কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা হারলে ‘মিস্টার ভেটো’ হওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের আনা বিল আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। তবে একের পর এক বিল বাতিল করার পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
আগামী মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ঠিক আগে রোববার, ১ নভেম্বর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের অংশে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও কীভাবে নিজের প্রশাসনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চান।
ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তাঁর কাছে বিভিন্ন বিল পাঠাবে। তখন তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তাঁর ধারণা, এক বা দুই মাস এভাবে চলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের প্রস্তাবিত সব আইন তিনি মেনে নেবেন না। তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজবেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে এবং এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন হবে না।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে বিভিন্ন নির্বাচনী পূর্বাভাস। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। এই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের সম্পর্ক কেমন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে তিনি সেটিতে স্বাক্ষর করতে পারেন অথবা ভেটো দিয়ে ফেরত পাঠাতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে সেটি অতিক্রম করে বিল আইনে পরিণত করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের সমর্থন প্রয়োজন হয়।
ফলে ডেমোক্র্যাটরা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ট্রাম্পের ভেটো অতিক্রম করা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের নতুন আইন পাসের উদ্যোগও বাধার মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত আরও দুটি বিলে ভেটো দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ দুই মেয়াদ মিলিয়ে তাঁর ভেটো দেওয়া বিলের সংখ্যা ১২টি।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা মাথায় রেখে হোয়াইট হাউস কয়েক মাস ধরে বিকল্প প্রশাসনিক পরিকল্পনা তৈরি করছে। এই পরিকল্পনায় কংগ্রেসের নতুন আইন ছাড়াই প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় কোন কোন নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসননীতি, আমদানি শুল্ক, আবাসন ব্যয় এবং ফেডারেল সরকারের খরচসংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছেন ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং বাজেট পরিচালক রাসেল ভট।
তবে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করলেও প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সব সাংবিধানিক কর্তৃত্ব এড়িয়ে যেতে পারবেন না। নতুন আইন প্রণয়ন, সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ অনুমোদনের মতো বিষয়ে কংগ্রেসের নির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশও আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে। আর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে বিচারকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের অনুমোদন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পাবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা কংগ্রেসের সম্ভাব্য তদন্ত, নথিপত্র চাওয়া এবং কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে প্রশাসনকে পরামর্শ দিচ্ছেন।
তবে হোয়াইট হাউস রিপাবলিকানদের পরাজয় অনিবার্য বলে মনে করছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল তাই শুধু কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণ করবে না, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়নের পথ তুলনামূলক সহজ থাকবে। আর ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক দরকষাকষি এবং ভেটো প্রয়োগের ঘটনা বাড়তে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে অসুস্থ, বয়স্ক কিংবা বিশেষ যত্নের প্রয়োজন এমন স্বজনদের দেখাশোনা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ছেন অনেক পরিবার। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তির যত্ন নেওয়ার জন্য সেবাদানকারীদের বছরে গড়ে নিজের পকেট থেকে ১১ হাজার ৫০৮ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। এই ব্যয় তাঁদের পারিবারিক আয়ের গড়ে ৩১ শতাংশ। পাঁচ বছরের ব্যবধানে স্বজনের দেখাশোনার খরচ বেড়েছে প্রায় ৫৯ শতাংশ। বাড়তি ব্যয় সামলাতে কেউ ঋণ নিচ্ছেন, কেউ অতিরিক্ত চাকরি করছেন, আবার কেউ অবসরজীবনের জন্য জমিয়ে রাখা অর্থ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে গবেষণায় সব সেবাদানকারীর ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এএআরপি গত ২৮ অক্টোবর এই গবেষণা প্রকাশ করেছে। জুন ও জুলাই মাসে দেশটির ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ২ হাজার ৫৩৮ জন সেবাদানকারীর তথ্য নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাঁরা প্রাপ্তবয়স্ক কোনো আত্মীয় বা পরিচিত মানুষের নিয়মিত দেখাশোনা করেন। গবেষণায় চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি সেবাদানকারীদের কর্মজীবন ও আর্থিক অবস্থার ওপর প্রভাবও পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে স্বজনের যত্নে একজন সেবাদানকারীর বার্ষিক গড় ব্যয় ছিল ৭ হাজার ২৪২ ডলার। ২০২৬ সালে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫০৮ ডলারে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে ৪ হাজার ২৬৬ ডলার। শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধি প্রায় ৫৯ শতাংশ। বর্তমান হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৯৫৯ ডলার ব্যয় হচ্ছে। তবে গবেষণা পরিচালনার পদ্ধতি ও ব্যয়ের শ্রেণিবিন্যাসে পরিবর্তন থাকায় পুরো বৃদ্ধিকে শুধু মূল্যস্ফীতির ফল হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপের মুখে রয়েছেন কম আয়ের পরিবারের সেবাদানকারীরা। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৪০ হাজার ডলারের কম, তাঁদের গড়ে আয়ের ৭৬ শতাংশ স্বজনের যত্নে ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে বছরে ৪০ হাজার থেকে ৮৪ হাজার ৯৯৯ ডলার আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ১৭ শতাংশ। যাঁদের আয় ৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৯ ডলার, তাঁদের ক্ষেত্রে গড় ব্যয়ের হার ৯ শতাংশ। ফলে একই ধরনের দায়িত্ব পালন করলেও পরিবারের আয়ের ওপর নির্ভর করে আর্থিক চাপের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হচ্ছে। স্বজনের দেখাশোনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত বাসস্থান ও সংসার পরিচালনা। গবেষণায় দেখা গেছে, এই খাতে বছরে গড়ে ৪ হাজার ৭৯৭ ডলার ব্যয় হচ্ছে, যা মোট ব্যয়ের ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে খাবার, বাসাভাড়া, মর্টগেজ এবং প্রপার্টি ট্যাক্সের মতো খরচ রয়েছে। অনেক সেবাদানকারীকে নিজের পরিবারের পাশাপাশি অসুস্থ কিংবা বয়স্ক স্বজনের দৈনন্দিন প্রয়োজনও মেটাতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত সংসার খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্ব যুক্ত হচ্ছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত খরচও সেবাদানকারীদের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে উঠেছে। এএআরপির হিসাবে, চিকিৎসা খাতে বছরে গড়ে ৩ হাজার ৩১৩ ডলার ব্যয় হচ্ছে। এটি মোট খরচের প্রায় ২৯ শতাংশ। এর মধ্যে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম, চিকিৎসকের ফি, কোপে, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং হাসপাতাল বা অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাসস্থান ও চিকিৎসা খাত মিলিয়ে সেবাদানকারীদের মোট ব্যক্তিগত ব্যয়ের ৭১ শতাংশ চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে আলঝেইমার কিংবা অন্য ধরনের ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত স্বজনের যত্ন নেওয়ার খরচ তুলনামূলক বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির দেখাশোনায় বছরে গড়ে ১৫ হাজার ৮৪৬ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে ডিমেনশিয়া নেই এমন ব্যক্তির যত্নে গড় খরচ ১০ হাজার ২২১ ডলার। দুই ধরনের সেবাদানকারীর ব্যয়ের পার্থক্য ৫ হাজার ৬২৫ ডলার। ফলে অসুস্থতার ধরন এবং প্রয়োজনীয় যত্নের মাত্রা ব্যয়ের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। যাঁদের একাধিক চিকিৎসা বা নার্সিংসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাঁদের খরচও বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, তিনটি বা তার বেশি চিকিৎসাসংক্রান্ত কাজ করেন এমন সেবাদানকারীদের বছরে গড়ে ১৫ হাজার ৬৪৮ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে যাঁদের এ ধরনের কোনো কাজ করতে হয় না, তাঁদের গড় ব্যয় ৭ হাজার ৯৪৮ ডলার। অর্থাৎ জটিল চিকিৎসাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকারীদের খরচ প্রায় দ্বিগুণ। তবে এটি গবেষণায় পাওয়া গড় ব্যয়ের পার্থক্য, সব ব্যক্তির ক্ষেত্রে একই পরিমাণ খরচ হবে এমন নয়। স্বজনের যত্ন নেওয়ার আর্থিক চাপ সামলাতে অনেকেই ঋণের ওপর নির্ভর করছেন। এএআরপির গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব সেবাদানকারী অর্থ ধার করেছেন কিংবা ঋণ নিয়েছেন, তাঁদের বার্ষিক গড় ব্যয় ১৬ হাজার ৫৮০ ডলার। এই গোষ্ঠীর সেবাদানকারীরা পারিবারিক আয়ের গড়ে ৫০ শতাংশ যত্নের পেছনে ব্যয় করছেন। তবে এই তথ্যের অর্থ এই নয় যে সব সেবাদানকারী ঋণগ্রস্ত। বরং গবেষণায় ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি আর্থিক চাপের চিত্র উঠে এসেছে। কেউ কেউ স্বজনের চিকিৎসা ও দেখাশোনার ব্যয় মেটাতে অবসরকালীন সঞ্চয়ও ব্যবহার করছেন। গবেষণা অনুযায়ী, যাঁরা অবসরজীবনের জন্য জমিয়ে রাখা অর্থ ব্যবহার করেছেন, তাঁদের বছরে গড়ে ১৭ হাজার ৯০৭ ডলার ব্যয় হচ্ছে। এটি তাঁদের পারিবারিক আয়ের গড়ে ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান সময়ে স্বজনের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে কিছু সেবাদানকারীকে ভবিষ্যতের জন্য রাখা অর্থও খরচ করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেবাদানের দায়িত্ব চাকরি ও আয়ের ওপরও প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া কর্মরত সেবাদানকারীদের ৬৫ শতাংশ জানিয়েছেন, স্বজনের যত্ন নেওয়ার কারণে তাঁদের কর্মজীবনে অন্তত একটি পরিবর্তন বা সমস্যা হয়েছে। এর মধ্যে কাজের সময় পরিবর্তন, ছুটি নেওয়া কিংবা অতিরিক্ত কাজ করার মতো বিষয় রয়েছে। চাকরিজীবী সেবাদানকারীদের বছরে গড়ে ১২ হাজার ৬০৬ ডলার খরচ হচ্ছে। অন্যদিকে যাঁরা অতিরিক্ত চাকরি নিয়েছেন, তাঁদের বার্ষিক গড় ব্যয় ১৬ হাজার ৮৫১ ডলার। অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলভেদেও স্বজনের যত্নের খরচে বড় পার্থক্য রয়েছে। এএআরপির তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও পেনসিলভানিয়া নিয়ে গঠিত মধ্য আটলান্টিক অঞ্চলে সেবাদানকারীদের বছরে গড়ে ১৫ হাজার ৮৪৫ ডলার ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে আইওয়া, কানসাস, মিনেসোটা, মিসৌরিসহ পশ্চিম উত্তর-মধ্য অঞ্চলে গড় ব্যয় ৭ হাজার ৯৫৫ ডলার। অর্থাৎ একই দেশে বসবাস করলেও অঞ্চলভেদে স্বজনের যত্নের আর্থিক চাপ অনেকটাই আলাদা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব পরিবারে বয়স্ক বাবা-মা, অসুস্থ স্বজন কিংবা নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন এমন সদস্য রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার পাশাপাশি বাসস্থান, খাবার এবং অন্যান্য দৈনন্দিন খরচ বহন করতে হতে পারে। তবে গবেষণায় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য পৃথক কোনো ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জাতীয় গড়কে বাংলাদেশি পরিবারের নির্দিষ্ট খরচ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এএআরপির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ পরিবারের সদস্য কিংবা পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়মিত যত্নে সহায়তা করেন। ওষুধ ব্যবস্থাপনা, খাবার তৈরি, চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজের মাধ্যমে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সংগঠনটির হিসাবে, এসব সেবাদানকারীর অধিকাংশই বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন। তাঁদের সম্মিলিত সেবার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেবাদানকারীদের আর্থিক চাপ কমাতে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছে এএআরপি। সংগঠনটি করছাড়, সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়িভিত্তিক সেবা, বেতনসহ পারিবারিক ছুটি এবং যোগ্য স্বজনদের সেবাদানের জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে এসব প্রস্তাবের সবগুলো বর্তমানে দেশজুড়ে কার্যকর সরকারি সুবিধা নয়। কোন ব্যক্তি কী ধরনের সহায়তা পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি ও অঙ্গরাজ্যের নিয়মের ওপর নির্ভর করবে। সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনের যত্ন নেওয়ার ব্যয় পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বছরে গড়ে সাড়ে ১১ হাজার ডলারের বেশি খরচের পাশাপাশি অনেক সেবাদানকারীকে ঋণ, অতিরিক্ত চাকরি কিংবা অবসরকালীন সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশেষ করে কম আয়ের পরিবার এবং জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন এমন স্বজনের সেবাদানকারীদের ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ বেশি। ফলে অসুস্থ বা বয়স্ক প্রিয়জনের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব অনেক পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সূত্র: ফক্স লোকাল
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির পেছনে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার ব্যয় ড্রাইভারদের
কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা হারলে ‘মিস্টার ভেটো’ হওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য চিকিৎসকদের স্কলারশিপ ফান্ডিং নিয়ে রয়েছে ২ টি ট্র্যাক, জানুন বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলার অনুমোদন দিতে পারেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসন। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের একটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। বরং এর আগে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। ফলে কার্লসনের বক্তব্যকে নিশ্চিত সামরিক পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। সোমবার (২ নভেম্বর) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত দীর্ঘ এক পোস্টে এসব দাবি করেন কার্লসন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের মধ্যাঞ্চলে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামে পরিচিত একটি পাহাড়ি স্থাপনাকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ধারণা, সেখানে ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে ওই স্থাপনায় এমন কার্যক্রম চলছে বলে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। কার্লসনের দাবি, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো প্রায় ৩০০ ফুট পুরু গ্রানাইট পাথরের নিচে অবস্থিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রচলিত মার্কিন অস্ত্র দিয়ে এত গভীরে থাকা স্থাপনা ধ্বংস করা কঠিন। এ কারণেই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে স্থাপনাটি ধ্বংস করা অসম্ভব কিংবা পারমাণবিক হামলাই একমাত্র সামরিক বিকল্প, এমন বক্তব্যের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক মার্কিন সামরিক মূল্যায়ন প্রকাশিত হয়নি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিয়মিত ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন হামলার অনুমোদন চাইছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কার্লসন। নাম প্রকাশ না করা একজন পর্যবেক্ষকের বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, নেতানিয়াহু প্রতিদিনই ট্রাম্পকে এ বিষয়ে ফোন করছেন। কার্লসনের মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার বিষয়টিও নতুন সামরিক অভিযানের চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে নেতানিয়াহুর উদ্দেশ্য সম্পর্কে এসব বক্তব্য কার্লসনের নিজস্ব অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, প্রতিষ্ঠিত তথ্য নয়। কার্লসন আরও অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপর নতুন সামরিক অভিযান শুরুর চাপ সৃষ্টি করছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জন র্যাটক্লিফও নেতানিয়াহুর অবস্থান অনুসরণ করছেন বলে তাঁর দাবি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে কার্লসনের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা নতুন সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। কার্লসন আরও বলেন, আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে এই তারিখ কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক সময়সূচি নয়। এটি কার্লসনের উত্থাপিত সম্ভাব্য সময়সীমা মাত্র। অন্যদিকে ইরানে নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, শনিবার ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দ্রুত হামলা চালানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প আপাতত কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও সময় দিতে চান। এই আলোচনা নতুন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নির্দেশ করলেও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তের প্রমাণ নয়। এর আগে শনিবার ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরানের আরও একটি বা দুটি পারমাণবিক স্থাপনা সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছে। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে হামলা চালাতে পারে। তবে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো অনুমোদন দেওয়ার কথা বলেননি। গত ১৬ অক্টোবর নিউজম্যাক্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কার্লসন তাঁর পোস্টে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিণতি নিয়েও সতর্ক করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে তেজস্ক্রিয় দূষণ পারস্য উপসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের পানি সরবরাহ ও জনস্বাস্থ্য বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। তবে সম্ভাব্য দূষণের বিস্তার কিংবা কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, সে বিষয়ে কোনো স্বাধীন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। কার্লসন আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে অন্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর সামরিক সিদ্ধান্তেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা এবং কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এমন হামলা বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠবে বলে তাঁর যে সতর্কবার্তা, সেটি একটি আশঙ্কা, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যদিও এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। ইরান পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানে কয়েক দিনের মধ্যে পারমাণবিক হামলা হতে পারে বলে টাকার কার্লসনের দাবি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস কিংবা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগও এমন কোনো পরিকল্পনা নিশ্চিত করেনি। ফলে ৭ নভেম্বরকে পারমাণবিক হামলার নির্ধারিত তারিখ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিশ্চিত তথ্য হলো, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন ঘিরে গু লিবর্ষণ, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২৪ নি হত ও ৯৪ আ হত
'আমি এখনও জানি না কেন গুলি করল' আইসিইর গুলিতে বুকে আহত অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্যবসায় শক্ত অবস্থান গড়ছেন বাংলাদেশিরা, বাড়ছে রাজনীতি ও সামাজিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় লিয়ারজেট-৬০ মডেলের একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে এর আরোহী নয়জনের সবাই নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের নর্থ এলিউথেরা বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-আ-লাগো বাসভবনের দূরত্ব প্রায় ১০ মাইল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার। তবে ট্রাম্পের বাসভবনের সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো সরাসরি যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) তদন্তে সহায়তা করতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, উড়োজাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্রের মতো নিচে নেমে এসে সড়কের পাশে বড় গর্ত তৈরি করে। দুর্ঘটনার আগে উড়োজাহাজটির চালক আকাশে বরফ জমা ও মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনির কথা বিমান নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানিয়েছিলেন। লাইভএটিসি ডটনেটের সংগৃহীত কথোপকথনের রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, প্রথমে চালক বরফ জমার পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। পরে উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করলে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। একপর্যায়ে ক্রুদের বলতে শোনা যায়, ‘আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।’ তবে বরফ জমা, ঝড়ো আবহাওয়া নাকি অন্য কোনো যান্ত্রিক সমস্যার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে উড়োজাহাজটিকে দ্রুত নিচে নেমে এসে সড়কের পাশে আছড়ে পড়তে এবং পরে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায়। দুর্ঘটনায় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও মাটিতে থাকা কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন গভর্নর ডিস্যান্টিস। নিরাপত্তার স্বার্থে কাছের একটি মোবাইল হোম কমিউনিটি থেকে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের সড়কও বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। উড়োজাহাজটি ব্যক্তিগত হওয়ায় এতে থাকা নয়জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি তাদের বিমানবন্দর থেকেই যাত্রা শুরু করেছিল। এদিকে এনটিএসবি তদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে এবং এফএএ তাদের সহায়তা করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রধান সূত্র: আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
প্রাইমারিতে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই কি আবদুল এল-সায়েদকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন হ্যালির?
যুক্তরাষ্ট্রের হ্যামট্রামিকের মেয়র হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ