যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কতা: আপনার গাড়ির নম্বর পুলিশ খুঁজেছে কি না জানবেন যেভাবে
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য গাড়ির লাইসেন্স প্লেট এখন শুধু পরিচয় নম্বর নয়, এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থারও অংশ। দেশজুড়ে বিভিন্ন শহর ও সড়কে বসানো ফ্লক সেফটির লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরা প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গাড়ির তথ্য ধারণ করছে। আর এখন নতুন একটি অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে গাড়ির মালিকেরা জানতে পারছেন, তাদের লাইসেন্স প্লেট নম্বর ফ্লকের ডেটাবেজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ব্যবহারকারী খুঁজেছেন কি না।
‘হ্যাভ আই বিন ফ্লকড’ নামের ওয়েবসাইটটি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকে সংগ্রহ করা অডিট লগ এক জায়গায় এনে এই সুবিধা দিচ্ছে। ফলে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি গাড়ির মালিকদের কাছেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফ্লক সেফটির স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরা সাধারণ ট্রাফিক ক্যামেরার মতো শুধু ভিডিও ধারণ করে না। গাড়ি ক্যামেরার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় লাইসেন্স প্লেট, সময়, অবস্থান এবং গাড়ির কিছু দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরে নির্দিষ্ট গাড়ি শনাক্ত বা তদন্তের প্রয়োজনে এই তথ্য অনুসন্ধান করতে পারে।
নতুন ওয়েবসাইটে নিজের লাইসেন্স প্লেট নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে সেটি ফ্লকের অডিট লগে পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা জানা যেতে পারে। অর্থাৎ কোনো পুলিশ বিভাগ বা অনুমোদিত ব্যবহারকারী ওই প্লেট নম্বর দিয়ে ফ্লকের ব্যবস্থায় অনুসন্ধান চালিয়েছেন কি না, তার রেকর্ড থাকলে সেটি সামনে আসতে পারে।
তবে বাংলাদেশি কমিউনিটির গাড়ির মালিকদের এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। ওয়েবসাইটে নিজের লাইসেন্স প্লেট পাওয়া মানেই পুলিশ আপনাকে অপরাধী মনে করছে বা আপনার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, এমন নয়। চুরি যাওয়া গাড়ি খোঁজা, কোনো ঘটনার সাক্ষী বা সংশ্লিষ্ট গাড়ি শনাক্ত করা, নিখোঁজ ব্যক্তির অনুসন্ধান কিংবা অন্য বৈধ আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমের অংশ হিসেবেও একটি প্লেট নম্বর খোঁজা হতে পারে।
আবার ওয়েবসাইটে নিজের প্লেট নম্বর না পাওয়া গেলেও ধরে নেওয়া যাবে না যে সেটি কখনো ফ্লকের ব্যবস্থায় অনুসন্ধান করা হয়নি। ‘হ্যাভ আই বিন ফ্লকড’ মূলত সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া অডিট লগ ব্যবহার করছে। সব পুলিশ বিভাগ বা সরকারি সংস্থার তথ্য তাদের হাতে নেই। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ফ্লক নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ নয়।
এ কারণেই বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো অনলাইন ফলাফল দেখেই পুলিশ নজরদারি করছে, মামলা হয়েছে বা গ্রেফতারের ঝুঁকি রয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
ফ্লক সেফটির প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে। পুলিশ বিভাগগুলোর বক্তব্য, গাড়ি চুরি, অপহরণ, নিখোঁজ ব্যক্তি এবং গুরুতর অপরাধের তদন্তে স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট রিডার গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে। একটি গাড়ি কখন এবং কোন এলাকায় দেখা গেছে, সেই তথ্য দ্রুত পাওয়ায় তদন্তকারীদের অনুসন্ধানের পরিধি সংকুচিত করা সম্ভব হয়।
তবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রশ্নও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি ছাড়া বিপুলসংখ্যক ক্যামেরা এবং অনুসন্ধানযোগ্য লাইসেন্স প্লেটের তথ্য সাধারণ মানুষের চলাচলের ইতিহাস অনুসরণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লক ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। কিছু ঘটনায় ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে লাইসেন্স প্লেটের তথ্য অনুসন্ধানের অভিযোগ ওঠার পর কে, কখন এবং কী কারণে এই ডেটাবেজ ব্যবহার করছেন, তার ওপর আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে।
বিতর্কের মধ্যে ফ্লক সেফটিও তাদের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে। অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক অনুসন্ধান শনাক্ত করা, অনুসন্ধানের সঙ্গে মামলা নম্বর যুক্ত করার নিয়ম শক্ত করা এবং সাধারণভাবে তথ্য সংরক্ষণের সময় কমানোর মতো পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো নিজের লাইসেন্স প্লেট নম্বর কোথায় শেয়ার করছেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকা। লাইসেন্স প্লেট কোনো পাসওয়ার্ড বা সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নয়, রাস্তায় এটি প্রকাশ্যেই থাকে। তারপরও অপরিচিত বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে গাড়ির নম্বরসহ অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সেই সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গোপনীয়তার নীতি যাচাই করা ভালো।
কোনো ব্যক্তি নিজের গাড়ির প্লেট অনুসন্ধানের রেকর্ড দেখে উদ্বিগ্ন হলে প্রথমেই সেটিকে অপরাধ তদন্তের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। রেকর্ডে কোন সংস্থার নাম, সময় বা অন্য তথ্য রয়েছে তা ভালোভাবে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ বা প্রয়োজন অনুযায়ী আইনজীবীর কাছ থেকে তথ্য নেওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য মূল বার্তাটি তাই আতঙ্ক নয়, সচেতনতা। রাস্তায় চলাচলের সময় আপনার গাড়ির লাইসেন্স প্লেট স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরায় ধরা পড়তে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্দিষ্ট প্রয়োজনে সেই তথ্য অনুসন্ধানও করতে পারে। নতুন অনলাইন ব্যবস্থা সেই অনুসন্ধানের অন্তত কিছু অংশ সাধারণ মানুষের সামনে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে একটি রেকর্ড পাওয়া মানেই আপনি পুলিশের টার্গেট নন, আর কোনো রেকর্ড না পাওয়া মানেই আপনার গাড়ির তথ্য কখনো সংগ্রহ বা অনুসন্ধান করা হয়নি, সেটিও নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার এই সময়ে বাংলাদেশি গাড়ির মালিকদের জন্য নিজেদের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহার হচ্ছে, সে সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে ভারতের কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের দুটি ক্যাটাগরি আবার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ভারতের ইবি-২ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি ‘অনুপলব্ধ’ ছিল। নতুন বুলেটিনে সেগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফ তারিখ যথাক্রমে ১ নভেম্বর ২০১৩ ও ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ ক্যাটাগরির তারিখও এগিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউজউইকের প্রতিবেদনে মূলত এই অগ্রগতির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তবে অক্টোবরের পরিবর্তন সব আবেদনকারীর জন্য সুখবর নয়। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া আবেদনকারীরা সাধারণত বুলেটিনের ‘অন্যান্য দেশ’ কলামের অধীনে পড়েন। সেই কলামে ইবি-১ এবং সাধারণ ইবি-৫ ক্যাটাগরি আগের মতোই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও ইবি-২-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ অবস্থা থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২৫ হয়েছে। ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবী ক্যাটাগরির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ হয়েছে। ইবি-৩ ‘অন্যান্য কর্মী’ ক্যাটাগরিতে তারিখ ১ এপ্রিল ২০২২ থেকে পিছিয়ে ১ জানুয়ারি ২০২২ হয়েছে। এসব তারিখ দিয়ে গ্রিন কার্ড হাতে পাওয়ার সম্ভাব্য দিন বোঝানো হয় না। আবেদনকারীর প্রাইয়োরিটি ডেট বা অগ্রাধিকার তারিখ সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কাটঅফের আগে থাকলে ভিসা নম্বর দেওয়া বা গ্রিন কার্ড আবেদন চূড়ান্ত অনুমোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কাটঅফ এগোলে অপেক্ষার সারিতে নতুন কিছু আবেদনকারী সামনে আসেন; পিছিয়ে গেলে কিছু আবেদনকারীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আরও অপেক্ষায় পড়ে। এখানে আবেদন জমা দেওয়া এবং আবেদন অনুমোদন পাওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে কর্মভিত্তিক আই-৪৮৫ আবেদন জমার যোগ্যতা নির্ধারণে ইউএসসিআইএস ‘আবেদনের তারিখ’ সারণি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য প্রযোজ্য ‘অন্যান্য দেশ’ কলামে ওই সারণিতে ইবি-২-এর তারিখ ১৫ মার্চ ২০২৬, ইবি-৩ দক্ষ কর্মী ও পেশাজীবীদের ১ আগস্ট ২০২৪ এবং ইবি-৩ অন্যান্য কর্মীদের ১ জুন ২০২২। অন্য সব শর্ত পূরণ হলে এই কাটঅফের আগের প্রাইয়োরিটি ডেটধারী কেউ আবেদন জমা দিতে পারেন; চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তবু আলাদা ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ’ দেখতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছরের ভিসা সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। এতে কয়েকটি ক্যাটাগরি এগোলেও ‘অন্যান্য দেশ’ শ্রেণির কিছু কর্মভিত্তিক তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভিসা ইস্যু বছরের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে।
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে এক বছরে অভিবাসী শিক্ষার্থী কমেছে ১৪ হাজারের বেশি
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে বাড়তি নম্বরের অভিযোগ, এ যেন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাজিট’-এর পর ভারতীয় নারীদের নিশানা করে নতুন বর্ণবাদী গালি ‘ল্যাট্রিনাস’
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা গেইল পাইককে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও তাঁর মৃত্যু হয়নি। বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি একটি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করে স্বাধীন পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। ৫০ বছর বয়সী পাইক ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত। অপরাধের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। বুধবার সকালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা থাকলেও আপিল আদালতের স্থগিতাদেশে তা আটকে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করলে রাতে ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, পাইককে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও তিনি জীবিত ছিলেন। তাঁর আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কারাগারের বাইরে নেওয়া হয়। তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আইনজীবীদের কাছে তখন বিস্তারিত তথ্য ছিল না। টেনেসির সংশোধন বিভাগ দাবি করেছে, অনুমোদিত নিয়মের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। তবে সেই নিয়মে প্রথম দফার পর দণ্ডিত ব্যক্তি জীবিত থাকলে দ্বিতীয় দফা ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও, দ্বিতীয় দফার পরও জীবিত থাকলে কী করতে হবে, তা নির্দিষ্ট করা নেই বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। গভর্নর বিল লি ঠিক কী ঘটেছে, তা জানতে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। চলতি বছর টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে জটিলতার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। মে মাসে আরেক দণ্ডিত ব্যক্তির শরীরে ওষুধ দেওয়ার জন্য শিরায় সংযোগ স্থাপন করতে না পারায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করতে হয়েছিল। তবে পাইকের ক্ষেত্রে ওষুধ দেওয়ার পরও মৃত্যু না হওয়ার ঘটনাকে ব্যতিক্রমী বলেছেন মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবিন মাহের। ফেসবুক হুক: আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার পর রাতে শুরু হয়েছিল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া। দুই দফা ইনজেকশন দেওয়ার পরও জীবিত ছিলেন ক্রিস্টা পাইক। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি চলতি বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে টেনেসি।
লস অ্যাঞ্জেলেসে স্কুলের চারতলা থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ পরিবারের হাতে বিশ্বের পরিচিত সব ব্র্যান্ড, সম্পদের পরিমাণ শুনলে অবাক হবেন
ফ্রান্স থেকে ফ্লোরিডায় এসে ১০ বছরেও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না নারী
দীর্ঘ ১৪ বছর কোমায় থেকে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বাসিন্দা হিদার ব্রাউন। ২০১২ সালে কোমায় আচ্ছন্ন থাকা অবস্থাতেই তিনি তাঁর প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়ে বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হিদারের স্বামী শন ব্রাউন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন হিদার। ২০১২ সালের দিকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মস্তিষ্কের অ্যানিউরিজমের কারণে হিদারের তীব্র খিঁচুনি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে একপর্যায়ে তিনি কোমায় চলে যান। সে সময় তাঁর স্বামী শন ব্রাউন সামরিক বাহিনীর সদস্য হিসেবে আফগানিস্তানে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর কোমায় থাকা অবস্থাতেই ৩৪ সপ্তাহের মাথায় জরুরি সি-সেকশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় তাঁদের পুত্রসন্তান জন। জন্মের সময় জনের ওজন ছিল মাত্র ৪ পাউন্ড ৬ আউন্স। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হিদারের চিকিৎসার খবর ও তাঁর জীবনের গল্প মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ‘ব্রিংগিং হোম দ্য ব্রাউনস’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছিল। সেখান থেকেই শন নিয়মিত স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার আপডেট জানাতেন। ২০১৩ সালে হিদারকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সন্তান জন্মের দুই বছর পর তিনি একবার অস্পষ্ট স্বরে ছেলের নাম উচ্চারণ করেছিলেন, যা চিকিৎসায় বড় উন্নতির লক্ষণ বলে মনে করা হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি আর কখনোই পুরোপুরি চেতনা ফিরে পাননি। গত বছরও ফেসবুকের একটি আপডেটে ছেলে জনকে মায়ের পাশে বসে বই পড়ে শোনাতে দেখা গিয়েছিল। হিদারের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শনের দেওয়া ফেসবুক পোস্টটিতে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ মন্তব্য করে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ২টায় টেক্সাসের লংভিউ এলাকার গ্রেগটন মিশনারি ব্যাপটিস্ট চার্চে এই লড়াকু মায়ের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
১০ ডলারের কমে দুপুরের খাবার, সান ফ্রান্সিসকোতে ভোজনরসিকদের দীর্ঘ লাইন
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনকার্ড পেতে ভুয়া ডাকাতির নাটক, ভারতীয় কর্মী ফেরত, জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় দোকানমালিক