আমেরিকা

ইন্ডিয়ানায় ৩০ হাজার শিশু অপেক্ষায়, মিলছে না শিশুযত্ন ভাউচার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৯:১২
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় সরকারি শিশুযত্ন সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থসংকটের কারণে অপেক্ষমাণ তালিকায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার শিশু। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় সরকারি শিশুযত্ন সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থসংকটের কারণে অপেক্ষমাণ তালিকায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার শিশু। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে নিম্নআয়ের কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য সরকারি শিশুযত্ন সহায়তা কর্মসূচি নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এই সহায়তা পাওয়ার অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার শিশু। মাত্র এক বছর আগেও এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অপেক্ষমাণ শিশুর সংখ্যা প্রায় দশ গুণ বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে হাজারো পরিবার সন্তানদের নিরাপদ যত্নের ব্যবস্থা করতে না পেরে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপে পড়েছে।

 

ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের পরিবার ও সামাজিক সেবা প্রশাসন জানিয়েছে, অর্থসংকটের কারণে নতুন করে কোনো শিশুকে শিশুযত্ন সহায়তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান বাজেট ও অর্থায়নের অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে অন্তত ২০২৭ সালের আগে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন কোনো শিশু সহায়তা পাবে না। ফলে যারা এখন আবেদন করছেন, তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।

 

ব্লুমিংটনের গৃহহীন পরিবার ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান নিউ হোপ ফর ফ্যামিলিজ–এর নির্বাহী পরিচালক এমিলি পাইক বলেন, অতীতে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করলেই সরকারি সহায়তা পেত। কিন্তু এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও কোনো পরিবার তালিকা থেকে সুযোগ পাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এত দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষমাণ তালিকা স্থবির হয়ে থাকার ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি।

 

এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নআয়ের কর্মজীবী পরিবারগুলোর শিশুদের দিবাযত্ন কেন্দ্র, প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা এবং বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে ও পরে যত্নের ব্যয়ের বড় অংশ সরকার বহন করে। অনেক পরিবারের ক্ষেত্রে এই সহায়তার ফলে শিশুযত্নের খরচ প্রায় শূন্যে নেমে আসে। ফলে অভিভাবকেরা নিশ্চিন্তে কর্মস্থলে যেতে পারেন এবং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রেখে কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

 

তবে বর্তমানে নতুন ভাউচার বা সহায়তা বন্ধ থাকায় বহু পরিবার ব্যক্তিগত খরচে শিশুযত্নের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। ফলে কেউ চাকরির সময় কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ খণ্ডকালীন কাজে যাচ্ছেন, আবার কেউ পুরোপুরি চাকরি ছেড়ে সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। এতে শুধু পরিবার নয়, কর্মক্ষেত্রেও দক্ষ কর্মীর সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

এই সংকটের মূল কারণ হলো মহামারির সময় দেওয়া অতিরিক্ত সরকারি অর্থায়ন শেষ হয়ে যাওয়া। করোনাভাইরাস মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার অঙ্গরাজ্যগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা দিয়েছিল, যার মাধ্যমে আরও বেশি পরিবারকে শিশুযত্ন সুবিধার আওতায় আনা হয়। কিন্তু সেই অতিরিক্ত অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার পর অনেক অঙ্গরাজ্যের মতো ইন্ডিয়ানাও পর্যাপ্ত নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর।
অর্থসংকটের প্রভাব শুধু পরিবারেই সীমাবদ্ধ নয়। 

 

শিশুযত্ন কেন্দ্রগুলোর অনেকেই আগের মতো সরকারি অর্থ পাচ্ছে না। ফলে কোথাও কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে, কোথাও শিশু ভর্তির সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কিছু কেন্দ্র আর্থিক চাপ সামলাতে না পেরে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এতে শিশুযত্ন কেন্দ্রের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে, যা সংকটকে আরও গভীর করছে।

 

সামাজিক সেবাখাতের বিভিন্ন সংগঠন বলছে, মানসম্মত শিশুযত্ন শুধু শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, তাদের শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছোটবেলায় নিরাপদ ও শিক্ষামূলক পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন এবং সামাজিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে সহায়তা বন্ধ থাকলে হাজারো শিশু এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। 

 

শিশুযত্ন ব্যবস্থা দুর্বল হলে তার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতেই পড়ে। কারণ কর্মজীবী মা-বাবার একটি বড় অংশ সন্তানদের দেখাশোনার জন্য কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেন অথবা চাকরি ছেড়ে দেন। এতে শ্রমবাজারে কর্মীর সংখ্যা কমে যায় এবং উৎপাদনশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, খুচরা বিক্রয় এবং সেবাখাতের মতো খাতে এই প্রভাব বেশি দেখা দিতে পারে।

 

ইন্ডিয়ানা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে যারা ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন, তারা যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে সহায়তা চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে নতুন আবেদনকারীদের আপাতত শুধু অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ বা নতুন বাজেট অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।

 

শিশু অধিকারকর্মী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দাবি, দ্রুত অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিশুদের সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, শিশুযত্ন কোনো বিলাসিতা নয়; এটি কর্মজীবী পরিবারের জন্য একটি মৌলিক প্রয়োজন। এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু হাজারো পরিবারই নয়, পুরো সমাজ ও অর্থনীতিও এর নেতিবাচক প্রভাব বহন করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
স্বাস্থ্যসেবা মূল্যায়নের জাতীয় প্রতিবেদনে জর্জিয়ার অবস্থান দেশের নিচের সারিতে। ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্যসেবায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ রাজ্যগুলোর একটি জর্জিয়া, অবস্থান ৪৯তম

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নতুন জাতীয় মূল্যায়নে একেবারে নিচের সারিতে জায়গা পেয়েছে জর্জিয়া। স্বাস্থ্যসেবার খরচ, চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রাপ্যতা, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ এবং রোগীদের স্বাস্থ্যগত ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৯তম বলে জানিয়েছে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব।   সোমবার, ২৭ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার খরচের ক্ষেত্রে জর্জিয়ার অবস্থান ৩৭তম হলেও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যটি নেমে গেছে ৪৯তম স্থানে। স্বাস্থ্যগত ফলাফলে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৩তম। এসব সূচকের সম্মিলিত মূল্যায়নে সামগ্রিকভাবে রাজ্যটির অবস্থান হয়েছে ৪৯তম।   ওয়ালেটহাবের গবেষণায় ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিকে মোট ৪৪টি সূচকে তুলনা করা হয়েছে। এর মধ্যে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ, চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রাপ্যতা, ইন্স্যুরেন্স কভারেজে থাকা মানুষের হার এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ফলাফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   প্রতিবেদনে জর্জিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ। মাথাপিছু হাসপাতালের শয্যার সংখ্যায় রাজ্যটির অবস্থান ৪২তম। মাথাপিছু চিকিৎসকের সংখ্যাতেও জর্জিয়া ৪২তম এবং দন্তচিকিৎসকের সংখ্যায় ৪৬তম।   হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ইন্স্যুরেন্স কভারেজ থাকা মানুষের হারে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৯তম। শিশুদের ইন্স্যুরেন্স কভারেজের ক্ষেত্রে অবস্থান ৪২তম।   তবে সব সূচকে জর্জিয়ার অবস্থান একই রকম খারাপ নয়। গড় মাসিক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে রাজ্যটি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই সূচকে জর্জিয়ার অবস্থান ২২তম।   ওয়ালেটহাবের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার পেছনে একজন আমেরিকান বছরে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ ডলার ব্যয় করেন। বিপুল এই ব্যয়ের পরও দেশের সব এলাকায় সমানভাবে চিকিৎসক, হাসপাতাল ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাওয়ার সুযোগ নেই। রাজ্যভেদে এসব ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, সবচেয়ে ভালো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা থাকা রাজ্যগুলো উচ্চমানের চিকিৎসাকে মানুষের আর্থিক নাগালের মধ্যে রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসকের বিকল্প এবং সহজে হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে।   জর্জিয়ার নিচের দিকের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজ্যটিতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি হেলথ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে ফেডারেল সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস রাজ্যের জন্য ১০টি স্টেট ডিরেক্টেড পেমেন্ট কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনুমানিক ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এর লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করা।   স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আনতেও জর্জিয়ায় ‘জর্জিয়া পাথওয়েজ টু কভারেজ’ কর্মসূচি চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফেডারেল সরকার কর্মসূচিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। জর্জিয়া গভর্নরের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত কর্মসূচিটির মাধ্যমে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ সেবা পেয়েছিলেন।   তবে ওয়ালেটহাবের নতুন মূল্যায়ন বলছে, এসব উদ্যোগের মধ্যেও সামগ্রিকভাবে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ এবং ইন্স্যুরেন্স কভারেজের ক্ষেত্রে জর্জিয়া এখনো দেশের অধিকাংশ রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।   এবারের মূল্যায়নে দেশের সেরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে নিউ হ্যাম্পশায়ার। শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে মিনেসোটা ও আইওয়াও রয়েছে। অন্যদিকে তালিকার একেবারে নিচের দিকের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়া।   তবে এই র‌্যাঙ্কিংয়ের অর্থ জর্জিয়ার প্রতিটি হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের, এমন নয়। ওয়ালেটহাবের গবেষণাটি কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতালের মান নির্ধারণ না করে পুরো রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে খরচ, সেবা পাওয়ার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে তুলনা করেছে। ফলে একজন রোগীর বাস্তব অভিজ্ঞতা তার অবস্থান, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ, চিকিৎসার ধরন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে সেবা নিচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।   তারপরও ইন্স্যুরেন্স কভারেজে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের হার, মাথাপিছু চিকিৎসক, হাসপাতালের শয্যা এবং দন্তচিকিৎসকের প্রাপ্যতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে জর্জিয়ার নিচের দিকের অবস্থান রাজ্যটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জগুলো নতুন করে সামনে এনেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ২০:৩৪
প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

গ্রিন কার্ডধারী স্বামী-স্ত্রীর জন্য সুখবর, আগস্টে একসঙ্গে আবেদন জমার সুযোগ

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে একজন বাসিন্দার হাতে তাজা সবজির প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। ছবি:সংগৃহীত

৩০% কম দামে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির ঘোষণা নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানির

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় সরকারি শিশুযত্ন সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থসংকটের কারণে অপেক্ষমাণ তালিকায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ হাজার শিশু। ছবি:সংগৃহীত

ইন্ডিয়ানায় ৩০ হাজার শিশু অপেক্ষায়, মিলছে না শিশুযত্ন ভাউচার

"যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (DOJ) কর্তৃক 'নিউ বিগিনিংস অ্যাডাল্ট ডে সেন্টার'-এর আর্থিক বা সেবা সংক্রান্ত প্রতারণা তদন্তের একটি প্রতীকী চিত্র।" ছবি:সংগৃহীত
মৃত ব্যক্তির নামেও বিল, ৫ লাখ ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির দায় স্বীকার মিশিগানের ডে কেয়ার মালিকের

মিশিগানে রোগীদের সেবা না দিয়েও মেডিকেয়ারের কাছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ডলারের বেশি ভুয়া বিল জমা দেওয়ার ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন একটি প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কেন্দ্রের মালিক। জালিয়াতির মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর নামে সাইকোথেরাপির বিল, চাকরি ছেড়ে দেওয়া সমাজকর্মীদের নামে ভুয়া বিল এবং এমনকি মারা যাওয়া ব্যক্তির নামেও চিকিৎসাসেবা দেখিয়ে অর্থ দাবি করার ঘটনা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সোমবার, ২৭ জুলাই জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইয়োলান্ডা ম্যাথিউসের বয়স ৫৮ বছর। মিশিগানের ফার্মিংটন হিলসের বাসিন্দা ম্যাথিউস স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ম্যাথিউস তার প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কেন্দ্রে থাকা মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের সাইকোথেরাপি সেবা দেওয়া হয়েছে দেখিয়ে নিয়মিত ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিতেন। অথচ যেসব সেবার জন্য সরকারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল, তার অনেকগুলোই বাস্তবে দেওয়া হয়নি।   জালিয়াতির ধরনও ছিল একাধিক। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, কোনো মেডিকেয়ার সুবিধাভোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায়ও তাকে দিবাযত্ন কেন্দ্রে সাইকোথেরাপি দেওয়া হয়েছে দেখিয়ে বিল করা হতো।   এ ছাড়া যেসব সমাজকর্মী ওই প্রতিষ্ঠানে আর চাকরি করতেন না, তাদের নাম ব্যবহার করেও মেডিকেয়ারের কাছে ভুয়া বিল জমা দেওয়া হয়েছে। আরও গুরুতরভাবে, কিছু সুবিধাভোগীর মৃত্যুর পরও তাদের সাইকোথেরাপি দেওয়া হয়েছে দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়।   সব মিলিয়ে ম্যাথিউস মেডিকেয়ারের কাছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ডলারের বেশি ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ম্যাথিউসের বিরুদ্ধে মামলাটি ২০২৬ সালের দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আনা হয়। তিনি স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।   আগামী ১৮ নভেম্বর তার সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তাকে কত বছরের সাজা দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। ফেডারেল আদালতের বিচারক সাজা নির্ধারণের নির্দেশিকা এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।   মামলাটির তদন্ত করেছে এফবিআইয়ের ডেট্রয়েট কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয়। বিচার বিভাগের অপরাধ বিভাগের জালিয়াতি শাখার বিচারিক আইনজীবী জেফরি এ. ক্র্যাপকো মামলাটি পরিচালনা করছেন।   বিচার বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল বিচারিক এলাকায় বর্তমানে নয়টি বিশেষ দল কাজ করছে। ২০০৭ সাল থেকে এই কর্মসূচির আওতায় ৬ হাজার ২০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ও বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্মিলিতভাবে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।   মেডিকেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি, যা মূলত ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কিছু কম বয়সী ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় মেটাতে সহায়তা করে। এই কর্মসূচির অর্থায়নে সরকারি অর্থ ব্যবহৃত হওয়ায় ভুয়া চিকিৎসাসেবা দেখিয়ে বিল করা, সেবা না দিয়েও অর্থ দাবি করা কিংবা মৃত ব্যক্তির নামে বিল জমা দেওয়ার মতো জালিয়াতির বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৮:৩৮
মেলানিয়া ও ব্যারন ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ইরানে ছড়ানো ভিডিওতে মেলানিয়া ও ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

মিশিগানের গ্র্যান্ড হ্যাভেন টাউনশিপে স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনায় বাড়ির সামনে তদন্ত করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত পুরো কমিউনিটি। ছবি: সংগৃহীত।

মিশিগানে স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে গুলি করে হত্যা, পরে আত্মহত্যা; শোকে স্তব্ধ পুরো কমিউনিটি

উদ্যোক্তা শেরিন। ছবি:সংগৃহীত

ফেসবুকের ছোট্ট আইডিয়া থেকে মাসে ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলার আয়, ন্যাশভিলের মায়ের অনুপ্রেরণার গল্প

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এর গ্রেট ডোম প্রাঙ্গণে পিএইচডি গবেষক লরেন ফোর্টিয়ার। ছবি:সংগৃহীত
নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট মানুষ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালাতে কাজ করছেন এমআইটি শিক্ষার্থী লরেন ফোর্টিয়ার

নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনায় মানুষের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির পিএইচডি শিক্ষার্থী লরেন ফোর্টিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এমন একটি কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরির চেষ্টা করছেন, যা ভবিষ্যতের নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট, বিশেষ করে ছোট মাইক্রোরিঅ্যাক্টরকে অনেক বেশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার পথ তৈরি করতে পারে।   ২৪ জুলাই এমআইটি নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফোর্টিয়ারের গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বর্তমানে এমআইটির নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পিএইচডি শিক্ষার্থী।   ফোর্টিয়ারের গবেষণার মূল লক্ষ্য নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের জন্য এমন একটি সুপারভাইজরি কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরি করা, যা প্ল্যান্টের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করতে পারবে। তবে গবেষণাটি এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টগুলো মানুষ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বা শিগগিরই সব অপারেটরকে সরিয়ে দেওয়া হবে, এমন নয়।   ফোর্টিয়ারের এই গবেষণার ধারণা এসেছে তার নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে যোগ দেন। সেখানে দক্ষিণ চীন সাগরে একটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনা তদারকির দায়িত্ব পালন করেন।   কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনার অনেক প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্রমনির্ভর এবং অপারেটরদের হাতে সম্পন্ন করতে হয়। সেখান থেকেই তার মনে প্রশ্ন আসে, নিরাপত্তা বজায় রেখে এসব কাজের আরও বেশি অংশ স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব কি না।   পরবর্তী সময়ে নৌবাহিনী তাকে অনুমোদিত কয়েকটি বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ দিলে তিনি এমআইটিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নেন। মাস্টার্সের গবেষণায় তিনি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনার জন্য একটি সুপারভাইজরি কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরি করেন এবং সিমুলেটরের মাধ্যমে সেটি পরীক্ষা করেন।   ২০২৫ সালে মাস্টার্স শেষ করার পর একই গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে পিএইচডি শুরু করেন ফোর্টিয়ার।   তার গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য ভবিষ্যতের মাইক্রোরিঅ্যাক্টর। এগুলো প্রচলিত বড় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের তুলনায় অনেক ছোট এবং প্রত্যন্ত এলাকাতেও স্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু ছোট একটি রিঅ্যাক্টর পরিচালনার জন্য বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত কর্মী রাখতে হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। ফলে বাণিজ্যিকভাবে এসব রিঅ্যাক্টর কার্যকর করার ক্ষেত্রে অটোমেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আইডাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিও মাইক্রোরিঅ্যাক্টরকে এমন ছোট নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেগুলো সীমিত স্থানীয় অপারেশনাল সহায়তায় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। প্রত্যন্ত জনপদ ও শিল্প এলাকায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।   তবে ফোর্টিয়ারের পরিকল্পনায় মানুষের ভূমিকা একেবারে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। বরং মানুষ ও কম্পিউটারের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যে কাজ ভালোভাবে করতে পারে সেটি কম্পিউটার করবে, আবার প্রয়োজন হলে মানুষ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।   এমআইটির প্রতিবেদনে ফোর্টিয়ার বলেছেন, নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের বর্তমান ব্যবস্থাগুলো মূলত মানুষের জন্য তৈরি। তার গবেষণায় সেই কাঠামোকে এমনভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে, যাতে মানুষ ও মেশিন দুটিই প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যান্ট পরিচালনার অংশ হতে পারে।   গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট নিয়ন্ত্রণে তিনি বর্তমানে মেশিন লার্নিংভিত্তিক এআই ব্যবহার করছেন না। এর পরিবর্তে ফাইনাইট স্টেট অটোমাটা নামের একটি প্রচলিত অটোমেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।   এই ব্যবস্থায় প্রতিটি পদক্ষেপ নির্দিষ্ট ঘটনা ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ফলে সিস্টেম কেন একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং এরপর কী করবে, সেটি স্পষ্টভাবে অনুসরণ করা যায়।   ফোর্টিয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেশিন লার্নিংয়ের মতো ডেটানির্ভর প্রযুক্তির কার্যক্রম নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের প্রয়োজনীয় মান অনুযায়ী যাচাই করার মতো ব্যবস্থা এখনো তাদের হাতে নেই। এ কারণেই গবেষণায় প্রচলিত এবং সহজে যাচাইযোগ্য অটোমেশন প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   গবেষণাটি এগিয়ে নিতে ফোর্টিয়ার আইডাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির হিউম্যান সিস্টেম সিমুলেশন ল্যাবরেটরির গবেষকদের সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি আইডাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে ইন্টার্নশিপ করেন। পরের বছর নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউসে ইন্টার্নশিপ করে স্বয়ংক্রিয় অপারেশন নিয়ে নিজের ধারণাগুলো আরও পরীক্ষা করার সুযোগ পান।   তার গবেষণা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০২৫ সালের ইনোভেশনস ইন নিউক্লিয়ার এনার্জি রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টুডেন্ট কম্পেটিশন এর বিজয়ীদের একজন ছিলেন ফোর্টিয়ার।   যুক্তরাষ্ট্রে এমন গবেষণা এমন এক সময়ে এগোচ্ছে, যখন দেশটিতে অ্যাডভান্সড নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ও মাইক্রোরিঅ্যাক্টর প্রযুক্তির উন্নয়ন দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি জানিয়েছে, তাদের উদ্যোগের আওতায় একাধিক অ্যাডভান্সড রিঅ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক মাইলফলক অর্জন করেছে।   ফোর্টিয়ারের গবেষণার পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হলো ছোট পরিসরে পরীক্ষিত সুপারভাইজরি কন্ট্রোল সিস্টেমকে আরও বড় ও জটিল নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের জন্য উপযোগী করে তোলা। তার গবেষণার একটি পরীক্ষামূলক মডেলে এমআইটি রিসার্চ রিঅ্যাক্টরের সিস্টেম ও পদ্ধতি ব্যবহার করে রিঅ্যাক্টর স্টার্টআপের কিছু কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা দেখানো হয়েছে।   এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে ছোট নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জনবল ও পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় মাইক্রোরিঅ্যাক্টর স্থাপনের অন্যতম বড় বাস্তব বাধা মোকাবিলায়ও অটোমেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৭:১৭
"সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড এবং একজন সচেতন ব্যক্তির প্রতিচ্ছবি।" ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের আফতাব ফুড মার্কেটে পাওয়া গেছে চারজনের সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড

বয়স্ক দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত

এক সময় অবসরের স্বর্গ, এখন ব্যয়ের চাপে ফ্লোরিডা ছাড়ছেন অবসরপ্রাপ্তদের একাংশ

ডে'জন হেইস-বার। ছবি;সংগৃহীত

যে কিশোর বাঁচিয়েছিল এক শিশুর প্রাণ, কয়েক মাস পরই গুলিতে ঝরে গেল তার জীবন

0 Comments