- প্রচ্ছদ
- Topic
ট্রাম্প প্রশাসন
সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সূচি নির্ধারিত ছিল, তাদের ইমেইল করে জানানো হয়েছে যে সেই সূচিগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও সময় তাদের জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আরও সমৃদ্ধ আমেরিকা গড়ার অর্থ হলো, এটা নিশ্চিত করা যে ভিসা আবেদনকারীরা মার্কিন আইন ও বিধি অনুযায়ী কোনোভাবেই রাষ্ট্রের জন্য বোঝা বা পাবলিক চার্জ হয়ে দাঁড়াবেন না। পাশাপাশি, তারা যেন অভাবগ্রস্ত যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। মুখপাত্র আরও জানান, প্রতিটি ভিসা আবেদনকারীকে যেন সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন, তা নিশ্চিত করতে চলতি মাসে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ উদ্যোগ চালু করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, আর বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘটনাটি সেগুলোরই সর্বশেষ সংযোজন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাকে অন্যতম প্রধান নীতি বানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন এবং প্রায় সব ধরনের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেওয়ার পরই ভিসা স্থগিতের এই নতুন সিদ্ধান্তটি এলো। ওই নিষেধাজ্ঞায় ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের ভিসা আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের ধারণা ছিল, এসব দেশের নাগরিকদের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব দেশের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের দেশ। ওয়াশিংটনভিত্তিক অভিবাসন আইন সংস্থা ফ্রেগোমেন এর আইনজীবী ব্রায়ান সিমন্স জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের অনেকেই নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে এরই মধ্যে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন এবং নিজেদের দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ এসব সাক্ষাৎকার পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে ভিসা সেবার নির্ধারিত সূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিবাসন নীতির কারণে বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার একটি উদ্যোগ ফেডারেল আদালত আটকে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট নীতিটির একটি সীমিত সংস্করণ কার্যকরের অনুমতি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস গত শুক্রবার এক রায়ে জানান, ৭৫টি দেশের অভিবাসন আবেদনের ওপর ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ কংগ্রেসের দেওয়া কনস্যুলার কার্যালয়গুলোর ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করেছে। গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিয়েছিল। বিচারক ভার্গাস ট্রাম্পের এই নীতি এবং এর ভিত্তিতে হওয়া সব ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে, মামলার বাকি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। গত বছর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়ম করেছে যে, অভিবাসী ভিসা প্রত্যাশীদের নিজ দেশের নাগরিকত্ব থেকেই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অথচ তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন। এমনকি কেউ কেউ মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করেছেন বা তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় এই সর্বশেষ বাধায় ইন্টারনেট মেসেজ বোর্ডগুলোতে মুম্বাই থেকে শুরু করে নেপলস পর্যন্ত অনেকেই চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, মানুষজন এই কাজটুকু সম্পন্ন করার জন্য দেশের বাইরে ভ্রমণ করে আসে, আর তারা শেষ মুহূর্তে এসে সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেয়, বিষয়টি সত্যিই খুব বিরক্তিকর। আরেকজন সতর্ক করে লিখেছেন, প্রায় ৮ মাস আগে ভারতে এইচ-১বি ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও হুবহু একই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কারণে এখনও অনেকে বিদেশে আটকা পড়ে আছেন এবং অনেকেই তাদের চাকরি হারিয়েছেন। তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যারা পর্যটক বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এমন প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজ ও সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। অভ্যন্তরীণ নথিপত্র এবং দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বড় ধরনের এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি-১ এবং বি-২ ভিসাগুলো বাতিল করা, যেসব ভিসাধারী পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের প্রার্থনা করেছেন। যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একযোগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা। তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই বিশাল পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যারা সাময়িক সময়ের দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কথা বলে প্রবেশ করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করছেন। এসব অ-অভিবাসী ভিসাগুলো বাতিল করার জন্য কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঠিক কতজন মানুষ এর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন, তা নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত করেননি পিগট। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি জানিয়েছেন, ভিসা বাতিলের এই প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে চলবে এবং মোট সংখ্যাটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল থাকবে। তবে কর্মকর্তারা এপিকে জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ডিপোর্ট করা হবে। যাদের আশ্রয়ের আবেদনগুলো এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের নতুন করে শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। তবে তারা তাদের ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার বৈধতা পুরোপুরি হারাবেন। সাধারণত বি-১ ভিসা দেওয়া হয় ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য। অন্যদিকে বি-২ ভিসা দেওয়া হয় পর্যটন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং চিকিৎসাসেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে। বর্তমানে এসব ভিসার আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হয় যে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখেন। অভিবাসন আইনের অপব্যবহার নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সম্প্রতি আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। গত সোমবার মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আশ্রয়ের আবেদনকে কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে বিরক্ত হয়ে গেছে বলে তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় যে কোনো ধরনের অপব্যবহার রোধে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, এই নীতির অংশ হিসেবে গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। এবার এই তালিকায় আরও দুই লাখ মানুষের নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ ও এপি
দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা আবেদনে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের বিশেষ ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কর্মী আনার খরচ আগের তুলনায় বড় ধরনের বাড়বে। প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর ৩০ দিনের গণপরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর প্রশাসন মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত বিধিমালা জারি করতে পারে। এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ঘোষণার মাধ্যমে নতুন কিছু এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থপ্রদানের শর্ত চালু করেছিল। সেই ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন, নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন পক্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে। নতুন প্রস্তাবটি সেই নীতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বিশেষায়িত দক্ষতার বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রতি বছর ৬৫ হাজার সাধারণ এইচ-১বি ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসার সীমা রয়েছে। নতুন প্রস্তাবের ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোম্পানিগুলোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতার খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু কোম্পানি তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, অনেক বিশেষায়িত পদে পর্যাপ্ত মার্কিন কর্মী না থাকায় বিদেশি দক্ষ কর্মী ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে নিয়োগের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ব্যবস্থায় উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, বাড়তি খরচ ও কঠোর যাচাইয়ের মাধ্যমে কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের দিকে সুযোগ কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত বিধিমালা নিয়ে আইনগত চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনাও রয়েছে। অতিরিক্ত ফি আরোপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক চলছে। ফলে নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলেও আদালতে এর বৈধতা নিয়ে লড়াই গড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের জন্য এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল বিদেশি পেশাজীবীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কর্মরত ভারতীয়, চীনা ও অন্যান্য দেশের দক্ষ কর্মীরা এই কর্মসূচির বড় অংশ ব্যবহার করেন। ফলে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগের কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের প্রবেশের ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন আপিল না করলে শিগগিরই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্থগিত থাকা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু আবার শুরু হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে। শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা স্থগিত নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ম্যানহাটনের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট জজ জেনেট ভার্গাসের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, ৭৫ দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু বন্ধ করার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালত আরও বলেছে, এই নীতি ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা এসব দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রসেসিং কার্যত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে যায়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছিল। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সেটিকে নীতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এই নীতির বিরুদ্ধে ক্যাথলিক লিগাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক, ইএনসি ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভিসা আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলাটির নাম ক্লিনিক বনাম রুবিও। শুক্রবারের রায়ে আদালত শুধু ৭৫ দেশের ওপর ভিসা স্থগিতের নীতিই বাতিল করেনি, এই নীতির ভিত্তিতে যেসব ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টকে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভিসা আবেদনগুলো আবার আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে, অর্থাৎ কেস -বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে ৭৫ দেশের সব আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের অন্যান্য সব ইমিগ্রেশন ও ভিসা সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করবেন। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, অথবা রায় স্থগিত রাখার জন্য উচ্চ আদালতের কাছে আবেদন করবে কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে ভিসা ইস্যু কত দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে। শুক্রবারের রায়ের পর শনিবার সকাল পর্যন্ত স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু এখনই শুরু হয়েছে বলা যাচ্ছে না। মামলাটির বাদীপক্ষের আইনজীবী ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল জানিয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে ৭৫ দেশের আবেদনকারীদের জন্য আবার আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে ভিসা আবেদন পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ইন্টারভিউ দিয়েছেন, ভিসা ইস্যুর অপেক্ষায় রয়েছেন অথবা শুধুমাত্র ৭৫ দেশের স্থগিত নীতির কারণে ভিসা পাননি, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের এখনই নতুন করে আবেদন করার আগে বা কোনো অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজেদের কেসের সর্বশেষ স্ট্যাটাস এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের রায় কার্যকর করার বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এলে তখন স্পষ্ট হবে কোন আবেদন কীভাবে আবার প্রসেস করা হবে।
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। আজ শুক্রবার, ২১ আগস্ট, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেনেট এ. ভার্গাস সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরের ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করা হয়েছে। মামলাটি কয়েকটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন, অভিবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে করা হয়। মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর ঘোষণা এবং পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতির আওতায় বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়। আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকার দিতে পারলেও ভিসা ইস্যু করা বন্ধ রাখা হয়েছিল। মার্কিন সরকারের যুক্তি ছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশও ওই ৭৫ দেশের তালিকায় রয়েছে। শুক্রবারের রায়ে বিচারক ভার্গাস পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সামগ্রিক নীতিকে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করেন। আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো, শুধু কোনো দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে একজন আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা আটকে রাখা যাবে না। আইনের অধীনে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়নের যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি অনুসরণ করতে হবে। আদালত প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে পুরো নীতিটি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার মূল নীতির ওপরই সরাসরি প্রভাব পড়েছে। মামলায় বাদীপক্ষের অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল, কংগ্রেসের তৈরি অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন কনস্যুলার কর্মকর্তাদের পৃথকভাবে ভিসা আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু ৭৫ দেশের জন্য জারি করা নীতিতে কর্মকর্তাদের সেই ব্যক্তিগত মূল্যায়নের সুযোগ কার্যত সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। আদালত সরকারের এই পদ্ধতিকে আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার বিষয় হিসেবে দেখেছেন। এর আগে একই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে অন্য ফেডারেল আদালতেও মামলা হয়। ৩১ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যামিট পি. মেহতা ব্রাজিলের নাগরিক নিউটন দে মোরাউ গোমেস ও তার পরিবারের মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই রায়ে মূলত ওই পরিবারের আবেদন ব্যক্তিগতভাবে পুনরায় মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৭৫ দেশের পুরো নীতি বাতিল করা হয়নি। আজকের নিউইয়র্কের রায়টি সে কারণে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু একজন বা একটি পরিবারের ভিসা আবেদন নিয়ে নয়, বরং ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর প্রয়োগ করা পুরো ভিসা স্থগিত নীতির বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে এবং নীতিটি বাতিল করার আদেশ দিয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকায় অনেক পরিবার, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তবে আদালতের রায়কে এমন অর্থে নেওয়া ঠিক হবে না যে আজই প্রত্যেক বাংলাদেশি আবেদনকারীর হাতে ভিসা চলে আসবে। নীতি বাতিল হলেও প্রত্যেক আবেদনকারীর ভিসা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কোনো আবেদনকারীর অন্য কোনো আইনগত অযোগ্যতা থাকলে সেটিও কর্মকর্তারা পৃথকভাবে বিবেচনা করতে পারবেন। এ ছাড়া মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে রায়ের পর ভিসা প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে এগোবে, আগে স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলো কীভাবে পুনরায় বিবেচনা করা হবে এবং দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো কখন স্বাভাবিকভাবে ভিসা ইস্যু শুরু করবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য তাই শুক্রবারের রায়টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হলেও, সব আবেদনকারীর ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে ইস্যু হবে এমন নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি। পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম এবং মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের ওপর এর বাস্তব প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে।
গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স বা আইএসএফ গঠনে ২০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় ফোর্সটি কবে গাজায় মোতায়েন হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৩০ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসকে অর্থায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। এর মধ্যে আইএসএফের সরঞ্জাম, অবকাঠামো, যানবাহন ও অপারেশনাল খরচের জন্য ২০ কোটি ডলার রাখা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৬৩ লাখ ডলার ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার এই ফোর্সের কাজে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাস করা হবে। রয়টার্সের হাতে আসা কংগ্রেশনাল নোটিফিকেশন অনুযায়ী, গাজায় আইএসএফ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন সামগ্রী নিরাপদে পৌঁছাতে ভূমিকা রাখবে। ফোর্সটির চূড়ান্ত কাঠামো ও সদস্যসংখ্যা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তার ২১ দফা শান্তি পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আইএসএফ ওই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফোর্সকে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া আইএসএফে সেনা পাঠাতে সম্মতি জানিয়েছে। মিসর ও জর্ডান ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ফোর্সটি কবে গাজায় প্রবেশ করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। এরই মধ্যে পরিকল্পনাটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জুলাইয়ের শেষ দিকে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের একটি রোডম্যাপ সামনে আনলেও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। অন্যদিকে হামাসও পরিকল্পনাটিতে সম্মতির কথা বললেও ইসরায়েলকে আগে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে। এই অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার চলতি সপ্তাহে হামাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিসরে এবং পরে ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে জেরুজালেমে বৈঠক করেছেন। তবে এসব বৈঠকে মূল বিরোধগুলোর কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও জানিয়েছে, গাজায় আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স প্রবেশের জন্য এখনো ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কোনো অনুমোদন দেয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থায়নের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিলেও এর বাস্তবায়ন এখনো নির্ভর করছে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে সমঝোতার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসীদের জন্য কিছু ফেরতযোগ্য কর সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট চার ধরনের কর ক্রেডিট থেকে করের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন যোগ্যতা না থাকা অভিবাসীরা। তবে তাঁরা নিজেদের বকেয়া আয়কর কমানোর জন্য এসব কর ক্রেডিটের মূল অংশ ব্যবহার করতে পারবেন। বুধবার প্রকাশিত প্রস্তাবিত বিধিমালায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) বলেছে, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল কল্যাণ আইন অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ নন এমন ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ওপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তার আওতায় ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশও পড়বে। প্রস্তাবটি এখন জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামতের জন্য উন্মুক্ত। নতুন প্রস্তাবটি চার ধরনের কর ক্রেডিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিট, শিশু কর ক্রেডিট, আমেরিকান অপরচুনিটি কর ক্রেডিট এবং অর্জিত আয় কর ক্রেডিট। এই কর ক্রেডিটগুলোর বিশেষত্ব হলো, এগুলো ফেরতযোগ্য। অর্থাৎ কোনো করদাতার পাওনা করের পরিমাণের চেয়ে ক্রেডিট বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ সাধারণত কর ফেরত হিসেবে পাওয়া যায়। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে অননুমোদিত অভিবাসীরা তাঁদের করের দায় কমানোর জন্য ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারলেও অতিরিক্ত অংশ নগদ ফেরত হিসেবে পাবেন না। অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ পেতে হলে করদাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা ১৯৯৬ সালের আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ হতে হবে। কর ক্রেডিট প্রথমবার দাবি করার সময় এই যোগ্যতা থাকতে হবে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের সুবিধায় ব্যবহার করা উচিত নয়, যাঁরা ফেডারেল আইনের অধীনে ওই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আইআরএস কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানোও বলেছেন, নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ফেডারেল অর্থায়নে দেওয়া সুবিধা কেবল যোগ্য করদাতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আইআরএসের হিসাবে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে সরকারের বছরে সর্বোচ্চ ২.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তবে এই হিসাব প্রস্তাবিত নিয়মের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, নিশ্চিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়। এই উদ্যোগের পেছনে ১৯৯৬ সালের ‘পার্সোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট’ বা কল্যাণ সংস্কার আইনকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই আইনে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের জন্য যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। তবে কয়েক দশক ধরে কর ক্রেডিটকে ওই আইনের আওতায় সরাসরি ‘সরকারি সুবিধা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনের ব্যাখ্যা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। নতুন প্রস্তাবের যুক্তি হলো, কোনো কর ক্রেডিট শুধু করের দায় কমিয়ে দিলে সেটি এক বিষয়, কিন্তু করের দায়ের অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে সরাসরি ফেরত দেওয়া হলে সেটি সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অবশ্য সব ধরনের অভিবাসন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক বছরের জন্য বিশেষ ‘প্যারোল’ মর্যাদায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কিছু ব্যক্তিকে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিটি কর ক্রেডিটের নিজস্ব আয়সীমা ও অর্থ পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেরতযোগ্য। আবার শিশু কর ক্রেডিট ও অর্জিত আয় কর ক্রেডিট মূলত নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা পরিবার ও কর্মজীবীদের করের বোঝা কমাতে সহায়তা করে। আইআরএসের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, কোনো দম্পতি যৌথভাবে কর বিবরণী জমা দিলে তাঁদের মধ্যে একজন সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের যোগ্য হলেই ফেরতযোগ্য অংশ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। অর্থাৎ যৌথ কর বিবরণীর ক্ষেত্রে উভয় ব্যক্তির একই ধরনের যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে নতুন বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা শেষে ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস প্রস্তাবটি পরিবর্তন, চূড়ান্ত বা প্রত্যাহার করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের একটি নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ। ওই নির্দেশনায় ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ১৯৯৬ সালের কল্যাণ সংস্কার আইনের বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ট্রেজারি বিভাগ বিচার বিভাগের আইন পরামর্শ দপ্তরের কাছে ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশ ওই আইনের আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে মতামত চায়। প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইন পরামর্শ দপ্তর মত দিয়েছে যে কর ক্রেডিটের যে অংশ করদাতাকে নগদ অর্থ হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়, সেটি সরকারি সুবিধার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। নতুন নিয়মটি অবশ্য ওবামা প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ‘ওবামাকেয়ার’-এর প্রিমিয়াম কর ক্রেডিটে প্রযোজ্য হবে না। ট্রেজারি ও আইআরএস জানিয়েছে, ওই কর সুবিধা নিয়ে ইতোমধ্যেই পৃথক আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। একইভাবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য চালু হওয়া নতুন ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ এবং যোগ্য শিশুদের জন্য নির্ধারিত এককালীন ১ হাজার ডলারের অর্থও এই প্রস্তাবের আওতায় পড়বে না। কারণ এসব সুবিধা আইন অনুযায়ী শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। তবে প্রস্তাবিত বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় বাস্তবে কখন থেকে এর প্রভাব পড়বে এবং কোন কোন করদাতা ঠিক কতটা সুবিধা হারাবেন, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন ফি পরিবর্তনের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নতুন প্রস্তাব সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা পার করেছে। এর ফলে প্রস্তাবটি জনসমক্ষে প্রকাশের আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছে গেল, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই প্রস্তাবটি গত বুধবার অফিস অব ইনফরমেশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। প্রস্তাবটির কোড নম্বর হলো 'আরআইএন ১৬১৫-এডি২০' এবং এটি খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে। এইচ-১বি ভিসার ফি সংক্রান্ত এই নতুন প্রস্তাবে ঠিক কত টাকা ফি বাড়ানো হবে, কোন ধরনের নিয়োগকর্তা বা আবেদনকারীরা এর আওতায় পড়বেন এবং এটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে এই প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউস থেকে ছাড়পত্র পেলেও এখনই কোনো নতুন ফি কার্যকর হচ্ছে না। যেকোনো নতুন নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার আগে প্রস্তাবটিকে অবশ্যই ফেডারেল স্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হতে হবে এবং অংশীজনদের মতামত নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই নতুন প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট কিছু এইচ-১বি কর্মীর ওপর ১ লাখ ডলারের বিপুল ফি আরোপ করেছিল প্রশাসন। নতুন এই প্রস্তাব ছাড়াও এইচ-১বি কর্মসূচিতে আরও কিছু বড় পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ভিসার যোগ্যতা যাচাই, নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগকর্তাদের ওপর কঠোর নজরদারি এবং থার্ড-পার্টি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে তদারকি বাড়ানোর প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে। মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কাজের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবেই ভারতীয় নাগরিকদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। তাই আবেদন ফি বা অন্যান্য খরচ বাড়লে তা সরাসরি সেসব কোম্পানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যারা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের স্পনসর করে থাকে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেও মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি পরিবর্তন করেছিল। বর্তমানে এইচ-১বি কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, নতুন এই প্রস্তাবিত ফি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। তবে এই উদ্যোগ স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি পেশাজীবী ও তাদের স্পনসর করা কোম্পানিগুলোকে আরও কঠোর নিয়ম এবং অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার কার্যক্রম নিয়ে আবারও কঠোর বার্তা দিয়েছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের জন্য আজ দারুণ একটি দিন। সুপ্রভাত, আমেরিকা।” পোস্টের সঙ্গে একটি ছবিও প্রকাশ করেন মুলিন। ছবিতে রাতের বেলায় একটি বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সারিবদ্ধভাবে একটি বিমানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের অনেকের পরনে একই ধরনের সাদা পোশাক। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের বহিষ্কার কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই পোস্টের প্রেক্ষাপট থেকে প্রতীয়মান হয়। তবে পোস্টে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি, ছবিটি কোন বিমানবন্দরে তোলা বা ওই ফ্লাইটে থাকা ব্যক্তিরা কোন দেশের নাগরিক। মার্কওয়েন মুলিন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ২০২৬ সালের মার্চে সিনেটের অনুমোদনের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি ওকলাহোমার রিপাবলিকান সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ এবং বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মুলিনও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইসহ বিভিন্ন সংস্থা এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন দেশের নাগরিককে বহিষ্কারের খবর সামনে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আইনগত ভিত্তি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। মুলিনের সর্বশেষ পোস্টটি এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন বলছে, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও সমালোচকেরা বহিষ্কার অভিযান, আটক এবং আইন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। ফলে মুলিনের প্রকাশ্য বক্তব্যটি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতি তার সমর্থনের আরেকটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে।
অবৈধ অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিদের ফেরতযোগ্য ট্যাক্স সুবিধা পাওয়া বন্ধ করতে নতুন বিধির প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ১৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ এই প্রস্তাব প্রকাশ করে। এতে চার ধরনের ব্যক্তিগত আয়কর সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতা স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধির আওতায় রয়েছে দত্তক ট্যাক্স সুবিধা, শিশু ট্যাক্স সুবিধা, আমেরিকান শিক্ষা ট্যাক্স সুবিধা এবং অর্জিত আয় ট্যাক্স সুবিধা। এসব সুবিধা ফেরতযোগ্য হওয়ায় কোনো করদাতার প্রাপ্য ট্যাক্স সুবিধা তার ফেডারেল ট্যাক্সের দায়ের চেয়ে বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে ফেরত পাওয়া যায়। নতুন বিধিতে এই ফেরতযোগ্য অংশকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় এবং আইনে নির্ধারিত যোগ্য অ-নাগরিকরা এসব ট্যাক্স সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। যোগ্য অ-নাগরিকদের মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং ১৯৯৬ সালের আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শ্রেণির মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন বিধি কার্যকর হলে অবৈধ অভিবাসী ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিরা মার্কিন ট্যাক্সদাতাদের অর্থে অর্থায়িত এসব ট্যাক্স সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ পেতে পারবেন না। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, আইনের কারণে যারা এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের জন্য মার্কিন ট্যাক্সদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বিধি ১৯৯৬ সালের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও কর্মসংস্থান সুযোগ পুনর্মিলন আইনের প্রয়োগ আরও জোরদার করবে। ওই আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও যোগ্য অ-নাগরিকদের ফেডারেল সরকারি সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট যোগ্যতার নিয়ম রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত বিধি পুরো ট্যাক্স সুবিধা বাতিল করছে না। যারা ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্য নন, তারা এসব ট্যাক্স সুবিধা ব্যবহার করে নিজেদের ফেডারেল আয়কর দায় কমাতে পারবেন। অর্থাৎ বিধিটির মূল লক্ষ্য ফেরতযোগ্য অংশ পাওয়ার যোগ্যতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা। নতুন বিধি চূড়ান্ত হওয়ার পর যেসব করবর্ষ শেষ হবে, সেই করবর্ষগুলোতে এর প্রয়োগ করা হবে। প্রস্তাবিত বিধি নিয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে এবং ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিধির কারণে প্রায় ২ লাখ থেকে ৭ লাখ ট্যাক্সদাতা ফেরতযোগ্য ট্যাক্স সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন। তবে সংস্থা দুটি জানিয়েছে, বিধির কারণে ট্যাক্সদাতাদের অর্থ থেকে ঠিক কতটা সাশ্রয় হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় তথ্য তাদের কাছে নেই। সরকারের অনুমান, প্রস্তাবিত বিধির আওতায় অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত ট্যাক্স সুবিধার পরিমাণ প্রায় ৭০ কোটি থেকে ২৬০ কোটি ডলার হতে পারে। এই হিসাব সম্ভাব্য অযোগ্য ট্যাক্স সুবিধার পরিমাণ নিয়ে সরকারের অনুমান, চূড়ান্ত সাশ্রয়ের হিসাব নয়। এই প্রস্তাবের সঙ্গে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশেরও সম্পর্ক রয়েছে। ওই আদেশে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এমন কর্মসূচি শনাক্ত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ফেডারেল সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সমর্থনে এগিয়ে নেওয়া একটি প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবর্তনটি কার্যকর হলে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পাওয়া প্রায় ৪ লাখ নিম্নআয়ের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাসিক সহায়তা কমে যেতে পারে, এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ডাউন সিনড্রোম, ডিমেনশিয়া ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী মানুষও রয়েছেন। বিষয়টি সামনে এসেছে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে পরিবারের কেউ সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ সুবিধা পান কি না, সেই বিষয়টি। এসএসআই মূলত বয়স্ক, অন্ধ ও প্রতিবন্ধী নিম্নআয়ের মানুষকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি ফেডারেল কর্মসূচি। বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ পাওয়া পরিবারের সদস্যের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাসকারী এসএসআই গ্রহীতারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষা পাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মে স্ন্যাপকে ‘পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ড’ নির্ধারণের তালিকায় যুক্ত করা হয়। একই পরিবারের অন্তত একজন এসএসআই আবেদনকারী বা গ্রহীতা এবং অন্য একজন সদস্য নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তা পেলে পরিবারটি এই শ্রেণির আওতায় পড়তে পারে। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা খাবার বা থাকার খরচে সহায়তা করলেও সেই সহায়তাকে আগের মতো এসএসআই গ্রহীতার আয় হিসেবে গণনা করার প্রয়োজন হয় না। এসএসএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল নিয়ম সহজ করা, নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং কিছু ক্ষেত্রে এসএসআই সুবিধা বাড়ানো। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সেই পরিবর্তনটি উল্টে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এসএসএ স্ন্যাপকে পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার এবং পুরোনো নিয়মে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব রেখেছে। পুরোনো ব্যবস্থায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে নির্দিষ্ট সরকারি আয় সহায়তা পেতে হতো, তবেই পরিবারটি এই বিশেষ শ্রেণিতে পড়ত। এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষ করে এমন পরিবারে পড়তে পারে, যেখানে প্রতিবন্ধী কোনো সন্তান বা বয়স্ক স্বজন এসএসআই পান, কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা স্ন্যাপ সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। প্রোপাবলিকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৪ লাখ মানুষের এসএসআই সুবিধা কমে যেতে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এসএসআইয়ের নিয়মে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া খাবার বা থাকার সহায়তা সাধারণত ‘ইন কাইন্ড সাপোর্ট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং তা সুবিধার পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ২০২৪ সালের সংস্কারের পর খাবার আর এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এসএসএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অন্য কেউ ভাড়া, মর্টগেজ বা ইউটিলিটি বিলের মতো থাকার খরচে সহায়তা করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসএসআই পেমেন্ট কমতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সমালোচকেরা বলছেন, একই পরিবারের সদস্যরা যখন নিজেদের জীবনযাপন চালাতেই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তখন তাদের সহায়তাকে এসএসআই গ্রহীতার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী তরুণ এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। এসএসএর নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এটিকে প্রস্তাবিত নিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি কীভাবে চূড়ান্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত এসএসআই গ্রহীতাদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এদিকে এসএসএর বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ সুবিধা এখনও পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের একটি স্বীকৃত কর্মসূচি হিসেবে রয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য এসএসআই গ্রহীতারা এই সুরক্ষা পেতে থাকবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতে একসঙ্গে শত শত মানুষের শুনানি নেওয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের নোটিশে এসব শুনানির তারিখ নির্ধারণ বা পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির হতে না পারলে অনেক অভিবাসীর বিরুদ্ধে তাদের অনুপস্থিতিতেই বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হচ্ছে। এই বড় আকারের শুনানিগুলোকে ‘মেগা মাস্টার’ শুনানি বলা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব শুনানিতে ১০০ থেকে ২০০টি মামলা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। একেকটি শুনানিতে মোট প্রায় ১৫০ জনকে তালিকাভুক্ত করা হতে পারে। আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষকে একই শুনানিতে রাখা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নোটিশও অল্প সময় আগে দেওয়া হচ্ছে। এসব শুনানির নোটিশ দেওয়া হলেও অনেক সময় তা ইংরেজিতে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে পাঠানো হচ্ছে। ফলে আইনজীবী না থাকা অভিবাসীদের জন্য শুনানির প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ শুনানিতে হাজির না হলে আদালত তার অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দিতে পারে। পরে এমন আদেশের কারণে ওই ব্যক্তি অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। প্রতিবেদনে গবেষকদের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনে আটক না থাকা অভিবাসীদের মাস্টার শুনানিতে হাজির না হওয়ার সংখ্যা ২০২৪ সালের জুনের তুলনায় ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে অনুপস্থিতিতে দেওয়া বহিষ্কারের আদেশ বেড়েছে ১৮৩ দশমিক ৬ শতাংশ। জুন মাসে বিচারকেরা মোট ৫৩ হাজার ৮০৮টি অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি আদেশ এসেছে এমন মাস্টার শুনানি থেকে, যেখানে একসঙ্গে ১০০ বা তার বেশি মানুষের মামলা রাখা হয়েছিল। এসব শুনানিতে নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল ৪৫ দিন বা তার কম। নিউইয়র্কের একটি শুনানির উদাহরণও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ২৭ মে ৭৩ জনের একটি শুনানিতে নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল ১৬৯ দিন এবং সাতটি অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। ২৫ জুন ৯৫ জনের আরেকটি শুনানিতে নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল মাত্র ২৪ দিন। ওই শুনানিতে তিন-চতুর্থাংশের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। কানসাস সিটিতেও একই ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। একটি শুনানিতে ৯৩ জনের মামলার ক্ষেত্রে শুনানির তারিখ পরিবর্তনের খবর পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় ছিল। সেখানে ৫৬টি অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়। অন্য একটি শুনানিতে ৯৬ জনের জন্য নোটিশ পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় ছিল ১৯৬ দিন। সেখানে এমন আদেশ দেওয়া হয় নয়টি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসীদের শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার পেছনে নোটিশ না পাওয়া এবং ভয় অন্যতম কারণ। সাবেক এক অভিবাসন বিচারক জানিয়েছেন, অতীতে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য সময়মতো নথিভুক্ত না হওয়া বা নোটিশ সঠিক ঠিকানায় না পৌঁছানোর ঘটনাও ঘটেছে। ফলে কেউ কেউ শুনানির তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে না পেরেই অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। অভিবাসন আদালত চত্বরে গ্রেপ্তারের ঘটনাও অনেকের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। গত বছর আদালতের ভেতর ও আশপাশে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে একটি ফেডারেল বিচারক আদালতে এ ধরনের গ্রেপ্তার নীতিতে বাধা দেন। তবে এর প্রভাব অভিবাসীদের মধ্যে ভয় ও অবিশ্বাস তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতের দায়িত্বে থাকা সংস্থা জানিয়েছে, মামলাগুলো দ্রুত শেষ করা এবং দীর্ঘসূত্রতা কমানো তাদের অগ্রাধিকার। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, সময়মতো ও আইনসম্মতভাবে সব মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী শুনানির সময়সূচিতে পরিবর্তন করা হচ্ছে। তবে অভিবাসন আইনজীবী ও সাবেক বিচারকদের কেউ কেউ বলছেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মামলা নেওয়া এবং অল্প নোটিশে শুনানির তারিখ দেওয়ার ফলে অভিবাসীদের নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ কমে যাচ্ছে। আইনজীবী না থাকা ব্যক্তিদের জন্য অল্প সময়ে আইনি সহায়তা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুনে সব ধরনের শুনানি মিলিয়ে শেষ হওয়া মামলার ২ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে অভিবাসীরা আশ্রয় বা আদালতের মাধ্যমে অন্য কোনো বৈধ পথ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। একই সময়ে শতাধিক অভিবাসন বিচারক চাকরি হারিয়েছেন, পদত্যাগ করেছেন বা অবসর নিয়েছেন। তবে সব শুনানিতে একই ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি। সান আন্তোনিওর একটি শুনানিতে একজন বিচারক একজন ব্যক্তির যথাযথ নোটিশ না পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেন। আরেকজন শিশু হওয়ায় তাকে আলাদা শিশুদের শুনানির তালিকায় পাঠানো হয়, যাতে সে দ্বিতীয়বার সুযোগ পায়। এরপরও ওই দিনের শুনানি শেষে বিচারক ২৬টি নতুন অনুপস্থিতিতে বহিষ্কারের আদেশ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ কাউন্টিতে গাড়ি থামিয়ে এক অভিবাসী দম্পতিকে আটক করেছে মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনী। পুরো ঘটনাটি ঘটে তাদের পাঁচ সন্তানের সামনেই। বাবা-মাকে নিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ১৮ বছর বয়সী মেয়েটিকে এখন একাই ১৬ থেকে ৩ বছর বয়সী চার ভাইবোনের দেখভালের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ডব্লিউএলআরএনের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত রোববার লেক ওয়ার্থ বিচ এলাকায়। পরিবারটির বড় মেয়ে ওয়েন্ডি ডোমিঙ্গো, যিনি জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, জানান, আগের দিনই তিনি ১৮ বছরে পা রেখেছিলেন। সেদিন সকালে পরিবারের সবাই গির্জায় যান। পরে স্কুল খোলার আগে ছোট ভাইবোনদের জন্য জুতা কিনতে একসঙ্গে বের হন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ওয়েন্ডি। তার বাবা আব্রাহাম ডোমিঙ্গো ও মা মারিয়া লেইভা ছিলেন যাত্রী। মিলিটারি ট্রেইল সড়কে হ্যাভারহিল এলাকার কাছে পৌঁছালে মার্কিন সীমান্ত টহল বাহিনীর সদস্যরা তাদের গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। ওয়েন্ডি বলেন, জীবনে কখনও ভাবেননি যে একই সময়ে তার বাবা ও মাকে নিয়ে যাওয়া হবে। তার ভাষায়, "আমি এখন চার ভাইবোনের দায়িত্বে। আমাদের একেবারে একা রেখে গেছে।" ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, ছোট ভাইবোনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েছে এবং বাবা-মা সন্তানদের জড়িয়ে ধরে বিদায় জানাচ্ছেন। ভিডিওতে এক কর্মকর্তাকে স্প্যানিশ ভাষায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। আরেক কর্মকর্তা ওয়েন্ডিকে ইংরেজিতে জানান, গাড়ির নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী এটি একজন 'নন-সিটিজেন'-এর নামে নিবন্ধিত। গাড়িটি ওয়েন্ডির বাবার নামে নিবন্ধিত ছিল। ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত টহল বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানায়, ওই দম্পতি আইন ভঙ্গ করেছেন। সংস্থাটির ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের আইন ভঙ্গের সিদ্ধান্ত তারাই নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তের পরিণতির দায়ও তাদেরই, যেমন কোনো মার্কিন নাগরিক অপরাধ করে কারাগারে গেলে তার সন্তানদের ওপরও প্রভাব পড়ে। ডিএইচএস জানায়, আব্রাহাম ডোমিঙ্গোর বিরুদ্ধে আগে গার্হস্থ্য সহিংসতার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে পাম বিচ কাউন্টির আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আনা সেই অভিযোগ পরে প্রসিকিউটররা প্রত্যাহার করেন। গার্হস্থ্য সহিংসতা বিষয়ক একটি কোর্স সম্পন্ন এবং মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের পর তিনি প্রবেশন পান। অন্যদিকে মারিয়া লেইভার আশ্রয় আবেদন-সংক্রান্ত আপিল একটি ফেডারেল আদালত খারিজ করে দিয়েছিল। আদালত তার যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশও বহাল রাখে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোমিঙ্গো ও লেইভা প্রায় ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে তাদের সন্তানদের ওপর। ওয়েন্ডি জানান, বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক সব সময় ভালো ছিল না। তবে গত এক বছরে তাদের সম্পর্ক অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। চলতি বছরের বসন্তে লেক ওয়ার্থ কমিউনিটি হাই স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি প্রথমে একটি রেস্তোরাঁয় এবং পরে একটি হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে কাজ শুরু করেন। একই সঙ্গে পাম বিচ স্টেট কলেজে আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি বিষয়ে পড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ জন্য তিনি আর্থিক সহায়তাও পেয়েছিলেন। কিন্তু বাবা-মা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে যাওয়ার পর সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিবারের খরচ চালাতে তাকে দুটি চাকরি করতে হতে পারে। ফলে কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। ওয়েন্ডি বলেন, তার পরিবারের মতো আরও অনেক পরিবার একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার অভিযোগ, "আমেরিকাকে আবার মহান করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এতে আমাদের মতো মানুষের স্বপ্নই ভেঙে যাচ্ছে।" প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, চলতি ও আগামী অর্থবছরে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কংগ্রেস অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগকে চার বছরে ১৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। এই নীতির প্রভাব দক্ষিণ ফ্লোরিডাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু অভিবাসী পরিবারের ওপর পড়ছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর কাজে ফিরেছিলেন মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত ব্যস্ত দায়িত্ব আর দুই ছোট সন্তানের মা হিসেবে নিজের ভূমিকা একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ায় এবার পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। আগস্টের শেষ দিকে তিনি হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছাড়বেন বলে বুধবার জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৮ বছর বয়সী লেভিট হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি এই পদে ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবেও দ্রুত উঠে আসেন তিনি। লেভিট জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি তার জন্য সহজ ছিল না। গত মে মাসে দ্বিতীয় সন্তান কন্যা ভিভিয়ানার জন্মের পর মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসে ফেরেন। কিন্তু কাজে ফেরার পরই পেশাগত দায়িত্ব এবং সন্তানদের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে লেভিট বলেন, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনে প্রতিনিয়ত বিপুল সময়, শক্তি ও মনোযোগ দিতে হয়। একই সঙ্গে তিনি অনুভব করছেন, দুই ছোট সন্তানকে একজন মা হিসেবে যে সময় ও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, বর্তমান দায়িত্বে থেকে তা পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত এ কারণেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। লেভিট ও তার স্বামী নিকোলাস রিচিওর দুই সন্তান। তাদের ছেলে নিকোর জন্ম ২০২৪ সালে। চলতি বছরের ১ মে জন্ম নেয় মেয়ে ভিভিয়ানা। মেয়ের জন্মের পর কিছুদিন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ছিলেন লেভিট। পরে জুনে তিনি কাজে ফিরতে শুরু করেন এবং জুলাইয়ে আবার হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিংয়ে নিয়মিত উপস্থিত হন। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেভিট এর আগেও পরিবার ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন। কাজে ফেরার পর এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সকালের অনুষ্ঠানের আগে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে তার স্বামী রাতে নবজাতক মেয়ের দেখাশোনা করেছিলেন। তখন স্বামীর সহযোগিতার প্রশংসাও করেছিলেন তিনি। লেভিটের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প তাকে নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব ছাড়লেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয় থেকে সরে যাচ্ছেন না লেভিট। তিনি ট্রাম্পের শীর্ষ বাইরের উপদেষ্টাদের একজন হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচনেও তার ভূমিকা থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার আগে লেভিট ট্রাম্পের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে কাজ করেছিলেন। পরে নিউইয়র্কের রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান এলিস স্টেফানিকের কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর হন। ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেস নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় লেভিটের বয়স ছিল ২৭ বছর। এর মধ্য দিয়ে তিনি হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে এই দায়িত্ব নেওয়ার রেকর্ড গড়েন। প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং টেলিভিশনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার কারণে তিনি দ্রুত জাতীয়ভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। লেভিট দায়িত্ব ছাড়ার পর কে নতুন প্রেস সেক্রেটারি হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেননি ট্রাম্প। ফলে আগস্টের শেষে তার বিদায়ের আগে হোয়াইট হাউস নতুন মুখের নাম ঘোষণা করে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। পদ ছাড়লেও লেভিটের রাজনৈতিক অধ্যায় অবশ্য শেষ হচ্ছে না। আপাতত হোয়াইট হাউসের প্রতিদিনের ব্যস্ততা থেকে সরে দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন তিনি। একই সঙ্গে বাইরে থেকে ট্রাম্পের উপদেষ্টা হিসেবে রাজনীতিতেও সক্রিয় থাকবেন।
জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন একটি ‘বার্থ ট্যুরিজম প্রিভেনশন টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত অভিযানে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬০০টির বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পররাষ্ট্র দপ্তর, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্থায়ী ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্বের সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা রোধ করাই এই টাস্কফোর্সের মূল লক্ষ্য। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব কোনো পণ্য নয়, যা অভিবাসন আইনকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে অর্জন করা যাবে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নতুন টাস্কফোর্স বিশ্বজুড়ে ভিসাধারীদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করছে। কোথাও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসার অপব্যবহারের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা বাতিল, জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের ৬০০টির বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যা, কোনো ব্যক্তি ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সাধারণত তার ভিসা বাতিল করা হয়। এ ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্তৃত আইনি ক্ষমতা রয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন সেই ক্ষমতা প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বকে কেন্দ্র করে একটি লাভজনক ব্যবসা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের ডুলা, ধাত্রী, মাতৃত্বসেবা পরামর্শক বা স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্যাকেজ, ভিসা পরামর্শ এবং হাসপাতালের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, এসব নেটওয়ার্কের কেউ কেউ চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি জাল করে, আবার কেউ ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করার কৌশল শেখায়। অনলাইন বিজ্ঞাপনে "স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব" এবং "সীমানাহীন ভবিষ্যৎ"–এর মতো বার্তা ব্যবহার করে গ্রাহক আকৃষ্ট করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে কয়েকটি উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এক দম্পতি সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও ছুটিতে কেনাকাটার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দুই সন্তানের জন্ম দেন। দুটি পৃথক ভিসা আবেদনে তারা ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করেন এবং দ্বিতীয়বার আগের সন্তানের তথ্যও প্রকাশ করেননি। পরে তাদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আরেক ঘটনায়, একটি বিদেশি সরকারের এক কর্মকর্তা সরকারি সফরের জন্য এক সপ্তাহের ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। কিন্তু তিনি তিন মাস অবস্থান করে সেখানে সন্তান জন্ম দেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তার ভিসাও বাতিল করা হয়। এ ছাড়া আরেক ভ্রমণকারী অরল্যান্ডোতে ছুটি কাটানোর কথা জানিয়ে ভিসা নিলেও পরে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পাঁচ দিনের মাথায় সন্তান জন্ম দেন। তদন্ত শেষে তার ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বা ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেন, তারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বা দেশটিতে প্রবেশের অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। একই সঙ্গে যারা এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা করেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন এই টাস্কফোর্স গঠন সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন অভিবাসনবিষয়ক বিশ্লেষকরা। তবে অভিবাসন অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেন বৈধ ভ্রমণকারী বা গর্ভবতী নারীরা অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাবা-মা বা অভিভাবক ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে আসা অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য ১৫ কোটি ডলারের একটি ফেডারেল চুক্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আইন প্রতিষ্ঠান। ফলে হাজারো অভিবাসী শিশুর ভবিষ্যৎ আইনি প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনভিত্তিক বার্ক ল' গ্রুপকে এই চুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিষ্ঠানটির অভিবাসন আইন নিয়ে অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত হলেও গত সপ্তাহে তাদের কাছে প্রায় ১৫ কোটি ডলারের চুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তর (অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট) জানায়, বার্ক ল' গ্রুপ চুক্তির জন্য আবেদন করতেই রাজি হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে কোনো অনুদান বা চুক্তিও দেওয়া হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বার্ক ল' গ্রুপ সামাজিক মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে জানায়, তারা চুক্তির একটি "ছোট অংশ" নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কেন তারা সরে দাঁড়িয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। বার্ক ল' গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মার্সেলা বার্ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আরও কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও রক্ষণশীল আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত রয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান জোরদার করছে। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শেষ দিকে অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়া প্রায় ১০০টি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নতুন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় শিশুদের আইনি সহায়তা ব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বর্তমানে একটি অস্থায়ী সংস্থা সীমিত সময়ের জন্য এসব শিশুর পক্ষে আদালতে আইনি প্রতিনিধিত্ব করছে। তবে তাদের চুক্তির মেয়াদও চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর কী হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বাবা-মা ছাড়া দেশে প্রবেশ করা শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। ২০০৮ সালের 'ট্র্যাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথরাইজেশন অ্যাক্ট' অনুযায়ী, বহিষ্কার-সংক্রান্ত মামলায় এসব শিশুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিশু ফেডারেল আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২২ হাজার শিশু, যারা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছে, তারা আত্মীয়স্বজন বা অন্যান্য স্পনসরের কাছে অবস্থান করছে এবং তাদেরও আইনি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। বার্ক ল' গ্রুপে ৩০ জনেরও কম আইনজীবী রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের মধ্যে মাত্র দুজনের অভিবাসন আইন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এত বড় দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। এদিকে বছরের শেষ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে ২ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছে 'ইউএস কমিটি ফর রিফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টস' (ইউএসসিআরআই)। তবে গত সপ্তাহে এই সংস্থার আইনজীবীরা অনেক ক্ষেত্রে যেসব শিশুর সঙ্গে এখনো দেখা করেননি, তাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি নিয়ে আদালতে হাজির হলে বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অন্যদিকে, যেসব আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, গত বছর থেকে কয়েক মাসের বিল সরকার পরিশোধ করেনি। গত ৬ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত সরকারকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। আকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের যোগাযোগ পরিচালক বিলাল আসকারইয়ার জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যে বকেয়া নয় মাসের মধ্যে ছয় মাসের অর্থ পরিশোধ শুরু করেছে এবং বাকি অর্থও পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে। আইনজীবীদের দাবি, একটি শিশু যাকে দীর্ঘদিন ধরে একজন আইনজীবী প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাকে হঠাৎ করে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা নৈতিক ও বাস্তবিক উভয় দিক থেকেই জটিল। তাই স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত হাজারো অভিবাসী শিশুর আইনি সুরক্ষা অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচি 'টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস' (টিপিএস) ১৩টি দেশের জন্য বাতিল বা বাতিলের প্রক্রিয়ায় নেওয়ায় প্রায় ১০ লাখ ৪৫ হাজার অভিবাসী সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। এর ফলে বহু মানুষ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ টিপিএস সুবিধার আওতায় ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের এই সুরক্ষা শেষ হয়ে যাচ্ছে বা শেষ হওয়ার পথে। টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানবিক কর্মসূচি, যা ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে চালু হয়। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো গুরুতর সংকটে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়া সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার এবং কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই অনুমোদনের মেয়াদ সাধারণত ৬ থেকে ১৮ মাস হলেও অতীতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নবায়ন করা হয়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার সময় ১৭টি দেশের জন্য টিপিএস কার্যকর ছিল। এরপর প্রশাসন ১৩টি দেশের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বাতিল বা বাতিলের উদ্যোগ নেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভেনেজুয়েলা, হাইতি এবং হন্ডুরাসের নাগরিকরা। বর্তমানে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, হাইতি, হন্ডুরাস, মিয়ানমার, নেপাল, নিকারাগুয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেনের টিপিএস বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার ক্ষেত্রেও টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা আদালতের নির্দেশে আপাতত স্থগিত রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, টিপিএস হারানোদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ভেনেজুয়েলার নাগরিক। দুই দফায় দেওয়া টিপিএস সুবিধার আওতায় থাকা ৬ লাখ ১৫ হাজারের বেশি ভেনেজুয়েলান এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়েছেন। দ্বিতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠী হাইতির নাগরিক, যাদের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার। এদিকে ২০২৬ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার টিপিএস বাতিলের অনুমতি দেয়। ওই রায়ের পর প্রশাসনের জন্য অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের জন্য টিপিএস বাতিল করা হয়েছে, সেসব দেশে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সেখানে নাগরিকদের ফিরে যাওয়া সম্ভব। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, টিপিএস কখনোই স্থায়ী অভিবাসন কর্মসূচি নয়; এটি সাময়িক মানবিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই চালু করা হয়েছিল। তবে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। তাদের দাবি, হাইতি, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন, সিরিয়াসহ অনেক দেশে এখনো রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিপিএস বাতিল করলে হাজারো মানুষ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়বেন। কিছু সংগঠন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলেও অভিযোগ করেছে। অনেক টিপিএসধারী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। উদাহরণ হিসেবে হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ার নাগরিকদের অনেকে ১৯৯৮ সালে হারিকেন মিচের পর যুক্তরাষ্ট্রে এসে টিপিএস পান। তারা প্রায় তিন দশক ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন। বর্তমানে চারটি দেশের নাগরিকদের জন্য টিপিএস এখনো কার্যকর রয়েছে। এগুলো হলো এল সালভাদর, ইউক্রেন, লেবানন ও সুদান। এসব দেশের প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ এখনো এই সুবিধা পাচ্ছেন। তবে এসব সুবিধার মেয়াদও ২০২৬ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। ট্রাম্প প্রশাসন এগুলো আবার নবায়ন করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এদিকে টিপিএস হারানো অনেক অভিবাসী এখন বিকল্প আইনি পথ খুঁজছেন। কেউ আশ্রয়ের আবেদন করছেন, কেউ স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন কিছু অভিবাসীকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে উৎসাহিত করছে এবং অনেকের কর্মসংস্থানের অনুমতিও বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জুনের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট ছিল। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও রিপাবলিকান সমর্থকদের অধিকাংশ তা সমর্থন করেছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যতগুলো দেশের টিপিএস বাতিল করা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় বেশি। ফলে দেশটির অভিবাসন নীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে চাপ তৈরির অংশ হিসেবে মিশিগানে বসবাসরত ৬৮ বছর বয়সী এক অভিবাসীর ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১২ সালে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশনের আদেশ দেওয়া হলেও পরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগই সেই আদেশ কার্যকর স্থগিত রেখেছিল। এখন দেশ না ছাড়ার কারণ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন তিনি। এমলাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি তার অসুস্থ স্ত্রীর প্রধান দেখাশোনাকারী। তার স্ত্রী একজন মার্কিন নাগরিক। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে ওই অভিবাসীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ২০১২ সালে ডিপোর্টেশনের আদেশ হওয়ার পরও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার রিমুভাল স্থগিত করেছিল। ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান। কিন্তু চলতি বছর তাকে পাঠানো নোটিশে অভিযোগ করা হয়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি। এর ভিত্তিতেই তার ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা ধার্য করা হয়। ডেট্রয়েটের ইমিগ্রেশন আইনজীবী রিম খ্রাইজাত ওই ব্যক্তির পক্ষে জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলের সঙ্গে তার স্ত্রীর চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের চিঠিও জমা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ওই নারী তার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল এবং স্বামীই তার প্রধান পরিচর্যাকারী। তবে আইনজীবীর দাবি, আইসিই আপিলে তুলে ধরা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়েই জরিমানার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যখন একজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দিয়েছে, তখন পরবর্তী সময়ে সেই একই সময়ের জন্য তাকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করা কতটা যৌক্তিক। এ ঘটনা শুধু মিশিগানের একজন অভিবাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপের নীতি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে এসব জরিমানা মওকুফ করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত আইসিই ডিপোর্টেশন অর্ডারের পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক লাখ তিন হাজারের বেশি জরিমানার নোটিশ দিয়েছে। এসব জরিমানার সম্মিলিত পরিমাণ ৮৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ট্রাম্প প্রশাসন স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ উৎসাহিত করতে সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জরিমানা মওকুফের সুযোগ পেতে পারেন। তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও আইনজীবীদের একটি অংশ এই জরিমানা নীতির বিরুদ্ধে আদালতে গেছে। তাদের অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি মার্কিন সংবিধানের অতিরিক্ত জরিমানা নিষিদ্ধ করার বিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক ফেডারেল মামলা চলছে। মিশিগানের ওই অভিবাসীর ঘটনা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ নীতির বাস্তব প্রভাবের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাদের পুরোনো ডিপোর্টেশন অর্ডার রয়েছে কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এ ধরনের জরিমানার নীতি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
অপরাধ, জালিয়াতি, যৌন নির্যাতন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এ তথ্য জানিয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত, তদন্ত এবং তাদের ভিসা বাতিলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানানো কিংবা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো ঘটনায় ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের আইনি উপায় ব্যবহার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া অধিকাংশ ভিসাধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধসংক্রান্ত ঘটনার মাধ্যমে যুক্ত হন। এসব অপরাধের মধ্যে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদক-সম্পর্কিত অপরাধ সবচেয়ে বেশি ছিল। এ ছাড়া জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং অবৈধ ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগেও অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, শিক্ষকতা করতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত একজনের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডকে প্রকাশ্যে উদযাপন করেছিলেন এমন কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় স্টেট ডিপার্টমেন্ট। অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত আরেক বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। সরকার আরও জানায়, সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ চক্রের সঙ্গে জড়িত ১০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গেছে। ভিসা বাতিলের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতিতেও একাধিক পরিবর্তন এনেছে। গত মাসের শেষ দিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচিকে স্থায়ী করে, যার আওতায় মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ ৫০টি দেশের আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু ধরনের মার্কিন ভিসার জন্য জামানত জমা দিতে হবে। সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, এই জামানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়, গত এক দশকের বেশি সময়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েক লাখ অ-অভিবাসী দর্শনার্থী তাদের ভিসার শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি আরেকটি নিয়ম চূড়ান্ত করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না। এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশের ভেতরে থাকা বিদেশি নাগরিকদের আরও কার্যকরভাবে যাচাই, তদারকি এবং পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। একই ঘোষণায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, গণমাধ্যম ভিসাধারী বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ ২৪০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। আর চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে একবারে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে এমন নীতির সমালোচনা করে বলেছে, কঠোর বিধিনিষেধ বৈধ আবেদনকারী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে বলে জানানো হয়েছে। এসব বাতিলের ক্ষেত্রে অপরাধে জড়িত থাকা, আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান, প্রতারণা এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন কারণ সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছে, বিদেশি নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে আইন মেনে চলা, জননিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়েছে। এর আগে পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ভিসা বাতিলের উল্লেখযোগ্য অংশের সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধের মতো বিষয়ও রয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ বা সহিংসতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডও ভিসা বাতিলের কারণ হতে পারে। তবে ভিসা বাতিল এবং ভিসা ইস্যু স্থগিত করা এক বিষয় নয়। কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু স্থগিত করা হলে সেটি নতুন ভিসা পাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ তৈরি করে। অন্যদিকে কোনো ব্যক্তির বিদ্যমান ভিসা বাতিল হলে তিনি সেই ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সুযোগ হারাতে পারেন। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ক্রিনিং আরও কঠোর করেছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যাপারে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সময়ে কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যুর ওপর পূর্ণ বা আংশিক স্থগিতাদেশও কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এসব পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে এই স্থগিতাদেশ এবং ব্যক্তিগত ভিসা বাতিলের বিষয় দুটি আলাদা নীতি। ফলে কারও বৈধ ভিসা বাতিল হয়েছে কি না, কিংবা নতুন ভিসা ইস্যুতে কোনো বিধিনিষেধ প্রযোজ্য কি না, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য নীতির ওপর। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কোনো বিদেশি নাগরিক যদি মার্কিন আইন লঙ্ঘন করেন বা জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেন, তাহলে তার ভিসা বাতিলসহ প্রযোজ্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার পর থেকে একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন রোড আইল্যান্ডের প্রধান ফেডারেল বিচারক জন জে. ম্যাককনেল জুনিয়র। ২০২৫ সালে প্রশাসনের ফেডারেল তহবিল স্থগিতের উদ্যোগ আটকে দেওয়ার পর তার আদালতে ৪০০টির বেশি ক্ষুব্ধ ও হুমকিমূলক ফোনকল আসে। এর মধ্যে অন্তত ছয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য প্রাণনাশের হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ম্যাককনেল জানান, হুমকির মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ইউএস মার্শালস সার্ভিস তার নিরাপত্তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে। একটি হুমকিতে তার বাড়ির ঠিকানা খুঁজে সেখানে অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের শুরুর দিকে। ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল অনুদানসহ বিভিন্ন সরকারি ব্যয় স্থগিত করার ব্যাপক উদ্যোগ নিলে ম্যাককনেল সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে প্রশাসনের অর্থ স্থগিতের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে আটকে দেন। ওই রায়ের পর ট্রাম্পপন্থী সমর্থকদের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। শুধু বিচারক ম্যাককনেলই নন, তার পরিবারের সদস্যদেরও টার্গেট করা হয়। এক পর্যায়ে তার মেয়ের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। এ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশকে সাধারণত ডক্সিং বলা হয়। পাশাপাশি তাকে অভিশংসনের দাবিও ওঠে এবং কংগ্রেসে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাগুলোর একটি ছিল একটি পিৎজা ডেলিভারি। ম্যাককনেলের পরিবার কোনো পিৎজা অর্ডার না করলেও তার বাড়িতে একটি পিৎজা পৌঁছে যায়। অর্ডারে ব্যবহার করা হয়েছিল ড্যানিয়েল অ্যান্ডার্লের নাম। ড্যানিয়েল অ্যান্ডার্ল ছিলেন নিউ জার্সির ফেডারেল বিচারক এসথার সালাসের ২০ বছর বয়সী ছেলে। ২০২০ সালে বিচারক সালাসকে লক্ষ্য করে তার নিউ জার্সির বাড়িতে হামলা চালানো হলে দরজা খুলতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন অ্যান্ডার্ল। হামলাকারী ডেলিভারি কর্মীর ছদ্মবেশে ওই বাড়িতে গিয়েছিল। ম্যাককনেলের বাড়িতে অ্যান্ডার্লের নামে পিৎজা পৌঁছানোর বিষয়টি ইউএস মার্শালস সার্ভিস তাকে জানায়। পরে তিনি বিচারক সালাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই নামে অন্য ফেডারেল বিচারকদের বাড়িতেও পিৎজা পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ম্যাককনেল বলেছেন, অ্যান্ডার্লের নাম ব্যবহার করে তার বাড়িতে পিৎজা পাঠানোর ঘটনাটি তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে। তার মতে, এর মাধ্যমে শুধু তাকে নয়, তার পরিবারকেও ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রায় ১৫ বছর ধরে ফেডারেল বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাককনেল। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মনোনীত বিচারক। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার কারণে আরও কয়েকজন ফেডারেল বিচারক রাজনৈতিক সমালোচনা, অনলাইন হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়েছেন। ২০২৬ সালের জুনেও ম্যাককনেল ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনসংক্রান্ত কয়েকটি নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। ওই রায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের অ্যাসাইলাম, গ্রিন কার্ড ও ওয়ার্ক পারমিটসহ বৈধ অভিবাসন সুবিধা স্থগিত করার প্রশাসনিক পদক্ষেপকে আইনের পরিপন্থী বলে বাতিল করেন। ফেডারেল বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বিচারকদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানির মাত্রা নিয়ে কয়েকজন বিচারক প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তাদের বক্তব্য, আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে বিচারক ও তাদের পরিবারকে ভয় দেখানো হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় থাকে না, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ম্যাককনেলের ভাষায়, বিচারকরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আদালতে যে সিদ্ধান্তই দেওয়া হোক, সেটি আইন ও আদালতের রেকর্ডের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়। কিন্তু বিচারিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিচারকদের ব্যক্তিগতভাবে টার্গেট করা এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকির মধ্যে ফেলা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।