অভিবাসনবিরোধী উসকানিদাতা ইয়ান্নোপোলোসকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করায় ব্রিটিশ ডানপন্থী ভাষ্যকার ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব মিলো ইয়ান্নোপোলোসকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। নিউ অরলিন্সের লুই আর্মস্ট্রং নিউ অরলিন্স ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে গ্রেপ্তারের একদিন পর ২৮ আগস্ট তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)।
ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী ইয়ান্নোপোলোস ২০১৯ সালের মে মাসে নিউইয়র্ক সিটি দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তবে অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পরও তিনি দেশটিতে অবস্থান করেন। চলতি বছরের ২২ জুলাই একটি ইমিগ্রেশন জাজ তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেন। নির্ধারিত ইমিগ্রেশন হিয়ারিংয়ে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় ওই আদেশ দেওয়া হয়।
আইসিই বৃহস্পতিবার নিউ অরলিন্স বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে। পরদিনই তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়। ইয়ান্নোপোলোসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটির পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে তার দীর্ঘদিনের অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি কঠোর ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। ২০২৫ সালের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে বহিষ্কারের পক্ষে মত দেন। এমনকি চলতি বছরের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার সুপারমার্কেট, গ্যাস স্টেশন ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলের প্রবেশপথে আইসিই চেকপয়েন্ট বসানোরও আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ইয়ান্নোপোলোস একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। প্রথম দফায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় তিনি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্টের সম্পাদক হিসেবে পরিচিতি পান এবং ক্যাম্পাসে বক্তা হিসেবেও আলোচনায় আসেন। পরে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে রক্ষণশীল রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রভাব কমে যায়।
তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচেষ্টায় র্যাপার ইয়ে, যিনি আগে কানিয়ে ওয়েস্ট নামে পরিচিত ছিলেন, তার সঙ্গে কাজ করেন। এর আগে জর্জিয়ার সাবেক কংগ্রেসওম্যান মার্জরি টেইলর গ্রিনের অফিসেও ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছিলেন।
ইয়ান্নোপোলোসের বহিষ্কার নিয়ে ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট লরা লুমারও প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইয়ান্নোপোলোসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকা লুমার দাবি করেছেন, তিনিই তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তার অভিযোগই ইয়ান্নোপোলোসকে আটকের সরাসরি কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে ডিএইচএস কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
ইয়ান্নোপোলোসের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট জোরদার করছে। তার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈধভাবে প্রবেশের পর অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং ইমিগ্রেশন হিয়ারিংয়ে অনুপস্থিতির কারণেই তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের পরিভাষা অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিযোগিতার নাম বদলে দিয়েছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আগে ‘প্রেসিডেনশিয়াল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চ্যালেঞ্জ’ নামে পরিচিত প্রতিযোগিতাটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘প্রেসিডেনশিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্স চ্যালেঞ্জ’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে পরিচিত করার জন্য ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই এ পরিবর্তন এলো। ১৩ অক্টোবর প্রতিযোগিতাটির নতুন নাম ঘোষণা করেন মেলানিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ধারণা তৈরি ও বাস্তবায়ন করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। মেলানিয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আগের বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতাটি শিশুদের বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমেরিকার পরবর্তী যুগান্তকারী ধারণাটি ইতিমধ্যে কোনো না কোনো শ্রেণিকক্ষে রয়েছে।’ শিক্ষার্থীদের সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সুযোগ তৈরি করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রতিযোগিতার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প সরকারি যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কারণে মেলানিয়ার সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের পছন্দের পরিভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন বদলাচ্ছে এআইয়ের নাম ট্রাম্পের প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রচলিত নাম পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে আইন যতটা অনুমতি দেয়, ততটা সীমার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্বাহী বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন, নীতিপত্র এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এসআই’ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ট্রাম্পের যুক্তি, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে কৃত্রিম বা অবাস্তব বলে মনে করাতে পারে। তাঁর মতে, বর্তমান প্রযুক্তির সক্ষমতা বোঝাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি বেশি উপযুক্ত। তবে নির্বাহী আদেশটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একই পরিভাষা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেনি। ফলে প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রচলিত নাম পরিবর্তন করতেই হবে, এমন কোনো নির্দেশ নেই। ট্রাম্প এর আগে প্রচলিত ‘এআই’ শব্দ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে, নতুন পরিভাষার পরিবর্তে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহারকারীরা তাঁর বিরোধীদের তালিকায় পড়তে পারেন—এমন হুঁশিয়ারিও ছিল। এই মন্তব্যের পর প্রযুক্তি খাতে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। তবে প্রযুক্তি শিল্পের সবাই ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নাম গ্রহণ করেননি। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশের মতে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি প্রযুক্তির একটি আরও উন্নত বা বিশেষ পর্যায়ের ধারণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই বর্তমানে প্রচলিত সব ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য এ নাম ব্যবহার করা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিচিত প্রযুক্তির নাম বদলানোর চেষ্টা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে নতুন স্বীকৃতির সুযোগ ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন একটি স্বীকৃতির ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। নির্ধারিত কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দিয়ে স্কুলগুলো ‘ফার্স্ট লেডি সিল অব এসআই রেডিনেস’ অর্জনের সুযোগ পাবে। এই স্বীকৃতির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার, তা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্কুল, স্থানীয় সমাজ ও বৃহত্তর পরিসরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্প তৈরি করতে পারবে। এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি শিক্ষায় মেলানিয়ার গুরুত্ব শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার মেলানিয়া ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি। এর পাশাপাশি পালক পরিবারের শিশুদের সহায়তা এবং অনলাইনে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দিয়ে হয়রানি করার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। গত মাসে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন মেলানিয়া। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন, তা দেখেন তিনি। এ সময় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। মেলানিয়া বলেন, শিশুদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তবে প্রযুক্তি ভবিষ্যতের অংশ, তাই তাদের কী কী সুযোগ রয়েছে, তা শেখানো এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে তারা পিছিয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রকে এ প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন ফার্স্ট লেডি। এদিকে, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও ট্রাম্পের নতুন পরিভাষার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি তাঁর কোম্পানি স্পেসএক্সএআইয়ের নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএসআই করার কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘আর এআই নয়, এসআই। এটি আরও ভালো।’ তাঁর এক অনুসারী নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সম্মতিসূচক জবাব দেন। সব মিলিয়ে, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার নাম পরিবর্তন শুধু একটি কর্মসূচির নতুন পরিচয় নয়; যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম ও পরিচিতি বদলানোর বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গেও এটি যুক্ত। তবে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের মধ্যে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্কুলগুলো নতুন কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য এবং নিবন্ধনের নির্দেশনা দেখতে পারবে।
বাফলো থেকে তিন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে ব্রিজ এয়ারওয়েজ
নিউইয়র্কে স্পিড ক্যামেরার ৫০ ডলারের টিকিট চ্যালেঞ্জ করবেন যেভাবে
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারভিত্তিক ভিসায় পাবলিক চার্জ নিয়ে উদ্বেগ, স্পনসরের আর্থিক যোগ্যতা নিয়ে চাপে বাংলাদেশিরা
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ব্যাংক অব আমেরিকাকে অর্থপাচার প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১২০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। এই জরিমানাকে মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম জরিমানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনায় ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আরও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ৭৫ কোটি ডলারের দেওয়ানি জরিমানাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অপরাধবিষয়ক সংস্থা ফিনসেনের অভিযোগ, ব্যাংকটি চীনা অর্থপাচার নেটওয়ার্ক এবং দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত, প্রতিরোধ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য যথাসময়ে জানাতে না পারার কারণেই বড় অঙ্কের এই জরিমানা করা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক অব আমেরিকা পাঁচশ কোটি ডলারেরও বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য যথাসময়ে ফিনসেনকে জানাতে পারেনি। এসব লেনদেনের একটি অংশ জাতীয় নিরাপত্তা এবং অবৈধ অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকটির গ্রাহক যাচাই, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও ঘাটতি পাওয়া গেছে। ফিনসেনের পদক্ষেপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নিয়ন্ত্রক দপ্তরও ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ৭৫ কোটি ডলারের দেওয়ানি জরিমানা আরোপ করেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, ব্যাংকটির অর্থপাচার প্রতিরোধ ও ব্যাংকিং লেনদেন পর্যবেক্ষণের কর্মসূচি যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। এই জরিমানাকে সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ৭৫ কোটি ডলারের জরিমানা ১২০ কোটি ডলারের ফিনসেন জরিমানার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। তাই দুটি অঙ্ক যোগ করে আলাদা মোট জরিমানা হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তরও ব্যাংকটির সঙ্গে ১ কোটি ১৬ লাখ ডলারের একটি সমঝোতা করেছে। ইরান, রাশিয়া, মাদক পাচার এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি লঙ্ঘনের অভিযোগ এই সমঝোতার আওতায় এসেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, ব্যাংক অব আমেরিকা ১৯৭০ সালের ব্যাংক সিক্রেসি অ্যাক্ট ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এই আইনের উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অর্থপাচার ও অন্যান্য অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা ঠেকানো। আইনের আওতায় ব্যাংকগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফিনসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটি এসব দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় মান বজায় রাখতে পারেনি। ব্যাংকটির অর্থপাচার প্রতিরোধ কর্মসূচি নিয়ে আগেও উদ্বেগ জানিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। মুদ্রা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকটিকে তার অর্থপাচার প্রতিরোধ কর্মসূচির ঘাটতি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও সন্দেহজনক লেনদেন তদন্তের জন্য যথাযথভাবে সামনে আনা এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়ে যায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো বড় ব্যাংক অর্থপাচার প্রতিরোধ ও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার দায়িত্বে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে অবৈধ অর্থের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ব্যাংক অব আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যাংকগুলোর একটি এবং দেশটির আর্থিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেওয়া এই ব্যবস্থা শুধু একটি ব্যাংকের জরিমানার ঘটনা নয়; বরং বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন পর্যবেক্ষণ, গ্রাহক যাচাই এবং সন্দেহজনক অর্থের উৎস শনাক্ত করার দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবার সামনে এনেছে। তবে জরিমানার অঙ্ক ও অভিযোগের পাশাপাশি বিষয়টির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ব্যাংকটির নজরদারি ব্যবস্থা সংশোধন এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ব্যর্থতা ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থপাচার ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোর নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে নিজের সম্পদ বাড়ানোতেই ট্রাম্পের মনোযোগ, বলছে নতুন জনমত জরিপ
ক্যানসার ও গাড়ির আগুন থেকে বেঁচেও রোলার কোস্টারে প্রাণ গেল জর্জিয়ার শিক্ষক জিহাদের
আপনার সন্তানের ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে ২৫০ ডলার, জিপ কোড দিয়ে যাচাই করুন যোগ্যতা
মুখের গড়ন অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়ায় দীর্ঘদিন প্রতিবেশীদের কটূক্তি ও সামাজিক অবহেলার শিকার হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার মানুরুং পরিবার। পরিবারের চার ভাইবোনের মুখমণ্ডলে জন্মগত পার্থক্য থাকায় স্থানীয়ভাবে তাদের নিয়ে নানা কুসংস্কার ছড়িয়েছিল। এমনকি পরিবারটিকে অভিশপ্ত বলেও মন্তব্য করতেন কেউ কেউ। তবে এই ধারণার পেছনে অলৌকিক কোনো কারণ নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোম নামের একটি বিরল জিনগত অবস্থা। ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার কেদুংকাং গ্রামের এই পরিবারের জীবন ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ইউপিএসওসিএল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় ভাইবোনের মধ্যে চারজনের মুখের গড়ন আলাদা। তাঁদের বাবা নিজেও একই জিনগত অবস্থার সঙ্গে বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্যদের চেহারা নিয়ে মানুষের বিদ্রূপ ও কুসংস্কার তাঁদের সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁরা নিজেদের আড়ালে না রেখে দৈনন্দিন জীবন, কাজকর্ম ও হাস্যরসের নানা মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরতে শুরু করেন। ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোম মূলত মুখমণ্ডলের হাড় ও অন্যান্য টিস্যুর বিকাশকে প্রভাবিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট মেডলাইনপ্লাসের মতে, এ অবস্থায় গালের হাড় অপরিণত থাকতে পারে, চোয়াল ও থুতনি তুলনামূলক ছোট হতে পারে এবং কান বা চোখের আশপাশের গঠনে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। লক্ষণের তীব্রতা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। কারও ক্ষেত্রে পরিবর্তন সামান্য, আবার কারও ক্ষেত্রে তা বেশি স্পষ্ট হতে পারে। সাধারণত এ অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে, যদিও কারও কারও শ্রবণশক্তি, শ্বাসপ্রশ্বাস বা অন্য শারীরিক বিষয়ে চিকিৎসা ও সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সিনড্রোমটি জিনগত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশপরম্পরায় ছড়াতে পারে। মানুরুং পরিবারের বাবারও একই অবস্থা থাকার বিষয়টি সেই সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের চিকিৎসাগত ইতিহাস বা নির্দিষ্ট জিনগত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই তাঁদের প্রত্যেকের অবস্থার তীব্রতা কিংবা সংশ্লিষ্ট জিনগত পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অবশ্য পরিষ্কার, মুখের গড়নে পার্থক্য থাকা কোনো অভিশাপের প্রমাণ নয়; এটি জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা জিনগত অবস্থার অংশ হতে পারে। পরিবারটির সদস্য সূর্য জানান, কাজ খোঁজার সময় তাঁর চেহারা অনেক ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াত। যোগ্যতা বা কথা বলার সুযোগ পাওয়ার আগেই মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হতে হতো তাঁকে। বারবার প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলেছিল। চেহারার কারণে কাউকে বিচার করা কিংবা সামাজিকভাবে দূরে সরিয়ে রাখার অভিজ্ঞতা যে একজন মানুষের কাজের সুযোগ ও আত্মমর্যাদায় প্রভাব ফেলতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতাই তুলে ধরে। পরিস্থিতি বদলাতে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের জীবন আড়াল না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেন। টিকটক ও ইউটিউবে তাঁদের দৈনন্দিন কাজ, পারিবারিক মুহূর্ত এবং হাস্যরসাত্মক ভিডিও প্রকাশ পেতে থাকে। ইউপিএসওসিএলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের অনলাইন চ্যানেলগুলোতে এখন বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। একসময় যে চেহারার কারণে তাঁরা বিদ্রূপের শিকার হতেন, সেটিই এখন তাঁদের পরিচিতির অংশ হয়ে উঠেছে। অনলাইনে ভিডিও তৈরির মাধ্যমে তাঁরা জীবিকা অর্জনের সুযোগও পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের বাবা তাঁদের চেহারার পার্থক্য মেনে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, তাঁদের মুখের গড়ন অন্যদের মতো না হলেও তাঁরা নিজেদের গ্রহণ করেন এবং নিজেদের মতো করেই জীবন কাটান। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবারটির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কাহিনি নয়, বরং মানুষের বাহ্যিক চেহারা নিয়ে তৈরি ধারণা ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরে। ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও সহায়তার প্রয়োজন তাঁদের উপসর্গের ওপর নির্ভর করে। কারও শ্রবণশক্তির সমস্যা থাকলে শ্রবণসহায়ক যন্ত্র বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। মুখমণ্ডলের হাড়ের গঠনজনিত জটিলতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা বিবেচনা করেন। তবে এই অবস্থার সঙ্গে বসবাস করা মানেই বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা বা স্বাভাবিক জীবনযাপনে অযোগ্যতা নয়। পরিবারটির গল্পও দেখায়, যথাযথ সুযোগ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। মানুরুং পরিবারের অভিজ্ঞতা তাই কেবল একটি বিরল জিনগত অবস্থার পরিচয় নয়। এটি কুসংস্কার, বাহ্যিক চেহারা নিয়ে বিদ্রূপ এবং সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলার গল্প। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য যেখানে তাঁদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা দেয়, সেখানে পরিবারের সদস্যদের নিজস্ব উদ্যোগ তাঁদের পরিচিতি ও জীবিকার নতুন পথ তৈরি করেছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের মেডলাইনপ্লাস।
গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, রিসিট নম্বর দিয়ে অনলাইনে যেভাবে জানবেন
সহকর্মীর চায়ে বিষ মিশিয়ে চীনে পালানোর সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার গবেষক