মানবিকতা

আইওয়ায় ভুল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বার্তার কারণে উদ্ধার হন তিন ঘণ্টার বেশি কাদায় আটকে থাকা এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
নির্জন এলাকায় ৩ ঘণ্টা কাদায় পড়েছিলেন বৃদ্ধা, অলৌকিকভাবে বাঁচাল একটি 'ভুল বার্তা'

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের একটি 'ভুল বার্তা' ৭৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার জীবন বাঁচিয়েছে। ভাঙা পা নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাদায় আটকে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ওই ভুল বার্তার সূত্র ধরেই সেখানে পৌঁছান বিদ্যুৎকর্মীরা এবং তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন।   আইওয়ার বুন কাউন্টির একটি নির্জন গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন পেনি লামার। গত ১০ জুন রাতে এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়। পরদিন সকালে তিনি তার পোষা কুকুরগুলোকে বাইরে বের করতে এবং ঝড়ে বাড়ির কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা দেখতে বাইরে যান। ডায়াবেটিসের রোগী পেনি বাইরে যাওয়ার ঠিক আগেই ইনসুলিন নিয়েছিলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেসিসিআই এবং সিএনএন নিউজসোর্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেনি লামার বলেন, বাড়ির সামনের রাস্তায় বা ড্রাইভওয়েতে বিশাল এক কাদার স্তূপ ছিল। সেখানে পা পিছলে তিনি মারাত্মকভাবে পড়ে যান। পতন এতটাই আকস্মিক ছিল যে, তার পা শরীরের নিচে বেঁকে যায় এবং তিনি আর উঠতে পারেননি।   পেনি লামারের স্বামী সে সময় কানাডায় ভ্রমণ করছিলেন। আর যেহেতু তারা একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় থাকেন, তাই আশেপাশে এমন কোনো প্রতিবেশীও ছিলেন না, যিনি তাকে দেখতে পাবেন বা তার আর্তনাদ শুনতে পাবেন। উঠে দাঁড়াতে বা একটু নড়াচড়াও করতে পারছিলেন না তিনি। এভাবেই কাদায় শুয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে যায়। পেনি বলেন, "সত্যি বলতে কী, আমি তখন ভাবছিলাম যে এভাবেই এখানে পড়ে থেকে আমাকে মরতে হবে।"   কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভের একটি ট্রাক অপ্রত্যাশিতভাবে তার বাড়ির ড্রাইভওয়েতে এসে থামে। মূলত, কোম্পানির সিস্টেম থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল যে, ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন।   তবে সেখানে পৌঁছে তারা দেখেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং ড্রাইভওয়েতে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছেন ওই বৃদ্ধা। পেনি লামারের উরুর হাড় (ফিমার) মারাত্মকভাবে ভেঙে গিয়েছিল। ইনসুলিন নেওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় তার রক্তে শর্করার মাত্রাও বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারাত্মক রক্তশূন্যতায় (অ্যানিমিয়া) ভুগছিলেন। বিদ্যুৎকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল করেন এবং উদ্ধারকারী দল না আসা পর্যন্ত তার পাশেই অবস্থান করেন।   বর্তমানে পেনি লামার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ক্ষতিগ্রস্ত পায়ে স্ক্রু ও রড বসিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি ওই বিদ্যুৎকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   নিজের বেঁচে যাওয়াকে এক অলৌকিক ঘটনা আখ্যা দিয়ে পেনি বলেন, "আমি মন থেকে বিশ্বাস করি যে সৃষ্টিকর্তা রহস্যময় উপায়ে কাজ করেন। এটি ছিল তার তেমনই এক রহস্যময় উপায় তিনিই মূলত বিদ্যুৎকর্মীদের কাছে ওই ভুল বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন।"   এদিকে, মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে কর্মীরা ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেছেন, তাদের এই মহান কাজের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ডিমেনশিয়া আক্রান্ত বৃদ্ধাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে প্রশংসিত হয়েছে ১৪ বছরের রয়্যাল ক্যাথরুন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৩৯.৪ ডিগ্রি তাপেও হাল ছাড়েনি কিশোর, পথ হারানো বৃদ্ধাকে নিরাপদে ফিরিয়ে দিল পরিবারের কাছে

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তীব্র দাবদাহের মধ্যে বাড়ি থেকে বহুদূরে পথ হারিয়ে ফেলা এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসছে ১৪ বছরের এক কিশোর। রয়্যাল ক্যাথরান নামের ওই কিশোরের সময়োচিত পদক্ষেপ ও মানবিকতার কারণে ৭৫ বছর বয়সী ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রম) রোগে আক্রান্ত থেরেসা মরগান নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা কিশোরের এই দায়িত্বশীল আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অ্যারিজোনার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ১৫ (ABC 15) এবং দ্য গার্ডিয়ান এ খবর নিশ্চিত করেছে।   ঘটনাটি ঘটে অ্যারিজোনার গিলবার্ট শহরে। গত মাসে ১৪ বছরের কিশোর রয়্যাল বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় ৭৫ বছর বয়সী থেরেসা মরগানকে একাকী হেঁটে যেতে দেখে। বৃদ্ধার হাতে একটি শপিং ব্যাগ ও পার্স ছিল এবং তিনি ভীষণ ঘামছিলেন। তীব্র রোদে তাকে বেশ দিশেহারা ও বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল।   রয়্যাল তার পরিহিত স্মার্ট চশমায় (Smart Glasses) পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে, যা পরবর্তীতে এবিসি ১৫-এ প্রকাশিত হয়। ফুটেজে দেখা যায়, কিশোরটি বাইক থামিয়ে বৃদ্ধার কাছে গিয়ে জানতে চায় তিনি কোথায় যাচ্ছেন এবং তাকে সতর্ক করে বলে, "আমার মনে হয় না আশেপাশে কোনো অ্যাপার্টমেন্ট আছে।"   পরে রয়্যাল গণমাধ্যমকে জানায়, "উনাকে দেখে মনে হয়েছিল কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ছিল এবং উনি খুব ঘামছিলেন। তা দেখে আমি বুঝতে পারি উনার সাহায্যের প্রয়োজন।"   পরিস্থিতি অনুধাবন করে কিশোরটি আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি। সে বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে একটি ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে বসায় এবং তার শরীর ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা করে। এরপর অত্যন্ত ধৈর্য ধরে বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে তার ছেলে জেফের ফোন নম্বর মনে করানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বৃদ্ধা তার ছেলের নম্বরটি স্মরণ করতে সক্ষম হলে রয়্যাল দ্রুত যোগাযোগ করে এবং জেফ ঘটনাস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত বৃদ্ধার পাশেই অবস্থান করে। খবর পেয়ে গিলবার্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ টিমের সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।   বৃদ্ধার ছেলে জেফ জানান, তার মা সম্প্রতি ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সেদিন তিনি কেনাকাটার জন্য মুদি দোকানে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং ঘুরতে ঘুরতে বাড়ি থেকে কয়েক মাইল দূরে চলে আসেন। জেফের মতে, রয়্যাল যদি সঠিক সময়ে এগিয়ে না আসত, তবে তার মায়ের প্রাণহানিও ঘটতে পারত। তিনি আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, "কিশোরটি যা করেছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ভাগ্য ভালো যে সে আমার মায়ের সামনে পড়েছিল এবং মা নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তার যত্ন নিয়েছে।"   ছেলের এই মহানুভবতায় একটুও অবাক হননি রয়্যাল ক্যাথরানের মা। তিনি বলেন, "রয়্যাল সবসময়ই অন্যদের সাহায্য করতে ভালোবাসে। ঘটনার সময় সে অত্যন্ত শান্ত ও সমবেদনশীল ছিল। একজন মা হিসেবে আমি তার জন্য ভীষণ গর্বিত।"   গিলবার্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের ব্যাটালিয়ন চিফ রায়ান ম্যাকহিউ জানান, অ্যারিজোনার তীব্র গরমের মধ্যে এমন ঘটনা প্রাণঘাতী হতে পারত। তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, "রয়্যাল সময়মতো না দাঁড়ালে পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।" তিনি আরও জানান, রয়্যালের এই দ্রুত বুদ্ধিমত্তা ও মানবিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আগামী ১১ আগস্ট গিলবার্ট টাউন কাউন্সিলের একটি বিশেষ সভায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করা হবে।   অ্যারিজোনার ৫ নম্বর ডিস্ট্রিক্টের কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি বিগস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোরটির প্রশংসা করে লিখেছেন, "বিপদের মুখে একজন বৃদ্ধাকে সাহায্য করার জন্য রয়্যাল ক্যাথরানকে অশেষ ধন্যবাদ। সমাজের অসহায় ও বয়স্ক মানুষের পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, রয়্যালের এই দৃষ্টান্ত থেকে আমাদের সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।"   অ্যারিজোনায় গ্রীষ্মকালীন তীব্র দাবদাহের কারণে সাধারণ মানুষের হিট স্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে এক কিশোরের এমন সংবেদনশীলতা ও সচেতনতা পুরো কমিউনিটির কাছে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
স্বর্ণালংকার থেকে মাটির ব্যাংক, কেন ইরানের জন্য সবই বিলিয়ে দিচ্ছেন কাশ্মীরিরা

কয়েক শতাব্দীর পুরনো আত্মিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন যেন নতুন করে জেগে উঠেছে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধের কবলে পড়া ইরানের সাধারণ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন কাশ্মীরি জনগণ। কেউ দিচ্ছেন নিজের প্রিয় স্বর্ণালংকার, কেউ ভেঙে ফেলছেন বছরের পর বছর জমানো মাটির ব্যাংক, আবার কেউ দান করছেন ঘরের তামা-কাসার তৈজসপত্র। গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন যখন পুরো দক্ষিণ এশিয়া উৎসবে মেতেছিল, তখন কাশ্মীরের বুদগাম এলাকার ৫৫ বছর বয়সী মাসরাত মুখতার তার বাবার দেওয়া জন্মদিনের উপহার—এক জোড়া সোনার দুল তুলে দেন ত্রাণ তহবিলে। মাসরাত বলেন, “আমরা যা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তা-ই দান করি। এটি আমাদের তাদের (ইরানিদের) আরও কাছে নিয়ে যায়।” কাশ্মীরকে ঐতিহাসিকভাবে ‘ইরান-ই-সাগীর’ বা ‘ক্ষুদ্র ইরান’ বলা হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইরানি সুফি সাধক মির সাইয়্যেদ আলি হামাদানির আগমনের মাধ্যমে কাশ্মীরে যে পারস্য সংস্কৃতির ছোঁয়া লেগেছিল, বর্তমান সংকটে সেই টান আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। কী কী দান করছেন কাশ্মীরিরা? স্বর্ণ ও নগদ অর্থ: এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের সহায়তা সংগৃহীত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ব্যক্তিগত সম্পদ: শ্রীনগরের মিনি ট্রাক চালক সাদাকাত আলি মির তার আয়ের উৎস দুটি ট্রাকের একটি দান করে দিয়েছেন। শিশুরা তাদের জমানো মাটির ব্যাংক বা ‘পিগি ব্যাংক’ তুলে দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে। গৃহস্থালি সামগ্রী: কাশ্মীরি ঐতিহ্যে মেয়ের বিয়ের জন্য তামা ও কাসার তৈজসপত্র জমিয়ে রাখা হয়। অনেক মা সেই তামা-কাসার পাত্রগুলো ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত মা-বোনদের জন্য দিয়ে দিচ্ছেন। অন্যান্য: গবাদি পশু, সাইকেল এবং রিকশাও দান করা হচ্ছে এই ত্রাণ কার্যক্রমে। উল্লেখ্য যে, শিয়া প্রধান এলাকাগুলোতে এই আবেগ বেশি দেখা গেলেও ত্রাণ কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন সুন্নি সম্প্রদায়ের মানুষও। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের এক মাসের বেতন দান করেছেন। ভারতের নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই মানবিক সহায়তার জন্য কাশ্মীরিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এক ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, ২৮ বছর আগে মৃত স্বামীর স্মৃতি হিসেবে রাখা স্বর্ণের অলংকারও এক বৃদ্ধা ইরানের জন্য দান করে দিয়েছেন। তবে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো (SIA) এই বিশাল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাদের মতে, অনিবন্ধিত ব্যক্তি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে টাকা দিলে তা ভুল পথে প্রবাহিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সরাসরি দূতাবাসের মাধ্যমে সহায়তা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
সংসদ অধিবেশনের ফাঁকে দর্শক গ্যালারিতে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
সংসদ অধিবেশনের বিরতিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বিরতির সময় দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।   রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের ‘মেঘনা হল’-এ এই সাক্ষাৎ হয়। অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গ্যালারিতে গিয়ে উপস্থিত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা ভেঙে এক আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী একে একে সবার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান এবং চিকিৎসা ও অন্যান্য বিষয়ে খোঁজ নেন। কারও পরিবারের সদস্য হারানোর বেদনা, কারও চলমান চিকিৎসা—সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লে তাঁদের সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী।   প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ৬০ জন জুলাই গণ-আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্য এ সময় গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বাকিরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই এখনো চিকিৎসাধীন।   তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়লে তিনি তাঁদের সান্ত্বনা দেন।   সংক্ষিপ্ত এই সাক্ষাৎ সংসদের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপস্থিতদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব সময় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের পাশে থাকবে।

Unknown এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
প্রটোকল ভেঙে কবরে নামলেন প্রতিমন্ত্রী: অনন্য মানবিকতায় মুগ্ধ নান্দাইলবাসী

রাষ্ট্রীয় পদের মোহ আর প্রটোকলের বেড়াজাল ছিন্ন করে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি।  ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় এক সাধারণ নাগরিকের দাফন কাজে সরাসরি কবরে নেমে অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) নান্দাইলের জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে দুটি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন শেষে ফিরছিলেন প্রতিমন্ত্রী। ফেরার পথে রাস্তার পাশে একটি দাফন কাজ চলতে দেখে তিনি তাৎক্ষণিক নিজের গাড়ি বহর থামানোর নির্দেশ দেন। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি কবরস্থানে চলে যান তিনি। সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিমন্ত্রীর কবরে নেমে মরদেহ শায়িত করার দৃশ্য দেখে বিষ্মিত হন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ জানান, একজন উচ্চপদস্থ জনপ্রতিনিধির এমন নিরহংকার আচরণ সচরাচর দেখা যায় না।  দাফন শেষে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পদের দাপট ভুলে মাটির মানুষের প্রতি এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা বর্তমানে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন, হিল্লোলের পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা

কুমার বিশ্বজিতের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন পিটিশন অনুমোদন, হিল্লোলের পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০