যুক্তরাষ্ট্রের New York অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট অঞ্চলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে Claverack এলাকার স্টেট রুট ৯এইচ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় শেরিফ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লাউডনভিলের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল একটি টয়োটা প্রিয়াস গাড়ি চালিয়ে উত্তর দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা ছিলেন।
পথিমধ্যে অজানা কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেন্দ্ররেখা অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি টয়োটা ক্রাউনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই নাজমুল রুবেল নিহত হন।
এ ঘটনায় তার বাবা ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী বন্ধু ফাহিম হালিমও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অপর গাড়ির ৬২ বছর বয়সী যাত্রী জুলিয়া রিচিও নিহত হন।
দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় Albany Medical Center-এ ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। এছাড়া এক বছর বয়সী শিশুকন্যা ইকরা আয়াতকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে; সে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, অপর গাড়ির চালক ২৪ বছর বয়সী লুক পালভেনিয়ান আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। কীভাবে গাড়িটি কেন্দ্ররেখা অতিক্রম করেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
নিহতদের জানাজা বুধবার (৮ এপ্রিল) যোহরের পর Baitul Aman Islamic Center-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মিত্রদের ওপর চাপ, ভিসা বাতিল ও নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি—ICC-কে একঘরে করতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিযান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন ও সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আদালতটির কর্মকর্তা ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা বাতিল, আর্থিক অবরোধ সম্প্রসারণ এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আদালতটি মার্কিন নাগরিক, সামরিক সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার মাধ্যমে দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে। সোমবার, ১৩ জুলাই প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের বিচার করার উদ্দেশ্যে আদালতটি প্রতিষ্ঠিত হলেও সময়ের সঙ্গে এটি তার মূল দায়িত্বের সীমা ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে মার্কিন সীমান্তরক্ষী, সামরিক কর্মকর্তা, প্রসিকিউটর বা অন্য সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা Reuters-কে বলেছেন, ICC-এর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে আদালতের কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, ইতিমধ্যে দেওয়া ভিসা প্রত্যাহার, আর্থিক নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানো এবং ICC-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয় রয়েছে। শুধু আদালতের কর্মকর্তা নয়, ICC-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকেও এই অভিযানের আওতায় আনতে চাইছে ওয়াশিংটন। মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মেনে নেয় অথবা মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল—এমন দেশগুলোকে আমেরিকান কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের ওপর ICC-এর এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করতে বলা হচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা গ্রহণ করেও যেসব দেশ ওয়াশিংটনের অবস্থান সমর্থন করবে না, তারা বাড়তি পর্যালোচনা বা চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে সহায়তা কমানো, ভিসা সীমিত করা কিংবা নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো কোন পদক্ষেপ কোন দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ICC তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আদালতের মুখপাত্র ওরিয়ান মাইয়েত Reuters-কে বলেছেন, বর্তমান পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো মন্তব্য করবে না। রোম সংবিধির ভিত্তিতে ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাজ হলো গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আগ্রাসনের অপরাধের বিচার করা। বর্তমানে ১২৫টি দেশ এই আদালতের সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইসরায়েলসহ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এর সদস্য নয়। আদালতের নীতি অনুযায়ী, কোনো দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলেই ICC সাধারণত হস্তক্ষেপ করে। তবে কোনো অ-সদস্য দেশের নাগরিক সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ করলে ICC সেই ঘটনা তদন্ত করতে পারে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো পরিস্থিতি আদালতে পাঠালেও অ-সদস্য দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে আসছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, রোম সংবিধি অনুমোদন না করা কোনো দেশের নাগরিককে তার সম্মতি ছাড়া ICC-এর আওতায় নেওয়া রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। অন্যদিকে আদালতের আইনি কাঠামো বলছে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থান যদি কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ড হয়, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তির জাতীয়তা নির্বিশেষে বিচারিক এখতিয়ার তৈরি হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ একটি চিঠিতে ICC-কে জানায়, আদালতটির কোনো তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে না এবং আমেরিকান নাগরিকদের ওপর এর এখতিয়ার স্বীকার করে না। এ অবস্থানের ধারাবাহিকতায় এবার আদালতটিকে শুধু আইনি নয়, কূটনৈতিক ও আর্থিকভাবেও বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ICC-এর সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ নতুন নয়। তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্ত নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। ওই সময় তৎকালীন ICC প্রসিকিউটর ফাতু বেনসুদা এবং তাঁর এক সহযোগীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। আফগানিস্তান তদন্তে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও বন্দীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখার সুযোগ ছিল। তবে ২০২১ সাল থেকে আদালতের প্রসিকিউটর মার্কিন বাহিনীর ভূমিকা অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে সরিয়ে তালেবান ও আফগান সরকারি বাহিনীর সম্ভাব্য অপরাধের দিকে বেশি মনোযোগ দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তা বা সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি ICC। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান কঠোর অবস্থানের আরেকটি বড় কারণ ইসরায়েল। ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ICC। ট্রাম্প প্রশাসন ওই সিদ্ধান্তকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে। ইসরায়েলও রোম সংবিধির সদস্য নয়, তবে ফিলিস্তিন আদালতটির সদস্য হওয়ায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধের ওপর ICC এখতিয়ার দাবি করে। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ICC-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধের ব্যবস্থা অনুমোদন করেন। আদেশে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্র দেশের সুরক্ষিত ব্যক্তিদের সম্মতি ছাড়া তদন্ত, গ্রেপ্তার বা বিচারের প্রচেষ্টা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য অস্বাভাবিক ও গুরুতর হুমকি। এই নির্বাহী আদেশের অধীনে কোনো ব্যক্তি ICC-এর তদন্ত বা বিচারিক কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিলে কিংবা অর্থ, প্রযুক্তি, পণ্য বা সেবা দিয়ে সহায়তা করলে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ অবরুদ্ধ করা যেতে পারে। তাঁর সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও নিষিদ্ধ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থাও আদেশে রাখা হয়েছে। তবে এসব নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিরোধ চলছে। জুনে ICC-এর তিন বিচারক নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞাগুলো বিচারিক সিদ্ধান্তের প্রতিশোধ নেওয়া এবং বিচারকদের ওপর বেআইনি চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়েছে। মামলার নথিতে বিচারকেরা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ভ্রমণ বুকিং, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমা সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের মতে, এই ব্যবস্থা বিচারকদের আইনের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তা বিবেচনা করতে বাধ্য করার চেষ্টা। হোয়াইট হাউস ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রশাসনের দাবি, International Emergency Economic Powers Act-এর অধীনে প্রেসিডেন্ট বৈধভাবেই ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয়। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কূটনৈতিক অভিযান আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন মতপার্থক্য সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের বহু ঘনিষ্ঠ মিত্র ICC-এর সদস্য। তারা আদালতের স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে থাকলেও একই সঙ্গে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশও ICC-এর সদস্য এবং ২০১০ সালে রোম সংবিধি অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়নের অভিযোগের একাংশ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সংঘটিত হওয়ায় ICC বাংলাদেশ–মিয়ানমার পরিস্থিতিতে তদন্ত চালাচ্ছে। ২০১৯ সালে আদালতের বিচারকেরা ওই তদন্তের অনুমোদন দেন। ফলে আদালতের কার্যক্রম, আর্থিক সক্ষমতা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার ওপর মার্কিন চাপ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত চলমান আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এখন নজর থাকবে যুক্তরাষ্ট্র কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যবস্থা নেয়, মিত্র রাষ্ট্রগুলো ওয়াশিংটনের আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয় এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা মার্কিন আদালতে টিকে কি না। একই সঙ্গে ICC-কে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করবে, নাকি আদালতের এখতিয়ার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের নতুন রাজনৈতিক সমাধান তৈরি করবে—সেটিও আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও সক্রিয় হয়েছে ‘অদাবিকৃত জীবনবীমার অর্থ’ দেওয়ার নামে নতুন প্রতারণার কৌশল। ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) জানিয়েছে, বিভিন্ন মানুষের কাছে ডাকযোগে এমন চিঠি পাঠানো হচ্ছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—একজন মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পদবির মিল রয়েছে এবং তারা কোটি ডলারের জীবনবীমার বৈধ উত্তরাধিকারী। তবে বাস্তবে এসব চিঠি প্রতারকদের ফাঁদ ছাড়া আর কিছুই নয়। এফটিসির মতে, প্রতারকরা নিজেদের আইনজীবী বা কোনো আইন সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। চিঠিতে বলা হয়, মৃত ব্যক্তির প্রকৃত উত্তরাধিকারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই বীমার অর্থের একটি অংশ প্রাপক, একটি অংশ দাতব্য সংস্থা এবং বাকি অংশ আইন সংস্থা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো জীবনবীমা বা উত্তরাধিকারই থাকে না। চিঠির জবাব দিলে প্রতারকরা ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য, যেমন—সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ব্যাংক হিসাবের তথ্য বা বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এফটিসি সতর্ক করে বলেছে, অপরিচিত কারও কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যোগাযোগ করা হলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য বা অর্থ পাঠানো উচিত নয়। সংস্থাটি এমন চিঠি পেলে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। প্রথমত, কোনো ধরনের জবাব না দিয়ে চিঠিটি উপেক্ষা করুন। দ্বিতীয়ত, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করুন, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের। তৃতীয়ত, বিষয়টি ফেডারেল ট্রেড কমিশনের কাছে প্রতারণার অভিযোগ হিসেবে জানিয়ে দিন, যাতে অন্যরাও একই ফাঁদে না পড়েন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচয় চুরি, ভুয়া উত্তরাধিকার, লটারি জেতা এবং সরকারি সংস্থার পরিচয়ে প্রতারণাসহ নানা ধরনের আর্থিক জালিয়াতি বেড়েছে। তাই কোনো অপ্রত্যাশিত আর্থিক প্রস্তাব বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত চিঠি পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফটিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে নদীতীরবর্তী একটি পার্কে বেড়াতে এসে দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হলো একটি পর্যটক পরিবার। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নগ্ন অবস্থায় থাকা এক ব্যক্তি সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে তার মায়ের কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পোর্টল্যান্ড পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে টম ম্যাককল ওয়াটারফ্রন্ট পার্কে এক নগ্ন ব্যক্তি দৌড়াদৌড়ি করছেন এবং পথচারীদের হয়রানি করছেন—এমন একাধিক অভিযোগ আসে। একজন কলকারী জানান, ওই ব্যক্তি তাকে মাথায় ঘুষি মারারও চেষ্টা করেন। তবে সে সময় অন্য জরুরি ঘটনায় ব্যস্ত থাকায় পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। প্রায় ১২ মিনিট পর আরেকটি জরুরি ফোনে জানানো হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি সাত বছরের শিশুকন্যার হাত ধরে তাকে তার মায়ের কাছ থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাছের উইলামেট নদীতে সাঁতার কাটতে থাকা সন্দেহভাজনকে আটক করে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম ৩১ বছর বয়সী ড্যানিয়েল ভেসি। তার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় ডিগ্রির অপহরণের চেষ্টা, প্রথম ডিগ্রির কাস্টডিয়াল ইন্টারফিয়ারেন্স, তৃতীয় ডিগ্রির হামলা এবং হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে মাল্টনোমা কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ভেসি শিশুটির একটি হাত ধরে টানতে শুরু করলে তার মা অন্য হাত ধরে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। টানাহেঁচড়া এতটাই তীব্র ছিল যে একপর্যায়ে শিশুটি মাটি থেকে ওপরে উঠে যায়। এ সময় শিশুটির বাবা এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন পথচারী দ্রুত এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে ঘুষি, থাপ্পড় ও ধাক্কা দিয়ে শিশুটিকে তার কবল থেকে মুক্ত করেন। একজন পথচারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেপার স্প্রেও ব্যবহার করেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটি গুরুতর আহত হয়নি। ঘটনাস্থলে চিকিৎসাকর্মীরা তাকে পরীক্ষা করে শরীরে থাকা সামান্য আঁচড়ের চিকিৎসা দেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়েনি। শিশুটির পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, তারা অন্য একটি অঙ্গরাজ্য থেকে পোর্টল্যান্ডে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের মতে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে।