ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় শতভাগ শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায় ৮ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি কিনে বিতর্কে কমলা হ্যারিস
সারা জীবন আবাসন খাতে বর্ণবৈষম্য দূর করার পক্ষে সোচ্চার থাকলেও, প্রাক্তন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবার ক্যালিফোর্নিয়ায় এমন একটি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন, যে এলাকায় কৃষ্ণাঙ্গ বা অন্যান্য বর্ণের মানুষের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। জানা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ার পয়েন্ট ডুমে নামক অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও অভিজাত সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় ৮.১৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করে ৪ হাজার বর্গফুটের এই বিশাল সম্পত্তিটি কিনেছেন তিনি।
অত্যাধুনিক এই বাড়িটিতে সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার সুবিধার পাশাপাশি একাধিক ওয়াইন ফ্রিজ, ব্যক্তিগত গলফ গ্রিন এবং অন্তত পাঁচটি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাড়িটির অবস্থান। পয়েন্ট ডুমে এলাকাটি সেন্সাস ট্র্যাক্ট ৮০০৪.০৮ এর অন্তর্গত, যেখানে ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কৃষ্ণাঙ্গদের হার ছিল মাত্র ০.২ শতাংশ এবং শ্বেতাঙ্গদের হার প্রায় ৯৪ শতাংশ।
কমলা হ্যারিসের এমন এলাকা নির্বাচনের বিষয়টি অনেককেই অবাক করেছে, কারণ অতীতে তিনি কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায় বসবাসের গুরুত্ব নিয়ে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন। ২০১৯ সালে ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ওয়াশিংটন ডিসি এবং হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন যে, নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে বেড়ে ওঠা এবং তাদের সাথে থাকার অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে বৈচিত্র্যের চেয়েও নিজের মতাদর্শ ও সংস্কৃতির মানুষের সংখ্যাধিক্য তার কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।
অথচ বর্তমানে তিনি এমন একটি এলাকায় স্থায়ী হচ্ছেন, যেখানে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের একটি রিভিউতে দাবি করা হয় যে, কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ওই এলাকার সৈকতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য এক ধরনের অদৃশ্য প্রাচীর তৈরি করে রাখা হয়েছে।
অথচ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি বড় সময় কমলা হ্যারিস এই ধরনের বর্ণবাদ ও বৈষম্যের দেয়াল ভাঙার কাজেই ব্যয় করেছেন। ২০১২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল থাকাকালীন তিনি আবাসন বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে এবং পরবর্তীতে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ঐতিহাসিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোর জন্য বিপুল অঙ্কের সহায়তা তহবিলের প্রস্তাব করেছিলেন। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় তার আফ্রিকান-আমেরিকান পরিচয় নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছিল, তেমনি ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কৈশোরে শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকা বার্কলে এবং পরবর্তীতে মন্ট্রিয়লে বেড়ে উঠলেও, প্রচারণার সময় অকল্যান্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। আর এবার এমন একটি একচেটিয়া শ্বেতাঙ্গ এলাকায় বিপুল অর্থের বিনিময়ে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তটি তার অতীত আদর্শ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সাথে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন নতুন করে নিম্নমুখী হয়েছে বলে উঠে এসেছে সিএনএন ও এসএসআরএস পরিচালিত এক জনমত জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদনের হার নেমে এসেছে ৩৪ শতাংশে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের সমান। একই সঙ্গে দেখা গেছে, তার প্রতি অসন্তোষ শুধু বিরোধী সমর্থকদের মধ্যেই নয়, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে। ২৩ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ২২৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপ বুধবার প্রকাশ করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, আর ৬৬ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সিএনএনের মতে, এই হার ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর তার যে সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তা ছিল, তার সমান। জরিপে আরও দেখা যায়, ট্রাম্পের প্রতি তীব্র সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ১৫ শতাংশ উত্তরদাতা, যা এ পর্যন্ত রেকর্ড সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী তার কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জরিপে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৭৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে সবচেয়ে কম। একই সঙ্গে মাত্র ১৯ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময় নিয়ে তারা খুবই আশাবাদী। গত বসন্তে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্প দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না। ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকার সঠিক নয়। বিপরীতে মাত্র ২৭ শতাংশ মনে করেন, তিনি দেশের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। অর্থনীতি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি নেতিবাচক মূল্যায়ন উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। মাত্র ২২ শতাংশ বলেছেন, তার নীতির ফলে অর্থনীতির উন্নতি হয়েছে। বাকি ১৩ শতাংশের মতে, এর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কেও জনমত নেতিবাচক। জরিপে ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ইরান-সংক্রান্ত ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। ২১ শতাংশ মনে করেন, এতে দেশের উপকার হয়েছে এবং ১২ শতাংশ বলেছেন, এতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও রিপাবলিকানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাত্র ৪৩ শতাংশ রিপাবলিকান এসব প্রকল্পকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, আর ৩৫ শতাংশ বলেছেন, বিষয়টি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের জনমত জরিপ রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। যদিও একটি জরিপই জনমতের চূড়ান্ত চিত্র নয়, তবু সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে, যা তার প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।
নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কেরভাইরাল দুই আইনজীবীর বসেরও গোপন প্রেম, মিলল ১০ কোটি ডলারের বিশাল চুক্তি
ঝোপের ছদ্মবেশে পুলিশ কর্মকর্তা, নিউ জার্সিতে ৬ ঘণ্টায় ৭৪ অসচেতন চালককে জরিমানা
রেসিজম নিয়ে সোচ্চার, কমলা হ্যারিসের ৮ মিলিয়ন ডলারের নতুন বাড়ির আশপাশে নেই কোনো কৃষ্ণাঙ্গ
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে বিদ্যালয়ের লকডাউন মহড়ার সময় শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিতে তাদের পিঠের ওপর পা রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে দুই বছরের প্রবেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে থাকা শিক্ষকতার লাইসেন্স স্বেচ্ছায় জমা দিতে হবে। এছাড়া রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়নে অংশ নেওয়া, ৯০ ঘণ্টা সমাজসেবা করা, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি লেখা এবং জরিমানা ও আদালতের বিভিন্ন ফি হিসেবে ২ হাজার ২৫০ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিনেসোটার অটার টেইল কাউন্টির আন্ডারউড এলাকার ৪৯ বছর বয়সী শিক্ষক জেসন লাওয়েল রজার্সের বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক শাস্তি দেওয়ার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। স্থানীয় আদালত মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে তার বিরুদ্ধে 'স্টে অব অ্যাডজুডিকেশন' মঞ্জুর করেন। অর্থাৎ তিনি দোষ স্বীকার করলেও আপাতত আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ স্থগিত থাকবে। প্রবেশন চলাকালে আদালতের সব শর্ত মেনে চললে অভিযোগগুলো খারিজ হয়ে যাবে। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্ডারউড স্কুলে লকডাউন মহড়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তদন্তকারীদের জানান, মহড়ার সময় তিনি উপুড় হয়ে মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। তখন শিক্ষক জেসন রজার্স তার পিঠের ওপর দুই পা দিয়ে দাঁড়ান। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, রজার্সের ওজন ৩৫০ পাউন্ডেরও বেশি, যা প্রায় ১৫৯ কিলোগ্রামের সমান। ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী তীব্র পিঠের ব্যথায় ভুগতে থাকে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালে রজার্স স্বীকার করেন, তিনি শুধু ওই একজন নন, আরও দুই শিক্ষার্থীর পিঠেও পা রেখেছিলেন। তার দাবি ছিল, কয়েকজন শিক্ষার্থী লকডাউন মহড়াকে গুরুত্ব দিচ্ছিল না। তাদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই তিনি এমনটি করেছিলেন। তবে তদন্তকারী সংস্থার মতে, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা শিশুদের প্রতি শারীরিক শাস্তির শামিল। ঘটনার পর ২০২৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আন্ডারউড স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। এরপর থেকে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রবেশন চলাকালে রজার্সকে শিক্ষকতার লাইসেন্স ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি তাকে রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে, সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিতে হবে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে স্থগিত থাকা অভিযোগে আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ কার্যকর হতে পারে। মার্কিন শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যালয়ে জরুরি পরিস্থিতির মহড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালিত হলেও তা পরিচালনার সময় শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিকর কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষকদের আচরণবিধি এবং বিদ্যালয়ের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে
নিউইয়র্কে লেজিওনেয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাবে আরও একজনের মৃত্যু, মৃত বেড়ে ৭
১৬ ঘণ্টার বিদ্যুৎহীনতায় লাইফ সাপোর্টে থাকা ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের প্রাণপণ লড়াই
নিউইয়র্কে রাস্তায় গোলাগুলির মাঝে পড়ে প্রাণ হারাল ১২ বছরের জ্যাকব, চলতি বছর গুলিবিদ্ধ অন্তত ৫০ শিশু-কিশোর
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বছর বয়সী এক শিশুর চোখের সামনে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর ঘটনায় চরম অবহেলার অভিযোগে তার বাবা ও এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, শিশুটি যখন ভুলবশত 'ক্র্যাটম' (kratom) নামের বড়ি খেয়ে ফেলে, তখন তার ঠোঁট নীল হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড খিঁচুনি শুরু হয়। শিশুটির এমন ভয়াবহ শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখার পরও তারা জরুরি সহায়তা নম্বর ৯১১-এ কল করে কোনো চিকিৎসকের সাহায্য নেননি। জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে অভিযুক্ত বাবা তার মেয়েকে নিজের বোনের অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেন। পরে তিনি ঘুম থেকে উঠে দেখেন শিশুটি আর কোনো সাড়া দিচ্ছে না। চিকিৎসা পরীক্ষকের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটির মৃত্যু মূলত 'তীব্র মাইট্রাজিনাইন বিষক্রিয়া' (acute mitragynine intoxication)-এর কারণে হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, কৃত্রিমভাবে তৈরি এসব বড়ির মিশ্রণে অনেক সময় ৭-ওএইচ (7-OH) বা ৭-হাইড্রোক্সিমাইট্রাজিনাইনের মতো ভয়ংকর অবৈধ পদার্থ থাকতে পারে, যা শিশু তো বটেই, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
একই নির্যাতনের গল্পে ডজন ডজন অ্যাসাইলাম আবেদন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবীকে ৪.৭ লাখ ডলার জরিমানা
দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করল প্রশাসন