ভোটার তালিকা নিয়ে কড়াকড়ি, অবৈধ ভোটের অভিযোগে গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কয়েকজন ননসিটিজেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা কিংবা মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবি করার অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে গ্রিন কার্ডধারী এক ব্যক্তিও রয়েছেন।
সেপ্টেম্বর ১৫ তারিখে টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, ছয়জনকে ১০ সেপ্টেম্বর এবং আরও একজনকে ১১ সেপ্টেম্বর অবৈধ ভোট বা মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ননসিটিজেনদের ভোট দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ আগস্ট ৩০ বছর বয়সী এক হন্ডুরাসের নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারীকে ভোটার হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে নিবন্ধনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ফরমে নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে প্রসিকিউটরদের নথিতে বলা হয়েছে, তিনি শেষ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে ভোট দেননি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবি ও প্রতারণামূলক ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ম্যাসাচুসেটসেও একটি মামলায় একজন চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে অন্য এক গ্রিন কার্ডধারী চীনা নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি গত ৩ সেপ্টেম্বর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।
কানসাসে ১০ সেপ্টেম্বর আরেক পেরুভিয়ান নাগরিকের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন জেনেও নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন এবং প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নির্বাচনে ব্যালট দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। গ্রিন কার্ডধারীরা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তারা মার্কিন নাগরিক নন। ফলে তারা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, কোনো গ্রিন কার্ডধারী ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিলে বা শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত কোনো স্টেট বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিলে তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসেও গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে স্থানীয় নির্বাচনের নিয়ম সব জায়গায় এক নয়। কিছু স্থানীয় এলাকায় আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানীয় নির্বাচনে ননসিটিজেনদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই কোনো গ্রিন কার্ডধারী ভোট দিয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি কোন ধরনের নির্বাচনে ভোট দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় আইনে কারা ভোট দিতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক মামলাগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী আইন প্রয়োগ জোরদারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। ২০২৬ সালের মে মাসে বিচার বিভাগের অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেল একটি মতামতে জানায়, ননসিটিজেনদের বেআইনি ভোট শনাক্ত করার প্রচেষ্টায় স্টেটভিত্তিক ভোটার তালিকা সংগ্রহ ও তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে শেয়ার করার আইনি কর্তৃত্ব বিচার বিভাগের রয়েছে।
তবে এসব মামলার সব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফেডারেল প্রসিকিউশনগুলোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র বা ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট কেবল অভিযোগের বিবরণ দেয় এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনের চোখে নির্দোষ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে আগামী ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া এ. জেমস। ডেমোক্র্যাটিক ও ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন তিনি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান ও কনজারভেটিভ পার্টির মনোনীত প্রার্থী সারিথা কোমাটিরেড্ডি। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এর আগে ২৪ অক্টোবর শুরু হওয়া আগাম ভোট শেষ হয়েছে ১ নভেম্বর। নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচনবিষয়ক ওয়েবসাইট এনওয়াইসি ভোটসে প্রকাশিত প্রার্থী পরিচিতিতে জেমস জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আবাসন খাতে জবাবদিহি এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুনর্নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, ভোক্তা অধিকার এবং আইনগত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবেন। জননিরাপত্তার বিষয়ে জেমস দাবি করেছেন, ২০১৯ সাল থেকে তাঁর দপ্তরের উদ্যোগে নিউইয়র্কের রাস্তাঘাট থেকে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সরানো হয়েছে। একই সময়ে মাদক পাচার, সংগঠিত অপরাধ ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। আবাসন সংকট মোকাবিলায় বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন জেমস। তাঁর দাবি, বাড়ির দলিল জালিয়াতি, ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে বৈষম্য এবং অনিরাপদ আবাসন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে তাঁর দপ্তর ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি ও করপোরেট অনিয়মের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। জেমসের নির্বাচনী বক্তব্য অনুযায়ী, ভোক্তা অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁর দপ্তর ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে। স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসীদের অধিকার রক্ষাও জেমসের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। মেডিকেইড, অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার অধিকার রক্ষায় কাজ করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আইসিইর অভিবাসন অভিযান পর্যবেক্ষণ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী সারিথা কোমাটিরেড্ডি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, বারবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থের প্রতারণা বন্ধে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাবেক এই ফেডারেল প্রসিকিউটর সাইবার অপরাধ, মেডিকেইড জালিয়াতি এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণা মোকাবিলার অঙ্গীকার করেছেন। গৃহহীনতা ও মানসিক স্বাস্থ্যসংকট মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি। জেমস ২০১৯ সাল থেকে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট ও সিটি কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে কোমাটিরেড্ডি এক দশকের বেশি সময় ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করেছেন। মাদক পাচার, অর্থপাচার, সন্ত্রাসবাদ ও সাইবার অপরাধের মামলায় তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদটি অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ আইনগত দায়িত্বগুলোর একটি। ভোক্তা সুরক্ষা, আর্থিক প্রতারণা, নাগরিক অধিকার এবং অঙ্গরাজ্যের স্বার্থে মামলা পরিচালনায় এই দপ্তরের ভূমিকা রয়েছে। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কে জয়ী হন, তার ওপর নিউইয়র্কের বিভিন্ন আইনগত উদ্যোগের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার নির্ভর করবে। সূত্র: এনওয়াইসি ভোটস, নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ইলেকশনস
যুক্তরাষ্ট্রে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, পেনসিলভানিয়ায় আক্রান্ত প্রায় ১৪০০ জন
‘আমরা বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছি, আর সময় নেই’, ফ্লোরিডায় মৃত্যুর আগে পাইলটের শেষ বার্তা
যুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থ স্বজনের যত্নে ঋণ নিচ্ছেন মার্কিনিরা, বছরে খরচ সাড়ে ১১ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের খরচ বাড়লেও দেশটির বড় তেল কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শীর্ষ ৫০টি তেল কোম্পানির সম্মিলিত মুনাফা ১৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে গাড়ির জ্বালানি কিনতে মার্কিন ভোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার। জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে জনঅসন্তোষের মধ্যেই এই তথ্য সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তেল কোম্পানিগুলোর বিপুল মুনাফার তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের শিরোনামে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার মুনাফার কথা উল্লেখ করা হলেও মূল প্রতিবেদনে সম্মিলিত মুনাফা ১৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি বলে জানানো হয়েছে। বড় তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে এক্সনমোবিল ও শেভরনের আয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কোম্পানি দুটির প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে তাদের সম্মিলিত আয় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার কারণে কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি পেলেও সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীল পরিবার, পরিবহন ব্যবসা এবং ডিজেলচালিত যানবাহনের মালিকদের জ্বালানি খরচ বেড়েছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত জ্বালানি ব্যয় পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িচালকদের অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারে। এর মধ্যে গ্যাসের জন্য অতিরিক্ত খরচ হয়েছে ৮ হাজার ১৫০ কোটি ডলার এবং ডিজেলের জন্য ৬ হাজার ৬২০ কোটি ডলার। বিশ্ববিদ্যালয়টির হিসাবে, যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিবারকে ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় গড়ে ১ হাজার ১২৭ ডলার ৬৫ সেন্ট বেশি গ্যাসের খরচ বহন করতে হয়েছে। পরিবারভেদে প্রকৃত ব্যয় আলাদা হলেও এই হিসাব জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সামগ্রিক প্রভাব তুলে ধরছে। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন এএএ জানিয়েছে, ৩০ অক্টোবর প্রতি গ্যালন গ্যাসের জাতীয় গড় দাম ছিল ৪ ডলার ২০ সেন্ট। টানা তৃতীয় মাসের মতো গ্যাসের গড় দাম ৪ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। জ্বালানির মূল্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির প্রধান পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হান জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে জাতীয় গড় গ্যাসের দাম ৪ ডলারের ওপরে থাকার দিনের সংখ্যা আগের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। বিশেষ করে ইরানের দক্ষিণ উপকূলের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের সঙ্গে সম্পর্কিত। যুদ্ধের কারণে ওই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে যায় এবং দাম বেড়ে যায়। জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে সমালোচনার মুখে এক্সনমোবিলের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা নিল হ্যানসেন বলেছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর বাস্তব চাপ সৃষ্টি করছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের উচ্চমূল্যের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া। তবে তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফলে উচ্চমূল্যের সুবিধা প্রতিফলিত হলেও ভোক্তাদের প্রতিদিনের খরচে এর বিপরীত প্রভাব পড়ছে। এদিকে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। নেভিগেটর নামের একটি জনমত জরিপ প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত সমীক্ষা অনুযায়ী, গ্যাসের দাম মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোটার। এক হাজার চারজন মার্কিন ভোটারের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে দেখা গেছে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি তুলনামূলক ইতিবাচক মনোভাবও উঠে এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে গ্যাসের উচ্চমূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে, তাদের বাজেটে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে। পাশাপাশি ডিজেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ খাতেও ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। তবে তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধির পুরো অর্থই যে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি থেকে এসেছে, প্রকাশিত তথ্য দিয়ে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস ব্যবসার বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে কোম্পানিগুলো আয় করে থাকে। একইভাবে ভোক্তাদের অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়ের হিসাবকে কোম্পানিগুলোর সরাসরি মুনাফা হিসেবেও বিবেচনা করা যায় না। এরপরও প্রকাশিত পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে দুটি ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। একদিকে উচ্চমূল্যের বাজারে বড় তেল কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা করছে, অন্যদিকে একই সময়ে সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোকে গ্যাস ও ডিজেলের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা হারলে ‘মিস্টার ভেটো’ হওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য চিকিৎসকদের স্কলারশিপ ফান্ডিং নিয়ে রয়েছে ২ টি ট্র্যাক, জানুন বিস্তারিত
ইরানে কয়েক দিনের মধ্যে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প, দাবি মার্কিন বিশ্লেষকের
যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসবের সপ্তাহান্তে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একের পর এক গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৯৪ জন আহত হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ডেলাওয়্যারসহ বিভিন্ন স্থানে নাইটক্লাব, বিনোদন এলাকা, হ্যালোইন সামগ্রীর দোকান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি হতাহতের একটি ঘটনা ঘটেছে টেক্সাসের ডালাস শহরে। সেখানে প্রায় ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক গুলিবর্ষণে চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। তবে সব হামলা হ্যালোইনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল কিংবা ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত, এমনটা প্রমাণ হয়নি। ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বন্দুক সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম এসব ঘটনায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু ও ৯৪ জনের আহত হওয়ার সংখ্যা জানিয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে টেক্সাসের ডালাস শহরের ডিপ এলাম এলাকায়। শনিবার রাত পেরিয়ে রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে সেখানে তিনটি পৃথক স্থানে গুলির ঘটনা ঘটে। ডালাস পুলিশ বিভাগের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনা ঘটে রাত ১২টা ২০ মিনিটে এলম স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে রাত ১টা ৫ মিনিটে মেইন স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে। তৃতীয় গুলিবর্ষণ হয় রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সাউথ ক্রাউডাস স্ট্রিটের ২০০ ব্লকে। ডালাস পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনায় মোট ১৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে চারজন মারা যান এবং ১৫ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। অন্যরা নিজেরাই চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে পৌঁছান। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আহত হননি। প্রাথমিকভাবে তিনটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা এবং গুলিবর্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। ডালাসের ডিপ এলাম শহরটির পরিচিত বিনোদন এলাকা। সেখানে বার, রেস্তোরাঁ, সংগীত পরিবেশনার স্থান এবং নাইটক্লাব রয়েছে। হ্যালোইন উপলক্ষে শনিবার রাতেও বিপুলসংখ্যক মানুষ ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। গুলির ঘটনার পর পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তদন্তকারীরা আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন। ডালাসের পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল কোমো জানিয়েছেন, হ্যালোইন উপলক্ষে আগেই অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ফলে গুলির খবর পাওয়ার পর কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হন। একজন আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পুলিশপ্রধান বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে তদন্তের জন্য আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা সবাই অপরাধে জড়িত, এমন নয়। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ারফিল্ড শহরের সোলানো টাউন সেন্টার শপিং মলে অবস্থিত স্পিরিট হ্যালোইন দোকানে শুক্রবার রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত এবং ছয়জন আহত হন। নিহত ব্যক্তি ৩১ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী বলে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান। ক্যালিফোর্নিয়ার ঘটনার পাশাপাশি মিশিগানের ম্যাডিসন হাইটসেও একটি স্পিরিট হ্যালোইন দোকানের কাছে গুলির ঘটনায় ২১ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হন। দুটি ঘটনাই হ্যালোইন সামগ্রীর দোকানের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও একই অপরাধী চক্র বা পরিকল্পনার অংশ বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে দোকানের নামের মিল থেকে ঘটনাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বার্মিংহাম শহরেও গুলির ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। লিজিয়ন ফিল্ড স্টেডিয়ামে ম্যাজিক সিটি ক্ল্যাসিক ফুটবল ম্যাচের পর আশপাশের এলাকায় পৃথক দুটি গুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত এবং আটজন আহত হন। ম্যাচটি দেখতে প্রায় ৭০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরে খেলা চলাকালে গুলিবর্ষণ হয়েছিল, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক শহরে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের কাছেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদিকে ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটির কাছে গুলির ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব ঘটনা ঘটলেও হামলার উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের ফায়েটভিলেও গুলিবর্ষণে ছয়জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি বিরোধের পর সেখানে গুলির ঘটনা ঘটে। তবে বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছিল। এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত পৃথক অপরাধ। কোনো একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে সব হামলা সংঘটিত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উপলক্ষে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, পার্টি, রাস্তাঘাট এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে জড়ো হন। বিশেষ করে গভীর রাত পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানে জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এবারের গুলিবর্ষণগুলোর ক্ষেত্রে মদ্যপান, মাদক গ্রহণ কিংবা উৎসবের ভিড়ই সরাসরি সহিংসতার কারণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। অপরাধবিজ্ঞানী জেমস অ্যালান ফক্সের একটি পূর্ববর্তী বিশ্লেষণে হ্যালোইনসহ নির্দিষ্ট ছুটির দিনে সহিংসতার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সালের বোস্টনের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে ৩১ অক্টোবরকে সহিংসতার ঝুঁকিপূর্ণ দিনগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই বিশ্লেষণে ৪ জুলাই ও ১ জানুয়ারির পর ৩১ অক্টোবরের অবস্থান ছিল। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট শহরের পুরোনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা গবেষণা। হ্যালোইন উপলক্ষে ছোট শিশু ও কিশোরেরা সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে বের হয়, বিভিন্ন বাসায় গিয়ে মিষ্টি সংগ্রহ করে এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এ সময় যানবাহন চলাচল, ভিড় এবং অপরিচিত স্থানে যাতায়াতের কারণে নিরাপত্তার বাড়তি প্রয়োজন হতে পারে। তবে শিশুদের জন্য সব ধরনের ঝুঁকি একই নয়। বন্দুক সহিংসতা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং অন্য অপরাধের পরিসংখ্যান আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এসব ঘটনা উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে যাঁরা হ্যালোইন বা অন্যান্য বড় উৎসব উপলক্ষে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় যান, তাঁদের স্থানীয় পুলিশ ও আয়োজকদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। কোনো এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলে গুজবের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগের নিশ্চিত তথ্যের ওপর নির্ভর করা গুরুত্বপূর্ণ। হ্যালোইন সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত বন্দুক সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সংকলিত একটি হিসাবে অন্তত ২৪ জন নিহত ও ৯৪ জন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মোট হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। ডালাসের তিনটি ঘটনায় চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পুলিশ নিশ্চিত করেছে। অন্য ঘটনাগুলোতেও তদন্ত চলছে। এসব সহিংসতার কারণ, সন্দেহভাজনদের পরিচয় এবং হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে পরবর্তী সরকারি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। সূত্র: ডালাস পুলিশ বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, এসবিএস নিউজ
'আমি এখনও জানি না কেন গুলি করল' আইসিইর গুলিতে বুকে আহত অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্যবসায় শক্ত অবস্থান গড়ছেন বাংলাদেশিরা, বাড়ছে রাজনীতি ও সামাজিক প্রভাব