সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মূল্যস্ফীতি

american-us-dollars-money-bills-and-us-social-security
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ২০২৭ সালে বাড়তে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় ২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের মাসিক ভাতা বাড়তে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ায় আগামী বছর ভাতা কতটা বাড়বে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এসএসএ) নিয়ম অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে সুবিধাভোগীদের ভাতাতেও সমন্বয় করা হয়। এই বার্ষিক সমন্বয়কে বলা হয় কস্ট-অব-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট বা সিওএলএ।   প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশ্লেষণ করে এসএসএ পরবর্তী বছরে ভাতা কতটা বাড়বে, তা নির্ধারণ করে। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এতে গড় অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর মাসিক ভাতা প্রায় ২ হাজার ১৫ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৭২ ডলারে দাঁড়ায়।   ২০২৭ সালে কত বাড়তে পারে?   ২০২৭ সালের সিওএলএ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এসএসএ আগামী অক্টোবর মাসে এ বিষয়ে ঘোষণা দেবে। তবে বর্তমান মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিভিন্ন পূর্বাভাসে আগামী বছর ভাতা ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।   সিওএলএ নির্ধারণ করা হয় কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর আরবান ওয়েজ আর্নার্স অ্যান্ড ক্লেরিক্যাল ওয়ার্কার্স (সিপিআই-ডব্লিউ)-এর তথ্যের ভিত্তিতে। আগের বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের সঙ্গে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মূল্যসূচকের পরিবর্তন হিসাব করে এই সমন্বয় নির্ধারণ করা হয়।   তবে চূড়ান্ত হিসাবের জন্য সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলে সাধারণত নতুন হারে অর্থ পাওয়া শুরু হয় পরবর্তী বছরের জানুয়ারি থেকে।   মূল্যস্ফীতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?   মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে একই পরিমাণ সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা দিয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে প্রতি বছর সিওএলএ নির্ধারণ করা হয়।   বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভাতা বাড়লে সুবিধাভোগীদের মাসিক আয় কিছুটা বাড়বে। তবে খাদ্য, জ্বালানি ও বাসস্থানের মতো খাতে ব্যয়ও বাড়তে থাকায় তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কতটা বাড়বে, সেটিই বড় প্রশ্ন।   এসএসআই সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রেও কি বাড়বে?   সাধারণত সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই) সুবিধাভোগীরাও একই সিওএলএ সমন্বয়ের আওতায় থাকেন। তবে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই আলাদা কর্মসূচি এবং এগুলোর অর্থায়ন ও যোগ্যতার নিয়মও ভিন্ন।   ২০২৬ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৭ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটি বা এসএসআই সুবিধা, অথবা দুটিই পান। ফলে ২০২৭ সালের সিওএলএ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের মাসিক আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।   নোট: ২০২৭ সালের চূড়ান্ত বৃদ্ধির হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এসএসএ অক্টোবর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন হার জানাবে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৪:০
নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়ে অভিভাবকদের ব্যয় বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিভাবকদের বাড়তি চাপ, স্কুলসামগ্রীর দাম বেড়েছে ৭.৭ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই শিক্ষা উপকরণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। খাতা-কলম থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এ বছর শিশুদের স্কুলে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ উপকরণের একটি প্যাকেজ কিনতেই অভিভাবকদের খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ১৭৫ মার্কিন ডলার।   গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভ এবং দ্য সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশনের একটি বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব স্যান ডিয়েগো জানিয়েছে, ২১টি অত্যাবশ্যকীয় শিক্ষা উপকরণের একটি গড় প্যাকেজের বর্তমান বাজারমূল্য ১৭৩ দশমিক ৪৫ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই দাম প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। খাতার দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ, নোটবুক পেপারের দাম ২০ শতাংশ এবং ইনডেক্স কার্ডের দাম ২২ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া শিশুদের লাঞ্চ বক্সের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ এবং হোয়াইটবোর্ডের মার্কার ও গ্লু-স্টিকের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি সাধারণ পেন্সিল, রঙিন পেন্সিল, ক্রেয়ন ও বাইন্ডার কিনতে অভিভাবকদের এখন ৫ থেকে ৭ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।   বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল এবং দৈনন্দিন খরচের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণের এই বাড়তি দাম সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য, বিশেষ করে যাদের একাধিক সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য এক বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সার্বিক মূল্যস্ফীতি এবং আমদানি করা পণ্যের ওপর বাড়তি খরচের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   স্যান ডিয়েগোর বাসিন্দা এবং পাঁচ সন্তানের জনক মার্ক ডেভিস সংবাদমাধ্যম এনবিসি ৭-কে তাঁর হতাশার কথা জানিয়ে বলেন, "বেতন ছাড়া আর সবকিছুরই দাম বাড়ছে। আমাকে পরিবারের সবার জন্য গ্যাস, বাসা ভাড়া, বিভিন্ন বিল এবং খাবারের খরচ জোগাতে হয়। প্রতিদিনের জীবনযাপনই এখন একটি বড় সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু তবু আমাদের টিকে থাকতে হবে।"   গত সোমবার থেকে স্যান ডিয়েগো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর আগে গত শনিবার এনক্যান্টো এলাকায় একটি 'ব্যাক-টু-স্কুল' সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে মার্ক ডেভিসের মতো অনেক অভিভাবকই ভিড় করেছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট সিনেটর আকিলাহ ওয়েবার পিয়ারসনের উদ্যোগে এই ইভেন্টটি আয়োজিত হয়। তিনি জানান, বাজেট কমানোর কারণে আগামীতে অনেক সুবিধাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাই সাধারণ মানুষের জানা উচিত যে বিকল্প সহায়তার জন্য তারা কোথায় যোগাযোগ করতে পারেন।   স্যান ডিয়েগো কাউন্টিতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যের খরচ জোগাড় করাও আরেকটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ তাদের 'ক্যালফ্রেশ' খাদ্য সহায়তা সুবিধা হারাতে পারেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাউন্টি কর্তৃপক্ষ 'সেফটি নেট ব্রিজ' নামের একটি প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। এর আওতায় শনিবার চুলা ভিস্তা এলাকায় পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।   চার সন্তানের বাবা হোসে মিরান্ডা জানান, তাদের পরিবারকে বেশ কয়েকটি সহায়তা কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে চলতে হয়। সংসারের খরচ মেটাতে তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনকেই কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, "আমরা দুজনই ন্যূনতম মজুরিতে কাজ করি। বিভিন্ন সহায়তা পাওয়ার জন্য আমরা ২-১-১ নম্বরে কল করে খোঁজ নিই এবং মাঝেমধ্যেই এ ধরনের সাহায্য প্রদানকারী ইভেন্টগুলোতে আসি।"   কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শরৎকাল পর্যন্ত বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং খাদ্য সহায়তা দিতে তারা আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য, সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট (এলএইউএসডি) ও এবিসি ইউনিফায়েডসহ প্রধান শহুরে এলাকাগুলোতে গত ১২ আগস্ট, সোমবার থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
১৫ হাজার ডলারের সঞ্চয় থেকে বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ
১৫ হাজার ডলারের সঞ্চয় থেকে বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ

জুলাই মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চিত্র উঠে এসেছে। একই সঙ্গে, তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো আগামী সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে। বর্তমানে সার্টিফিকেট অফ ডিপোজিট (সিডি) অ্যাকাউন্টগুলোতে সুদের হার প্রায় ৪ শতাংশের কাছাকাছি। তাই সুদের হার বেশি থাকা অবস্থায় এই সুবিধা লুফে নিতে কিছু অর্থ সিডিতে স্থানান্তর করা একটি বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।   সাধারণ অ্যাকাউন্টে ১৫ হাজার ডলার ফেলে রাখার চেয়ে ১ বছর মেয়াদি একটি সিডি অ্যাকাউন্ট বেশি লাভজনক হতে পারে। বর্তমানে প্রথাগত সেভিংস অ্যাকাউন্টগুলোতে গড়ে মাত্র ০.৩৮ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়, যেখানে সিডি অ্যাকাউন্টে সুদের হার প্রায় ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, এখনই সিডিতে টাকা স্থানান্তর না করলে মূলত সঞ্চয়কারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে ১ বছর মেয়াদি সিডির ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের জন্য টাকা আটকে রাখার কোনো ঝুঁকি থাকে না।   বর্তমানে ১ বছর মেয়াদি সিডিতে সর্বোচ্চ সুদের হার ৪.১০ শতাংশ থেকে ৪.১৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। অনলাইনে ভালোভাবে যাচাই করলে সঞ্চয়কারীরা এর চেয়েও বেশি সুদের হার পেতে পারেন। ৪.১০ শতাংশ সুদে ১৫ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে নিশ্চিত লাভ হবে ৬১৫ ডলার। সুদের হার ৪.১৫ শতাংশ হলে লাভ দাঁড়াবে ৬২২.৫০ ডলারে এবং ৪.১৭ শতাংশ সুদের ক্ষেত্রে মুনাফা হবে ৬২৫.৫০ ডলার।   বর্তমানের এই উচ্চ সুদের হারে একটি ১ বছর মেয়াদি সিডি অ্যাকাউন্ট খুললে সঞ্চয়কারীরা অনায়াসেই ৬১৫ থেকে ৬২৫ ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত লাভ পেতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে টাকা তুলে নিলে ব্যাংকভেদে বড় অঙ্কের জরিমানা গুণতে হতে পারে। সেই জরিমানা আপনার অর্জিত মুনাফাকে একেবারে শূন্য করে দিতে পারে। তাই সিডির মেয়াদ পূর্ণ করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেই কেবল এতে বিনিয়োগ করা উচিত।   ১ বছর মেয়াদি এই সিডি অ্যাকাউন্ট খোলা সত্যিই লাভজনক কি না, তা নির্ভর করছে সঞ্চয়কারীর আর্থিক লক্ষ্যের ওপর। যারা খুব বেশি দিনের জন্য টাকা আটকে না রেখে নিশ্চিত একটি ভালো মুনাফা চাইছেন, তাদের জন্য এটি দারুণ সুযোগ। কারণ সিডির মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে, সেখানে ১ বছর মেয়াদি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা বেশ সহজ।   তবে মনে রাখতে হবে যে, সিডি অ্যাকাউন্টের সুদের হার সবসময় নির্দিষ্ট থাকে। ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়লে সিডিতে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। কেউ যদি মনে করেন চলতি বছরের শেষের দিকে সুদের হার আরও বাড়বে, তবে হাই-ইল্ড সেভিংস বা মানি মার্কেট অ্যাকাউন্ট তার জন্য বেশি উপযুক্ত হতে পারে। কারণ এই অ্যাকাউন্টগুলোর সুদের হার পরিবর্তনশীল এবং বাজারের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সঞ্চয়কারীরা চাইলে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের মূলধন এই তিন ধরনের অ্যাকাউন্টের মধ্যে ভাগ করেও সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করতে পারেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাতের চরম মূল্যস্ফীতি কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কিছুটা স্থিতিশীল হলেও সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনার স্বপ্ন এখনো অনেকটাই অধরা রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'রেডফিন'-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে একটি মধ্যম মানের বাড়ি কিনে আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে মাসিক বন্ধকী কিস্তি বা মর্টগেজ সীমাবদ্ধ রাখতে হলে একটি পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে অন্তত ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ ডলার। গত বছরের রেকর্ড ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ ডলারের তুলনায় এই প্রয়োজনীয় আয়ের অঙ্ক সামান্য ০.৫ শতাংশ কমলেও এটি এখনো ছয় অঙ্কের ঘরেই রয়ে গেছে, যা মার্কিন সাধারণ নাগরিকদের বর্তমান বার্ষিক আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারের গড় বার্ষিক আয় বর্তমানে ৮৭ হাজার ৫৯৯ ডলার। আয় আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বাড়লেও বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম আয়ের চেয়ে তা এখনো প্রায় ২২ হাজার ১৯৭ ডলার কম। বর্তমানে সাধারণ একটি পরিবারকে মধ্যম দামের একটি বাড়ি কিনতে গেলে তাদের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশই খরচ করতে হয় মর্টগেজ বাবদ।   রেডফিনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইংকি শু জানান, বাড়ি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণের অবনতি ঘটা বন্ধ হলেও তা গড় আমেরিকানদের সাধ্যের মধ্যে আসেনি। তবে ইতিবাচক দিক হলো, গত দু’বছরের তুলনায় এই আয়ের ঘাটতি কিছুটা কমেছে এবং প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাওয়া মানুষদের জন্য পরিস্থিতি সামান্য সহজ হয়েছে। বর্তমানে একটি প্রাথমিক পর্যায়ের (এন্ট্রি-লেভেল) বাড়ি কিনতে বছরে অন্তত ৭০ হাজার ৬৯৩ ডলার আয় প্রয়োজন, যা গত বছরের চেয়ে ১.৫ শতাংশ কম। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে থাকা মোট বাড়ির প্রায় ৩৪.২ শতাংশকে সাশ্রয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩০.৫ শতাংশ। সিয়াটল এবং সান হোসের মতো প্রধান প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে বাড়ি কেনার আর্থিক সামর্থ্য কিছুটা উন্নত হয়েছে।   তবে সার্বিক দেশের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র তিনটি বড় শহর—সেন্ট লুইস, ইন্ডিয়ানাপোলিস এবং পিটসবার্গে সাধারণ পরিবারের অর্জিত আয় দিয়ে একটি মধ্যম মানের বাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছে। বাকি প্রায় সব প্রধান শহর ও মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য নিজস্ব বাড়ি কেনা এখনো একটি বড় ধরনের আর্থিক সংকট হিসেবে বজায় রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় ধীর মার্কিন অর্থনীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ১.৫ শতাংশ
ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় তলানিতে মার্কিন অর্থনীতি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ১.৫ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি শ্লথ হয়ে পড়েছে। সদ্য প্রকাশিত একটি সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতির ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখিতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জুন মাসে শেষ হওয়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি বার্ষিক ১.৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের প্রান্তিকের ২.১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেশ ধীর। এই প্রবৃদ্ধির হার অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়েও কম। তবে, ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসের ০.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় বর্তমান পরিসংখ্যানটি কিছুটা স্বস্তিদায়ক।   মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে যে ঐতিহাসিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এই অর্থনীতিতে। এএএ (AAA)-এর তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় মূল্য ৪.৫৬ ডলারের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছিল; যদিও গত মাসে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির পর তা কিছুটা কমে আসে। এছাড়া, বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। এতসব প্রতিকূলতা ও ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও, দেশটির শ্রমবাজার ও কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কার চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধির একটি বড় অংশই এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে। জেপি মর্গান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে মার্কিন জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এসেছে এআই খাতের ব্যয়ের কারণে, যা সাধারণ ভোক্তাদের অবদানকেও ছাড়িয়ে গেছে।   এদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং শক্তিশালী শ্রমবাজারের কারণে সুদের হার বৃদ্ধির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে, জিডিপি তথ্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে ফেডারেল রিজার্ভ তাদের সুদের হার ৩.৫% থেকে ৩.৭৫% এর ঘরেই অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ওপর উচ্চমূল্যের চাপ কমাতে তারা যেকোনো মূল্যে বাজারে দামের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩০, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে বাজার খরচে চাপ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে $১০০ নিয়ে কাঁচাবাজারে গেলে এখন কী কী কেনা যায়? এক বছরে কত বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান কেনাকাটার কেন্দ্র। এখানকার দক্ষিণ এশীয় গ্রোসারি দোকানগুলোতে প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার হয়। তবে গত এক বছরে খাদ্যপণ্য ও কাঁচাবাজারের দাম বেড়ে যাওয়ায় একই পরিমাণ অর্থে আগের তুলনায় কম পণ্য কিনতে পারছেন বলে জানাচ্ছেন অনেক ক্রেতা।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যুরো অফ ল্যাবর স্ট্যাটিসটিক্স ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক-নিউয়ার্ক-জার্সি সিটি অঞ্চলে গত এক বছরে ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) বেড়েছে। একই সময়ে খাদ্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও অনেক পরিবারের জন্য চাপের কারণ হয়ে রয়েছে।   জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় গ্রোসারি দোকানে চাল, ডাল, ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, তেল, পেঁয়াজ, আলু, টমেটো ও অন্যান্য সবজির দাম দোকানভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি। ফলে মাসিক বাজারের বাজেটও বেড়েছে।   বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, প্রায় ১০০ ডলারের বাজেটে একটি পরিবারের জন্য ১০ পাউন্ড চাল, এক গ্যালন দুধ, এক ডজন ডিম, কয়েক পাউন্ড মুরগির মাংস, কিছু ডাল, সীমিত পরিমাণ সবজি, ফল এবং প্রয়োজনীয় কিছু মসলা কেনা সম্ভব। তবে এক বছর আগে একই অর্থে আরও বেশি পরিমাণ পণ্য কেনা যেত বলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে।   নিয়মিত বাজার পর্যালোচনা করেন তাদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে বাজারদর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। বরং দাম বৃদ্ধির গতি কমলেও পণ্যের মূল্য সাধারণত উচ্চ অবস্থানেই থেকে যায়। এ কারণে ভোক্তারা এখনও উচ্চ বাজারদরের প্রভাব অনুভব করছেন।   এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যান্ডি হারিগ বলেন, খুচরা বিক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ দামে কেনা পণ্যের মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন না। ফলে পাইকারি বাজারে পরিবর্তন এলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পৌঁছাতে সময় লাগে।   একই প্রতিবেদনে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ও সম্পদ অর্থনীতির অধ্যাপক মাইক ওয়ালডেন বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কমলেও ভোক্তারা সাধারণত আগের দামে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দাম একটি নতুন উচ্চ স্তরে স্থিতিশীল হয়ে যায়।   অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ব্যয়, পরিবহন খরচ, শ্রম ব্যয় এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে খাদ্যপণ্যের দাম এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে।   ফলে জ্যাকসন হাইটসের অনেক প্রবাসী পরিবার এখন বাজার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় প্যাকেটে পণ্য কেনা, বিভিন্ন দোকানের মূল্য তুলনা করা এবং সাপ্তাহিক ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তবুও অনেক পরিবারের মাসিক খাদ্য ব্যয় আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউইয়র্কের এক বাংলাদেশি প্রবাসী আমেরিকা বাংলাকে বলেন, “এক বছর আগেও ৮০ ডলার দিয়ে মোটামুটি এক সপ্তাহের কাঁচাবাজার হয়ে যেত। এখন একই ধরনের কাঁচাবাজার করতে প্রায় ১৫০ ডলার লেগে যায়। তবে শুধু কাঁচাবাজার নয়, পরিবারের অন্যান্য নিয়মিত খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে আমার চার সদস্যের পরিবারের মাসিক ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামই বেড়েছে। সংসারের বাজেট সামলানো এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।   অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসেও খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও দ্রুত আগের স্তরে নেমে আসার সম্ভাবনা কম। তাই নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসী পরিবারকে উচ্চ বাজারদরের বাস্তবতার মধ্যেই তাদের মাসিক বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে ৫০ বছরের রেকর্ড, ৭ বছরে বেড়েছে ৩৩%
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে ৫০ বছরের রেকর্ড, ৭ বছরে বেড়েছে ৩৩%

গত সাত বছরে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্যের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মূল্যস্ফীতির ঘটনা। অদূর ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের বা স্বস্তির কোনো সম্ভাবনাও আপাতত দেখা যাচ্ছে না। করোনা মহামারির সময় মাত্রাতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির কারণে দামের যে বিশাল উল্লম্ফন শুরু হয়েছিল, তা আজও অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে প্রতি পাউন্ড গরুর মাংসের দাম ৬.৮২ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৭৯ শতাংশ বেশি। লাগামহীন ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া বাজারের এটি একটি অন্যতম বড় প্রমাণ।   কিংসভিউ ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট ফার্মের অংশীদার স্কট ডি. মার্টিনের মতে, বছরের পর বছর ধরে দাম এমন চড়া থাকার অর্থ হলো এটি এখন আমেরিকান ক্রেতাদের জন্য নতুন স্বাভাবিক বা 'নিউ নরমাল' পরিস্থিতি। তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির হার তার সর্বোচ্চ চূড়া থেকে কিছুটা কমলেও নিত্যপণ্যের দাম ক্রেতাদের আগের পরিচিত জায়গায় ফিরে আসেনি। সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন, শ্রমিক সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্যপণ্যের দাম স্থায়ীভাবে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের প্রেসিডেন্ট ডগলাস হোল্টজ-একিন জানান, যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশুর রোগবালাই, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী ও স্থায়ী রূপ নিয়েছে।   বিএলএস-এর পরিসংখ্যান বলছে, ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছিল মাত্র ৬.৪ শতাংশ। কিন্তু মহামারির পর ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তা একলাফে প্রায় ২১ শতাংশ বাড়ে এবং এরপর থেকে খরচ আরও প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লাগামহীন এই দামের কারণে মার্কিনিদের কেনাকাটার অভ্যাসে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। মার্টিন জানান, মানুষ এখন তুলনামূলক সস্তা বা প্রাইভেট ব্র্যান্ড কিনছেন, বিভিন্ন দোকানে দাম যাচাই করছেন এবং ছাড় পেলে একসঙ্গে বেশি পণ্য কিনে রাখছেন। দৈনন্দিন খরচের সবচেয়ে বড় অংশটি বাজারে যায় বলে বর্তমানে উচ্চ আয়ের ক্রেতারাও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি হিসেবি হয়ে উঠেছেন।   অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, সহসাই এই সংকট থেকে সাধারণ মানুষের স্বস্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ, নতুন করে আরোপিত শুল্ক এবং পরিবহন ও জ্বালানি খরচের ঊর্ধ্বমুখী চাপের সঙ্গে লড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিসের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটিতে সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম আরও ৩.১ শতাংশ এবং আগামী বছর আরও ৩.১ শতাংশ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কয়েক ডজন বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক কার্যকর করায় পোশাক, ইলেকট্রনিকস, খাদ্যপণ্য, নির্মাণসামগ্রী ও গাড়িসহ অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ভোক্তাদের খরচ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকেরা।   নতুন ব্যবস্থায় ৬০টি দেশের আমদানি পণ্যের ওপর সাধারণভাবে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য ঠেকানোর যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, বিদেশি রপ্তানিকারকেরা নয়, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ক্রেতাদেরই এই বাড়তি ব্যয়ের বড় অংশ বহন করতে হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে পোশাক ও বস্ত্রপণ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বিপুল পরিমাণ জামাকাপড়, জুতা ও কাপড়জাত পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। যেসব উৎপাদনকারী দেশ নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে, সেসব দেশ থেকে পণ্য আনার খরচ বাড়লে খুচরা বিক্রেতারা দাম বাড়াতে পারেন।   ইলেকট্রনিকস খাতেও একই ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহৃত পণ্য ও যন্ত্রাংশের বড় অংশ চীন, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার একাধিক ধাপে শুল্ক যুক্ত হলে নতুন ডিভাইস কেনা কিংবা পুরোনো যন্ত্র মেরামতের খরচও বাড়তে পারে।   খাদ্য ও পানীয়ের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা কফি এবং কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয়ের দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে জ্বালানি, সার এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য ও কৃষিপণ্য নতুন শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়বে না।   বাড়িঘর নির্মাণ ও সংস্কারের ব্যয়ও আরও বেড়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত কাঠ, ধাতব সামগ্রী, আসবাব, বৈদ্যুতিক উপকরণ এবং অন্যান্য নির্মাণপণ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশ থেকে আসে। এসব পণ্যের দাম বাড়লে নতুন বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি রান্নাঘর, বাথরুম কিংবা পুরোনো বাড়ি সংস্কারের খরচও বাড়তে পারে।   গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশের বাজারেও বাড়তি চাপের আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িশিল্প কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত। একটি গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সীমান্ত পেরিয়ে একাধিকবার যাতায়াত করতে পারে। প্রতিটি ধাপে বাড়তি ব্যয় যুক্ত হলে নতুন ও ব্যবহৃত গাড়ির দাম, যন্ত্রাংশ এবং মেরামতের খরচেও তার প্রভাব পড়তে পারে।   এর পাশাপাশি কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর আলাদাভাবে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ায় দেশটি থেকে আসা পণ্যের দাম বাড়লে মার্কিন বাজারের বেশ কয়েকটি খাতে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন শুল্ক বিদেশি দেশগুলোকে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে শক্তিশালী করবে। তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়তে সময় লাগে; এর আগেই আমদানিকারকেরা বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন।   তবে শুল্ক কার্যকর হওয়া মানেই সব পণ্যের দাম তাৎক্ষণিকভাবে একই মাত্রায় বেড়ে যাবে, এমন নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান বাড়তি খরচের কতটা নিজে বহন করবে, কতটা ক্রেতার ওপর চাপাবে এবং বিকল্প দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারবে কি না, তার ওপর প্রকৃত মূল্যবৃদ্ধি নির্ভর করবে। এরপরও এমন সময়ে নতুন শুল্ক কার্যকর হলো, যখন খাবার, জ্বালানি ও আবাসন ব্যয় নিয়ে আগে থেকেই চাপে রয়েছে বহু মার্কিন পরিবার।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী, এসি চালানোর খরচে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমেরিকাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ হু হু করে বাড়ছে। এর মধ্যেই চলতি গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার তথা এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর খরচ আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা। মে মাসে দেশটিতে বাৎসরিক মূল্যস্ফীতির হার গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।   ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আমেরিকায় বিদ্যুৎ বিল গড়ে ১০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়ায় এবার এসি ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বাড়বে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের দামও, যা মধ্য ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে আমেরিকায় গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দিন দিন বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই এখন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করছেন। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শীতকালে তীব্র ঠাণ্ডায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়ে মার্কিন রাজ্যগুলোতে আইনি সুরক্ষা থাকলেও, গ্রীষ্মকালের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অভাব রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৯টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াতে গ্রীষ্মকালে লাইন কাটার বিরুদ্ধে আংশিক আইনি সুরক্ষা রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ দিন দিন আরও তীব্র ও ঘন ঘন হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই দুর্বল নিয়মের কারণে তীব্র গরমে এসি ছাড়া বাস করা অনেকের জন্য জীবন-মৃত্যুর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই নিয়ম অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত।   চলমান এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক মার্কিন তরুণ তাদের স্বাধীনভাবে থাকার স্বপ্ন বাদ দিয়ে খরচ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আবার বাবা-মায়ের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে নাগরিকদের বেতন বা মজুরি এখন আর খরচের সাথে কুলাতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষ এখন দুপুরের খাবার কেনার টাকা বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন, নাকি তীব্র গরমে এসি ছাড়াই দিন কাটাবেন—এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জানালার পর্দা ব্যবহার করা, ঘরে না থাকলে থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা, এসির এয়ার ভেন্টগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং দরজা-জানালার ফাঁকফোকর ভালোভাবে বন্ধ রাখা। তবে এই সাধারণ উপায়েও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সাধারণ নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

তাবাস্সুম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মে মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস । ছবি: সংগৃহীত
মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ, বাড়ছে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ অব্যাহত রয়েছে। মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ বা পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে, যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।   রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.০৪ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে মে মাসে ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে।   প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.০৫ শতাংশ। সে তুলনায় চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি।   খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৬ শতাংশে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮.৩৯ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এই খাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮.৫৯ শতাংশ।   বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে।   অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯.৭১ শতাংশে। এপ্রিল মাসে এ হার ছিল ৯.৫৭ শতাংশ। গত বছরের মে মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪২ শতাংশ।   খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ভাড়া স্থগিতের দাবিতে চাপ বাড়ছে, উত্তপ্ত রেন্ট বোর্ডের শুনানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়া সংকটকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড- এর সাম্প্রতিক শুনানি। এতে অংশ নিয়ে ভাড়াটিয়া অধিকারকর্মীরা শহরের সব ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত লিজের ওপর অবিলম্বে ভাড়া স্থগিত কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৪ লাখ ভাড়াটিয়া সরাসরি উপকৃত হবেন।   শুনানিতে বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লকের নির্বাহী পরিচালক সুমাথি কুমার, চায়নাটাউন টেন্যান্ট ইউনিয়নের সংগঠক জুলি জু এবং হাউজিং কনজারভেশন কোঅর্ডিনেটরস-এর কমিউনিটি সংগঠক এলিসা মার্টিনেজ। তারা বলেন, বর্তমান সংকট শুধু ভাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভিবাসন অভিযানের চাপ, যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচন।   ভাড়াটিয়া নেতাদের দাবি, এই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় ভাড়া স্থগিতই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে এ দাবির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। গত বসন্তে প্রায় ২০ হাজার ভাড়াটিয়া এতে স্বাক্ষর করেছেন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে এক মিলিয়নের বেশি ভোটার ভাড়া স্থগিতের প্রতিশ্রুতিদাতা প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৮ শতাংশ নিউইয়র্কবাসী এ দাবির পক্ষে।   তাদের যুক্তি, বিদ্যমান তথ্য-উপাত্তও এই দাবিকে সমর্থন করে। রেন্ট বোর্ডের নিজস্ব প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর বাড়িওয়ালাদের মুনাফা ৬ শতাংশ বেড়েছে এবং গত তিন বছরে তাদের নিট পরিচালন আয় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ, অথচ ভাড়াটিয়াদের আয় তেমন বাড়েনি। একটি জরিপ অনুযায়ী, অর্ধেকের বেশি ভাড়াটিয়া দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং দুই-তৃতীয়াংশের কোনো জরুরি সঞ্চয় নেই।   শুনানিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ভাড়া বৃদ্ধি বাড়িওয়ালাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে উৎসাহিত করছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় না করে ঋণ পরিশোধ বা নতুন সম্পত্তি কেনায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি শহরের মেরামত সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেক বাড়িওয়ালা তাতে আবেদন করেননি যা তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।   বর্তমানে নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়াদের আর্থিক চাপ চরমে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরের প্রায় ৫১.৬ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়ায় ব্যয় করছেন এবং প্রায় ২৮.৮ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি ভাড়ার পেছনে খরচ করছেন। বিশেষ করে ব্রঙ্কস এলাকায় কম আয়ের বিপরীতে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এছাড়া ২০২৫ সালে শহরে উচ্ছেদের হার প্রায় ৯.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ভাড়াটিয়াদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন খরচ এখন মূল্যস্ফীতির অন্যতম প্রধান কারণ এবং অধিকাংশ পরিবারের মাসিক ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ।   এই প্রেক্ষাপটে ভাড়াটিয়া নেতারা মনে করছেন, ভাড়া স্থগিত কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নও। তাদের দাবি, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের উচিত বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাতে নিউইয়র্কের লাখো ভাড়াটিয়া কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

Unknown এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ ও বিতর্কে চাপে ট্রাম্প, জনপ্রিয়তা নেমেছে সর্বনিম্নে

ইরান যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং ধর্মীয় নেতাকে ঘিরে বিতর্ক- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। রয়টার্স-ইপসসের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, তার জনপ্রিয়তা বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।   ছয় দিনব্যাপী জাতীয় এই জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ৩৬ শতাংশে স্থির রয়েছে, যা এক মাস আগের মতোই। তবে এটি তার মেয়াদকালের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার সর্বোচ্চ অনুমোদন ছিল ৪৭ শতাংশ।   ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। জরিপে দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের অনুমোদন মাত্র ২৬ শতাংশ, যা তার অন্যতম সর্বনিম্ন স্কোর।   ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতি জনসমর্থনও সীমিত। জরিপে ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ হামলাকে সমর্থন করেছেন, তবে মাত্র ২৬ শতাংশ মনে করেন, এটি ব্যয়ের তুলনায় সার্থক হয়েছে। জরিপে ট্রাম্পের আচরণ ও মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র ২৬ শতাংশ উত্তরদাতা তাকে “শান্ত স্বভাবের” নেতা হিসেবে দেখেন। গত এক বছরে তার মানসিক তীক্ষ্ণতা কমেছে বলে মনে করেন ৫১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।   এদিকে ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করায় পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জরিপে দেখা যায়, ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা পোপ লিও সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যেখানে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এ হার ৩৬ শতাংশ।   নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ দেশটিকে আরও নিরাপদ করবে। একইসঙ্গে অধিকাংশই ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ধারণার বিরোধিতা করেছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ এবং ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে বিতর্ক এই তিনটি বড় ইস্যুতে একসঙ্গে চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় এই পরিস্থিতি হোয়াইট হাউসের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তেলের দাম দ্রুত কমার আশা, বাস্তবে দীর্ঘস্থায়ী চাপের আশঙ্কা

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে এই পরিস্থিতিকে সাময়িক ধাক্কা বলে উল্লেখ করে যুদ্ধ শেষ হলেই জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে বলে আশ্বাস দিলেও, অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা ভিন্ন আশঙ্কার কথা বলছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও জ্বালানি বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরতে সময় লাগতে পারে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত। ফলে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবে না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দামও বেড়ে প্রায় ৩.৯৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসের ব্যবধানে প্রায় এক ডলার বৃদ্ধি নির্দেশ করে।   অর্থনীতিবিদ মার্ক জ্যান্ডির ভাষায়, জ্বালানি বাজারে একটি প্রচলিত বাস্তবতা হলো—দাম বাড়ে দ্রুত, কিন্তু কমে ধীরে। তার মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও তেল সরবরাহ ও উৎপাদন স্বাভাবিক হতে অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরপর দাম কিছুটা কমে এলেও তা যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে নাও ফিরতে পারে।   এই পরিস্থিতির পেছনে অন্যতম কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীর আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে খাদ্যপণ্য, পরিবহন এবং বিমান ভাড়ার ওপরও। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তারা বিমান ভাড়া ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে।   এদিকে, জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও অনিশ্চয়তার কথা বলা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সময়সীমা—সব মিলিয়ে বাজার পরিস্থিতি এখনও অস্থির। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়বে, যার ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে।   সব মিলিয়ে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও জ্বালানি দামের ওপর চাপ পুরোপুরি কমতে সময় লাগবে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর এর প্রভাব কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

Unknown মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০