ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আয়োজনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক সমৃদ্ধি যুক্ত হয়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্ট কেন্দ্রিক তৈরি হওয়া ৪০ বিলিয়ন ডলারের মোট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অর্ধেক সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবাহিত হয়েছে। এর ফলে ক্যানসাস সিটি ও ফিলাডেলফিয়ার মতো স্বাগতিক শহরগুলোর স্থানীয় ব্যবসায় অভূতপূর্ব গতি এসেছে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোক্তা খরচের নতুন রেকর্ড গড়েছে।
ব্যাংক অব আমেরিকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রায়ান ময়নিহান জানান, বিশ্বমানের এই টুর্নামেন্টের ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব কেবল স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যাংকের প্রায় ৭ কোটি গ্রাহকের কেনাকাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তারা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ, বার ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা সেন্সাস ব্যুরোর তথ্যেও ব্যবসা-বাণিজ্যের এই চাঙ্গাভাব স্পষ্ট ধরা পড়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে খুচরা বিক্রি ও খাদ্য সেবা খাতে আয়ের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে টানা পঞ্চম মাসের মতো উর্ধ্বমুখী রয়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে খাদ্য ও পানীয় খাতে কেনাকাটা ৩.৮ শতাংশ, পোশাক বিক্রি ৭ শতাংশ এবং সাধারণ পণ্যের বাজার ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বাগতিক শহরগুলোর হোটেল ও পর্যটন খাতেও এই টুর্নামেন্টের প্রভাবে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব অর্জিত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির স্বাগতিক এলাকায় গত জুন মাসেই ফুটবল সমর্থকরা ১.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন, যা থেকে রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ২২৮ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া হোটেল কক্ষ প্রতি আয়ের দিক থেকে ক্যানসাস সিটিতে প্রায় ৯০ শতাংশ এবং সান ফ্রান্সিসকোতে ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। বিদেশি পর্যটকদের খরচের হিসাব এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত না করায় প্রকৃত আর্থিক লাভের অঙ্ক আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রীড়া অর্থনীতিবিদদের মতে, টুর্নামেন্টের সূচি ও দলগুলোর উপস্থিতির ওপর প্রতিটি শহরের স্থানীয় অর্থনীতির লাভ নির্ভর করেছে। বোস্টনে স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের আনাগোনা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করলেও অন্যান্য দেশের খেলাগুলোতে তুলনামূলকভাবে স্থানীয় দর্শকদের উপস্থিতি বেশি ছিল। অন্যদিকে জুনে সার্বিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কিছুটা ধীরগতি দেখা গেলেও এবং বিনোদন খাতে কর্মসংস্থান কমলেও বিশ্বকাপ কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য সার্বিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের সফল সমাপ্তির পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও নীতিনির্ধারকরা এই অর্থনৈতিক অর্জনকে দীর্ঘস্থায়ী করার পরিকল্পনা করছেন। জুনে অনুষ্ঠিত স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল খেলা দিয়ে শেষ হওয়া এই আসরের পর বোস্টন শহর কর্তৃপক্ষ ২০৩১ সালের নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়ে শামিল হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী বছরগুলোতে পুনরায় যৌথ বা এককভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এখন থেকে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে তেহরানের রাজধানীর আশপাশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চলাচল করে। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর জবাবেই ট্রাম্প এই নতুন সতর্কবার্তা দিলেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এতদিন ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো থেকে বিরত ছিল। চলতি বছরের এপ্রিলেও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হলে “একটি পুরো সভ্যতাই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।” নতুন এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হলো, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাকে এখন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নিজেদের জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্বার্থের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে ওই জলপথে নতুন কোনো হামলা হলে ওয়াশিংটনের সামরিক প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই, কোনো পরিস্থিতিতেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু শহরে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন। মামদানি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি এ ধরনের পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প এই অবস্থানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, তাই তাঁকে গ্রেপ্তারের প্রশ্নই ওঠে না। একই সঙ্গে ট্রাম্পের মন্তব্য, “যাদের গ্রেপ্তার হওয়া উচিত, তারা হলো ইরানের সেই নেতারা, যারা নিজেদের দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।” গত বছর গাজা যুদ্ধের সময় সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ইসরায়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও শুরু থেকেই আইসিসির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই আইসিসির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁর প্রশাসনের অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের বিরুদ্ধে আইসিসির পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে মামদানি পরে স্বীকার করেছেন, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্বভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা নেই। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের সর্বশেষ এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, তাঁর প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে সফর করলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাঁর ব্যবসা–সংক্রান্ত বিস্তারিত আর্থিক তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের করা ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলায় এ আদেশ দেওয়া হয়েছে, যা মামলার গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এনজোলিক লেট রায় দেন, ট্রাম্প যেহেতু তাঁর অভিযোগে ব্যবসা, ব্র্যান্ড ও আর্থিক ক্ষতির দাবি তুলেছেন, তাই সেই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে বিবিসির আর্থিক নথি চাওয়ার অধিকার রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ট্রাম্পকে তাঁর ব্যবসায়িক ট্রাস্টের আর্থিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিতে হবে। এই মামলা শুরু হয় ২০২৪ সালে প্রচারিত বিবিসির একটি ‘প্যানোরামা’ প্রামাণ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনের ঘটনার আগে দেওয়া তাঁর ভাষণের বিভিন্ন অংশ সম্পাদনার মাধ্যমে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যাতে মনে হয় তিনি সমর্থকদের সহিংসতায় উসকানি দিয়েছিলেন। এর ফলে তাঁর ব্যক্তিগত সুনাম ও ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে বিবিসি আগেই স্বীকার করেছিল, প্রামাণ্যচিত্রে ভাষণের সম্পাদনায় ভুল হয়েছিল এবং সে জন্য তারা দুঃখ প্রকাশও করে। তবে সম্প্রচারটি মানহানিকর ছিল—এ অভিযোগ তারা অস্বীকার করে আসছে। বিবিসির আইনজীবীদের দাবি, ট্রাম্পের ক্ষতির দাবির ভিত্তি যাচাই করতে আর্থিক তথ্য প্রয়োজন। শুনানির আগে ট্রাম্পের আইনজীবীরা মামলাটি কেবল সুনামহানির দাবিতে সীমিত রাখার চেষ্টা করেন এবং আর্থিক ক্ষতির কিছু দাবি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেন। কিন্তু আদালত মনে করেন, মামলার মূল অভিযোগে ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয়টি এখনো প্রাসঙ্গিক। ফলে আর্থিক নথি প্রকাশের নির্দেশ বহাল রাখা হয়। আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আইনজীবীরা আপিল করতে পারবেন। মামলার মূল বিচার এখনো শুরু হয়নি এবং এটি আগামী বছর ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।