স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করতেই খননযন্ত্র দিয়ে নিজের বাড়ি ভাঙলেন স্বামী
পেনসিলভানিয়ার বাফেলো টাউনশিপে স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করার পর নিজের বাড়ি খননযন্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ৪৮ বছর বয়সী এরিক পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বাড়ি ভাঙার সময় তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে ভেতরেই ছিলেন। তবে ঘটনায় কেউ আহত হননি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার রাতে পিয়ার্সজা মদ্যপান করেছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে তিনি বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে বাড়ি ভেঙে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি একটি নির্মাণকাজের খননযন্ত্রে উঠে বাড়িটির পেছনের অংশে আঘাত করতে শুরু করেন।
বাড়ি ভাঙার সময় ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা জরুরি নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তাঁদের ফোনে কথা বলার সময় বাড়ি ভাঙার শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাড়ির পেছনের অংশ ভেঙে ফেলার পর পিয়ার্সজা আবার ঘরে ঢোকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি একটি ব্যাগ নিয়ে শহরের দিকে চলে যান। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপর্যয় সৃষ্টি, অন্য ব্যক্তির জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার তিনটি অভিযোগ এবং বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ। তাঁকে ১০ হাজার ডলার বন্ডে বাটলার কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে।
তদন্তকারীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাইরে থেকে বাড়িটির ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত মনে হলেও ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পুরো বাড়িটি ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী টড ব্লঁশ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একই সময়ে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের স্টাফ সেক্রেটারি উইল শার্ফকে নতুন হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। টড ব্লঁশের নিয়োগ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি আগে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন এবং এপ্রিল থেকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত শনিবার মার্কিন সিনেট ৫০-৪৯ ভোটে তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করে। রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ও লিসা মুরকোভস্কি তাঁর বিপক্ষে ভোট দেন। ব্লঁশের নিয়োগকে ঘিরে প্রধান বিতর্কের বিষয় হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। সমালোচকদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্টের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিচার বিভাগের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার বিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে যে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যে ব্লঁশের স্থায়ীভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়া নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে ব্লঁশকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চাপের মুখেও পড়তে হয়। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বিতর্কিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল বাতিলের বিষয়টি সিনেটের কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমালোচকেরা ওই তহবিলকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের সুবিধা দেওয়ার সম্ভাব্য হাতিয়ার হিসেবে দেখেছিলেন। এদিকে হোয়াইট হাউসেও গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পরিবর্তন আসছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, বর্তমানে হোয়াইট হাউসের স্টাফ সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উইল শার্ফ ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। তিনি বর্তমান কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর শার্ফ ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ে কাজ করেছেন। প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপ্রিম কোর্ট মামলাতেও তিনি ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করেছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বিচারক ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হিসেবে শার্ফ প্রেসিডেন্টের ক্ষমা প্রদানের বিষয়, আইন পর্যালোচনা এবং প্রেসিডেন্টকে ঘিরে বিভিন্ন মামলার আইনি দিকসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনগত বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। তাঁর নিয়োগ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কংগ্রেসীয় তদন্ত নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। টড ব্লঁশ ও উইল শার্ফ দুজনেরই ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আইনি ও রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকায় তাঁদের নতুন দায়িত্বকে শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, বিচার বিভাগ ও হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পদে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রশাসনের আইনগত নীতি ও স্বাধীনতা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থকেরা বলছেন, দুজনের আইনি অভিজ্ঞতা প্রশাসনকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনায় সহায়তা করবে। এদিকে ব্লঁশ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর সামনে একদিকে বিচার বিভাগের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব, অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপ ও স্বাধীনতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন মোকাবিলার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার অনুদান নিয়ে প্রশ্নের মুখে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, বাতিল ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা
২০৪ কোটি ডলারের লটারি জিতে ট্যাক্সের পর হাতে ৬২ কোটি ৮০ লাখ
পেনসিলভানিয়ার বাফেলো টাউনশিপে স্ত্রী বিচ্ছেদের আবেদন করার পর নিজের বাড়ি খননযন্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ৪৮ বছর বয়সী এরিক পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, বাড়ি ভাঙার সময় তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে ভেতরেই ছিলেন। তবে ঘটনায় কেউ আহত হননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার রাতে পিয়ার্সজা মদ্যপান করেছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে তিনি বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে বাড়ি ভেঙে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি একটি নির্মাণকাজের খননযন্ত্রে উঠে বাড়িটির পেছনের অংশে আঘাত করতে শুরু করেন। বাড়ি ভাঙার সময় ভেতরে থাকা পরিবারের সদস্যরা জরুরি নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তাঁদের ফোনে কথা বলার সময় বাড়ি ভাঙার শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির পেছনের অংশ ভেঙে ফেলার পর পিয়ার্সজা আবার ঘরে ঢোকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তিনি একটি ব্যাগ নিয়ে শহরের দিকে চলে যান। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপর্যয় সৃষ্টি, অন্য ব্যক্তির জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার তিনটি অভিযোগ এবং বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ। তাঁকে ১০ হাজার ডলার বন্ডে বাটলার কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে। তদন্তকারীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাইরে থেকে বাড়িটির ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত মনে হলেও ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পুরো বাড়িটি ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর পিয়ার্সজার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।
চার বছর ধরে নিখোঁজ আফগান-আমেরিকান শাহ হাবিবি, সন্ধান দিলে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার
ইনস্টাগ্রাম লাইভে হরমোনের ইনজেকশন নিলেন মার্কিন নারী, জানালেন ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত
যে ভুল পানীয় পান করেই দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণ খুঁজে পেলেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ৮৮ বছর বয়সেও সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কাজ করছিলেন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য এড বামবাস। অবসর নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তাকে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছিল। পরে তার জীবনের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের সহায়তায় তার জন্য ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সেই অর্থের মাধ্যমে অবশেষে অবসরের সুযোগ পান তিনি। বামবাস দীর্ঘ সময় জেনারেল মোটরসে কাজ করেছেন এবং ১৯৯৯ সালে অবসর নেন। পরে তার আর্থিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। স্ত্রীর অসুস্থতার চিকিৎসা ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে তাকে নিজের বাড়ি ও সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়। স্ত্রীর মৃত্যুর পরও আর্থিক চাপ থেকে যায়। একপর্যায়ে জীবিকা চালাতে তাকে আবার কাজে ফিরতে হয়। ৮৮ বছর বয়সে বামবাস মিশিগানের একটি মুদিপণ্যের দোকানে কাজ করছিলেন। সেখানে তার সঙ্গে দেখা হয় অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নির্মাতা স্যামুয়েল ওয়াইডেনহোফারের। কথোপকথনের সময় বামবাস তার জীবনের আর্থিক সংকট এবং কেন এত বয়সেও তাকে কাজ করতে হচ্ছে, সে সম্পর্কে জানান। ওয়াইডেনহোফার বামবাসের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বামবাসকে সহায়তা করতে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ অর্থ সহায়তা করতে শুরু করেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তহবিলে ১০ লাখ ডলারের বেশি জমা পড়ে এবং পরে সংগ্রহের পরিমাণ ১৭ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বামবাসকে ১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থের একটি চেক দেওয়া হয়। অর্থের পরিমাণ দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এই অর্থ তার দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ কমিয়ে অবসর নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি অবশেষে কাজ থেকে অবসর নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তহবিল সংগ্রহের আয়োজক ওয়াইডেনহোফার জানান, বামবাসের গল্প তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তার লক্ষ্য ছিল এমন একজন প্রবীণ সেনাসদস্যকে সহায়তা করা, যিনি জীবনের শেষভাগেও আর্থিক কারণে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। মানুষের ব্যাপক সাড়া সেই উদ্যোগকে বড় আকারের সহায়তায় পরিণত করে। বামবাসের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একসময় যে মানুষটি অবসর নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় নিয়মিত কাজে যাচ্ছিলেন, মানুষের সম্মিলিত সহায়তায় তার পরিস্থিতি বদলে যায়। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর অবশেষে অবসরের সুযোগ পাওয়ায় এই ঘটনা মানুষের সহায়তার একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে ওঠে।
গাড়ি থামাতে গিয়ে নিজের গাড়ির চাপায় প্রাণ গেল পাঁচ সন্তানের মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে হত্যা করে পালানোর পথে জার্মানিতে গ্রেপ্তার ভারতীয় শিক্ষার্থী, ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে