- প্রচ্ছদ
- Topic
কলোরাডো
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের একটি বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে—বাড়িটি কিনলে সেখানে বসবাসরত বর্তমান বাসিন্দাকে উচ্ছেদের দায়িত্ব নিতে হবে নতুন মালিককে। পাশাপাশি বাড়িটি কেনার আগে সেটি পরিদর্শনেরও কোনো সুযোগ থাকছে না। কলোরাডোর নান শহরের তিন শয়নকক্ষ ও দুটি বাথরুমের বাড়িটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৫ হাজার ২৮০ ডলার। বাড়িটি দুই মাসের বেশি সময় ধরে বিক্রির তালিকায় থাকলেও এক্সে ‘জিলো গন ওয়াইল্ড’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট বিজ্ঞাপনটি শেয়ার করার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। অল্প সময়েই সেটি ৪০ লাখের বেশি বার দেখা হয়। বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাড়িটি বর্তমানে একজনের দখলে রয়েছে। ফলে আগ্রহী ক্রেতারা বাড়িটি সরেজমিনে দেখতে বা পরিদর্শন করতে পারবেন না। বাড়িটি বর্তমান অবস্থাতেই বিক্রি করা হবে। বিক্রি সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়ির দখল বুঝে নেওয়া এবং সেখানে বসবাসরত ব্যক্তিকে সরানোর দায়িত্বও নতুন মালিককেই নিতে হবে। বাড়িটিতে বসবাস করছেন টরি ম্যাকমেকান। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, বাড়িটি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর এমন বিজ্ঞাপন দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার প্রশ্ন, ভেতরে একজন বাসিন্দা থাকা অবস্থায় এবং বাড়িটি না দেখেই কে এমন সম্পত্তি কিনতে চাইবে? টরি ম্যাকমেকান জানান, ২০০৬ সাল থেকে তিনি ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। তার স্বামী জেমস ম্যাকমেকান বাড়িটি কিনেছিলেন। ২০১০ সালে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই বাড়িটি নিজের কাছে রাখতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর ধরে বাড়িটি বাজেয়াপ্ত-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ঋণ খেলাপির পর শেষ পর্যন্ত সম্পত্তির মালিকানা ডয়েচে ব্যাংকের কাছে যায়। টরি ম্যাকমেকানের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে চাইলেও ব্যাংক তার সঙ্গে সহযোগিতা করেনি, কারণ ঋণটি ছিল তার স্বামীর নামে। এ নিয়ে তিনি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করলেও সেগুলো খারিজ হয়ে যায়। গত বছর কলোরাডো আপিল আদালত রায় দেন, টরি ম্যাকমেকানের দাবিতে বাড়ি বিক্রি স্থগিত রাখার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি নেই। এরপরই বাড়িটি বিক্রির তালিকায় তোলা হয়। তবে তিনি জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত তিনি বাড়ি ছাড়বেন না। তার ভাষায়, বাড়িটি যে-ই কিনুক না কেন, তিনি সেখানেই থাকবেন। বাড়িটির অস্বাভাবিক বিক্রির শর্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এমন শর্তে বাড়ি বিক্রিকে বিস্ময়কর বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বাড়ি না দেখেই এবং একজন বাসিন্দাকে উচ্ছেদের দায় নিয়ে এত অর্থ খরচ করে সম্পত্তি কেনার যৌক্তিকতা নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের লংমন্ট শহরের একটি ব্যস্ত মোড়ের ট্রাফিক ক্যামেরায় গত কয়েক মাসে প্রায় ছয় হাজার চালক গতির নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা গুনেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ চালকই পূর্বমুখী লেনে গাড়ি চালানোর সময় ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে স্পিড টিকিট বা জরিমানা পেয়েছেন। স্থানীয় চালক ও বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেন প্র্যাট বুলেভার্ড এবং মেইন স্ট্রিটের ওই সংযোগস্থলটিতে প্রতিদিন লাখ লাখ গাড়ি যাতায়াত করলেও শুধু নির্দিষ্ট একটি দিকেই এত বিপুল পরিমাণ জরিমানা হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় চালক গ্রেগ ব্রন নিজেও ৩৫ মাইলের জায়গায় ৪৮ মাইল গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ৪০ ডলারের জরিমানা পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেন। তাঁর মতে, অল্প দূরত্বের ব্যবধানে রাস্তার গতিসীমা হঠাৎ করে পরিবর্তন হওয়াই এত বেশি চালক ট্রাফিক আইনের শিকার হওয়ার প্রধান কারণ। মূলত ওই মোড়টি পার হওয়ার ঠিক পূর্ব দিকেই রাস্তার পোস্ট করা গতিসীমা ঘণ্টায় ৩৫ মাইল থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫৫ মাইল করে দেওয়া হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, ৫৫ মাইলের সাইনটি কাছেই থাকায় চালকরা অনেক সময় নির্ধারিত সীমার আগেই গতি বাড়িয়ে ফেলেন, যা ক্যামেরার নজরে পড়ে যায়। লংমন্ট শহরের ট্রাফিক ডেটা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ চালকই এই দুই গতির মধ্যবর্তী একটি গতিতে গাড়ি চালানোর সময় ক্যামেরার ফ্ল্যাশে ধরা পড়েছেন। এই সমস্যার সমাধান নিয়ে কলোরাডো ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন বা সিডিওটি এবং লংমন্ট শহরের কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে কিছুটা মতপার্থক্য দেখা গেছে। সিডিওটি জানিয়েছে যে স্পিড ক্যামেরা ও চালকদের ঝামেলা এড়াতে গতিসীমার সাইনটি আরও প্রায় ৫০০ ফুট পূর্বে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে লংমন্ট শহরের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে এবং এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে লংমন্ট সিটি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা এ বিষয়ে কোনো সাম্প্রতিক আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়নি। কর্তৃপক্ষের এমন টানাপোড়েনের মাঝেও চলতি বছর লংমন্টের ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে ইতোমধ্যে দুই লাখ ডলারের বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ক্ষুব্ধ চালকরা এই অসংগতি দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সিডিওটি এবং লংমন্ট সিটি জানিয়েছে যে স্থানীয় সড়কে ট্রাফিক নিরাপত্তা আরও উন্নত করতে তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে নিজেকে সহিংসতা-বিরোধী কর্মী হিসেবে পরিচিত করা লুমুম্বা সেয়ার্স সিনিয়র শেষ পর্যন্ত প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৫১ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। নিজের ছেলের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার আদালত এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ডেনভারে একটি শান্তি সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর সেয়ার্স কলোরাডোর কমার্স সিটির প্যারাডাইস আইল্যান্ড ওয়াটার পার্কে যান। সেখানে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ২৮ বছর বয়সী ম্যালকম ওয়াটসনকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই ওয়াটসনের মৃত্যু হয়। হামলার সময় তার ছোট ছেলে এবং আরও অনেক মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তদন্তে উঠে আসে, সেয়ার্স বিশ্বাস করতেন ওয়াটসনের সঙ্গে তার ছেলে লুমুম্বা সেয়ার্স জুনিয়রের ২০২৩ সালের হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক ছিল। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রতিশোধ নিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। তবে প্রসিকিউটররা জানান, ওই অভিযোগের পক্ষে কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না এবং প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার কারও নেই। মামলার বিচার শেষে জুরি তাকে দ্বিতীয়-ডিগ্রি হত্যা, আলামত নষ্ট করা এবং আলামত নষ্টের চেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত হত্যা মামলায় ৪৮ বছর এবং বাকি দুটি অভিযোগে ধারাবাহিকভাবে আরও তিন বছর কারাদণ্ড দিয়ে মোট ৫১ বছরের সাজা ঘোষণা করেন। আদালতে প্রসিকিউটররা বলেন, সেয়ার্স হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি পরে সরিয়ে ফেলেন এবং ঘটনাস্থলে ভিন্ন একটি আগ্নেয়াস্ত্র রেখে তদন্ত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও, ফরেনসিক আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেন। লুমুম্বা সেয়ার্স একজন সাবেক মিশ্র মার্শাল আর্টস (এমএমএ) ফাইটার এবং ‘হেভি হ্যান্ডস, হেভি হার্টস’ নামে একটি যুব সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের অস্ত্র ও সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে কাজ করার দাবি করতেন। তবে প্রসিকিউটরদের ভাষায়, শেষ পর্যন্ত তার নিজের কর্মকাণ্ডই সেই বার্তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অরোরা শহরে অভিবাসন আটককেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হওয়া ২১ বছর বয়সী এমা ল্যান্ডিস হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর আবারও একই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। আহত অবস্থায়ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার তার এই সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অরোরা আইসিই প্রসেসিং সেন্টারের বাইরে অভিবাসনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছিল। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভ শেষে দুই নারী সরে যাওয়ার সময় আটককেন্দ্র পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপের ৪২ বছর বয়সী কর্মী ব্র্যান্ডন বুথ ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়েন। এতে এমা ল্যান্ডিসের ডান পায়ের গোড়ালিতে গুলি লাগে। তার আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এমা ল্যান্ডিস স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই ঘটনার কারণে তিনি ভীত নন এবং আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন না। তার ভাষায়, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো সাংবিধানিক অধিকার, আর সেই অধিকার প্রয়োগ করতেই তিনি আবার বিক্ষোভে ফিরেছেন। অরোরা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্র্যান্ডন বুথকে ঘটনাস্থলের কাছ থেকেই আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, গুলিটি তার ব্যক্তিগত পিস্তল থেকেই ছোড়া হয়েছিল। আটককেন্দ্রটি পরিচালনা করা জিও গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার সময় ব্র্যান্ডন বুথ দায়িত্বে ছিলেন না। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে প্রতিষ্ঠানটি সহযোগিতা করবে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিষয়ক নীতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইসিই আটককেন্দ্রের বাইরে নিয়মিত বিক্ষোভ হচ্ছে। অরোরার এই ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। তবে এমা ল্যান্ডিসকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাটি নতুন করে বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শুক্রবার দক্ষিণ কলোরাডোতে দমকলকর্মীরা অ্যাসপেন একরস ফায়ারের নিয়ন্ত্রণ উন্নত করতে সক্ষম হয়েছেন, যদিও দাবানলটি প্রায় ১ লাখ ২২৩ একর এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কলোরাডো ডিভিশন অব ফায়ার প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অনুযায়ী, অ্যাসপেন একরস ফায়ার কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে জ্বলতে থাকা সবচেয়ে বড় দাবানল এবং রাজ্যের ইতিহাসে একর হিসেবে সপ্তম বৃহত্তম দাবানল। এই হিসাব অনুযায়ী অ্যাসপেন একরস ফায়ার ২০১৮ সালের স্প্রিং ক্রিক ফায়ারের চেয়ে সামান্য ছোট, যা ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫ একর পুড়িয়েছিল। দাবানলটি শুরু হওয়ার সময়ে বিদ্যমান চরম পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হয়েছে, তবে এলাকাটি এখনও মাঝারি অগ্নিঝুঁকির মুখোমুখি। স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস চিফ ম্যানি মেন্ডোজা বলেন, আর্দ্রতা বৃদ্ধি এবং শান্ত বাতাস দমকলকর্মীদের বেশি ঝুঁকিতে না ফেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আরও আগ্রাসী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত তারা ৬১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছেন। মেন্ডোজা জানান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আগুন তীব্র হওয়ার আগ পর্যন্ত অ্যাসপেন একরস ফায়ারকে দেশের বৃহত্তম অগ্নি বিপর্যয় বিবেচনা করা হচ্ছিল, যার ফলে অন্য অঙ্গরাজ্য থেকে সম্পদ পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। কর্মীরা আগুনের বিস্তার সীমিত করতে ফায়ার লাইন শক্তিশালী করছেন এবং নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছেন। কিছু এলাকার ইভ্যাকুয়েশন বা খালি করার নির্দেশনার মাত্রা কমানো হয়েছে, তবে মেন্ডোজা জোর দিয়ে বলেছেন যে মানুষ যেন অকালে বাড়ি ফিরে না যায়। রাই ফায়ার প্রোটেকশন ডিস্ট্রিক্টের ফায়ার চিফ রস গ্যালেগোস সোমবার কমিউনিটির কাছে লেখা একটি চিঠিতে বাসিন্দাদের ফিরে আসার উদ্বেগের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, তবে সতর্ক করেছেন যে আগুন শহর থেকে মাত্র দুই মাইল দূরে রয়েছে এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বাসিন্দাদের ধৈর্য ধরতে বলেছেন এবং যাদের ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের অনুমোদন ছাড়া চেকপয়েন্টের বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। হুয়েরফানো কাউন্টির কমিশনার মিচেল ওয়ার্ডেল জানিয়েছেন যে হুয়েরফানো কাউন্টি একটি পানি সাশ্রয় নোটিশে প্রবেশ করছে এবং বাসিন্দাদের পানি বাঁচাতে সাহায্য করতে বলেছেন। ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস কাছাকাছি বাসিন্দাদের মনে করিয়ে দিয়েছে যে, দাবানলটির নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পেলেও এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসতে সম্ভবত কিছুটা সময় লাগবে।
মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৬০ মাইলের বেশি গতির দমকা হাওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডেট্রয়েট মেট্রো এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। পরে রাত ১১টা নাগাদ ডিটিই ও কনজিউমার্স এনার্জির সেবা এলাকাসহ পুরো মিশিগানে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। শনিবার সকাল পর্যন্তও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ডিটিই এনার্জি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত, উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চলছে। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক পরিবারও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান ও রেফ্রিজারেটর বন্ধ রয়েছে। ফলে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক পরিবার। এ পরিস্থিতিতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলেন মিশিগান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ের পর থেকে তার নিজের বাসাতেও বিদ্যুৎ নেই। মিনহাজ চৌধুরী বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই। প্রচণ্ড গরমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে সময় কাটছে। শুধু আমাদের নয়, আশপাশের অনেক বাংলাদেশি পরিবারেরও একই অবস্থা। সবাই অপেক্ষা করছেন কখন বিদ্যুৎ ফিরে আসবে।” তিনি আরও বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে ইউটিলিটি কোম্পানির কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট একসঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া এবং বিদ্যুৎ না থাকলে নিরাপদ ও শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভার শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে এক ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তীব্র ও প্রতিকূল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত কলোরাডোর দুটি কাউন্টিতে ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবারের মধ্যে ১৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ও স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ওই অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অ্যাস্পেন একরস নামের এই ভয়াবহ দাবানলটি বর্তমানে আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে জ্বলতে থাকা প্রায় ৪০টি বড় অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকাণ্ডের একটি। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত কয়েক মাসের চরম শুষ্ক আবহাওয়া এবং গত শীতকালে রেকর্ড পরিমাণ কম তুষারপাতের কারণেই এই অঞ্চলের বনাঞ্চলগুলো এতটা অগ্নিঝুঁকিতে পড়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এই আগুন প্রায় ১১৫ বর্গমাইল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পুয়েবলো জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। পুয়েবলো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ২ হাজার ২০০ বাসিন্দার বসতি কলোরাডো সিটিসহ বিউলাহ, রাই এবং সান ইছাবেল শহরের সমস্ত মানুষকে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগুনের ভয়াবহতা এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় কাস্টার ও পুয়েবলো কাউন্টির সড়কগুলোতে নিরাপত্তা চৌকি বা চেকপয়েন্ট তদারকি করতে শুক্রবার ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ৫০ জন সেনাকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহের কাজ নির্বিঘ্ন করতে সাধারণ নৌকাগুলোকে দূরে রাখার কাজে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা স্টেট পার্ক রেঞ্জারদের সহায়তা করছেন। রকি পর্বতের পশ্চিম দিকে কলোরাডো ও ইউটা সীমান্তের স্নাইডার ফায়ার নামের আরেকটি দাবানলের প্রায় ৬৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন দমকলকর্মীরা। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সেখানে আগুন নেভানোর কাজ করার সময় অগ্নিশিখার কবলে পড়ে একটি হেলিকপ্টার দলের তিন সদস্য নিহত এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এছাড়া ইউটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কটনউড আগুন এবং দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ব্যাবিলন আগুনও দ্রুত বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের লেডভিল শহরের পশ্চিমাঞ্চলে একটি ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। 'উইলো ফায়ার' নামের এই দাবানলটি দ্রুত লোকালয়ের দিকে ধেয়ে আসায় আশেপাশের বেশ কয়েকটি সড়ক, ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পর্যটন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লেক কাউন্টির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, রোববার বিকেলে মাউন্ট ম্যাসিভ এলাকার টুইন মাউন্ডসের কাছে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং ইতিমধ্যে তা ১ হাজার ৬৬ একরেরও বেশি বনভূমি গ্রাস করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। জননিরাপত্তার স্বার্থে রোববার বিকেল ৫টা থেকে কাউন্টি রোড ৪, ৯, ৯ডি, ৫এ, ৪৮ এবং ৯৯ সহ আশেপাশের সব সড়ক ও ট্রেইল থেকে সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র টারকোয়েজ লেকের চারপাশের সব ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং বনের ভেতরের পায়ে হাঁটার পথগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় পরবর্তী সময়ে হেগারম্যান পাস এবং কলোরাডো ট্রেইল এলাকাতেও অতিরিক্ত সতর্কতা ও উচ্ছেদ এলাকা ঘোষণা করা হয়। বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য কলোরাডো মাউন্টেন কলেজ জিমনেশিয়ামে একটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গৃহহীন বাসিন্দারা যাতে পরবর্তীতে নিজেদের এলাকায় নিরাপদে ফিরতে পারেন, সেজন্য তাদের পরিচয়পত্র নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে। জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের নিজেদের ঠিকানার প্রমাণপত্র সাথে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া খামারের বড় পশুদের সুরক্ষার জন্য বুয়েনা ভিস্তার রোডিও গ্রাউন্ডে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোট ছোট গৃহপালিত প্রাণীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সাহায্য করছে স্থানীয় লেডভিল অ্যানিমেল শেল্টার। এদিকে গ্র্যান্ড ওয়েস্ট এলাকা, মাউন্টেন ভিউ ইস্ট ও ওয়েস্ট এবং সিলভার হিলস সাবডিভিশনের বাসিন্দাদের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় এলাকা ছাড়ার জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি দল কাজ করলেও শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে আগুন নেভাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের পাহাড়ে গত সপ্তাহে এক আহত পর্বতারোহীকে উদ্ধারে চালানো একটি সফল অভিযান এখন পর্যন্ত রাজ্যটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ উচ্চতার 'হোইস্ট রেসকিউ' বা হেলিকপ্টারের দড়ির সাহায্যে করা উদ্ধার অভিযান হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। গত ১৩ জুন কাস্টার এবং সাগওয়াচ কাউন্টির সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত ক্রেস্টোন পিক পাহাড়ের পূর্ব পাশের একটি সংকীর্ণ খাঁজ থেকে কলোরাডো আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের একটি দল ওই আহত ব্যক্তিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ের ১৪,৩৫৬ ফুট উচ্চতায় ঝুলন্ত অবস্থা থেকে ওই আহত পুরুষ আরোহীকে হেলিকপ্টারের বিশেষ দড়ির সাহায্যে ওপরে টেনে তোলা হয়। উদ্ধারকাজের সময় ‘ইউএইচ-৬০এল ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টারটি পাতলা বাতাসের তীব্র ঝুঁকি উপেক্ষা করে পাহাড়ের ১৪,৩৮০ ফুট ওপরে শূন্যে স্থির বাHover অবস্থায় ছিল এবং উদ্ধারকর্মীরা প্রায় ১৮০ ফুট লম্বা কেবল বা তার নিচে নামিয়ে দিয়ে এই অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন। জানা গেছে, ওই পর্বতারোহী পাহাড় বেয়ে ওঠার সময় প্রায় ৩০ ফুট ওপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। পড়ে যাওয়ার সময় তার মাথায় হেলমেট পরা থাকলেও তিনি মাথায় মারাত্মক আঘাত পান এবং শরীরের অন্যান্য অংশেও প্রচণ্ড চোটের কারণে পাহাড়ের ওপর অবশ হয়ে পড়েছিলেন। তার এই বিপদের খবর পেয়ে কাস্টার, সাগওয়াচ এবং অ্যালামোসা কাউন্টির স্থল উদ্ধারকারী দলগুলো পায়ে হেঁটে পাহাড়ের দুর্গম পথ বেয়ে ওপরের দিকে রওনা হয়েছিল। স্থলভাগের দলগুলো পৌঁছানোর আগেই আকাশপথে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ‘অ্যালপাইন রেসকিউ’ নামের একটি সংস্থার দুজন বিশেষ উদ্ধারকর্মী হেলিকপ্টার থেকে দড়ির সাহায্যে নিচে নেমে আসেন। এই উদ্ধার অভিযানকে ব্যাকআপ বা সহায়তা দিতে পাহাড়ের দুই পাশে আরও দুটি মেডিকেল হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পাহাড় থেকে ওপরে টেনে তোলার পর আহত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ আছেন। এর আগে ২০২৫ সালে টরিস পিক পাহাড়ে বজ্রপাতের শিকার এক ব্যক্তিকে ১৪,২০০ ফুটের বেশি উচ্চতা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যা ছিল পূর্ববর্তী রেকর্ড। এবারের অভিযানটি আগের সেই রেকর্ড উচ্চতাকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, পাহাড়ের এমন চরম উচ্চতায় বাতাস অনেক পাতলা থাকে, যার ফলে হেলিকপ্টার শূন্যে ভাসিয়ে রাখা বা লিফট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সব বাধা পেরিয়ে মার্কিন উদ্ধারকারীরা এই ঐতিহাসিক ও সফল উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদের রিপাবলিকান প্রার্থী ভিক্টর মার্ক্সের নির্বাচনী তহবিলে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধ অনুদান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে নিজেকে নির্বাচনী দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে দাবি করলেও এখন তাকে হাজার হাজার ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস কলোরাডোর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কলোরাডোর রিপাবলিকান পার্টির সাবেক কর্মী ডার্সি শোয়েনিং গত ৮ মাস ধরে ভিক্টর মার্ক্সের নির্বাচনী প্রচারণার শত শত পাতার আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই জালিয়াতি উন্মোচন করেছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি এককভাবে সর্বোচ্চ ১,৪৫০ ডলার অনুদান দিতে পারেন। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, ১৫২ জন দাতা নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ডলার বেশি অর্থ দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন দাতা সীমা লঙ্ঘন করে একাই ৬,০০০ ডলার দিয়েছেন এবং অপর এক দাতা চার বছর আগে মারা গেলেও তার নাম ব্যবহার করে ২,০০০ ডলার অনুদান দেখানো হয়েছে। ডার্সি শোয়েনিং এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সেক্রেটারি অব স্টেটের দপ্তরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই মার্ক্সের প্রচারণামূলক দল ৮৫টি অবৈধ অনুদানের বিষয়টি স্বীকার করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়া বা যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে তাদের জীবনসঙ্গীর নামে সংশোধন করার কাজ শুরু করেছে। আইন অনুযায়ী এই অবৈধ টাকা তারা নিজের কাছে রাখতে পারবে না। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সংগৃহীত তহবিলের সিংহভাগ টাকাই ভোটারদের পেছনে খরচ না করে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত বিলাসিতায় উড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে পরামর্শক ফি বাবদ ৮ লাখ ৬৬ হাজার ডলার, নতুন পোশাক কেনাকাটায় ১ লাখ ১২ হাজার ডলার, বিমান টিকিট ও হোটেলে ২৮ হাজার ডলার এবং আরও অর্থ তোলার প্রচারণায় ১৩ লাখ ডলার খরচ করা হয়েছে। এছাড়া গত মাসে জমাদিয়া প্রতিবেদনে একই নাম ও ঠিকানার ভিন্ন ভিন্ন শহরের হাজার হাজার ভুয়া দাতার তালিকাও পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে তারা প্রত্যাহার করে নেয়। রিপাবলিকান দলের এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রায় ১৬০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেক্রেটারি অব স্টেটের দপ্তর জানিয়েছে, ভুল সংশোধনের জন্য প্রার্থীকে আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পুরোপুরি প্রমাণিত হলে ভিক্টর মার্ক্সকে ২ লাখ ১৬ হাজার থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে, যা বর্তমানে তার ব্যাংকে থাকা মোট তহবিলের চেয়েও অনেক বেশি। ভিক্টর মার্ক্সের মুখপাত্র অবশ্য এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তাদের প্রচারণা দল সমস্ত নির্বাচনী আর্থিক আইন মেনে চলেছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সেক্রেটারি অব স্টেটের দপ্তরের সাথে কাজ করছে। কলোরাডোর গভর্নর পদের দলীয় মনোনয়নের জন্য ভিক্টর মার্ক্স ছাড়াও আরও দুই রিপাবলিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।