আমেরিকা

চার বছর ধরে নিখোঁজ আফগান-আমেরিকান শাহ হাবিবি, সন্ধান দিলে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১২:৭
কাবুলে নিখোঁজ হওয়ার চার বছর পর সন্ধান দিলে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণার আলোচনায় আফগান-আমেরিকান ব্যবসায়ী মাহমুদ শাহ হাবিবি। ছবি: সংগৃহীত
কাবুলে নিখোঁজ হওয়ার চার বছর পর সন্ধান দিলে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণার আলোচনায় আফগান-আমেরিকান ব্যবসায়ী মাহমুদ শাহ হাবিবি। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের কাবুলে নিখোঁজ হওয়ার চার বছর পরও কোনো সন্ধান মেলেনি আফগান-আমেরিকান ব্যবসায়ী মাহমুদ শাহ হাবিবির। ২০২২ সালের ১০ আগস্ট নিজ বাড়ির কাছে গাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই। তাঁকে খুঁজে বের করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার মতো তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি। এফবিআইও জনসাধারণের কাছে তথ্য চেয়েছে।

 

এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাবিবি আফগানিস্তানের সাবেক সিভিল এভিয়েশন পরিচালক ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি কাবুলভিত্তিক টেলিকম কোম্পানি এশিয়া কনসালট্যান্সি গ্রুপের কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন।

 

২০২২ সালের ১০ আগস্ট কাবুলে নিজের বাড়ির কাছে গাড়িতে থাকা অবস্থায় হাবিবিকে তাঁর ড্রাইভারসহ তুলে নেওয়া হয়। এফবিআইয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের আরও ২৯ কর্মীকেও তালেবানের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স আটক করেছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে হাবিবি ছাড়া ওই আটক ব্যক্তিদের প্রায় সবাই মুক্তি পান। আরেকজনও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

 

হাবিবির নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর অবস্থান বা শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এফবিআই জানিয়েছে, তালেবান কর্তৃপক্ষও তাঁর অবস্থান বা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি।

 

এফবিআইয়ের রেকর্ডে হাবিবির জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ১৯৮৮ উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, ওজন প্রায় ১৯০ পাউন্ড। তাঁর চুল কালো এবং চোখ বাদামি। তিনি ইংরেজি, পশতু ও দারি ভাষায় কথা বলতে পারেন।

 

হাবিবিকে খুঁজে পেতে এফবিআইয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিও কাজ করছে। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা, উদ্ধার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।

 

এফবিআই জানিয়েছে, হাবিবির নিখোঁজ হওয়া বা তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে স্থানীয় এফবিআই অফিস, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তথ্য গোপন রাখা হবে।

 

২০২৫ সালের ১০ আগস্ট, নিখোঁজ হওয়ার তিন বছর পূর্তিতে এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস হাবিবিকে নিয়ে একটি নিখোঁজ ব্যক্তির পোস্টার প্রকাশ করে। তখনও সংস্থাটি জানিয়েছিল, তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

 

চার বছর পরও হাবিবির কোনো সন্ধান না মেলায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা এবং তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই এখনো মার্কিন কর্তৃপক্ষের অন্যতম লক্ষ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ছয়টি আইনি সংগঠনকে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি সরকারি অনুদান দেওয়া নিয়ে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান প্রার্থী সারিথা কোমাতিরেড্ডির (ইনসেটে) অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার অনুদান নিয়ে প্রশ্নের মুখে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তর থেকে ছয়টি আইনি সংগঠনকে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি সরকারি অনুদান দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রিপাবলিকান প্রার্থী সারিথা কোমাতিরেড্ডির এক বিশ্লেষণে অভিযোগ করা হয়েছে, এসব সংগঠনের কয়েকটি পুলিশের ভূমিকা কমানো এবং অপরাধীদের প্রতি তুলনামূলকভাবে নমনীয় নীতির পক্ষে কাজ করে। তবে জেমসের প্রচারশিবির এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।   কোমাতিরেড্ডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমস ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর দপ্তর থেকে মোট ২২ কোটি ৬০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ এমন সংগঠনের কাছে গেছে, যেগুলোকে প্রতিবেদনে পুলিশবিরোধী বা অপরাধীদের প্রতি নমনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশ এসেছে বাড়ির মালিকদের সুরক্ষায় পরিচালিত একটি কর্মসূচির মাধ্যমে।   বিতর্কিত অনুদানের মধ্যে ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ১১৬ ডলার পেয়েছে মোবিলাইজেশন ফর জাস্টিস। সংগঠনটি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আইনি সেবা দেয় এবং ২০২০ সালে পুলিশ বিভাগের অর্থায়ন কমানোর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমসের দপ্তর থেকে সংগঠনটির অনুদান তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে।   লিগ্যাল এইড সোসাইটি পেয়েছে ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৬ ডলার। প্রতিবেদনে সংগঠনটির জামিন, কারাগার ও বিচার-পূর্ব আটকসংক্রান্ত অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ পেয়েছে ৬৯ লাখ ৭১ হাজার ৩৮৭ ডলার। সংগঠনটি গৃহহীন মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ সীমিত করার পক্ষে কাজ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ছাড়া এম্পায়ার জাস্টিস সেন্টারকে দেওয়া হয়েছে ৮১ লাখ ৯২ হাজার ৬১৩ ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পুলিশের গাড়ি থামানোর ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি ও এর বিভিন্ন শাখা পেয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৫ হাজার ৬১৯ ডলার। এসব সংগঠন নিউইয়র্ক শহরের সরকারি স্কুলগুলো থেকে পুলিশ সরানোর পক্ষে কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক ল সেন্টার পেয়েছে ৮২ লাখ ৩৮ হাজার ২১৩ ডলার। সংগঠনটি বাফেলো পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর অনুরোধ করার পর ওই উপস্থিতি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সংগঠনটি আইনি পদক্ষেপ নেয়।   কোমাতিরেড্ডি আরও অভিযোগ করেছেন, বাড়ির মালিকদের জন্য নির্ধারিত অর্থের একটি অংশ পুলিশবিরোধী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে চলে গেছে। তাঁর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কর্মসূচির আওতায় অর্থ পাওয়া প্রায় সব ‘অপরাধের বিষয়ে নমনীয়’ সংগঠন বাড়ির সুরক্ষা বা ভাড়াটিয়াদের সহায়তার তুলনায় অপরাধসংক্রান্ত আইনি সহায়তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রমে বেশি অর্থ ব্যয় করে।   তবে জেমসের প্রচারশিবির এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, বাড়ির মালিকদের সুরক্ষা কর্মসূচি নিউইয়র্কের হাজারো বাসিন্দাকে বাড়ি হারানো থেকে রক্ষা করতে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা ও আবাসনসংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে আসছে। দলটির দাবি, কোমাতিরেড্ডি বাছাই করা তথ্য ব্যবহার করে কর্মসূচিটিকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করছেন।   জেমসের প্রচারশিবির আরও বলেছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলিল জালিয়াতি, বাড়ি দখলের প্রতারণা এবং শোষণমূলক ঋণদাতাদের হাত থেকে পরিবারগুলোর বাড়ি রক্ষায় সহায়তা করা হয়। তাদের মতে, অনুদান পাওয়া সংগঠনগুলো আবাসনসংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়ার কাজেই যুক্ত রয়েছে।   কোমাতিরেড্ডি বর্তমানে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে জেমসকে চ্যালেঞ্জ করছেন। জেমস তৃতীয় মেয়াদে অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ তাঁর নির্বাচনী লড়াইয়েও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৩:১৭
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিলের কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, বাতিল ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রেকর্ড ২০৪ কোটি ডলারের পাওয়ারবল লটারি জ্যাকপট জেতা একমাত্র বিজয়ী এডউইন কাস্ত্রো (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত

২০৪ কোটি ডলারের লটারি জিতে ট্যাক্সের পর হাতে ৬২ কোটি ৮০ লাখ

স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করায় খননযন্ত্র দিয়ে নিজের বাড়ি ভাঙার অভিযোগে অভিযুক্ত পেনসিলভানিয়ার ইরিক পিয়েভশচা (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করতেই খননযন্ত্র দিয়ে নিজের বাড়ি ভাঙলেন স্বামী

কাবুলে নিখোঁজ হওয়ার চার বছর পর সন্ধান দিলে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণার আলোচনায় আফগান-আমেরিকান ব্যবসায়ী মাহমুদ শাহ হাবিবি। ছবি: সংগৃহীত
চার বছর ধরে নিখোঁজ আফগান-আমেরিকান শাহ হাবিবি, সন্ধান দিলে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার

আফগানিস্তানের কাবুলে নিখোঁজ হওয়ার চার বছর পরও কোনো সন্ধান মেলেনি আফগান-আমেরিকান ব্যবসায়ী মাহমুদ শাহ হাবিবির। ২০২২ সালের ১০ আগস্ট নিজ বাড়ির কাছে গাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই। তাঁকে খুঁজে বের করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার মতো তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি। এফবিআইও জনসাধারণের কাছে তথ্য চেয়েছে।   এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাবিবি আফগানিস্তানের সাবেক সিভিল এভিয়েশন পরিচালক ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার সময় তিনি কাবুলভিত্তিক টেলিকম কোম্পানি এশিয়া কনসালট্যান্সি গ্রুপের কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছিলেন।   ২০২২ সালের ১০ আগস্ট কাবুলে নিজের বাড়ির কাছে গাড়িতে থাকা অবস্থায় হাবিবিকে তাঁর ড্রাইভারসহ তুলে নেওয়া হয়। এফবিআইয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের আরও ২৯ কর্মীকেও তালেবানের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স আটক করেছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে হাবিবি ছাড়া ওই আটক ব্যক্তিদের প্রায় সবাই মুক্তি পান। আরেকজনও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।   হাবিবির নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর অবস্থান বা শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এফবিআই জানিয়েছে, তালেবান কর্তৃপক্ষও তাঁর অবস্থান বা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি।   এফবিআইয়ের রেকর্ডে হাবিবির জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ১৯৮৮ উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, ওজন প্রায় ১৯০ পাউন্ড। তাঁর চুল কালো এবং চোখ বাদামি। তিনি ইংরেজি, পশতু ও দারি ভাষায় কথা বলতে পারেন।   হাবিবিকে খুঁজে পেতে এফবিআইয়ের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিও কাজ করছে। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা, উদ্ধার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।   এফবিআই জানিয়েছে, হাবিবির নিখোঁজ হওয়া বা তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে স্থানীয় এফবিআই অফিস, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তথ্য গোপন রাখা হবে।   ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট, নিখোঁজ হওয়ার তিন বছর পূর্তিতে এফবিআইয়ের ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস হাবিবিকে নিয়ে একটি নিখোঁজ ব্যক্তির পোস্টার প্রকাশ করে। তখনও সংস্থাটি জানিয়েছিল, তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   চার বছর পরও হাবিবির কোনো সন্ধান না মেলায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা এবং তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই এখনো মার্কিন কর্তৃপক্ষের অন্যতম লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১২:৭
ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ইনস্টাগ্রাম লাইভে নিজের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেছেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। ছবি: সংগৃহীত

ইনস্টাগ্রাম লাইভে হরমোনের ইনজেকশন নিলেন মার্কিন নারী, জানালেন ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত

ভুল করে অ্যালকোহলযুক্ত একটি পানীয় পান করার পর নিজের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণ খুঁজে পান হান্নাহ সিদ্দিকি। ছবি: সংগৃহীত

যে ভুল পানীয় পান করেই দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণ খুঁজে পেলেন তরুণী

১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা পাওয়ার পর অবশেষে ৮৮ বছর বয়সে অবসরের সুযোগ পেলেন মার্কিন সেনাসদস্য এড বামবাস। ছবি: সংগৃহীত

৮৮ বছরেও কাজ করছিলেন মার্কিন সেনা, ১৭ লাখ ডলার সহায়তায় মিলল অবসর

ডিয়ারবর্ন হাইটসে নিজের গাড়ি ও বাড়ির মাঝে চাপা পড়ে প্রাণ হারানো পাঁচ সন্তানের একক মা নাদা শুকেইয়ার। ছবি: সংগৃহীত
গাড়ি থামাতে গিয়ে নিজের গাড়ির চাপায় প্রাণ গেল পাঁচ সন্তানের মায়ের

যুক্তরাষ্ট্রের ডিয়ারবর্ন হাইটসে নিজের গাড়ি ও বাড়ির মাঝে চাপা পড়ে ৪৯ বছর বয়সী নাদা শুকেইয়ারের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ সন্তানের এই একক মা গাড়ি থামানোর চেষ্টা করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। তদন্তে তার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে নিশ্চিত করেছে ডিয়ারবর্ন হাইটস পুলিশ।   গত ৩ আগস্ট সোমবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটের দিকে শহরের কলোনিয়াল স্ট্রিটের ৭২০০ ব্লকের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ সেখানে একজন নারী গাড়ির নিচে আটকে থাকার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুকেইয়ার গাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সেটি চালু অবস্থায় ছিল। গাড়িটি তখন সামনে এগিয়ে যেতে শুরু করলে তিনি সেটি থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় গাড়িটি সামনে এগিয়ে তাকে গাড়ি ও বাড়ির মাঝখানে আটকে ফেলে।   প্রায় ৩০ মিনিট পর তার ছেলে বাইরে এসে মাকে ওই অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তিনি গাড়িটি পেছনে সরিয়ে তাকে বের করেন। পুলিশ কর্মকর্তা ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা চার মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিপিআর শুরু করেন।   পরে শুকেইয়ারকে কোরওয়েল হেলথ ডিয়ারবর্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তদন্তকারীরা বাড়ির ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।   ডিয়ারবর্ন হাইটস পুলিশের পক্ষ থেকে শুকেইয়ারের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পরিবারের একজন বন্ধু হাদি সালেহ তার পরিবারের সহায়তা এবং শেষকৃত্য ও স্মরণসভা আয়োজনের খরচের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।   শুকেইয়ারের সন্তানরা জানিয়েছেন, তাদের মা এককভাবে পাঁচ সন্তানকে বড় করছিলেন এবং সন্তানদের প্রয়োজনকে সবসময় নিজের প্রয়োজনের আগে রাখতেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কঠিন পরিস্থিতিতেও শক্তি, ভালোবাসা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সবকিছু মোকাবিলা করতেন।   তার সন্তানদের ভাষ্য অনুযায়ী, রান্না করা এবং পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও বাড়িতে আসা অন্যদের খাওয়াতে শুকেইয়ার আনন্দ পেতেন। তাদের প্রিয় স্মৃতির মধ্যে ছিল মায়ের সঙ্গে দৈনন্দিন কাজ করা, কেনাকাটা করতে যাওয়া এবং ফালাফেল স্যান্ডউইচ খেতে থামা।   পরিবার জানিয়েছে, শুকেইয়ারের হাসি, প্রাণবন্ত অট্টহাসি এবং পরিবারের সদস্যদের আনন্দ দেওয়ার নানা মুহূর্ত তারা সবসময় মনে রাখবেন। তাদের মতে, পরিবারের জন্য তার ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ তাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।   ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটি যাচাইকৃত অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগে ১ লাখ ৫৮ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছিল। আরেকটি উদ্যোগেও ৭০ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছিল। তবে দ্বিতীয় উদ্যোগটি ওই সময় পর্যন্ত যাচাই করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।   শুকেইয়ারের সন্তানরা জানিয়েছেন, কঠিন সময়ে মানুষের সহায়তা তাদের জন্য গভীর সান্ত্বনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তারা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দোয়া, অর্থ সহায়তা ও উদ্যোগটি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১০:৫৪
অ্যারিজোনায় হত্যার শিকার হওয়া ১৯ বছর বয়সী জুলিসা রুবি সালাজার এবং অভিযুক্ত প্রেমিক ভারতীয় শিক্ষার্থী ভারুন ব্যাচিগারি (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে হত্যা করে পালানোর পথে জার্মানিতে গ্রেপ্তার ভারতীয় শিক্ষার্থী, ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে

ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেনে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে বন্দুকধারীদের হামলার মুখে পড়েন এক ডেলিভারি কর্মী। ছবি: সংগৃহীত

বন্দুক দেখিয়ে ডাকাতির চেষ্টা, নিজের অস্ত্রেই হামলাকারীকে হত্যা করল ফুড ডেলিভারিম্যান

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব

নায়ক থেকে গায়ক, অপূর্বর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ নিউইয়র্কের দর্শক

0 Comments