টেক্সাসে হিজাব ও হালাল খাবার নিষিদ্ধের প্রস্তাব, ‘ইসলাম ঠেকাতে’ নতুন নীলনকশা রিপাবলিকানদের
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান দলের একটি অংশের প্রস্তাবিত ইসলামবিরোধী নীতিমালার খসড়া নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় সরকারি স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করা, হালাল খাবার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা এবং স্কুলের পাঠ্যক্রমে ইসলামকে সহিংসতা ও রাজনৈতিক আধিপত্যের সঙ্গে যুক্ত করে পাঠ অন্তর্ভুক্ত করার মতো বিষয় রয়েছে। তবে এসব এখনো কোনো আইন নয়; এগুলো কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও কর্মীর প্রস্তাবিত নীতির খসড়া, যা ভবিষ্যতে আইনসভায় উত্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ডালাস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসের কট্টরপন্থী সংগঠন ট্রু টেক্সাস প্রজেক্টের আয়োজিত এক সম্মেলনে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও কর্মী তথাকথিত “ইসলামিফিকেশন অব টেক্সাস” ঠেকানোর নামে এসব প্রস্তাব সামনে আনেন। তাদের দাবি, টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাব বাড়ছে এবং তা প্রতিরোধে নতুন আইন প্রয়োজন। তবে এই দাবির পক্ষে তারা কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করা, হালাল খাদ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম সম্পর্কে বাধ্যতামূলক সমালোচনামূলক পাঠ চালু করা। এসব পদক্ষেপ কার্যকর হলে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুশীলন গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা।
নাগরিক অধিকার সংগঠন, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং মুসলিম নেতারা এসব প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে এ ধরনের আইন প্রণয়নের চেষ্টা সাংবিধানিক প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে টেক্সাসে ইসলাম ও শরিয়াহ আইন নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য আরও জোরালো হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির বিভিন্ন সভা ও নির্বাচনী প্রচারণায় “শরিয়াহ আইন” এবং “ইসলামিফিকেশন” ইস্যু বারবার সামনে এসেছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আদালত সংবিধান ও অঙ্গরাজ্যের আইনের অধীন পরিচালিত হয়; কোনো ধর্মীয় আইন রাষ্ট্রীয় আইনকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
এ মুহূর্তে আলোচিত নীতিমালাগুলো কেবল প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো আইন হিসেবে কার্যকর করতে হলে টেক্সাস আইনসভায় বিল পাস এবং গভর্নরের অনুমোদনসহ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তাই প্রস্তাবিত বিষয়গুলো এখনো টেক্সাসে কার্যকর আইন নয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া এক গাড়ির চালককে নিজের জীবন বিপন্ন করে উদ্ধার করেছেন তিন সন্তানের এক মা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিলেন, কিন্তু কেউ পানিতে নামছিলেন না। এমন পরিস্থিতিতে এক মুহূর্ত দেরি না করে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন অ্যানমেরি সানচেজ। তাঁর সাহসী উদ্যোগে প্রাণে বেঁচে যান গাড়ির চালক। উদ্ধার হওয়ার কয়েক দিন পর ওই ব্যক্তি নিজেই তাঁর বাড়িতে গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানান। ঘটনাটি ঘটেছে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিবিএফের ৫ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার রাতে ভারী বৃষ্টিতে উইলো পন্ড রোড এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রাস্তা ও পাশের হ্রদের পানি একাকার হয়ে যাওয়ায় কোথায় রাস্তা শেষ হয়েছে আর কোথায় হ্রদ শুরু হয়েছে, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। সানচেজ জানান, তাঁর মেয়ে প্রথম গাড়িটি পানিতে পড়ে থাকতে দেখে তাঁকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, একটি গাড়ি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এবং চালক বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। আশপাশে অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে দৃশ্যটি ধারণ করছিলেন। কিন্তু কেউ তাঁকে উদ্ধারের জন্য পানিতে নামছিলেন না। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে সানচেজ নিজেই পানিতে ঝাঁপ দেন। তিনি বলেন, পানিতে কুমির বা অন্য কোনো বিপজ্জনক প্রাণী আছে কি না, তা তিনি জানতেন না। তবু একজন মানুষকে চোখের সামনে ডুবে যেতে দেখে চুপ করে থাকতে পারেননি। তিনি গাড়ির কাছে পৌঁছানোর সময় সেটি প্রায় পুরোপুরি পানির নিচে চলে গিয়েছিল। চালক তখন পানিতে ভেসে থাকার জন্য লড়াই করছিলেন। সানচেজ তাঁকে ধরে তীরে টেনে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু পানির চাপ ও লোকটির ওজনের কারণে একা তাঁকে টেনে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সানচেজ সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, কেউ যেন তাঁর হাত ধরে সাহায্য করেন। তিনি জানান, তখন পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল যে চালককে ধরে রাখার শক্তিও প্রায় হারিয়ে ফেলছিলেন। ঠিক সেই সময় আরেক নারী পানিতে নেমে তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। দুজনের সম্মিলিত চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত চালককে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। সানচেজ পরে জানান, উদ্ধারকাজের সময় তিনি ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তবু লোকটিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি। তাঁর ভাষায়, একজন অপরিচিত মানুষকে নিজের সামনে ডুবে যেতে দেখে তিনি কিছু না করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতেন না। ঘটনার সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে বৃহস্পতিবার বিকেলে। সানচেজের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়েন সেই উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তি। তিনি নিজের পরিচয় দেন বিল নামে। তাঁকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় সামনে দেখে সানচেজ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দুজনের মধ্যে আলিঙ্গন হয়। সানচেজ জানান, বিলের মুখে প্রথমেই তিনি কৃতজ্ঞতার কথা শুনেছেন। বিল তাঁকে বলেন, অন্যরা যখন দাঁড়িয়ে দেখছিল, তখন সাহস করে পানিতে নেমে তাঁর জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। সানচেজও তাঁকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসতে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন। সানচেজ জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে তাঁকে সহায়তা করা দ্বিতীয় নারীকে খুঁজে বের করে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে চান তিনি। কারণ ওই নারী এগিয়ে না এলে একা তাঁর পক্ষে চালককে নিরাপদে তীরে আনা সম্ভব হতো না। ফ্লোরিডায় সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ওয়েস্ট পাম বিচ শহরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২ নভেম্বর সেখানে ৭ দশমিক ৩৯ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা ১৯২৫ সালের দৈনিক রেকর্ড ভেঙেছে। দুই দিনে মোট বৃষ্টিপাত ছিল ১১ দশমিক ৬৭ ইঞ্চি। একটি বিপজ্জনক মুহূর্তে একজন মায়ের সাহস, আরেক নারীর সহযোগিতা এবং পরে উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তির কৃতজ্ঞতা—ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
স্নাতকোত্তরে ঋণ কমায় উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে বেসরকারি ঋণের পথে লাখো শিক্ষার্থী
সরকারি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমা ও দাঁতের চিকিৎসার সুবিধা বদলের সুযোগ ৯ নভেম্বর থেকে
গভীর রাতে বাড়ির দরজায় লাথি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চ্যালেঞ্জে আতঙ্কিত পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণের নিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা ব্যবহারের বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সে বিষয়ে নতুন নির্দেশনা প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে পাবলিক চার্জসংক্রান্ত নতুন চূড়ান্ত বিধি প্রকাশ করে। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিধিটি কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীর সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি মূল্যায়নে অভিবাসন কর্মকর্তাদের আগের তুলনায় বিস্তৃত বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ৫ নভেম্বর প্রকাশিত স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেএফএফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনায় কোন কোন সরকারি সুবিধা পাবলিক চার্জ মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হয়নি। ফলে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় মেডিকেইড, শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি, নারী ও শিশুদের পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি এবং সরকারি আবাসন সহায়তার মতো সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সুবিধা আয় বা সম্পদের ভিত্তিতে দেওয়া হলে গ্রিন কার্ড আবেদনের মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে। তবে সরকারি কোনো সুবিধা গ্রহণ করলেই আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড বাতিল বা আবেদন প্রত্যাখ্যান হবে, এমন নয়। কর্মকর্তাদের আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সামর্থ্য, সম্পদ, শিক্ষা ও দক্ষতাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা, মেডিকেয়ার এবং বেকারত্ব ভাতা—যেসব সুবিধা আগে থেকে নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় অর্থ জমা বা অবদানের ভিত্তিতে পাওয়া যায়, সেগুলো নতুন নির্দেশনায় আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত নয়। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, বিশেষ অভিবাসী শিশু এবং নির্দিষ্ট কিছু ভিসাধারীসহ কয়েকটি শ্রেণি পাবলিক চার্জ মূল্যায়ন থেকে অব্যাহতি পাবে। নতুন নিয়মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আগে পাওয়া সুবিধা এবং এরপর পাওয়া সুবিধার মূল্যায়নে পার্থক্য রয়েছে। নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার আগের সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর পাওয়া নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সুবিধা বিবেচনায় আসতে পারে। কেএফএফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন নিয়মের অস্পষ্টতার কারণে অনেক যোগ্য পরিবার স্বাস্থ্য ও খাদ্য সহায়তা গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ববর্তী হিসাব অনুযায়ী, পরিস্থিতির কারণে ১৪ লাখ থেকে ৪১ লাখ মানুষ মেডিকেইড বা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারেন। এটি গবেষণাভিত্তিক সম্ভাব্য হিসাব, বাস্তবে কতজন সুবিধা ছাড়বেন তার চূড়ান্ত সংখ্যা নয়। অভিবাসন আইনজীবীরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত অভিবাসন অবস্থা ও সরকারি সুবিধার ধরন অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাদের পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের কোনো সরকারি সুবিধা নেওয়া বা বন্ধ করার আগে অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কারণ নিয়মটি সবার ক্ষেত্রে একভাবে প্রযোজ্য নয়। নাগরিক সন্তানদের সুবিধা গ্রহণ, আবেদনকারীর নিজের সুবিধা গ্রহণ এবং বিভিন্ন অভিবাসন শ্রেণির ক্ষেত্রে আলাদা বিবেচনা থাকতে পারে। সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা জানতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।
২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, চিকিৎসা খরচ নিয়ে নতুন চাপে পরিবারগুলো
২০২৭ সালের স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, চিকিৎসা খরচ নিয়ে নতুন চাপে পরিবারগুলো
শীতের জ্বালানি খরচে নিউইয়র্কের পরিবারগুলো পেতে পারে ১ হাজার ৮৬ ডলার সহায়তা
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ইতিহাসে প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন। ক্যালিফোর্নিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ শহরের মেয়র নির্বাচনে বর্তমান মেয়র কারেন ব্যাসকে পরাজিত করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পরাজয় স্বীকার করেন ব্যাস। ভারতের কেরালায় জন্ম নেওয়া ৪৫ বছর বয়সী নিত্যা রমন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটির ৪৪তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তাদের বৃহস্পতিবার বিকেলের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, নিত্যা রমন পেয়েছেন ৪ লাখ ৬০ হাজার ৭৭২ ভোট, যা মোট ভোটের ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে কারেন ব্যাস পেয়েছেন ৪ লাখ ১৩ হাজার ৫১৯ ভোট বা ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ। নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে ব্যাস রমনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম লস অ্যাঞ্জেলেসের কোনো ক্ষমতাসীন মেয়র পুনর্নির্বাচনে পরাজিত হলেন। নিত্যা রমনের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সামাজিক আন্দোলন ও নগর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা। ভারতের কেরালা রাজ্যে জন্ম নেওয়া রমনের শৈশবের একটি অংশ কেটেছে তিরুবনন্তপুরম ও ত্রিশূরে। মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। প্রথমে লুইজিয়ানায় এবং পরে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে বেড়ে ওঠেন। ২০০৩ সালে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক এবং ২০০৮ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি থেকে আরবান প্ল্যানিংয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভারতের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছেন রমন। দিল্লিতে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বস্তিবাসীদের আবাসন অধিকার নিয়ে আন্দোলন করেন তিনি। বিশেষ করে ২০১০ সালের কমনওয়েলথ গেমসকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে উচ্ছেদের মুখে পড়া দরিদ্র মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে চেন্নাইয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ট্রান্সপারেন্ট চেন্নাই নামের একটি গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দরিদ্র এলাকার পাবলিক টয়লেট, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সেবার ঘাটতি চিহ্নিত করতে তথ্য সংগ্রহ ও ম্যাপিংয়ের কাজ করা হয়। ২০১৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস শুরু করেন নিত্যা রমন। সেখানে শহর প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি আবাসন সংকট ও গৃহহীন মানুষের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় হন। ২০১৭ সালে তিনি সেলাহ নেইবারহুড হোমলেস কোয়ালিশন নামের একটি সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হন। দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২০ সালে প্রথমবার লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নেন। সেই নির্বাচনে তৎকালীন কাউন্সিল সদস্য ডেভিড রিউকে হারিয়ে প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং প্রথম এশীয় আমেরিকান নারী হিসেবে সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালেও তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। এবারের মেয়র নির্বাচনে নিত্যা রমনের ক্যাম্পেইনের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল বাড়িভাড়া ও আবাসনের উচ্চ ব্যয়, গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসন, জননিরাপত্তা এবং নগর সেবার মানোন্নয়ন। তিনি সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ বৃদ্ধি, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য শহরকে আরও বাসযোগ্য করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে গৃহহীনতা মোকাবিলায় অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ এবং ২০২৫ সালের ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন কারেন ব্যাস। নির্বাচনে বিজয়ের পর সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নিত্যা রমন। একই সঙ্গে বিদায়ী মেয়র কারেন ব্যাসের দীর্ঘ জনসেবামূলক অবদানেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। আগামী ডিসেম্বরে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে তাঁর। ভারতের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহরের নেতৃত্বে উঠে আসার এই যাত্রা দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে থাকল
মিশিগানের শিশুদের ‘আরবি সংখ্যা’ শেখাবেন আবদুল এল সাঈদ, পোস্ট ভাইরাল
ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধস! একদিনেই উধাও ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য