সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ফেসবুক

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আদালতে প্রশ্নের মুখে মেটা। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর ফিচার বাতিলের দাবিতে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যের মামলা

শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক মামলায় মেটার বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু বহুল ব্যবহৃত ফিচার তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে, এমন অভিযোগ তুলে এসব ফিচারে বড় ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার মামলাটির মূল বিচারপর্ব শুরু হয়েছে। মামলায় রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে মেটার কাছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা ও ব্যবহারের পদ্ধতিতে আদালতের নির্দেশে পরিবর্তন আনার দাবি জানানো হয়েছে।   মামলাটি ২০২৩ সালে ২৯ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা অভিযোগ থেকে শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি মামলাটির প্রধান বাদী হিসেবে এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার তৈরি করেছে, যাতে শিশু ও কিশোররা বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করে। একই সঙ্গে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও মেটা ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলার অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে অসীম স্ক্রল বা ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ব্যবস্থা। এর ফলে একটি পোস্ট শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারীকে পরবর্তী পোস্টের আভাস দেখানো হয় এবং স্ক্রল করতে থাকলে নতুন নতুন কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে আসতে থাকে। রাজ্যগুলোর দাবি, এই নকশা ব্যবহারকারীকে থামার স্বাভাবিক জায়গা না দিয়ে ক্রমাগত স্ক্রল করতে উৎসাহিত করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে এই ধরনের অসীম স্ক্রল ব্যবস্থা ২০১৬ সালে চালু করা হয়।   শুধু অসীম স্ক্রল নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া, পুশ নোটিফিকেশন, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানো এবং অল্প সময় পর অদৃশ্য হয়ে যায় এমন কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব ফিচার তরুণ ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।   রাজ্যগুলোর চাওয়া পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য অসীম স্ক্রল বন্ধ করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থা সীমিত বা বন্ধ করা এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফেরাতে পারে এমন নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করা। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মতো নির্দিষ্ট সময় পর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কনটেন্ট এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ নিয়েও বিধিনিষেধ চাওয়া হয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে চেহারা পরিবর্তনকারী ফিল্টারের ব্যবহার নিয়েও সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব রয়েছে।   এ ছাড়া রাজ্যগুলো মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদমেরও পরিবর্তন চায়। তাদের অভিযোগ, কোন কনটেন্ট ব্যবহারকারীকে বেশি সময় ধরে রাখতে পারে, সেই বিষয়টি অ্যালগরিদমে গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন কনটেন্টও বারবার সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়। রাজ্যগুলোর ভাষ্য, প্ল্যাটফর্মের নকশাই এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীর ব্যস্ততা বা ‘এনগেজমেন্ট’ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।   মামলায় শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজ্যগুলোর দাবি, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ অভিভাবকীয় সম্মতি নেওয়া হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে আদালত মেটার সারসংক্ষেপ রায়ের আবেদন পুরোপুরি নাকচ করে দেয় এবং মামলাটি বিচার পর্যন্ত যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। একই আদেশে আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার এই দাবিও গ্রহণ করে যে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষার ফেডারেল আইন, শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন বা কপ্পা (COPPA) অনুযায়ী মেটার অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার পদ্ধতি যথেষ্ট ছিল না।   তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীদের বক্তব্য, রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের দাবিও তারা মানে না। মেটা আরও বলেছে, তরুণদের সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কাজ চলছে।   মামলাটি এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি চাপ দ্রুত বাড়ছে। এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের জুরি রায় এবং পরে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা রয়েছে। ওই মামলায় শিশুদের সুরক্ষায় বয়স যাচাই জোরদার করা, রাত ও স্কুলের সময়ে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার বর্তমান মামলাটি অবশ্য আরও বড় পরিসরের। যদিও ২৯টি অঙ্গরাজ্য মামলায় রয়েছে, অকল্যান্ডের এই বিচারপর্বে প্রধানত ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সির অভিযোগগুলো নিয়ে শুনানি হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। মেটার শীর্ষ নির্বাহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   এই মামলার ফল শুধু মেটার জন্য নয়, পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালত যদি রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে রায় দেয় এবং নকশাগত পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়, তাহলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই ধরনের মামলায় অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকায়, এই রায় ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর শিশু-কিশোরদের জন্য পণ্য তৈরির পদ্ধতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষ করে অসীম স্ক্রল, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও, নোটিফিকেশন এবং অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশের মতো ফিচারগুলো যদি আদালতের নির্দেশে সীমিত করা হয়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রচলিত অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে। আর মেটার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবির পাশাপাশি এই নকশাগত পরিবর্তনের দাবিই মামলাটিকে প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
শিশুদের আসক্তি ও সুরক্ষায় ব্যর্থতার দায়ে নিউ মেক্সিকোর আদালতে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানার মুখে মার্ক জাকারবার্গের মেটা। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে শিশুদের আসক্তি ও যৌন শোষণের ঝুঁকি, মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে এবং শিশুদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। রায়ে প্ল্যাটফর্ম দুটির মূল প্রতিষ্ঠান মেটা⁠-কে কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি তহবিলে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সান্তা ফের বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড রায়ে বলেছেন, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো নিউ মেক্সিকোতে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেসের মামলায় অভিযোগ ছিল, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম তৈরি করেছে, যা অল্পবয়সী ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে এবং একই সঙ্গে শিশুদের যৌন শোষণের ঝুঁকি থেকে যথেষ্ট সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।   এই ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারই মেটার বিরুদ্ধে নিউ মেক্সিকোতে একমাত্র আর্থিক দণ্ড নয়। একই মামলার আগের ধাপে গত মার্চে একটি জুরি ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। দুই ধাপ মিলিয়ে মেটার আর্থিক দায় দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার।   আর্থিক দণ্ডের পাশাপাশি নিউ মেক্সিকোর অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ১৮ বছরের কম বয়সীদের মাসিক ব্যবহার সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টায় সীমিত করা, স্কুলের সময় ও রাতে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, বয়স যাচাই আরও কঠোর করা এবং শিশুদের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ ঠেকাতে সুরক্ষা বাড়ানোর নির্দেশ রয়েছে। এসব ব্যবস্থা পাঁচ বছর আদালতের তত্ত্বাবধানে কার্যকর থাকার কথা।   এছাড়া মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট যেন অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন বা রোমান্টিক ধরনের কথোপকথনে অংশ নিতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সন্দেহজনক নগ্ন ছবি ঝাপসা করে দেওয়ার মতো অতিরিক্ত সুরক্ষাও আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।   তবে আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। মেটার দাবি, অনলাইনে কিশোরদের নিরাপত্তায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং মামলায় তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো প্রকৃত পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না।   রায়টি আপাতত শুধু নিউ মেক্সিকোতে সরাসরি কার্যকর হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টির বেশি অঙ্গরাজ্য এবং ১ হাজার ৩০০টির বেশি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলা করেছে। ফলে নিউ মেক্সিকোর এই রায় ভবিষ্যতে মেটাসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
২০ বছর বয়সী মালিহা অ্যালেন
নর্থ ক্যারোলিনায় বাবাকে কুপিয়ে হ ত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২০ বছরের তরুণী, সামনে এলো ভয়ংকর ফেসবুক স্ট্যাটাস

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় নিজের বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে তিনি ফেসবুকে একটি লোমহর্ষক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে লেখা ছিল, “এই বাড়িটি একটি হত্যার দৃশ্যপট হতে যাচ্ছে, আমার বাবার কণ্ঠস্বর থামাও।” গত ১৭ এপ্রিল লেক্সিংটন এলাকার নিজ বাড়িতে বাবা মাইকেল অ্যালেনকে হত্যার দায়ে ২০ বছর বয়সী মালিহা অ্যালেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।   ঘটনার দিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মালিহা তাদের এক পারিবারিক বন্ধু জেনিফার ল্যানিংয়ের বাড়ির বারান্দায় হাজির হন। মালিহার পেট, ঘাড়, বুক ও পায়ে ছুরিকাঘাতের গভীর ক্ষত ছিল। জেনিফার জরুরি সেবায় কল করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালিহাকে তার ক্ষতের কারণ জিজ্ঞেস করে। জবাবে মালিহা জানান, তার বাবাই তাকে প্রথমে আঘাত করেছেন এবং বাধ্য হয়েই তিনি বাবাকে হত্যা করেছেন। জেনিফার পুলিশকে জানান, বাবা-মেয়ের মধ্যে অত্যন্ত অস্বস্তিকর সম্পর্ক ছিল। এমনকি ঘটনার আগের রাতে মালিহা তাকে ফিসফিস করে বলেছিলেন যে তিনি তার বাবার লালসার শিকার হতে চান না। জেনিফারের দাবি, সে রাতে মাইকেল মদ্যপ অবস্থায় তিনটি নতুন ছুরি নিয়ে উল্লাস করছিলেন।   মালিহাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করার পর পুলিশ তাদের জঙ্গলাকীর্ণ নির্জন বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেখানে মাইকেলকে ছুরিকাহত ও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। চার দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর মালিহাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেও, পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে গ্র্যান্ড জুরি তাকে মুক্তি দেয়। তবে চলতি মাসে ফার্স্ট-ডিগ্রি বা পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি জামিন ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন। মালিহার আইনজীবী কারেন গারবার জানান, তারা মালিহাকে নির্দোষ প্রমাণ করার আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাইকেলের অতীতের অপরাধের রেকর্ডই এই ঘটনার পেছনের সত্যকে স্পষ্ট করে দেয়।   জানা যায়, ২০১৯ সালেও মাইকেলের বিরুদ্ধে নিজের ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের ছয়টি অভিযোগ উঠেছিল। যদিও মালিহা পরবর্তীতে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সেই মামলাগুলো খারিজ হয়ে যায়। সম্প্রতি কারাগার থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালিহা দাবি করেছেন, তিনি আত্মরক্ষার্থেই বাবাকে হত্যা করেছেন, কারণ তার বাবা আবারও তাকে যৌন নির্যাতন করতে শুরু করেছিলেন। মালিহার মা ও সৎ বোনের মতে, বাবা-মেয়ের সম্পর্কটি সবসময়ই অত্যন্ত বিষাক্ত ও সহিংস ছিল, যা তাদের মাদক ও অ্যালকোহল আসক্তির কারণে আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছিল। তবে এত কিছুর পরও মালিহা কারাগার থেকে জানিয়েছেন যে, তিনি এখনও তার বাবাকে মিস করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত সরকার। ছবি: সংগৃহীত
নরেন্দ্র মোদির পোস্ট ব্লক করায় মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করল ভারত সরকার, ক্ষমাপ্রার্থনায়ও মেলেনি ছাড়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত সরকার। এ বিষয়ে জবাব দিতে মেটার বৈশ্বিক জননীতি বিভাগের প্রধানকে তলব করেছে দেশটির ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (মেইটি)।   মেটা ইতোমধ্যে ঘটনাটিকে একটি প্রযুক্তিগত ভুল বলে স্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, পোস্টটি ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে ভারত সরকার বলছে, শুধু ক্ষমা চাইলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যাচ্ছে না; কীভাবে এমন ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।   ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুলাই। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের উদ্দেশে একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করা হলে কিছু সময়ের জন্য সেটির দৃশ্যমানতা সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটি দেখতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস. কৃষ্ণান বলেন, মেটা ভুল স্বীকার করেছে, যা ইতিবাচক। কিন্তু তাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সরকার সন্তুষ্ট নয়। তার ভাষায়, “তারা বলেছে ভুল হয়েছে এবং ক্ষমাও চেয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই ভুল হলো এবং ভবিষ্যতে এটি ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাই।”   সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মেটা জানিয়েছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট যাচাই ব্যবস্থার একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে মূল পোস্টটিও ভুলবশত সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   তবে সরকারের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির ব্যাখ্যা দিয়ে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের মতে, যদি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে মেটার উচিত দ্রুত তাদের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি আরও নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করা। কারণ, কোটি কোটি ব্যবহারকারীর তথ্যপ্রবাহ পরিচালনা করা একটি প্ল্যাটফর্মের কাছ থেকে এ ধরনের ভুল গ্রহণযোগ্য নয়।   বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধী প্রথম প্রকাশ্যে এ ঘটনাটির সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও কীভাবে সীমাবদ্ধ করা হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতীয় নাগরিকরা কী দেখবেন বা দেখবেন না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কোনো বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেই।   এই ঘটনার মধ্যেই ভারতে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে সরকারি নজরদারি আরও বেড়েছে। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত ব্যবহারকারী নাম (ইউজারনেম) সুবিধা এবং ইনস্টাগ্রামে অবৈধ কনটেন্ট নিয়েও প্রতিষ্ঠানটিকে নোটিশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী ৩ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মেটাসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর পোস্ট করা সেলফি ভিডিও ফেসবুক থেকে ভুলবশত সরিয়ে ফেলেছিল মেটা। ছবি: সংগৃহীত
মোদীর ভিডিও সরিয়ে ক্ষমা চাইল মেটা, আবারও ফিরিয়ে দিল ফেসবুকে

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রকাশ করা একটি সেলফি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার পর তা পুনরায় ফিরিয়ে দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটি এ ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছে।   ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে গিয়েছিল। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর ভিডিওটি আবারও বহাল করা হয়। এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র জানান, ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   এদিকে ভিডিওটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ভারত সরকার। কী কারণে ভিডিওটি সরানো হয়েছিল, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটা ও ইনস্টাগ্রামের বৈশ্বিক প্রধানদের কাছেও সমন পাঠিয়েছে।   ঘটনার পটভূমিতে জানা যায়, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল। সেই আন্দোলনের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে একটি সেলফি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন।   ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই প্রকাশিত এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রতারণা রোধে ফ্রি ভেরিফিকেশন ব্যাজ দেওয়ার বড় পদক্ষেপ নিল মেটা। ছবি: সংগৃহীত
মেটা নিয়ে এল ফ্রি ভেরিফিকেশন ব্যাজ, বাড়ছে ফেসবুকের নিরাপত্তা

ফ্রি ভেরিফিকেশন ব্যাজ চালুর মাধ্যমে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রতারণা রোধে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মেটা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ও জালিয়াতি বেড়ে যাওয়ায় ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এই সুবিধা পেতে ব্যবহারকারীকে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও সেলফি রেকর্ড করতে হবে। মেটার সিস্টেম সেই ভিডিওটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে আসল পরিচয় নিশ্চিত করবে। সাধারণত এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেয়।   ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি ব্যবহারকারীরা এই সুবিধার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে অ্যাকাউন্টটিকে অবশ্যই মেটার কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে হবে। এই মুহূর্তে ফেসবুক পেজ কিংবা প্রফেশনাল মোড অ্যাকাউন্টগুলোর জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়।   প্রাথমিক অবস্থায় প্রোফাইল ছাড়াও ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ডেটিং এবং গ্রুপে এই ভেরিফিকেশন ব্যাজটি শো করবে। পরবর্তীতে এটি ফিড পোস্টেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভেরিফিকেশনের জন্য সংগৃহীত ভিডিও সেলফি এবং ফেসিয়াল ডাটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে।   এই ব্যাজটি কেবল এটি নিশ্চিত করে যে অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন বাস্তব মানুষ রয়েছে। তবে এটি ব্যবহারকারীর পূর্ণাঙ্গ বিশ্বস্ততা বা কোনো লেনদেনের নিশ্চয়তা দেয় না। পেইড মেটা ভেরিফাইড সাবস্ক্রিপশন থেকে এটি আলাদা এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ অচল ফেসবুক, ভোগান্তিতে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীরা

মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হঠাৎ করে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।   বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা ফেসবুকে লগ-ইন করতে পারছেন না। কেউ কেউ অ্যাপ ও ওয়েবসাইট লোড হতে বিলম্ব, নিউজফিড আপডেট না হওয়া এবং বিভিন্ন ফিচার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে না পারার অভিযোগ করেছেন।   অনলাইন সেবা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউন ডিটেক্টরসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও ফেসবুকের বিভ্রাট সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমস্যাটি একাধিক অঞ্চলে একযোগে দেখা দিয়েছে। এদিকে, বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।   প্রযুক্তিগত এই সমস্যার কারণে অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যারা যোগাযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল, তারা সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।   তবে ঠিক কী কারণে এই বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং কখন নাগাদ সেবাটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Unknown জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
‘রাষ্ট্রদূত হতে চাই’ বললেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী
ফেসবুক পোস্টে নতুন বিতর্ক: ‘রাষ্ট্রদূত হতে চাই’ বললেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। গত শনিবার রাতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন, বিশ্লেষক মহল ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ফেসবুকে লিখেছিলেন, “আমিও রাষ্ট্রদূত হতে চাই। কারও কাছে প্রধানমন্ত্রীর নম্বর থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন কি?”—এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে।   সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা পোস্টটিতে হালকা ও রসাত্মক মন্তব্য করলেও সাধারণ মানুষের একাংশ এটিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অসীম শাহ হাসির প্রতিক্রিয়া দিয়ে মন্তব্য করেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলে দেব।” শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র সস্মিত পোখারেল লেখেন, “আমি কি তাঁকে মেসেজ করব?” সংসদ সদস্য টিকা সাংগ্রৌলা কৌতুক করে বলেন, “আমার কাছে আছে, কিন্তু আপনাকে দেব না।”   এ ধরনের প্রতিক্রিয়াকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার অবমূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সংকটপূর্ণ ইস্যুগুলো থেকে জনদৃষ্টি সরাতে এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কর্মকাণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে।   পর্যবেক্ষকদের দাবি, বিতর্কিত অধ্যাদেশ, ভূমিহীনদের উচ্ছেদ এবং বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি অবহেলার অভিযোগে যখন সরকার চাপে রয়েছে, তখন এই ধরনের ‘ডিজিটাল নাটকীয়তা’ জনআলোচনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।   জেন-জি প্রজন্মের নেত্রী তনুজা পান্ডে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বিষয় এবং ব্যক্তিগত বিনোদনের সীমারেখা মুছে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। কূটনৈতিক পদ নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে রসিকতা করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।”   সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী যাদব দেবকোটা মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের আচরণ নির্বাহী পদের মর্যাদাকে খাটো করছে। একইভাবে সারিতা তিওয়ারি প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরিপক্বতা নিয়েও।   এ বিতর্কের পটভূমিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত ৪ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে সচিব কৃষ্ণ হরি পুষ্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ করে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সাবেক জ্যেষ্ঠ আমলারা এই পদক্ষেপকে বিপজ্জনক নজির হিসেবে দেখছেন এবং বলছেন, এতে প্রশাসনে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হতে পারে।   এর আগে ২৭ এপ্রিল বিতর্কিত অধ্যাদেশ পাশ করাতে সংসদ অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্তও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সে সময়ও জনমনে ক্ষোভ বাড়তে থাকলে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে মূল রাজনৈতিক বিতর্ককে আড়াল করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।   মানবাধিকারকর্মী মজিদ আনসারি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে, কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নয়।”   সমালোচকদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ফাইল ছবি
ফেসবুকের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই, কেবল অনুরোধ করা যায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে ফেসবুক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান মেটা-এর বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো আইনি বিধান বর্তমানে দেশে নেই। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এ কারণে সরকার কেবল অনুরোধের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিতে পারে।   জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মহিলা আসন-৯ এর সংসদ সদস্য বেগম হেলেন জেরিন খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।   লিখিত প্রশ্নে সংসদ সদস্য জেরিন খান জানতে চান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি, বট-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চরিত্রহনন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং নারী হয়রানি প্রতিরোধে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে।   জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে বিদ্যমান সাইবার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশোধিত আইনে এসব অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে এবং একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে সরাসরি আইনি জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।   তিনি আরও বলেন, সরকার চায় অনুরোধ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক এবং কনটেন্ট অপসারণ করুক। তবে বর্তমানে অনুরোধ করার পরও অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নিয়েও অপপ্রচার রয়েছে। এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনগত সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি সংসদে মত দেন।   তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো বিধান না থাকায় সরকার বর্তমানে কেবল অনুরোধের মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  

Unknown জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম লোগোর সামনে ছোট ছোট খেলনা মূর্তি দেখা যাচ্ছে । ছবি: রয়টার্স
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের পেইড সংস্করণ আনছে মেটা, মাসিক খরচ কত?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নতুন পেইড সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এতদিন বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসায়িক মডেলে পরিচালিত হলেও এবার নতুন রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যে ‘ফেসবুক প্লাস’, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ নামের সেবা চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।   বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন মেটার হেড অব প্রোডাক্ট নাওমি গ্লেইট। তিনি নিজের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বিশ্বব্যাপী ধাপে ধাপে নতুন এই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, কনটেন্ট নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার জন্য আলাদা সংস্করণ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।   কেন পেইড সেবা চালু করছে মেটা মেটার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরে এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   এই বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিকল্প আয়ের উৎস গড়ে তুলতে মেটা নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।   কত খরচ হবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯১ টাকা। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের মাসিক সাবস্ক্রিপশন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ডলার ৯৯ সেন্ট, যা প্রায় ৩৬৮ টাকার সমান। তবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একই মূল্য কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি মেটা।   কী সুবিধা মিলবে ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারকারীরা উন্নত অ্যানালিটিকস সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে স্টোরি কতবার দেখা হয়েছে, কারা দেখেছে এবং পোস্টের পারফরম্যান্স সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি পোস্টের পৌঁছ বাড়ানো এবং প্রোফাইল কাস্টোমাইজেশনের অতিরিক্ত সুবিধাও থাকবে।   অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসে ব্যক্তিগতকরণ বা পার্সোনালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সেবার আওতায় প্রিমিয়াম স্টিকার, কাস্টম রিংটোন, বিশেষ থিমসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।   আসছে ‘মেটা ওয়ান’ নাওমি গ্লেইট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মেটার বিভিন্ন সেবাকে ‘মেটা ওয়ান’ নামে একটি একক সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা সুরক্ষা আইন মেনে ইউরোপে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একটি পেইড সংস্করণ চালু করেছিল মেটা। তবে সেই সংস্করণে মূলত বিজ্ঞাপন অপসারণ ছাড়া ফ্রি সংস্করণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছিল না।

Unknown মে ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০