সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মামদানির বিচারিক কমিটিতে নেই কোনো ইহুদি সদস্য, আছেন বিতর্কিত আসামিদের আইনজীবীরা

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৭:২০
মামদানির বিচারিক কমিটিতে নেই কোনো ইহুদি সদস্য, আছেন বিতর্কিত আসামিদের আইনজীবীরা
মামদানির বিচারিক কমিটিতে নেই কোনো ইহুদি সদস্য, আছেন বিতর্কিত আসামিদের আইনজীবীরা

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তার বিচারিক বাছাই কমিটিতে কোনো ইহুদি ব্যক্তিকে নিয়োগ দেননি। উল্টো ১৮ সদস্যের এই কমিটিতে তিনি এমন ব্যক্তিদের জায়গা দিয়েছেন, যারা দেশীয় সন্ত্রাসী ও বিতর্কিত খুনিদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন। এমনকি এই তালিকায় একজন সাবেক যৌনকর্মী এবং স্বাস্থ্যসেবা নির্বাহীর সন্দেহভাজন খুনির প্রশংসাকারীও রয়েছেন। ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত সমাজতান্ত্রিক এই মেয়র বিতর্কিত জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের আইনি দলে কাজ করার অজুহাতে অবসরপ্রাপ্ত ইহুদি বিচারক জন লেভেনথালকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ অন্যান্য সদস্যদের চরম বিতর্কিত মক্কেল থাকা সত্ত্বেও তাদের কমিটিতে জায়গা দেওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

মামদানির এই 'অ্যাডভাইজরি কমিটি অন দ্য জুডিশিয়ারি'-তে জায়গা পেয়েছেন কারাগার সংস্কারকর্মী সুফিয়াহ এলাইজা। তিনি 'ওয়েদার আন্ডারগ্রাউন্ড' সন্ত্রাসী মেরিলিন বাক এবং কুখ্যাত পুলিশ খুনি মুমিয়া আবু-জামালের মতো চরমপন্থী ও স্বঘোষিত রাজনৈতিক বন্দীদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন। কমিটিতে থাকা আরেক সদস্য এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের সাবেক আইনজীবী জ্যারেড ট্রুজিলো নিজে একসময় যৌনকর্মী ছিলেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পতিতাবৃত্তিকে বৈধতা দেওয়ার পক্ষে লবিং করার পাশাপাশি তিনি নিউইয়র্ক পুলিশের ক্ষমতা ও পরিধি কমানোর জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন। বর্তমানে কিউনি (CUNY) ল স্কুলের এই অধ্যাপক নিউইয়র্কের বিতর্কিত 'ক্যাশলেস বেইল' বা জামিনহীন আইন বাতিলের সরকারি উদ্যোগেরও তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

 

কমিটির আরেক সদস্য মিনা মালিক সম্প্রতি ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের নির্বাহী ব্রায়ান থম্পসনকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া লুইগি ম্যাঙ্গিওনের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। কোচরান ল ফার্মের এই সিইও ম্যাঙ্গিওনকে 'স্মার্ট ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এদিকে, কমিটিতে জননিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় পুলিশ ইউনিয়নগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পিবিএ প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেন্ড্রি অভিযোগ করেছেন যে, মেয়র জননিরাপত্তার চেয়ে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পুলিশ খুনিদের রক্ষক এবং পুলিশ-বিরোধী কর্মীদের দিয়ে গঠিত প্যানেল কখনই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডিটেকটিভস এনডাউমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট স্কট মুনরোও এই প্যানেলে সাবেক পুলিশ বা প্রসিকিউটরদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

ইহুদি আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলো কমিটিতে কোনো ইহুদি সদস্য না থাকায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। প্রত্যাখ্যাত বিচারক লেভেনথাল এই পরিস্থিতিকে 'ভণ্ডামি' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অন্যান্য সদস্যদের বিতর্কিত মক্কেল থাকার পরও শুধু ম্যাক্সওয়েল মামলার অজুহাতে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে তার ইহুদি পরিচয় একটি বড় কারণ হতে পারে। উল্লেখ্য, এই বিচারিক উপদেষ্টা কমিটির তদারকির দায়িত্বে থাকা মামদানির প্রধান আইনি উপদেষ্টা রামজি কাসেম নিজেও একসময় গুয়ান্তানামো বে-তে আল-কায়েদা বন্দীদের আইনি সহায়তা দিয়েছিলেন। তবে যাবতীয় বিতর্কের পরও মেয়রের কার্যালয় দাবি করেছে, এই প্যানেলে থাকা সদস্যরা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় আইনি অভিজ্ঞতার অধিকারী এবং তারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা ও সততার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ওয়ালমার্ট ২০২৬ সালের ছুটির মৌসুম সামনে রেখে মাত্র ৩৫ ডলারে ১০ জনের বিশেষ খাবারের প্যাকেজ এনেছে। ছবি: সংগৃহীত
ওয়ালমার্টে ইতিহাসের সর্বনিম্ন দামে মিলছে ২৬টি আইটেম! জেনে নিন অফারের সময়সীমা

যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট ২০২৬ সালের থ্যাংকসগিভিং ও বড়দিনের ছুটিকে সামনে রেখে বিশেষ খাবারের প্যাকেজ এনেছে। মাত্র ৩৫ ডলারে ১০ জনের জন্য খাবার তৈরির উপকরণ পাওয়া যাবে এই প্যাকেজে। জনপ্রতি খরচ পড়বে ৩ ডলার ৫০ সেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২২ সালে এই কর্মসূচি চালুর পর এবারই সবচেয়ে কম দামে খাবারের প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে।   বুধবার, ২৮ অক্টোবর ওয়ালমার্ট নতুন এই হলিডে মিল বাস্কেটের ঘোষণা দেয়। এতে মোট ২৬টি আইটেম রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে গত বছর একই পণ্যগুলো কিনতে যে খরচ হতো, তার তুলনায় এবার প্যাকেজটির দাম ১২ শতাংশ কম রাখা হয়েছে।   কী থাকছে ৩৫ ডলারের প্যাকেজে ওয়ালমার্টের এই প্যাকেজে রয়েছে থ্যাংকসগিভিংয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির বিভিন্ন উপকরণ। এর মধ্যে রয়েছে বাটারবল ব্র্যান্ডের টার্কি, স্টাফিং মিক্স, ক্র্যানবেরি সস, ম্যাশড পটেটো, গ্রেভি এবং ডিনার রোলস।   এ ছাড়া থাকছে গ্রিন বিন ক্যাসেরোল তৈরির জন্য ক্যাম্পবেলের ক্রিম অব মাশরুম স্যুপ, মিষ্টি আলুর ক্যাসেরোল তৈরির উপকরণ, জেট পাফডের মিনি মার্শম্যালো এবং জিফি কর্ন মাফিন মিক্স। প্যাকেজে রয়েছে পাম্পকিন পাই ও তার সঙ্গে পরিবেশনের জন্য হুইপড টপিংয়ের উপকরণও।   টার্কির দাম রাখা হয়েছে প্রতি পাউন্ড ৯৭ সেন্ট। গত বছরও একই দামে টার্কি বিক্রি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্যাকেজের মোট ৩৫ ডলারের হিসাবটি টার্কির আনুমানিক ওজন এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ অন্যান্য পণ্যের দামের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে।   কত দিন পাওয়া যাবে এই অফার ওয়ালমার্ট জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দোকান থেকে সরাসরি অথবা অনলাইনে এই প্যাকেজ কেনা যাবে। ক্রেতারা চাইলে দোকান থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন কিংবা ডেলিভারির সুবিধা নিতে পারবেন। পণ্যের প্রাপ্যতা ও ডেলিভারির শর্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।   এ ছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত হলিডে মিল বাস্কেটের জন্য বিনা মূল্যে এক্সপ্রেস ডেলিভারির সুবিধাও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সব এলাকায় এই সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা স্থানীয় সেবা ও পণ্যের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে।   কেন কমানো হলো খাবারের দাম যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং ছুটির মৌসুমের বাড়তি ব্যয় অনেক পরিবারের কেনাকাটার বাজেটে চাপ তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে কম দামে বেশি পণ্য দেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে চাইছে ওয়ালমার্ট।   প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের হলিডে ট্রেন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া ১০ জনের মধ্যে ছয়জন জানিয়েছেন, ছুটির মৌসুমের খরচ তাদের কেনাকাটার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। আর ৭০ শতাংশ বলেছেন, পণ্যের দাম কম হলে ছুটির কেনাকাটা আরও সহজ হতো।   ওয়ালমার্টের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড গুগিনা জানিয়েছেন, পরিবারের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ছুটির সময়কে আনন্দময় করতে এ বছরের প্যাকেজে আরও বেশি খাবার ও সাশ্রয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।   প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে এই কর্মসূচি চালুর পর থেকে হলিডে মিল বাস্কেটের মাধ্যমে ক্রেতাদের মোট ৩৫ কোটি ডলারের বেশি সাশ্রয় হয়েছে।   তবে ক্রেতাদের মনে রাখতে হবে, ৩৫ ডলারের প্যাকেজটি মূলত খাবার তৈরির উপকরণের জন্য। সব খাবার প্রস্তুত অবস্থায় দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে এই অফারের ব্যতিক্রম রয়েছে। কেনার আগে স্থানীয় ওয়ালমার্ট স্টোরে পণ্যের প্রাপ্যতা ও প্রযোজ্য দাম যাচাই করে নেওয়া ভালো।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১১:৪৩
সিটি আইল্যান্ড অয়েস্টার রিফ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক

সাত বছরের অপেক্ষার পর সমুদ্রে নতুন আবাস, প্রয়াত আটজনের স্মৃতিতে মানবিক উদ্যোগ

আবেদনপ্রক্রিয়া চালু করেন।

কলিনে কমিউনিটি বোর্ডে যোগ দেওয়ার সুযোগ, ২০২৭ সালের আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

এক রাতেই নিভে গেল ১০ বছরের জিয়নের জীবন, ব্রঙ্কসে আগুনে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে পরিবারের চারজন

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে থাকছে না এফবিআই ও আইসিই কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে থাকছে না এফবিআই ও আইসিই, জানাল বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ও ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী থাকবেন না বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপির দায়ের করা একটি মামলায় বুধবার, ২৮ অক্টোবর আদালতে দাখিল করা নথিতে এ তথ্য জানানো হয়।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিচার বিভাগের এই অবস্থান সামনে এসেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী তদারকি পরিকল্পনা ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছেন নাগরিক অধিকারকর্মীরা।   আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী পর্যবেক্ষকেরা ভোটকেন্দ্রে মূলত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নোট করবেন। তাঁদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকবে না। এ ছাড়া পর্যবেক্ষণের সময় তাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র বহন করাও নিষিদ্ধ থাকবে। ভোটগ্রহণে হস্তক্ষেপ না করা এবং অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।   তবে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব থেকে সব ফেডারেল সংস্থার কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজনস, ব্যুরো অব অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস এবং ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কর্মীরা পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এফবিআই ও আইসিইর কর্মীরা এ দায়িত্বে থাকবেন না।   নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপি মামলাটি দায়ের করে। সংগঠনটির অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের নির্বাচনী পর্যবেক্ষণে যুক্ত করা হলে ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগের কারণে আইসিই কর্মকর্তাদের উপস্থিতি অভিবাসী সম্প্রদায়ের ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনের আগে ভোটার নিবন্ধনের তথ্য চাওয়া এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।   এর আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার বিভাগ এবারের নির্বাচনে দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার ফেডারেল কর্মীকে পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী আইন মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে বিভাগটি। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে ডেমোক্র্যাট নেতা ও ভোটাধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।   এফবিআই ও আইসিইর কর্মীদের পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্বাচনে ফেডারেল সরকারের ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এ সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধ বা নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এসব সংস্থার তদন্ত বা আইন প্রয়োগের ভূমিকা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আদালতে দাখিল করা নথিতে মূলত নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে সংস্থা দুটির কর্মীদের বাদ রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১০:৫০
নিউইয়র্কে প্রবীণদের জন্য বিনা মূল্যে বাসসেবা

নিউইয়র্কে প্রবীণদের জন্য বিনা মূল্যে বাসসেবা, আবেদন করবেন কিভাবে

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে রাস্তা পার হতে গিয়ে ময়লার গাড়ির চা পায় প্রাণ গেল ৩০ বছর বয়সী তরুণীর

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে রাস্তা পার হতে গিয়ে ময়লার গাড়ির চা পায় প্রাণ গেল ৩০ বছর বয়সী তরুণীর

মার্কিন গ্রিন কার্ড পাওয়ার ইবি-৫ কর্মসূচির নির্দিষ্ট আবেদন ও পিটিশনের ফি বাড়ার নতুন ঘোষণা আসছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ডের বাড়ছে খরচ, ইবি ৫ কর্মসূচিতে ফি দ্বিগুণেরও বেশি, কার্যকর ৩০ নভেম্বর

পেন্টাগনে একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত, এবার পদ হারালেন ৩২ বছরের অভিজ্ঞ জেনারেল
পেন্টাগনে একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত, এবার পদ হারালেন ৩২ বছরের অভিজ্ঞ জেনারেল

মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে ব্যাপক রদবদলের অংশ হিসেবে এবার শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারীকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণী প্রধান (সামরিক পরিমণ্ডলে যা 'জে৫' নামে পরিচিত) আর্মি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানা যায়।   গত আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নতুন করে হামলার কথা ভাবছেন, ঠিক সেই স্পর্শকাতর সময়েই পেন্টাগনে এই আকস্মিক রদবদলের ঘটনা ঘটল।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের অধীনে জে৫ পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া দ্বিতীয় জেনারেল হলেন ব্রেট সিলভিয়া। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে তার পূর্বসূরি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ ম্যাকগিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। প্রতিরক্ষা বিভাগের ওই কর্মকর্তা জানান, সিলভিয়ার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি এবং তাকে বরখাস্ত করার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণও জানানো হয়নি।   তবে দীর্ঘ ৩২ বছরের বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ারের জন্য জয়েন্ট স্টাফের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে সিলভিয়া ও তার পরিবারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সামরিক পরিকল্পনা প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে জে৫ দপ্তর।   সিলভিয়াকে এমন এক সময়ে বরখাস্ত করা হলো, যখন আগামী সপ্তাহে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে ওই অঞ্চলে ইতোমধ্যে তৃতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে পিট হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই ডজন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।   ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের পদ ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন হেগসেথ, যাকে তিনি সামরিক বাহিনীর 'দায়বদ্ধতা' নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে কংগ্রেসের অনেক সদস্য এই ঢালাও ছাঁটাইয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন।   অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও নৌবাহিনীর সাবেক কমব্যাট পাইলট মার্ক কেলি এই পদক্ষেপকে একটি ভয়াবহ 'শুদ্ধি অভিযান' আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এর ফলে সামরিক নেতৃত্ব যে গভীর শূন্যতার মুখে পড়ছে, তা কাটিয়ে উঠতে পুরো এক প্রজন্ম সময় লেগে যাবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ৯:৫৬
আবাসন সংকটের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ায় হাজার হাজার মানুষ গাড়িকেই একমাত্র বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করছেন। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীন প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের রাত কাটছে গাড়িতে

যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ৪০ হাজার কর্মীর গোপন তথ্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ৪০ হাজার কর্মীর গোপন তথ্য ফাঁস

নাসার বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা মহাকাশে পানি ও রাসায়নিক উপাদান শনাক্তের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

মহাকাশে পানি ও রাসায়নিক উপাদান শনাক্তে বাংলাদেশি নাসা বিজ্ঞানী মাহমুদার উদ্ভাবন!

0 Comments