মূল্যস্ফীতি

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী, এসি চালানোর খরচে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমেরিকাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ হু হু করে বাড়ছে। এর মধ্যেই চলতি গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার তথা এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর খরচ আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা। মে মাসে দেশটিতে বাৎসরিক মূল্যস্ফীতির হার গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।   ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আমেরিকায় বিদ্যুৎ বিল গড়ে ১০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়ায় এবার এসি ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বাড়বে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের দামও, যা মধ্য ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে আমেরিকায় গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দিন দিন বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই এখন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করছেন। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শীতকালে তীব্র ঠাণ্ডায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়ে মার্কিন রাজ্যগুলোতে আইনি সুরক্ষা থাকলেও, গ্রীষ্মকালের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অভাব রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৯টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াতে গ্রীষ্মকালে লাইন কাটার বিরুদ্ধে আংশিক আইনি সুরক্ষা রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ দিন দিন আরও তীব্র ও ঘন ঘন হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই দুর্বল নিয়মের কারণে তীব্র গরমে এসি ছাড়া বাস করা অনেকের জন্য জীবন-মৃত্যুর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই নিয়ম অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত।   চলমান এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক মার্কিন তরুণ তাদের স্বাধীনভাবে থাকার স্বপ্ন বাদ দিয়ে খরচ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আবার বাবা-মায়ের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে নাগরিকদের বেতন বা মজুরি এখন আর খরচের সাথে কুলাতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষ এখন দুপুরের খাবার কেনার টাকা বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন, নাকি তীব্র গরমে এসি ছাড়াই দিন কাটাবেন—এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জানালার পর্দা ব্যবহার করা, ঘরে না থাকলে থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা, এসির এয়ার ভেন্টগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং দরজা-জানালার ফাঁকফোকর ভালোভাবে বন্ধ রাখা। তবে এই সাধারণ উপায়েও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সাধারণ নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মে মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস । ছবি: সংগৃহীত
মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ, বাড়ছে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ অব্যাহত রয়েছে। মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ বা পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে, যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।   রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.০৪ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে মে মাসে ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে।   প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.০৫ শতাংশ। সে তুলনায় চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি।   খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৬ শতাংশে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮.৩৯ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এই খাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮.৫৯ শতাংশ।   বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে।   অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯.৭১ শতাংশে। এপ্রিল মাসে এ হার ছিল ৯.৫৭ শতাংশ। গত বছরের মে মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪২ শতাংশ।   খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ভাড়া স্থগিতের দাবিতে চাপ বাড়ছে, উত্তপ্ত রেন্ট বোর্ডের শুনানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়া সংকটকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড- এর সাম্প্রতিক শুনানি। এতে অংশ নিয়ে ভাড়াটিয়া অধিকারকর্মীরা শহরের সব ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত লিজের ওপর অবিলম্বে ভাড়া স্থগিত কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৪ লাখ ভাড়াটিয়া সরাসরি উপকৃত হবেন।   শুনানিতে বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লকের নির্বাহী পরিচালক সুমাথি কুমার, চায়নাটাউন টেন্যান্ট ইউনিয়নের সংগঠক জুলি জু এবং হাউজিং কনজারভেশন কোঅর্ডিনেটরস-এর কমিউনিটি সংগঠক এলিসা মার্টিনেজ। তারা বলেন, বর্তমান সংকট শুধু ভাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভিবাসন অভিযানের চাপ, যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচন।   ভাড়াটিয়া নেতাদের দাবি, এই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় ভাড়া স্থগিতই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে এ দাবির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। গত বসন্তে প্রায় ২০ হাজার ভাড়াটিয়া এতে স্বাক্ষর করেছেন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে এক মিলিয়নের বেশি ভোটার ভাড়া স্থগিতের প্রতিশ্রুতিদাতা প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৮ শতাংশ নিউইয়র্কবাসী এ দাবির পক্ষে।   তাদের যুক্তি, বিদ্যমান তথ্য-উপাত্তও এই দাবিকে সমর্থন করে। রেন্ট বোর্ডের নিজস্ব প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর বাড়িওয়ালাদের মুনাফা ৬ শতাংশ বেড়েছে এবং গত তিন বছরে তাদের নিট পরিচালন আয় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ, অথচ ভাড়াটিয়াদের আয় তেমন বাড়েনি। একটি জরিপ অনুযায়ী, অর্ধেকের বেশি ভাড়াটিয়া দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং দুই-তৃতীয়াংশের কোনো জরুরি সঞ্চয় নেই।   শুনানিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ভাড়া বৃদ্ধি বাড়িওয়ালাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে উৎসাহিত করছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় না করে ঋণ পরিশোধ বা নতুন সম্পত্তি কেনায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি শহরের মেরামত সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেক বাড়িওয়ালা তাতে আবেদন করেননি যা তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।   বর্তমানে নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়াদের আর্থিক চাপ চরমে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরের প্রায় ৫১.৬ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়ায় ব্যয় করছেন এবং প্রায় ২৮.৮ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি ভাড়ার পেছনে খরচ করছেন। বিশেষ করে ব্রঙ্কস এলাকায় কম আয়ের বিপরীতে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এছাড়া ২০২৫ সালে শহরে উচ্ছেদের হার প্রায় ৯.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ভাড়াটিয়াদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন খরচ এখন মূল্যস্ফীতির অন্যতম প্রধান কারণ এবং অধিকাংশ পরিবারের মাসিক ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ।   এই প্রেক্ষাপটে ভাড়াটিয়া নেতারা মনে করছেন, ভাড়া স্থগিত কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নও। তাদের দাবি, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের উচিত বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাতে নিউইয়র্কের লাখো ভাড়াটিয়া কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

Unknown এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ ও বিতর্কে চাপে ট্রাম্প, জনপ্রিয়তা নেমেছে সর্বনিম্নে

ইরান যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং ধর্মীয় নেতাকে ঘিরে বিতর্ক- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, তার জনপ্রিয়তা বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।   ছয় দিনব্যাপী জাতীয় এই জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ৩৬ শতাংশে স্থির রয়েছে, যা এক মাস আগের মতোই। তবে এটি তার মেয়াদকালের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সর্বোচ্চ অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ।   ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। জরিপে দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের অনুমোদন মাত্র ২৬ শতাংশ, যা তার অন্যতম সর্বনিম্ন স্কোর।   ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতি জনসমর্থনও সীমিত। জরিপে ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ হামলাকে সমর্থন করেছেন, তবে মাত্র ২৬ শতাংশ মনে করেন, এটি ব্যয়ের তুলনায় সার্থক হয়েছে। জরিপে ট্রাম্পের আচরণ ও মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা তাকে “শান্ত স্বভাবের” নেতা হিসেবে দেখেন। গত এক বছরে তার মানসিক তীক্ষ্ণতা কমেছে বলে মনে করেন ৫১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।   এদিকে ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করায় পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জরিপে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা পোপ লিও সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যেখানে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এ হার ৩৬ শতাংশ।   নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ দেশটিকে আরও নিরাপদ করবে। একইসঙ্গে অধিকাংশই ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ধারণার বিরোধিতা করেছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে বিতর্ক এই তিনটি বড় ইস্যুতে একসঙ্গে চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় এই পরিস্থিতি হোয়াইট হাউসের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তেলের দাম দ্রুত কমার আশা, বাস্তবে দীর্ঘস্থায়ী চাপের আশঙ্কা

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে এই পরিস্থিতিকে সাময়িক ধাক্কা বলে উল্লেখ করে যুদ্ধ শেষ হলেই জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশ্বাস দিলেও, অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা ভিন্ন আশঙ্কার কথা বলছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরতে সময় লাগতে পারে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত। ফলে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবে না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দামও বেড়ে প্রায় ৩.৯৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসের ব্যবধানে প্রায় এক ডলার বৃদ্ধি নির্দেশ করে।   অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডির ভাষায়, জ্বালানি বাজারে একটি প্রচলিত বাস্তবতা হলো—দাম বাড়ে দ্রুত, কিন্তু কমে ধীরে। তার মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও তেল সরবরাহ ও উৎপাদন স্বাভাবিক হতে অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরপর দাম কিছুটা কমে এলেও তা যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে নাও ফিরতে পারে।   এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীর আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে খাদ্যপণ্য, পরিবহন এবং বিমান ভাড়ার ওপরও। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তারা বিমান ভাড়া ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে।   এদিকে, জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও অনিশ্চয়তার কথা বলা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সময়সীমা—সব মিলিয়ে বাজার পরিস্থিতি এখনও অস্থির। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়বে, যার ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে।   সব মিলিয়ে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও জ্বালানি দামের ওপর চাপ পুরোপুরি কমতে সময় লাগবে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

Unknown মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

স্পেনে নতুন জীবন শুরু করে পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে মার্কিন দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে স্পেনে নতুন জীবন, এক বছর পর যা বলছে মার্কিন এই পরিবার

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০