আমেরিকা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, স্কুল শুরুর আগে মিলছে ফ্রি ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১০:৫৩
শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা বিভিন্ন রঙের স্কুল ব্যাকপ্যাক। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা বিভিন্ন রঙের স্কুল ব্যাকপ্যাক। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে পরিবারের খরচ কমাতে বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। আগস্টজুড়ে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে শিশুদের জন্য ব্যাকপ্যাক, খাতা, পেনসিলসহ প্রয়োজনীয় স্কুল সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সামগ্রী সীমিত এবং আগে এলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে।

 

নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরোতে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি, কমিউনিটি সংগঠন, লাইব্রেরি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এসব স্কুল শুরুর প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচির আয়োজন করছে। কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় ডেপুটি স্পিকার নাতাশা উইলিয়ামস, স্টেট সিনেটর লেরয় কমরি এবং অ্যাসেম্বলি মেম্বার অ্যালিসিয়া হাইন্ডম্যানের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী বিতরণ করা হবে। আয়োজনটি হবে ১৭২-১২ লিন্ডেন বুলেভার্ডে। সামগ্রী শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতরণ চলবে।

 

কুইন্সের কিং ম্যানর মিউজিয়ামেও ১৫ আগস্ট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিনামূল্যে ব্যাকপ্যাক ও স্কুলের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রী থাকা পর্যন্ত এগুলো বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।

 

ম্যানহাটনে ১৭ আগস্টও একটি ব্যাকপ্যাক বিতরণ কর্মসূচি রয়েছে। ৪১৯ ওয়েস্ট ১৭তম স্ট্রিটে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সীমিতসংখ্যক ব্যাগ দেওয়া হবে। প্রতি শিশুর জন্য একটি ব্যাগ বরাদ্দ থাকবে এবং ব্যাগ নিতে শিশুকে নিজে উপস্থিত থাকতে হবে।

 

এ ছাড়া ম্যানহাটনের ১২৪তম স্ট্রিট, সেকেন্ড ও থার্ড অ্যাভিনিউয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় ২২ আগস্ট দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটি কমিউনিটি রিসোর্স ও স্কুল শুরুর প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি হবে। সেখানে ব্যাকপ্যাক, স্কুল সামগ্রী, শিশুদের পোশাক ও জুতাসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

হারলেমেও ২৩ আগস্ট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৬০ ওয়েস্ট ১৪১তম স্ট্রিটে স্কুল শুরুর প্রস্তুতি উপলক্ষে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে শিশুদের জন্য ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম থাকবে।

 

কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি বিনামূল্যের ব্যাকপ্যাক বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে সাধারণত শিশুকে অভিভাবক বা গার্ডিয়ানের সঙ্গে উপস্থিত থাকতে হয়। সরবরাহ শেষ হয়ে গেলে বিতরণও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

 

নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন স্কুল বছর শুরুর আগে স্কুল সামগ্রী কেনা অনেক পরিবারের জন্য বড় ধরনের বাড়তি খরচ। বিশেষ করে একাধিক সন্তান থাকা পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাকপ্যাক, খাতা, পেনসিল, ফোল্ডারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। এ কারণে স্থানীয় কমিউনিটি সংগঠন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিনামূল্যের এসব বিতরণ কর্মসূচি অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে উঠেছে।

 

এদিকে গৃহহীন বা অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘অপারেশন ব্যাকপ্যাক’ কর্মসূচির জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দ করেছে। ভলান্টিয়ার্স অব আমেরিকা গ্রেটার নিউইয়র্ক পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্র ও অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিক্ষার্থীদের ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১৯ হাজার ব্যাকপ্যাক বিতরণ করা হয়েছিল।

 

বিনামূল্যের ব্যাকপ্যাক নিতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়ম জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও শিশুর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, আবার কোথাও আগে থেকে নিবন্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। অধিকাংশ কর্মসূচিতেই সামগ্রী সীমিত থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই পৌঁছানো সুবিধাজনক।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তরুণী ওহান্না কারাসকোজা। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে এক্সেল শেখানো, সেই গল্প লিখেই ইয়েল-পেন-ডার্টমাউথে সুযোগ পেলেন তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার তরুণী ওহান্না কারাসকোজার কলেজে ভর্তির গল্পটি এখন অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। গুয়াতেমালার অভিবাসী পরিবারের সন্তান এই শিক্ষার্থী ২৭টি কলেজে আবেদন করে ইয়েল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া এবং ডার্টমাউথ কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধের বিষয় ছিল নিজের বাবা-মায়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের সংগ্রাম এবং সেই পরিস্থিতিতে পরিবারকে সাহায্য করতে তাঁর নিজের নেওয়া দায়িত্ব। চলতি শরতে তিনি ইয়েলে পড়তে যাচ্ছেন।    সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাসকোজা মোট ২৭টি কলেজে আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি ছিল আইভি লিগের প্রতিষ্ঠান। তিনি শেষ পর্যন্ত চারটির মধ্যে তিনটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। একই আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পূর্ণ টিউশন মেরিট স্কলারশিপও পেয়েছেন এবং শীর্ষস্থানীয় লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর কয়েকটিতেও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।    তবে তাঁর আবেদনপত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি ছিল এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা শুরু হয়েছিল পরিবারের প্রয়োজন থেকে।   কারাসকোজার বাবা-মা দুজনই গুয়াতেমালার অভিবাসী। তাঁরা ছোট বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজ শুরু করেছিলেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে এসে শ্রমনির্ভর কাজে যুক্ত হন। কারাসকোজার বাবা ট্রাক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ব্যবসার বিল তৈরি ও হিসাব রাখার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োজন হলেও প্রযুক্তি ব্যবহারে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত।    তখন মাত্র ৯ বছর বয়সে কারাসকোজা পরিবারের কাজে বাবাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবে বসে তিনি নিজে নিজে মাইক্রোসফট এক্সেল শেখেন। পরে বাবার ব্যবসার জন্য বিল তৈরির টেমপ্লেট বানানোও শেখেন। ধীরে ধীরে পরিবারের বিভিন্ন ডিজিটাল কাজেও তিনি সহায়তা করতে শুরু করেন।    এই অভিজ্ঞতাই পরে তাঁর কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধের মূল বিষয় হয়ে ওঠে। প্রযুক্তি ব্যবহারে বাবা-মায়ের সীমাবদ্ধতা এবং সেই সীমাবদ্ধতা পূরণ করতে ছোট বয়স থেকেই মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার গল্পটি তিনি তুলে ধরেন। তাঁর গল্পে প্রযুক্তি শুধু একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম শেখার বিষয় ছিল না, বরং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে নিজের উদ্যোগে একটি নতুন দক্ষতা অর্জনের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছিল।   কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির সময়ও একই ধরনের উদ্যোগী মনোভাব দেখা যায় তাঁর মধ্যে। বিভিন্ন সুযোগ ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি সম্পর্কে নিজে গবেষণা করে তিনি কংগ্রেশনাল হিসপ্যানিক ককাস ইনস্টিটিউটের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। পরে একটি জাতীয় পর্যায়ের আইন প্রতিষ্ঠানে বেতনভুক্ত ইন্টার্নশিপও করেন।    কারাসকোজা ক্যালিফোর্নিয়ার উডল্যান্ড হিলসের উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফট চার্টার হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। স্কুলজীবনে তিনি টিন কোর্ট, মক ট্রায়াল, মডেল ইউনাইটেড নেশনস, স্পিচ অ্যান্ড ডিবেটসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তিনি খেলাধুলাতেও সক্রিয় ছিলেন। কংগ্রেশনাল হিসপ্যানিক ককাস ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তিনি আইনজীবী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন।   শেষ পর্যন্ত কারাসকোজা ইয়েলকে বেছে নিয়েছেন। ইয়েলে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাঁর আনন্দের মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুযোগ পাওয়ার খবর তিনি নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।    কারাসকোজার গল্পটি দেখাচ্ছে, কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধে শুধু ভালো ফলাফল বা পুরস্কারের তালিকা নয়, একজন শিক্ষার্থীর জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ, উদ্যোগ এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে কী শেখা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর ক্ষেত্রে পরিবারের প্রয়োজন থেকে শেখা একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাঁর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১১:৫০
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার জন্য লাইনে দাঁড়ানো মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে যেসব সরকারি সহায়তা পেতে পারেন

শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা বিভিন্ন রঙের স্কুল ব্যাকপ্যাক। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, স্কুল শুরুর আগে মিলছে ফ্রি ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী

গুরুতর প্রতিবন্ধী দুই সন্তানসহ ভুক্তভোগী মা। ছবি: সংগৃহীত

বাবা-মা আইসিইর হাতে বন্দী, প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের সামনে এখন কার আশ্রয়ে থাকবে!

কিডনি দান করা মার্কিন নারী ডেবি স্টিভেন্স। ছবি: সংগৃহীত
বসকে বাঁচাতে কিডনি দান, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে দেরি হওয়ায় চাকরিই হারালেন কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে নিজের বসের জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করেছিলেন ডেবি স্টিভেন্স। কিন্তু কিডনি দানের পর অস্ত্রোপচারের জটিলতায় ভুগতে শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই চাকরি হারানোর মুখে পড়েন তিনি। স্টিভেন্সের অভিযোগ, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজে সমস্যা তৈরি হওয়ার পরই তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে আচরণ বদলে যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, কিডনি দান বা অস্ত্রোপচার নয়, কর্মদক্ষতার সমস্যার কারণেই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।   ডেবি স্টিভেন্স লং আইল্যান্ডের একটি গাড়ি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তার বস জ্যাকলিন ব্রুচিয়ার কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে স্টিভেন্স তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। সরাসরি বসের সঙ্গে তার কিডনি মিল না হওয়ায় চিকিৎসকেরা একটি কিডনি দান চেইনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেন।   এই ব্যবস্থায় স্টিভেন্সের কিডনি অন্য এক রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। বিনিময়ে ওই দান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্রুচিয়ার জন্য উপযুক্ত একটি কিডনি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ সরাসরি কিডনি না মিললেও স্টিভেন্সের দান শেষ পর্যন্ত তার বসের কিডনি প্রতিস্থাপনের পথ খুলে দেয়।   অস্ত্রোপচারের পর অবশ্য স্টিভেন্সের সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া সহজ ছিল না। তার দাবি, তিনি স্নায়ুজনিত ক্ষতি, হজমের সমস্যা এবং আরও কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। প্রায় চার সপ্তাহ পর তিনি আবার কাজে ফিরলেও তখন থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   স্টিভেন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হয়েও কাজে ফেরার পর অসুস্থতার কারণে ছুটি নেওয়ায় তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। পরে তাকে আগের কর্মস্থল থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরের আরেকটি কর্মস্থলে বদলি করা হয়। শেষ পর্যন্ত চাকরিও হারান তিনি।   তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, কিডনি দান কিংবা অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক সমস্যার কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। বরং কর্মদক্ষতা-সংক্রান্ত সমস্যাই ছিল চাকরি হারানোর কারণ।   অন্যদিকে স্টিভেন্সের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তিনি মনে করেন, কিডনি দানের পর দেখা দেওয়া স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে কাজে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গেই পরবর্তী আচরণ ও চাকরি হারানোর ঘটনা সরাসরি সম্পর্কিত।   একজন বসের জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্টিভেন্স। কিন্তু সেই মানবিক সিদ্ধান্তের কয়েক মাস পর তাকেই নিজের চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য লড়তে হয়েছে। ঘটনাটি কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত জটিলতা, কর্মীর অধিকার এবং অঙ্গদানের মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পর কর্মজীবনে তৈরি হওয়া ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১০:৩৮
ঢাকার নটর ডেম কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমাদ বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এমআইটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

এইচএসসি শেষেই এমআইটিতে ফায়েজ! বছরে ৯২ হাজার ডলারের বেশি স্কলারশিপ

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির স্ত্রী রামা দুওয়াজির আসন্ন সিরিয়া ও লেবানন সফরে এনওয়াইপিডির নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে সিটি হল ও পুলিশের মতবিরোধ। ছবি: সংগৃহীত

মামদানি-পত্নীর সিরিয়া-লেবানন সফরে পুলিশ পাহারা নিয়ে পুলিশ বিভাগের বিরোধ

ফ্লোরিডায় দুই সন্তানের মাকে অপহরণ ও হত্যার পর আত্মঘাতী হওয়া পিনেলাস কাউন্টি শেরিফের ডেপুটি ট্রয় সাভেটজ সংবলিত বিভিন্ন খণ্ডচিত্র। ছবি: সংগৃহীত

৯১১-এ ফোন করেছিল সন্তানরা, ততক্ষণে দুই সন্তানের মাকে অপহরণ করে হত্যা ডেপুটি প্রেমিকের

ফেডারেল আপিল আদালতের এক রায়ে প্রতারণার শিকার প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার স্টুডেন্ট লোন মাফের পথ নিশ্চিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কলেজের ভুয়া প্রতিশ্রুতির শিকার, আদালতের রায়ে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট লোন মাফ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর এসেছে। ফেডারেল আপিল আদালতের এক রায়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার স্টুডেন্ট লোন মাফের পথ নিশ্চিত হয়েছে। এসব ঋণগ্রহীতা এমন কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।   ‘সুইট বনাম ম্যাকমাহন’ মামলায় নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে শিক্ষা বিভাগের সময় বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। শিক্ষা বিভাগ আদালত নির্ধারিত সময়সীমা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনগুলোর সিদ্ধান্ত না হওয়া ঋণগ্রহীতাদের জন্য চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ ঋণমুক্তির পথ বহাল থাকছে।   মামলাটির মূল বিষয় ছিল ‘বরোয়ার ডিফেন্স টু রিপেমেন্ট’ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার আওতায় কোনো শিক্ষার্থী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তার কলেজ প্রতারণা করেছে বা গুরুতর অসদাচরণ করেছে, তাহলে নির্দিষ্ট শর্তে সেই শিক্ষার্থীর ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন বাতিলের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ ছিল, তারা ঋণ মওকুফের জন্য আবেদন করলেও শিক্ষা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে সেসব আবেদনের যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়নি।   ২০১৯ সালে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ‘সুইট বনাম ম্যাকমাহন’ মামলা করা হয়। পরে ২০২২ সালে একটি সমঝোতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বরোয়ার ডিফেন্সের আবেদন নিষ্পত্তির নিয়ম করা হয়। সমঝোতার আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ ঋণমুক্তির বিধান রাখা হয়।   নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় মূলত ২০২২ সালের ২৩ জুন থেকে ১৬ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করা পরবর্তী পর্যায়ের আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ রয়েছে। যেসব আবেদনকারী নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত কলেজে পড়েছেন এবং ২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাদের আবেদনের সিদ্ধান্ত পাননি, তারা সমঝোতা অনুযায়ী পূর্ণ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।   শিক্ষা বিভাগ আগে যুক্তি দিয়েছিল, এত বিপুলসংখ্যক আবেদন নির্ধারিত সময়ে পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। বিভাগ আরও সময় চেয়েছিল এবং জানিয়েছিল, বাকি আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে মওকুফ করতে হলে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের স্টুডেন্ট লোন বাতিল করতে হবে। এর পাশাপাশি আগে পরিশোধ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার খরচও হতে পারে।   কিন্তু আদালত শিক্ষা বিভাগের সময় বাড়ানোর আবেদন গ্রহণ করেনি। ফলে সমঝোতায় নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের ঋণমুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকছে।   এই সুবিধা শুধু বাকি স্টুডেন্ট লোন বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী আগে পরিশোধ করা অর্থ ফেরত এবং সংশ্লিষ্ট ঋণের কারণে ক্রেডিট রিপোর্টে থাকা নেতিবাচক তথ্য সংশোধনের সুবিধাও পেতে পারেন।   প্রিডেটরি স্টুডেন্ট লেন্ডিংবিরোধী সংগঠন প্রজেক্ট অন প্রিডেটরি স্টুডেন্ট লেন্ডিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘সুইট’ সমঝোতার আওতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩ বিলিয়ন ডলারের স্টুডেন্ট লোন থেকে ঋণমুক্তির সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে এবং মোট ৫ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতা এর আওতায় সুবিধা পেয়েছেন বা পাওয়ার অধিকারী হয়েছেন। নতুন করে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার জন্য এই স্বয়ংক্রিয় ঋণমুক্তি যুক্ত হচ্ছে।   তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সব স্টুডেন্ট লোন গ্রহীতার জন্য সাধারণ ঋণ মওকুফের ঘোষণা নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট সমঝোতার আওতাভুক্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বরোয়ার ডিফেন্সের আবেদন করা ও সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করা ঋণগ্রহীতাদের জন্য প্রযোজ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৯:৩০
ক্যালিফোর্নিয়ায় শত শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মতো একটি মহাদুর্যোগ যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত

‘আমরা প্রস্তুত নই’ ক্যালিফোর্নিয়ায় কোটি মানুষের জন্য ‘কেয়ামতের মতো মহাবন্যার’ আশঙ্কা, সতর্ক বিজ্ঞানীরা

লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সের ডেনিস মালিক বার্নস

১৬ বছর বয়সে ১৭০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, ৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি বৃত্তির প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের বড় পরিবর্তন, আবেদন করতে ফিরতে হতে পারে দেশে

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের বড় পরিবর্তন, আবেদন করতে ফিরতে হতে পারে দেশে

0 Comments