সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, চিকিৎসা খরচ নিয়ে নতুন চাপে পরিবারগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ৪:১৯
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার বার্ষিক আবেদনপর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার বার্ষিক আবেদনপর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার জন্য আবেদন শুরু হয়েছে। তবে নতুন বছরে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বৃদ্ধি, সরকারি আর্থিক সহায়তার পরিবর্তন এবং কিছু বিমা পরিকল্পনার প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারগুলোর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

 

গত ১ নভেম্বর থেকে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (এসিএ) আওতায় aস্বাস্থ্যবিমার বার্ষিক আবেদনপর্ব শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচি সাধারণভাবে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত। যারা চাকরির মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা পান না, স্বনির্ভরভাবে কাজ করেন, ছোট ব্যবসা পরিচালনা করেন কিংবা নিজেদের পরিবারের জন্য আলাদাভাবে বিমা কিনতে চান, তাদের জন্য এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ।

 

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে মার্কেটপ্লেসের স্বাস্থ্যবিমার দাম গড়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে কেএফএফের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে এই বৃদ্ধি সব অঙ্গরাজ্য, বিমা প্রতিষ্ঠান কিংবা গ্রাহকের ক্ষেত্রে একই রকম হবে না।

 

স্বাস্থ্যবিমার খরচ বাড়ার পেছনে চিকিৎসাসেবার ব্যয় বৃদ্ধি, হাসপাতালের খরচ এবং অন্যান্য বাজার পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা সরকারি ভর্তুকি পান না, তাদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ বেশি পড়তে পারে।

 

এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমার সরকারি আর্থিক সহায়তার নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। মহামারির সময় চালু হওয়া অতিরিক্ত প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিটের মেয়াদ ২০২৫ সালের শেষে শেষ হয়েছে। ফলে আগে যারা তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যবিমা পেয়েছেন, তাদের অনেকের মাসিক কিস্তি বেড়ে যেতে পারে।

 

তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন। প্রচলিত নিয়মে যোগ্য অনেক পরিবার এখনো আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। তাই আবেদন করার সময় নিজের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

 

আবেদনের শেষ সময় কবে?

ফেডারেল মার্কেটপ্লেস ব্যবহারকারী অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার আবেদন চলবে ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।

 

যারা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিমার সুবিধা চালু করতে চান, তাদের সাধারণত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন ও পরিকল্পনা নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

 

আর যারা ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে আবেদন করবেন, তাদের বিমা সাধারণত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে। প্রথম প্রিমিয়াম পরিশোধের শর্তও পূরণ করতে হবে।

 

তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে নিজস্ব স্বাস্থ্যবিমা মার্কেটপ্লেস রয়েছে। সেসব অঙ্গরাজ্যে আবেদনের সময়সীমা ও নিয়ম আলাদা হতে পারে।

 

কারা আবেদন করতে পারবেন?

যারা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা পান না, স্বনির্ভরভাবে কাজ করেন, বেকার রয়েছেন কিংবা নিজেদের পরিবারের জন্য বিমা কিনতে চান, তারা মার্কেটপ্লেসে পরিকল্পনা দেখতে পারেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কিছু আইনগত অভিবাসীও স্বাস্থ্যবিমার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে ২০২৭ সালের নতুন নিয়মে কিছু অভিবাসী শ্রেণির সরকারি ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত হয়েছে। তাই শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করলেই সবাই ভর্তুকি পাবেন—এমন ধারণা ঠিক নয়।

 

বিমা কেনার আগে যে বিষয়গুলো দেখবেন

শুধু মাসিক কিস্তি কম দেখে স্বাস্থ্যবিমা নির্বাচন করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ, হাসপাতালে ভর্তি, জরুরি চিকিৎসা, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ কতটা বিমার আওতায় থাকবে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

 

এ ছাড়া নিজের পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতাল বিমার নেটওয়ার্কে রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নিতে হবে। কারণ কম কিস্তির কোনো পরিকল্পনায় চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে বেশি অর্থ দিতে হতে পারে।

 

যারা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যবিমার আওতায় রয়েছেন, তাদেরও নতুন বছরের পরিকল্পনা যাচাই করা উচিত। আগের বিমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হলেও মাসিক কিস্তি, চিকিৎসকের তালিকা কিংবা সুবিধার পরিবর্তন হতে পারে।

 

কোথায় আবেদন করবেন?

স্বাস্থ্যবিমার পরিকল্পনা দেখা, সম্ভাব্য খরচ তুলনা করা এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার যোগ্যতা যাচাই করতে ফেডারেল সরকারের ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে।

 

সরকারি ওয়েবসাইট: https://www.healthcare.gov/

 

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবার, শিক্ষার্থী, স্বনির্ভর কর্মী ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো আবেদন করে নিজের পরিবারের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিমা নির্বাচন করলে নতুন বছরে চিকিৎসার আর্থিক ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

 

তাই শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে
বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে, ফেসবুকের পোস্ট দেখে ছুটে এলেন দুই কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বন্যার পানিতে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছিলেন এক মা ও তাঁর ১১ বছরের সন্তান। সঙ্গে ছিল পরিবারের তিনটি পোষা কুকুর। চারদিকে পানি বাড়ছিল, ঘরের আসবাবপত্র ভেসে যাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তা চেয়েও তাৎক্ষণিক উদ্ধারকারী দল না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানান ওই মা। তাঁর সেই ভিডিও দেখেই মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল দুই কিশোর।   ঘটনাটি ঘটে ফ্লোরিডার পাম বে এলাকায়। গত ২ নভেম্বর প্রবল বৃষ্টিতে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় উপকূলীয় ফ্লোরিডার কিছু এলাকায় প্রায় ২৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছিল।ওই এলাকার বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী ব্রিটানি গ্রান্ট বুঝতে পারছিলেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রথমে বাড়ির দরজায় বালুর বস্তা দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে   একপর্যায়ে বিছানার ওপর আশ্রয় নেন তিনি, সঙ্গে ছিল তাঁর ১১ বছরের ছেলে নিকোয়া এবং তিনটি পোষা কুকুর। পানি আরও বাড়তে থাকায় মা-ছেলেকে রান্নাঘরের কাউন্টারের ওপর আশ্রয় নিতে হয়।কুকুরগুলোকে ফেলে যাওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারছিলেন না ব্রিটানি। তাঁর পোষা কুকুরগুলোর নাম ডায়মন্ড, ডেলিলাহ ও অ্যাজি। ঘরের মধ্যে পানি বাড়তে থাকায় তিনি ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে সাহায্য চান।   ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা আপাতত ভালো আছেন, কিন্তু এরপর কী হবে তা তিনি জানেন না। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ভিডিওতে জানান, তাঁরা খুব ভয় পাচ্ছেন এবং পানি ক্রমাগত বাড়ছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর একই এলাকার বাসিন্দা স্টেফানি ফাঙ্গুই বিষয়টি দেখতে পান। তিনি বুঝতে পারেন, পাশের এলাকার একটি পরিবার ভয়াবহ বিপদে আটকে আছে।   এরপর তিনি তাঁর দুই ছেলে ১৭ বছর বয়সী লুকাস মার্শাল ও ১৫ বছর বয়সী জোনাহ মার্শালকে সাহায্যের জন্য পাঠান। লুকাস একটি ফোলানো প্যাডেলবোর্ড নিয়ে বের হন। আর জোনাহ প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি কায়াক সংগ্রহ করেন। চারদিকে বন্যার পানি, ডুবে থাকা গাড়ি ও ডাকবাক্সের মধ্য দিয়ে তাঁরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।   প্রথমে লুকাস ওই মায়ের ১১ বছরের ছেলেকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন। এরপর আবার ফিরে গিয়ে দুটি কুকুরকে উদ্ধার করেন। অন্যদিকে জোনাহ কায়াক দিয়ে তৃতীয় কুকুরটিকে নিয়ে যান। পরে তিনি আবার ফিরে এসে ব্রিটানি গ্রান্টকেও উদ্ধার করেন।   প্রায় ১০০ গজ পানিপথ পাড়ি দিয়ে মা, ছেলে ও তিনটি কুকুরকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে এক প্রতিবেশী তাঁদের গাড়িতে করে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে সরিয়ে নেন। উদ্ধারের পরও দায়িত্ব শেষ করেননি লুকাস। তিনি নিজের প্যাডেলবোর্ড নিয়ে আশপাশে আরও কেউ বিপদে আটকে আছেন কি না, তা খুঁজতে থাকেন।   লুকাস জানিয়েছেন, আগামী বছর কলেজে নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারার অনুভূতিকে তিনি বিশেষ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে ব্রিটানি গ্রান্ট জানিয়েছেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের কঠিনতম মুহূর্তগুলোর একটি। বাড়ির অনেক আসবাবপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সন্তান ও পোষা প্রাণীগুলোকে জীবিত ফিরে পাওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি।   তিনি বলেছেন, এই দুই কিশোরের মানবিকতা মানুষের প্রতি তাঁর বিশ্বাস আবার ফিরিয়ে দিয়েছে।বন্যায় একটি পরিবারের ঘরবাড়ি ও স্মৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু দুই কিশোরের সাহস ও প্রতিবেশীর সহযোগিতা তাদের জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে।   কখনো কখনো বড় কোনো পদ বা সম্পদ নয়, বিপদের মুহূর্তে এগিয়ে আসা একজন মানুষই হয়ে ওঠেন অন্যের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। ফ্লোরিডার এই দুই কিশোর সেই কথাই আবার প্রমাণ করল।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৪:৫৮
আগুনের গ্রাসে বাড়ি দুই মেয়েকে বাঁচাতে জানালা দিয়ে ছুড়লেন

আগুনের গ্রাসে বাড়ি, দুই মেয়েকে বাঁচাতে জানালা দিয়ে ছুড়লেন মা, ধরলেন প্রতিবেশীরা

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সম্প্রতি বিক্রি শুরু হয়েছে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের তৈরি থ্রিডি প্রিন্টেড কৃত্রিম মাংস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম মাংস, খেয়ে হতাশ খাদ্যবিশেষজ্ঞ, গন্ধ প্লাস্টিকের মতো!

অভিবাসী পরিবারকে স্বস্তি দিতে নতুন সিদ্ধান্ত হিউস্টনে

পুলিশ দেখলেই আতঙ্ক নয়, অভিবাসী পরিবারকে স্বস্তি দিতে নতুন সিদ্ধান্ত হিউস্টনে

ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় আহত পথচারী
ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় আহত পথচারীকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে সাবেক এফবিআই এজেন্ট গ্রেপ্তার

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে সরকারি গাড়ির ধাক্কায় এক পথচারীকে গুরুতর আহত করার পর চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে চলে যাওয়ার অভিযোগে সাবেক এফবিআই এজেন্ট অ্যান্ড্রু রেয়েসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ৩০ বছর বয়সী রেয়েসকে গ্রেপ্তারের পর ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রকাশ করা হয়। সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ওই ব্যক্তিকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং পরে তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।   বৃহস্পতিবার আদালতে আইনজীবী নোরা হিরোজাওয়ার মাধ্যমে রেয়েস নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মা-বাবার সহস্বাক্ষরে এক লাখ ডলারের বন্ডে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির শর্ত হিসেবে তাঁকে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির মধ্যে চলাচল সীমিত রাখতে হবে। আগামী ২ ডিসেম্বর তাঁর আবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে। ব্রুকলিনের ওশান পার্কওয়ে ও বেভারলি রোডের মোড়ের কাছে এফবিআইয়ের দেওয়া একটি শেভ্রোলেট ইমপালা চালাচ্ছিলেন রেয়েস। গাড়ির জরুরি বাতি জ্বালিয়ে তিনি ওশান পার্কওয়ের দক্ষিণমুখী লেন দিয়ে উত্তর দিকে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, লাল সংকেত অমান্য করে মোড় পার হওয়ার সময় রাস্তা পার হতে থাকা ওই ব্যক্তিকে গাড়িটি ধাক্কা দেয়।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ধাক্কায় পথচারী মাটিতে পড়ে অচেতন হয়ে যান। রেয়েস গাড়ি থামিয়ে তাঁকে রাস্তা থেকে টেনে ফুটপাতের একটি বেঞ্চে রাখেন। পরে ওই ব্যক্তির ব্যাগ এনে তাঁর পাশে রাখেন। চিকিৎসাকর্মীদের খবর দেওয়া বা ঘটনাটি কর্তৃপক্ষকে জানানোর আগেই রেয়েস গাড়িতে উঠে চলে যান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত ব্যক্তি বেঁচে আছেন বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার প্রায় তিন মাস পর, ১ মে, জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের অফিস অব দ্য ইন্সপেক্টর জেনারেলের তদন্তকারীরা রেয়েসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এফবিআইয়ের গাড়ি চালানোর সময় কখনো কাউকে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাটি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে চলে গিয়েছিলেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। রেয়েস এমন ঘটনা ঘটেনি বলে জবাব দেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, তিনি জেনেশুনে এই মিথ্যা জবাব দিয়েছিলেন।   রেয়েস ২০২৩ সালে এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট হন। তাঁর আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে তিনি সংস্থাটিতে নয় বছরের বেশি কাজ করেছেন। এফবিআই জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে জানার পর তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট, ফেডারেল অভিযোগপত্র, সিএনএ

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৪:১৭
ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের কনসার্ট আয়োজন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যুর বাধার মুখে পড়েছেন র‍্যাপার ম্যাকলেমোর। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানোয় যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট করতে বাধার মুখে মার্কিন র‍্যাপার

ভেটেরানস ডেতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল দপ্তরে ছুটি

ভেটেরানস ডেতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল দপ্তরে ছুটি, বন্ধ থাকবে বিভিন্ন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ৮৪তম হাউস ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবা হায়দার। ছবি: সংগৃহীত

ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম নারী সাবা হায়দার

স্টেট ট্রুপারকে আটক করল আইসিই
ওয়ার্ক পারমিট থাকা সত্ত্বেও অ্যাসাইলাম ইন্টারভিউয়ের অপেক্ষায় থাকা স্টেট ট্রুপারকে আটক করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ওঠার আগে ২১ বছর বয়সী স্টেট ট্রুপার ক্যারেল অ্যারন ভ্যান ডার মারওয়েকে আটক করেছে আইসিই। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ম্যাডিসনের ডেন কাউন্টি রিজিওনাল এয়ারপোর্টে তাঁকে আটক করে ডজ কাউন্টির ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। শুক্রবার তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, নজরদারির শর্তে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিই।    আইনজীবী মার্ক ক্রিস্টোফারের ভাষ্য, নিউ মেক্সিকোয় মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন ভ্যান ডার মারওয়ে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার পর সাদাপোশাকে দুই কর্মকর্তা তাঁর কাছে আসেন। তিনি তাঁদের কাছে ওয়ার্ক পারমিট থাকার কথা জানান এবং তাঁর পরিবারের অ্যাসাইলাম আবেদন বিচারাধীন বলে উল্লেখ করেন। এরপর তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস জানিয়েছে, নির্দিষ্ট একটি অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁকে আটক করা হয়। সংস্থার ভাষ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার এই নাগরিক ২০১৯ সালের মার্চে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। সে বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁর থাকার অনুমতি ছিল। অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থেকে গেছেন বলে জানিয়েছে ডিএইচএস।    তাঁর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ভ্যান ডার মারওয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি বাবার বিচারাধীন অ্যাসাইলাম আবেদনে অন্তর্ভুক্ত। পরিবারটি প্রায় সাত বছর ধরে অ্যাসাইলাম ইন্টারভিউয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ফেডারেল ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত।    উইসকনসিনের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন জানিয়েছে, ভ্যান ডার মারওয়ে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই থেকে স্টেট প্যাট্রোলে কর্মরত। তিনি ওনালাস্কায় থাকেন এবং টোমাহ পোস্টে কাজ করেন। স্টেট প্যাট্রোলের নিয়োগবিধি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে কাজের বৈধ অনুমতি থাকলে বিদেশি নাগরিকরাও এই পদে নিয়োগ পেতে পারেন।   নজরদারির শর্তে মুক্তি পেলে তাঁকে নিয়মিত আইসিইর কাছে হাজিরা দিতে হবে। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলবে এবং ইমিগ্রেশন বিচারকের সামনে তিনি নিজের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন। আইনজীবীরা মুক্তির কথা জানালেও তাঁকে ডিটেনশন সেন্টার থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কি না, তা তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   সূত্র: এবিসি১৩, ডব্লিউএমটিভি ও উইসকনসিন ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৩:২৫
টেক্সাসে সীমানা পরিবর্তন করেও প্রত্যাশিত ফল পায়নি রিপাবলিকানরা, উল্টো নিট একটি আসন কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

পাঁচ আসন বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল রিপাবলিকানদের, টেক্সাসে উল্টো হারাল একটি আসন

প্রতিবেশীর আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৪২ বছর বয়সী নারী নিকোল বটিগ্লিয়েরি-ভেগা। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় প্রতিবেশীর বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র বাইরে ফেলার অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

নতুন আইনের জেরে ফ্লোরিডায় কার্যক্রম স্থগিত করেছে সিএআইআর। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম অধিকার সংগঠন সিএআইআরকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা, ফ্লোরিডায় কার্যক্রম স্থগিত

0 Comments