগলার জানান, নিজের গ্রীষ্মকালীন বাড়িকে ভালুকের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি বৈদ্যুতিক প্রতিরোধক ব্যবস্থা, স্টিলের দরজাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম বসিয়েছেন। এতে তার প্রায় ৭ হাজার ৫০০ ডলার খরচ হয়েছে। তবু তিনি বলছেন, "মনে হচ্ছে জিতছে ভালুকই, আর খরচটা করছি আমি।"   সম্প্রতি একই অঞ্চলে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে এক ব্যক্তি নিজের অবকাশযাপন কেন্দ্রের গ্যারেজে একটি কালো ভালুককে ময়লার পাত্রে খাবার খুঁজতে দেখে ভালুক প্রতিরোধক স্প্রে ব্যবহার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ভালুকটি তার দিকে এগিয়ে আসার পর স্প্রে প্রয়োগ করলে সেটি দ্রুত সরে যায়।   ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ জানিয়েছে, কালো ভালুক স্বভাবগতভাবেই খাবারের গন্ধে আকৃষ্ট হয়। মানুষের ফেলে রাখা খাবার, উন্মুক্ত আবর্জনা কিংবা সহজে প্রবেশযোগ্য গ্যারেজ ও বাড়ি তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। একবার মানুষের খাবারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলে তারা আরও সাহসী হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আচরণ বারবার করতে পারে। এমনকি মা ভালুকের কাছ থেকে শাবকেরাও এই অভ্যাস শিখে ফেলে।   এ কারণে কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে খাবার বা আবর্জনা না রাখার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি ভালুক-প্রতিরোধী ময়লার পাত্র, বৈদ্যুতিক বেড়া বা বৈদ্যুতিক ম্যাট ব্যবহারের সুপারিশও করা হয়েছে।   ভালুকের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, "এটি ভালুকের সমস্যা নয়, মানুষের সমস্যা।" তার মতে, মানুষ যদি খাবার ও আবর্জনা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে, তাহলে সংঘাত অনেকটাই কমে আসবে। আবার আরেক বাসিন্দা জানান, সব ধরনের সতর্কতা নেওয়ার পরও তার বাড়িতে ভালুক ঢুকেছিল। শেষ পর্যন্ত তাকেও বৈদ্যুতিক ভালুক-প্রতিরোধক ম্যাট বসাতে হয়েছে। তার ভাষায়, "ভালুকের সঙ্গে একই এলাকায় বসবাসের এটাই হয়তো মূল্য।"   বিশেষজ্ঞদের মতে, লেক তাহো উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে ঘন কালো ভালুকের আবাসস্থলগুলোর একটি। পর্যটক ও বাসিন্দাদের অসচেতনতা, উন্মুক্ত খাবার এবং আবর্জনা সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যা কমাতে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, মানুষের আচরণেও পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউ মেক্সিকোর বিদ্যুতের খুঁটির চূড়ায় আটকে পড়া ভালুকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুতের খুঁটির মাথায় ভালুক, উদ্ধারের আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুতের একটি খুঁটির চূড়ায় উঠে আটকে পড়া একটি বিশালাকৃতির ভালুকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে ভাইরাল হওয়া সেই ঘটনার শেষটা ছিল মর্মান্তিক। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শুরুর আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারায় প্রাণীটি।   ঘটনাটি ঘটে গত ২০ জুলাই, নিউ মেক্সিকোর গ্ল্যাডস্টোন এলাকায়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজারো মানুষ তা দেখেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব দ্য ইন্টেরিয়র-ও ভিডিওটি শেয়ার করে রসিকতার ছলে লিখেছিল, "আমরা আমেরিকার জ্বালানি উৎপাদন নিয়ে উৎসাহকে স্বাগত জানাই, তবে আমরা এটি বোঝাতে চাইনি।"   ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বড় আকারের কালো ভালুক বিদ্যুতের খুঁটির ওপরের ক্রসআর্ম শক্ত করে সামনের দুই পা দিয়ে ধরে আছে। পেছনের দুই পা নিচের দিকে ঝুলে রয়েছে এবং প্রাণীটি স্পষ্টতই ক্লান্ত অবস্থায় হাঁপাচ্ছিল।   ভিডিও ধারণকারী শ্যারন মুলেন্স সংবাদমাধ্যম স্টোরিফুল-কে জানান, তিনি নিউ মেক্সিকোর রেড রিভার থেকে ওকলাহোমা যাওয়ার পথে হাইওয়ে-৫৬ দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। দূর থেকে বিদ্যুতের খুঁটির ওপর অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেয়ে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি।   তার ভাষায়, “প্রথমে আমরা ভাবছিলাম, হয়তো প্রাণীটি মারা গেছে। পরে কাছে গিয়ে বুঝতে পারি, সে তখনও জীবিত ছিল। তাই আমরা আবার ফিরে এসে পুরো ঘটনাটি দেখি।”   ভিডিওতে ৯১১ নম্বরে করা একটি জরুরি ফোনকলও শোনা যায়। ফোনকারী জানান, বিদ্যুতের খুঁটির ওপরে একটি ভালুক আটকে রয়েছে। জবাবে জরুরি সেবা কেন্দ্রের কর্মী বলেন, বিষয়টি আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে ওই অবস্থায় প্রাণীটিকে অজ্ঞান করার চেষ্টা করলে নিচে পড়ে তার মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল।   পরে নিউ মেক্সিকো ডিপার্টমেন্ট অব গেম অ্যান্ড ফিশ নিশ্চিত করে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও উদ্ধার করার আগেই ভালুকটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা খুবই বিরল হলেও একেবারে নতুন নয়। মানুষ, যানবাহন বা কুকুরের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে বিশেষ করে অল্পবয়সী ভালুক অনেক সময় গাছ ভেবে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে পড়ে। কিন্তু খুঁটির ওপরে পৌঁছে তারা আটকে যায় এবং নিচে নামতে না পেরে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে পড়ে।   এর আগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। তবে সেবার বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে আটকে পড়া একটি ভালুককে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল।   সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট, স্টোরিফুল, নিউ মেক্সিকো ডিপার্টমেন্ট অব গেম অ্যান্ড ফিশ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার পাম বে শহরের একটি বাড়ির মূল দরজার সামনে দেখা যায় বিশাল অ্যালিগেটর। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ির মূল দরজায় পৌনে ৮ ফুটের অ্যালিগেটর, গভীর রাতে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে পুরো পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বে শহরে গভীর রাতে এক বিশাল অ্যালিগেটর একটি পরিবারের বাড়ির মূল দরজার সামনে এসে অবস্থান নেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা সরীসৃপটি দীর্ঘ সময় সেখানেই থাকায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের বাইরে বের হতে পারেননি।   ফক্স ৩৫-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বুঝতেই পারেননি যে বাড়ির বাইরে কী আছে। পরে গ্যারেজে লাগানো গতিসংবেদনশীল নিরাপত্তা ক্যামেরা থেকে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা আসার পর বিষয়টি জানতে পারেন তারা।   বাড়ির মালিক উইন জানান, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, কাছের ঘাসের ভেতর থেকে একটি বড় অ্যালিগেটর ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসে সোজা তাদের মূল দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সবাই জানালার আড়াল থেকে পুরো ঘটনাটি দেখেন। তিনি বলেন, “এমন দৃশ্য দেখে আমরা সত্যিই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।”   পরিবারটির জন্য ঘটনাটি আরও উদ্বেগের কারণ ছিল তাদের ছোট পোষা কুকুর। রাতের দিকে নিয়মিত কুকুরটিকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। উইনের ভাষায়, নিরাপত্তা ক্যামেরার সতর্কবার্তা না পেলে কী ঘটতে পারত, তা ভেবে এখনও তিনি আতঙ্কিত। তিনি বলেন, “আমি এখন সব সময় সতর্ক থাকি। বারবার চারপাশে তাকাই, যেন আমি বা আমার কুকুর কোনো হামলার শিকার না হই। ও আমার পরিবারেরই একজন সদস্য।”   ঘটনার পরপরই পরিবারটি জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করলে প্রথমে পাম বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের (এফডব্লিউসি) তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত একজন প্রাণী ধরার বিশেষজ্ঞ এসে অ্যালিগেটরটিকে নিরাপদে ধরে নিয়ে যান। সূর্য ওঠার আগেই সেটিকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিমাপ করে দেখা যায়, অ্যালিগেটরটির দৈর্ঘ্য ছিল ঠিক ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি।   ফ্লোরিডার বিভিন্ন জলাশয় ও সংরক্ষণ পুকুরের আশপাশে অ্যালিগেটর দেখা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে উইন বলেন, এত বড় একটি অ্যালিগেটরকে বাড়ির মূল প্রবেশপথ পর্যন্ত চলে আসতে তিনি আগে কখনও দেখেননি।   এ ঘটনার পর প্রতিবেশীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার পরামর্শ, রাতে বাইরে বের হওয়ার আগে টর্চলাইট দিয়ে চারপাশ দেখে নেওয়া এবং সম্ভব হলে গতিসংবেদনশীল নিরাপত্তা ক্যামেরা ব্যবহার করা উচিত।   ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুরো ফ্লোরিডায় প্রায় ১৩ লাখ অ্যালিগেটর রয়েছে। গরমের সময় এদের চলাচল ও সক্রিয়তা বেড়ে যায়। তাই বাসিন্দাদের জলাশয়ের ধারে সতর্ক থাকার, পোষা প্রাণীকে দড়িতে বেঁধে রাখার এবং কোনো অবস্থাতেই অ্যালিগেটরকে খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।   সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, কোনো অ্যালিগেটর মানুষের নিরাপত্তা, পোষা প্রাণী বা সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে দ্রুত তাদের নির্ধারিত হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত কর্মীরা গিয়ে প্রাণীটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেবেন।   সূত্র: ফক্স ৩৫

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলা সৈকতে পর্যটকদের তাড়া করছে সি লায়ন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রসৈকতে হঠাৎ উঠে এলো দুই সি লায়ন, আতঙ্কে দৌড়ে পালালেন পর্যটকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লা জোলা (La Jolla) সমুদ্রসৈকতে হঠাৎ সমুদ্র থেকে উঠে আসা দুটি বিশাল সি লায়নের তাড়া খেয়ে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে দেখা গেছে পর্যটকদের। পুরো ঘটনাটি একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ভিডিওতে ধরা পড়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম The California Post-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি প্রকাশ করেন ডিওন রুজিচকা নামে এক ব্যক্তি। ভিডিওতে দেখা যায়, রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সৈকতে অবস্থানরত মানুষের দিকে সমুদ্র থেকে উঠে আসে দুটি বড় সি লায়ন। প্রথমে একটি সি লায়ন দ্রুত বালুর ওপর উঠে পর্যটকদের দিকে ছুটে যায়। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে সৈকতে থাকা মানুষজন আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর আরেকটি সি লায়নও একইভাবে তীরে উঠে এলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।   ভিডিওতে দেখা যায়, কেউ সৈকতের উঁচু স্থানে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ সি লায়নের পথ এড়াতে সমুদ্রের দিকেই ছুটছেন। উপস্থিত শিশু, বয়স্কসহ প্রায় সবাই প্রাণভয়ে দৌড়াতে থাকেন। এক পর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, "ওহ মাই গড!"। পরে কিছুক্ষণ তাড়া করার পর দুটি সি লায়ন আবার দ্রুত সমুদ্রে ফিরে যায়। এটি লা জোলা এলাকায় এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। প্রায় এক বছর আগেও একই সৈকতে দুটি সি লায়ন পর্যটকদের তাড়া করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনার পর সান দিয়েগো সিটি প্রশাসন আবারও পর্যটকদের বন্যপ্রাণী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।   শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পয়েন্ট লা জোলা এলাকায় সি লায়নের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রাণীগুলোকে কাছ থেকে দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড়ও বাড়ছে। এর ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সরাসরি সংস্পর্শের ঘটনাও আগের তুলনায় বেড়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অনেক পর্যটক সি লায়নের খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের স্পর্শ করতে চান কিংবা সেলফি তুলতে যান। এসব আচরণ শুধু মানুষের জন্যই নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।   যদিও সর্বশেষ ঘটনায় ঠিক কী কারণে সি লায়ন দুটি পর্যটকদের দিকে ধেয়ে গিয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকাল সি লায়নের প্রজনন ও শাবক লালন-পালনের মৌসুম। এ সময় মা ও বাবা সি লায়ন তাদের শাবকের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকে। আশপাশে মানুষকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে মনে করলে তারা আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে।   সান দিয়েগো কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বন্যপ্রাণীর সঙ্গে এ ধরনের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই বাড়ায় না, এটি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন ম্যামাল প্রোটেকশন অ্যাক্ট-এরও লঙ্ঘন হতে পারে। তাই পর্যটকদের সি লায়ন দেখার জন্য সৈকতের বোর্ডওয়াক বা নির্ধারিত নিরাপদ স্থান ব্যবহার এবং প্রাণীগুলোর কাছ থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০