নিউইয়র্কে আদালতের বাইরে গ্যাং হামলার চেষ্টার অভিযোগে জড়ালেন
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মাউন্ট ভার্নন পুলিশ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রঙ্কসের একটি আদালতের বাইরে পরিকল্পিত গ্যাং হামলার চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি তার অস্ত্রধারী ছেলেকে হামলাটি কীভাবে পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল একটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও তদন্তের কারণে পরিকল্পিত হামলাটি শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। পরে তদন্তে ফোনালাপ, বার্তা আদান-প্রদান এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ কর্মকর্তা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টায় সহায়তা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে।
মাউন্ট ভার্নন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তারা তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করছে। একই সঙ্গে জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিশ্লেষণ সামনে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয় ছিল ‘গ্যাং অব ফোর’ বা ‘চারজনের বলয়’। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ চারজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন। পরে দ্য ডেইলি স্টার, ইউএনবি, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম একই প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা, তৃণমূল কর্মী এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মতামতের পরিবর্তে একটি সীমিত অভ্যন্তরীণ বলয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। অভিযোগ করা হয়, এই বলয় সরকারের কাছে দেশের প্রকৃত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনঅসন্তোষ এবং আন্দোলনের বাস্তব চিত্র সঠিকভাবে পৌঁছাতে দেয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাদের ‘গ্যাং অব ফোর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন সজীব ওয়াজেদ জয়, সালমান এফ রহমান, ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দাবি করেন, শেখ হাসিনা এই চারজনের ওপর অতিরিক্ত আস্থা রাখার ফলে রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করতে শুরু করেন এবং বিরোধী দল, সাধারণ জনগণ ও নিজের দলের অনেক নেতার মতামত থেকে দূরে সরে যান। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর আন্দোলনের ব্যাপ্তি, জনসমর্থন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারকে যে তথ্য দেওয়া হচ্ছিল, তার অনেকটাই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পেছনে শুধু একটি অভ্যন্তরীণ বলয়কে দায়ী করেননি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের ক্ষমতাকেন্দ্রিক শাসন, রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর চাপ, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, তরুণদের অসন্তোষ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন এসব মিলিয়েই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর ভারত চলে যান। এরপর বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ‘গ্যাং অব ফোর’ শব্দটি কোনো বিচারিক রায় বা স্বাধীন তদন্ত কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি মূলত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বক্তব্যের ভিত্তিতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভাষ্য, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম উদ্ধৃত করেছে। তাই বিষয়টি একটি সংবাদভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত, প্রতিষ্ঠিত বা চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নয়।
আমেরিকার পাবলিক স্কুলে সন্তানের জন্য ৮টি ফ্রি সুবিধা, যা অনেক বাংলাদেশি অভিভাবক জানেন না
নিউইয়র্কে আদালতের বাইরে গ্যাং হামলার চেষ্টার অভিযোগে জড়ালেন
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেও শেয়ারবাজারে ধাক্কা খেল স্পেসএক্স
যুক্তরাষ্ট্রে একা আসা প্রায় ২৪ হাজার অভিবাসী শিশুর অভিবাসন আদালতে আইনি প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পেয়েছে টেক্সাসভিত্তিক ছোট আইন প্রতিষ্ঠান বার্ক ল’ গ্রুপ। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বছরে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে। এ চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি যোগ্য শিশুদের আইনি পরামর্শ, আইনি দিকনির্দেশনা এবং আদালতে আনুষ্ঠানিক আইনজীবী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করবে। ফেডারেল রেজিস্টারে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও মঙ্গলবারই এ–সংক্রান্ত নোটিশ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, আগামী বছরের আগস্ট পর্যন্ত বার্ক ল’ গ্রুপ এই দায়িত্ব পালন করবে। নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে একা যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এর আগে এই দায়িত্ব পালন করত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিস। গত শুক্রবার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে কয়েক মাস ধরে আকাসিয়া এবং তাদের সহযোগী বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন আটকে রেখেছিল ফেডারেল সরকার। আকাসিয়া এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো এতদিন প্রায় ২০ হাজার শিশুর আইনি প্রতিনিধিত্ব করেছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া বার্ক ল’ গ্রুপের আটটি কার্যালয়ে মোট কর্মী রয়েছেন মাত্র ২৬ জন। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের উচ্চঝুঁকির মামলা, পরিবেশ, নিয়ন্ত্রক ও করপোরেট আইন নিয়ে কাজ করা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিলেও তাদের ওয়েবসাইটে কোনো আইনজীবীর বিশেষজ্ঞতার তালিকায় অভিবাসন আইনের উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ২০০৮ সালের মানবপাচারবিরোধী আইনের অধীনে একা দেশে আসা শিশুদের আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালন করে আসছিল। প্রথমে ভেরা ইনস্টিটিউট ফর জাস্টিস এবং পরে আকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিস এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ প্রথমে তাদের চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেয়, যদিও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে শিশুদের সংবেদনশীল তথ্য সরকারের কাছে দেওয়ার দাবি জানিয়ে অর্থ প্রদান স্থগিত করা হয়। একই বছরের শেষ দিকে শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তর নতুন আইন প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে এ দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করে। নতুন চুক্তিটি একক উৎসের সমঝোতা হিসেবে দেওয়া হলেও প্রয়োজন হলে বার্ক ল’ গ্রুপ অন্য আইন প্রতিষ্ঠান বা অলাভজনক সংস্থাকে উপঠিকাদার হিসেবে যুক্ত করতে পারবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে প্রতিষ্ঠানটির হাতেই।
দেউলিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্ধ হচ্ছে সালাদ অ্যান্ড গো'র সব শাখা
ট্রাম্পের গলফ ক্লাবে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন আটক, মিলল রাইফেল ও গুলি
প্রতারণা ঠেকাতে মিনেসোটায় বন্ধ করা হলো ক্রিপ্টো এটিএম
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার ব্যয়, শিক্ষাঋণের চাপ এবং দ্রুত ভালো আয়ের সুযোগের কারণে কারিগরি পেশার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে জেন জেড প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে। এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে দেশটির জেন জেডের ৬০ শতাংশ তরুণ কারিগরি পেশায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। রিজিউম টেমপ্লেটসের এক জরিপের তথ্য সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরে। দীর্ঘদিন ধরে চার বছরের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিকে ভালো ক্যারিয়ারের প্রধান পথ হিসেবে দেখা হলেও এখন সেই ধারণায় পরিবর্তন আসছে। উচ্চশিক্ষার বাড়তি খরচ, শিক্ষাঋণের বোঝা এবং বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে অনেক তরুণ বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকছেন। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক কারিগরি পেশায় শুরুর দিকের শ্বেতপেশার চাকরির সমান, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি আয় করা সম্ভব। নির্মাণ ও খনি খাতের তদারককারী কর্মীদের মধ্যম বার্ষিক আয় ৭৬ হাজার ৭৬০ ডলার, যা তালিকার সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্যসেবা খাতের কারিগরি পেশাগুলোর মধ্যেও ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে। অকুপেশনাল থেরাপি সহকারীরা বছরে গড়ে ৬৬ হাজার ৫০ ডলার এবং ফিজিক্যাল থেরাপি সহকারীরা ৬৫ হাজার ৫১০ ডলার আয় করেন। এ ছাড়া প্লাম্বার, পাইপফিটার ও স্টিমফিটারদের মধ্যম বার্ষিক আয় ৬২ হাজার ৯৭০ ডলার এবং ইলেকট্রিশিয়ানদের আয় ৬২ হাজার ৩৫০ ডলার। গরম ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের প্রযুক্তিবিদদের মধ্যম বার্ষিক আয় ৫৯ হাজার ৮১০ ডলার, কাঠমিস্ত্রিদের ৫৯ হাজার ৩১০ ডলার এবং নির্মাণ শ্রমিকদের ৪৬ হাজার ৫০ ডলার। পরিবহন খাতেও ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে। পরিবহন ও পণ্য পরিবহন তদারককারী কর্মকর্তাদের মধ্যম বার্ষিক আয় ৬০ হাজার ৫১০ ডলার, ভারী ট্রাকচালকদের ৫৭ হাজার ৪৪০ ডলার এবং বাস ও ট্রাকের যন্ত্রাংশ বিশেষজ্ঞদের ৫৮ হাজার ৯৭০ ডলার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পেশায় চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির পরিবর্তে শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, সনদ কোর্স বা কমিউনিটি কলেজের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তুলনামূলক কম সময়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করা যায়। জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর একজন মনে করেন, তাদের টিউশন ফি যথাযথ বিনিয়োগ নয়। একই সঙ্গে ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের মতে, বর্তমানে কলেজে পড়াশোনার খরচ তার সুফলের তুলনায় বেশি। তবে আয়, চাকরির সুযোগ এবং প্রশিক্ষণের ধরন অঞ্চল, অভিজ্ঞতা ও বিশেষায়নের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে।
আমেরিকায় ১০টি জিনিস একেবারে ফ্রি, তবু না জেনে টাকা খরচ করছেন অনেক বাংলাদেশি
ট্রাম্পকে বহনকারী মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টার নিয়ে তদন্তে মার্কিন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ