দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সুযোগ পাবে কিশোররা, নতুন নিয়ম আনছে মেটা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইনস্টাগ্রাম কি নতুন যুগে সিগারেটের জায়গা নিতে যাচ্ছে? মেটার প্রস্তাবিত নতুন কিছু বিধিনিষেধ অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্করা কীভাবে ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি বড় ধরনের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে মেটা। এই পদক্ষেপ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঠিক সেভাবেই বিবেচনা করতে শুরু করেছে, যেভাবে তারা একসময় সিগারেটকে করেছিল। অর্থাৎ এটিকে একটি আইনি ভোগ্যপণ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে, যার ব্যবহারের ঝুঁকি কমানোর দায়ভার খোদ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তাবে।
গত বুধবার ঘোষণা করা এই চুক্তিটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি কার্যকর হলে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে দুই ঘণ্টার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। একইসঙ্গে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকবে। এছাড়া স্কুলের সময়টাতে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে এই চুক্তিতে। মেটা ঠিকমতো এসব নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা তদারকি করবে একটি স্বাধীন নিরীক্ষক দল ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পরিবারের ওপরই চাপিয়ে রাখা হয়েছিল। মেটা এতদিন অভিভাবকদের জন্য কিছু টুল বা সুবিধা দিয়ে আসছিল, যার মাধ্যমে তারা সন্তানদের অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারতেন। কিশোরদের ফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হতো এবং অভিভাবকের তদারকিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে প্রচার করা হতো। কিন্তু প্রস্তাবিত এই নতুন চুক্তি সেই পুরোনো ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। এখন কোনো পরিবার আলাদাভাবে বিধিনিষেধ আরোপের অনুরোধ করুক বা না করুক, মেটাকে নিজ থেকেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। তামাক বা সিগারেট শিল্পের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। সেখানেও ব্যবহারকারীর আচরণ নিয়ন্ত্রণের বদলে পণ্য এবং বিক্রেতা কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছিল।
সিগারেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক আগেই বদলাতে শুরু করেছিল। একসময় ধূমপানকে নিছকই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু নীতিনির্ধারকরা যখন বুঝতে পারলেন এটি মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তখন তারা পণ্যটি তৈরি ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেন। ফলে সাধারণ সামাজিক জীবনের অংশ হিসেবে বিবেচিত ধূমপান এমন একটি পণ্যে পরিণত হয়, যা মূলত শিশু ও সাধারণ মানুষকে এর ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য নানা বিধিনিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ।
১৯৯৮ সালের টোব্যাকো মাস্টার সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এই পরিবর্তনকে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য বড় বড় সিগারেট প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। সেখানে তরুণদের লক্ষ্য করে চালানো বিজ্ঞাপন, প্রচার ও অন্যান্য কৌশলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং কোম্পানিগুলোর ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক দায়বদ্ধতা চাপানো হয়েছিল।
মেটার নতুন প্রস্তাবিত চুক্তিটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে অনেকটা সেরকমই একটি মোড় ঘোরানো পরিবর্তন। সন্তান কতক্ষণ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করবে, তা কেবল অভিভাবকদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার বদলে মেটাকে এখন নিজ থেকেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের ওপর লাগাম টানতে হবে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুমোদিত হয়, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায়ভার পণ্য ব্যবহারকারী পরিবারের কাছ থেকে সরাসরি পরিবেশক কোম্পানির কাঁধে চলে যাবে।
অবশ্য সিগারেটের সঙ্গে এই তুলনার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানসিক ও সামাজিক নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও সিগারেটের মতো সরাসরি শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি এর নেই। তবে নীতিনির্ধারকদের যুক্তি এখানে বেশ পরিচিত। যখন তারা দেখেন যে শুধুমাত্র দায়িত্বশীল ব্যবহারের পরামর্শ যথেষ্ট নয়, তখন তারা সরাসরি পণ্যটিকেই নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেন।
কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি এবং পরিসংখ্যানগত উদ্বেগের কথা বিবেচনা করলে এটি নিঃসন্দেহে একটি দুর্দান্ত সূচনা। তবে ইনস্টাগ্রামের ওপর দুই ঘণ্টার সীমাবদ্ধতা খুব একটা কাজে আসবে না, যদি কিশোররা সহজেই টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট বা ইউটিউবের মতো অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার সুযোগ পায়। কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে পুরো প্রযুক্তি শিল্পজুড়েই এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়া জরুরি।
এখানেও সিগারেটের উদাহরণটি প্রাসঙ্গিক। তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি কোম্পানি বা একটি চুক্তির মাধ্যমেই থেমে থাকেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিধিনিষেধগুলো পুরো শিল্পের জন্য নিয়ম বদলে দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সম্ভবত একই পথে এগোচ্ছে। আগামী দিনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা হয়তো ব্যবসার একটি স্বাভাবিক শর্ত হয়ে দাঁড়াবে।
আর যখন তা হবে, তখন এই চুক্তিটি কেবল কিশোররা দিনে কত ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করতে পারবে সেই আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে যেখানে শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকেই অনেকটা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে।
খবরের সূত্র: নিউজউইক
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফ্রিসকো শহরে নবরাত্রি উৎসবের এক সন্ধ্যায় শত শত মানুষ জড়ো হন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে কার্য সিদ্ধি হনুমান মন্দিরে তাঁরা প্রার্থনা, গান ও নাচে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন শিশু, অভিভাবক, প্রবীণ ও কলেজশিক্ষার্থীরা। ওই রাতে উৎসবের নির্ধারিত রং ছিল কমলা। উজ্জ্বল কমলা রঙের পোশাকে মন্দিরে আসেন অনেক অংশগ্রহণকারী। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রিসকোর এই মন্দিরে নবরাত্রির প্রতিটি রাতের জন্য আলাদা রং ও দেবীর ভিন্ন রূপ নির্ধারিত থাকে। নবরাত্রি দেবীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে পালিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি পরিবার ও সম্প্রদায়ের সদস্যদের একত্র হওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরারও সুযোগ তৈরি করে এ আয়োজন। মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ফ্রিসকোতে এ বছরের দেবী নবরাত্রি মহোৎসব চলছে ১১ থেকে ২০ অক্টোবর। সূচিতে সন্ধ্যার পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা নিয়ে ভ্রমণকারীদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস
বিয়ের কয়েক মাস আগে বরের মৃত্যু, ১৬ হাজার ডলার ফেরত দিতে নারাজ বিয়ের ভেন্যু কর্তৃপক্ষ
নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলে একাধিক বাড়ি পুড়ে গেছে। অরেঞ্জ কাউন্টিতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে শুরু হওয়া নর্তে ফায়ার নামের দাবানল কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৪৬৫ একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের ঝুঁকিতে সান ক্লেমেন্তে ও সান হুয়ান ক্যাপিস্ট্রানো এলাকার প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, আগুনে অন্তত ছয়টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং দুই দমকলকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার দুপুরের দিকে জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল সান্তা আনা বাতাস এবং এলাকার ভূপ্রকৃতির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির ডিভিশন থ্রি প্রধান মার্ক ব্যাকঅফ এক ভিডিও বার্তায় আগুন দ্রুত বিস্তারের পেছনে আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতির ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দমকলকর্মীরা একাধিক দিক থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। দাবানলের কারণে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বাড়ির বাসিন্দা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের আওতায় পড়েছেন। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির প্রধান টি জে ম্যাকগভর্ন জানান, আগুনের বিস্তার ঠেকানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই ছিল তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সন্ধ্যায় কর্মকর্তারা জানান, আগুনের বড় একটি অংশের তীব্রতা কমানো সম্ভব হয়েছে, তবে বাতাসের গতি বেশি থাকায় নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে। অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির মুখপাত্র স্টিভ কনসিয়ালদি জানান, আগুনে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাতাস তখনো জোরে বইছিল। দুই দমকলকর্মী উল্লেখযোগ্যভাবে আহত হলেও তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুনের বিস্তার ঠেকাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর আশপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দমকলকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দাবানলটির কোনো অংশই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা রবার্ট মরিস জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে ওই এলাকায় বসবাস করলেও সেখানে এমন আগুনের মুখোমুখি তিনি আগে হননি। দাবানলের আকস্মিক বিস্তারকে তিনি এলাকার মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য মাইক লেভিন জানান, আগুনের কারণে তাঁর পরিবারকেও সান হুয়ান ক্যাপিস্ট্রানোর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়েছে। তিনি দমকলকর্মীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বছরজুড়েই দাবানলের ঝুঁকি এখন নতুন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের সদস্যরা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ থাকা এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বলছেন। ক্যাপিস্ট্রানো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১০টি স্কুলের ক্লাস নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে দেয়। পাশাপাশি খেলাধুলা ও স্কুল-পরবর্তী কার্যক্রম বাতিল করা হয়। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরাপদ ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সান্তা আনা বাতাসের প্রভাবে একই সময়ে আরও কয়েকটি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। মালিবু এলাকায় ব্রাইসন ফায়ার নামের আরেকটি দাবানল প্রায় ১৫০ একর জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার পর্যন্ত আগুনটির প্রায় ১৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় সাত হাজারের বেশি স্থাপনার জন্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ বা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। চার শতাধিক দমকলকর্মী এবং স্থল ও আকাশপথের বিভিন্ন সরঞ্জাম আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল। এদিকে সান দিয়েগো কাউন্টিতে মেরিন কর্পসের ক্যাম্প পেন্ডলটন ঘাঁটির কাছেও হেন্ডারসন ফায়ার নামের আরেকটি দাবানল দুই হাজার একরের বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার বন ও অগ্নি সুরক্ষা বিভাগ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হওয়া আগুনের কারণে সামরিক ঘাঁটির একটি এলাকায় সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ইন্টারস্টেট-৫ মহাসড়কের কাছাকাছি একটি অংশও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। ধোঁয়ার কারণে মহাসড়কের দুই পাশেই দৃশ্যমানতা কমে যায়। দাবানলের ঝুঁকি বাড়ায় দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সান্তা আনা বাতাসের তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং শনিবারও বাতাস জোরে বইতে পারে। সপ্তাহান্তের পর বাতাসের গতি কমার সম্ভাবনা থাকলেও দমকল কর্তৃপক্ষ কয়েক দিন ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। সূত্র: সিএনএন, অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটি ও ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড ফায়ার প্রোটেকশন।
ফ্লোরিডায় মাছ ধরতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে ৭১ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু
করোনার লকডাউনে ঘরে ঘরে পার্সেল পৌঁছে দিতেন, সেই ইউপিএস চালককে ধন্যবাদ জানাতে রাস্তায় শত শত মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে স্কুলে হামলা চালানো কিশোর ছিল ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে একটি পিকআপ থামিয়ে তল্লাশি চালানোর পর ৭০০ পাউন্ডের বেশি সন্দেহভাজন মাদক উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে প্রায় ৩০ পাউন্ড ফেন্টানিল এবং ৬৭৭ পাউন্ড মেথামফেটামিন রয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকো জোয়েল গার্সিয়া ফারিয়াসের বিরুদ্ধে মাদক বিতরণের উদ্দেশ্যে মজুত রাখার অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা জেলার অ্যাটর্নির কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর নেভাডার লিংকন কাউন্টিতে ইউএস হাইওয়ে ৯৩-এ গাড়িটি থামানো হয়। অ্যাশ স্প্রিংস এলাকার কাছে এক শেরিফের ডেপুটি নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে বেশি গতিতে চলতে দেখে পিকআপটিকে থামান। পরে মাদক শনাক্তে প্রশিক্ষিত একটি কুকুর গাড়িটিতে মাদকের উপস্থিতির সংকেত দেয়। এরপর তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির ভেতরে রাখা ১৩টি বড় সংরক্ষণ বাক্সে সন্দেহভাজন মাদকের প্যাকেট পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে প্রায় ৩০৭ দশমিক ২২ কেজি সাদা স্ফটিকজাতীয় পদার্থ এবং প্রায় ১৪ কেজি ইটের মতো আকৃতির প্যাকেট ছিল। পরীক্ষার জন্য নেওয়া নমুনায় প্রথম পদার্থটি মেথামফেটামিন এবং দ্বিতীয়টি ফেন্টানিল হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তবে উদ্ধার করা সব মাদকের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। নেভাডা জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রধান ফেডারেল কৌঁসুলি সিগাল চাট্টাহ বলেন, বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের ঘটনাটি অপরাধী চক্রগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মাদক সরবরাহের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা প্রায় ১৪ কেজি ফেন্টানিল থেকে আনুমানিক ৭০ লাখ সম্ভাব্য প্রাণঘাতী মাত্রা তৈরি হতে পারে। প্রতি মাত্রা দুই মিলিগ্রাম ধরে করা এই হিসাব নেভাডার জনসংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি মানুষের জন্য সম্ভাব্য প্রাণঘাতী পরিমাণের সমান বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এই হিসাবটি কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য মাত্রাভিত্তিক অনুমান। বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ মাদক কতজন মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে, তা পদার্থের বিশুদ্ধতা, মিশ্রণ, গ্রহণের পরিমাণ এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ফেন্টানিল অত্যন্ত শক্তিশালী কৃত্রিম ওপিওয়েড, যা চিকিৎসায় নির্দিষ্ট প্রয়োজনে ব্যবহার করা হলেও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট ও মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মেথামফেটামিন একটি শক্তিশালী উত্তেজক মাদক, যা হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করা চালানের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলার বলে জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ফেন্টানিলের মতো প্রাণঘাতী মাদক অবৈধভাবে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন মাদক মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। তদন্তে যুক্ত রয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, লিংকন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট ফেডারেল টাস্কফোর্সের সদস্যরা। লিংকন কাউন্টির শেরিফ ডেরেক ফোরমাস্টার বলেন, নিয়মিত সড়ক নজরদারি এবং প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় সন্দেহভাজন মাদক শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের অবৈধ মাদক গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা থেকে শুরু করে সড়কে চলাচলকারী মানুষের নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গার্সিয়া ফারিয়াসের বিরুদ্ধে ৪০০ গ্রাম বা তার বেশি ফেন্টানিলযুক্ত মিশ্রণ এবং ৫০০ গ্রাম বা তার বেশি মেথামফেটামিনযুক্ত মিশ্রণ বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে তাঁর ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি পাঁচ বছরের তত্ত্বাবধানাধীন মুক্তির বিধানও রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। সূত্র: ফক্স নিউজ, যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা জেলার অ্যাটর্নির কার্যালয়।
বারবিকিউ থেকে অগ্নিকাণ্ড রোধে নিউ ইয়র্ক সিটির কড়াকড়ি, মানতে হবে যেসব আইন
দুই মেয়ের স্কুলে গুলির শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে বন্দুকধারীকে থামালেন বাবা, বাঁচালেন বহু প্রাণ