যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিতে ভুয়া বিয়ের রমরমা ব্যবসা, অভিযুক্ত ১১ জন
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বুধবার ১১ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি বিশাল 'ভুয়া বিয়ে' বা প্রতারণামূলক বিবাহ চক্র চালানোর অভিযোগ গঠন করেছে। গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের এক হাজারেরও বেশি ভুয়া বিয়ের আয়োজন করেছে এই চক্রটি।
নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রাপ্ত ২১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই প্রতারণা চক্রটি ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হয়ে আসছিল। অ্যামি চেং, জিয়াও মেই চ্যান এবং গ্যাং ঝেং নামের অভিযুক্তরা মূলত এই চক্রের নেতৃত্ব দিতেন। অভিযোগ গঠনের সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এটিকে "যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বিবাহ জালিয়াতির অন্যতম বড় মামলা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, এটি কোনো ক্ষণস্থায়ী বা রাতারাতি গড়ে ওঠা চক্র ছিল না, বরং যারা বৈধভাবে মার্কিন নাগরিক হতে পারতেন না, তাদের বেআইনিভাবে সাহায্য করার জন্য এটি ছিল বহু বছরের এবং কয়েক মিলিয়ন ডলারের একটি লাভজনক ব্যবসা।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে চীনের নাগরিকদের কাছে এই প্রতারণামূলক ইমিগ্রেশন সেবার প্রচার চালাতে মুখে মুখে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নিত। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ভুয়া বিয়ের আয়োজনে সহায়তার জন্য বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে মাথাপিছু প্রায় এক লাখ ডলার পর্যন্ত হাতিয়ে নিত চক্রটি। অন্যদিকে, এই কাজের মধ্যস্থতাকারীরা প্রায় পাঁচ হাজার ডলার করে কমিশন পেতেন।
মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ধোঁকা দিতে ভুয়া বিয়ের অনুষ্ঠানের নানা ছবি জমা দেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটররা। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় স্থানীয় রেস্তোরাঁয় বিয়ের আয়োজন করা হতো, যেখানে বর-কনে ঐতিহ্যবাহী চীনা বিয়ের পোশাক পরতেন। এমনকি অনুষ্ঠানটিকে আসল প্রমাণ করতে এবং লোকদেখানোর জন্য বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদেরও আমন্ত্রণ জানানো হতো। নিউইয়র্ককে কেন্দ্র করে এই চক্র পরিচালিত হলেও, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, পেনসিলভানিয়া, কেনটাকি, টেনেসি, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, ভানুয়াতু এবং চীন জুড়ে এই ভুয়া বিয়ের জাল বিছিয়েছিল অভিযুক্তরা।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তারা খুব শিগগিরই এমন এক ধরনের বিশেষ গ্লাভস বা হাতমোজা ব্যবহার করতে যাচ্ছেন, যা দিয়ে সন্দেহভাজনদের বৈদ্যুতিক শক বা 'ইলেকট্রিক শক' দেওয়া যাবে। মূলত গ্রেপ্তারের সময় বাধা দেওয়া বা আক্রমণাত্মক ব্যক্তিদের দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এই গ্লাভস ব্যবহার করা হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী মার্চের মধ্যে আইসিই এই বিশেষ গ্লাভস কিনতে ১ থেকে ২ কোটি (১০-২০ মিলিয়ন) ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। এই বিশেষ গ্লাভসটি ‘জি.এল.ও.ভি.ই’ (G.L.O.V.E.) নামে পরিচিত, যার পূর্ণরূপ হলো ‘জেনারেটেড লো আউটপুট ভোল্টেজ এমিটার’। কেনটাকির লেক্সিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি এটি তৈরি করেছে। দেখতে সাধারণ পেট্রোল গ্লাভসের মতো হলেও এতে একটি সুইচ রয়েছে, যা চাপলেই বৈদ্যুতিক মোড চালু হয়ে যায়। এটি সরাসরি কারও ত্বকে স্পর্শ করলে যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতির সৃষ্টি হয়, যাকে বিশেষজ্ঞরা মৌমাছির হুলের মতো তীক্ষ্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। কোম্পানির দাবি, এই ব্যথা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আক্রমণাত্মক ব্যক্তিকে শান্ত ও বাধ্য করতে সাহায্য করে। বয়স্ক বা শারীরিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল কর্মকর্তাদের জন্য এটি শারীরিক ধস্তাধস্তি এড়ানোর একটি দারুণ হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আইসিই-র এই উদ্যোগ ঘিরে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)-সহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা কর্মীরা। তাদের মতে, অভিবাসন ধরপাকড় অভিযানে আইসিই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এসিএলইউ-এর এক কর্মকর্তা জানান, বোতাম টিপেই কাউকে ভয়ংকর বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার এই সুযোগ জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ হতে পারে। যদিও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সতর্ক করে বলেছে, এই গ্লাভস কোনোভাবেই শাস্তিস্বরূপ কিংবা শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীদের ওপর ব্যবহার করা যাবে না। এটি ব্যবহারের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করার পাশাপাশি প্রতি দুই বছর পরপর পুনরায় সনদ নিতে হবে। হোয়াইট হাউসের চাপে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আইসিই যখন দেশজুড়ে তাদের অভিযান জোরদার করেছে, ঠিক এমন সময়েই এই বৈদ্যুতিক গ্লাভস কেনার উদ্যোগ সামনে এলো। সাম্প্রতিক ধরপাকড় অভিযানে বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত মাসে বডি ক্যামেরা ছাড়াই আইসিই এজেন্টদের গুলিতে দুই অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সেই সমালোচনার মুখে ডিএইচএস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, এখন থেকে আইসিই-র প্রতিটি গ্রেপ্তারকারী দলের অন্তত একজন কর্মকর্তার কাছে বডি ক্যামেরা থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে কার্ড স্কিমিংয়ের ভয়াল ফাঁদ, সোয়াইপ করলেই হাতিয়ে নিচ্ছে লাখো ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দিতে ভুয়া বিয়ের রমরমা ব্যবসা, অভিযুক্ত ১১ জন
চট্টগ্রামের মেজবানের স্বাদে মাতবে ভার্জিনিয়া, নকিব খান-প্রতীক হাসানের গানে জমবে প্রবাসীদের মিলনমেলা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত এক বিরল আইনি বিবাদে যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। আলাস্কার অধিবাসী ম্যাকক্যানা ওয়েস্ট নামের এক সারোগেট মায়ের গর্ভে থাকা 'গ্যাব্রিয়েল' নামের একটি শিশুর প্রাণ রক্ষায় এই রায় দেওয়া হয়। গর্ভাবস্থার প্রায় ২০ সপ্তাহের দিকে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি 'হাইপোপ্লাস্টিক লেফট হার্ট সিনড্রোম' নামক একটি জটিল ও বিরল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। এই রোগে হৃদপিণ্ডের বাম দিকটি সঠিকভাবে বিকশিত হয় না। এই খবর শোনার পর ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা নওশীন গিলকার ও ওমর আহমেদ সারোগেট মাকে গর্ভপাতের নির্দেশ দেন। কিন্তু ম্যাকক্যানা ওয়েস্ট তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং শিশুটিকে বাঁচাতে উন্নত চিকিৎসার আশায় টেক্সাসের ডালাসে পাড়ি জমান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন। তাঁর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, চুক্তিবদ্ধ বাবা-মা শিশুটির প্রথম অস্ত্রোপচারে সম্মতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং তাকে টেক্সাসের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এই পরিস্থিতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের দ্বারস্থ হন। অবশেষে বুধবার টেক্সাসের আদালত নির্দেশ দেয় যে, গ্যাব্রিয়েল জন্ম নেওয়ার পর তাকে অবশ্যই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। কেন প্যাক্সটনের কার্যালয় থেকে আরও জানানো হয় যে, কোনো গর্ভকালীন চুক্তি শিশুর জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্যমতে, এই ধরনের হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণত তিনটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, যার প্রথমটি জন্মের দুই সপ্তাহের মধ্যেই করতে হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও তাকে আজীবন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বাঁচতে হতে পারে। আদালত চিকিৎসায় বাধা দেওয়া ঠেকাতে চুক্তিবদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এছাড়া চিকিৎসার স্বার্থে আদালত শিশুটির জন্য একজন আইনি প্রতিনিধি বা 'গার্জিয়ান অ্যাড লাইটেম' নিয়োগ করেছে। আগামী ২৫ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার ডে-কেয়ারে অন্য শিশুদের সামনেই স্ত্রী-সন্তানকে হ ত্যার পর বাবার আত্মহ ত্যা
ফ্লোরিডায় কুমিরের আক্রমণে হাত হারালেন ৫৮ বছর বয়সী নারী, টিকটকারদের দুষছেন ছেলে
চার সন্তান ও স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বাবার, পুলিশকে ফোন করে নিজেই জানালেন
ক্যানসারে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুরোনো একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, বাইডেনের স্টেজ ফোর প্রোস্টেট ক্যানসারের কারণে তার প্রতি সহানুভূতি না দেখাতে মার্কিনিদের বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে বক্তব্যটির মূল ভিডিও ও সরকারি ট্রান্সক্রিপ্ট যাচাই করে দেখা যায়, ট্রাম্প কথাগুলো বললেও তিনি ওই সময় সরাসরি বাইডেনের ক্যানসারের কথা উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প মন্তব্যটি করেছিলেন ২০২৫ সালের ৩০ মে হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্ককে সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে। এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, ১৮ মে বাইডেনের অফিস থেকে তার প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে কথা বলছিলেন ট্রাম্প। একপর্যায়ে বাইডেন সম্পর্কে তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট তার রাজনৈতিক জীবনে মোটামুটি মধ্যপন্থী ছিলেন, তবে তিনি একজন ‘ভয়ংকর’ ব্যক্তি। এরপর ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার যদি তার জন্য খারাপ লাগে, তাহলে এতটা খারাপ লাগার দরকার নেই। কারণ তিনি ভয়ংকর।’ বাইডেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও অন্য অনেক মানুষের ক্ষতি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। এরপর তিনি বলেন, ‘তাই তার জন্য আমার সত্যিই খারাপ লাগে না।’ তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বাইডেনের ক্যানসার বা তার চিকিৎসার কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি। সরকারি ট্রান্সক্রিপ্টেও দেখা যায়, মন্তব্যটি এসেছিল বাইডেন প্রশাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘ বক্তব্যের মধ্যে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘বাইডেনের ক্যানসারের জন্য সহানুভূতি দেখাতে নিষেধ করেছেন ট্রাম্প’ এমন সরাসরি ব্যাখ্যা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ট্রাম্প যে বাইডেনকে ‘ভয়ংকর’ বলেছেন এবং তার জন্য নিজের সহানুভূতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন, সেটি ভিডিও ও সরকারি নথিতে নিশ্চিত। কিন্তু তিনি ওই মন্তব্যের মাধ্যমে বিশেষভাবে বাইডেনের ক্যানসারকেই বোঝাচ্ছিলেন কি না, তা বক্তব্যের প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট নয়। বাইডেনের ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। ১৮ মে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বাইডেনের চিকিৎসাজনিত খবর শুনে তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প দুঃখিত। একই সঙ্গে বাইডেনের দ্রুত ও সফল আরোগ্য কামনা করেন। পরদিন থেকেই অবশ্য বাইডেনের ক্যানসার কখন শনাক্ত হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, বাইডেনের অসুস্থতার তথ্য আগে থেকেই জানা ছিল কি না। বাইডেনের অফিস ২০২৫ সালের মে মাসে জানায়, তার প্রোস্টেট ক্যানসার হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা ক্যানসারটির গ্লিসন স্কোর ৯ এবং গ্রেড গ্রুপ ৫ হিসেবে শনাক্ত করেন, যা রোগটির উচ্চমাত্রার আক্রমণাত্মক ধরন নির্দেশ করে। তবে ক্যানসারটি হরমোন সংবেদনশীল হওয়ায় কার্যকর চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। নিজের চিকিৎসা নিয়ে পরে বাইডেন জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকেরা তার পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী এবং তিনি চিকিৎসা শুরু করেছেন। এক বছরের বেশি সময় আগের ট্রাম্পের ওই বক্তব্য এখন আবার ভাইরাল হওয়ায় এর সঙ্গে বাইডেনের ক্যানসারকে সরাসরি যুক্ত করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। তবে মূল বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট বলছে, ট্রাম্প বাইডেনের প্রতি সহানুভূতি না থাকার কথা বলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি ক্যানসারের প্রসঙ্গ তোলেননি। তাই বক্তব্যটির রাজনৈতিক ও চিকিৎসাজনিত প্রেক্ষাপট আলাদা করে দেখা জরুরি।
মামদানির রেন্ট ফ্রিজ ও নতুন করের শঙ্কার মধ্যে ম্যানহাটনে বাড়িভাড়ার রেকর্ড! মাসে ৬ হাজার ৬৫৫ ডলার
কলোরাডোয় খাড়া পাহাড়ে রাস্তা থেকে গাড়ি ছিটকে নিহত ১৭ বছরের পাঁচ কিশোর