কলোরাডোয় খাড়া পাহাড়ে রাস্তা থেকে গাড়ি ছিটকে নিহত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাড়া পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গেলে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ কিশোর নিহত হয়েছে। গ্র্যান্ড জংশন শহরের লুকআউট লেন এলাকায় শনিবার (৮ আগস্ট) গভীর রাতে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ এবং মেসা কাউন্টি করোনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে থাকা পাঁচজনই গ্র্যান্ড জংশনের বাসিন্দা এবং তাদের সবার বয়স ১৭ বছর। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গাড়িটি লুকআউট লেন ধরে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে সেটি রাস্তা থেকে ছিটকে খাড়া পাহাড়ি ঢালের নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মেসা কাউন্টি করোনারের কার্যালয় জানিয়েছে, পাঁচ কিশোরের মধ্যে তিনজন সিটবেল্ট পরেছিল। তাদের মধ্যে গাড়ির চালক ও সামনের আসনের যাত্রীও ছিল। পেছনের আসনে থাকা দুই কিশোর সিটবেল্ট না পরায় দুর্ঘটনার সময় গাড়ি থেকে ছিটকে বাইরে পড়ে যায়।
ময়নাতদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাড়ি দুর্ঘটনায় পাওয়া আঘাতের কারণেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সরকারি কর্তৃপক্ষ তাদের নাম প্রকাশ করেনি।
তবে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের বরাতে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিহতদের ব্রেডেন টেইলর, ট্রিস্টান টাকার, টাইটাস গোল্ড, উইলিয়াম সিমস ও টাইলার মার্টিনেজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। তারা পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল বলে জানানো হয়েছে।
একসঙ্গে পাঁচ কিশোরের মৃত্যুতে গ্র্যান্ড জংশন কমিউনিটিতে শোক নেমে এসেছে। পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে তাদের স্মরণে বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। কয়েকটি পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
গ্র্যান্ড জংশন পুলিশ জানিয়েছে, এমন ঘটনায় শুধু নিহতদের পরিবার নয়, বন্ধু, সহপাঠী এবং পুরো কমিউনিটি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে এবং বিশেষ করে গাড়ির গতি কত ছিল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreক্যানসারে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরোনো একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বাইডেনের স্টেজ ফোর প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণে তার প্রতি সহানুভূতি না দেখাতে মার্কিনিদের বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে বক্তব্যটির মূল ভিডিও ও সরকারি ট্রান্সক্রিপ্ট যাচাই করে দেখা যায়, ট্রাম্প কথাগুলো বললেও তিনি ওই সময় সরাসরি বাইডেনের ক্যানসারের কথা উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প মন্তব্যটি করেছিলেন ২০২৫ সালের ৩০ মে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্ককে সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে। এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, ১৮ মে বাইডেনের অফিস থেকে তার প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে কথা বলছিলেন ট্রাম্প। একপর্যায়ে বাইডেন সম্পর্কে তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক জীবনে মোটামুটি মধ্যপন্থী ছিলেন, তবে তিনি একজন ‘ভয়ংকর’ ব্যক্তি। এরপর ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার যদি তার জন্য খারাপ লাগে, তাহলে এতটা খারাপ লাগার দরকার নেই। কারণ তিনি ভয়ংকর।’ বাইডেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও অন্য অনেক মানুষের ক্ষতি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। এরপর তিনি বলেন, ‘তাই তার জন্য আমার সত্যিই খারাপ লাগে না।’ তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বাইডেনের ক্যানসার বা তার চিকিৎসার কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি। সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টেও দেখা যায়, মন্তব্যটি এসেছিল বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘ বক্তব্যের মধ্যে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘বাইডেনের ক্যানসারের জন্য সহানুভূতি দেখাতে নিষেধ করেছেন ট্রাম্প’ এমন সরাসরি ব্যাখ্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ট্রাম্প যে বাইডেনকে ‘ভয়ংকর’ বলেছেন এবং তার জন্য নিজের সহানুভূতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন, সেটি ভিডিও ও সরকারি নথিতে নিশ্চিত। কিন্তু তিনি ওই মন্তব্যের মাধ্যমে বিশেষভাবে বাইডেনের ক্যানসারকেই বোঝাচ্ছিলেন কি না, তা বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট নয়। বাইডেনের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। ১৮ মে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বাইডেনের চিকিৎসাজনিত খবর শুনে তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প দুঃখিত। একই সঙ্গে বাইডেনের দ্রুত ও সফল আরোগ্য কামনা করেন। পরদিন থেকেই অবশ্য বাইডেনের ক্যানসার কখন শনাক্ত হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, বাইডেনের অসুস্থতার তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল কি না। বাইডেনের অফিস ২০২৫ সালের মে মাসে জানায়, তার প্রোস্টেট ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা ক্যানসারটির গ্লিসন স্কোর ৯ এবং গ্রেড গ্রুপ ৫ হিসেবে শনাক্ত করেন, যা রোগটির উচ্চমাত্রার আক্রমণাত্মক ধরন নির্দেশ করে। তবে ক্যানসারটি হরমোন সংবেদনশীল হওয়ায় কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। নিজের চিকিৎসা নিয়ে পরে বাইডেন জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকেরা তার পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী এবং তিনি চিকিৎসা শুরু করেছেন। এক বছরের বেশি সময় আগের ট্রাম্পের ওই বক্তব্য এখন আবার ভাইরাল হওয়ায় এর সঙ্গে বাইডেনের ক্যানসারকে সরাসরি যুক্ত করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে মূল বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বলছে, ট্রাম্প বাইডেনের প্রতি সহানুভূতি না থাকার কথা বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি ক্যানসারের প্রসঙ্গ তোলেননি। তাই বক্তব্যটির রাজনৈতিক ও চিকিৎসাজনিত প্রেক্ষাপট আলাদা করে দেখা জরুরি।
মামদানির রেন্ট ফ্রিজ ও নতুন করের শঙ্কার মধ্যে ম্যানহাটনে বাড়িভাড়ার রেকর্ড! মাসে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার
কলোরাডোয় খাড়া পাহাড়ে রাস্তা থেকে গাড়ি ছিটকে নিহত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর
'মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে আমাদের নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হবে'
নিউইয়র্কে নয় বছরের মেয়ে মেলিনা গ্যালানিস ফ্রাটোলিনকে হত্যা এবং তার মরদেহ গোপন করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী লুসিয়ানো ফ্রাটোলিন। মেয়েকে হত্যার পর তিনি প্রথমে পুলিশকে জানিয়েছিলেন, দুই ব্যক্তি তাকে অপহরণ করেছে। কিন্তু তদন্তে তার সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এসেক্স কাউন্টির একটি জুরি সোমবার লুসিয়ানোকে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার এবং মানবদেহ গোপনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিট আলোচনা শেষে জুরি এই রায় দেয়। তার সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা আগামী ১৪ অক্টোবর। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে। কানাডার মন্ট্রিয়ালের বাসিন্দা লুসিয়ানো তার মেয়ে মেলিনাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন। নিউইয়র্ক ও কানেকটিকাটের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ১৯ জুলাই তাদের কানাডায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। নিউইয়র্ক স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সারাটোগা স্প্রিংসে বাবা ও মেয়েকে একসঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর মেলিনা তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তখন সে কোনো ধরনের আতঙ্ক বা বিপদের কথা জানায়নি। সেদিন রাত প্রায় ১০টার দিকে লুসিয়ানো ৯১১-এ ফোন করে জানান, লেক জর্জের কাছে ইন্টারস্টেট ৮৭-এর একটি এলাকায় তার মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে এবং সম্ভবত তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি সাদা ভ্যান এবং দুই ব্যক্তির সঙ্গে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত বড় ধরনের অনুসন্ধান শুরু করে। মেলিনাকে খুঁজতে অ্যাম্বার অ্যালার্ট জারি করা হয় এবং একাধিক আইনশৃঙ্খলা সংস্থা অভিযানে অংশ নেয়। তবে খুব দ্রুত লুসিয়ানোর বর্ণনায় অসঙ্গতি খুঁজে পান তদন্তকারীরা। সময়ের হিসাব, তার চলাচলের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে দেখার পর পুলিশ জানায়, অপহরণের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরদিন ২০ জুলাই নিউইয়র্ক স্টেট ফরেস্ট রেঞ্জাররা টাইকনডেরোগার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় অগভীর পানিতে মেলিনার মরদেহ উদ্ধার করেন। তদন্তকারীরা জানান, মরদেহটি একটি পড়ে থাকা গাছ ও বড় পাথরের কাছে এমনভাবে লুকানো হয়েছিল যাতে সহজে দেখা না যায়। ময়নাতদন্তে মেলিনার মৃত্যুর কারণ হিসেবে পানিতে ডুবে শ্বাসরোধ এবং মৃত্যুর ধরন হত্যাকাণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। প্রসিকিউটররা আদালতে বলেন, মেয়েকে হত্যার পর লুসিয়ানো নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখতে অপহরণের গল্প সাজিয়েছিলেন। মামলায় সিসিটিভি ফুটেজ, সেলফোন লোকেশন, গাড়ির চলাচলের তথ্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে লুসিয়ানোর ডিফেন্স টিম দাবি করে, মামলাটি মূলত পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল এবং পুলিশ শুরু থেকেই অপহরণের সম্ভাবনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। লুসিয়ানো নিজে বিচার চলাকালে সাক্ষ্য দেননি। মেলিনা তার মায়ের সঙ্গে মন্ট্রিয়ালে থাকত। লুসিয়ানো ও মেলিনার মা ২০১৯ সাল থেকে আলাদা ছিলেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, মেয়েটি মায়ের পূর্ণকালীন হেফাজতে থাকলেও বাবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ ছিল। ২০২৫ সালের ২১ জুলাই লুসিয়ানোকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার এবং মানবদেহ গোপনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তিনি শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। এক বছরের বেশি সময় পর জুরির রায়ে তার সেই দাবি প্রত্যাখ্যাত হলো। যে বাবা মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর দিয়ে পুলিশকে অপহরণের গল্প শুনিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই বাবাই নয় বছরের মেলিনাকে হত্যা ও মরদেহ গোপনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন।
দেশ ছাড়ুন, না হলে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ডলার জরিমানা' মিশিগানের অভিবাসীর সামনে ট্রাম্পের কঠিন শর্ত
স্কুল খোলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড, ৩৫ বছরের সংক্রমণ সর্বোচ্চ
দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
মাকে হত্যার দায়ে কারাগারে যাওয়া কিশোরকে ক্ষমা করেছিলেন মার্থা ম্যাককে। বছরের পর বছর তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, প্যারোলে মুক্তির পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন, এমনকি কারাগার থেকে বের হওয়ার পর নিজের পারিবারিক সম্পত্তিতেই কাজের সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দ্বিতীয় সুযোগের পরিণতি হয় মর্মান্তিক। ২০২০ সালে সেই ট্রাভিস লুইসের হাতেই নিহত হন মার্থা। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের হর্সশু লেক এলাকার ঐতিহাসিক স্নোডেন হাউসকে ঘিরে। একই পরিবারের মা ও মেয়ের মৃত্যুর সঙ্গে একই ব্যক্তির নাম জড়িয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত ট্রু ক্রাইম কাহিনিগুলোর একটি হয়ে ওঠে। ঘটনার শুরু ১৯৯৬ সালে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ৭৫ বছর বয়সী স্যালি স্নোডেন ম্যাককে এবং তার ৫২ বছর বয়সী ভাতিজা জোসেফ ‘লি’ বেকারকে হত্যা করা হয়। বেকার মেমফিসের পরিচিত ব্লুজ ও রক গিটারিস্ট ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সময় ট্রাভিস লুইসের বয়স ছিল ১৬ বছর। তদন্তের পর তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা হয়। পরে তিনি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং ২৮ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড পান। তবে দোষ স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডের জন্য অন্য একজন দায়ী বলে দাবি করে গিয়েছিলেন লুইস। মাকে হারানোর পরও লুইসের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হননি মার্থা। বরং কারাগারে থাকার সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্থা বিশ্বাস করতেন মানুষ পরিবর্তিত হতে পারে এবং লুইসও জীবনে দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। মার্থা তার প্যারোলে মুক্তির পক্ষেও সমর্থন দিয়েছিলেন। প্রায় ২৩ বছর কারাভোগের পর ২০১৮ সালে প্যারোলে মুক্তি পান লুইস। এরপর আরও এক ধাপ এগিয়ে যান মার্থা। পরিবারের ঐতিহাসিক স্নোডেন হাউসে লুইসকে কাজ দেন তিনি। বাড়িটি সংস্কার করে বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট ও অনুষ্ঠান আয়োজনের ভেন্যু হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন মার্থা। কিন্তু একসময় তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। মার্থার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির একটি ঝাড়বাতি বিক্রি করে পাওয়া ১০ হাজার ডলার হারিয়ে যাওয়ার পর লুইসকে সন্দেহ করেন তিনি। ওই অর্থ হারানোর সময় লুইস বাড়িতে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপর তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেন মার্থা। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ স্নোডেন হাউসে অ্যালার্ম বেজে ওঠার পর সেখানে ছুটে যান ক্রিটেনডেন কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা। বাড়ির পেছনের একটি দরজা খোলা দেখতে পান তারা। বাড়ির ভেতর তল্লাশি চালানোর সময় একজন ব্যক্তিকে দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে লাফিয়ে পালাতে দেখেন পুলিশ সদস্যরা। পরে তাকে ট্রাভিস লুইস হিসেবে শনাক্ত করা হয়। শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জানালা দিয়ে বেরিয়ে লুইস একটি গাড়িতে উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গাড়িটি বাড়ির আঙিনায় আটকে গেলে তিনি নেমে দৌড়ে পাশের হর্সশু লেকে ঝাঁপ দেন। পানিতে ডুবে যাওয়ার পর তাকে আর ওপরে উঠতে দেখা যায়নি। পরে উদ্ধারকারী দল সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর স্নোডেন হাউসের ভেতরে পাওয়া যায় ৬৩ বছর বয়সী মার্থা ম্যাককের মরদেহ। তদন্তকারীরা জানান, তাকে ছুরিকাঘাত ও আঘাত করে হত্যা করা হয়েছিল। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় ছিল হত্যাকারীর পরিচয়। পুলিশ জানায়, মার্থাকে হত্যাকারী ট্রাভিস লুইসই ১৯৯৬ সালে তার মা স্যালি এবং আত্মীয় লি বেকারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। অর্থাৎ যে ব্যক্তির অপরাধের কারণে মার্থা প্রথমে নিজের মাকে হারিয়েছিলেন, ২৩ বছরের বেশি সময় পর সেই ব্যক্তির হাতেই তার নিজের জীবনও শেষ হয়। ঘটনার পর মার্থার পরিবারও জানিয়েছিল, তারা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে একই ব্যক্তি তাদের পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর জন্য দায়ী। মার্থার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী সময়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে একজন দণ্ডিত হত্যাকারীকে ক্ষমা করা, তার পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা এবং তাকে আবার নিজের জীবনের এত কাছাকাছি নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে মার্থার সিদ্ধান্তকে কেবল সরল বিশ্বাস হিসেবে ব্যাখ্যা করাও পুরো ঘটনাটিকে তুলে ধরে না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তার ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, ক্ষমা ও মানুষের পরিবর্তনের সম্ভাবনার প্রতি তার গভীর বিশ্বাস ছিল। লুইস প্রথম হত্যাকাণ্ডে নিজেকে নির্দোষ দাবি করায় সেই বক্তব্যও বিশ্বাস করেছিলেন মার্থা। শেষ পর্যন্ত তার দেওয়া দ্বিতীয় সুযোগই এক ভয়াবহ পরিণতির সঙ্গে যুক্ত হয়। মায়ের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে যে মানুষটিকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করেছিলেন মার্থা ম্যাককে, সেই মানুষটির হাতেই ২৩ বছর পর নিজের জীবন হারান তিনি।
আবারো মিনেসোটায় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ভূমিধস জয় ইলহান ওমরের
মার্কিন নাগরিকের দিকে বন্দুক তাক করলেন আইসিই এজেন্ট, ভিডিওতে ধরা পড়ল ভয়ংকর মুহূর্ত