সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

তারেক রহমানকে ঘিরে নিউইয়র্কে দলীয় মতবিরোধ, সংবর্ধনা নিয়ে টানাপোড়েন; ক্যালিফোর্নিয়া সফরও বাতিল

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১১:৩০
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফর ঘিরে নিউইয়র্কে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি চললেও নাগরিক সংবর্ধনা নিয়ে গত কয়েক দিনে সিদ্ধান্তে পরিবর্তনের খবর এসেছে। সরকারি অর্থে বড় পরিসরের সংবর্ধনা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানিয়েছেন। তবে প্রবাসী বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিজস্ব অর্থায়নে সীমিত পরিসরে আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সানফ্রান্সিসকো সফরও আপাতত বাতিল করা হয়েছে। 

 

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, সফরের বিস্তারিত সূচি এবং সফরসঙ্গীদের তালিকা এখনো চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সানফ্রান্সিসকো সফর বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা ও রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। 

 

সংবর্ধনা নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রশ্নে। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে সরকারি অর্থে বড় পরিসরে নাগরিক সংবর্ধনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবাসীরা নিজেদের অর্থায়নে সৌজন্য সাক্ষাৎ বা সংবর্ধনার আয়োজন করলে প্রধানমন্ত্রী তাতে অংশ নিতে পারেন, তবে আয়োজনটি সীমিত ও অনাড়ম্বর রাখার কথা রয়েছে। 

 

এর ফলে আগে নির্ধারিত ২৫ সেপ্টেম্বরের সংবর্ধনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে ওই দিন নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতির খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ৯ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে অনুষ্ঠানটির জন্য প্রস্তুতি, স্থান পরিদর্শন এবং অতিথি আমন্ত্রণের কথাও উঠে আসে। 

 

তবে ১৬ সেপ্টেম্বরের কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থে প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। আবার একই দিনে অন্য একটি প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের বক্তব্যের বরাতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের পরিবর্তে নিজেদের অর্থায়নে ২৫ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠান করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে বলা যায়, সরকারি অর্থে বড় পরিসরের সংবর্ধনা বাতিল বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত এসেছে; প্রবাসীদের নিজস্ব অর্থায়নে বিকল্প আয়োজন হবে কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। 

 

সংবর্ধনা বাতিলের কারণ নিয়ে স্থানীয় প্রবাসী সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে অর্থ সংগ্রহ, আয়োজনের নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নিয়ে অভিযোগের কথা এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য যাচাই পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যেও বিষয়টি একরকম নয়। তাই অর্থের বিনিময়ে প্রভাব বিস্তার বা কোনো ধরনের অনিয়ম হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে নেই। 

 

অন্যদিকে নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি অবশ্য অব্যাহত রয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রস্তুতি সভায় ২১ সেপ্টেম্বর জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দলীয় প্রধানকে অভ্যর্থনা জানানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে স্বাগত সমাবেশ আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে। নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

 

তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন ধরনের কর্মসূচির প্রস্তুতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে বিমানবন্দর এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এসব কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; এগুলোর বাস্তব অংশগ্রহণ বা পরবর্তী পরিস্থিতি এখনো যাচাইযোগ্য নয়। 

 

এদিকে সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিলের বিষয়টি এখন বেশ কয়েকটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রাথমিক সফর পরিকল্পনায় নিউইয়র্কের পর ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে অনুষ্ঠান এবং প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও তাঁর প্রেস সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, সময় ও রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। 

 

ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির পক্ষ থেকেও সফর বাতিলের বিষয়টি স্বীকার করে বলা হয়েছে, তারা সানফ্রান্সিসকো সফরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে সফরসূচি পরিবর্তনের পর তারা নিউইয়র্কে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

 

ফলে আগের কয়েক দিনের আলোচনায় থাকা ‘নিউইয়র্কের সংবর্ধনা বাতিল করে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিকল্প আয়োজন’ বিষয়টি এখন আর সেভাবে বলা যাচ্ছে না। বরং সর্বশেষ তথ্য হলো, সানফ্রান্সিসকো সফরই আপাতত বাতিল হয়েছে এবং নিউইয়র্কে সরকারি অর্থে বড় সংবর্ধনার পরিবর্তে প্রবাসীদের নিজস্ব অর্থায়নে সীমিত কোনো আয়োজন করা যায় কি না, সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে। 

 

তারেক রহমানের এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ২ জুন ২০২৬ তাঁকে এ পদে নির্বাচিত করা হয়। ফলে ২৪ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান যখন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন, তখন অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

 

জাতিসংঘের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এতে অংশ নিয়ে নিজ নিজ দেশের অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক ইস্যু তুলে ধরবেন। 

 

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে এখন তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। প্রথমত, ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। দ্বিতীয়ত, সরকারি অর্থে নাগরিক সংবর্ধনা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর প্রবাসীদের নিজস্ব অর্থায়নে সীমিত আয়োজন হবে কি না। তৃতীয়ত, সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল হওয়ায় সফরের বাকি কর্মসূচি কীভাবে সাজানো হচ্ছে।

 

নিউইয়র্কে দলীয় অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং সংবর্ধনা আয়োজন নিয়ে নানা দাবি ও পাল্টা দাবির খবর প্রকাশিত হলেও সেগুলোর সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই নিশ্চিত তথ্যের সঙ্গে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর বক্তব্য ও অভিযোগ আলাদা করে দেখাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে তথ্যনির্ভর পদ্ধতি। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সফরসূচি এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য প্রবাসী আয়োজন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ রাজ্যে টানা তিন দিন আইসের অভিযান, ট্রাকচালকসহ আটক ২৩০ অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ রাজ্যে টানা তিন দিন আইসের অভিযান, ট্রাকচালকসহ আটক ২৩০ অভিবাসী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক পরিবহন খাত ও মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালানো হয়েছে এক ব্যাপক যৌথ অভিযান। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা—আইস (ICE) এবং বিভিন্ন রাজ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত ৭২ ঘণ্টার এই বিশেষ অভিযানে দুই শতাধিক undocumented অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বহুসংখ্যক বাণিজ্যিক মোটরযান চালকও রয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন করিডোর ও মহাসড়কগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। এই তিন দিনের টানা কার্যক্রমে ১ হাজারেরও বেশি ভারী বাণিজ্যিক ট্রাক ও কমার্শিয়াল ভেহিকল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তল্লাশি চলাকালীন অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স (CDL) সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে।   কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সাঁড়াশি অভিযানে মোট ২৩০ জনেরও বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, আটককৃতদের মধ্যে ৪০ জনেরও বেশি ব্যক্তির কাছে কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স (CDL) ছিল, যারা নিয়মিতভাবে কমার্শিয়াল ট্রাক পরিচালনা করে আসছিলেন। ফেডারেল ও স্টেট এজেন্সিগুলোর যৌথ এই কড়াকড়ি মূলত বাণিজ্যিক পরিবহন সেক্টরে ভুয়া বা অননুমোদিত লাইসেন্সের ব্যবহার রোধ এবং মহাসড়কে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মূল ভূখণ্ডের লজিস্টিকস ও ফ্রেইট সেক্টরে নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যত্রতত্র অযোগ্য বা অননুমোদিত চালকদের ভারী যান চালানোর প্রবণতা এবং আইনি ফাঁকফোকড় বন্ধে এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১২:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের নির্বাচন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন, খরচ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে সন্দ্বীপের দুই তরুণের মৃত্যুর খবরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে সন্দ্বীপের দুই তরুণের মৃত্যু, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, ৩০ বছর পর প্রথম প্রাণহানি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি কেন্দ্র চালু করেছে ওপেনএআই। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ভুয়া তথ্য ঠেকাতে বিশেষ কেন্দ্র চালু ওপেনএআইয়ের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়ানো ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি কেন্দ্র চালু করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। ‘ইলেকশন অপারেশনস সেন্টার’ নামে এই কেন্দ্র ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়েছে আরেক এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন এসব উদ্যোগের বিস্তারিত সামনে এসেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এবং বোস্টন ২৫ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের বিশেষ কেন্দ্রে কয়েকশ কর্মী নির্বাচনের সময় এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার পর্যবেক্ষণ করবেন। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে কি না, ভুয়া নির্বাচনী তথ্য তৈরি হচ্ছে কি না কিংবা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে কি না, এসব বিষয় নজরদারির আওতায় থাকবে।   ওপেনএআইয়ের সিভিক অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিস্ক বিভাগের প্রধান জশ লসন জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় ব্যবহারকারীদের নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ, প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ কেন্দ্রটি বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেবে, যাতে নতুন কোনো ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।   ভোটারদের সঠিক তথ্য দিতে ডেমোক্রেসি ওয়ার্কস নামের একটি নির্দলীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে ওপেনএআই। এর ফলে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীরা ভোটার নিবন্ধন, ভোট দেওয়ার সময়সীমা, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সরবরাহ করা হবে। ইংরেজির পাশাপাশি অন্যান্য ভাষাতেও এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।   এ ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল জানাতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে ওপেনএআই। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এপির সরবরাহ করা ভোট গণনার তথ্য চ্যাটজিপিটিতে দেখা যাবে। তবে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফলের কর্তৃত্ব সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের হাতেই থাকবে।   এদিকে নির্বাচনী বিভ্রান্তি ঠেকাতে এআই দিয়ে তৈরি ছবির ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে ওপেনএআই। ভোটগ্রহণে বাধা কিংবা ভোটারদের নিরুৎসাহিত করার মতো বিভ্রান্তিকর বাস্তবধর্মী ছবি তৈরির অনুরোধ এলে সেগুলোকে বাস্তব ফটোগ্রাফের পরিবর্তে কার্টুনধর্মী চিত্রে রূপান্তর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য কল্পিত দৃশ্যকে প্রকৃত ঘটনার ছবি হিসেবে প্রচারের ঝুঁকি কমানো। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞাও বহাল রয়েছে।   অন্যদিকে ক্লড এআইয়ের নির্মাতা অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ভোটারদের সঠিক তথ্য দিতে তারাও ডেমোক্রেসি ওয়ার্কসের তথ্য ব্যবহার করছে। ক্লডের মাধ্যমে ভোটাররা নির্বাচনের তারিখ, ভোটকেন্দ্র এবং স্থানীয় ভোটদানের নিয়ম জানতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক পক্ষপাত, ভুয়া প্রচারণা এবং নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারে এআইয়ের অপব্যবহার শনাক্ত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে।   অ্যানথ্রপিকের প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্লডের প্রায় ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কথোপকথনে রাজনীতি, সরকারি নীতি কিংবা সামাজিক বিষয় উঠে আসে। নির্বাচনের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্ন রয়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ কথোপকথনে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভুয়া সংবাদমাধ্যম তৈরি এবং বিদেশি প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টায় এআই ব্যবহার শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।   এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, জনপ্রিয় কয়েকটি এআই চ্যাটবট ভোটারদের জন্য তথ্য তৈরি করতে গিয়ে ভুল প্রার্থী, ভুল নির্বাচনী এলাকা এবং অস্তিত্বহীন নির্বাচনের তথ্যও দিয়েছে। ফলে নির্বাচনী তথ্যের ক্ষেত্রে শুধু এআইয়ের উত্তরের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি নির্বাচন দপ্তরের তথ্য যাচাই করার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১০:৫০
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে অংশ নিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক ম্যারাথনে ফিনিশ লাইনের দুই মাইল আগে অসুস্থ হয়ে তরুণীর মৃত্যু

রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে এই সপ্তাহেই রাশিয়া-ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হোস্ট করবেন মেলানিয়া ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ প্রজন্মের ঋণের বোঝা আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মিলেনিয়ালদের তুলনায় একই বয়সে বেশি ঋণের বোঝা জেন জির, তরুণদের জন্য সতর্কতা

নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সাফল্যের দাবি জেডি ভ্যান্সের, ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে জবাব দিলেন  মেয়র মামদানি
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সাফল্যের দাবি জেডি ভ্যান্সের, ব্যঙ্গাত্মক ভিডিওতে জবাব দিলেন মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দেওয়া একটি পোস্টের জবাবে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। কোনো কথা না লিখে মাত্র ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দিয়ে ভ্যান্সের দাবিকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে দুই নেতার এই অনলাইন পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক মহলেও নজর কেড়েছে।   সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হোয়াইট হাউসের তৈরি একটি গ্রাফিক পোস্ট করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নিউইয়র্কে অপরাধ কমানো, কর্মজীবী পরিবারের কর ছাড় এবং বড় ধরনের বিনিয়োগের সাফল্য তুলে ধরা হয়। পোস্টের সঙ্গে ভ্যান্স লেখেন, নিউইয়র্কের মানুষের পাশে রয়েছে তাঁর প্রশাসন। গ্রাফিকে অপরাধের হার কমা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করা হয়।   ভ্যান্সের ওই পোস্টের জবাবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা অলি বি। এতে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মীদের মতো উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা এক ব্যক্তি সাবওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার সময় তিনি এমনভাবে হাত নাড়ছেন, যেন তাঁর নির্দেশেই ট্রেনটি থামছে। এরপর যাত্রীদের ওঠার জন্য স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলার সময়ও তিনি সেটি নিজের কৃতিত্ব হিসেবে দেখানোর ভঙ্গি করেন।   ভিডিওর শেষ অংশে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার ভান করেন। পুরো দৃশ্যটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন ট্রেনের স্বাভাবিক চলাচলের কৃতিত্ব তিনি নিজেই নিতে চাইছেন। মামদানি ভিডিওটির সঙ্গে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা দেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনেকে এটিকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সাফল্যের কৃতিত্ব ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়ার দাবির প্রতি ব্যঙ্গাত্মক জবাব হিসেবে দেখছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশ করেছিলেন অলি বি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে পরিশ্রমী কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। মামদানি সেই পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে ভ্যান্সের পোস্টের জবাব দেওয়ার পর সেটি নতুন করে ভাইরাল হয়। বিষয়টি জানতে পেরে অলি বিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং মেয়রের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানান।   এদিকে ভ্যান্সের প্রকাশিত গ্রাফিকের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক্সের ব্যবহারকারীদের দেওয়া কমিউনিটি নোটে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি করা ৪৭২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির সবটাই নিউইয়র্কের জন্য নির্ধারিত নয়। এর মধ্যে মাইক্রন ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পের বিনিয়োগও রয়েছে। একইভাবে হত্যাকাণ্ড কমার একটি পরিসংখ্যান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   নিউইয়র্কে অপরাধ কমানো ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের কৃতিত্ব নিয়ে এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সাফল্য ভোটারদের সামনে তুলে ধরছে। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট মেয়র মামদানির এই ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে তাঁর ভিডিওতে ভ্যান্সের দাবি করা প্রতিটি তথ্যের সরাসরি খণ্ডন করা হয়নি।   সংবাদসূত্র:  ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এক্স পোস্ট , নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির এক্স পোস্ট ।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৯:২৭
নিউইয়র্কে হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা ও কম খরচে সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ইন্স্যুরেন্স ছাড়াও কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন যেসব হাসপাতালে

করোনাকালীন সরকারি সহায়তা কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণা

করোনা মহামারির সময়ে সরকারি সহায়তার ২১ লাখ ডলার আত্মসাৎ , ব্যবসায়ীর সাড়ে ছয় বছর কারাদণ্ড

নিউইয়র্কে উচ্চ খরচ ও ভাষাগত সমস্যার কারণে ডেন্টাল চিকিৎসায় অসুবিধায় পড়েন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ছবি: সংগৃহীত

জ্যাকসন হাইটস ও ব্রঙ্কসে বাংলা ভাষায় কম খরচে ডেন্টাল সেবার দিচ্ছেন বাংলাদেশি চিকিৎসক ওয়ালী খান

0 Comments