একটি ফোনকলের পরই ডিপোর্টেশন ফ্লাইট থেকে ফিরিয়ে আনা হলো মার্কিন সেনার স্ত্রীকে
এক মাসের বেশি সময় আইসিই হেফাজতে থাকার পর ব্রাজিলে ডিপোর্টেশনের জন্য বিমানে তোলা হয়েছিল মার্কিন সেনার স্ত্রী মাইসা লোপেস এলিয়াসারকে। কিন্তু মাঝআকাশে একটি রহস্যময় ফোনকলের পর বদলে যায় পরিস্থিতি। আইসিই কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ব্রাজিলে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। মাইসা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাকে লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে এনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী মাইসা ব্রাজিলের নাগরিক। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস জারামিলোর স্ত্রী। ২০১৯ সালে ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন মাইসা এবং পরে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ দেন। এরপর ৮ জুলাই একটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলে তাকে আটক করা হয়। এক মাসের বেশি সময় তিনি ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজতে ছিলেন।
গত বুধবার তাকে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে ব্রাজিলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। কিন্তু বিমান চলার সময়ই আইসিই কর্মকর্তাদের কাছে তাকে নিয়ে একটি ফোন আসে।
মাইসার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর একজন আইসিই কর্মকর্তা তার কাছে এসে জানতে চান, তিনি ব্রাজিলের উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
বিমানটি ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর অন্য আটক ব্যক্তিদের নামিয়ে দেওয়া হলেও মাইসাকে বিমানে রাখা হয়। পরে একই বিমানে তাকে আবার লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে আনা হয়।
কে সেই ফোন করেছিলেন কিংবা কেন শেষ মুহূর্তে তার ডিপোর্টেশন থামানো হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
তার স্বামী অ্যালেক্সিস জারামিলো বলেন, কে ফোন করেছিলেন তারা জানেন না। তবে কেউ একজন ফোন করার পরই তার স্ত্রীকে ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাইসা জানিয়েছেন, বিমানে থাকা আইসিই কর্মকর্তারা তাকে বলেছিলেন, তিনি এখন ‘বিখ্যাত’, কারণ তার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
অ্যালেক্সিস জারামিলো একজন মার্কিন নাগরিক এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তিনি বর্তমানে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোলকে সেনাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। স্ত্রী আটক হওয়ার পর মাইসার পাঁচ বছর বয়সী ছেলের দেখাশোনা করতে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে ছুটি নিতে হয়েছিল।
মাইসার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অভিবাসী স্ত্রী, স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের আটক এবং ডিপোর্টেশন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর আগে জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পরিবারের জন্য আগের কিছু সুরক্ষা প্রত্যাহার করার পর মার্কিন সেনাদের কয়েক ডজন স্বামী, স্ত্রী কিংবা বাবা-মা আইসিই হেফাজতের মুখোমুখি হয়েছেন।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসের একদল ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের ডিপোর্টেশন নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।
অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা মার্ক কেলিও মাইসার ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেলি মাইসাকে আটক রাখা আইসিই ফিল্ড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
কেলি সামরিক পরিবারের সদস্যদের আটক করার নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার বাস্তব সমাধান প্রয়োজন এবং সেনা পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা সেই সমস্যার সমাধান নয়।
মাইসার পরিবারকে সহায়তা করেছে ‘রিপ্যাট্রিয়েট আওয়ার প্যাট্রিয়টস’ নামে একটি অলাভজনক সংগঠন। সংগঠনটির প্রধান ডানিটজা জেমস বলেছেন, রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে সামরিক পরিবারকে সহায়তা করলে কী সম্ভব, এই পরিবারের পুনর্মিলন তারই উদাহরণ।
মাইসা ও অ্যালেক্সিস ২০২৪ সালে বিয়ে করেন। এখন মাইসা তার ইমিগ্রেশন মামলা পুনরায় খোলার চেষ্টা করছেন এবং গ্রিন কার্ডের আবেদন এগিয়ে নিতে চান।
তার আরেকটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ১৭ আগস্ট নির্ধারিত রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের জানানো হয়েছে মামলাটি নিয়ে আর সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তারপরও আবার আটক হওয়ার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন।
এক মাসের বেশি সময় আটক থাকার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন মাইসা। তিনি জানিয়েছেন, এখনো ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না এবং আবার ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হতে পারে, এমন ভয় কাজ করছে তার মধ্যে।
মাইসার ডিপোর্টেশন শেষ মুহূর্তে থামানোর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ব্রাজিলগামী বিমানের মাঝআকাশে আসা সেই ফোনকলটি কে করেছিলেন এবং কী কারণে সিদ্ধান্ত বদলে গেল, সেটিই এখন ঘটনাটির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreসন্তানের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা, একের পর এক ব্যর্থ গর্ভধারণ এবং আইভিএফের পর মৃত যমজ সন্তান প্রসবের বেদনা। সবকিছুর পর যখন সারা কনেল ও তার স্বামী বিল কনেলের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন প্রায় নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন এগিয়ে আসেন সারার মা ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নিজের মেয়ের সন্তানের সারোগেট হয়ে গর্ভে ধারণ করেন নাতিকে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় জন্ম দেন সুস্থ শিশু ফিনিয়ান লি কনেলকে। ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবিসি নিউজসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিস্টিন তখন তিন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মা এবং প্রায় ১০ বছর আগেই তার মেনোপজ হয়ে গিয়েছিল। বয়স ও শারীরিক বাস্তবতার কারণে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু আধুনিক প্রজনন চিকিৎসার সহায়তায় শেষ পর্যন্ত মেয়ের সন্তানকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ পান তিনি। সারা ও বিল দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ফার্টিলিটি চিকিৎসা ও একাধিক গর্ভধারণের পরও তাদের সন্তান বেঁচে থাকেনি। একপর্যায়ে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তান গর্ভে এলেও তারা মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। ধারাবাহিক এই অভিজ্ঞতার পর দম্পতির বাবা-মা হওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছিল। এই অবস্থায় মেয়ের জন্য সারোগেট হওয়ার প্রস্তাব দেন ক্রিস্টিন। তবে শুধু ইচ্ছা থাকলেই এত বেশি বয়সে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার স্বাস্থ্যের বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। বয়সের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় মেডিকেল মূল্যায়নের পর তাকে গর্ভধারণের উপযোগী করতে হরমোন চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় ক্রিস্টিন শিশুটির জৈবিক মা ছিলেন না। সারা কনেলের ডিম্বাণু এবং তার স্বামী বিল কনেলের শুক্রাণু ব্যবহার করে আইভিএফের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। সেই ভ্রূণ ক্রিস্টিনের জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সফলভাবে গর্ভধারণ করেন তিনি। প্রায় ৩৯ সপ্তাহ নাতিকে গর্ভে বহন করেন ক্রিস্টিন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের প্রেন্টিস উইমেন্স হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় ফিনিয়ান লি কনেল। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল প্রায় সাত পাউন্ড। চিকিৎসকেরা সে সময় জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারটি জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ক্রিস্টিনের কিডনি-সংক্রান্ত সাময়িক একটি জটিলতা দেখা দেয়, যা দ্রুত চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্রিস্টিনের জন্য এটি ছিল প্রায় তিন দশক পর আবার সন্তান প্রসবের অভিজ্ঞতা। তবে এবার যে শিশুটিকে তিনি গর্ভে বহন করেছিলেন, সেই শিশুই ছিল তার নিজের প্রথম নাতি। ঘটনার পর ক্রিস্টিন জানিয়েছিলেন, নিজের তিন মেয়েকে জন্ম দেওয়ার দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর মধ্যে ছিল। সেই মাতৃত্বের আনন্দ মেয়েকেও পাওয়ার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সারা কনেল তাদের এই দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী যাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লেখেন। সেখানে সন্তান হারানোর কষ্ট থেকে শুরু করে নিজের মায়ের সারোগেট হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত ফিনিয়ানের জন্ম পর্যন্ত পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। ফিনিয়ানের জন্মের গল্পের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিকটি ছিল পারিবারিক সম্পর্কের এই সমীকরণ। জৈবিকভাবে সারা ও বিল তার বাবা-মা। কিন্তু যে নারী তাকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীতে এনেছিলেন, তিনি একই সঙ্গে তার নানি ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নেওয়া ক্রিস্টিনের সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত এমন একটি পরিবারের বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল, যেখানে একজন মা নিজের মেয়েকে মাতৃত্বের সুযোগ করে দিতে নিজেই হয়ে উঠেছিলেন তার সন্তানের সারোগেট।
একটি ফোনকলের পরই ডিপোর্টেশন ফ্লাইট থেকে ফিরিয়ে আনা হলো মার্কিন সেনার স্ত্রীকে
ইতালির জাদুঘর থেকে চুরি গেল রেনেসাঁ যুগের ৪টি অমূল্য চিত্রকর্ম
মাঝ আকাশে হার্ট অ্যাটাক, একই বিমানে হার্ট কনফারেন্সে যাচ্ছিলেন ১৫ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ
বছরের পর বছর পাশাপাশি থাকতে থাকতে প্রতিবেশীর সম্পর্ক কখন যে পরিবারের মতো হয়ে ওঠে, অনেক সময় তা বোঝাই যায় না। যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্থায়ীভাবে ভারতে ফিরে যাচ্ছিলেন এক ভারতীয় দম্পতি। বিদায়ের মুহূর্তে তাদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মার্কিন এক নারী। সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় দম্পতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডেট্রয়েট বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিদায় নিতে গেলে ঘটে আবেগঘন ঘটনাটি। ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতীয় দম্পতিকে বিদায় জানাতে এসে নিজেকে সামলাতে পারছেন না তাদের মার্কিন প্রতিবেশী। একপর্যায়ে তিনি তাদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করেন। দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষগুলো আর পাশের বাড়িতে থাকবেন না, সেই বাস্তবতা বিদায়ের মুহূর্তটিকে আরও আবেগপূর্ণ করে তোলে। দম্পতি তখন জানতেন না যে তাদের বিদায়ের মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে। তাদের এক বন্ধু দূর থেকে পুরো দৃশ্যটি রেকর্ড করেন। পরে সেই ভিডিও দম্পতির কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ প্রতিবেশীদের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন। অনেকের কাছে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে দুই ভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া এই আন্তরিক সম্পর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে লিখেছেন, জাতীয়তা, ভাষা কিংবা সংস্কৃতি আলাদা হলেও দীর্ঘদিন পাশাপাশি থাকার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারিবারিক বন্ধনের মতো সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। কেউ কেউ নিজেদের অভিবাসী জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন। পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বসবাসের সময় প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে তৈরি সম্পর্ক অনেক অভিবাসীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে একটি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় শুধু একটি বাড়ি বা শহর নয়, পেছনে ফেলে যেতে হয় দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষ ও অসংখ্য স্মৃতিও। ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে কিংবা দম্পতি কত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে তাদের পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভিডিওটির মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বিদায়ের সেই কয়েকটি মুহূর্ত। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে প্রতিবেশীর সঙ্গে সাধারণ একটি বিদায় শেষ পর্যন্ত এমন আবেগঘন হয়ে ওঠে যে সেটিই এখন হাজারো মানুষের নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নিয়ে আলোচনায় অনেকেই এটিকে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের একটি সুন্দর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের ভাষায়, একটি ভালো প্রতিবেশী সম্পর্ক অনেক সময় দেশ, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সীমারেখাও ছাড়িয়ে যায়।
মুসলিম হওয়ায় ১৭ দিন ধরে পানি-বিদ্যুৎহীন কলকাতার ৫০০ পরিবার
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার মানুষ
সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির তত্ত্বাবধানে বিধ্বস্ত ইউএফও থেকে উদ্ধার করা জীবন্ত ‘এলিয়েন’ আটকে রাখার একটি ঘটনা পরিচালিত হয়েছিল—এমন দাবি করেছেন ইউএফও-বিষয়ক হুইসেলব্লোয়ার ডেভিড গ্রুশ। বৃহস্পতিবার ‘দ্য ড. ফিল পডকাস্টে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা গ্রুশ দাবি করেন, তিনি এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে চেনেন, যারা কথিত এলিয়েনদের আটকে রাখার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গ্রুশ বলেন, তিনি সাবেক এক মন্ত্রিসভা সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন, যিনি একজন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের হয়ে এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কাজ করতেন। ওই ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিচয় বোঝাতে তিনি ‘ডার্থ ভেডার’ নামটি ব্যবহার করেন। ডিক চেনি জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তাঁর সমালোচকেরা প্রায়ই এই নামে অভিহিত করতেন। গ্রুশের দাবি, কথিত এলিয়েন ও মানুষের মধ্যে একধরনের চেতনা-নির্ভর যোগাযোগ হয়েছিল। প্রচলিত ভাষায় যাকে টেলিপ্যাথি বলা হয়, সেই ধরনের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে কীভাবে এই যোগাযোগ সম্ভব হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন বলে জানান। এর আগে ২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে গ্রুশ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউএফও থেকে উদ্ধার করা ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এবং এগুলো নিয়ে গোপন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সাক্ষাৎকারে গ্রুশ আরও দাবি করেন, মার্কিন সরকারের কাছে ২৫ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ইউএফও থাকতে পারে। এসব ইউএফও থেকে ‘পাইলট’ উদ্ধারের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন। তবে জীবন্ত এলিয়েন উদ্ধার, তাদের আটকে রাখা কিংবা মানুষের সঙ্গে কথিত টেলিপ্যাথিক যোগাযোগের দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে গ্রুশের বক্তব্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে নয়, তাঁর করা দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ডিক চেনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ৮৪ বছর বয়সে মারা যান। গ্রুশের নতুন বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের কথিত গোপন ইউএফও কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে আরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সরকারি নথি প্রকাশের বিষয়টিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা, চীনা পর্যটক কমলেও জাপানের পর্যটন খাত হারায়নি গতি
মিসরও যোগ দিতে পারে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে: এরদোয়ান