সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বাংলাদেশ

দুই কিডনি বিকল, মায়ের কিডনি মিললেও মারা যাওয়ার ভয়ে কিডনি দিবেন না মা!

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১১:১৫
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের যুবক আরিফুল ইসলাম দুই কিডনি বিকল হয়ে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে শয্যাশায়ী। ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের যুবক আরিফুল ইসলাম দুই কিডনি বিকল হয়ে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে শয্যাশায়ী। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের যুবক আরিফুল ইসলাম দুই কিডনি বিকল হয়ে আড়াই বছর ধরে ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ চিকিৎসায় সঞ্চয় ও সম্পদ হারিয়ে এখন প্রায় নিঃস্ব তিনি। পরিবারের অন্য কারও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত না হলেও পরীক্ষায় মায়ের কিডনি মিলেছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের ঠিক আগে নিজের জীবন নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় কিডনি দিতে অস্বীকৃতি জানান মা।

 

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় ব্যবসা করে স্বচ্ছল জীবনযাপন করতেন আরিফুল। কিডনি রোগ ধরা পড়ার পর নিয়মিত ডায়ালাইসিস ও চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে গত আড়াই বছরে তার সঞ্চয় ও সম্পদের বড় অংশ শেষ হয়ে গেছে। এখন নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আরিফুলের দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। এ জন্য অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে পরিবার জানিয়েছে। কিন্তু এই বিপুল অর্থ জোগাড় করার মতো আর্থিক সামর্থ্য বর্তমানে তাদের নেই।

 

কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য পরিবারের সদস্যদের পরীক্ষা করা হলে কারও কিডনি উপযুক্ত পাওয়া যায়নি। পরে আরিফুলের মায়ের কিডনি তার সঙ্গে মিলেছে বলে পরিবার জানায়। এতে ছেলেকে বাঁচানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও অস্ত্রোপচারের আগে নিজের শারীরিক নিরাপত্তা ও মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়ে ভয় পেয়ে কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান মা।

 

এদিকে দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আরিফুলের নিয়মিত ডায়ালাইসিসও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কিডনি প্রতিস্থাপন না হলে তার চিকিৎসা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে পরিবার জানিয়েছে। তবে তার বর্তমান চিকিৎসা অবস্থা ও প্রতিস্থাপনের জরুরি প্রয়োজন সম্পর্কে নির্দিষ্ট চিকিৎসা নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

 

নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি ছোট সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন আরিফুল। পৌনে তিন বছরের সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে মানুষের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

 

আরিফুলের পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে তারা আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এখন কিডনি প্রতিস্থাপনের অর্থ সংগ্রহই তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

বিষয়টি জানার পর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল হোসেন পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারি ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে আরিফুলের চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে পরিবারটি।

 

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, শাহ জহুরুল হোসেন বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বাংলাদেশ

View more
রাজধানীর ডেমরায় একটি ইনসুলেশন কারখানা থেকে বিরল হালকা গোলাপি রঙের গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার ডেমরায় কারখানা থেকে উদ্ধার বিরল হালকা গোলাপি রঙের গোখরা, লোকজন হতবাক

রাজধানীর ডেমরায় একটি ইনসুলেশন কারখানা থেকে বিরল হালকা গোলাপি রঙের একটি গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় এক ফুট লম্বা সাপটি মনোকলড কোবরা প্রজাতির বাচ্চা বলে শনাক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, অ্যালবিনিজম বা রঞ্জক পদার্থের ঘাটতিজনিত জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সাপটির শরীরে এমন অস্বাভাবিক রং দেখা গেছে।   ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ (ডব্লিউএসআরটিবিডি) নামের একটি বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠনের নির্দেশনায় সাপটি উদ্ধার করেন স্বেচ্ছাসেবী সাইফ রুদ্র। কারখানার ভেতর থেকে উদ্ধার করা সাপটির অস্বাভাবিক রং সাধারণ গোখরার তুলনায় একেবারেই আলাদা।   মনোকলড কোবরা বাংলাদেশে পরিচিত বিষধর সাপের একটি প্রজাতি। সাধারণত এদের শরীর বাদামি, জলপাই বা কালচে রঙের হয়ে থাকে। ফণা তুললে পেছনের দিকে একক গোলাকার চিহ্ন দেখা যায়, যেখান থেকে মনোকলড কোবরা নামটির উৎপত্তি। তবে উদ্ধার হওয়া সাপটির শরীরে স্বাভাবিক রঙের পরিবর্তে হালকা গোলাপি আভা দেখা গেছে।   বন্যপ্রাণীবিজ্ঞানে অ্যালবিনিজম বলতে এমন একটি জিনগত অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে শরীরে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন অনুপস্থিত বা অত্যন্ত কম থাকে। এর ফলে প্রাণীর স্বাভাবিক রং পরিবর্তিত হয়ে সাদা কিংবা ফ্যাকাশে হতে পারে। তবে শুধু শরীরের রং দেখে কোনো প্রাণীর অ্যালবিনিজম নিশ্চিত করা যায় না। এ ক্ষেত্রে লিউসিজমসহ অন্যান্য রঞ্জকজনিত বৈশিষ্ট্যের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে হয়।   উদ্ধার হওয়া সাপটির ক্ষেত্রে অ্যালবিনিজমের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা বা জিনগত বিশ্লেষণের ফল পাওয়া যায়নি। ফলে সাপটির অস্বাভাবিক রঙের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।   গোখরা অত্যন্ত বিষধর সাপ হওয়ায় বাচ্চা অবস্থাতেও এটি বিপজ্জনক হতে পারে। আকারে ছোট হলেও এর কামড়ে গুরুতর বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই এ ধরনের সাপ চোখে পড়লে নিজে ধরতে বা সরাতে না গিয়ে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কিংবা সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ইঁদুরসহ বিভিন্ন ছোট প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাপের ভূমিকা রয়েছে। মানুষের বসতি, কারখানা কিংবা কৃষিজমির আশপাশে সাপ পাওয়া গেলে সেটিকে হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা উচিত।   ডেমরায় উদ্ধার হওয়া বিরল রঙের গোখরাটি বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে কিংবা সেটিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ৫:১৫
বাংলাদেশে জমা দেওয়া শেনজেন ভিসার আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে

বাংলাদেশিদের শেনজেন ভিসার আবেদন নেবে না সুইডেন দূতাবাস ,জানাল বিকল্প নিয়ম

এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাবার দুঃখ ঘোচানোর স্বপ্ন, এইচএসসিতে যমজ দুই বোনেরই জিপিএ-৫

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কুশ ল্যাব নিয়ন্ত্রণের  অভিযোগে  ঢাকায় গ্রেপ্তার তৌসিফ

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তির মাধ্যমে কুশ ল্যাব নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, ঢাকায় গ্রেপ্তার তৌসিফ

আসামের ধানখেতে গ্যাস বেলুনসহ মিলল যুবদলের ব্যানার। ছবি: সংগৃহীত
আসামে দেখা গেল যুবদলের ব্যানার, চিন্তায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ

ভারতের আসাম রাজ্যের একটি ধানখেতে গ্যাসভর্তি বেলুনের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী যুবদলের একটি ব্যানার পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রচারসামগ্রী কীভাবে ভারতের লখিমপুর জেলায় পৌঁছাল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে আসাম পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলার নারায়ণপুর থানার অন্তর্গত লেটেকুজান গ্রামে ব্যানারটি পাওয়া যায়।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নাউয়ের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে স্থানীয় এক কিশোর গরু চরাতে গিয়ে ধানখেতের কাছে কয়েকটি গ্যাসভর্তি বেলুন দেখতে পায়। বেলুনগুলোর সঙ্গে একটি বড় ব্যানার বাঁধা ছিল। পরে সেগুলো একটি বাঁধের কাছে নেমে এলে কিশোরটি বেলুন ও ব্যানার সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়।   ব্যানারটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেটি বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির যুবসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের। ফ্লেক্সে ছাপানো ব্যানারে মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা লেখা ছিল। সেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছিল।   বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার ভারতের আসামের একটি গ্রামে পাওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের নজর কাড়ে। বিষয়টি গ্রামবাসীর মাধ্যমে পুলিশের কাছে পৌঁছায়। খবর পেয়ে ধলপুর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল লেটেকুজান গ্রামে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা বেলুন ও ব্যানারটি নিজেদের হেফাজতে নেন।   পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেলুনগুলো কোথা থেকে উড়ানো হয়েছিল এবং কীভাবে সেগুলো লখিমপুর জেলার ওই গ্রামে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যানারটির উৎস এবং বেলুনগুলোর সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।   এদিকে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সময় একই ধরনের ব্যানারসংবলিত বেলুন আকাশে ওড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিও সামনে আসার পর ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কোনো আয়োজন থেকে ওড়ানো বেলুন বাতাসের প্রবাহে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের আসামে পৌঁছে থাকতে পারে।   তবে আসামে পাওয়া বেলুনগুলো বাংলাদেশের ঠিক কোন স্থান থেকে ওড়ানো হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের নাম ব্যানারে থাকলেও সেটি সেখান থেকেই ওড়ানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   জাতীয়তাবাদী যুবদল ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। চলতি বছর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মসূচি ও উদযাপনের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের অংশ হিসেবে ব্যানারযুক্ত বেলুন ওড়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।   আসামের লখিমপুরে পাওয়া ব্যানারটি ওই উদযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও বেলুনগুলোর যাত্রাপথ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও সামনে আসেনি।   পুলিশ বেলুন ও ব্যানার নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর সেগুলোর উৎস শনাক্তে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠনের একটি ব্যানার কীভাবে ভারতের আসামের ধানখেতে পৌঁছাল, সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। সূত্র: আর টিভি

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ৯:২৩
প্রেমের সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন নাজমুল ইসলাম বাপ্পি

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ইউটিউব দেখে ইয়াবা কারখানা, টঙ্গীতে বাপ্পি গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লাকসামের দুই ভাই নাজমুস শাহাদাত ও নাজমুস সাকিব

যুক্তরাষ্ট্রে এআই দিয়ে বানানো কার্টুন মিম বিক্রি করে কোটি টাকার ব্যবসা বাংলাদেশের দুই ভাইয়ের

অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজ

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার

পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ রাব্বির
পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ রাব্বির, স্বপ্ন বিজ্ঞানী হওয়ার

২০১৬ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই হাত হারিয়েছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাব্বি। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেই দুর্ঘটনার পরও থেমে যায়নি তাঁর পড়াশোনা। প্রথমে মুখ দিয়ে এবং পরে পা দিয়ে লেখার কৌশল আয়ত্ত করে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। এবার ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাতেও একই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর স্বপ্ন উচ্চশিক্ষা নিয়ে একজন বিজ্ঞানী হওয়া। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বাসিন্দা রাব্বি। তাঁর বাবা বজলুর রহমান। চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্য দিয়ে টানা দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন এই শিক্ষার্থী।   রাব্বির জীবনে বড় পরিবর্তন আসে ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর। সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী এলাকার একটি ফুটওভার ব্রিজে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। দুর্ঘটনায় তাঁর দুই হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর জীবন বাঁচাতে দুটি হাতই কেটে ফেলতে বাধ্য হন। তখন পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও তাঁর ভবিষ্যৎ পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার পর নতুনভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন রাব্বি। প্রথমে মুখ দিয়ে কলম ধরে লেখার অনুশীলন করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এভাবেই পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। পরে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে লেখার জন্য পা দিয়ে কলম ধরার কৌশল শেখেন। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে সেই দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে থাকেন।   ২০২৪ সালে ভাটিয়ারীর হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন রাব্বি। পা দিয়ে লিখেই জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর ভর্তি হন চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনা চালিয়ে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পাওয়ায় তাঁর শিক্ষাজীবনে যুক্ত হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। নিজের ফলাফলে সন্তুষ্ট রাব্বি জানিয়েছেন, এই সাফল্যের পেছনে মা-বাবা, শিক্ষক এবং তাঁকে সহযোগিতা করা অন্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করতে চান। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।   ছেলের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন বাবা বজলুর রহমান। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর দুই হাত হারানো ছেলের পক্ষে আবার স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু রাব্বি নিজের চেষ্টা ও পরিবারের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ভবিষ্যতেও ছেলে যেন সফল হতে পারেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। এবার রাব্বির সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তাঁর বোন রোকাইয়া আক্তার রাওজা। তিনি ভাটিয়ারী বিজয় স্মরণী কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। রাব্বির অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার তাঁর চেষ্টা ও আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাব্বি উচ্চশিক্ষা শেষ করে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন।   এসএসসি ও এইচএসসিতে ধারাবাহিকভাবে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর রাব্বির সামনে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি। দুর্ঘটনার পর নতুনভাবে লেখার কৌশল শেখা থেকে শুরু করে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষ করা পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। এবার তাঁর লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করে গবেষণার জগতে এগিয়ে যাওয়া। সূত্র: নিউজ২৪  

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ০:২৫
ডিএমপির নিউজ পোর্টাল

ডিএমপির নিউজ পোর্টাল হ্যাক, ভাসছে রাজনৈতিক বার্তা ও সহিংসতার চিত্র

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ঢাকায় আসছেন প্রবাসী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা, ১ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন

পাটকেলঘাটায় বাস খাদে পড়ে আ হ ত ২৫ থেকে ৩০ জন

লংমার্চ থেকে ফেরার পথে জামায়াতের বাসের চা পায় নিহত পথচারী, খাদে পড়ে আ হ ত ৩০

0 Comments