ফোনে গোপনে নজরদারি করতে পারে ‘গ্রাফাইট’, এই স্পাইওয়্যার নির্মাতার সঙ্গে আইসিইর ২০ লাখ ডলারের চুক্তি
একটি স্মার্টফোনে গোপনে ঢুকে ব্যক্তিগত বার্তা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে পারে ‘গ্রাফাইট’ নামের শক্তিশালী স্পাইওয়্যার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এর কিছু আক্রমণে ফোনের মালিককে কোনো লিংকে ক্লিক করা, ফাইল খোলা কিংবা কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করার প্রয়োজনও হয় না। এমন প্রযুক্তি তৈরি করা প্রতিষ্ঠান প্যারাগন সলিউশন্সের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর ২০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি রয়েছে।
গ্রাফাইটকে বাণিজ্যিক নজরদারি প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। এটি সরকারের গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করা হয়। বহুল আলোচিত পেগাসাসের মতো গ্রাফাইটও এমন প্রযুক্তির অংশ, যেগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্মার্টফোনে গোপনে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা দেয়।
তবে প্যারাগনের প্রযুক্তির বিষয়ে সব তথ্য প্রকাশ্যে নেই। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তারা যাচাই করা সরকারি সংস্থার কাছেই প্রযুক্তি বিক্রি করে এবং সাংবাদিক বা নাগরিক সমাজের সদস্যদের বেআইনিভাবে নজরদারির অনুমতি দেয় না। কিন্তু ইতালি ও ইউরোপের কয়েকটি ঘটনায় গবেষকেরা গ্রাফাইটের ব্যবহার নিয়ে ফরেনসিক প্রমাণ পাওয়ার পর প্রযুক্তিটির ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
গ্রাফাইট কীভাবে ফোনে ঢোকে
গ্রাফাইটের সবচেয়ে আলোচিত সক্ষমতার একটি হলো ‘জিরো-ক্লিক’ আক্রমণ। সাধারণ সাইবার হামলায় ব্যবহারকারীকে কোনো ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে, সংযুক্ত ফাইল খুলতে বা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে হয়। কিন্তু জিরো-ক্লিক আক্রমণে ব্যবহারকারীর এমন কোনো ভুল করার প্রয়োজন নেই।
স্মার্টফোনে আসা বার্তা, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য প্রদর্শনের আগে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা ও প্রক্রিয়াজাত করে। এই প্রক্রিয়ার কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশেষভাবে তৈরি তথ্য ফোনে পৌঁছালে আক্রমণকারী ডিভাইসে ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ পেতে পারে। এরপর ফোনের ভেতরে স্পাইওয়্যারের অংশ বসিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।
সিটিজেন ল্যাবের গবেষণা অনুযায়ী, প্যারাগনের অবকাঠামো ও গ্রাফাইটের সঙ্গে যুক্ত একটি জিরো-ক্লিক আক্রমণ শনাক্ত করতে হোয়াটসঅ্যাপকে সহায়তা করেছিল তাদের গবেষণা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াটসঅ্যাপ প্রায় ৯০ জন ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে জানায় যে তারা প্যারাগনের স্পাইওয়্যারের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। আক্রান্তদের মধ্যে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যও ছিলেন।
হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে আক্রমণের একটি পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পিডিএফ ফাইল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল। লক্ষ্যবস্তুদের একটি গ্রুপে যুক্ত করে তাদের কাছে ওই ধরনের ফাইল পাঠানো হয়েছিল। গবেষকদের কাছে এটিই গ্রাফাইটের জিরো-ক্লিক সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে।
এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনও কেন পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না
গ্রাফাইটের মতো স্পাইওয়্যার নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হোয়াটসঅ্যাপ বা সিগন্যালের মতো অ্যাপের বার্তা যদি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে সেগুলো কীভাবে পড়া সম্ভব?
এর উত্তর হলো, এনক্রিপশন বার্তাকে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে যাওয়ার সময় সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বার্তাটি ব্যবহারকারীর ফোনে পৌঁছে অ্যাপ যখন সেটিকে পড়ার উপযোগী করে, তখন সেটি ডিভাইসের ভেতরেই দৃশ্যমান হয়ে যায়। স্পাইওয়্যার যদি আগে থেকেই সেই ফোনে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে এনক্রিপশন ভাঙার প্রয়োজন ছাড়াই ডিভাইসের ভেতরে থাকা তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে।
এই কারণেই গ্রাফাইটের মতো স্পাইওয়্যার শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা নয়, বরং পুরো ডিভাইসের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।
ইতালিতে সাংবাদিক ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ফোনে গ্রাফাইট
গ্রাফাইট নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তগুলোর একটি হয়েছে ইতালিতে। সিটিজেন ল্যাব কয়েকজন ইতালীয় নাগরিকের ফোন ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করে প্যারাগনের স্পাইওয়্যারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিহ্ন খুঁজে পায়।
লুকা কাসারিনি ও জুসেপ্পে কাচ্চি নামে দুই অভিবাসন অধিকারকর্মীর অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গ্রাফাইট-সংশ্লিষ্ট স্পাইওয়্যার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। ইতালীয় সাংবাদিক ফ্রানচেস্কো কানচেল্লাতোকেও হোয়াটসঅ্যাপ সতর্ক করেছিল যে তার ফোন লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে।
২০২৬ সালের মার্চে রোম ও নেপলসের প্রসিকিউটরদের তদন্তে তিনটি ফোনেই ক্ষতিকর সফটওয়্যারের চিহ্ন পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের মতে, কাসারিনি, কাচ্চি ও কানচেল্লাতোর ফোনে একই সময়ের কাছাকাছি অস্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা যায় এবং সেগুলো গ্রাফাইটের কার্যপ্রণালির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ইতালীয় তদন্তে কাসারিনি ও কাচ্চির বিরুদ্ধে গ্রাফাইট ব্যবহারের সঙ্গে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমের সম্পর্ক পাওয়া গেলেও সাংবাদিক কানচেল্লাতোর ক্ষেত্রে একই ধরনের সরকারি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত এখনো তার ফোনে কে নজরদারি চালিয়েছিল, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছে।
ইতালীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাসারিনি ও কাচ্চির ওপর গ্রাফাইট ব্যবহার আইনগত অনুমোদনের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। সাংবাদিক কানচেল্লাতোর ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই বলেও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।
এই ঘটনায় একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দাবি করে যে তার প্রযুক্তি শুধু আইনসম্মত নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তাহলে বাস্তবে কোনো সরকারি সংস্থা সেই প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করছে, তা কতটা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব?
প্যারাগনের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের ছবিও আলোচনায়
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাফাইট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় প্যারাগনের একজন শীর্ষ আইন কর্মকর্তার লিংকডইনে দেওয়া একটি ছবিকে ঘিরে। ছবিতে পেছনের একটি বড় পর্দায় গ্রাফাইটের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের মতো একটি ইন্টারফেস দেখা যায়। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হলেও সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা ছবিটি সংরক্ষণ করেন।
ছবিতে একটি ফোন নম্বর, ‘ভ্যালেন্তিনা’ নামে একটি পরিচিতি, বার্তা ও তথ্য সংগ্রহের রেকর্ড এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিভাগ দেখা যাচ্ছিল বলে সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা জানান। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টেলিগ্রাম ও লাইনসহ কয়েকটি যোগাযোগ অ্যাপের চিহ্নও দেখা যায়।
এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্যানেল থেকে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ডিভাইসে নজরদারি পরিচালনা, সংগৃহীত তথ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং অনুমোদনের মেয়াদ সম্পর্কিত তথ্য দেখার সুযোগ থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
প্যারাগনের প্রতিষ্ঠা ও মালিকানা
প্যারাগন সলিউশন্স প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে ইসরায়েলে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সাবেক কমান্ডার এহুদ শ্নোরসন।
২০২৪ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্টনার্স প্যারাগন অধিগ্রহণে সম্মত হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। চুক্তিটির মূল্য কমপক্ষে ৫০ কোটি ডলার বলে তখন জানানো হয়েছিল। পরে প্যারাগনের শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ্যে আসে।
প্যারাগন নিজেকে অন্যান্য বিতর্কিত বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার প্রতিষ্ঠানের তুলনায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য, প্রযুক্তিটি গণতান্ত্রিক দেশের যাচাই করা সরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয় এবং সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের বেআইনিভাবে লক্ষ্যবস্তু করা নিষিদ্ধ।
কিন্তু ইতালির ঘটনাগুলো সেই দাবির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা বাইরের মানুষের পক্ষে যাচাই করা কঠিন।
আইসিইর সঙ্গে ২০ লাখ ডলারের চুক্তি
প্যারাগন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ আরও বেড়েছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর সঙ্গে ২০ লাখ ডলারের চুক্তির কারণে।
আইসিইর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বিভাগের সঙ্গে প্যারাগনের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের এক বছরের চুক্তি ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিটির মূল্য ছিল ২০ লাখ ডলার। কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয় এবং ৮ অক্টোবর ‘স্টপ-ওয়ার্ক’ আদেশ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল চুক্তিটি বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ২০২৩ সালের নির্বাহী আদেশে এমন বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, যেগুলো জাতীয় নিরাপত্তা বা মানবাধিকার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে জানানো হয়, আইসিইর চুক্তির ওপর থাকা ‘স্টপ-ওয়ার্ক’ আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্যারাগনের সঙ্গে চুক্তিটি কার্যকর করার পথ আবার খুলে যায়।
তবে প্রকাশ্য চুক্তির নথিতে গ্রাফাইটের নাম সরাসরি উল্লেখ নেই। সেখানে প্যারাগনের কাছ থেকে কনফিগার করা মালিকানাধীন সমাধান, সফটওয়্যার লাইসেন্স, হার্ডওয়্যার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণের কথা রয়েছে। ফলে আইসিই ঠিক কোন নজরদারি সক্ষমতা পেয়েছে বা ব্যবহার করতে চায়, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই।
এই জায়গাটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ গ্রাফাইট যদি চুক্তির আওতায় থাকে বা ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে প্রচলিত তল্লাশি বা জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই কোনো ব্যক্তির ফোন থেকে যোগাযোগ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতে চলে যেতে পারে।
অভিবাসী ও সাংবাদিকদের ওপর ব্যবহারের আশঙ্কা
আইসিই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা সংস্থা। ফলে প্যারাগনের মতো শক্তিশালী নজরদারি প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের চুক্তি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও গোপনীয়তা অধিকারকর্মীদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অভিবাসী, আইনজীবী, সাংবাদিক, অধিকারকর্মী বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে কি না। চুক্তির প্রকাশ্য নথিতে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের নিয়ম, ব্যবহারের সীমা এবং স্বাধীন নজরদারির বিস্তারিত তথ্য নেই।
বিতর্কের মূল জায়গা এখানেই। কোনো স্মার্টফোনে গ্রাফাইটের মতো প্রযুক্তি সফলভাবে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারী নিজে বিষয়টি বুঝতেই নাও পারেন। ফোনে কোনো অস্বাভাবিক বার্তা, পপ-আপ বা সতর্কতা দেখা না দিয়েও তথ্য সংগ্রহ হতে পারে। ফলে সাধারণ নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলা একজন ব্যবহারকারীর পক্ষেও এমন আক্রমণ ঠেকানো কঠিন হতে পারে।
সিটিজেন ল্যাবের গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৯০টি ঘটনা সম্ভবত প্যারাগনের মোট নজরদারি কার্যক্রমের একটি অংশ মাত্র। কারণ সব ধরনের সংক্রমণ একই পদ্ধতিতে শনাক্ত করা সম্ভব নয় এবং অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি কখনোই সতর্কবার্তা পেতে পারেন না।
ফলে গ্রাফাইটের ঘটনা শুধু একটি স্পাইওয়্যার বা একটি প্রতিষ্ঠানের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সরকারি নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমা, নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সাংবাদিকদের তথ্যসূত্রের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ হলো, প্রযুক্তি ব্যবহারের পর কোনো ব্যক্তি যদি জানতে না পারেন যে তার ফোনে নজরদারি চালানো হয়েছে, তাহলে সেই নজরদারির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়। আর এ কারণেই গ্রাফাইটের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি নয়, স্বাধীন তদারকি ও স্পষ্ট আইনি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন অধিকারকর্মীরা।
সূত্র: দ্য সিটিজেন ল্যাব
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কংগ্রেসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার অনুমোদন চায়নি ট্রাম্প প্রশাসন। আর সরকারের এই সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হচ্ছে যুদ্ধে প্রাণ হারানো মার্কিন সেনাদের পরিবারকে। আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা না থাকায় এক নিহত মার্কিন বিমান বাহিনীর মেজরের পরিবারকে ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই সামরিক কর্মকর্তার নাম মেজর জন অ্যালেক্স ক্লিনার। ৩৩ বছর বয়সী এই মেজর অপারেশন এপিক ফিউরি এর অংশ হিসেবে ইরাকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি ইরাকে একটি কেসি ১৩৫ রিফুয়েলিং বা মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন ক্রু প্রাণ হারান, মেজর ক্লিনার ছিলেন তাদেরই একজন। অবার্ন ইউনিভার্সিটির স্নাতক ও ট্রাসভিলের বাসিন্দা ক্লিনারের মৃত্যুতে তার স্ত্রী লিবি এবং তিন সন্তান এখন অথৈ সাগরে পড়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে লিবি জানান, মার্কিন বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে যে তার পরিবার কিছু নির্দিষ্ট সামরিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নয়। লিবি তার পোস্টে লেখেন, বিমান বাহিনী সম্প্রতি আমাকে জানিয়েছে যে, যেহেতু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করিনি, তাই আমি ও আমার সন্তানরা কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নই। যে যুদ্ধে আমার স্বামী কখনোই অংশ নিতে চায়নি, সেখানে তাকে প্রাণ দিতে হলো। আর এখন আমরা যে সামান্য সুবিধাটুকু পেতাম, সেটিও আটকে আছে কেবল শব্দের মারপ্যাঁচ আর লোক দেখানো নীতির কারণে। এটি এমন এক যুদ্ধ যা ছয় মাস ধরে চললেও আমরা এটিকে যুদ্ধ বলতে পারছি না। স্বামীর মৃত্যুর পর অনেকেই লিবির পোস্টে সমবেদনা জানিয়েছেন। তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে লিবি সেসব সমালোচকদেরও কড়া জবাব দিয়েছেন, যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলে ক্লিনার কেন সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। সমালোচকদের উদ্দেশে লিবি বলেন, কেউ যুদ্ধে যাওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগ দেয় না। সামরিক বাহিনীর সদস্যরা কখনোই পরিবার ছেড়ে দূরে মোতায়েন থাকতে পছন্দ করেন না। তারা তাদের দেশকে রক্ষা করার শপথ নেন, এটা জেনেই যে তাদের হয়তো কখনো যুদ্ধে পাঠানো হতে পারে। তবে তারা সবসময় আশা করেন যেন এমন পরিস্থিতি না আসে। তারা এই ধারণা নিয়েই বাহিনীতে যোগ দেন যে যুদ্ধ হবে একদম শেষ বিকল্প, কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে মোটেও তা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে ঠিক কী ধরনের সুবিধা থেকে এই পরিবারটিকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন লিবি। সামরিক বাহিনীর ক্যাজুয়ালটি অ্যাসিস্ট্যান্স অফিসার বা হতাহতদের সহায়তা প্রদানকারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে লিবি জানান, আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা না থাকার কারণেই মূলত অতিরিক্ত সুবিধাগুলো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাদ পড়া সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে কমব্যাট পে বা যুদ্ধকালীন ভাতা, যেমন চরম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের ভাতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের করছাড় সুবিধা। নিজের এই দাবিকে যারা মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, তাদেরও একহাত নিয়েছেন লিবি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যারা মন্তব্য করছেন যে আমি কেবল মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এসব পোস্ট করছি, তাদের উদ্দেশে বলছি, নিজের জীবনসঙ্গীকে কবর দেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি না হওয়া পর্যন্ত অন্তত কাউকে বিচার করা থেকে বিরত থাকুন। উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অপারেশন এপিক ফিউরি চলমান থাকলেও মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন না থাকায় আইনি জটিলতায় পড়েছেন যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হাজারো সেনা ও তাদের পরিবার।
দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সুযোগ পাবে কিশোররা, নতুন নিয়ম আনছে মেটা
ফোনে গোপনে নজরদারি করতে পারে ‘গ্রাফাইট’, এই স্পাইওয়্যার নির্মাতার সঙ্গে আইসিইর ২০ লাখ ডলারের চুক্তি
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া এখন আরও কঠিন, ৯৪ শতাংশ অ্যাসাইলাম আবেদন বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ কিংবা দেশ থেকে বের হওয়ার সময় সঙ্গে ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ বা নির্দিষ্ট ধরনের মনিটারি ইন্সট্রুমেন্ট থাকলে তা মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি এর কাছে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক। তবে ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ বহন করা নিজে অবৈধ নয়। সঠিকভাবে ঘোষণা না করলে অর্থ জব্দ বা ফোরফিচারের পাশাপাশি আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দরের একটি ঘটনায়। সিবিপি এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া এক যাত্রীর কাছে ২০ হাজার ডলারের বেশি অঘোষিত নগদ অর্থ পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যাত্রী তার কাছে ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। পরে তল্লাশিতে ২০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ পাওয়ার পর সেটি জব্দ করা হয়। মার্কিন সরকারের ফিনান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক বা ফিনসেন এর নিয়ম অনুযায়ী, একবারে ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ বা নির্দিষ্ট মনিটারি ইন্সট্রুমেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নিয়ে গেলে কিংবা বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এলে ফিনসেন ফর্ম ১০৫ জমা দিতে হয়। অর্থাৎ নিয়মটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় নয়, দেশ থেকে বের হওয়ার সময়ও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই সীমা শুধু মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে নয়। U.S. ও বিদেশি মুদ্রা মিলিয়ে মোট মূল্য ১০ হাজার ডলারের বেশি হলে এবং নির্দিষ্ট ধরনের ট্রাভেলার্স চেক, মানি অর্ডারসহ অন্যান্য মনিটারি ইন্সট্রুমেন্ট থাকলেও রিপোর্টিংয়ের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ সঙ্গে থাকলেই সেটি অবৈধ হয়ে যায় না। মার্কিন আইনে এ ধরনের অর্থ বহনের কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা নেই। মূল বিষয় হলো, প্রয়োজনীয় ডিক্লারেশন সঠিকভাবে করা। রিপোর্ট না করা, অর্থের পরিমাণ গোপন করা বা কর্মকর্তাদের কাছে ভুল তথ্য দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ জব্দ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশে যাওয়ার সময় ব্যবসা, পারিবারিক প্রয়োজন বা অন্য বৈধ কারণে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহন করলে আগে থেকেই রিপোর্টিংয়ের নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত। সহজভাবে বললে, ১০ হাজার ডলারের সীমা কোনো নিষেধাজ্ঞার সীমা নয়, এটি মূলত রিপোর্টিংয়ের সীমা। টাকা বৈধ হলে তা বহন করা যেতে পারে, কিন্তু প্রয়োজনীয় ডিক্লারেশন করতে হবে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করল জন্মদাতা বাবা, উদ্ধার নবজাতকের মরদেহ
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করলেন মার্কিন সেনাসচিব ড্যান ডিসক্রল, নতুন চ্যালেঞ্জে পেন্টাগন
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধতা হারিয়ে পায়ে জিপিএস ট্র্যাকার, অপমান ও নির্বাসনের আতঙ্কে হাইতিয়ান তরুণের মর্মান্তিক আ/ত্মহত্যা
গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘অপারেশন রোটেন অ্যাপল’ বা পচা আপেল অভিযানের আওতায় প্রায় ২ হাজার ২০০ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি, ধর্ষক এবং মাদক চোরাকারবারি রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী বা গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই এই অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। সামনে এমন আরও বড় পরিসরের অভিযান চালানো হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই অভিযানে মোট ২ হাজার ১৯৭ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুলিন সাংবাদিকদের জানান, নিউইয়র্কের মেয়র এবং গভর্নর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইসিই-এর সহযোগিতার পথ বন্ধ করে দেওয়ায় এ ধরনের বিশাল অভিযানের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি মেয়র মামদানীর সমালোচনা করে বলেন, তিনি জনগণের নিরাপত্তা ও চাহিদার বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ফেডারেল সরকারের কাজে স্থানীয় প্রশাসন অসহযোগিতা অব্যাহত রাখলে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনে আরও বেশি এজেন্ট মোতায়েন করা হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেন মুলিন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইউক্রেনীয় নাগরিক বোগদান ডেট্রোভিচ গ্রেন রয়েছেন, যার বিরুদ্ধে হত্যা ও অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত। এছাড়া শিশু নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত কলম্বিয়ার আন্দ্রেয়াস বারনাল চিকুইতো, জার্মানিতে ধর্ষণের দায়ে দণ্ডিত ভারতীয় নাগরিক পালবিন্দর সিং এবং ভেনেজুয়েলার কার্লোস মেন্ডেজ-অ্যাকোস্টাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেয়র মামদানী গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আইসিই-এর সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত রাখতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। একইভাবে গভর্নর হোকুলও রাজ্য পুলিশকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করে আইন পাস করেছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতে, এসব চরমপন্থী নীতির কারণে ১৩ হাজারের বেশি অপরাধী অভিবাসী নিউইয়র্কের রাস্তায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে আইন অমান্যকারী এসব 'স্যাংচুয়ারি' বা আশ্রয়দাতা রাজ্য ও শহরগুলোতে ফেডারেল তহবিল পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
ফ্লোরিডায় ট্রাকের কেবিনে ৬ বছর বন্দি চার শিশু, দুই নারীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ যৌ/ন নির্যা/তনের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল; ইন্টারভিউ দিয়ে ভিসা পাননি, তাদের যা জানা জরুরি