মামদানির বিচারিক কমিটিতে নেই কোনো ইহুদি সদস্য, আছেন বিতর্কিত আসামিদের আইনজীবীরা
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তার বিচারিক বাছাই কমিটিতে কোনো ইহুদি ব্যক্তিকে নিয়োগ দেননি। উল্টো ১৮ সদস্যের এই কমিটিতে তিনি এমন ব্যক্তিদের জায়গা দিয়েছেন, যারা দেশীয় সন্ত্রাসী ও বিতর্কিত খুনিদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন। এমনকি এই তালিকায় একজন সাবেক যৌনকর্মী এবং স্বাস্থ্যসেবা নির্বাহীর সন্দেহভাজন খুনির প্রশংসাকারীও রয়েছেন। ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত সমাজতান্ত্রিক এই মেয়র বিতর্কিত জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের আইনি দলে কাজ করার অজুহাতে অবসরপ্রাপ্ত ইহুদি বিচারক জন লেভেনথালকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ অন্যান্য সদস্যদের চরম বিতর্কিত মক্কেল থাকা সত্ত্বেও তাদের কমিটিতে জায়গা দেওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মামদানির এই 'অ্যাডভাইজরি কমিটি অন দ্য জুডিশিয়ারি'-তে জায়গা পেয়েছেন কারাগার সংস্কারকর্মী সুফিয়াহ এলাইজা। তিনি 'ওয়েদার আন্ডারগ্রাউন্ড' সন্ত্রাসী মেরিলিন বাক এবং কুখ্যাত পুলিশ খুনি মুমিয়া আবু-জামালের মতো চরমপন্থী ও স্বঘোষিত রাজনৈতিক বন্দীদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন। কমিটিতে থাকা আরেক সদস্য এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের সাবেক আইনজীবী জ্যারেড ট্রুজিলো নিজে একসময় যৌনকর্মী ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পতিতাবৃত্তিকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষে লবিং করার পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্ক পুলিশের ক্ষমতা ও পরিধি কমানোর জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন। বর্তমানে কিউনি (CUNY) ল স্কুলের এই অধ্যাপক নিউইয়র্কের বিতর্কিত 'ক্যাশলেস বেইল' বা জামিনহীন আইন বাতিলের সরকারি উদ্যোগেরও তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
কমিটির আরেক সদস্য মিনা মালিক সম্প্রতি ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের নির্বাহী ব্রায়ান থম্পসনকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া লুইগি ম্যাঙ্গিওনের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। কোচরান ল ফার্মের এই সিইও ম্যাঙ্গিওনকে 'স্মার্ট ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এদিকে, কমিটিতে জননিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় পুলিশ ইউনিয়নগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পিবিএ প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেন্ড্রি অভিযোগ করেছেন যে, মেয়র জননিরাপত্তার চেয়ে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পুলিশ খুনিদের রক্ষক এবং পুলিশ-বিরোধী কর্মীদের দিয়ে গঠিত প্যানেল কখনই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডিটেকটিভস এনডাউমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট স্কট মুনরোও এই প্যানেলে সাবেক পুলিশ বা প্রসিকিউটরদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ইহুদি আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো কমিটিতে কোনো ইহুদি সদস্য না থাকায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। প্রত্যাখ্যাত বিচারক লেভেনথাল এই পরিস্থিতিকে 'ভণ্ডামি' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অন্যান্য সদস্যদের বিতর্কিত মক্কেল থাকার পরও শুধু ম্যাক্সওয়েল মামলার অজুহাতে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে তার ইহুদি পরিচয় একটি বড় কারণ হতে পারে। উল্লেখ্য, এই বিচারিক উপদেষ্টা কমিটির তদারকির দায়িত্বে থাকা মামদানির প্রধান আইনি উপদেষ্টা রামজি কাসেম নিজেও একসময় গুয়ান্তানামো বে-তে আল-কায়েদা বন্দীদের আইনি সহায়তা দিয়েছিলেন। তবে যাবতীয় বিতর্কের পরও মেয়রের কার্যালয় দাবি করেছে, এই প্যানেলে থাকা সদস্যরা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় আইনি অভিজ্ঞতার অধিকারী এবং তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা ও সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অবসরের জন্য সঞ্চয়ের জনপ্রিয় মাধ্যম ৪০১(কে) অ্যাকাউন্টে আমেরিকানদের গড় ব্যালান্স নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) গড় ৪০১(কে) ব্যালান্স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০০ ডলারে। ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টসের নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘কিউ২ ২০২৬ বিল্ডিং ফাইন্যান্সিয়াল ফিউচারস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে গড় ৪০১(কে) ব্যালান্স বেড়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। আর এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সামান্য কমে যাওয়ার পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪০১(কে) ও ৪০৩(বি) অ্যাকাউন্টের গড় ব্যালান্স আবার রেকর্ড পর্যায়ে উঠে এসেছে। ‘দ্য রামসে শো’-এর সহ-উপস্থাপক জেড ওয়ারশর মতে, এই বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্স, তরুণ কর্মীদের বিনিয়োগে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আগ্রহ। তিনি বলেন, বিশেষ করে জেন জেড প্রজন্মের মধ্যে বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও অনেক মানুষকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করছে। ওয়ারশ বলেন, বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের ক্ষেত্রে সঞ্চয় বাড়ানোর কারণ ভিন্ন হতে পারে। তবে বর্তমানে অনেকের মধ্যেই আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ রয়েছে। অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারাও অনেকের জন্য স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিনের শক্তিশালী বাজার পরিস্থিতিও কর্মীদের বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করেন ওয়ারশ। তাঁর মতে, অনেক মানুষ বাজারের এই প্রবৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন। তবে অবসরের জন্য বিনিয়োগের আগে একটি শক্ত আর্থিক ভিত্তি তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রামসে সলিউশনের ‘৭ বেবি স্টেপস’ অনুসরণ করে প্রথমে ১ হাজার ডলারের জরুরি তহবিল গড়া, এরপর ভোক্তা ঋণ পরিশোধ এবং তিন থেকে ছয় মাসের জীবনযাপনের খরচের সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ের পর অবসর তহবিলে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রেকর্ড ব্যালান্সে পৌঁছানো ৪০১(কে) অ্যাকাউন্টধারীদের সবচেয়ে বড় ভুল কী হতে পারে—এমন প্রশ্নে ওয়ারশ বলেন, বাজারকে নিজের চেয়ে বেশি বোঝার চেষ্টা করাই বড় ভুল। তাঁর পরামর্শ, বাজারের ওঠানামা দেখে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া। তিনি বেতন থেকে নিয়মিত অর্থ কেটে নিয়ে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন, যা ‘ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং’ নামে পরিচিত। তাঁর মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদে অপেক্ষা করাই সম্পদ গড়ে তোলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।
৪ কোটি ডলারের সোনা লুকিয়ে রাখার পর যা ঘটল সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার সঙ্গে!
এপস্টিন-সম্পর্কিত ট্রল অ্যাকাউন্টকে জবাব দিতে চেয়েছিলেন এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেল
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর! নিউইয়র্কে সরকারি-বেসরকারি খাতে নতুন নিয়োগ
মেরিল্যান্ডের ফ্রেডেরিক শহরের টাসকার্স চান্স এলাকায় প্রায় ৪০ ঘণ্টার আইসিই অভিযান ঘিরে বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ফেডারেল এজেন্টদের সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। সেপ্টেম্বরের ৩ ও ৪ তারিখে চলা অভিযানে আইসিই এজেন্টদের গাড়ি ফুটপাথে তুলে দেওয়া এবং ব্যাটন ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের কর্মকর্তারা স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযানের শেষে কাউকে গ্রেপ্তার না করেই আইসিই এলাকা ছেড়ে যায়। আইসিই এজেন্টরা ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ফ্রেডেরিকের টাসকার্স চান্স এলাকায় যায়। সংস্থাটির দাবি, একটি গাড়ি থামানোর সময় পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল তারা। এরপর এজেন্টরা প্রায় ৪০ ঘণ্টা ওই এলাকায় অবস্থান করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং অনেকে বাড়ি থেকে বের হওয়া বা কাজে যাওয়াও এড়িয়ে চলেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আইসিইর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও কমিউনিটি পর্যবেক্ষকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক ডজন মানুষ একটি বাড়ির সামনে হাত ধরে মানববন্ধন তৈরি করে এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় বিক্ষোভকারীরা সহিংস ছিলেন না। হ্যাগারস্টাউন র্যাপিড রেসপন্সের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, আইসিইর গাড়ি ফুটপাথে উঠে বিক্ষোভকারী ও পর্যবেক্ষকদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওতে এজেন্টদের কয়েকজনকে ব্যাটন ব্যবহার করে লোকজনকে সরিয়ে দিতেও দেখা যায়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন আহত হন। ফ্রেডেরিক সিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট সিজার দিয়াজ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কেটি ন্যাশ ঘটনাস্থলে ছিলেন। ন্যাশকে একটি আইসিই গাড়ির কাছ থেকে সরে যেতে দেখা যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঘটনার বিষয়ে সিজার দিয়াজ ও কেটি ন্যাশ দুজনই বিক্ষোভকারীদের আচরণকে শান্তিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। মেরিল্যান্ডের ডেলিগেট ক্রিস ফেয়ারও প্রকাশিত ভিডিও দেখে আইসিই এজেন্টদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, অভিযানে কারও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। এদিকে ফ্রেডেরিক পুলিশের প্রধান কেভিন মেয়ার জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ আইসিই এজেন্টদের কাছে ওই বাড়িতে প্রবেশের জন্য কোনো ওয়ারেন্ট আছে কি না জানতে চেয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেডারেল এজেন্টরা এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি নিয়ে ওয়ারেন্ট ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী সাধারণভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বাড়িতে অযৌক্তিক তল্লাশি ও প্রবেশ থেকে সুরক্ষা দেয়। তবে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে ফেডারেল ওয়ারেন্ট, প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট, বাড়ির মালিকের সম্মতি এবং জরুরি পরিস্থিতির মতো বিষয় অনুযায়ী আইনি অবস্থান ভিন্ন হতে পারে। ফলে টাসকার্স চান্সের নির্দিষ্ট বাড়িতে আইসিইর প্রবেশের আইনগত ভিত্তি কী ছিল, সেটি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঘটনার পর মেরিল্যান্ডের একাধিক নির্বাচিত প্রতিনিধি ও ফ্রেডেরিকের স্থানীয় কর্মকর্তারা আইসিইর ব্যবহৃত শক্তির বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। মেরিল্যান্ড অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আইসিই ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের বিস্তারিত জবাব দেয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রায় দুই দিন ধরে চলা এই অভিযানের পরও লক্ষ্য করা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, আইসিই কাউকে গ্রেপ্তার না করেই এলাকা ছেড়ে যায়। ফলে অভিযানের উদ্দেশ্য, বাড়িতে প্রবেশের আইনগত ভিত্তি এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত শক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এখন তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী দেশই এগিয়ে থাকবে, চীনের সঙ্গে জিততে চান ট্রাম্প
বিদ্রুপ ও আপত্তি সত্বেও ৯/১১ স্মরণে উপস্থিত মামদানি, স্মরণানুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত পাশে ছিলেন তিনি
পেন স্টেটের ফ্র্যাট হাউসে কোকেন ভাগ করে করা হচ্ছে প্যাকেট, ক্যাম্পাসে বাড়ছে মাদকঝুঁকি
আইসিইর হাতে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীকে আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন ও ডিউ প্রসেস নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোর প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এক ইমিগ্রেশন জজ। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্টের সাবেক বিচারক ক্লোয়ি ডিলন এ অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বরের পর দায়ের করা মামলায় ডিলন দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে তিনি প্রায় তিন বছর সান ফ্রান্সিসকোতে ইমিগ্রেশন জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়ার আগে তিনি কর্মক্ষেত্রে ভালো মূল্যায়ন পেয়েছিলেন এবং হাজারো ইমিগ্রেশন মামলা পরিচালনা করেছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় তার আদালতে হাজির হওয়া এক ব্যক্তিকে ঘিরে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কোনো অ্যাটর্নি ছাড়াই আদালতে হাজির হয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার পর তাকে আইসিই আটক করে। বিষয়টি জানার পর ডিলন সংশ্লিষ্ট ফাইল আবার পর্যালোচনা করেন। ফাইল পর্যালোচনার পর ডিলনের ধারণা হয়, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একা ছিলেন। ফলে তিনি সম্ভবত ফেডারেল আইনের আওতায় একজন আনঅ্যাকম্পানিড মাইনর হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য ছিলেন। ডিলনের অভিযোগ, এমন অবস্থায় তাকে দ্রুত ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া বা expedited removal-এ নেওয়া আইনগতভাবে সম্ভব নাও হতে পারে। তার আগে করা অ্যাসাইলাম অ্যাপ্লিকেশনও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিবেচনার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল বলে তিনি মনে করেন। মামলায় বলা হয়েছে, ওই ঘটনার দিনই ডিলন তার সুপারভাইজারকে ইমেইল করে বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি আইসিইর আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন এবং ডিউ প্রসেসের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়। ডিলনের দাবি, তার বরখাস্তের সঙ্গে আগের ওই অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং এটি ছিল হুইসেলব্লোয়িংয়ের কারণে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা। ডিলনের মামলায় হুইসেলব্লোয়ার প্রোটেকশন অ্যাক্ট, প্রথম সংশোধনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বিভিন্ন সুরক্ষা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়েছেন। মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে। তবে ডিলনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, চলমান মামলা বা কর্মীদের বিষয়ে সাধারণত তারা মন্তব্য করে না। তবে ডিলনের অভিযোগকে তারা সরাসরি মিথ্যা বলে দাবি করেছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ও ইমিগ্রেশন কোর্টের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে একাধিক ইমিগ্রেশন জজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ইমিগ্রেশন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদারের ওপর প্রশাসনের গুরুত্ব বেড়েছে। আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিশেষ কিছু সুরক্ষা রয়েছে। একা যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিশু বা কিশোরদের জন্য অ্যাসাইলামসহ বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন রিলিফের সুযোগ থাকতে পারে এবং তাদের মামলায় নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার প্রয়োজন হয়। ফলে আইসিই কোনো আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরকে আটক করার পর তাকে কোন প্রক্রিয়ায় ডিপোর্টেশনের মুখোমুখি করা যাবে, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। ডিলনের মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। ফলে তিনি যে প্রতিশোধমূলকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন বা আইসিইর আটক বেআইনি ছিল, তা আদালত এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেনি। তবে অভিযোগটি ইমিগ্রেশন জজদের স্বাধীনতা, ডিউ প্রসেস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ফ্লোরিডায় পুলিশের তাড়া খেয়ে দুই শিশুকে নিয়ে কুমিরভর্তি জলাভূমিতে পালালেন বাবা
পানির অপচয় ঠেকাতে ১৩ বছর বয়সেই অ্যাপ তৈরি, নেহার উদ্যোগে সাশ্রয় ২ কোটি গ্যালন পানি