আমেরিকায় গাড়ি চালিয়ে এই ৭ ভুলে বছরে বাড়তে পারে হাজার ডলারের খরচ
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি থাকা অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু গাড়ি চালানোর সময় কয়েকটি সাধারণ ভুল শুধু ট্রাফিক জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়তে পারে গাড়ির বীমা, টোল, মেরামত ও জ্বালানি খরচেও। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, লাল বাতি বা স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থামা, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা, টোল বা পার্কিংয়ের জরিমানা সময়মতো পরিশোধ না করা এবং বীমার মূল্য তুলনা না করার কারণে বছরে উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
সাম্প্রতিক লেন্ডিংট্রির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে ১১ থেকে ১৫ মাইল বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য জরিমানা হলে গাড়ির বীমার খরচ গড়ে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে বছরে গড়ে ৫২৪ ডলার ৭৪ সেন্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত বীমা খরচ হতে পারে। কিছু অঙ্গরাজ্যে এই বৃদ্ধি আরও বেশি। ক্যালিফোর্নিয়ায় একই ধরনের ট্রাফিক টিকিটের পর বীমার গড় খরচ ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। অর্থাৎ একটি ট্রাফিক টিকিটের আর্থিক প্রভাব শুধু জরিমানা দেওয়ার মধ্যেই শেষ হয় না, পরবর্তী কয়েক বছরও বাড়তি বীমা খরচ বহন করতে হতে পারে।
আরেকটি সাধারণ ভুল হলো লাল বাতি বা স্টপ সাইনে পুরোপুরি না থেমে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া। লাল বাতির ক্যামেরায় ধরা পড়ার নিয়ম এবং জরিমানার পরিমাণ শহর ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। তাই পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একই অঙ্কের জরিমানা নির্ধারণ করা যায় না। তবে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি ট্রাফিক আইন ভঙ্গের বিষয়টি নথিভুক্ত করলে তা চালকের ড্রাইভিং রেকর্ডে প্রভাব ফেলতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে বীমার খরচ বাড়ার কারণ হতে পারে। নিরাপদ অভ্যাস হলো লাল বাতি ও স্টপ সাইনে সম্পূর্ণভাবে গাড়ি থামানো।
গাড়ির বীমার ক্ষেত্রেও শুধু কম মাসিক খরচ দেখেই পলিসি নেওয়া ঠিক নয়। শুধু দায়বদ্ধতার বীমা থাকলে দুর্ঘটনায় অন্য ব্যক্তি বা তার সম্পত্তির ক্ষতির দায় মেটানো যায়, কিন্তু নিজের গাড়ির সব ধরনের ক্ষতির সুরক্ষা নাও পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে বীমাবিহীন বা অপর্যাপ্ত বীমা থাকা চালকের কারণে দুর্ঘটনা হলে বীমাবিহীন চালকের সুরক্ষা কাজে আসতে পারে। চুরি, আগুন, ভাঙচুর, শিলাবৃষ্টি বা সংঘর্ষ ছাড়া অন্যান্য কারণে গাড়ির ক্ষতি হলে ব্যাপক বীমা সুরক্ষা কাজে লাগতে পারে। কোন ধরনের বীমা বাধ্যতামূলক এবং কোনটি অতিরিক্ত, তা অঙ্গরাজ্য ও পলিসিভেদে ভিন্ন।
গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ পিছিয়ে দেওয়াও পরে বড় খরচের কারণ হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে ইঞ্জিনের তেল পরিবর্তন, টায়ারের বাতাসের চাপ পরীক্ষা, ব্রেক, ব্যাটারি এবং গাড়ি প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত সার্ভিস করানো গুরুত্বপূর্ণ। ছোট সমস্যা শুরুতেই শনাক্ত হলে বড় ধরনের যান্ত্রিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। একইভাবে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ইঞ্জিন সংক্রান্ত সতর্কতার বাতি জ্বলে উঠলে সেটি দীর্ঘদিন উপেক্ষা না করে কারণ পরীক্ষা করা উচিত। তবে শুধু সতর্কতার বাতি জ্বলেছে বলেই নির্দিষ্ট কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পরীক্ষা করে প্রকৃত সমস্যা শনাক্ত করার পর মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
টোল ও পার্কিংয়ের জরিমানাও সময়মতো পরিশোধ করা জরুরি। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং বা ক্যামেরার জরিমানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ বা আপত্তি না জানালে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, পার্কিং টিকিট পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ১০ ডলার বিলম্ব জরিমানা যোগ হতে পারে এবং সময় গড়ালে অতিরিক্ত পেনাল্টিও যুক্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে গাড়িতে চাকা আটকানো বা গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যবস্থাও হতে পারে।
টোলের ক্ষেত্রেও একইভাবে সময়মতো বিল পরিশোধ করা গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক স্টেট থ্রুওয়ের বিভিন্ন রুটে ই-জেডপাস ব্যবহারকারীরা অনেক ক্ষেত্রে টোল বাই মেইলের তুলনায় কম হারে টোল দিতে পারেন। টোল বিল সময়মতো পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ফি যোগ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। নিয়মিত গাড়ি চালানো ব্যক্তিদের তাই ই-জেডপাস অ্যাকাউন্ট সচল রাখা এবং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ও পেমেন্টের তথ্য নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় খরচ হতে পারে। গাড়ির মালিকের নির্দেশিকায় যে ধরনের জ্বালানি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, সেটিই ব্যবহার করা উচিত। যেসব গাড়িতে সাধারণ মানের পেট্রোল ব্যবহার করা যায়, সেখানে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বেশি দামের প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার করলে সাধারণত বাড়তি পারফরম্যান্স বা জ্বালানি সাশ্রয়ের উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাওয়া যায় না। তবে গাড়ি প্রস্তুতকারক যদি প্রিমিয়াম পেট্রোল ব্যবহার বাধ্যতামূলক বা সুপারিশ করে, সে ক্ষেত্রে সেই নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।
সবশেষে, একই ড্রাইভিং রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন বীমা কোম্পানি একই চালকের জন্য ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করতে পারে। তাই পলিসি নবায়নের সময় শুধু বর্তমান কোম্পানির প্রস্তাবিত মূল্য গ্রহণ না করে কয়েকটি কোম্পানির বীমা কোট তুলনা করা যেতে পারে। ক্রেডিট স্কোরও কিছু অঙ্গরাজ্যে গাড়ির বীমার মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে এর নিয়ম অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন এবং সব জায়গায় ক্রেডিট স্কোরের প্রভাব একই নয়।
গাড়ির খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় কোনো পদক্ষেপের চেয়ে নিয়মিত ছোট ছোট বিষয় নজরে রাখাই বেশি কার্যকর হতে পারে। গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার আগে টায়ারের বাতাসের চাপ, ড্যাশবোর্ডের সতর্কতার বাতি, ই-জেডপাস বা টোল অ্যাকাউন্ট এবং বীমা পলিসির তথ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। কোনো ট্রাফিক টিকিট, পার্কিং জরিমানা বা টোল বিল পেলে সেটি ফেলে না রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ বা প্রয়োজন হলে আপত্তি জানানো উচিত। অঙ্গরাজ্য, শহর, গাড়ির মডেল, চালকের ড্রাইভিং রেকর্ড এবং বীমা পলিসির ধরন অনুযায়ী প্রকৃত খরচ ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট জরিমানা বা বীমার খরচের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মোটরযান কর্তৃপক্ষ, টোল কর্তৃপক্ষ এবং বীমা কোম্পানির সর্বশেষ তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreপেনসিলভানিয়ার ভ্যালেন্সিয়ার ২১ বছর বয়সী জোনাথন হান্টার ক্রেমারকে আইএসআইএসের পক্ষে একটি সহিংস হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। তার কাছ থেকে একটি সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ১৯০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ফেডারেল ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট অনুযায়ী, ক্রেমারের অনলাইন কার্যক্রম এবং পরবর্তী সময়ে অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনায় তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি অনলাইনে আইএসআইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন এবং বিস্ফোরক তৈরির ম্যানুয়াল ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজের কথিত পরিকল্পনাকে একটি ‘মিশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এফবিআইয়ের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ১২ সেপ্টেম্বর ক্রেমার বাড়ি থেকে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে উবারে করে পেনসিলভানিয়ার গিবসোনিয়ায় যান। সেখানে একটি ওয়ালমার্ট থেকে রাইফেল সংগ্রহের পর তিনি একটি ডিসপোজেবল ফোন কেনেন এবং নগদ অর্থে ক্র্যানবেরি এলাকার একটি হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করেন। পরে তিনি একটি গান স্টোরেও যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর হোটেল ও তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা সেমি-অটোমেটিক রাইফেল, পাঁচটি রাইফেল ম্যাগাজিন, ১৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ, রাইফেল স্কোপ ও বাইপড উদ্ধার করেন। এছাড়া একটি এনট্রেঞ্চমেন্ট টুল, পেপার স্প্রে এবং প্রায় ৩০টি ছুরিও পাওয়া গেছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। হোটেল থেকে একটি হাতে লেখা নোটও উদ্ধার করা হয়। ক্রেমারের বিষয়ে এফবিআইয়ের নজর অবশ্য নতুন নয়। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় ব্যাপক প্রাণহানির উদ্দেশ্যে হামলার পরিকল্পনা এবং শিশু যৌন নির্যাতনের সামগ্রী রাখার ঘটনায় তদন্তের আওতায় এসেছিলেন। পরে পেনসিলভানিয়ায় কিশোর আদালতের মাধ্যমে ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের মার্চে একটি টিপ পাওয়ার পর তার বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করে এফবিআই। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অনলাইনে ‘হামজা আল রশিদ’ নামে পরিচিত ক্রেমার আইএসআইএস-সমর্থক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অস্ত্র সংগ্রহ করছিলেন। তবে কথিত হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য কী ছিল, তা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেছেন, অনলাইন কর্মকাণ্ড, উগ্রপন্থী বক্তব্য এবং অস্ত্র সংগ্রহের ঘটনাগুলো মিলিয়ে কর্মকর্তারা তাকে হামলার প্রস্তুতিতে থাকা ব্যক্তি হিসেবে দেখেছেন। ক্রেমারের বিরুদ্ধে এমন একটি ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে তিনি এমন অস্ত্র ও গোলাবারুদ গ্রহণ করেছিলেন, যেগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ ফেডারেল অপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে বলে তিনি জানতেন বা জানার যথেষ্ট কারণ ছিল। তাকে বাটলার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং প্রসিকিউটররা জামিন না দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, তিনি সমাজের জন্য চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। তবে ক্রেমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলা বাস্তবায়নের আগেই এফবিআইয়ের অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
আমেরিকায় গাড়ি চালিয়ে এই ৭ ভুলে বছরে বাড়তে পারে হাজার ডলারের খরচ
নিউইয়র্কে অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্ট লটারির শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর, যেভাবে আবেদন করবেন
সুরক্ষার আদেশের পরও থামেনি হয়রানি পিছু নেয়া, স্যাক্রামেন্টোতে গুলিতে প্রাণ গেল শালিনীর
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টকব্রিজ শহরের মেয়র জেডেন উইলিয়ামসকে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সিটি কাউন্সিল। মাত্র ২৩ বছর বয়সে মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়া উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে শহরের অর্থ ও সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি ১৮ বছর বয়সী এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুপযুক্ত যোগাযোগের অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রায় ১০ ঘণ্টার শুনানির পর শনিবার কাউন্সিল তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। স্টকব্রিজ আটলান্টার দক্ষিণে হেনরি কাউন্টির একটি শহর। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের এই শহরে ২০২৫ সালের নির্বাচনে তৎকালীন মেয়র অ্যান্থনি ফোর্ডকে হারিয়ে জয়ী হন উইলিয়ামস। জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তার বয়স ছিল ২৩ বছর। এর মাধ্যমে তিনি স্টকব্রিজের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হন। তার নির্বাচনের সময় তাকে জর্জিয়ার সবচেয়ে কম বয়সী নির্বাচিত মেয়র হিসেবেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগের অন্যতম বিষয় ছিল শহরের দেওয়া পারচেজিং কার্ড ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার। তদন্তে চার হাজার ডলারের বেশি অননুমোদিত ব্যয়ের অভিযোগ সামনে আসে। এসব ব্যয়ের মধ্যে রেস্তোরাঁয় খাবার, পোশাক, হেয়ারকাট, সিনেমার টিকিট, লিফট রাইডসহ বিভিন্ন খরচের কথা উঠে আসে। শহরের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তের আওতায় ছিল। তদন্তে আলোচিত একটি লেনদেন ছিল ৩২২ ডলার ৯২ সেন্টের একটি কেনাকাটা। সিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই খরচের বিষয়ে উইলিয়ামসের দেওয়া ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তিনি প্রথমে জানিয়েছিলেন, স্টাফদের জন্য গিফট কার্ড কেনা হয়েছিল। পরে তিনি বলেন, সেগুলো কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মূল রসিদ সংগ্রহ করে দেখতে পান, ওই কেনাকাটায় দুটি পানীয় ও ফাদার্স ডে উপলক্ষে তিনটি খাবারের খরচ ছিল। উইলিয়ামস অবশ্য এসব অভিযোগের সবকিছু অস্বীকার করেননি। শুনানিতে তিনি জানান, কিছু প্রশ্নবিদ্ধ খরচ শহরের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং ব্যক্তিগত খরচে শহরের পারচেজিং কার্ড ব্যবহারের বিষয়টি ইচ্ছাকৃত ছিল না। তিনি দাবি করেন, শহরের কার্ড ও ব্যক্তিগত কার্ড নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে কিছু লেনদেন হয়েছে এবং পরে তিনি অর্থ ফেরত দিয়েছেন। তার আইনজীবীও কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর কিছু বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উইলিয়ামসকে ঘিরে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ ছিল ১৮ বছর বয়সী এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ও ছবি আদান-প্রদান। বিষয়টি নিয়ে পুলিশও পর্যালোচনা করেছে। তবে ওই শিক্ষার্থীর বয়স আইনগতভাবে ১৮ হওয়ায় এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। উইলিয়ামসের বক্তব্য, ওই যোগাযোগ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা এবং ওই ব্যক্তি স্টকব্রিজের ‘মেয়র ফর এ ডে’ কর্মসূচির অংশ ছিলেন না। জুলাইয়ে অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত চলার সময় সিটি কাউন্সিল উইলিয়ামসের বেশ কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত করে। তাকে শহরের পারচেজিং ও ফুয়েল কার্ড, শহরের গাড়ি এবং কিছু সরকারি স্থাপনায় প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। এরপর তদন্তের ফলাফল নিয়ে সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টার শুনানি শেষে কাউন্সিলের তিন সদস্য উইলিয়ামসকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন, একজন বিরত থাকেন। আরেক কাউন্সিল সদস্যকে পক্ষপাতের অভিযোগে শুনানি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অপসারণের পর স্টকব্রিজে নতুন মেয়র নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সিটি অ্যাটর্নি কুইন্টন ওয়াশিংটনের তথ্য অনুযায়ী, মেয়রের পদ পূরণে একটি বিশেষ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে মেয়র প্রো টেম এলটন আলেকজান্ডার অন্তর্বর্তী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। উইলিয়ামসের কাছে হেনরি কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও রয়েছে। এদিকে উইলিয়ামসকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্টকব্রিজের কিছু বাসিন্দার মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে। সোমবারের কাউন্সিল সভায় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগগুলোর তুলনায় অপসারণের শাস্তি যথাযথ ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ ভোটারদের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন। ফলে মাত্র কয়েক মাস আগে তরুণ বয়সে মেয়র হয়ে যে রাজনৈতিক যাত্রা উইলিয়ামস শুরু করেছিলেন, তা এখন আইনি লড়াই ও নতুন নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
মর্টগেজের চাপে বিপাকে আমেরিকানরা, সবচেয়ে ঝুঁকিতে মিনেসোটা
ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের হয়রানিতে নীরব থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মাহমুদ খলিল
সিনেট শুনানিতে কাশ প্যাটেলকে তীব্র জেরা, এফবিআই প্রধানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) শিশুদের খাবারের জন্য বরাদ্দ ফেডারেল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক ফাহাদ মোহামেদ নুরকে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তাকারী তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এফবিআইয়ের অভিযোগ, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয় এবং নুরের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠান ওই অর্থের ৫০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছিল। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স তালিকায় নুরকে যুক্ত করা হয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাচারালাইজড নাগরিক এবং সোমালিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে সোমালিয়ায় অবস্থান করছেন বলে ধারণা করছে এফবিআই। নুরের বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড, অর্থপাচারের ষড়যন্ত্র এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। মিনেসোটার ফেডারেল আদালত ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নুর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালিয়ে যান এবং এরপর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, নুর দ্য প্রোডিউস এলএলসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যা খাদ্য সরবরাহকারী হিসেবে ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এফবিআইয়ের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহের কথা দেখিয়ে ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছিল। কিন্তু যেসব খাবার সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর একটি অংশ বাস্তবে সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, নুর খাবার সরবরাহের প্রমাণ হিসেবে ভুয়া ইনভয়েস জমা দিয়ে অর্থ গ্রহণ করেন। ২০২২ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, এই বৃহৎ জালিয়াতি চক্রে শিশুদের খাবার সরবরাহের নামে ভুয়া নথি, খাবারের হিসাব এবং অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। সরকারি অর্থ পাওয়ার পর সেই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত সম্পদ ও অন্যান্য কাজে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ফিডিং আওয়ার ফিউচার জালিয়াতি তদন্তের অংশ। কোভিড-১৯ মহামারির সময় শিশুদের খাবার নিশ্চিত করতে ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের নিয়মে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ওই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মিনেসোটায় বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া হয় বলে ফেডারেল প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফিডিং আওয়ার ফিউচার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সাইট মিলে ২৪ কোটি ডলারের বেশি ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে সংগ্রহ ও বিতরণ করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়। জালিয়াতির জন্য ভুয়া খাবারের ইনভয়েস, মিথ্যা খাবার বিতরণের হিসাব এবং ভুয়া উপস্থিতির তালিকা ব্যবহারের অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। এই কর্মসূচির অর্থ মূলত নিম্নআয়ের ও প্রয়োজন থাকা শিশুদের খাবার সরবরাহের ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অধীন ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিস এ কর্মসূচি পরিচালনা করে এবং রাজ্য পর্যায়ে এর অর্থ বিতরণ করা হয়। মহামারির সময় কর্মসূচির আওতা ও অংশগ্রহণের নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল, যা জালিয়াতির সুযোগ তৈরি করেছিল বলে ফেডারেল তদন্তে দাবি করা হয়েছে। এফবিআই জানিয়েছে, নুরের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে সংস্থার টিপ লাইনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। স্থানীয় এফবিআই অফিস, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমেও তথ্য দেওয়া যাবে। তবে পুরস্কার পেতে হলে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নুরকে গ্রেপ্তার এবং শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হতে হবে। ফেডারেল অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। নুরের বিরুদ্ধেও অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এফবিআই তাকে ধরতে নতুন করে জনসাধারণের সহায়তা চাওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই তদন্তে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা জোরদার করেছে।
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাকারীর শেষকৃত্যের খরচ দিলেন অজ্ঞাত দাতা, চুপ পরিবার
ক্লান্তিতে শিশুকে ধরে ঘুমিয়ে পড়ছিলেন মা, কোলে তুলে নিলেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট