আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৩:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩৫ বছরের মধ্যে হামের সর্বোচ্চ প্রকোপের মাঝেই শিশুদের টিকার পরিমাণ কমানোর এক নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আদেশে শিশুদের জন্য প্রস্তাবিত টিকার সংখ্যা বর্তমান ১৮টি থেকে কমিয়ে ১১টি করার সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাম্পস, হাম ও রুবেলা বা এমএমআর (MMR) টিকাগুলো একসঙ্গে না দিয়ে আলাদাভাবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সোমবার ওভাল অফিসে এই নির্দেশিকা নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েক দশক আগে শিশুদের অনেক কম টিকা দেওয়া হতো এবং তখন তারা বর্তমানের তুলনায় বেশি সুস্থ ছিল।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এমএমআর টিকার নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন এবং এর সঙ্গে অটিজমের ভিত্তিহীন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এই পদক্ষেপকে অভিভাবকদের পছন্দের সুযোগ বাড়ানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের এই আদেশে টিকায় ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের বিকল্প খোঁজার এবং সেসব আরও নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই আদেশের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় টিকার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে রাজ্য পর্যায়ে নির্ধারিত হয়ে থাকে।

 

প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস (এএপি)-এর প্রেসিডেন্ট ডা. অ্যান্ড্রু রেসিন ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশকে ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বজুড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রে যখন হামের সংক্রমণ বাড়ছে, তখন টিকা দিতে দেরি করা বা বাদ দেওয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও এই আদেশের সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রেসিডেন্টের নেই। তিনি অভিভাবকদের প্রতি ভুল তথ্যসম্বলিত আদেশের বদলে চিকিৎসকদের পরামর্শ শোনার আহ্বান জানান।

 

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এমএমআর টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক নেই এবং একাধিক বৃহৎ গবেষণায় তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৯ সালে ডেনমার্কে ছয় লক্ষাধিক শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণাতেও এমএমআর টিকা অটিজম সৃষ্টি করে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং এএপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সমন্বিত এমএমআর টিকাকে তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করার কোনো বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নেই। বরং টিকার মধ্যে বেশি সময়ের ব্যবধান রাখলে শিশুরা ওই নির্দিষ্ট সময়ে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। টিকায় থাকা সামান্য অ্যালুমিনিয়াম লবণের সঙ্গেও কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক নেই বলে নিশ্চিত করেছে এএপি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
টানা ২০ বছর একা ভ্রমণের পর, প্রথম গ্রুপ ট্যুরেই খুঁজে পেলেন জীবনসঙ্গী
টানা ২০ বছর একা ভ্রমণের পর, প্রথম গ্রুপ ট্যুরেই খুঁজে পেলেন জীবনসঙ্গী

টানা দুই দশক ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে একা ভ্রমণ করে আসছিলেন এই ব্রিটিশ নারী পর্যটক। জর্জিয়া, কলম্বিয়া বা ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে একাই ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। তবে ২০ বছর পর প্রথমবারের মতো একটি গ্রুপ ট্যুরে নাম লিখিয়েছিলেন তিনি। আর এই একটি সিদ্ধান্তই চিরতরে বদলে দিয়েছে তার জীবন; অপ্রত্যাশিতভাবে খুঁজে পেয়েছেন নিজের ভালোবাসার মানুষকে।   সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এ প্রকাশিত এক ভ্রমণকাহিনিতে লিডিয়া সোয়িনস্কো নামের এই পর্যটক জানিয়েছেন তার অসাধারণ এই অভিজ্ঞতার কথা। মিলেনিয়াল বা বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রুপ ট্যুরের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে একটি অ্যাসাইনমেন্টের অংশ হিসেবে তিনি ২০২৪ সালের মার্চ মাসে শ্রীলঙ্কায় ১২ দিনের একটি গ্রুপ ট্যুরে অংশ নেন। অপরিচিত মানুষদের সাথে ছোটখাটো আড্ডা বা জোর করে আনন্দ করার বিষয়ে আগে থেকেই তার মনে বেশ ভীতি ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় পা রাখার পর এই চমৎকার দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করে।   এই ১২ দিনের ট্যুরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার আরও কয়েকজন পর্যটকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের গাইড হিসেবে ছিলেন সুরঙ্গা নামের এক স্থানীয় যুবক। সুরঙ্গার গভীর জ্ঞান, পর্যটকদের প্রতি তার ধৈর্য আর সূক্ষ্ম রসবোধ শুরু থেকেই লিডিয়াকে আকৃষ্ট করেছিল। তবে তাদের সম্পর্কের মোড় ঘোরে সফরের অষ্টম দিনে। ইয়ালা ন্যাশনাল পার্কে সাফারি শেষে রাতে হঠাৎ হাত থেকে পড়ে লিডিয়ার মোবাইলের স্ক্রিন ভেঙে যায়।   ট্যুর শেষে কলম্বোর পেট্টাহ এলাকার একটি দোকানে ফোনটি সারাতে তাকে সাহায্য করার জন্য নিজে থেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন গাইড সুরঙ্গা। ফোন জমা দিয়ে তারা দুজন কাছের একটি ক্যাফেতে সময় কাটান এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে গল্প করেন। গ্রুপ ট্যুরের ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে সেই দিনের এই একান্তে কাটানো আড্ডাতেই তাদের মধ্যে একটি বিশেষ সখ্যতা গড়ে ওঠে।   এরপর লিডিয়া তার শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের সময়সীমা আরও কয়েক মাস বাড়িয়ে নেন। তারা দুজনে প্রতিদিন কথা বলতেন এবং সময় মিললেই দেখা করতেন। এভাবে ছয় মাস পার হওয়ার পর তারা ভিন্ন সংস্কৃতি ও প্রত্যাশার ব্যবধান ঘুচিয়ে একসঙ্গে জীবন কাটানোর বড় সিদ্ধান্তটি নিয়ে ফেলেন। বর্তমানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা একসঙ্গেই আছেন এবং শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন অচেনা-অজানা অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।   লিডিয়ার মতে, গ্রুপ ট্যুর হয়তো তার মতো স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু নিজের কমফোর্ট জোন বা স্বস্তির জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার কারণেই তিনি এমন একজনকে খুঁজে পেয়েছেন, যার সঙ্গে অন্য কোনো উপায়ে হয়তো তার কখনোই দেখা হতো না। তার এই গল্পটি প্রমাণ করে যে, জীবনে কখনো কখনো অপছন্দের পথে পা বাড়ালেও তা আমাদের সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:১৯
আইনজীবী আসমা আলী

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে মুসলিম হওয়ায় ইতিহাস গড়া নারী বিচারককে অপসারণের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হামের প্রকোপ, এর মাঝেই শিশুদের টিকা কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার

খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার

একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়া মুরতাজা আলী। ছবি: সংগৃহীত
আঙুলের ছাপেই ধরা পড়ল পরিচয় জালিয়াতি, পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা

অভিবাসন সুবিধা পেতে তিনটি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে গ্রিন কার্ড ও মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী ৬৫ বছর বয়সী মুরতাজা আলীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে চার দফায় নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ১৪ জুলাই ২০২৬ নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়।    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, মুরতাজা আলী বিভিন্ন নামে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়ে অভিবাসন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামের একটি পরিচয়ে তিনি অভিবাসন সুবিধা পান। ওই পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হন এবং ২০০৯ সালে একই নামে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন।    নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তার আগের অভিবাসন নথি যাচাই করতে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান, ‘মোর্তজা আলী’ এবং ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে জমা দেওয়া অভিবাসন অ্যাপ্লিকেশনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট একই ব্যক্তির। অর্থাৎ ভিন্ন নামে করা ওই অ্যাপ্লিকেশনগুলো একই ব্যক্তির ছিল বলে শনাক্ত হয়।    এই তথ্যের ভিত্তিতে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ফেডারেল প্রসিকিউটররা আলীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনেন। মামলাটি ১৮ ইউএসসি সেকশন ১০০১-এর অধীনে করা হয়।   ২০১৪ সালে আলী ওই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি স্বীকার করেন, তিনটি ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য তিনি তিনটি পৃথক অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছিলেন। তার এই স্বীকারোক্তিই পরবর্তী নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে।    এবার সরকারের করা চার দফার নাগরিকত্ব বাতিলের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আলী অভিবাসন জালিয়াতির মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, এমন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন যা তার নৈতিক চরিত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, নাগরিকত্বের প্রক্রিয়ায় শপথের অধীনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন ও ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন।    তবে এই মামলার মাধ্যমে এখনই তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়নি। এটি একটি দেওয়ানি নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফেডারেল আদালতের। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও জানিয়েছে, এসব মামলায় করা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।    মুরতাজা আলীর মামলা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাম্প্রতিক বড় পরিসরের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগের অংশ। বিচার বিভাগ ২০ জুলাই জানায়, এর আগের ৩০ দিনে বিভিন্ন ফেডারেল আদালতে ১০ জন ন্যাচারালাইজড মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অভিবাসন জালিয়াতি, হেলথ কেয়ার ও ওয়্যার জালিয়াতি, শিশু যৌন নির্যাতন এবং মাদক পাচারসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্যের মাধ্যমে ন্যাচারালাইজেশন বা নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং ন্যাচারালাইজেশন সার্টিফিকেট বাতিলের জন্য আদালতে মামলা করা যেতে পারে।    মুরতাজা আলীর ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নাগরিকত্ব পাওয়ার কয়েক বছর পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার ব্যবহৃত ভিন্ন পরিচয়গুলোর মধ্যে যোগসূত্র শনাক্ত হয়। ২০০৯ সালে ‘মুহাম্মদ ইকবাল’ নামে নাগরিকত্ব নেওয়ার পর ২০১৪ সালে তিনি তিনটি পরিচয় ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। আর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সরকার সেই পুরোনো অভিবাসন জালিয়াতির ভিত্তিতে তার ন্যাচারালাইজড নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য নতুন আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১২:৫৭
টেক্সাসের লিগ সিটিতে লাল রঙে রাঙানো সেই বিড়াল। ছবি: সংগৃহীত

লাল রঙে রাঙানো বিড়াল ঘিরে রহস্য, দূরে থাকতে বলল টেক্সাস কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়ানোর বিভিন্ন সুযোগ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়াতে যেসব ক্রেডিট ও ডিডাকশন মিস করা উচিত নয়

ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া তরুণী ওহান্না কারাসকোজা। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে এক্সেল শেখানো, সেই গল্প লিখেই ইয়েল-পেন-ডার্টমাউথে সুযোগ পেলেন তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার জন্য লাইনে দাঁড়ানো মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে যেসব সরকারি সহায়তা পেতে পারেন

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো মানেই আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের সরকারি সহায়তার সুযোগও শেষ হয়ে যাওয়া নয়। পরিস্থিতি, আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের অঙ্গরাজ্য এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর নির্ভর করে বেকার ব্যক্তি ও তার পরিবার বিভিন্ন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব বীমা, স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, চাকরি খোঁজা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং কিছু ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা।   তবে এসব কর্মসূচির যোগ্যতার নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফেডারেল আইন এবং ২০২৬ সালে কার্যকর বা পরিবর্তনশীল কিছু নিয়মের কারণে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা আরও জটিল হয়েছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তাগুলোর একটি হলো বেকারত্ব বীমা বা ইউআই। এটি ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের যৌথ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হলেও প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী সুবিধা দেয়। সাধারণত নিজের দোষে নয়, যেমন কর্মী ছাঁটাই বা কাজ না থাকার কারণে চাকরি হারালে এবং নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত কাজ ও মজুরির ইতিহাস থাকলে বেকারত্ব বীমা পাওয়ার সুযোগ থাকে। কত টাকা এবং কতদিন এই সুবিধা পাওয়া যাবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন।   অ-নাগরিকদের জন্যও বেকারত্ব বীমা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সুবিধা দাবি করার সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থাও যাচাই করতে পারে। ফলে গ্রিন কার্ডধারী বা বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা অন্য কর্মীরা শুধু মার্কিন নাগরিক নন বলে বেকারত্ব বীমা থেকে বাদ পড়েন না।   চাকরি হারানোর পর যত দ্রুত সম্ভব যে অঙ্গরাজ্যে কাজ করতেন, সেই অঙ্গরাজ্যের বেকারত্ব বীমা কর্মসূচিতে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চাকরি হারিয়েছেন বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যায় না। কাজের ইতিহাস, মজুরি এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়।   চাকরির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চলে গেলে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয়। চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা হারালে স্বাস্থ্যবিমা বাজারের মাধ্যমে নতুন বিমা পরিকল্পনায় যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চাকরি ছাড়া, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া বা অন্য কোনো কারণে চাকরির স্বাস্থ্যবিমা হারালেও বিশেষ নিবন্ধন সময়সীমার আওতায় নতুন পরিকল্পনার জন্য আবেদন করা যায়। সাধারণত চাকরির স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ৬০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। আয় কমে গেলে মাসিক প্রিমিয়াম কমানোর জন্য কর-ছাড় বা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতাও তৈরি হতে পারে।   কিছু পরিবারের ক্ষেত্রে মেডিকেইডও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। তবে মেডিকেইড পাওয়ার যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, আয়, পরিবারের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালে মেডিকেইডের নিয়মেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ফেডারেল আইনের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, নির্দিষ্ট কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, সামাজিক সেবা বা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মতো শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কিছু মানুষ এসব শর্তের বাইরে থাকতে পারেন এবং অঙ্গরাজ্যভেদে বাস্তবায়নের সময়ও ভিন্ন হতে পারে।   চাকরি হারিয়ে পরিবারের আয় কমে গেলে খাবারের খরচ সামলানোর জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বা স্ন্যাপের জন্যও আবেদন করা যেতে পারে। এটি সাধারণভাবে ‘ফুড স্ট্যাম্প’ নামে পরিচিত। স্ন্যাপের জন্য অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয় এবং আয়, সম্পদ ও পরিবারের সদস্যসংখ্যাসহ বিভিন্ন যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। ২০২৫ সালের নতুন ফেডারেল আইনের পর স্ন্যাপের কাজ-সংক্রান্ত শর্ত এবং অ-নাগরিকদের যোগ্যতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে।   অভিবাসীদের জন্য এ ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীরা সাধারণভাবে স্ন্যাপ পাওয়ার যোগ্য নন। নির্দিষ্ট কিছু বৈধভাবে অবস্থানরত অ-নাগরিক স্ন্যাপ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু এবং নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধিতার কারণে সুবিধা পাওয়া কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। পরিবারের কোনো সদস্য স্ন্যাপের জন্য অযোগ্য হলেও পরিবারের অন্য যোগ্য সদস্যরা আবেদন করতে পারেন।   চাকরি হারানোর পর সরাসরি নগদ সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য নেই। তবে পরিবারে ছোট সন্তান থাকলে এবং আয় খুব কম হলে অঙ্গরাজ্যের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের জন্য সাময়িক সহায়তা কর্মসূচি বা ট্যানফের আওতায় সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এই কর্মসূচি মূলত নিম্নআয়ের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়। এর নিয়ম, সুবিধার পরিমাণ এবং যোগ্যতার শর্ত অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন।   অন্যদিকে, সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই সাধারণ বেকার ভাতা নয়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অথবা নির্ধারিত ধরনের প্রতিবন্ধিতা রয়েছে এবং একই সঙ্গে সীমিত আয় ও সম্পদ রয়েছে, এমন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এসএসআই-এর জন্য যোগ্য হতে পারেন। তাই শুধু চাকরি হারিয়েছেন বলেই কেউ এসএসআই পাওয়ার যোগ্য হয়ে যান না।   সরকারি সহায়তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন চাকরি খোঁজা ও দক্ষতা উন্নয়ন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি আমেরিকান জব সেন্টার রয়েছে। এসব কেন্দ্রে চাকরিপ্রার্থীরা বিনামূল্যে চাকরি খোঁজার সহায়তা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরির পরামর্শ, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, পেশা নির্বাচন-সংক্রান্ত পরামর্শ, চাকরি খোঁজার কর্মশালা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তথ্য পেতে পারেন। কিছু কেন্দ্রে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাও থাকে।   বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন একই ধরনের কাজে ছিলেন এবং চাকরি হারানোর পর নতুন খাতে যেতে চান, তাদের জন্য এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্থানীয় কেন্দ্রে গিয়ে কোন প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থান কর্মসূচির জন্য তারা যোগ্য হতে পারেন, সে বিষয়েও তথ্য পাওয়া যায়।   তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণে শুধু বেকার হওয়াই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীর অঙ্গরাজ্য, পারিবারিক আয়, সম্পদ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কাজের ইতিহাস এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একটি সরকারি সুবিধার যোগ্যতার নিয়ম দেখে অন্য সব সুবিধার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।   চাকরি হারালে প্রথম কাজ হওয়া উচিত দ্রুত বেকারত্ব বীমার জন্য আবেদন করা। পাশাপাশি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরি শেষ হওয়া বা কর্মী ছাঁটাই-সংক্রান্ত নথি, শেষ কয়েকটি বেতনপত্র এবং কাজের ইতিহাসের অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা দরকার। চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা কখন শেষ হবে, সেটিও জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর স্বাস্থ্যবিমা বাজার, মেডিকেইড অথবা চাকরি হারানোর পর সাময়িকভাবে আগের স্বাস্থ্যবিমা চালিয়ে যাওয়ার সুবিধা কোবরা, কোনটি প্রযোজ্য হতে পারে তা যাচাই করা যেতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যোগ্যতা থাকলে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে দ্বিধা না করা। তবে ২০২৬ সালে বিভিন্ন কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তিত হওয়ায়, বিশেষ করে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ যোগ্যতার শর্ত যাচাই করা জরুরি।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১১:২৮
শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা বিভিন্ন রঙের স্কুল ব্যাকপ্যাক। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, স্কুল শুরুর আগে মিলছে ফ্রি ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী

গুরুতর প্রতিবন্ধী দুই সন্তানসহ ভুক্তভোগী মা। ছবি: সংগৃহীত

বাবা-মা আইসিইর হাতে বন্দী, প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের সামনে এখন কার আশ্রয়ে থাকবে!

কিডনি দান করা মার্কিন নারী ডেবি স্টিভেন্স। ছবি: সংগৃহীত

বসকে বাঁচাতে কিডনি দান, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে দেরি হওয়ায় চাকরিই হারালেন কর্মী

0 Comments