ইরানিদের বিশ্বাস করা যায় না, মিথ্যা বলা তাদের ধর্মের অংশ: মার্কিন স্পিকার মাইক জনসন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। তিনি দাবি করেছেন, মিথ্যা বলাটা ইরানিদের ধর্মের একটি অংশ। তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর দেশটিকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ৫৪ বছর বয়সী মাইক জনসন এই মন্তব্য করেন। এ সময় তার পেছনে রিপাবলিকান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসন বলেন, ইরানিদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। আমাদের হতাশার মূল কারণ হলো তাদের ওপর আস্থা রাখতে না পারা। তারা আলোচনার টেবিলে বসে এক কথা বলে, আর সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে ঠিক তার উল্টো কাজটি করে। তিনি আরও যোগ করেন, তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে এমনটা মনে হয় যে, যাদের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ রয়েছে, তাদের কাছে মিথ্যা বলাটা যেন তাদের ধর্মেরই একটি অংশ।
রিপাবলিকান নেতার এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এক্সে থাকা নেটিজেনরা। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটি সেই পুরোনো কৌশল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা করছে, তার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। তিনি আরও লেখেন, এই কৌশল বেশিদিন টিকবে না। যারা আপনার কথায় বিশ্বাস করছে, সত্যটা সামনে এলে তারাই সবচেয়ে বেশি হতাশ হবে। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, স্পষ্টতই এটি মাইক জনসনের ধর্মের অংশ যে তিনি চাইলেই মিথ্যা বলতে পারেন। তিনি প্রতিবার কথা বলার সময় ভীতি প্রদর্শনের কৌশল ও মিথ্যার আশ্রয় নেন। আমেরিকানরা তাকে বিশ্বাস করতে পারে না।
এদিকে এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনই শেষ হচ্ছে না। সোমবার সকালে ফক্স নিউজের ট্রে ইংস্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। মূলত জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে রাতভর হামলার বিষয়ে কথা বলছিলেন তিনি। লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট লঞ্চারে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার পরই এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি। এর একটি মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে।
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের ছোড়া একটি ছাড়া বাকি সব কটি ক্ষেপণাস্ত্রই মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে আটকে দিয়েছে। যে ক্ষেপণাস্ত্রটি আটকানো যায়নি, সেটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাচ্ছিল না বলে এটিকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল।
রবিবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের রকেট লঞ্চারগুলোতে মার্কিন বাহিনীর হামলার পরই মূলত পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান। এর মাধ্যমে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা থেমে থেমে যুদ্ধের এক মাসের বিরতির অবসান ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যদের সামুদ্রিক মাইনসহ রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল। গত সপ্তাহেই ওই প্রণালীর আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের কাজ শেষ করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন যোদ্ধা ও দেশবাসী শহীদ ও আহত হয়েছেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয় যে, মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান।
সূত্র: এওএল, হাফপোস্ট, রয়টার্স
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreমঙ্গলবার রাতে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় শিশুসহ কয়েকজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাণঘাতী হামলার পরপরই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত অন্তত চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এবং ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, সিরিক শহর ছাড়াও ইরানের কোনারাক কাউন্টি, জাস্ক এবং বন্দর লেঙ্গেহ শহরও মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় জিরোফতে একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমুজগান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্ব দিকে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আইআরআইবি আরও নিশ্চিত করেছে, কেশম দ্বীপের মাসান গ্রামের আশপাশে পাঁচটির বেশি এবং হরমুজ প্রণালির দিক থেকে আরও অন্তত চারটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সরকারি মালিকানাধীন দুটি তেলের ট্যাংকারেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী মূলত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কড়া জবাব দিতে দেরি করেনি ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, নিজ ভূখণ্ডে হামলার পরপরই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে তেহরান। মঙ্গলবার রাতেই উপসাগরীয় অঞ্চলের জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের আইআরজিসি। আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ ফোর এবং এমকিউ নাইন ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গারগুলো লক্ষ্য করে তারা একটি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আইআরআইবিতে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এই হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকজন আমেরিকান ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে যাওয়ার কথাও বলা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝপথেই ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেয়। জর্ডানের সামরিক মুখপাত্র জানান, অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এর পাশাপাশি উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, এই হামলায় একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামের গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যাওয়া এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। এদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু ড্রোন প্রতিহত করেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ভূপাতিত করার কারণেই মূলত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানায় তারা। কুয়েত এই ঘটনাকে ইরানের আগ্রাসনের অংশ বলে উল্লেখ করেছে। বাহরাইনেও হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা ও রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এক ঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে। অপারেশন থান্ডার নামক সামরিক অভিযানের ২৯তম ধাপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। পারস্য উপসাগরে শেখ ঈসা ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নজরদারি উড়োজাহাজের কাজে ব্যবহৃত হয়। খবরের সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর
ইরানিদের বিশ্বাস করা যায় না, মিথ্যা বলা তাদের ধর্মের অংশ: মার্কিন স্পিকার মাইক জনসন
এবারের গরমে জার্মানিতে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু
ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০ বছরের যুদ্ধের অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুন সম্পর্ক গড়তে চায় আফগানিস্তান। একই সঙ্গে দেশটিতে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সোমবার (৩১ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-আফগানিস্তান সম্পর্ককে অতীতের যুদ্ধ দিয়ে নয়, ভবিষ্যতের সহযোগিতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। মুত্তাকি জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আফগানিস্তানের খনি, অবকাঠামো, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। আফগানিস্তানে বিপুল পরিমাণ সোনা, তামা, লিথিয়াম, কোবাল্টসহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ রয়েছে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার পর তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর চীন ও ইরানের সঙ্গে খনিজ সম্পদ উত্তোলনে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে তালেবান সরকার। এদিকে কাবুলের বাগরাম বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মুত্তাকি বলেছেন, আফগানিস্তানের জাতীয় সম্পদ অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।
বকেয়া বিল না দেওয়ায় তরুণীর মাথা ন্যাড়া, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ল সামাজিক মাধ্যমে
ছুরি দেখিয়ে নারীকে অপহরণ ও ধর্ষণ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সিচালকের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল
বাড়ির ছাদ ভেদ করে ৪ কেজির ওজনের উল্কাপিণ্ড আঘাত করলো ঘুমিয়ে থাকা নারীর শরীরে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত তরুণ মার্কো তাপিয়া একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্থানীয় চার্চের যুবনেতা ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাটিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে তিনি ভুল পরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হয়েছিলেন কি না, সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনের মাউন্ট সুগারলোফ ড্রাইভের একটি বাড়িতে তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে পড়ে। বাড়িটিতে তখন মার্কো, তার মা-বাবা ও বোন ছিলেন। হামলাকারীরা গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে জরুরি পরিষেবার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ এক তরুণকে দেখতে পান। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ প্রথম দিকে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি এবং জানিয়েছিল, নিহতের বয়স ২০-এর কোঠায়। পরে সংবাদমাধ্যমগুলো তার পরিচয় মার্কো তাপিয়া হিসেবে প্রকাশ করে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কো তখন নিজের ঘরে বিছানায় ছিলেন। হামলাকারীরা তাকে গুলি করে ঘাড় ও হাতে আঘাত করে। ঘটনাটি এমন একটি বাড়িতে ঘটেছে, যেখানে পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। মার্কোর পরিবার সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের কাছে তার পরিচিতি ছিল একটি ছোটখাটো ট্রাফিক অপরাধের কারণে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অপরাধের রেকর্ড থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষাজীবনেও মার্কোর সামনে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তিনি ২০২৪ সালে মেডিকেল ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আরেকটি স্নাতক কোর্স শুরু করেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অস্ত্রোপচার প্রযুক্তি নিয়ে একটি ইন্টার্নশিপেও যুক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন মার্কো। প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। স্থানীয় হিলসং চার্চেও যুবনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। হিলসং চার্চের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দলও সম্প্রতি একটি পুরস্কার পেয়েছিল। গুরুতর পেশির ক্ষতির চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ কাঠামো তৈরির প্রকল্পে কাজ করেছিলেন মার্কো ও তার দল। প্রায় এক মাস আগে ওই প্রকল্পের সাফল্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর মার্কোকে ভুল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হত্যার শিকার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ পর সিডনির ‘কোকোনাট কার্টেল’ নামে পরিচিত একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে এমন একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়, যাতে ভুল ব্যক্তি ও ভুল বাড়িতে হামলার ইঙ্গিত ছিল। তবে ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট গ্রেচিন অ্যাটকিনস জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সব সম্ভাবনাই বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশ এখনো ঘটনাটিকে একটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলা হিসেবে দেখছে। সিডনিতে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতকে ঘিরে একাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ‘কোকোনাট কার্টেল’ এবং আলামেডিন অপরাধী নেটওয়ার্কের মধ্যে সংঘাতের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি জানিয়েছে, দুই পক্ষের সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুলির ঘটনা ও সহিংসতার তদন্ত করছে পুলিশ। মার্কোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই সংঘাতের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। পুলিশ অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেনি এবং কাউকে গ্রেপ্তারের কথাও জানায়নি। ঘটনার পর মাউন্ট সুগারলোফ ড্রাইভের ওই বাড়িটিকে অপরাধস্থল হিসেবে ঘিরে রাখা হয়। স্টেট ক্রাইম কমান্ডের হত্যাকাণ্ড তদন্তকারী দল স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে মিলে আলামত সংগ্রহ করছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছে। ঘটনার সময় ওই এলাকায় থাকা কোনো ব্যক্তি সন্দেহজনক গাড়ি, মানুষ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখে থাকলে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, তথ্য থাকলে ক্রাইম স্টপার্সে ১৮০০ ৩৩৩ ০০০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশীদের কাছে ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ গ্লেন অ্যালপাইনের ওই আবাসিক এলাকা সাধারণত শান্ত বলেই পরিচিত। ডেইলি মেইলের সঙ্গে কথা বলা এক প্রতিবেশী জানান, কাছাকাছি বাড়িতে গুলির ঘটনা ঘটলেও তারা কোনো শব্দ শুনতে পাননি এবং পরে খবর দেখে ঘটনাটি নিজেদের রাস্তায় ঘটেছে বলে জানতে পারেন। একই সময়ে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত ঘিরে পুলিশের নজরদারি বাড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক গুলির ঘটনা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে মার্কো তাপিয়ার হত্যাকাণ্ডে তার নিজের কোনো অপরাধী সংশ্লিষ্টতা ছিল, এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্ত এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে। নিহত তরুণের পরিচয়, হামলার উদ্দেশ্য এবং হামলাকারীদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। সূত্র: নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি), ডেইলি মেইল
গ্রিসের সঙ্গে ইসরায়েলের ৩ বিলিয়ন ইউরোর বড় সামরিক চুক্তি
ইসরায়েলে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের ভর্তি নিয়ে স্কুলে ক্ষোভ, ক্লাস বর্জনের ঘোষণা অভিভাবকদের