নিজেদের শৈশবের ক্ষুধার কথা মনে করে শিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া মেটালেন বন্দিরা
শৈশবের ক্ষুধার কষ্ট হয়তো ভুলে যাননি তারা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার স্কুলশিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া পরিশোধে এগিয়ে এলেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের প্রায় ৩০ জন বন্দি। নিজেদের সীমিত অর্থ থেকে তারা সংগ্রহ করেছেন ৩ হাজার ৮১০ ডলার।
কানসাসের নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটির বন্দিদের এই উদ্যোগের সঙ্গে পরে যুক্ত হন কানসাস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন্সের কর্মীরাও। তারা আরও ৪৫৭ ডলার যোগ করায় মোট অনুদানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৭ ডলার।
এই অর্থ দেওয়া হয়েছে নর্টন কমিউনিটি স্কুলস, ইউএসডি ২১১-এর শিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া পরিশোধে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষে স্কুল ডিস্ট্রিক্টটির শিক্ষার্থীদের খাবারের হিসাবে প্রায় ৬ হাজার ডলার বকেয়া ছিল।
আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের সন্তানদের স্কুলে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হলেও অনেক পরিবারের পক্ষে সেই খরচ পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানতে পারেন নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটির ‘রিচিং আউট ফ্রম উইদিন’ বা আরওএফডব্লিউ কর্মসূচির সদস্যরা।
এরপর নিজেদের মধ্যে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন তারা। বন্দিদের নিজেদের অর্থ থেকেই আসে ৩ হাজার ৮১০ ডলার। পরে কারেকশনস বিভাগের কর্মীদের দেওয়া অর্থ যোগ হয়ে মোট অনুদান দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৭ ডলারে। অর্থাৎ স্কুলের মোট বকেয়ার প্রায় ৭১ শতাংশই এই অনুদানের মাধ্যমে পরিশোধে সহায়তা করা সম্ভব হবে।
গত ৩ আগস্ট নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন বন্দি স্কুলটির সুপারিনটেনডেন্ট কোরি রয়-এর হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন।
কোরি রয় জানান, বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় শিশুদের জন্য ইতিবাচক কিছু করার তাদের আগ্রহে তিনি অভিভূত হয়েছেন। অন্যদের জন্য কিছু করার সুযোগ তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিবাচকভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিক হলো, সাহায্যের অর্থ এসেছে এমন মানুষদের কাছ থেকে যাদের নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যও সীমিত। তারপরও স্থানীয় শিশুদের খাবারের বকেয়া মেটাতে নিজেদের হাতে থাকা অর্থের একটি অংশ তারা তুলে দিয়েছেন।
নর্টনের এই ঘটনা শুধু স্কুলশিক্ষার্থীদের খাবারের খরচ নিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টিই সামনে আনেনি, বরং কারাগারের পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে বন্দিরাও কীভাবে সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন, তারও একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ তৈরি করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযে বয়সে একটি শিশুর স্কুল, খেলাধুলা আর পরিবারের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানোর কথা, সেই বয়সেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারাল ব্রঙ্কসের ১০ বছর বয়সী জিয়ন মেইন। বুধবার গভীর রাতে নিউইয়র্কের মট হ্যাভেন এলাকার প্যাটারসন হাউসেস আবাসিক ভবনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ওই আগুনে জিয়নের মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবারের আরও চারজন—দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই কিশোর—গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার রাত পেরিয়ে বৃহস্পতিবারের আগমুহূর্তে, রাত প্রায় ১২টা ৫০ মিনিটে, ১১ তলার একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় নিউইয়র্কের দমকল বিভাগ। তদন্তকারীরা জানান, একটি ই-বাইকের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অ্যাপার্টমেন্টের প্রবেশপথে রাখা বাইকটি পরিবারের সদস্যদের বের হওয়ার পথ আটকে দেয়। দমকলকর্মীরা কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছে আগুনের মধ্যে আটকে পড়া পাঁচজনকে উদ্ধার করেন। কিন্তু প্রাণ বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও ছোট্ট জিয়নকে বাঁচানো যায়নি। পরিবারের বাকি চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়। ঘটনাটি শুধু একটি অগ্নিকাণ্ডের খবর নয়; এটি একটি পরিবারের আকস্মিক বিপর্যয়। সন্তানের মৃত্যুতে স্বজনদের যে শোক, আর একই সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের বেঁচে ফেরার অপেক্ষা—সেই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের পরিচিতজন ও প্রতিবেশীদের। ভবনের এক প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে জানান, জিয়ন ছিল হাসিখুশি একটি শিশু, যাকে ভবনের অনেকেই ভালোবাসতেন। তাঁর কথায়, শিশুটির মৃত্যুতে পুরো আবাসিক এলাকার মানুষ শোকাহত। দমকল কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিই আগুনের কারণ। অ্যাপার্টমেন্টের রান্নাঘরের কাছে রাখা ই-বাইকটি দরজার পথ আটকে দিয়েছিল। আগুন লাগার পর পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ব্যাটারিচালিত বাইক ও স্কুটার নিরাপদ স্থানে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের ব্যাটারিতে আগুন লাগলে তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক শহরে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিসংশ্লিষ্ট ৪০১টি অগ্নিকাণ্ড, ৭৪টি আহত হওয়ার ঘটনা এবং ছয়টি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আগের বছর এ ধরনের আগুনের সংখ্যা ছিল ২৯২টি। কর্মজীবী মানুষের কাছে ই-বাইক অনেক সময় আয়ের উৎস এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু সঠিকভাবে চার্জ না করা, ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারি ব্যবহার কিংবা দরজা ও বের হওয়ার পথের কাছে বাইক রাখা প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো, প্রস্তুতকারকের অনুমোদিত চার্জার ব্যবহার করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি ব্যবহার করা যাবে না এবং চার্জ দেওয়ার সময় ব্যাটারির দিকে নজর রাখতে হবে। সম্ভব হলে ব্যাটারি ও বাইক ঘরের বাইরে নিরাপদ নির্ধারিত স্থানে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দরজা, জানালা বা জরুরি বের হওয়ার পথ আটকে রাখা উচিত নয়। ব্রঙ্কসের এই আগুনে একটি শিশুর জীবন হারানোর ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, দৈনন্দিন ব্যবহারের একটি যন্ত্রের সামান্য অসতর্কতাও একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। জিয়নকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এখন স্বজনদের আশা, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যরা যেন সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণে থাকছে না এফবিআই ও আইসিই, জানাল বিচার বিভাগ
নিউইয়র্কে প্রবীণদের জন্য বিনা মূল্যে বাসসেবা, আবেদন করবেন কিভাবে
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে রাস্তা পার হতে গিয়ে ময়লার গাড়ির চা পায় প্রাণ গেল ৩০ বছর বয়সী তরুণীর
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার জন্য বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য আসছে নতুন খরচের হিসাব। ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়া ইবি-৫ অভিবাসন কর্মসূচির নির্দিষ্ট আবেদন ও পিটিশনের ফি বাড়ছে। তবে এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের সব আবেদনকারীর জন্য নয়; মূলত বিনিয়োগকারী অভিবাসীদের নির্দিষ্ট আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইবি-৫ কর্মসূচিতে কত বাড়ছে ফি নতুন নিয়মে একক বিনিয়োগকারীর জন্য আই-৫২৬ ফরমের আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। অন্যদিকে, আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদনকারীদের আই-৫২৬ই ফরমের ফি হবে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার। এ ছাড়া আবেদনকারীর ধরন অনুযায়ী অন্যান্য ফিও যুক্ত হতে পারে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য ইবি-৫ কর্মসূচির তহবিল ফিও ১ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ১০০ ডলার হচ্ছে। ফলে আবেদনভেদে বিনিয়োগকারীদের মোট খরচ আরও বাড়তে পারে। নতুন ফি কার্যকর হবে কবে ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর বা তার পরে ডাকযোগে পাঠানো সংশ্লিষ্ট আবেদন, পিটিশন ও অন্যান্য অনুরোধের ক্ষেত্রে নতুন ফি প্রযোজ্য হবে। এর আগে পাঠানো আবেদন সাধারণত তখনকার কার্যকর ফি কাঠামোর আওতায় পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, ইবি-৫ কর্মসূচি পরিচালনা, আবেদন যাচাই, আবেদনকারীদের পটভূমি পরীক্ষা এবং জালিয়াতি শনাক্তকরণের ব্যয় মেটাতে ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। কারা ইবি-৫ কর্মসূচির আওতায় পড়েন ইবি-৫ হলো বিনিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাওয়ার একটি অভিবাসন কর্মসূচি। সাধারণ নিয়মে যোগ্য ব্যবসায় কমপক্ষে ১০ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করতে হয়। নির্ধারিত কর্মসংস্থান এলাকায় বা যোগ্য অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ ৮ লাখ ডলার। পাশাপাশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অন্তত ১০টি পূর্ণকালীন চাকরি সৃষ্টির শর্ত রয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে অনেক বাংলাদেশি পরিবার বিভিন্ন অভিবাসন পথ খুঁজে থাকেন। তবে নতুন ফি বৃদ্ধিকে সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। পরিবারের মাধ্যমে আবেদন, চাকরিভিত্তিক অভিবাসন কিংবা অন্যান্য শ্রেণির গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে এই একই ফি বৃদ্ধি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য নয়। যাঁরা বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের আবেদন পাঠানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থার সর্বশেষ ফি তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট ফরমের নির্দেশনা যাচাই করা উচিত। আবেদনকারীর ধরন, ব্যবহৃত ফরম এবং অতিরিক্ত ফি অনুযায়ী মোট খরচে পার্থক্য হতে পারে।
পেন্টাগনে একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত, এবার পদ হারালেন ৩২ বছরের অভিজ্ঞ জেনারেল
ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহহীন প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের রাত কাটছে গাড়িতে
যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ৪০ হাজার কর্মীর গোপন তথ্য ফাঁস
মহাকাশে পানি ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি শনাক্ত করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী মাহমুদা সুলতানা। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে কর্মরত এই বিজ্ঞানী তৈরি করেছেন কোয়ান্টাম ডট স্পেকট্রোমিটার, যা অতি ক্ষুদ্র সেমিকন্ডাক্টর ন্যানোক্রিস্টালের সাহায্যে আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণ করে দূরবর্তী গ্রহ ও মহাজাগতিক বস্তুর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। নাসার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির বিশেষত্ব হলো, প্রচলিত স্পেকট্রোমিটারের তুলনায় এটি অনেক ছোট ও হালকা হতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে ছোট স্যাটেলাইট কিংবা মহাকাশযানে কম জায়গা ব্যবহার করেই বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কোয়ান্টাম ডট হলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র সেমিকন্ডাক্টর ন্যানোক্রিস্টাল। এগুলোর আকার, আকৃতি ও রাসায়নিক গঠনের ওপর নির্ভর করে আলো শোষণ ও নির্গমনের বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। মাহমুদা সুলতানা এই বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে আলোকে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অংশে বিশ্লেষণের পদ্ধতি তৈরি করেছেন। কোনো গ্রহ বা মহাজাগতিক বস্তু থেকে আসা আলো তার রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে। বিজ্ঞানীরা আলোর বর্ণালিতে নির্দিষ্ট ধরনের সংকেত বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন মৌল ও রাসায়নিক যৌগের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারেন। কোয়ান্টাম ডট স্পেকট্রোমিটার সেই বিশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করে। নাসার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোয়ান্টাম ডটের মধ্য দিয়ে আলো যাওয়ার পর বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তথ্য আলাদাভাবে শনাক্ত করা হয়। এরপর কম্পিউটারের মাধ্যমে সেগুলো বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ বর্ণালি পুনর্গঠন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে জটিল বর্ণালির তথ্য থেকেও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করার নির্ভুলতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার শুধু দূরবর্তী গ্রহে পানি খোঁজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাঁদের মাটিতে পানি ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি অনুসন্ধান, গ্রহের পৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের গঠন বিশ্লেষণ এবং পৃথিবীর সমুদ্র, উদ্ভিদ ও বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণেও এটি কাজে লাগতে পারে। মাহমুদা সুলতানার গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই সেন্সরকে মহাকাশযানের বাইরের পৃষ্ঠে সংযুক্ত করার ধারণা। এতে মহাকাশযানের পুরো পৃষ্ঠের বড় একটি অংশকে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে আলাদা ও ভারী যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। এই ধারণার ভিত্তিতে তিনি সায়েন্সক্রাফট ফর আউটার প্ল্যানেট এক্সপ্লোরেশন বা স্কোপ নামে একটি মহাকাশ অনুসন্ধান পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করেছেন। এতে সৌরপাল ব্যবহার করে মহাকাশযানকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি একই কাঠামোয় বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের যন্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নাসার ইনোভেটিভ অ্যাডভান্সড কনসেপ্টস কর্মসূচির আওতায় ২০২২ সালে এই ধারণার প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণার জন্য অর্থায়ন দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সৌরজগতের দূরবর্তী অঞ্চল, বিশেষ করে নেপচুন ও তার উপগ্রহ ট্রাইটন অনুসন্ধানে তুলনামূলক কম ব্যয়ের নতুন পথ তৈরি হতে পারে। তবে এটি এখনো একটি গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন পরিকল্পনা। এর সম্ভাব্য সুবিধাগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের পরীক্ষা ও উন্নয়নের ওপর। মাহমুদা সুলতানার উদ্ভাবন মহাকাশ গবেষণায় ছোট, হালকা ও বহুমুখী বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হলে ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনে কম জায়গা ও ওজনের মধ্যে বেশি বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। এতে দূরবর্তী গ্রহে পানি ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানের অনুসন্ধান আরও কার্যকর করার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
ফ্লোরিডায় পাখির প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে সাগরে তলিয়ে গেলেন ৩১ বছরের বাবা, স্ত্রী ও দুই কন্যাকে রেখে চিরবিদায়
ফ্লোরিডায় মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে সভায় আজান বাজালেন বোরকা পরিহিত নারী, বের করে দিল পুলিশ