হ্যাকারদের অভিনব ফাঁদ, ক্যালিফোর্নিয়ার শহর কর্তৃপক্ষের ৯ লাখ ডলার গায়েব
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের পিটসবার্গ শহরে এক অভিনব সাইবার জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ভুয়া পরিচয়ে এবং এক সরকারি কর্মকর্তার ইমেইল হ্যাক করে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রায় এক মিলিয়ন (১০ লাখ) মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে একদল প্রতারক।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি পিটসবার্গ শহর কর্তৃপক্ষ ৯ লাখ ১৩ হাজার ডলারের একটি ফান্ড ট্রান্সফার করে। শহর কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল, এই অর্থ ‘ডিসকভারি বিল্ডার্স ইনকর্পোরেটেড’ নামের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানটি শহরে ‘ড্রিম কোর্টস’ নামের একটি স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন কমপ্লেক্স নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু ঘটনার পাঁচ দিন পর আসল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান যখন তাদের পাওনা টাকার খোঁজ নিতে আসে, তখনই শহর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তারা বুঝতে পারে, পুরো টাকাটাই আসলে প্রতারকদের পকেটে চলে গেছে।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, এই বিশাল জালিয়াতির পেছনে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতারকরা আসল ডিসকভারি বিল্ডার্সের ইমেইল ঠিকানার সঙ্গে একটি অতিরিক্ত ছোট হাতের ‘l’ (এল) যুক্ত করে একটি ভুয়া ইমেইল তৈরি করে। এরপর তারা পিটসবার্গের সিটি ম্যানেজারের সহকারী সারা বেল্লাফ্রন্টের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে। হ্যাক করা সেই অ্যাকাউন্ট থেকে শহর কর্তৃপক্ষের অর্থ বিভাগের এক কর্মীর কাছে মেসেজ পাঠিয়ে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভুয়া সারা বেল্লাফ্রন্টে মেসেজে জানান, তিনি মৌখিকভাবে নতুন ব্যাংকের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং অর্থ বিভাগ যেন দ্রুত পেমেন্টের ব্যবস্থা করে।
এই নির্দেশের পর দ্রুত অর্থ স্থানান্তর করা হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উধাও হয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্তে নামে। তদন্তের অংশহিসেবে ১১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর ১৮টি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা দুজন এবং নাইজেরিয়ায় অবস্থানরত এক সন্দেহভাজনের খোঁজ পায় পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা বা প্রকাশ্যে তাদের নাম জানানো হয়নি।
তদন্তকারীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রতারকদের একটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে সক্ষম হন, যেখান থেকে পিটসবার্গ কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ডলার পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। তবে এখনও প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ডলার নিখোঁজ রয়েছে, যা উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষ বীমা কোম্পানির দ্বারস্থ হয়েছে।
আদালতের তথ্যমতে, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি এই জালিয়াতিতে অজান্তেই জড়িয়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে তিনি ‘টাইকো অ্যালয় ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি বৈধ কোম্পানিতে কাজ করছেন। এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে তিনি প্রতারকদের পাঠানো অর্থ দিয়ে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার ডলারের বিটকয়েন কিনে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে পাঠিয়ে দেন।
এদিকে ডিসকভারি বিল্ডার্সের প্রেসিডেন্ট লুই পার্সনস জানান, তারা এই ঘটনার জন্য শহর কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন না। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই জালিয়াতিটি অত্যন্ত নিপুণভাবে করা হয়েছে। পিটসবার্গ শহরকে এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে দেখে তিনি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
পরবর্তীকালে জালিয়াতির বিষয়টি জানার ৬০ দিনের মধ্যেই ডিসকভারি বিল্ডার্স তাদের পাওনা ৯ লাখ ১৩ হাজার ডলার বুঝে পায়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোম্পানিটি এখন আর অনলাইনে লেনদেন না করে সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়ে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চেক সংগ্রহ করছে।
পিটসবার্গ শহরের মেয়র ডিওন অ্যাডামস এই ঘটনাটিকে একটি বড় শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অপরাধীরা আমাদের সিস্টেমে প্রবেশ করতে পেরেছে, যা খুবই হতাশাজনক। এই ঘটনার পর শহর কর্তৃপক্ষ তাদের পেমেন্ট ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে এবং আইটি বিভাগে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কারি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই সাইবার প্রতারণার কারণে শহরটির শেষ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ডলারের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হলেও গত বুধবার পিটসবার্গ শহর কর্তৃপক্ষ এই জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, তুলনামূলক বেশি রাজ্য আয়কর এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পরিবার ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অ্যারিজোনায় বসতি গড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের তথ্যেও দুই রাজ্যের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে ক্যালিফোর্নিয়া জনসংখ্যা হারাচ্ছে, অন্যদিকে অ্যারিজোনা দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ানো রাজ্যগুলোর একটি হয়ে উঠছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এগুলো হলো রাজ্য আয়কর, বাড়ির দাম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ। প্রথম কারণ, আয়করের বড় পার্থক্য ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যক্তিগত আয়কর আয়ের স্তর অনুযায়ী ১ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত। এর পাশাপাশি ১০ লাখ ডলারের বেশি করযোগ্য আয়ের ওপর অতিরিক্ত ১ শতাংশ কর রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রাজ্য আয়করের হার দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অ্যারিজোনায় ২০২৩ সাল থেকে ব্যক্তিগত আয়করের সমতল হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য দুই রাজ্যের আয়করের ব্যবধান বেশ বড়। তবে শুধু আয়কর দিয়েই একজন মানুষের মোট করের বোঝা নির্ধারিত হয় না। বাড়ির দাম, সম্পত্তি কর, বিক্রয় কর, বাড়ির বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ও হিসাব করতে হয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় কম রাজ্য আয়কর অ্যারিজোনাকে অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দ্বিতীয় কারণ, তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আবাসন ব্যয়। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ডিয়েগো, অরেঞ্জ কাউন্টি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার মতো ব্যয়বহুল অঞ্চলের তুলনায় অ্যারিজোনার অনেক এলাকায় একই বাজেটে বড় বাড়ি কেনা সম্ভব। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহর ও মহানগর এলাকাগুলোতে বাড়ির দাম দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিপরীতে ফিনিক্স ও টুসনের মতো অ্যারিজোনার বড় শহরগুলোতে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে দুই রাজ্যের বাড়ির দাম সরাসরি তুলনা করার সময় শহর ও এলাকার পার্থক্য বিবেচনায় নিতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সব এলাকার বাড়ির দাম যেমন সমান নয়, তেমনি অ্যারিজোনার সব এলাকাও সস্তা নয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় বহু পরিবারকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য করছে। অ্যারিজোনায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার পাশাপাশি অনেক পরিবার কম মাসিক ঋণের কিস্তির সুবিধাও পাচ্ছে। তৃতীয় কারণ, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান অ্যারিজোনার আকর্ষণ শুধু কম আবাসন ব্যয় বা কম করের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যটি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অর্ধপরিবাহী শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। তাইওয়ানের অর্ধপরিবাহী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি অ্যারিজোনার ফিনিক্স এলাকায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি সেখানে তিনটি কারখানা নির্মাণের জন্য ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে প্রথম কারখানায় ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পরবর্তী কারখানাগুলো চালু হলে অ্যারিজোনায় উন্নত প্রযুক্তির অর্ধপরিবাহী উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেলও অ্যারিজোনার চ্যান্ডলারে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দুটি নতুন অর্ধপরিবাহী কারখানা নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে। এসব বিনিয়োগের ফলে শুধু কারখানায় সরাসরি চাকরি নয়, প্রকৌশল, নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার প্রবণতা অবশ্য নতুন নয় ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে মানুষের চলে যাওয়ার প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ, কর এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের অবস্থান পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অ্যারিজোনা, টেক্সাস, নেভাদা ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে নতুন বাসিন্দাদের আকর্ষণ করছে। তবে অ্যারিজোনায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও আবাসনের চাহিদা ও দাম বাড়ছে। পানি, পরিবহন, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু কম কর বা কম বাড়ির দামের হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। পরিবারের আয়, চাকরির ধরন, দূর থেকে কাজের সুযোগ, সন্তানদের শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা স্থানান্তরের চিত্রে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনার দিকে মানুষের আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় ও করের চাপের বিপরীতে অ্যারিজোনার তুলনামূলক কম রাজ্য আয়কর, আবাসনের সুযোগ এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ অনেক পরিবারের কাছে নতুন করে বসতি গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৯০৫ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল জ্যাকপট, ভাগ্য বদলের স্বপ্নে কোটি মানুষের নজর
স্ত্রী মেলানিয়ার অনুপস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে পুরো ছুটি কাটালেন তাঁর 'সবচেয়ে সুন্দরী' সহকারী
বসতবাড়িকে বানিয়েছিলেন গাঁজার চাষকেন্দ্র, ২৪৬টি গাছসহ গ্রেপ্তার টেনেসির বাসিন্দা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের পিটসবার্গ শহরে এক অভিনব সাইবার জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ভুয়া পরিচয়ে এবং এক সরকারি কর্মকর্তার ইমেইল হ্যাক করে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রায় এক মিলিয়ন (১০ লাখ) মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে একদল প্রতারক। গত ১২ ফেব্রুয়ারি পিটসবার্গ শহর কর্তৃপক্ষ ৯ লাখ ১৩ হাজার ডলারের একটি ফান্ড ট্রান্সফার করে। শহর কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল, এই অর্থ ‘ডিসকভারি বিল্ডার্স ইনকর্পোরেটেড’ নামের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানটি শহরে ‘ড্রিম কোর্টস’ নামের একটি স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন কমপ্লেক্স নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু ঘটনার পাঁচ দিন পর আসল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান যখন তাদের পাওনা টাকার খোঁজ নিতে আসে, তখনই শহর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তারা বুঝতে পারে, পুরো টাকাটাই আসলে প্রতারকদের পকেটে চলে গেছে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, এই বিশাল জালিয়াতির পেছনে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতারকরা আসল ডিসকভারি বিল্ডার্সের ইমেইল ঠিকানার সঙ্গে একটি অতিরিক্ত ছোট হাতের ‘l’ (এল) যুক্ত করে একটি ভুয়া ইমেইল তৈরি করে। এরপর তারা পিটসবার্গের সিটি ম্যানেজারের সহকারী সারা বেল্লাফ্রন্টের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে। হ্যাক করা সেই অ্যাকাউন্ট থেকে শহর কর্তৃপক্ষের অর্থ বিভাগের এক কর্মীর কাছে মেসেজ পাঠিয়ে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভুয়া সারা বেল্লাফ্রন্টে মেসেজে জানান, তিনি মৌখিকভাবে নতুন ব্যাংকের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং অর্থ বিভাগ যেন দ্রুত পেমেন্টের ব্যবস্থা করে। এই নির্দেশের পর দ্রুত অর্থ স্থানান্তর করা হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উধাও হয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্তে নামে। তদন্তের অংশহিসেবে ১১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর ১৮টি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা দুজন এবং নাইজেরিয়ায় অবস্থানরত এক সন্দেহভাজনের খোঁজ পায় পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা বা প্রকাশ্যে তাদের নাম জানানো হয়নি। তদন্তকারীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রতারকদের একটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে সক্ষম হন, যেখান থেকে পিটসবার্গ কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ডলার পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। তবে এখনও প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ডলার নিখোঁজ রয়েছে, যা উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষ বীমা কোম্পানির দ্বারস্থ হয়েছে। আদালতের তথ্যমতে, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি এই জালিয়াতিতে অজান্তেই জড়িয়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে তিনি ‘টাইকো অ্যালয় ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি বৈধ কোম্পানিতে কাজ করছেন। এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে তিনি প্রতারকদের পাঠানো অর্থ দিয়ে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার ডলারের বিটকয়েন কিনে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে পাঠিয়ে দেন। এদিকে ডিসকভারি বিল্ডার্সের প্রেসিডেন্ট লুই পার্সনস জানান, তারা এই ঘটনার জন্য শহর কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন না। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই জালিয়াতিটি অত্যন্ত নিপুণভাবে করা হয়েছে। পিটসবার্গ শহরকে এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে দেখে তিনি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে জালিয়াতির বিষয়টি জানার ৬০ দিনের মধ্যেই ডিসকভারি বিল্ডার্স তাদের পাওনা ৯ লাখ ১৩ হাজার ডলার বুঝে পায়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোম্পানিটি এখন আর অনলাইনে লেনদেন না করে সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়ে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চেক সংগ্রহ করছে। পিটসবার্গ শহরের মেয়র ডিওন অ্যাডামস এই ঘটনাটিকে একটি বড় শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অপরাধীরা আমাদের সিস্টেমে প্রবেশ করতে পেরেছে, যা খুবই হতাশাজনক। এই ঘটনার পর শহর কর্তৃপক্ষ তাদের পেমেন্ট ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে এবং আইটি বিভাগে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কারি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই সাইবার প্রতারণার কারণে শহরটির শেষ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ডলারের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হলেও গত বুধবার পিটসবার্গ শহর কর্তৃপক্ষ এই জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে।
অনুমতি ছাড়াই গুদামে রাখা হয়েছিল ৪৬টি বিষধর সাপ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ২
নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিভাবকদের বাড়তি চাপ, স্কুলসামগ্রীর দাম বেড়েছে ৭.৭ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে শতবর্ষী ঐতিহাসিক বাড়ি, তবে রয়েছে একটি শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার রিয়েল এস্টেট বাজারে সম্প্রতি একটি নজরকাড়া বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। সাগরের তীরে অবস্থিত ফরাসি স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি এই প্রাসাদের দাম হাঁকা হয়েছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর কাছে লা জোলা উপকূলে অবস্থিত এই বাড়ির নাম দেওয়া হয়েছে 'দ্য স্যান্ড ক্যাসল'। ইউরোপীয় আভিজাত্য এবং সাগরের তীরের প্রশান্তির এক অনন্য মিশ্রণ ঘটিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে এটি অন্যতম একটি উচ্চাভিলাষী আবাসিক সম্পত্তি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। গত ২০২৪ সালে বাড়িটির দাম ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তবে ২০২৬ সালে এসে এর দাম কিছুটা কমিয়ে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এখনও সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের দেওয়া তথ্যমতে, দ্য স্যান্ড ক্যাসল তার আকার এবং সুযোগ সুবিধার দিক থেকে সত্যিই অসাধারণ। ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে উপকূলীয় উন্নয়নের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকায়, সমুদ্রের তীরে এত বড় পরিসরের কোনো আবাসিক সম্পত্তি নতুন করে নির্মাণ করা এখন প্রায় অসম্ভব। বিশাল এই সম্পত্তিতে মূল ভবনের পাশাপাশি অতিথিদের থাকার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বাড়ি রয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বিশাল প্রাসাদে রয়েছে ১০টি এনস্যুট বেডরুম এবং ১৪টি আধুনিক বাথরুম। প্রতিটি ঘর এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে খরচের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। উনিশ শতকের প্রাচীন আসবাবপত্র, চমৎকার সোনালি রঙের কারুকাজ এবং দৃষ্টিনন্দন মোজাইকের সঙ্গে আধুনিক স্মার্ট হোম প্রযুক্তির এক দারুণ সমন্বয় ঘটানো হয়েছে পুরো বাড়িটিতে। বাড়িটির বর্তমান মালিক ডারউইন ডেসন। তিনি অ্যাফিলিয়েটেড কম্পিউটার সার্ভিসেসের প্রতিষ্ঠাতা, যা তিনি ২০০৯ সালে জেরক্সের কাছে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি দামে বিক্রি করেছিলেন। প্রায় ১৫ বছর আগে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার খরচ করে তিনি দ্য স্যান্ড ক্যাসল এবং এর পাশের একটি জায়গা কিনেছিলেন। মূলত ২০০৫ সালে সান দিয়েগোর ডেভেলপার ডাগ ম্যানচেস্টার এটি নির্মাণ করলেও ডারউইন ডেসন তার স্বপ্নের রূপ দিতে সেরা পেশাদারদের একত্রিত করেন। আইল্যান্ড আর্কিটেক্টসের স্থপতি ড্রেক্স প্যাটারসন এবং বিশ্বখ্যাত ইন্টেরিয়র ডিজাইনার টিমোথি কোরিগান এই প্রাসাদের নকশা ও অন্দরমহল সাজানোর দায়িত্ব পালন করেন। ফরাসি রাজপ্রাসাদ, বিশেষ করে ভার্সাই এবং এর বিখ্যাত পেটিট ট্রায়ানন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এর সাথে ক্যালিফোর্নিয়ার বিচ হাউসের আরামদায়ক পরিবেশও বজায় রাখা হয়েছে। বাড়িটিতে রয়েছে একটি সুইমিংপুল, ফিটনেস সেন্টার, দুটি ক্যাবানা এবং একটি ব্যক্তিগত সমুদ্রসৈকত। প্রশান্ত মহাসাগর এবং চারপাশের উপকূলের বাধাহীন মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। সমুদ্রের ১৬৩ ফুট অংশ জুড়ে থাকা এই সম্পত্তির সুরক্ষায় ১৯৫০-এর দশকে তৈরি একটি ঐতিহাসিক সীওয়াল বা সমুদ্র প্রাচীর রয়েছে। এছাড়া বাইরের অংশে রয়েছে সমুদ্রমুখী বারান্দা, একটি বোটহাউস এবং প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া সামুদ্রিক গুহা। বাড়িটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর ব্যক্তিগত উঁচু একটি ছাদ বা টেরেস। সেখানে ব্যবহৃত সাদা বালি আনা হয়েছে বিখ্যাত অগাস্টা ন্যাশনাল গলফ কোর্সের বালুর টেক্সচার ও গুণগত মানের সঙ্গে মিল রেখে। এছাড়া বড় কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রয়েছে একটি বিশাল ও বিলাসবহুল শোরুম। বর্তমানে এই সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন কম্পাস এজেন্সির প্রতিনিধি ব্রেট ডিকিনসন এবং রস ক্লার্ক। তাদের মতে এটি সান দিয়েগো কাউন্টির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দামি আবাসিক সম্পত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম।
নিউইয়র্ক হারবারে স্পিডবোট উল্টে মা ও পাঁচ মাসের শিশুর মৃত্যু, ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার
হাঁটতে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে উধাও বাবা ও শিশুপুত্র, হন্যে হয়ে খুঁজছে দুই অঙ্গরাজ্যের পুলিশ