শিশুদের সুরক্ষায় ব্যর্থ মেটা, ৯৪২ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ সতর্কতা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে।
বৃহস্পতিবার বিচারক ব্রায়ান বিডশেইডের দেওয়া চূড়ান্ত আদেশে নতুন করে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার একটি বিশেষ ক্ষতিপূরণ তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে একই মামলায় জুরি ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ানি জরিমানা আরোপ করেছিল। ফলে সব মিলিয়ে মেটার বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থদণ্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার, যা শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আর্থিক রায়গুলোর একটি।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন যৌন শোষণের ঝুঁকি মোকাবিলায় মেটা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটার কার্যক্রমকে একটি দূষণ ছড়ানো কারখানার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, কারখানার দূষণ যেমন চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাবও পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন করে আরোপিত ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বড় অংশ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতা কর্মসূচি, ক্ষতি প্রতিরোধ এবং সহায়তামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি নিউ মেক্সিকোতে শিশুদের জন্য প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক পরিবর্তন আনতে হবে মেটাকে। এর মধ্যে উন্নত বয়স যাচাই ব্যবস্থা, নাবালকদের জন্য ডিফল্ট নিরাপত্তা সেটিংস, নিয়মিত সতর্কতামূলক বার্তা এবং শিশুদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মামলাটি ২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেস দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, মেটার অ্যালগরিদম নাবালকদের ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে ঠেলে দেয় এবং অনলাইন যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়ায়। ২০২৬ সালের মার্চে জুরি মেটাকে ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে। এরপর মামলার দ্বিতীয় ধাপে আদালত শিশুদের ক্ষতি কমাতে অতিরিক্ত ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের নির্দেশ দেয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মেটা জানিয়েছে, তারা আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ এই রায়কে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের স্বাস্থ্যবিমা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধা পরিবর্তনের বার্ষিক সময়সীমা শুরু হচ্ছে আগামী ৯ নভেম্বর। চলবে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২০২৭ সালের জন্য নতুন পরিকল্পনায় নিবন্ধন, বর্তমান বিমা পরিবর্তন অথবা প্রয়োজন না থাকলে নির্দিষ্ট সুবিধা বাতিল করার সুযোগ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা দপ্তর (ওপিএম) জানিয়েছে, এই বার্ষিক সময়কে বলা হয় ‘ফেডারেল বেনিফিটস ওপেন সিজন’। এ সময় যোগ্য ফেডারেল সরকারি কর্মী, ডাক বিভাগের কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাঁদের স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে পারবেন। এ সুযোগের আওতায় রয়েছে ফেডারেল এমপ্লয়িজ হেলথ বেনিফিটস (এফইএইচবি), পোস্টাল সার্ভিস হেলথ বেনিফিটস (পিএসএইচবি) এবং ফেডারেল এমপ্লয়িজ ডেন্টাল অ্যান্ড ভিশন ইনস্যুরেন্স প্রোগ্রাম (ফেডভিআইপি)। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিমার পাশাপাশি দাঁত ও চোখের চিকিৎসার বিমা পরিকল্পনাও পরিবর্তন করা যাবে। ওপিএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জন্য এফইএইচবি কর্মসূচিতে ৪৫টি বিমা প্রতিষ্ঠান ১১৮টি পরিকল্পনা দিচ্ছে। ডাক বিভাগের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে রয়েছে ১৭টি প্রতিষ্ঠান ও ৬৫টি পরিকল্পনা। দাঁতের চিকিৎসার বিমায় ১১টি প্রতিষ্ঠান ২১টি এবং চোখের চিকিৎসার বিমায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ১০টি পরিকল্পনা দিচ্ছে। এ কারণে কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের জন্য নিজের এবং পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা তুলনা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। মাসিক প্রিমিয়াম, চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক, হাসপাতালে ভর্তি, ওষুধের খরচ, ডিডাক্টিবল এবং পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির শর্ত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া ফেডারেল কর্মীদের জন্য রয়েছে ফ্লেক্সিবল স্পেন্ডিং অ্যাকাউন্ট কর্মসূচি (এফএসএফইডিএস)। এর মাধ্যমে যোগ্য স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ, দাঁত ও চোখের চিকিৎসার নির্দিষ্ট খরচের জন্য কর-পূর্ব অর্থ সংরক্ষণের সুযোগ থাকে। তবে এ সুবিধার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান অংশগ্রহণকারীদের ২০২৭ সালেও সুবিধাটি চালু রাখতে ওপেন সিজনে নতুন করে নির্বাচন বা নিবন্ধন করতে হবে। আগের বছরের নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে না। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যবিমা ও দাঁত-চোখের বিমায় বর্তমানে যাঁরা রয়েছেন এবং কোনো পরিবর্তন করতে চান না, তাঁদের বিদ্যমান এফইএইচবি, পিএসএইচবি ও ফেডভিআইপি কভারেজ সাধারণত ২০২৭ সালেও বহাল থাকবে। তবে পরিকল্পনার শর্ত ও খরচ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আগে নতুন বছরের সুবিধা ও প্রিমিয়াম যাচাই করা উচিত। এই সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের সব চাকরিজীবী বা সাধারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নয়। এটি মূলত যোগ্য ফেডারেল সরকারি কর্মী, ডাক বিভাগের কর্মী এবং নির্দিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত ও তাঁদের যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য। যোগ্য ব্যক্তিরা ওপিএমের সরকারি ওয়েবসাইটে ২০২৭ সালের বিমা পরিকল্পনা, প্রিমিয়াম ও তুলনামূলক তথ্য দেখতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: https://www.opm.gov/healthcare-insurance/open-season/ নির্ধারিত সময় ১৪ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার আগেই নিজের বিমা ও চিকিৎসাসুবিধা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
গভীর রাতে বাড়ির দরজায় লাথি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চ্যালেঞ্জে আতঙ্কিত পরিবার
সরকারি সহায়তা নিলে গ্রিন কার্ডে কী প্রভাব পড়বে, নতুন নির্দেশনায় বাড়ছে অভিবাসীদের প্রশ্ন
২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, চিকিৎসা খরচ নিয়ে নতুন চাপে পরিবারগুলো
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার জন্য আবেদন শুরু হয়েছে। তবে নতুন বছরে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বৃদ্ধি, সরকারি আর্থিক সহায়তার পরিবর্তন এবং কিছু বিমা পরিকল্পনার প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারগুলোর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। গত ১ নভেম্বর থেকে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (এসিএ) আওতায় স্বাস্থ্যবিমার বার্ষিক আবেদনপর্ব শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচি সাধারণভাবে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত। যারা চাকরির মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা পান না, স্বনির্ভরভাবে কাজ করেন, ছোট ব্যবসা পরিচালনা করেন কিংবা নিজেদের পরিবারের জন্য আলাদাভাবে বিমা কিনতে চান, তাদের জন্য এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে মার্কেটপ্লেসের স্বাস্থ্যবিমার দাম গড়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে কেএফএফের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে এই বৃদ্ধি সব অঙ্গরাজ্য, বিমা প্রতিষ্ঠান কিংবা গ্রাহকের ক্ষেত্রে একই রকম হবে না। স্বাস্থ্যবিমার খরচ বাড়ার পেছনে চিকিৎসাসেবার ব্যয় বৃদ্ধি, হাসপাতালের খরচ এবং অন্যান্য বাজার পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা সরকারি ভর্তুকি পান না, তাদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ বেশি পড়তে পারে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমার সরকারি আর্থিক সহায়তার নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। মহামারির সময় চালু হওয়া অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিটের মেয়াদ ২০২৫ সালের শেষে শেষ হয়েছে। ফলে আগে যারা তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যবিমা পেয়েছেন, তাদের অনেকের মাসিক কিস্তি বেড়ে যেতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন। প্রচলিত নিয়মে যোগ্য অনেক পরিবার এখনো আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। তাই আবেদন করার সময় নিজের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। আবেদনের শেষ সময় কবে? ফেডারেল মার্কেটপ্লেস ব্যবহারকারী অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার আবেদন চলবে ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। যারা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিমার সুবিধা চালু করতে চান, তাদের সাধারণত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন ও পরিকল্পনা নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। আর যারা ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে আবেদন করবেন, তাদের বিমা সাধারণত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে। প্রথম প্রিমিয়াম পরিশোধের শর্তও পূরণ করতে হবে। তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে নিজস্ব স্বাস্থ্যবিমা মার্কেটপ্লেস রয়েছে। সেসব অঙ্গরাজ্যে আবেদনের সময়সীমা ও নিয়ম আলাদা হতে পারে। কারা আবেদন করতে পারবেন? যারা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা পান না, স্বনির্ভরভাবে কাজ করেন, বেকার রয়েছেন কিংবা নিজেদের পরিবারের জন্য বিমা কিনতে চান, তারা মার্কেটপ্লেসে পরিকল্পনা দেখতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কিছু আইনগত অভিবাসীও স্বাস্থ্যবিমার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ২০২৭ সালের নতুন নিয়মে কিছু অভিবাসী শ্রেণির সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত হয়েছে। তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করলেই সবাই ভর্তুকি পাবেন—এমন ধারণা ঠিক নয়। বিমা কেনার আগে যে বিষয়গুলো দেখবেন শুধু মাসিক কিস্তি কম দেখে স্বাস্থ্যবিমা নির্বাচন করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ, হাসপাতালে ভর্তি, জরুরি চিকিৎসা, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ কতটা বিমার আওতায় থাকবে, তা যাচাই করা প্রয়োজন। এ ছাড়া নিজের পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতাল বিমার নেটওয়ার্কে রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নিতে হবে। কারণ কম কিস্তির কোনো পরিকল্পনায় চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে বেশি অর্থ দিতে হতে পারে। যারা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় রয়েছেন, তাদেরও নতুন বছরের পরিকল্পনা যাচাই করা উচিত। আগের বিমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হলেও মাসিক কিস্তি, চিকিৎসকের তালিকা কিংবা সুবিধার পরিবর্তন হতে পারে। কোথায় আবেদন করবেন? স্বাস্থ্যবিমার পরিকল্পনা দেখা, সম্ভাব্য খরচ তুলনা করা এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার যোগ্যতা যাচাই করতে ফেডারেল সরকারের ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে। সরকারি ওয়েবসাইট: https://www.healthcare.gov/ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবার, শিক্ষার্থী, স্বনির্ভর কর্মী ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো আবেদন করে নিজের পরিবারের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিমা নির্বাচন করলে নতুন বছরে চিকিৎসার আর্থিক ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শীতের জ্বালানি খরচে নিউইয়র্কের পরিবারগুলো পেতে পারে ১ হাজার ৮৬ ডলার সহায়তা
দিল্লির বস্তি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রথম দক্ষিণ এশীয় মেয়র নিত্যা রমন
মিশিগানের শিশুদের ‘আরবি সংখ্যা’ শেখাবেন আবদুল এল সাঈদ, পোস্ট ভাইরাল
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটে ভয়াবহ দরপতনে একদিনেই প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য কমে গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হলে বড় ধরনের ধস নামে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনটি শেয়ারবাজার সূচকই উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যায়। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচকে গত ১৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের পতন হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন শেয়ারবাজারে যে উত্থান দেখা গিয়েছিল, তার পুরোটাই মুছে যায় এই দরপতনে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ৭ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ কমে ২৪ হাজার ৩১৫ পয়েন্টে নেমে আসে। অন্যদিকে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ১ হাজার ৮৩৩ পয়েন্টের বেশি বা ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৫১ হাজার ৫২৩ দশমিক ০৬ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে। শুধু এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার কমেছে। এর মধ্যে নাসডাক ১০০ সূচকের বড় কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এটি গত বছরের এপ্রিলের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় দরপতনের অন্যতম ঘটনা। এই ধসের সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে চিপ নির্মাতা ও এআই প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার শেয়ারদর ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। এএমডির শেয়ারদর কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। সেমিকন্ডাক্টর খাতের প্রধান সূচক ফিলাডেলফিয়া এসই সেমিকন্ডাক্টর ইনডেক্স ১২ শতাংশের বেশি নেমে যায়। পাশাপাশি মেটা, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন ও গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের শেয়ারেও দরপতন হয়েছে। এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কোরউইভ, আইরেন এবং অ্যাপ্লায়েড ডিজিটালের মতো কোম্পানিগুলোও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রযুক্তি খাতের এই ধাক্কা দ্রুত শেয়ারবাজারের অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দরপতনের পেছনে অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণে নতুন বিধিনিষেধ আসতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানির ব্যবহার ও পরিবেশগত প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বড় ডেটা সেন্টার প্রকল্পের বিরোধিতা বাড়ছে। নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এসব প্রকল্পের অনুমোদন কঠোর করলে এআই অবকাঠামো নির্মাণের গতি কমে যেতে পারে। এতে চিপ নির্মাতা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। এআই অবকাঠামো নির্মাণে অনেক প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছে। উচ্চ সুদের হার এবং সম্ভাব্য নতুন বিধিনিষেধ এসব কোম্পানির জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষকদের হিসাবে, নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের কারণে ২০২৮ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পরিকল্পিত নতুন ডেটা সেন্টার সক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এদিকে নাসডাক সূচক গত ৬ অক্টোবরের রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ১২ শতাংশ নেমে এসেছে। শেয়ারবাজারে সর্বশেষ সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে অন্তত ১০ শতাংশ পতনকে সাধারণত কারেকশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বড় এই দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগও বেড়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের অস্থিরতা পরিমাপের সূচক ভিআইএক্স ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান দেখেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন শেয়ারবাজারে প্রায় ২৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের ২০ দিনের গড় ছিল ১৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন। তবে বাজারমূল্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলার কমার অর্থ এই নয় যে সমপরিমাণ নগদ অর্থ বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মূলত শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত মূল্যায়ন এতটা হ্রাস পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকেরা এখন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয়, এআই খাতে বিনিয়োগের গতি এবং নতুন প্রশাসনিক বিধিনিষেধের সম্ভাবনার দিকে নজর রাখছেন।
প্রেমিকের সঙ্গে ছুটিতে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
প্রেমের স্মৃতিবিজড়িত কিম কার্দাশিয়ানের প্রথম বাড়ি আবারো বিক্রির বাজারে, দাম ৮৫ লাখ ডলার