সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্ট লটারির শেষ তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর, যেভাবে আবেদন করবেন

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১১:১৩
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডে ২৪টি অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্টের জন্য লটারি চলছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডে ২৪টি অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্টের জন্য লটারি চলছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডে ২৪টি অ্যাফোর্ডেবল অ্যাপার্টমেন্টের লটারি চলছে। ২৯০৫ ওয়েস্ট ১৭তম স্ট্রিটের নতুন আবাসিক ভবনের এসব অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৬৮১ ডলার থেকে। যোগ্য আবেদনকারীদের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার শর্ত পূরণ করা আবেদনকারীরা লটারির জন্য বিবেচিত হবেন।

 

আটতলা মিশ্র-ব্যবহারের এই ভবনে মোট ৭৭টি আবাসিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি ইউনিট অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারির মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। এসব ইউনিটের জন্য যোগ্য পরিবারের বার্ষিক আয় ৬৩ হাজার ২৫৮ ডলার থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও নির্দিষ্ট ইউনিটের ওপর ভিত্তি করে আয়সীমা পরিবর্তিত হবে। মোট ২১টি এক-বেডরুম এবং তিনটি দুই-বেডরুম অ্যাপার্টমেন্ট এই লটারিতে রয়েছে।

 

৮০ শতাংশ এরিয়া মিডিয়ান ইনকাম বা এএমআই শ্রেণিতে রয়েছে ১৫টি ইউনিট। এর মধ্যে ১৩টি এক-বেডরুম অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট ১ হাজার ৬৮১ ডলার। এসব ইউনিটের জন্য যোগ্য পরিবারের আয় ৬৩ হাজার ২৫৮ থেকে ১ লাখ ২২ হাজার ১৬০ ডলার পর্যন্ত। এছাড়া ৮০ শতাংশ এএমআই শ্রেণিতে দুটি দুই-বেডরুম ইউনিট রয়েছে, যার মাসিক রেন্ট ২ হাজার ২ ডলার এবং আয়সীমা ৭৬ হাজার ১৮৩ থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫৬০ ডলার।

 

বাকি নয়টি ইউনিট ১৩০ শতাংশ এএমআই শ্রেণির। এর মধ্যে আটটি এক-বেডরুম অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক রেন্ট ২ হাজার ৫০০ ডলার। এসব ইউনিটের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় ৯১ হাজার ৩৩৮ থেকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। একটি দুই-বেডরুম ইউনিটের মাসিক রেন্ট ২ হাজার ৮৫০ ডলার এবং এর জন্য আয়সীমা ১ লাখ ৫ হাজার ২৫৮ থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার।

 

ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে নির্ধারিত পার্কিং স্পেসসহ গ্যারেজ, বাইক স্টোরেজ লকার, পার্সেল লকার, লিফট এবং রুফটপ টেরেস। অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে ওয়াশার ও ড্রায়ার, ইন্টারকম, এয়ার কন্ডিশনিং এবং আধুনিক কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স ও ফিনিশিং রয়েছে। তবে বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ বিল নিজেদের বহন করতে হবে। এর মধ্যে ইলেকট্রিক স্টোভ ও হিটিংয়ের খরচও রয়েছে। গরম পানির খরচ রেন্টের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 

আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের পরিবারের মোট বার্ষিক আয় ও সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী কোন ইউনিটের জন্য যোগ্যতা রয়েছে তা যাচাই করা। শুধু সর্বনিম্ন ১ হাজার ৬৮১ ডলারের রেন্ট দেখেই আবেদন করা যাবে না। ওই ইউনিটের জন্য নির্ধারিত আয়সীমা ও পরিবারের আকারের শর্তও পূরণ করতে হবে।

 

আবেদন করতে হবে নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল NYC Housing Connect প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। প্রথমবার আবেদনকারীদের Housing Connect-এ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বর্তমান ঠিকানা ও আয়সংক্রান্ত তথ্যসহ প্রয়োজনীয় প্রোফাইল সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ২৯০৫ ওয়েস্ট ১৭তম স্ট্রিটের লটারি খুঁজে যোগ্য ইউনিটের জন্য আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন করতে কোনো ফি নেই।

 

এই লটারির আবেদন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খোলা হয়েছে এবং শেষ হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। অনলাইনে আবেদন করলে ওই তারিখের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। ডাকযোগে আবেদন করলে আবেদনপত্র ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পোস্টমার্ক হতে হবে।

 

আবেদন শেষ হওয়ার পর যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন প্রক্রিয়া এগোবে। লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই সরাসরি অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নয়। নির্বাচিত আবেদনকারীদের আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার প্রমাণপত্র যাচাই করা হবে। সব শর্ত পূরণ করার পরই অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

 

তাই আগ্রহী আবেদনকারীদের শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে নির্ধারিত আয়সীমা ও পরিবারের আকারের শর্ত যাচাই করে দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ২৯ সেপ্টেম্বরের পর এই লটারির জন্য নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে নতুন মসজিদ এবং ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোতে নতুন মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে নতুন মসজিদ ও ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠার দুটি পৃথক উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ভার্জিনিয়ার নর্টন শহরে একটি সাবেক ব্যাংক ভবন কিনে ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কিতে নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদনের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে দুটি প্রকল্প নিয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।   ভার্জিনিয়ার নর্টন শহরের ৭০২ পার্ক অ্যাভিনিউতে সাবেক ব্যাংক অব আমেরিকার ভবনটিকে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা করেছে ইসলামিক লিডারশিপ ইনস্টিটিউট অব আমেরিকা। মেরিল্যান্ডভিত্তিক এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সেখানে মুসলমানদের নামাজ আদায়ের জায়গার পাশাপাশি তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কার্ডিনাল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ভবনটি কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।   প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট আয়মান নাসার জানিয়েছেন, শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা নয়, দক্ষিণ-পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মানুষের দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশেও কাজ করতে চান তাঁরা। পরিকল্পিত কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টারে তরুণদের জন্য কর্মশালা, ছোট লাইব্রেরি, বিনোদনের জায়গা এবং বিভিন্ন কমিউনিটি প্রোগ্রামের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে তারা।   তবে নর্টনে ইসলামিক সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানিয়েছেন। অক্টোবরের শুরুতে সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে এক ডজনের বেশি বাসিন্দা প্রকল্পটির বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে কয়েকজন বাসিন্দা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার দিয়েছে। ২৭ অক্টোবর আয়োজিত একটি উন্মুক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা করেন উদ্যোক্তারা। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।   এদিকে নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কির নর্থ ভ্যালি এলাকায় নতুন মসজিদ নির্মাণের পথে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বাধা দূর হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর বার্নালিলো কাউন্টি কমিশনাররা চার ভোটের বিপরীতে এক ভোটে প্রকল্পটির অনুমোদনের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করেন। এর ফলে আলবুকার্কি ইসলামিক সেন্টারের নতুন মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ১ জুলাই কাউন্টির পরিকল্পনা কমিশন পাঁচ ভোটের বিপরীতে এক ভোটে প্রকল্পটি অনুমোদন করেছিল।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলবুকার্কির সেকেন্ড স্ট্রিট নর্থওয়েস্ট এলাকায় নতুন মসজিদটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান মসজিদে জায়গার সংকট থাকায় বড় পরিসরে নামাজের ব্যবস্থা করতে চাইছে মুসলিম কমিউনিটি। প্রকল্পের প্রকৌশলী জোসেফ তাহাত জানিয়েছেন, জুমার নামাজের সময় বর্তমান মসজিদে প্রায় ১২০টি গাড়ি এলেও পার্কিংয়ের জায়গা রয়েছে মাত্র ৬৪টি। নতুন প্রকল্পে ২৩৫টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   তবে প্রস্তাবিত মসজিদকে ঘিরে যানজট, সড়কের সক্ষমতা এবং এলাকার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। একটি স্থানীয় নেইবারহুড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির করা আপিলে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। আপিলকারীর প্রতিনিধির দাবি, তাঁদের আপত্তি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়, বরং যানবাহন চলাচল ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে। অন্যদিকে প্রকল্পটির পক্ষে অবস্থান নেওয়া বাসিন্দারা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মুসলিম কমিউনিটির উপাসনালয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন।   কাউন্টি কর্তৃপক্ষ মসজিদ নির্মাণের অনুমোদনের সঙ্গে ১৫টি শর্ত যুক্ত করেছে। এর মধ্যে ভবনের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২৬ ফুট রাখা, সেখানে স্কুল পরিচালনা না করা এবং ভবনের বাইরে শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার না করার শর্ত রয়েছে। নির্মাণের পারমিট দেওয়ার আগে যানবাহন চলাচলের প্রভাবসংক্রান্ত সমীক্ষাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে হবে। প্রয়োজনে সড়ক উন্নয়নের ব্যয়ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হতে পারে।   নিউ মেক্সিকোতে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগের পক্ষে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে সমর্থন জানিয়েছেন সান্তা ফের ক্যাথলিক আর্চবিশপ জন চার্লস ওয়েস্টার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তবে প্রশাসনিক অনুমোদনের অগ্রগতি হলেও নির্মাণকাজ শুরুর আগে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে।   ভার্জিনিয়া ও নিউ মেক্সিকোর এই দুটি উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কমিউনিটির ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো সম্প্রসারণের পৃথক উদাহরণ। একটি প্রকল্পে বিদ্যমান ভবনকে কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যটিতে নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ এগোচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নির্মাণসংক্রান্ত নিয়মকানুন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কোনো প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৯:৪৪
অস্ট্রেলিয়ার প্রথমবারের মতো  বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দুর্গাপূজা

অস্ট্রেলিয়ার প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে দুর্গাপূজা

নিউইয়র্কে বিয়ানীবাজারের আব্দুল খালিক লালুর ইন্তেকাল

নিউইয়র্কে বিয়ানীবাজারের আব্দুল খালিক লালুর ইন্তেকাল, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া

বাড়ি কিনতে ৩.৫% ডাউন পেমেন্ট সুবিধা দেবে জিলো

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কিনতে ৩.৫% ডাউন পেমেন্ট সুবিধা দেবে জিলো

৪৮ বছর বয়সী ফাতাউমাতা কেইতা
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় প্রবীণদের কাছ থেকে ১০ লাখ ডলার প্রতারণা, জর্জিয়ায় নারী দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রবীণ নাগরিকদের কম্পিউটারে ভাইরাসের ভয় দেখিয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার একটি প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে জর্জিয়ার এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। জর্জিয়ার গুইনেট কাউন্টির বুফোর্ড শহরের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী ফাতাউমাতা কেইতা সংঘবদ্ধ প্রতারণা-সংক্রান্ত রাজ্যের রিকো আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   গুইনেট কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রতারণা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কয়েক ডজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ ছিলেন প্রবীণ নাগরিক। প্রতারকেরা কম্পিউটারের পর্দায় ভুয়া সতর্কবার্তা দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস করাতেন যে তাঁদের ডিভাইস বিপজ্জনক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এরপর সমস্যা সমাধানের জন্য একটি টোল-ফ্রি নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হতো।   ওই নম্বরে ফোন করলে গ্রাহকসেবা প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করতেন। তাঁরা ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিগত সহায়তা সেবা কিনতে রাজি করাতেন। কিন্তু তদন্তকারীদের মতে, এসব সেবার প্রকৃত কোনো প্রয়োজন ছিল না। পুরো কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল ভুয়া সমস্যার সমাধানের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা।   প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের জর্জিয়ার বুফোর্ড শহরের একটি পোস্ট অফিস বক্সে চেক পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হতো। একেকটি চেকের পরিমাণ প্রায়ই ১ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি ছিল। সংগৃহীত অর্থ চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে কেইতা সহযোগিতা করতেন বলে আদালতে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এসব অর্থের একটি অংশ কানাডা, চীন ও ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের কাছেও পাঠানো হতো।   বিচার চলাকালে প্রসিকিউটররা কেইতার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর আর্থিক লেনদেনের নথি আদালতে উপস্থাপন করেন। এসব নথিতে দেখা যায়, এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন অ্যাকাউন্টগুলোতে ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জমা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, পুরো প্রতারণা কার্যক্রমে কয়েক ডজন মানুষের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে।   গুইনেট কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি প্যাটসি অস্টিন-গ্যাটসন প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে এ ধরনের প্রতারণার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রবীণদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রতারণার বিরুদ্ধে তাঁর অফিস কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করে গুইনেট কাউন্টি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস ইউনিট। পরে তদন্তকারী ও প্রসিকিউটররা যৌথভাবে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করেন। কেইতার সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারিত রয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে।   এই ঘটনা প্রবীণ কম্পিউটার ব্যবহারকারী ও তাঁদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। কম্পিউটারের পর্দায় হঠাৎ ভাইরাস শনাক্তের বার্তা দেখা গেলে সেখানে দেওয়া অপরিচিত নম্বরে ফোন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। একইভাবে পরিচয় যাচাই না করে কোনো প্রযুক্তিগত সহায়তাকারীকে ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেওয়া উচিত নয়। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য কিংবা পরিচিত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা প্রতারণা এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৭:৪৯
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাকের ধাক্কায় শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাকের ধাক্কায় শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত, চালকের সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড

ক্যালিফোর্নিয়ায় হ্যালোইন সামগ্রীর দোকানে গু লি

ক্যালিফোর্নিয়ায় হ্যালোইন সামগ্রীর দোকানে গু লি, পুলিশের তৎপরতায় ৬ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও নি হত ১

এআই দিয়ে তৈরি ছবি

ওবামার চিজকেক ফ্যাক্টরি মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ,বানালেন পছন্দমত এ আই ভিডিও

নিউইয়র্কের বদলে টেক্সাসে বসবাস
নিউইয়র্কের বদলে টেক্সাসে বসবাস কতটা সুবিধাজনক? বাংলাদেশিদের জন্য বিস্তারিত তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে গিয়ে অনেক অভিবাসী পরিবার অন্য অঙ্গরাজ্যে বসবাসের কথা ভাবছেন। তাঁদের কাছে টেক্সাস একটি সম্ভাব্য গন্তব্য। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি, সন্তানদের ইসলামিক শিক্ষা, তুলনামূলক কম বাড়িভাড়া এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে ডালাস ও হিউস্টন অঞ্চল গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নিউইয়র্কের তুলনায় বাড়িভাড়া কম হলেও গাড়ি, ইন্স্যুরেন্স, সন্তানের স্কুল এবং অন্যান্য খরচ বিবেচনা না করে স্থায়ীভাবে মুভ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাসে স্থায়ীভাবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা এক বাংলাদেশি পরিবার স্থানীয় প্রবাসীদের কাছে পরামর্শ চেয়েছে। তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার সন্তানদের ইসলামিক পরিবেশে বড় করা, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া এবং শোফার বা লাক্সারি ট্রান্সপোর্টেশন খাতে কাজের সুযোগ তৈরি করা। এমন পরিস্থিতিতে একই পরিকল্পনা থাকা পরিবারগুলোর জন্য টেক্সাসের কয়েকটি শহর, স্কুল, আবাসন খরচ ও চাকরির নিয়ম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো।   বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির জন্য কোন এলাকা বিবেচনা করবেন   টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ মহানগর এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে আরভিং, রিচার্ডসন, প্লানো, গারল্যান্ড এবং আর্লিংটন এলাকায় বাংলাদেশি পরিবার ও কমিউনিটি কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। ফ্রিসকোতেও মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য মসজিদ, ইসলামিক শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম রয়েছে। তবে কোন এলাকায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন, সে বিষয়ে হালনাগাদ নির্ভরযোগ্য সংখ্যা পাওয়া যায়নি।   ডালাসের আরভিং এলাকায় ইসলামিক সেন্টার অব আরভিংকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রিচার্ডসন ও প্লানোতেও মসজিদ, কুরআন শিক্ষা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য ইসলামিক কার্যক্রম রয়েছে। ফ্রিসকোর ইসলামিক সেন্টার নিয়মিত নামাজের পাশাপাশি সানডে স্কুল, কুরআন একাডেমি এবং শিশুদের পূর্ণকালীন ইসলামিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। ফলে সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া পরিবারগুলোর জন্য এসব এলাকা পর্যালোচনা করা যেতে পারে।   অন্যদিকে হিউস্টন মহানগর এলাকার সুগার ল্যান্ড, স্ট্যাফোর্ড, রিচমন্ড এবং হিউস্টনের বিভিন্ন অংশেও মুসলিম কমিউনিটির উপস্থিতি রয়েছে। ইসলামিক সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের অধীনে মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে সুগার ল্যান্ড ও স্ট্যাফোর্ডের আশপাশে ইসলামিক স্কুলের সুযোগ থাকায় পরিবারগুলো এসব এলাকা বিবেচনা করতে পারেন। তবে শুধু কমিউনিটির উপস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বাসা থেকে স্কুল, মসজিদ ও কর্মস্থলের দূরত্ব যাচাই করা জরুরি।   সন্তানদের জন্য কোথায় ইসলামিক স্কুল রয়েছে   ডালাস অঞ্চলের আরভিংয়ে অবস্থিত ইসলামিক স্কুল অব আরভিং একটি পূর্ণকালীন ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের টিউশন ফি কাঠামো প্রকাশিত রয়েছে। একই সঙ্গে ভাইবোনের জন্য ফি ছাড় এবং নির্দিষ্ট শর্তে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।   রিচার্ডসনের সালাম একাডেমি প্রি-কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রিচার্ডসন ক্যাম্পাসে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণির বার্ষিক টিউশন ফি ৭ হাজার ৫০০ ডলার। তবে ভর্তি ফি, বই, ইউনিফর্ম এবং অন্যান্য খরচ আলাদা হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবারের আয় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী টিউশন সহায়তার সুযোগ রয়েছে।   ফ্রিসকোর ইসলামিক সেন্টারের অধীন দ্য মুরাকাবা স্কুলে কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণকালীন ইসলামিক শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এর বাইরে কুরআন একাডেমি, সানডে স্কুল এবং কিশোরদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। ফলে তুলনামূলক ছোট বয়সী সন্তানের পরিবারের জন্য এই প্রতিষ্ঠান প্রাসঙ্গিক হতে পারে।   হিউস্টনে ইসলামিক সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় একাধিক পূর্ণকালীন ইসলামিক স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে ডারুল আরকাম একাডেমি নর্থ, হিউস্টন পিস একাডেমি, আইএলএম একাডেমি, এভারেস্ট একাডেমি এবং ডারুল আরকাম একাডেমি সাউথইস্ট উল্লেখযোগ্য। স্ট্যাফোর্ডের এভারেস্ট একাডেমিতে প্রি-কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে হিউস্টনের ডারুল আরকাম একাডেমি নর্থে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।   তবে ইসলামিক স্কুলে ভর্তি মানেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভালো একাডেমিক ফলাফল নিশ্চিত হওয়া নয়। সিদ্ধান্তের আগে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, পাঠ্যক্রম, পরীক্ষার ফল, নিরাপত্তা, টিউশন ফি এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি ভালো পাবলিক স্কুলে সন্তানকে পড়িয়ে বিকেলে কিংবা সপ্তাহান্তে ইসলামিক শিক্ষা দেওয়ার বিকল্পটিও পরিবারের বাজেট অনুযায়ী বিবেচনা করা যেতে পারে।   নিউইয়র্কের তুলনায় বাড়িভাড়া কতটা কম   আবাসনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান জিলোর ২০২৬ সালের জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক মহানগর এলাকায় সাধারণ ভাড়াবাসার মাসিক গড় ভাড়া ছিল ৩ হাজার ২৩২ ডলার। একই সময়ে ডালাস মহানগর এলাকায় গড় ভাড়া ছিল ১ হাজার ৬৩৩ ডলার এবং হিউস্টনে ১ হাজার ৬১২ ডলার।   এই হিসাবে নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার তুলনায় ডালাস ও হিউস্টনে গড় মাসিক বাড়িভাড়া প্রায় ১ হাজার ৬০০ ডলার কম। তবে এটি মহানগর এলাকার সামগ্রিক গড়, নির্দিষ্ট তিন বেডরুমের বাসা বা বাংলাদেশি অধ্যুষিত কোনো এলাকার ভাড়া নয়। বিশেষ করে প্লানো, ফ্রিসকো বা সুগার ল্যান্ডের পছন্দের স্কুলের কাছে বাড়িভাড়া শহরের সামগ্রিক গড়ের তুলনায় বেশি হতে পারে।   বাসা কেনার পরিকল্পনা থাকলেও শুধু বাড়ির দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। টেক্সাসে ব্যক্তিগত আয়ের ওপর অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের ইনকাম ট্যাক্স নেই। তবে বাড়ির মালিকদের প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, মর্টগেজ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ দিতে হয়। ফলে নিউইয়র্কের তুলনায় কম দামে বাড়ি কিনলেও মোট মাসিক ব্যয় কত দাঁড়াবে, তা আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।   শোফার ও লাক্সারি ট্রান্সপোর্টেশনে কাজের সুযোগ   নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাসে যেতে আগ্রহী যাঁদের শোফার, লিমুজিন, ব্ল্যাক কার বা এক্সিকিউটিভ ট্রান্সপোর্টেশন খাতে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের জন্য ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এবং হিউস্টনের বাজার পর্যালোচনা করা যেতে পারে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলে করপোরেট পরিবহন, এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার ও ব্যক্তিগত গাড়িসেবার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে অ্যালেন লিমুজিনের প্রকাশিত নিয়োগ পাতায় ফুলটাইম ও পার্টটাইম প্রফেশনাল শোফার পদের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিজ্ঞাপন থাকা মানেই সব আবেদনকারীর চাকরি নিশ্চিত নয়।   এই পেশায় শুধু গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা যথেষ্ট নয়। ভালো ড্রাইভিং রেকর্ড, পেশাদার আচরণ, গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা এবং উপযুক্ত ড্রাইভার লাইসেন্স গুরুত্বপূর্ণ। লাক্সারি ট্রান্সপোর্টেশন কোম্পানি অনুযায়ী গাড়ির ধরন, কাজের সময়, ইনস্যুরেন্স ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের শর্ত আলাদা হতে পারে।   টেক্সাসে উবার বা লিফটের মতো অ্যাপভিত্তিক যাত্রী পরিবহনের নিয়ম এবং স্বতন্ত্র লিমুজিন বা লাক্সারি কার সার্ভিসের নিয়ম এক নয়। টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত অ্যাপভিত্তিক পরিবহন কোম্পানির চালকদের আলাদা টিডিএলআর ড্রাইভার লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। তবে কোম্পানির অনুমোদন ও প্রযোজ্য অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।   অন্যদিকে ডালাসে লিমুজিন ও সেডানভিত্তিক লাক্সারি পরিবহনসেবার জন্য স্থানীয় ট্রান্সপোর্টেশন-ফর-হায়ার পারমিটের নিয়ম রয়েছে। গাড়ি, চালক এবং অপারেটিং কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ইন্স্যুরেন্স যাচাই করা জরুরি। নিউইয়র্কের টিএলসি লাইসেন্স থাকলেই টেক্সাসে সব ধরনের বাণিজ্যিক যাত্রী পরিবহনসেবা পরিচালনার অনুমতি পাওয়া যায় না।   কাজের আয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্ক নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। একজন শোফারের আয় নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান, কাজের সময়, করপোরেট ক্লায়েন্ট, টিপস, নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার এবং কর্মী না স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন, তার ওপর। নিজের গাড়ি দিয়ে সেবা দিলে জ্বালানি, বাণিজ্যিক ইন্স্যুরেন্স, গাড়ির কিস্তি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে প্রকৃত আয় হিসাব করতে হবে। তাই নিউইয়র্কের আয় সরাসরি টেক্সাসেও পাওয়া যাবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।   টেক্সাসে যাওয়ার আগে আরও যে খরচগুলো বিবেচনা করবেন   নিউইয়র্কের তুলনায় টেক্সাসের অনেক এলাকায় বাসাভাড়া কম হলেও গাড়ির ওপর নির্ভরতা বেশি হতে পারে। বিশেষ করে শহরতলির আবাসিক এলাকা থেকে স্কুল, মসজিদ ও কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য পরিবারের একাধিক গাড়ির প্রয়োজন হতে পারে। এর সঙ্গে গাড়ির কিস্তি, ইন্স্যুরেন্স, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যুক্ত হবে। ডালাস ও হিউস্টনে গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড গরমের কারণে বাসার বিদ্যুৎ বিলও পরিবারের বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   হিউস্টনে বাসা ভাড়া বা কেনার আগে বন্যার ঝুঁকিও যাচাই করা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট এলাকার ফ্লাড জোন, বাড়ির পূর্ববর্তী ক্ষয়ক্ষতির ইতিহাস এবং ফ্লাড ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া উচিত। অন্যদিকে ডালাস অঞ্চলে যাতায়াতের দূরত্ব ও যানজট বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের স্কুলের কাছে বাসা পেলেও কর্মস্থল অনেক দূরে হলে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সময় গাড়িতে কাটাতে হতে পারে।   মুভ করার পর ড্রাইভার লাইসেন্স ও গাড়ির নিয়ম   টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির নিয়ম অনুযায়ী, অন্য অঙ্গরাজ্যের বৈধ ড্রাইভার লাইসেন্স নিয়ে আসা নতুন বাসিন্দারা টেক্সাসে সর্বোচ্চ ৯০ দিন গাড়ি চালাতে পারেন। এর মধ্যে টেক্সাসের ড্রাইভার লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অন্যদিকে নিজের গাড়ি নিয়ে মুভ করলে সাধারণভাবে ৩০ দিনের মধ্যে টেক্সাসে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।   টেক্সাসে নতুন বাসিন্দাদের জন্য গাড়ির ইন্স্যুরেন্স এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এমিশন টেস্টের নিয়মও রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির সাধারণ ইন্স্যুরেন্স যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাই লাক্সারি ট্রান্সপোর্টেশন খাতে কাজ শুরুর আগে স্থানীয় লাইসেন্স, পারমিট ও বাণিজ্যিক ইন্স্যুরেন্সের শর্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   পরিবার নিয়ে যাওয়ার আগে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন   টেক্সাসে স্থায়ীভাবে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে প্রথমে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এবং হিউস্টন মহানগর এলাকার কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা সরেজমিনে দেখে আসা ভালো। আরভিং, রিচার্ডসন, প্লানো, ফ্রিসকো, সুগার ল্যান্ড ও স্ট্যাফোর্ডে স্কুল, মসজিদ ও বাসাভাড়ার তথ্য তুলনা করা যেতে পারে। সম্ভব হলে কর্মদিবসে সম্ভাব্য বাসা থেকে স্কুল ও কর্মস্থলে যাতায়াতের সময়ও যাচাই করা উচিত।   ইসলামিক স্কুলে সন্তানদের পড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে প্রথমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ এবং বার্ষিক মোট খরচ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পাবলিক স্কুলের মান, নিরাপত্তা, পরিবারের স্বাস্থ্যবিমা এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও বিবেচনা করতে হবে। চাকরির ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে মুভ করার আগে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজের ধরন, বেতন, কমিশন এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাসে মুভ করা অনেক পরিবারের জন্য আবাসন ব্যয় কমানো এবং নতুন জীবন গড়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সবচেয়ে উপযোগী শহর নির্ভর করবে পরিবারের আয়, সন্তানের বয়স, স্কুলের প্রয়োজন, কাজের ধরন এবং নিজস্ব জীবনযাত্রার অগ্রাধিকারের ওপর। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির উপস্থিতি, ইসলামিক স্কুল এবং লাক্সারি ট্রান্সপোর্টেশন খাতে কাজের সুযোগ একসঙ্গে বিবেচনা করলে ডালাসের উত্তরাঞ্চল ও আরভিং-রিচার্ডসন এলাকা এবং হিউস্টনের সুগার ল্যান্ড-স্ট্যাফোর্ড অঞ্চল প্রাথমিকভাবে যাচাই করার মতো জায়গা।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ৫:১৬
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত হ্যালোইন অনুষ্ঠানে সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক বাহিনীর পোশাকের আদলে সেজে হাজির হয়েছে এক শিশু

হোয়াইট হাউসে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর পোশাকে শিশু, ট্রাম্পের হ্যালোইন অনুষ্ঠানে আলোচনা

নিউইয়র্কে রবিবার মিটার পার্কিং ফ্রি

নিউইয়র্কে রবিবার মিটার পার্কিং ফ্রি, জরিমানা এড়াতে জানুন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

নিউইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’

নিউইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’! আবেগ আপ্লুতপ্রবাসীদের মধ্যে গর্বের অনুভূতি

0 Comments