১২ বার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার হওয়ার পরও অবৈধভাবে ফিরে এসে আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন এক মেক্সিকান নাগরিক
যুক্তরাষ্ট্র থেকে টানা ১২ বার বহিষ্কৃত হওয়ার পরও অবৈধভাবে দেশটিতে ফিরে আসার অভিযোগে এক মেক্সিকান নাগরিকের বিরুদ্ধে নতুন করে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম এইদো ক্রুজ গনজালেস (৪০)। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (ডিওজে) তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সির ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
আদালত ও বিচার বিভাগের নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের দায়ে গনজালেসকে মোট ১২ বার মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়। প্রসিকিউটররা জানান, ২০১২ সালে অ্যারিজোনার একটি ফেডারেল আদালতে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অপরাধ তিনি স্বীকার করেছিলেন। ওই মামলায় পাঁচ মাসের কারাদণ্ড ভোগের পর একই বছরের আগস্টে তাকে পুনরায় মেক্সিকোতে পাঠানো হয়। কিন্তু এরপরও তিনি আরও অন্তত নয়বার অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং প্রতিবারই তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বহিষ্কারের পরও তিনি আবারও যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১২ নিউ জার্সি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হিলসবরো পুলিশ তাকে ভুয়া মোটরযান বীমা কার্ড প্রদর্শন এবং স্থগিত লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি ওই দুটি অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। মার্কিন অ্যাটর্নি রবার্ট ফ্রেজার জানিয়েছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশের বর্তমান অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে গনজালেসের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) সহায়তায় এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিচার বিভাগ বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, অভিযোগপত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলো আপাতত অভিযোগমাত্র। আদালতে চূড়ান্তভাবে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবেই গণ্য করা হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মধ্যেই তেল থেকে বিপুল অর্থ আয়ের দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাম বাড়ার কারণে চালকদের বাড়তি খরচের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হতে পারে—এমন সতর্কতা তাঁর উপদেষ্টারা দিলেও তা নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন তিনি। গত ২৪ অক্টোবর জর্জিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। তাঁর ভাষায়, সমালোচনার আশঙ্কা থাকলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলা বন্ধ করবেন না। জর্জিয়ার পেরি শহরে আয়োজিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাত বিপুল আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টেক্সাস, ওকলাহোমা ও লুইজিয়ানার মতো তেল উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যে তেল উত্তোলন ও বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসছে। ট্রাম্প বলেন, তাঁর উপদেষ্টারা তাঁকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ, জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক সমালোচনার জন্ম দিতে পারে বলেও তাঁরা সতর্ক করেছিলেন। তবে উপদেষ্টাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি জানেন, তাঁর বক্তব্য নিয়ে সমালোচনামূলক শিরোনাম হতে পারে। মানুষ যখন জ্বালানি কিনতে গিয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করছে, তখন প্রেসিডেন্ট তেল থেকে বিপুল অর্থ আয়ের কথা বলছেন—এমন সমালোচনা আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন, এসব নিয়ে তিনি পরোয়া করেন না এবং যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর আমলে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামার সময়ের তুলনায় কম দামে জ্বালানি কিনছেন। একই বক্তব্যে তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার প্রসঙ্গও তোলেন। তবে তাঁর এই তুলনার সঙ্গে বর্তমান জ্বালানির দাম ও আগের সময়ের সর্বোচ্চ দামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর দেশটিতে নিয়মিত পেট্রলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ২৯ ডলার। এক মাস আগে এই দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৪৯ ডলার। অর্থাৎ সাম্প্রতিক এক মাসে দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু এক বছর আগে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ০৬ ডলার। ফলে গত বছরের তুলনায় এখন চালকদের প্রতি গ্যালনে প্রায় ১ দশমিক ২৩ ডলার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যান্য জ্বালানির দামও চালকদের ওপর চাপ তৈরি করছে। ২৫ অক্টোবর মধ্যম মানের পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ৮০ ডলার। উন্নত মানের পেট্রলের দাম ছিল প্রায় ৫ দশমিক ২০ ডলার। ডিজেলের গড় দাম পৌঁছেছিল প্রায় ৬ দশমিক ৩৫ ডলারে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জ্বালানির দাম নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক সমালোচনাও জোরালো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ট্রাম্পের বক্তব্যের ভিডিও পুনরায় প্রকাশ করে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তেল কোম্পানিগুলোর রেকর্ড মুনাফার জন্য এটি যেন একটি সফল প্রেসিডেন্সি। তাঁর মন্তব্যে জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক লাভ এবং সাধারণ মানুষের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের ১২ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত এক জরিপে ৭৩ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার বলেছেন, জ্বালানির দাম সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট। বিপরীতে ২৪ শতাংশ ভোটার তাঁর পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। জরিপে অংশ নেন ৩ হাজার ৪৯৪ জন ভোটার। জরিপ অনুযায়ী, অসন্তোষ শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বতন্ত্র ভোটারদের ৭৭ শতাংশ ট্রাম্পের জ্বালানির দাম সামলানোর বিষয়ে অসন্তুষ্ট। একই মত দিয়েছেন রিপাবলিকান ভোটারদের ৪২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ নিজের রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠীর একাংশের মধ্যেও এ বিষয়ে অসন্তোষ রয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রথম দিন থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে পেট্রল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদনকারী কোম্পানি ও তেলসমৃদ্ধ অঙ্গরাজ্যগুলো বেশি আয় করতে পারে। তবে সেই সুবিধা সব সময় সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পেট্রল, ডিজেল ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ফলে জ্বালানি খাতের আয় বাড়লেও পরিবারের দৈনন্দিন খরচের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, পাম্পে জ্বালানির দাম আবার কমবে। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের সময় জাতীয় গড় দাম এক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ব্যবধান এবং জ্বালানির ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দলের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য সেরা ১০ প্রতিষ্ঠান, শীর্ষে কার ওয়াশ কোম্পানি
মেয়েকে হত্যার অভিযোগে প্রায় ৩০ বছর পর মেক্সিকোয় আটক পলাতক মা
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় থাকতে নিট সম্পদ হতে হবে ১৮ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি জলতীরবর্তী পার্কে অগভীর কবর থেকে এক নারীর পচনশীল মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ফার রকওয়ে এলাকার রকওয়ে কমিউনিটি পার্কে মরদেহটি পাওয়া যায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিচ ৫৮তম স্ট্রিট ও আলমেডা অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি স্থানে মাটির নিচে চাপা অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। ওই নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা জানতে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয়। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ওই নারীকে অচেতন ও কোনো সাড়া না দেওয়া অবস্থায় পায়। পরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, মরদেহটি পচনশীল অবস্থায় ছিল। তবে ওই নারী কত দিন আগে মারা গেছেন, কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কিংবা কীভাবে তাঁকে সেখানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ জন্য ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ময়নাতদন্তের ফল থেকে মৃত্যুর সময় ও কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ওই নারীর পরিচয় ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থল রকওয়ে কমিউনিটি পার্ক কুইন্সের ফার রকওয়ে এলাকায় অবস্থিত একটি বড় পার্ক। প্রায় ২৫৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত পার্কটির একাংশ জ্যামাইকা উপসাগরের তীরঘেঁষা। জনসাধারণের ব্যবহারের এই পার্কে অগভীর কবরের মধ্যে মরদেহ পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, কিংবা মরদেহটি অন্য কোথাও থেকে এনে সেখানে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশের কোনো সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ এখনো ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে। ময়নাতদন্তের ফল ও তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ।
প্রশাসনের সাড়া না পেয়ে শিশুদের নিরাপত্তায় নিজেই রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসালেন নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘নরওয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না’
বাবা-মাকে হারানোর ভয়ে স্কুল ছাড়ল শিক্ষার্থীরা, অভিবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাস্তায় কিশোররা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্কুলবাসের অপেক্ষায় থাকা এক শিক্ষার্থীর জন্য বেঞ্চ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছেন এক শিক্ষক দম্পতি। তাঁদের ছোট্ট উদ্যোগ শুধু এক কিশোরীর সকালকে স্বস্তিদায়ক করেনি, বরং আশপাশের অন্য শিশুদের জন্যও তৈরি করেছে বই পড়া ও ভাগাভাগি করার সুযোগ। মারেন ডগলাস ও তাঁর স্বামী দুজনই শিক্ষক। স্বামীর ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে থাকার সময় বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় তাঁদের চোখে পড়ে, এক স্কুলপড়ুয়া কিশোরী প্রতিদিন সকালে তাঁদের বাড়ির সামনের ড্রাইভওয়ের পাশে বসে স্কুলবাসের জন্য অপেক্ষা করছে। মেয়েটির বাসস্টপ নির্ধারিত ছিল কাছের রাস্তায়। সেখানে গাড়ি দ্রুত চলাচল করায় তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। ১ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনা দেখার পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে দম্পতি একটি বেঞ্চ কেনেন এবং নিজেরাই সেটি তৈরি করে বসিয়ে দেন। পরের সোমবার বেঞ্চটি দেখে কিশোরীর আনন্দ তাঁদের মুগ্ধ করে। পরে মেয়েটি হাতে লেখা একটি চিরকুটে ধন্যবাদ জানায়। সে জানায়, বেঞ্চ থাকায় এখন আর মাটি ও পোকামাকড় নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। এরপর দম্পতি লক্ষ্য করেন, বাসের অপেক্ষায় থাকা মেয়েটি প্রায়ই বই পড়ে। তাই মারেন একটি ছোট বইয়ের বাক্স তৈরি করে বেঞ্চের পাশে বসান। অল্প সময়ের মধ্যে এলাকার অন্য শিশুরাও সেখান থেকে বই নিতে ও পড়া শেষে ফেরত দিতে শুরু করে। বৃষ্টির দিনগুলোর কথা ভেবে তাঁরা একটি ছাতার ব্যবস্থাও করেন এবং মেয়েটির জন্য কিছু নাশতা রেখে দেন। কৃতজ্ঞতা জানাতে মেয়েটিও তাঁদের ঘরে তৈরি দুটি কুকি উপহার দেয়। মারেনের এই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে তৈরি টিকটক ভিডিওটি ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে এবং তাতে ৩০ হাজারের বেশি মন্তব্য এসেছে বলে পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই গল্পের আরেকটি আবেগঘন দিক হলো, অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সময় দম্পতিটি নিজেরাও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। স্বামীর ক্যানসারের চিকিৎসা চললেও মারেন তাঁর শিক্ষার্থীদের সময় দেওয়া এবং পরিবারের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি ছোট ছোট ভালো কাজের মধ্যে মানসিক শক্তি খুঁজে পান। একটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক জায়গা তৈরি করতে খুব বেশি কিছু লাগে না। তাঁদের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, প্রতিবেশীর প্রতি সামান্য মনোযোগও একটি শিশুর প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি এখন অপরিচিত মানুষের প্রতিও সহমর্মিতা দেখানোর অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে জনঅসন্তোষ, বিদ্যুৎ বিল ও পরিবেশ নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
স্বস্তি পেলেন লাখো অভিবাসী, আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হচ্ছে না ইউক্রেনীয়দের