সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মিশিগান

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জর্ডিন বিঘামসহ দুজন। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে গাছের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থী নিহত, আশঙ্কাজনক আরও তিনজন

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে গাছের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কায় দুই স্কুলশিক্ষার্থী নিহত এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৫ বছর বয়সী জর্ডিন বিঘাম। একই দুর্ঘটনায় তাঁর ১৬ বছর বয়সী বোন জ্যাডিসন বিঘাম আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে কালামাজু কাউন্টিতে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহনকারী একটি গাড়ি সড়ক থেকে ছিটকে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে এ ঘটনা ঘটে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার ভোর ৩টা ২৩ মিনিটের দিকে। গাড়িটিতে থাকা পাঁচজনই মাটাওয়ান হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।   পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি ওয়েস্ট আর অ্যাভিনিউ ধরে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে সেটি সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   নিহতদের একজন ১৫ বছর বয়সী জর্ডিন বিঘাম। অন্যজন ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। তবে দ্বিতীয় নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন জর্ডিনের বড় বোন জ্যাডিসন ‘জাডা’ বিঘাম। ১৬ বছর বয়সী জাডাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   এ ছাড়া ১৫ ও ১৭ বছর বয়সী আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আহত শিক্ষার্থীদের একজনের নাম লিয়ারা ফুলার। তাঁর বাবা অনলাইনে চিকিৎসা সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার সময় মেয়ের পরিচয় প্রকাশ করেন।   নিহত জর্ডিন বিঘামের পরিবারের পক্ষ থেকেও অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, আহত জাডার সুস্থ হয়ে ওঠার পথ দীর্ঘ ও কঠিন হতে পারে। তাঁর চিকিৎসার জন্য একাধিক অস্ত্রোপচার, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজন হতে পারে।   একই পরিবারের এক মেয়েকে হারিয়ে অন্য মেয়ের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে থাকা মায়ের পরিস্থিতির কথাও অর্থ সংগ্রহের আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একজন মায়ের জন্য একই সময়ে এক সন্তানের মৃত্যুতে শোক পালন এবং অন্য সন্তানের হাসপাতালের শয্যার পাশে অপেক্ষা করার মতো কঠিন পরিস্থিতি আর হতে পারে না।   পুলিশ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন। পাঁচ বন্ধু কোথায় যাচ্ছিলেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গাড়িটি কী কারণে সড়ক থেকে ছিটকে পড়েছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।   নিহত ও আহত পাঁচ শিক্ষার্থীই মিশিগানের মাটাওয়ান হাইস্কুলে পড়াশোনা করতেন। ছোট এই শহরটির জনসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস শহর থেকে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণে এর অবস্থান।   দুর্ঘটনার পর স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সোমবার রাতে মাটাওয়ান হাইস্কুলের পার্কিং এলাকায় নিহতদের স্মরণে শোকসভার আয়োজন করা হয়। দুর্ঘটনাস্থলেও ফুল ও বেলুন রেখে নিহত শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।   মাটাওয়ান কনসোলিডেটেড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট র‍্যান্ডি ফ্লিনর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই কঠিন সময়ে কমিউনিটির মানুষের সহযোগিতা তাঁদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পাশে পুরো কমিউনিটি রয়েছে, এমন অনুভূতি তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   র‍্যান্ডি ফ্লিনর আরও জানান, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পর সবাই একইভাবে শোক প্রকাশ করেন না। কেউ তাৎক্ষণিকভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় চুপ থাকেন। অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক দিন কিংবা কয়েক সপ্তাহ পর মানসিক আঘাতের প্রভাব প্রকাশ পেতে পারে।   মাটাওয়ান হাইস্কুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এক হাজার একশর বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু এবং আরও তিনজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন।   এদিকে আহত তিন শিক্ষার্থীর চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার সময় গাড়িটি কে চালাচ্ছিলেন, তা জানতে তদন্তের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মাত্র আট বছর বয়সে নিজের স্লাইমের দোকান খুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের লুনা-বেল মেজা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
খেলনার শখ থেকে সফল উদ্যোক্তা, মাত্র ৮ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব দোকান খুলল লুনা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মাত্র আট বছর বয়সেই নিজের দোকান খুলেছে লুনা-বেল মেজা। ছোটবেলায় ঘরে আঠালো খেলনা স্লাইম তৈরি করার শখ থেকেই শুরু হয়েছিল তার ব্যবসা। সেই শখ এখন পরিণত হয়েছে স্থায়ী দোকানে। গ্র্যান্ডভিল শহরের রিভারটাউন ক্রসিংস শপিং মলে গত ১৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে তার স্লাইমের দোকান ‘মুজু স্লাইম শপ’। শুধু নিজের ব্যবসা গড়ে তোলাই নয়, অন্য শিশুদেরও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দিতে চায় লুনা।   লুনার স্বপ্ন ছিল ১০ বছর বয়স হওয়ার আগেই নিজের একটি দোকান চালু করা। সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় খুশি তার মা সালমা মেজাও। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই লুনার ব্যবসার প্রতি আগ্রহ ছিল। মাত্র তিন বছর বয়সে সে গোসলের সুগন্ধি বল তৈরির একটি উপকরণ সেট কিনেছিল। তখন থেকেই হাতে তৈরি জিনিস বানানো এবং সেগুলো বিক্রির প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। পরে স্লাইম তৈরির শখকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।   স্লাইম হলো আঠালো, নরম ও প্রসারণযোগ্য একধরনের খেলনা, যা নানা রং, ঘ্রাণ ও স্পর্শের বৈশিষ্ট্যে তৈরি করা যায়। ছোটবেলায় ঘরের সোফা ও কম্বলে স্লাইম লেগে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের বেশ ঝামেলা পোহাতে হতো। লুনার মা একসময় সেই শখকেই ব্যবসায় পরিণত করার উদ্যোগ নেন। পরিবারের সদস্যরা এখন স্লাইম তৈরি, প্যাকেটজাত করা ও বিক্রির কাজে সহযোগিতা করছেন। শুরুতে বিভিন্ন হস্তশিল্পের মেলা ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে পণ্য বিক্রি করত লুনা। ধীরে ধীরে তার ব্যবসার পরিচিতি বাড়তে থাকে।   লুনার মা সালমা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন জায়গার মানুষের কাছ থেকে তাঁদের কাছে ফোন আসতে শুরু করে। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ডেট্রয়েট, ইন্ডিয়ানা ও ইলিনয় থেকে অনেকে তাঁদের স্লাইমের দোকানে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অথচ তখন তাঁদের স্থায়ী কোনো দোকান ছিল না। তাঁরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে স্লাইম তৈরির ব্যবস্থা করতেন, যেখানে ক্রেতারা নিজের পছন্দমতো স্লাইম তৈরি করতে পারতেন। সেই চাহিদা বাড়তে থাকায় স্থায়ী দোকান খোলার সুযোগ তৈরি হয়।   নতুন দোকানটিতে বিভিন্ন রং, ঘ্রাণ ও স্পর্শের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ১৩ ধরনের স্লাইম পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের জন্য রয়েছে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী স্লাইম তৈরির বিশেষ ব্যবস্থাও। এতে তাঁরা বিভিন্ন উপকরণ বেছে নিয়ে নিজের মতো করে খেলনা তৈরি করতে পারবেন। দোকানটি শুধু পণ্য বিক্রির জায়গা নয়, শিশুদের সৃজনশীলতা ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বিকাশের একটি সুযোগ হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে।   অন্য শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে লুনার পরিবার। দোকানে বিশেষভাবে তৈরি ছোট আকারের একটি স্লাইম বিক্রির পুরো আয় স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য প্লেগ্রাউন্ডজিআর’-কে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দোকানের সামনে শিশুদের জন্য একটি বাজার আয়োজন করা হবে, যেখানে তারা নিজেদের তৈরি পণ্য বিক্রি করতে পারবে। দোকানের একটি তাকও অন্য শিশু উদ্যোক্তাদের পণ্যের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। এ জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সালমা মেজা।   লুনার এই উদ্যোগে পরিবারের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্লাইম তৈরির উপকরণ প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে পণ্য প্যাকেটজাত করা পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা পাশে রয়েছেন। আট বছর বয়সেই নিজের শখকে ব্যবসায় রূপ দিয়ে লুনা যেমন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, তেমনি অন্য শিশুদেরও নিজেদের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে চাইছে।   সূত্র: ফক্স ১৩ টাম্পা বে, মুজু স্লাইম শপের ওয়েবসাইট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটগণনায় ঐতিহাসিক জয়, যুক্তরাষ্ট্রে মেয়র হওয়ার পথে বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটগণনায় ঐতিহাসিক জয়, যুক্তরাষ্ট্রে মেয়র হওয়ার পথে বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ

মিশিগানের হ্যামট্রামিক শহরের মেয়র নির্বাচনে এত দিন গণনার বাইরে থাকা ৩৭টি ব্যালট যুক্ত হওয়ার পর ভোটের হিসাবে এগিয়ে গেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ওয়েইন কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তাদের গণনায় তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯ ভোট। বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭ ভোট। ব্যবধান ১২। পরিবর্তিত ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা হয়নি।    ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বরের নির্বাচনের রাতের বেসরকারি হিসাবে আলহারবি ১১ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ১৮ নভেম্বর প্রত্যয়িত ফলে ব্যবধান কমে হয় ছয় ভোট। পরে ২ ডিসেম্বর পুনর্গণনায় আলহারবি পান ২ হাজার ৭১ ভোট, মাহমুদ ২ হাজার ৬০ ভোট। সেই হিসাবেও বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালট যুক্ত হয়নি।    নির্বাচনের পর সিটি ক্লার্কের দপ্তরে ব্যালটগুলো পাওয়া যায়। সেগুলোর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি ওঠায় ওয়েইন কাউন্টির বোর্ড অব ক্যানভাসার্সে গণনার প্রশ্নে ২–২ ভোটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ব্যালট বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যান মাহমুদ। আলহারবির আপত্তি ছিল, ব্যালটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি।    গত ২৭ মার্চ মিশিগান কোর্ট অব আপিলস ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেয়। আগস্টে রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট আপিল শুনতে রাজি না হওয়ায় সেই নির্দেশ বহাল থাকে। পরে ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্ট ১৬ অক্টোবরের মধ্যে গণনা শেষ করতে বলে।    ভোটের হিসাবে মাহমুদ এগিয়ে গেলেও মেয়র পদে পরিবর্তন এখনই হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরিবর্তিত ফল প্রত্যয়নের আগে বিচারকের পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। মাহমুদ হ্যামট্রামিকের বাসিন্দা হিসেবে মেয়র পদে যোগ্য কি না, তা নিয়েও আলহারবির পৃথক আইনি আপত্তি রয়েছে। মাহমুদ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আলহারবির আইনজীবী নতুন গণনা নিয়ে আবার ভোট পুনর্গণনার আবেদন করার কথা জানিয়েছেন।    আইনি লড়াইয়ের ব্যয় বহন নিয়েও শহরে বিতর্ক হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হ্যামট্রামিক রিভিউ সরকারি নথির ভিত্তিতে জানিয়েছে, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত আলহারবির আইনি ব্যয়ের বিল ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৪২ ডলার; মোট ব্যয় দুই লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।  সূত্র: সিবিএস ডেট্রয়েট, মিশিগান কোর্ট অব আপিলসের রায়, ভোটবিট ও দ্য হ্যামট্রামিক রিভিউ।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে ল্যান্সিং রিভার ট্রেইলে ৫ জনের রহস্যজনক মৃ ত্যু, সিরিয়াল কিলারের আতঙ্কে সতর্কতা
মিশিগানে ল্যান্সিং রিভার ট্রেইলে ৫ জনের রহস্যজনক মৃ ত্যু, সিরিয়াল কিলারের আতঙ্কে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ল্যান্সিং রিভার ট্রেইল এলাকায় সম্প্রতি পাঁচজনের রহস্যজনক মৃত্যু ও হামলার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিগ টেন কলেজ টাউন হিসেবে পরিচিত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য এই সিরিয়াল কিলারের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ল্যান্সিং পুলিশ বিভাগ বর্তমানে তদন্ত করে দেখছে যে, জনপ্রিয় এই রিভার ট্রেইলে ওঁত পেতে থাকা কোনো এক আক্রমণকারীর সাথে গত এক বছরে ঘটা এই পাঁচটি মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না।   এই ভীতিকর পরিস্থিতিতে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কারেন হোল্ট শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে যৌক্তিক হওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, একক বা ধারাবাহিক খুনিরা সাধারণত দুর্বল এবং ভবঘুরে মানুষদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। কারণ অপরাধীরা মনে করে এ ধরনের মানুষদের ওপর হামলা করলে তাদের ধরা পড়ার ঝুঁকি কমে যায়। হোল্টের মতে, কোনো এলাকায় এভাবে মানুষ আক্রান্ত হলে সেই কমিউনিটিকে আর নিরাপদ বলা চলে না।   গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই ট্রেইলে পাঁচজন পুরুষ হামলার শিকার হন। পুলিশি তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে জিনো চুইনার্ড (৫৪) এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডেনিস ডানবাকেকে (৭০) অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর তারা মারা যান, যাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও অজানা। অন্যদিকে, জুলাইয়ে রবার্ট স্মিথ (৫৭) এবং আগস্টের শেষে লুইস উডরাফ (৫৭) মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান। চিকিৎসা কর্মকর্তারা এই দুটি মৃত্যুকে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেছেন।   তবে এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ২২ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লাস্কের মৃত্যুর ধরনটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাকে গত ২০ আগস্ট ইস্ট মিশিগান অ্যাভিনিউ ব্রিজের নিচে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর ২৩ বছর বয়সী এডওয়ার্ড জোসেফ স্মিথকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে অন্য চারটি মৃত্যুর সাথে স্মিথের কোনো সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।   অধ্যাপক হোল্ট ড্যানিয়েলের হত্যার ধরনটি ভিন্ন হওয়ায় ভুক্তভোগী ও অপরাধীর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আরও তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন। সম্ভাব্য সিরিয়াল কিলারের বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করে কিছু না জানালেও, সতর্কতা হিসেবে জনসাধারণকে ওই নির্দিষ্ট ট্রেইলটি এড়িয়ে বিকল্প পথে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক হোল্ট।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ছয় দিনের ব্যবধানে পৃথক দুই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি তরুণ। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ২৪ বছর বয়সী শাহ আহসান আরদি এবং মিশিগানের ওয়ারেন শহরে মাহবুব রহমানের মৃত্যু হয়েছে। দুই দুর্ঘটনায় দুই তরুণের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।   প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে ৩ অক্টোবর ভোরে নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে। পুলিশকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ টুয়েলভ জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে মেজর ডিগ্যান এক্সপ্রেসওয়ের উত্তরমুখী লেনে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ওয়েকফিল্ড এলাকার বাসিন্দা শাহ আহসান আরদি। ম্যাকম্বস ড্যাম ব্রিজের কাছে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গার্ডরেলে ধাক্কা দেন। সংঘর্ষের পর তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের উত্তরমুখী লেনগুলো প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।   দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ৯ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে মিশিগানের ওয়ারেন শহরে। আওয়াজবিডি ও আমেরিকা বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের ১২ মাইল রোড ও হুভার রোডের সংযোগস্থলে মাহবুব রহমানের মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ওয়ারেন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে মাহবুব রহমানের বয়স, পারিবারিক পরিচয় এবং সংঘর্ষের বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   দুটি ঘটনাই আলাদা অঙ্গরাজ্যে ঘটলেও কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু প্রবাসী কমিউনিটির জন্য বেদনাদায়ক খবর। নিউইয়র্কের দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গার্ডরেলে ধাক্কা লাগার কথা পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, মিশিগানের ঘটনায় অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উভয় দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল জানা গুরুত্বপূর্ণ।   প্রবাসে কাজ ও জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে সড়কে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা ব্যক্তিকে দায়ী করা যাচ্ছে না। দুই তরুণের মৃত্যুতে তাঁদের পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সংবাদমাধ্যমগুলো।

তাবাস্সুম অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন
মিশিগানে অপরিচিত মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের হেজাম হুসেইন

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার অপরিচিত মানুষদের সাহায্য করতে গিয়ে গাড়িচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক মুসলিম তরুণ। নিহতের নাম হেজাম হুসেইন। তিনি মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরের বাসিন্দা ছিলেন। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) গভীর রাতে সাউথফিল্ড এলাকায় লজ ফ্রিওয়েতে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের সাহায্য করার সময় আরেকটি গাড়ির ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার ডিয়ারবর্নে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তরুণের এমন মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস ডেট্রয়েট জানিয়েছে, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে সাউথফিল্ডের নাইন মাইল রোডের কাছে এম-১০ লজ ফ্রিওয়ের দক্ষিণমুখী অংশে দুটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর একটি গাড়ি বিকল হয়ে হাইওয়ের বাঁ পাশের দুটি লেন আটকে দেয়।   ঠিক সেই সময় ওই হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিলেন হেজাম হুসেইন। দুর্ঘটনাটি দেখে তিনি নিজের গাড়ি রাস্তার ডান পাশের শোল্ডারে থামান। এরপর গাড়ি থেকে নেমে হাইওয়ে পার হয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মানুষদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান।   পুলিশ জানিয়েছে, হুসেইন প্রথম দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি কেবল বিপদে পড়া মানুষদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে গাড়ি থামিয়েছিলেন।   কিন্তু সাহায্য করার সময়ই ঘটে আরেকটি দুর্ঘটনা। হাইওয়ে দিয়ে আসা একটি গাড়ির চালক সামনে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটি এড়ানোর চেষ্টা করেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ সামলাতে গিয়ে তাঁর গাড়িটি হুসেইনকে ধাক্কা দেয়।   গুরুতর আহত অবস্থায় হুসেইনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন মিশিগান স্টেট পুলিশ, সাউথফিল্ড পুলিশ এবং ফায়ার ডিপার্টমেন্টের জরুরি উদ্ধারকর্মীরা। ঘটনাস্থলেই তাঁকে সিপিআরসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, যে চালকের গাড়ির ধাক্কায় হুসেইনের মৃত্যু হয়েছে, তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যাননি। বরং সেখানে অবস্থান করে তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেছেন।   প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার সঙ্গে অ্যালকোহল কিংবা মাদকের সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।   এদিকে সোমবার (৫ অক্টোবর) ডিয়ারবর্নে হেজাম হুসেইনের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা তাঁকে শেষবিদায় জানাতে উপস্থিত হন।   তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা। তাঁদের কাছে হুসেইন ছিলেন শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসা একজন তরুণ।   সিবিএস ডেট্রয়েটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হুসেইনের চাচাতো ভাই আবদুল গালেব জানান, অপরিচিত মানুষকে সাহায্য করার জন্য গাড়ি থামানোর ঘটনা হুসেইনের স্বভাবের সঙ্গেই মিলে যায়। তিনি সব সময় অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে চাইতেন।   হুসেইনের বন্ধু মোহাম্মদ হাসান ও হাচ আলসায়েদিও তাঁকে একজন দয়ালু ও সাহায্যপ্রবণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন। তাঁদের ভাষায়, হুসেইনের ব্যবহার ও মানুষের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে পরিচিতজনদের কাছে বিশেষ করে তুলেছিল।   হুসেইনের সাবেক একজন শিক্ষকও তাঁর স্মৃতিচারণ করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, হুসেইন ছিলেন শান্ত, বিনয়ী, ভদ্র ও শ্রদ্ধাশীল একজন শিক্ষার্থী। অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতাও তাঁর মধ্যে ছিল।   দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী কেনেডি মনক্রিফ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউডিআইভি লোকাল ফোরকে জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর বান্ধবী একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে প্রথম দুর্ঘটনাটি দেখতে পান। এরপর তাঁরা রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন।   কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেকটি গাড়ি এসে থামে। সেই গাড়ির চালক ছিলেন হেজাম হুসেইন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে এগিয়ে যান। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে আরেকটি গাড়ি ধাক্কা দেয়।   প্রত্যক্ষদর্শী মনক্রিফ হুসেইনকে একজন নিঃস্বার্থ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অপরিচিত মানুষের বিপদে এগিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে হুসেইন মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন।   হুসেইনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া করেছেন।   অনেকে আল্লাহর কাছে হুসেইনকে জান্নাত দান এবং তাঁর পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দেওয়ার প্রার্থনা জানিয়েছেন।   এদিকে দুর্ঘটনার পর হাইওয়েতে অন্যদের সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনাটি সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশের লেফটেন্যান্ট টাই হাওয়ার্ড স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় সাহায্য করতে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। কিন্তু দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা দেখলে নিরাপদ অবস্থান থেকে জরুরি সেবায় ফোন করা উচিত। কারণ পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদে রাস্তা নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম রয়েছে।   মিশিগানের মুভ ওভার আইন অনুযায়ী, জরুরি সেবার গাড়ি নির্ধারিত সতর্কতামূলক আলো জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান করলে অন্য চালকদের পরিস্থিতি অনুযায়ী লেন পরিবর্তন অথবা গতি কমিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হয়।   হেজাম হুসেইনের মৃত্যু তাঁর পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে এসেছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর জীবন শেষ হলেও শেষ মুহূর্তে অপরিচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাটি স্থানীয় কমিউনিটির মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।   মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প ও আবদুল এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব
ব্যঙ্গ করে ‘মোহাম্মদ’ নামে আবদুল এল-সাইয়েদকে সম্বোধন ট্রাম্পের, সঙ্গে দিলেন ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ তকমাও

মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে নিয়ে নতুন করে তীব্র আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আক্রমণের ভাষার পাশাপাশি এবার ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে প্রার্থীর নাম নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। আবদুল এল-সাইয়েদের বদলে তাকে ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এরপর তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি।   বুধবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ ডেমোক্র্যাটদের জন্য একজন ‘ভয়ংকর প্রার্থী’। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, এল-সাইয়েদ ‘জিহাদের সময়ের’ সঙ্গে যুক্ত এবং তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ হিসেবে আখ্যা দেন।   তবে ট্রাম্পের পোস্টে ব্যবহৃত ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে মিশিগানের এবারের সিনেট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী নেই। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। ফলে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে নামটি বদলে লিখেছেন, নাকি ভুল করে লিখেছেন—তা স্পষ্ট নয়।   ট্রাম্প তার পোস্টে এল-সাইয়েদের সঙ্গে অনলাইন স্ট্রিমার হাসান পিকারকে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি এল-সাইয়েদকে পিকারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে ওই পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি ট্রাম্প।   একই পোস্টে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থনও ঘোষণা করেন। তিনি রজার্সকে অত্যন্ত ভালো প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে মিশিগানের ভোটারদের তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।   মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ আলোচিত। আবদুল এল-সাইয়েদ আগস্টে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি জিতে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স।   সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদ ও রজার্সের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন পোস্ট-শার স্কুল জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট, অর্থাৎ ব্যবধানটি পরিসংখ্যানগতভাবে খুব বড় নয়।   এল-সাইয়েদকে নিয়ে রিপাবলিকানদের আক্রমণ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে থেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান প্রচারে তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।   অন্যদিকে এল-সাইয়েদ তার প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মতো স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রাখছেন। তার প্রচারণার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।   রজার্সও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে ভিন্নমত দেখিয়েছেন। বিশেষ করে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান শুল্ক বিরোধ শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। মিশিগানের কানাডার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় এই ইস্যুটি তার প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে।   তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টে রজার্সের প্রতি তার সমর্থন স্পষ্ট। আর আবদুল এল-সাইয়েদের নাম ‘মোহাম্মদ’ লিখে তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলার বিষয়টি মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক প্রচারের নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।   মিশিগানের সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ভোটের আগে দুই দলের প্রচারণা আরও তীব্র হওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের ঘিরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণও বাড়তে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের ডে-কেয়ার সেন্টারে তিন বছর বয়সী এক শিশুর ব্যাগে গুলিভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ডে-কেয়ারে ব্যাগের ভেতর গুলিভর্তি বন্দুক নিয়ে হাজির ৩ বছরের শিশু

মিশিগানের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে তিন বছরের এক শিশুর ব্যাগ থেকে গুলিভর্তি পিস্তল বের করে অন্য শিশুদের মধ্যে ঘোরানোর ঘটনায় তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশুটির বাবা ব্র্যান্ডন জন এলি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মা রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র অনিরাপদভাবে সংরক্ষণের অভিযোগ।   ঘটনাটি ঘটে ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে মিশিগানের ক্যান্টন টাউনশিপের চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টারে। ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ওই ডে-কেয়ারে খবর পেয়ে যায়। অভিযোগ, শিশুটি শ্রেণিকক্ষে রাখা একটি ব্যাগ থেকে হোলস্টারে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে। পরে সেটি অন্য কয়েকজন শিশুর হাতেও যায়। একজন শিক্ষক বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অস্ত্রটি শিশুদের কাছ থেকে সরিয়ে নেন।   পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রটি গুলিভর্তি ছিল এবং ঘটনার সময়ও হোলস্টারের ভেতরে ছিল। তবে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি এবং কোনো শিশু বা শিক্ষক আহত হননি। ক্যান্টন পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালি ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও দেখেছেন। তাঁর ভাষায়, ভিডিওতে তিন বছরের শিশুকে ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করতে দেখা ‘বিস্ময়কর’ হলেও ডে-কেয়ারের কর্মীর দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।   ওয়েন কাউন্টির প্রসিকিউটর কিম ওয়ার্থি বলেন, এই ঘটনায় কী ঘটতে পারত, তা ভাবাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, কোনো প্রাণহানি না হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আদালতে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে অভিযোগগুলো প্রমাণ করার মতো তথ্য-প্রমাণ তাদের রয়েছে।   সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যান্ডন জন এলি, ২৮, এবং রাবাব ইব্রাহিম আল জায়াদ, ২৭, উভয়েই ওয়েন কাউন্টির বাসিন্দা। ১ অক্টোবর প্লাইমাউথের ৩৫তম ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বিচারক জো ব্যারোনের সামনে তাদের হাজির করা হয়। এলির বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার শিশু নির্যাতরের অভিযোগটি এক বছরের মেয়াদের একটি লঘু অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আর জায়াদের বিরুদ্ধে অনিরাপদভাবে আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগটি সর্বোচ্চ ৯৩ দিনের শাস্তিযোগ্য লঘু অপরাধ।   আদালত উভয়ের ওপর ১০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত বন্ড নির্ধারণ করেছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে তাদের ডে-কেয়ার কেন্দ্রে না যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিচারক দুজনকেই কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নিজেদের কাছে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এলি আদালতে জানিয়েছিলেন, তার বাড়িতে তিনটি নিরাপদ সংরক্ষণাগারে মোট নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তবে সেগুলোও হস্তান্তরের নির্দেশ দেন বিচারক।   এলি ডেট্রয়েট পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলাটি চলাকালে তাকে প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনের সময়ও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর আইনজীবী কর্মস্থলে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র রাখার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে বিচারক সেই অনুরোধ নাকচ করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অস্ত্রটি এলির চাকরির জন্য সরবরাহ করা অস্ত্র ছিল না। তবে কীভাবে শিশুটি ব্যাগ থেকে অস্ত্রটি বের করার সুযোগ পেল, সে বিষয়ে তদন্তে অনিরাপদ সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাগটি শ্রেণিকক্ষেই রাখা ছিল এবং শিশুটি সেখান থেকে অস্ত্রটি বের করে।   ঘটনার পর চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টার পরিবারটিকে প্রতিষ্ঠান থেকে বাদ দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশু ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কেন্দ্রটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে শিশুদের ব্যাগ তল্লাশির মতো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ডে-কেয়ার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে তাদের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। বিশেষ করে যে শিক্ষক অস্ত্রটি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের কাছ থেকে সেটি সরিয়ে নেন, তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের প্রধান জোসেফ বিয়ালিও কর্মীদের প্রশংসা করে বলেছেন, শ্রেণিকক্ষে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক দ্রুত পরিস্থিতি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ায় শিশুদের নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়েছে।   মিশিগানের আইনে শিশু উপস্থিত থাকলে বাড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদভাবে তালাবদ্ধ করে রাখার বিধান রয়েছে। ক্যান্টন পুলিশও ঘটনার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদে সংরক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং পরবর্তী শুনানি ৩০ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে।   সূত্র: ওয়েন কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য, WDIV, দ্য ডেট্রয়েট নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
মোহাম্মদ আব্দুর রহিম
মেয়েকে ড্রাইভিং শেখাতে গিয়ে বাংলাদেশি বাবার মৃত্যু, পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির তহবিল সংগ্রহ

মিশিগানের ওয়ারেনে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখানোর সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান মোহাম্মদ আব্দুর রহিম। রোববার বিকেলে নিজ বাসার সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কমিউনিটির উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহও শুরু হয়েছে।    স্থানীয় সময় ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ারেনের ওয়ার্নার অ্যাভিনিউয়ের ২৪ হাজার ব্লকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৬২ বছর বয়সী আব্দুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। গাড়ি ঘুরিয়ে পার্ক করার অনুশীলনের একপর্যায়ে গাড়িটি হঠাৎ পেছনের দিকে চলে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেয় এবং কিছু দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    দুর্ঘটনার সময় তার মেয়ে ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সঙ্গে মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী বা ঘটনার বিষয়ে তথ্য থাকা ব্যক্তিদের তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বানও জানিয়েছে পুলিশ।    আমেরিকা বাংলার কমিউনিটি সূত্রে নিহতের নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এবং তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে।    আব্দুর রহিমের আকস্মিক মৃত্যুতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। যে বাবা মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই শেখানোর সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের শেষ দুর্ঘটনা।   এদিকে পরিবারের আর্থিক সংকটও আরও গভীর হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আব্দুর রহিম ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। তার আকস্মিক মৃত্যুতে একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে জানাজা ও দাফনের খরচ, বাসাভাড়া, খাবার, বিল এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ পরিবারের ওপর এসে পড়েছে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত মেয়েটিও কঠিন মানসিক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে পরিবারকে সহায়তার জন্য শুরু করা তহবিল সংগ্রহের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরিবারের সম্মতিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার জন্য কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা সম্ভব না হলে তহবিল সংগ্রহের তথ্যটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরিবারের জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ এগিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ।     সহযোগিতা করতে: https://www.launchgood.com/v4/campaign/help_a_grieving_warren_family?src=6954850

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ক্যান্টন শহরের চিলড্রেনস ওয়ার্ল্ড আর্লি লার্নিং সেন্টার ডে কেয়ার। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের ডে কেয়ারে শিশুর ব্যাগে গুলিভরা পিস্তল, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ক্যান্টন শহরের একটি ডে কেয়ারে সোমবার একটি শিশু ব্যাগ থেকে গুলিভরা পিস্তল বের করে। কর্মীরা দ্রুত অস্ত্রটি দেখতে পেয়ে ব্যবস্থা নেওয়ায় কেউ আহত হয়নি। ঘটনার তদন্তে শিশুটির এক অভিভাবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে; তিনি পাশের একটি এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা।   ক্যান্টনের পুলিশপ্রধান জোসেফ বিয়ালি সংবাদ সম্মেলনে জানান, পিস্তলটি ওই অভিভাবকের, তবে এটি তাঁর দায়িত্ব পালনের অস্ত্র নয়। কীভাবে অস্ত্রটি শিশুর নাগালে এল, তা তদন্ত করা হচ্ছে।   ডে কেয়ারের ভিডিওতে শিশুটিকে ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করতে দেখা গেছে বলে জানান বিয়ালি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় কক্ষে থাকা একজন কর্মী বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং শিশুদের নিরাপদে রাখেন।   পুলিশপ্রধান বলেন, প্রাথমিকভাবে কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্য ছিল বলে তাঁর মনে হচ্ছে না। তবে আগ্নেয়াস্ত্র নিরাপদে রাখা এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা হয়েছে কি না, সেটিই এ ঘটনার মূল প্রশ্ন।   ডে কেয়ারটিতে আগে থেকেই নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। ঘটনার পর সব শিশুর ব্যাগ পরীক্ষা করার নিয়ম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিয়ালি। তদন্ত চলমান থাকায় হেফাজতে নেওয়া অভিভাবকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা পুলিশ জানায়নি।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে মিশিগানে বাংলাদেশি বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু
মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে মিশিগানে বাংলাদেশি বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে তারই চালানো গাড়ির ধাক্কায় ৬২ বছর বয়সী বাংলাদেশি বাবা মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়েছে। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ার্নার অ্যাভিনিউয়ের ২৪ হাজার ব্লকের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   ওয়ারেন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় আব্দুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিকঅনডেট্রয়েট জানিয়েছে, মেয়েটি তখন গাড়ি পার্ক করার অনুশীলন করছিল। একপর্যায়ে গাড়িটি তার বাবাকে ধাক্কা দেয় এবং থামার আগে তাকে অল্প দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রহিমকে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।    পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ১৮ বছর বয়সী মেয়েটি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া আলামত মেয়েটির দেওয়া ঘটনার বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট। দুর্ঘটনা সম্পর্কে তথ্য থাকলে তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।    ওয়ারেন পুলিশ এখনো নিহত ব্যক্তির নাম বা পারিবারিক পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে আমেরিকা বাংলার কমিউনিটি সূত্রে নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এবং তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।   পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন আব্দুর রহিম। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে।   মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আব্দুর রহিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।   যে বাবা মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ড্রাইভিং শেখানোর সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের শেষ দুর্ঘটনা।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সায়েদকে সমর্থন দিল অঙ্গরাজ্যটির বৃহত্তম সংবাদপত্র

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অন্যতম প্রধান সংবাদপত্র ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস আসন্ন মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মিশিগানের ভোটারদের এল-সায়েদকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়।   সম্পাদকীয়তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে নিয়ে পত্রিকাটি তীব্র সমালোচনামূলক ভাষা ব্যবহার করেছে। সেখানে রজার্সকে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে, তিনি এমন একটি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেন যা পত্রিকাটির মতে মিশিগানের মূলধারার মানুষের অবস্থান থেকে অনেক দূরে।   তবে ‘চরমপন্থী’ শব্দটি ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের সম্পাদকীয় মূল্যায়ন, কোনো নিরপেক্ষ সরকারি বা আদালতের শ্রেণিবিন্যাস নয়। রজার্সের প্রচারণা এখনো এ বিষয়ে মন্তব্য করেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।   ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নিয়ে এমন সমালোচনা থাকলেও সেই প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ নন। এরপর পত্রিকাটি এল-সায়েদের বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রচারণার বিষয় তুলে ধরে তার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে।   মিশিগানের সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। এল-সায়েদ ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন, আর রিপাবলিকানদের প্রার্থী মাইক রজার্স। দুজনই ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   এল-সায়েদ এর আগে ওয়েইন কাউন্টি ও ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ম্যালরি ম্যাকমরো এবং হ্যালি স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলে দলের প্রার্থী হন। প্রাইমারির আগে ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস অবশ্য অন্য প্রার্থী ম্যালরি ম্যাকমরোর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল।   অন্যদিকে রজার্স মিশিগান থেকে সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি। চলতি নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। এল-সায়েদ ও রজার্সের মধ্যে নির্বাচনী বিতর্কও নির্ধারিত হয়েছে। ৮ অক্টোবর গ্র্যান্ড র‌্যাপিডসে একটি বিতর্ক এবং ২১ অক্টোবর ডেট্রয়েটে আরেকটি বিতর্ক হওয়ার কথা রয়েছে।   এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সমর্থনও দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২২ সেপ্টেম্বর এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানান। এর আগে ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সসহ কয়েকটি সংগঠনও এল-সায়েদকে সমর্থন দিয়েছে।   অন্যদিকে ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদপত্র ডেট্রয়েট নিউজ চলতি মাসের শুরুতে রজার্সের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফলে মিশিগানের দুই প্রভাবশালী সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় সমর্থন দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়ে গেছে।   ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস অতীতের দুই মিশিগান সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করেছিল। তাই এবারের সমর্থনকে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় অবস্থানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংবাদপত্রের সমর্থন নিজে থেকে নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা দেয় না।   নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন, জাতীয় রাজনীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে মিশিগানের সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচারণা ও বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার কথা রয়েছে।   সূত্র: ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস, ডেট্রয়েট নিউজ, নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে
মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস শহরের হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতালে চার মাসের এক অপরিণত (প্রিম্যাচিউর) শিশুকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগে কিয়েরান অ্যান্সলি (৪৩) নামের এক নার্সকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসার পর শিশুটির যখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কথা, ঠিক তার আগেই এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।   শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে দাগ ও পা ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করেন তার মা, যা পরবর্তীতে চিকিৎসকদের কাছে ‘পেডিয়াট্রিক ফিজিক্যাল অ্যাবিউজ’ বা শারীরিক শিশু নির্যাতন হিসেবে প্রমাণিত হয়।   পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বরে মাত্র ২৩ সপ্তাহ গর্ভধারণের পর ১ পাউন্ড ১ আউন্স ওজন নিয়ে জন্ম নেয় শিশুটি। টানা চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পর এপ্রিলে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়।   কিন্তু ২ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান তার মা এবং পরের দিন ভোরে ফিরে এসে দেখেন, তার মেয়ের জিভ নীলচে-কালো হয়ে আছে এবং শরীরে বেশ কয়েকটি কালশিটে দাগ রয়েছে।   এ সময় অভিযুক্ত নার্স অ্যান্সলি তড়িঘড়ি করে শিশুটির মাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে এটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু মায়ের সন্দেহের জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলে নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসে।   হাসপাতালের লগবুক থেকে জানা যায়, ওই রাতে শিশুটির কক্ষে মোট ৩২ বার প্রবেশের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ২৭ বারই প্রবেশ করেছিলেন অ্যান্সলি। অন্য নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই রাতে অ্যান্সলি তার দায়িত্ব নিয়ে বেশ হতাশ ও বিভ্রান্ত ছিলেন।   চিকিৎসকদের বিস্তারিত পরীক্ষায় শিশুটির হাত, পা, পেট, নিতম্ব ও জিভে মারাত্মক আঘাতের পাশাপাশি পায়ের হাড় ভাঙার প্রমাণ মেলে।   শিশু নির্যাতনের চার দফা অভিযোগে চলতি মাসের শুরুতে অ্যান্সলিকে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তিনি ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং ডিভাইস পরার শর্তে জামিনে মুক্ত আছেন। আগামী নভেম্বরে তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   এদিকে, হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ ওঠার পরপরই ওই নার্সকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চরম এই ট্রমা পেরিয়ে নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে ক্যালিডোনিয়ায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন তার দাদা রবার্ট স্টিভেন্স।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে দুর্ঘটনায় নিহত গুয়াতেমালার অভিবাসী মারিও
আইসিইর আটকের ভয়ে পালাতে গিয়ে নিহত অভিবাসী চালকের পরিবারের আহাজারি

মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে আইসিইর গাড়ি থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গুয়াতেমালার অভিবাসী মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। ৩৬ বছর বয়সী মারিও ছিলেন তিন সন্তানের বাবা। যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণকাজ করে উপার্জনের অর্থ তিনি গুয়াতেমালায় থাকা স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে পাঠাতেন বলে পরিবার জানিয়েছে।   মারিওর স্ত্রী মাসাদোনিয়া জানিয়েছেন, স্বামী প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। কিন্তু গত রোববার সকালে তার নিয়মিত ফোনটি আসেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি সন্তানদের জানান, কেন তাদের বাবা ফোন করছেন না, তা তিনি জানেন না। পরে তারা জানতে পারেন, মারিও গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। স্ত্রী বলেন, মারিও সন্তানদের নিয়ে সবসময় চিন্তা করতেন এবং তাদের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মারিওর ১৩ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়ে এবং ৭ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। তিনি গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ করছিলেন এবং উপার্জনের অর্থ নিয়মিত পরিবারকে পাঠাতেন। এখন তার মরদেহ গুয়াতেমালায় ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে পরিবার।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে হল স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় আইসিই এজেন্টরা মারিওর গাড়ি থামানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ বলছে, চালক সেখান থেকে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যান। প্রায় এক মাইল দূরে ম্যাককেনড্রিক স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় গাড়িটি একটি গাছে ধাক্কা দেয় এবং আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আইসিইর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগের কোনো পূর্বজ্ঞান বা সম্পৃক্ততা ছিল না। ফেডারেল এজেন্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্থানীয় তদন্তকারীদের সীমাবদ্ধতা থাকায় পুলিশ প্রধান জোসেফ ট্রিগ মিশিগান স্টেট পুলিশকে তদন্তে যুক্ত করার অনুরোধ করেন। গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।   নিহত ব্যক্তিকে গুয়াতেমালার নাগরিক মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজ হিসেবে শনাক্ত করেছেন গুয়াতেমালার শিকাগো কনসাল জেনারেল রোজারিও ওভান্দো। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারিও গুয়াতেমালার সান মার্কোস শহরের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় অধিকারকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তানকে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছিলেন।   এদিকে ঘটনার পর গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি তুলেছেন। তবে আইসিইর থামানোর চেষ্টা এবং পরবর্তী দুর্ঘটনার মধ্যে আইনগত দায় বা চূড়ান্ত কারণ এখনো তদন্তাধীন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   মারিওর স্ত্রী এখন স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে একা হয়ে পড়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ গুয়াতেমালায় নিয়ে গিয়ে স্বজনদের কাছে দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনাস্থলের কাছে তাকে স্মরণ করে একটি ভিজিল বা স্মরণসভা আয়োজনের কথাও জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   সূত্র: ফক্স ১৭, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ বিভাগ

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে প্রাণ গেল অভিবাসী চালকের
মিশিগানে আইসিইর থামানোর চেষ্টা থেকে পালিয়ে প্রাণ গেল অভিবাসী চালকের

মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিইর কর্মকর্তারা একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করার পর চালক পালিয়ে যান। পরে গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ঘটনাটি ২০ সেপ্টেম্বর সকালে ঘটে।   পুলিশের তথ্যমতে, সকাল প্রায় ৭টার দিকে হল স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউয়ের কাছে আইসিই কর্মকর্তারা গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন। চালক দ্রুতগতিতে সেখান থেকে চলে যান। প্রায় এক মাইল দূরে ম্যাককেন্ড্রিক স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর গাড়িতে আগুন ধরে যায়। চালক ছাড়া গাড়িতে আর কেউ ছিলেন না এবং ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ প্রধান জো ট্রিগ জানিয়েছেন, গাড়িটি থামানোর চেষ্টা ও দুর্ঘটনার মধ্যবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে পুলিশের তদন্তকারীরা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন। এ কারণে তিনি মিশিগান স্টেট পুলিশকে তদন্তে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ করেছেন।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আইসিইর ওই কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কোনো পূর্ব জ্ঞান বা সম্পৃক্ততা ছিল না। স্থানীয় পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, তারা তদন্তে সহায়তা করছে।   পরবর্তী তদন্তে নিহত চালককে মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তিনি গুয়াতেমালার নাগরিক ছিলেন এবং প্রায় সাত বছর ধরে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে বসবাস ও নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন বলে তাঁর স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাঁর সন্তানরা গুয়াতেমালায় রয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিলারি শোলটেন আইসিইর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো ট্রাফিক স্টপ যেন প্রাণহানিতে শেষ না হয় এবং ওই ঘটনার আগে কী ঘটেছিল তা জানার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য; দুর্ঘটনার কারণ বা আইসিই কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।   এদিকে মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার মিশিগান স্টেট পুলিশকে ঘটনাটির বিষয়ে স্বাধীন পর্যালোচনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে আইসিইর কার্যক্রম, গাড়ি থামানোর চেষ্টা থেকে দুর্ঘটনা পর্যন্ত সময়ের ঘটনাপ্রবাহ এবং অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে।   আইসিই ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে পুলিশের বক্তব্যের বাইরে ফেডারেল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ঘটনাটির পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান থাকায় আইসিইর থামানোর চেষ্টা ও চালকের মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি আইনগত বা কার্যকারণ সম্পর্ক স্থির হয়েছে—এমন তথ্য এখনো নেই।  

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে গর্ভবতী মায়েদের নগদ সহায়তা নিয়ে রিপাবলিকানদের আপত্তি
মিশিগানে গর্ভবতী মায়েদের নগদ সহায়তা নিয়ে রিপাবলিকানদের আপত্তি

মিশিগানে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের পরিবারকে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া ‘আরএক্স কিডস’ কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা কর্মসূচিটির অর্থব্যবহার, যোগ্যতার শর্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে কঠোর তদারকির দাবি তুলেছেন।   মিশিগান হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জে ডিবোয়ার দাবি করেছেন, গ্যারান্টিড ইনকাম ধরনের কর্মসূচি কার্যকর নয় এবং এগুলো মূলত সম্পদ পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা। তার নেতৃত্বে একদল রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আরএক্স কিডসের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন।   আরএক্স কিডসের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী এলাকায় গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থায় এককালীন ১ হাজার ৫০০ ডলার পান। এরপর শিশুর জন্মের পর অধিকাংশ এলাকায় প্রতি মাসে ৫০০ ডলার করে সর্বোচ্চ ছয় মাস দেওয়া হয়। কিছু এলাকায় এই মাসিক সহায়তা শিশুর প্রথম বছর পর্যন্ত চলতে পারে। আয় বা চাকরির শর্ত নেই; তবে নির্দিষ্ট অংশগ্রহণকারী এলাকায় বসবাস, গর্ভাবস্থা বা শিশুর অভিভাবকত্বের মতো যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।   কর্মসূচিটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মিশিগানের ফ্লিন্টে শুরু হয়। পরে এটি মিশিগান ও ওহাইওর ৬০টির বেশি কমিউনিটিতে সম্প্রসারিত হয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি কর্মসূচিটির নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং গিভডাইরেক্টলি এর নগদ অর্থ বিতরণ পরিচালনা করছে।   রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের প্রধান আপত্তির একটি হলো, পরিবারগুলো এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করবে, তার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ নেই। তারা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের সরকারি ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে কর্মসূচি পরিচালনার প্রয়োজন কেন হচ্ছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল স্বাধীনভাবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।    অন্যদিকে কর্মসূচির সমর্থকেরা বলছেন, গর্ভাবস্থা ও শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক মাসে পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোই এর উদ্দেশ্য। মিশিগান সরকারের একটি স্বাস্থ্যসেবা নথিতেও আরএক্স কিডসকে গর্ভবতী নারী, শিশু ও পরিবারকে শর্তহীন নগদ সহায়তা দেওয়ার একটি কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।    আরএক্স কিডসের পরিচালক ড. মোনা হানা অবশ্য এটিকে প্রচলিত গ্যারান্টিড ইনকাম বা ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম কর্মসূচি হিসেবে দেখেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি মূলত গর্ভাবস্থা ও শিশুর জীবনের শুরুর সময়কে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ও পারিবারিক প্রয়োজন মোকাবিলার কর্মসূচি। তবে মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগের নথিতে আরএক্স কিডসকে গ্যারান্টিড ইনকাম কর্মসূচির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।    মিশিগানের এই বিতর্ক এখন মূলত দুটি প্রশ্নকে ঘিরে—করদাতাদের অর্থে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া কতটা কার্যকর এবং এমন কর্মসূচির অর্থব্যবহার ও ফলাফল কীভাবে পরিমাপ করা হবে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা আরও তদারকি চান, আর কর্মসূচির সমর্থকেরা বলছেন, শিশু ও পরিবারকে আর্থিক স্থিতিশীলতা দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। ফলে আরএক্স কিডস নিয়ে বিতর্কটি এখন শুধু একটি সহায়তা কর্মসূচি নয়, বরং সরকারি নগদ সহায়তার ভূমিকা নিয়েও বৃহত্তর নীতিগত আলোচনায় পরিণত হয়েছে।    Source: ফক্স নিউজ, মিশিগান হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস,

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার
মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি নদীতে তলিয়ে যাওয়া জিপ থেকে ভ্যানেসা বাউতিস্তা (২৪) এবং অ্যালেক্সা নাভারো (২৩) নামের দুই তরুণী মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেন্ট জোসেফ নদী থেকে তাদের ডুবন্ত গাড়িটি টেনে তোলার পর এই মর্মান্তিক পরিণতি সামনে আসে।   ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ডের বাসিন্দা এই দুই নারী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ব্যাপক খোঁজ করা হচ্ছিল। সম্প্রতি ভ্যানেসার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হৃদয়বিদারক শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাকে দুই সন্তানের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক স্নেহময়ী মা হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।   শোকবার্তায় বলা হয়, ভ্যানেসার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল তার মাতৃত্ব। তিনি তার দুই ছেলে জাইরে ও জেসিয়াহকে নিজের পৃথিবী মনে করতেন এবং তাদের নিঃশর্ত ভালোবাসতেন। সন্তানদের প্রতিটি প্রয়োজন মেটাতে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি সবসময় সচেষ্ট থাকতেন।   উষ্ণ ও সুন্দর মনের অধিকারী ভ্যানেসা তার বোনের অনাগত সন্তানের আগমনের অপেক্ষায়ও প্রহর গুনছিলেন। এমনকি ৯ সেপ্টেম্বর নিজের জন্মদিনের আগে বোনকে মজা করে বলেছিলেন, সন্তান যেন তার জন্মদিনের দিন পৃথিবীতে না আসে। কিন্তু জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন পরই এমন মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করতে হলো তাকে।   নাইলস পুলিশের প্রধান জেমস মিলিন জানিয়েছেন, গত রবিবার ভোর ৪টার দিকে জিপটি একটি বাঁধের ওপর দিয়ে প্রায় ৭০ ফুট নিচে নদীতে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকেই ইন্ডিয়ানা সীমান্তবর্তী মিশিগানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই শহরে তাদের সন্ধানে জোরালো তল্লাশি শুরু হয়েছিল।   নিখোঁজ হওয়ার রাতে এই দুই মাকে অন্য কোনো গাড়ি তাড়া করেছিল কি না বা কেউ তাদের অনুসরণ করেছিল কি না, তদন্ত কর্মকর্তারা এখন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের ব্লেয়ার টাউনশিপে প্রশিক্ষণের সময় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হাসপাতালে পাইলট

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির ব্লেয়ার টাউনশিপের গ্রামীণ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   দুর্ঘটনাটি ঘটে কাউন্টি রোড ৬৩৩ ও ব্লেয়ার টাউনহল রোডের কাছাকাছি এলাকায়। বিমানটি ছিল টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের। ইউনিটটি টেক্সাসের সান আন্তোনিও-ল্যাকল্যান্ড ঘাঁটি থেকে মিশিগানে প্রশিক্ষণের জন্য অবস্থান করছিল।   বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটির সঙ্গে থাকা আরেকটি এফ-১৬-এর পাইলট বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করেন। লাইভএটিসি-তে প্রকাশিত রেডিও যোগাযোগের রেকর্ডিং অনুযায়ী, ‘বাক ১১’ কলসাইনের ওই পাইলট জানান, তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য পাইলটের বিমান সম্ভবত একটি পাখির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর তিনি জরুরি সহায়তার জন্য সতর্ক করতে বলেন এবং জানান, তাঁর সহযাত্রী পাইলটকে বিমান থেকে বের হয়ে আসতে হতে পারে।   রেডিও যোগাযোগে ওই পাইলটকে বলতে শোনা যায়, তাঁর উইংম্যানকে বিমান থেকে বের হতে হবে এবং ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটতে যাচ্ছে, তিনি তখন সেই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ছিলেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কাছাকাছি বিমানবন্দরে যাওয়ার পথ দেখানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে।   তবে পাখির আঘাতই দুর্ঘটনার কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের মুখপাত্র সার্জেন্ট ডেরেক গুতিয়েরেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তিনি সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি। ফলে রেডিও যোগাযোগে উঠে আসা তথ্যকে আপাতত সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়।   দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টি জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রথমে নির্দিষ্ট এলাকায় ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেয়। পরে দুর্ঘটনাস্থলের এক মাইলের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাউন্টি রোড ৬৩৩-এর একটি অংশে যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়।   কর্তৃপক্ষের এই সতর্কতার পেছনে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও ছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, এফ-১৬ বিমানে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় হাইড্রাজিন নামে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। এ কারণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়।   স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনার সময় বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তাঁরা।   ব্লেয়ার টাউনশিপের সুপারভাইজার নিকোল ব্লনশাইন জানিয়েছেন, মাটিতে থাকা কারও আহত হওয়ার খবর তিনি পাননি এবং কোনো বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন না। অন্যদিকে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির শেরিফ মাইকেল ডি. শিয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালে পাইলট সচেতন ছিলেন এবং কথা বলছিলেন।   এফ-১৬টি মিশিগানের আলপেনা কমব্যাট রেডিনেস ট্রেনিং সেন্টারে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল। টেক্সাস থেকে আসা ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের একাধিক এফ-১৬ এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিল। বিমানটি দুর্ঘটনার সময় নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল বলে সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   দুর্ঘটনার পর এফ-১৬ ইউনিটের নির্ধারিত অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের ফুটবল ম্যাচের আগে আকাশে উড্ডয়ন প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল এই ইউনিটের যুদ্ধবিমানগুলোর। দুর্ঘটনার পর সেই কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নেবে।   এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন মার্কিন বিমানবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। ১৯৭৯ সাল থেকে এ ধরনের বিমান পরিচালিত হয়ে আসছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর নিরাপত্তা তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে এফ-১৬ নিয়ে অন্তত ১৪টি ‘ক্লাস এ’ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় সাধারণত বিমান ধ্বংস হওয়া, প্রাণহানি বা ২০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতির মতো গুরুতর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকে।   মিশিগানের সর্বশেষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়টি রেডিও যোগাযোগে উঠে এলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেটিকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস ডেট্রয়েট ও ১৪৯তম ফাইটার উইং।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে নদী থেকে উদ্ধার দুই নিখোঁজ নারীর ম রদেহ, ৭০ ফুট নিচে গাড়ি পড়া নিয়ে রহস্য
মিশিগানে নদী থেকে উদ্ধার দুই নিখোঁজ নারীর ম রদেহ, ৭০ ফুট নিচে গাড়ি পড়া নিয়ে রহস্য

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নাইলস শহরের সেন্ট জোসেফ নদী থেকে নিখোঁজ দুই মায়ের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ভ্যানেসা বাউতিস্তা (২৪) এবং অ্যালেক্সা নাভারো (২৩) নামের ওই দুই নারী ইন্ডিয়ানার সাউথ বেন্ড এলাকার বাসিন্দা। গত মঙ্গলবার রাতে নদীর পানিতে তলিয়ে থাকা একটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়া জিপের ভেতর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।   ঘটনাস্থলটি তাদের নিজ শহর থেকে প্রায় ১১ মাইল উত্তরে অবস্থিত। গত বৃহস্পতিবার ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটির মেডিকেল এক্সামিনার অফিস মৃতদেহ দুটির পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি।   নাইলস শহরের পুলিশ প্রধান জেমস মিলিন জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে গত রোববার ভোর ৪টার দিকে তাদের গাড়িটি একটি উঁচু বাঁধের ওপর থেকে প্রায় ৬০-৭০ ফুট নিচে খাড়া ঢাল বেয়ে নদীতে পড়ে যায়। নিচে পড়ার সময় গাড়িটি বেশ কয়েকটি গাছে ধাক্কা খায়, যে কারণে এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   ওই রোববারই এই দুই নারীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নিখোঁজ হওয়ার সময় তারা যে পোশাক পরা ছিলেন, উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলোতেও একই পোশাক পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত ২০২০ সালের ধূসর রঙের জিপ গ্র্যান্ড চেরোকি গাড়িটি তারা নিজেরাই চালাচ্ছিলেন।   এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনের কারণ নিয়ে বেশ রহস্য তৈরি হয়েছে। কেউ তাদের তাড়া করছিল কি না—এমন গুঞ্জন উঠলেও পুলিশ প্রধান মিলিন জানিয়েছেন, তারা সবদিক বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রাথমিকভাবে গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো কোনো 'বাহ্যিক শক্তির' প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   নিহতদের ময়নাতদন্ত এবং টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফলাফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সাউথ বেন্ড পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাদের দুজনকে সর্বশেষ এলখার্টে দেখা গিয়েছিল এবং তাদের ফোনের সর্বশেষ লোকেশন ছিল নাইলসে। বর্তমানে মামলাটির সম্পূর্ণ তদন্তভার নাইলস পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ডে-কেয়ার সেন্টারে মিথ্যা সেবায় ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি
ডে-কেয়ার সেন্টারে মিথ্যা সেবায় ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে মিশিগানে গ্রেপ্তার

মিশিগানের ৬২ বছর বয়সী এমোরি ম্যাথিউজকে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজের মালিকানাধীন ডেট্রয়েটের একটি প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টারে দেওয়া হয়নি এমন সাইকোথেরাপি সেবার বিল মেডিকেয়ারে জমা দেওয়া হয়।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এমোরি ও তাঁর স্ত্রী মিলে ৪ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি মেডিকেয়ারে জমা দেন। এমন রোগীদের নামেও বিল করা হয়েছে, যারা ওই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বা মারা গিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাবেক কর্মীদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া দাবি জমা দেওয়া হয়। এমোরি ম্যাথিউজ এর আগে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবৈধ ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং সেই কারণে মেডিকেয়ারে বিল করার ওপর তাঁর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ডে-কেয়ার সেন্টারে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকার বিষয়টি গোপন করে তিনি ওই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।   এই মামলায় তাঁর স্ত্রী ইয়োলান্ডা ম্যাথিউজ আগেই স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। এমোরি ম্যাথিউজের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং আরও তিনটি জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   সোর্স: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সমাবর্তন মঞ্চে সদ্যজাত কন্যা অ্যানাবেলকে কোলে নিয়ে ডিগ্রি গ্রহণ করছেন গ্রেস শিমচ্যাক। ছবি: সংগৃহীত
সিজারিয়ান সন্তান জন্মের ১০ দিন পর নবজাতককে কোলে নিয়েই গ্র্যাজুয়েশনে মা

মিশিগানের ২৪ বছর বয়সী গ্রেস শিমচ্যাকের গ্র্যাজুয়েশন হওয়ার কথা ছিল ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩। এর তিন দিন পর, ১৮ ডিসেম্বর নির্ধারিত সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে তার দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিকল্পনার আগেই ৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর আলো দেখে মেয়ে অ্যানাবেল।   তবু দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে অর্জিত ডিগ্রির গুরুত্বপূর্ণ দিনটি গ্রেস হাতছাড়া করতে চাননি। সন্তান জন্মের মাত্র ১০ দিন পর ১৫ ডিসেম্বর তিনি মিশিগানের বিগ র‌্যাপিডসে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে হাজির হন। সঙ্গে ছিল তার সদ্যোজাত মেয়ে অ্যানাবেল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ে।    সমাবর্তনে গ্রেস তার ছোট মেয়েকে একটি বেবি ক্যারিয়ারে নিজের শরীরের সঙ্গে রেখে তার ওপর গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরেছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অ্যানাবেল ঘুমিয়েই ছিল। গ্রেসের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।    গ্রেস ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে আর্লি চাইল্ডহুড এডুকেশনে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ম্যাগনা কাম লডে সম্মান পান। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ, বিয়ে ও মাতৃত্বের দায়িত্ব সামলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি মিশিগানের ট্রাভার্স সিটিতে তিন বছর বয়সী শিশুদের জন্য একটি স্টেট ফান্ডেড প্রি-স্কুলে ফুলটাইম শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেন।    গ্রেস জানিয়েছিলেন, ডিগ্রির জন্য তিনি দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তাই অ্যানাবেল নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নিলেও সহপাঠীদের সঙ্গে মঞ্চে হেঁটে ডিগ্রি নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। একই সঙ্গে সদ্যোজাত মেয়েকে নিজের কাছ থেকে দূরে রাখতেও প্রস্তুত ছিলেন না।    গ্রেসের এই বিশেষ মুহূর্তের ছবি পরে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রকাশ করে। ছবিতে তাকে গ্র্যাজুয়েশন গাউন পরা অবস্থায় দেখা যায়, আর গাউনের ভেতরে তার ছোট্ট মেয়ে অ্যানাবেল। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক মনোযোগ পায়।    গ্রেস পরে জানান, তার এই অভিজ্ঞতা অন্য মা-বাবাকে পড়াশোনা শেষ করার স্বপ্ন পূরণে উৎসাহিত করুক, সেটিই তিনি চান। ২০২৪ সালে ফেরিস স্টেট ইউনিভার্সিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিজের গল্প দেখে অন্যরা যেন বুঝতে পারেন, জীবনের নানা দায়িত্বের মধ্যেও নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করা সম্ভব।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০