১৮ বছর বয়সে আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে, অস্ত্র প্রশিক্ষণের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখে মার্কিন নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ইসলামিক স্টেট (আইএস) থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী হালিমা সালমানের বিচার চলছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আইএসের কথিত নারী সদস্য হিসেবে পূর্ণাঙ্গ ফেডারেল বিচারের মুখোমুখি হওয়া প্রথম নারী বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, কিশোরী বয়সে পরিবারের সঙ্গে সিরিয়ায় আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যাওয়ার পর তিনি সংগঠনটির একটি নারী ইউনিটের কাছ থেকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। তবে হালিমা আদালতে বলেছেন, তাঁর বাবা তাঁকে সিরিয়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে আইএস যোদ্ধার সঙ্গে বিয়েতে বাধ্য করেছিলেন। তিনি সংগঠনটির আদর্শ সমর্থন করেন না বলেও দাবি করেছেন।
ব্রুকলিনে জন্ম নেওয়া হালিমার বাবা তুরস্কের নাগরিক এবং মা মার্কিন নাগরিক। আদালতে দেওয়া তাঁর সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর বাবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তুরস্কে যান। এর কয়েক মাস পর তাঁদের সিরিয়ায় আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন হালিমার বয়স ছিল ১৭ বছর। পরবর্তী সময়ে ১৮ বছর বয়সে আইএস যোদ্ধা আবু আলীকে বিয়ে করেন তিনি। হালিমার ভাষ্য, এই বিয়েতে তাঁর সম্মতি ছিল না। বিয়ের সময় তাঁর বাবাকে পাঁচ হাজার ডলার দেন ওই যোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা বলে আদালতে জানিয়েছেন তিনি। হালিমা আরও বলেন, ওই পরিস্থিতিতে তিনি ভীত ছিলেন এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছিলেন।
মামলায় প্রসিকিউটররা আদালতে একটি ভিডিও উপস্থাপন করেছেন, যেখানে হালিমাকে সিরিয়ায় তাঁর স্বামীর বাড়িতে একে-৪৭ রাইফেল হাতে দেখা যায়। তাঁদের দাবি, আইএসের নুসাইবাহ কাতিবা নামের নারী ইউনিট তাঁকে অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। এ ছাড়া, আবু আলীর ফোন থেকে উদ্ধার করা একটি হাতে লেখা নথির ছবিও প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, নথিটি আইএসের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সনদ, যেখানে হালিমার কালাশনিকভ রাইফেল ব্যবহারের যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে হালিমার আইনজীবীরা নথিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং প্রশিক্ষণের প্রকৃতি, সময়কাল ও স্থান সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রমাণ দেওয়া হয়নি বলে যুক্তি দিয়েছেন।
আদালতে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে হালিমা বলেছেন, সিরিয়ায় তাঁর জীবন ছিল কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। কোথায় যাবেন, কী খাবেন, এমনকি কখন বাইরে বের হবেন, সে বিষয়েও তাঁর স্বাধীনতা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইএসের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে বেরিয়ে আসাও অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর তিনি কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বন্দিশিবিরে প্রায় পাঁচ বছর কাটান। ২০১৯ সালে আইএসের নিয়ন্ত্রণাধীন শেষ অঞ্চলগুলোর পতনের পর সংগঠনটির সদস্যদের পরিবারের অনেক নারী ও শিশুকে এসব শিবিরে রাখা হয়েছিল। হালিমার দাবি, তিনি বহুবার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আবেদন করেছিলেন।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সিরিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার একটি উদ্যোগের অংশ হিসেবে হালিমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে পাঁচ লাখ ডলারের জামিনে নিউ হ্যাম্পশায়ারে আত্মীয়দের সঙ্গে বসবাস করছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জেনেশুনে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার, ২১ অক্টোবর, মামলার সমাপনী বক্তব্যে সরকারি কৌঁসুলিরা হালিমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে ভিডিও ও নথির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। অন্যদিকে, তাঁর আইনজীবীরা বলেছেন, আইএসের এলাকায় অবস্থান করা বা একজন যোদ্ধাকে বিয়ে করার বিষয়টিই সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার অপরাধ প্রমাণ করে না। মামলার রায় এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, প্রতিরক্ষাপক্ষের সমাপনী বক্তব্যের পর বিচারকদের আলোচনার মাধ্যমে রায় নির্ধারণের কথা রয়েছে। এই মামলার ফলাফল নির্ভর করবে হালিমা জেনেশুনে আইএসের কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে উপস্থাপিত প্রমাণ বিচারকরা কীভাবে মূল্যায়ন করেন তার ওপর।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, কোর্টহাউস নিউজ সার্ভিস।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাসায়নিক প্রকৌশলে পিএইচডি করেছেন। তাঁর গবেষণার উল্লেখও করেছে ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী কমিটি। অথচ দুই বছর ধরে চাকরির খোঁজে ২ হাজার ৩০০টির বেশি আবেদন করেও স্থায়ী কাজ পাননি ৩০ বছর বয়সী জ্যাক ওয়েইস। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্টলেক সিটির এই বাসিন্দা এখন বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকছেন। গবেষণাগার ও জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফেলোশিপ থেকে শুরু করে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পদ, এমনকি খাবার তৈরির কাজেও আবেদন করেছেন তিনি। তবু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো উত্তর পাননি, আর কিছু আবেদন শেষ হয়েছে প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে তাঁর এই দীর্ঘ চাকরির লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে। ওয়েইসের শিক্ষাজীবনের রেকর্ড ছিল বেশ উজ্জ্বল। তিনি রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ফল নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেন, যা শেষ হয় ২০২৪ সালে। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বরফ তৈরির রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং অণুর পারস্পরিক ক্রিয়া। ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যন্ত্রশিক্ষার প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে তাঁর গবেষণার উল্লেখ করা হয়। তবে এই উল্লেখের অর্থ ওয়েইস নিজে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, এমন নয়। এত ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও পছন্দের ক্ষেত্রে চাকরি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরেও কাজ খুঁজতে হয়েছে। প্রথম দিকে ওষুধশিল্পের গবেষণাগার এবং জাতীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চতর গবেষণা বৃত্তিতে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওয়েইস। কিন্তু অধিকাংশ আবেদনের কোনো জবাব আসেনি। পরে সফটওয়্যার প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতের চাকরিতে আবেদন করেন। প্রিন্সটন ও রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও উল্লেখযোগ্য সুযোগ পাননি। একপর্যায়ে হিমায়িত কাঁকড়ার কেক তৈরি ও বিক্রি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে খাবার প্রস্তুতের কাজেও আবেদন করেন তিনি। উচ্চশিক্ষিত একজন গবেষকের চাকরি খোঁজার পরিধি কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা তারই উদাহরণ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অল্প সময়ের জন্য কাজ পেয়েছিলেন ওয়েইস। মারকর নামের প্রতিষ্ঠানটির হয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণের জন্য রাসায়নিক প্রকৌশলবিষয়ক প্রশ্ন তৈরি করতেন, মডেলের উত্তর যাচাই করতেন এবং সেগুলো আরও উন্নত করতে সহায়তা করতেন। ঘণ্টাপ্রতি ৭০ ডলার পারিশ্রমিক পেলেও কাজের পরিমাণ নিয়মিত ছিল না। কোনো সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ পেতেন, আবার কোনো সপ্তাহে তা নেমে আসত মাত্র চার ঘণ্টায়। পরে কাজ কমতে কমতে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সুযোগও তাঁর জন্য স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি। দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা ওয়েইসের পরিবারকেও বিস্মিত করেছে। তাঁর বাবা জন ওয়েইস একজন চিকিৎসক। ছেলের মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও কেন তিনি কাজ পাচ্ছেন না, তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই নিয়োগ পেতে সমস্যার কথা বলছেন। প্রায় ২১৮ জন চাকরিপ্রার্থীর ওপর পরিচালিত একটি জরিপে ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করার পর নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের উদ্বিগ্ন করে। তীব্র প্রতিযোগিতা, বয়সভিত্তিক বৈষম্যের আশঙ্কা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এখন বিকল্প পেশার কথাও ভাবছেন ওয়েইস। আগামী নভেম্বরে আইন বিষয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এমন একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ তৈরির ধারণা নিয়ে কাজ করছেন, যাতে লাগানো এলইডি লেজারের সাহায্যে মির্টল স্পার্জ নামের ক্ষতিকর আগ্রাসী আগাছা ধ্বংস করা যায়। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে নীতিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও জমা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, প্রচলিত চাকরির বাইরে নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের দক্ষতার ব্যবহার ঘটানোর সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। দুই হাজারের বেশি আবেদন করেও স্থায়ী চাকরি না পাওয়া ওয়েইসের অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ব্যবধান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
১৮ বছর বয়সে আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে, অস্ত্র প্রশিক্ষণের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখে মার্কিন নারী
চালক অসুস্থ হয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাস, দ্রুত বাস থামিয়ে প্রায় ২০ শিশুকে বাঁচালেন যুবক
ফেসবুকের তথ্য গোপনীয়তা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ভুয়া বিয়ের আয়োজন করে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেনিফার গনজালেজ নামে এক মার্কিন নারীর বিরুদ্ধে। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে তিনি প্রায় ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রতিটি বিয়ের ব্যবস্থা করে তিনি ৩৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিতেন। বছরে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি বিয়ের আয়োজন করা হতো বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর এ ঘটনায় গনজালেজসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কথা জানায় ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল আইনজীবীদের দপ্তর। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গনজালেজের পরিচালিত ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পেতে আগ্রহী বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে দেওয়া হতো। এসব বিয়ের উদ্দেশ্য ছিল দাম্পত্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা নয়, বরং বিয়ের কাগজপত্র ব্যবহার করে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন করা। এ কাজে গনজালেজ কয়েকজন মার্কিন নাগরিককে অর্থের বিনিময়ে বিয়েতে রাজি করাতেন। তাঁর কর্মীরা বিয়ের ছবি তুলতেন, একসঙ্গে ঘোরাফেরার ছবি রাখতেন এবং সম্পর্কটি প্রকৃত বলে প্রমাণ করার মতো নথি তৈরিতে সহায়তা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব নথি ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার কাছে আবেদন জমা দেওয়া হতো। মামলায় গনজালেজের পাশাপাশি আরও পাঁচজনের নাম এসেছে। তাঁরা হলেন এরিকা ড্যানিয়েলস, ক্রেইসে আলেহান্দ্রো, আমারা পিউ, জেসিকা টাভারেস ও জেলিন হিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ড্যানিয়েলস, আলেহান্দ্রো, টাভারেস ও হিল অর্থের বিনিময়ে গনজালেজের গ্রাহকদের বিয়ে করতেন। অন্যদিকে, পিউ তাঁর প্রতিষ্ঠানে সচিব হিসেবে কাজ করতেন। তদন্তের অংশ হিসেবে অন্তত দুটি বিয়ের ছবি আদালতের নথিতে যুক্ত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অন্য বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করতেন, যাতে একই পদ্ধতিতে আরও আবেদন করা যায়। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় গনজালেজ বিয়েকে প্রকৃত সম্পর্ক হিসেবে দেখানোর বিভিন্ন কৌশল শেখাতেন। এর মধ্যে যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা, জীবনবিমা করা এবং দম্পতি হিসেবে ছবি তোলার মতো বিষয় ছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি এক গ্রাহকের কাছ থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্য অগ্রিম তিন হাজার ডলার নিয়েছিলেন। অর্থ লেনদেন আড়াল করতে সেটিকে ঋণের চুক্তি হিসেবে দেখানোর নির্দেশ দেওয়ার কথাও নথিতে রয়েছে। এ ছাড়া, বিয়ে বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মার্কিন নাগরিক বা তাঁদের ঘনিষ্ঠ কাউকে মাসে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। মার্কিন অ্যাটর্নি লিয়া ফোলির ভাষ্য অনুযায়ী, গনজালেজ কথিত এই কার্যক্রম থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে ব্যবসা ও জমি কেনার কাজে বিনিয়োগ করেছিলেন। তদন্তের সময় এক সহযোগী সাক্ষীর সঙ্গে তাঁর কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। সেখানে তিনি ম্যাসাচুসেটসে অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। ফোলির দাবি, ২০২৪ সালের শেষ দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনরায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনার কারণে তিনি ভুয়া বিয়ের আয়োজন কমিয়ে দেন এবং ২০২৫ সালে কার্যক্রম বন্ধ করেন। তবে এসব বক্তব্য ও অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি। এ ঘটনায় সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি থেকেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গনজালেজ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি বা এসএনএপি থেকে এক লাখ ২৪ হাজার ডলারের বেশি পেয়েছেন। আবেদনে নিজের কথিত ব্যবসার আয় ও পরিবারের সদস্যদের তথ্য গোপন করার অভিযোগও আনা হয়েছে। ২১ অক্টোবর গনজালেজ, পিউ, টাভারেসসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর অভিযুক্ত হিল আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অপরাধে আগে থেকেই অঙ্গরাজ্যের কারাগারে রয়েছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত সবাই আইন অনুযায়ী নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ফক্স নিউজ।
ইলহান ওমরকে তিরস্কার প্রস্তাব থেকে রক্ষায় তার পক্ষে ভোট দিলে চার রিপাবলিকান
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডোরড্যাশ চালককে পিটিয়ে হ ত্যার অভিযোগ, টেসলার ডিকিতে মিলেছিল লা শ
যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জালিয়াতি, পাকিস্তানে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের জুয়াব কাউন্টিতে হাইওয়েতে গাড়ি চালানোর সময় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। গত জুনে ঘটা ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর প্রাণহানি ঘটে। অভিযুক্ত ৪৪ বছর বয়সী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্রিস্টিন চাওয়ের বিরুদ্ধে ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি ফেলোনি অটোমোবাইল হোমিসাইড’ বা গাড়ি দ্বারা হত্যার গুরুতর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত ১২ জুন ২০২৬ তারিখে আই-১৫ (I-15) হাইওয়েতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে সড়ক মেরামতের কাজ চলায় স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য গাড়ির গতি কিছুটা ধীর ছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, সামনের দুটি গাড়ি গতি কমালেও ক্রিস্টিন চাওয়ের চালিত তৃতীয় গাড়িটি পেছনের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে পেছনের গাড়িটি ছিটকে সামনের গাড়িকে ধাক্কা দেয় এবং তিনটি গাড়িই একসঙ্গে রাস্তার বাইরে চলে যায়। পেছনের গাড়িতে থাকা এক যাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ক্রিস্টিন নিজের দোষ স্বীকার করেছিলেন। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে গাড়ির কোনো ব্রেক মার্ক পাননি, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সংঘর্ষের আগে তিনি গাড়ির গতি কমানোর কোনো চেষ্টাই করেননি। পরবর্তীতে আদালতের ওয়ারেন্ট নিয়ে ক্রিস্টিনের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে পুলিশ। ফোন পরীক্ষার পর তদন্তকারীরা জানান, ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার দুই মিনিটেরও কম সময় আগে তিনি একটি সুপরিচিত পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ১১ হাজার ডলারের স্কলারশিপ, সুযোগ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি রেস্তোরাঁকর্মী ইউসুফ হ ত্যা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১১ দফা অভিযোগ