- প্রচ্ছদ
- Topic
মিশিগান
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির নতুন জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের সমর্থন ৫০ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ জরিপে এল-সাইয়েদ রজার্সের চেয়ে ৫ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। নভেম্বরের মিডটার্ম নির্বাচনে এই আসনটি সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এল-সাইয়েদের বর্তমান অবস্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ গত ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি দলীয় নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে মাত্র প্রায় ১ শতাংশ ব্যবধানে হারিয়ে মনোনয়ন পান। ফল ঘোষণার সময় এল-সাইয়েদের ভোট ছিল ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্টিভেন্সের ভোট ছিল ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অল্প ব্যবধানে পাওয়া এই জয় তাকে নভেম্বরের মূল নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। প্রাইমারির পর এল-সাইয়েদকে ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের একাংশের সমালোচনা আরও তীব্র হয়। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে তাঁর অবস্থান, ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য এবং কিছু বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে দলের মধ্যেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এসব সমালোচনার মধ্যেই তিনি সাধারণ নির্বাচনের প্রচারে এগিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি মিশিগানের একটি সিনাগগে হামলা নিয়ে তাঁর করা মন্তব্যের জন্যও তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। এল-সাইয়েদ নিজেকে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিকেয়ার ফর অল, করপোরেট অর্থের রাজনৈতিক প্রভাব কমানো এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য করের বোঝা কমানোর মতো নীতি। ২০২৬ সালের প্রাইমারিতে তিনি সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সসহ প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পেয়েছিলেন। এসব নীতিগত অবস্থানকে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। এল-সাইয়েদের প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স সাবেক মিশিগান কংগ্রেসম্যান এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। মিশিগানের বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় এবার আসনটি উন্মুক্ত হয়েছে। ফলে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের কাছেই আসনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প মিশিগানে প্রায় ২ শতাংশ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় রাজ্যটি এবারের সিনেট লড়াইয়ে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর জয় এবং এবার সিনেট আসনটি উন্মুক্ত থাকার কারণে নভেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। নতুন মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির জরিপে শুধু সামগ্রিক ব্যবধানই নয়, বয়সভিত্তিক ভোটারদের মধ্যেও এল-সাইয়েদের শক্ত অবস্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন বেশি। অন্যদিকে বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে রজার্স তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। ফলে বয়সভেদে দুই প্রার্থীর সমর্থনের পার্থক্যও জরিপে উঠে এসেছে। এর আগে আরেকটি সাম্প্রতিক জরিপেও এল-সাইয়েদকে এগিয়ে দেখা যায়। ইপিক-এমআরএ-এর জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৩ শতাংশ। ওই জরিপেও এল-সাইয়েদ ৪ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। অর্থাৎ প্রাইমারির পর বিতর্ক ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সমালোচনা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি জরিপে তিনি রজার্সের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে মনোনয়ন পাওয়ার পর এল-সাইয়েদকে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের একাংশের সমালোচনা তৈরি হলেও নতুন জরিপগুলোতে তার প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না। বরং মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির জরিপে তিনি রজার্সের চেয়ে ৫ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। এর আগে ইপিক-এমআরএ-এর জরিপেও তাঁর এগিয়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে নভেম্বরের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে এবং দুই প্রার্থীর ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম। ফলে বর্তমান জরিপের ফলাফল চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল নির্দেশ করছে না। নির্বাচনের আগে ভোটারদের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে এবং দুই প্রার্থীর প্রচারও অব্যাহত থাকবে। মিশিগানের এই সিনেট লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, তা ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এল-সাইয়েদ বর্তমানে কয়েকটি জরিপে এগিয়ে থাকলেও রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও শক্তিশালী। বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে রজার্সের তুলনামূলক ভালো অবস্থান নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এদিকে তরুণ ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদের বেশি সমর্থন এবং সামগ্রিকভাবে জরিপে তার এগিয়ে থাকা ডেমোক্র্যাট শিবিরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। অন্যদিকে প্রাইমারির পর তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় অভ্যন্তরীণ সমালোচনা অব্যাহত থাকলেও এখন পর্যন্ত তা জরিপে তাঁর অবস্থানকে পিছিয়ে দিতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। সোমবার ডেট্রয়েটের একটি উপশহরে নির্বাচনী সমাবেশে এল-সায়েদকে ‘অত্যন্ত খারাপ’ বা ‘ভেরি এভিল’ বলে আখ্যা দেন ভ্যান্স। ভ্যান্সের সবচেয়ে কড়া মন্তব্য আসে তার স্ত্রী উষা ভ্যান্সকে ঘিরে এল-সায়েদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে। এল-সায়েদ ভ্যান্সের প্রয়াত দাদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু উষাকে বিয়ে করার বিষয়টি নিয়ে। এর জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘আবদুল, আমার স্ত্রীর নাম মুখে আনার আগে সাবধান হও।’ এরপর আরও কড়া ভাষায় তিনি বলেন, উষা তার ‘ধারেকাছেও নেই’। ভ্যান্স অভিযোগ করেন, মুসলিম প্রার্থী এল-সায়েদ নিজের ধর্মের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি তার সেই সহানুভূতি নেই। তিনি এল-সায়েদের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব, শরিয়াহ আইন এবং ইহুদি সম্প্রদায়কে ঘিরে বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। এল-সায়েদের প্রচারণার সঙ্গে রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার হাসান পিকার ঘনিষ্ঠতারও সমালোচনা করেন ভ্যান্স। পিকার ২০১৯ সালের এক লাইভস্ট্রিমে যুক্তরাষ্ট্র ‘৯/১১ হামলার প্রাপ্য ছিল’—এমন মন্তব্য করেছিলেন বলে ভ্যান্স উল্লেখ করেন। এল-সায়েদ পিকারের ওই মন্তব্যের নিন্দা বা তাকে প্রত্যাখ্যান করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলেও ভ্যান্স দাবি করেন। ভ্যান্স বলেন, এল-সায়েদ ও পিকারের রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থের পরিবর্তে একটি গোষ্ঠীর স্বার্থকে অন্য গোষ্ঠীর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার দিকে যাচ্ছে। তবে ভ্যান্সের বক্তব্যের জবাবে এল-সায়েদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাল্টা মন্তব্য করেন। তিনি ভ্যান্সের ‘আমরা বনাম তারা’ ধরনের রাজনীতির সমালোচনাকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তিনি মূলত শ্রমজীবী মানুষ বনাম বিলিয়নিয়ার এবং মিশিগান বনাম ওহাইও নিয়ে একই ধরনের বিভাজনের কথা ভাবেন। এর আগে সোমবার ভ্যান্সের মিশিগান সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন এল-সায়েদ। তিনি ওহাইওর বাসিন্দা ভ্যান্সকে মিশিগানে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘মিশিগানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে ওহাইওর জেডি ভ্যান্সের চেয়ে ভালো আর কাকে পাওয়া যায়?’ ভ্যান্স ওই সমাবেশে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সকে সমর্থনের আহ্বান জানান।
লেবার ডে ছুটির আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে জ্বালানির গড় দাম গ্যালনপ্রতি ১ সেন্ট বেড়েছে। এএএ-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মিশিগানে নিয়মিত গ্যাসোলিনের গড় দাম এখন গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ১৭ সেন্ট। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার জ্বালানির দাম ৮৪ সেন্ট বেশি। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় দাম সামান্য বাড়লেও এক মাস আগের তুলনায় মিশিগানে গ্যাসের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ১১ সেন্ট কম। তবে গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকায় লেবার ডে ছুটিতে সড়কপথে ভ্রমণকারীদের জ্বালানি খরচ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান গড় দামে মিশিগানে ১৫ গ্যালনের একটি গাড়ির জ্বালানি ট্যাংক পূরণ করতে প্রায় ৬২ ডলার খরচ হচ্ছে। এএএ-এর হিসাবে, গত বছরের লেবার ডেতে অঙ্গরাজ্যটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ৩ ডলার ৩০ সেন্ট। অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানির দামে পার্থক্য রয়েছে। এ সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি গড় দাম রয়েছে জ্যাকসনে, যেখানে গ্যালনপ্রতি দাম ৪ ডলার ২৬ সেন্ট। এরপর অ্যান আর্বারে ৪ ডলার ২২ সেন্ট এবং ল্যান্সিংয়ে ৪ ডলার ২০ সেন্ট। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম দামের এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মারকেটে, যেখানে গ্যালনপ্রতি গড় দাম ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট। ট্রাভার্স সিটিতে গড় দাম ৪ ডলার ৪ সেন্ট এবং ফ্লিন্টে ৪ ডলার ৭ সেন্ট। এএএ বলছে, লেবার ডে ছুটির আগে মিশিগানে গ্যাসের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও গত বছরের তুলনায় এবার চালকদের পাম্পে বেশি অর্থ খরচ করতে হবে। ফলে ছুটির সময়ে সড়কপথে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা চালকদের জ্বালানি ব্যয় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল ডানা নেসেল ইহুদিবিদ্বেষী হয়রানির আশঙ্কায় নিজের দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলনে অংশ নেননি। গত ২৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলটির অঙ্গরাজ্য সম্মেলনে তার অনুপস্থিতি নতুন করে দলটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন সামনে এনেছে। নেসেল আগেই জানিয়েছিলেন, সম্মেলনে গেলে তাকে ধাওয়া করা, হয়রানি করা, চিৎকার করে বাধা দেওয়া কিংবা দুয়োধ্বনি দেওয়ার আশঙ্কা করছেন। তার দাবি, অতীতের দলীয় আয়োজনে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। ঘটনার পেছনে মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তীব্র মতপার্থক্য কাজ করছে। দলটির প্রগতিশীল অংশের অনেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করছেন। অন্যদিকে নেসেলসহ ইসরায়েলপন্থী ডেমোক্র্যাটরা দলটির ভেতরে ইহুদিবিদ্বেষ বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এরই মধ্যে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল নিয়ে তার অবস্থান এবং অতীতের কিছু মন্তব্যের কারণে দলটির ইহুদি নেতাদের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে এল-সাইয়েদ ইহুদিদের নিরাপত্তার প্রতি তার অঙ্গীকারের কথা বলেছেন এবং সম্প্রতি একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন। এদিকে নেসেলের সম্মেলন বর্জনের পর প্রায় ২০০ জন ইহুদি নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেলকে চিঠি দিয়ে সম্মেলনে ইহুদি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্মেলনে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবেশপথে তল্লাশি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের হয়রানি বা বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়। ফলে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মেলন শুধু প্রার্থী বাছাইয়ের আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু, ইহুদি নিরাপত্তা এবং দলটির অভ্যন্তরীণ মতাদর্শগত বিভাজনও সামনে নিয়ে এসেছে।
মিশিগানের মিস ইউএসএ ২০২৬ অ্যাম্বার উহলার মাত্র পাঁচ বছর আগেও প্রায় ৩০০ পাউন্ড ওজনের ছিলেন। তিন সন্তানের মা উহলারকে তখন এক চিকিৎসক সতর্ক করে বলেছিলেন, তিনি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন এবং এভাবে চলতে থাকলে অকালমৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। সেই সতর্কবার্তার পর জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে তিন বছরের বেশি সময় ধরে ডায়েট ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ১৭০ পাউন্ড ওজন কমিয়েছেন তিনি। এখন ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বয়স্ক প্রতিযোগী হিসেবে ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন তিনি। পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উহলার জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বড় ধরনের সতর্কবার্তা পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক তাকে স্থূলতা ও প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকির কথা জানান এবং সন্তানদের হাইস্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন পর্যন্ত বেঁচে থাকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর কিছুদিন পর সন্তানদের সঙ্গে একটি ট্রাম্পোলিন পার্কে গিয়ে আরও একটি ঘটনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ফোমের একটি গর্তে লাফ দেওয়ার পর সেখান থেকে তিনি নিজে বের হতে পারছিলেন না। তিনজন শক্তিশালী ব্যক্তি তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ফায়ার ডিপার্টমেন্টকে ডাকতে হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। উহলার বলেন, ওই অভিজ্ঞতার পর তিনি বুঝতে পারেন, অতিরিক্ত ওজন নিয়ে জীবনযাপন যেমন কঠিন, তেমনি ওজন কমানোর পথও কঠিন। এরপর তিনি নিজের জন্য একটি লক্ষ্য ঠিক করেন - সুস্থ হয়ে একদিন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। তবে শুরুতে তার লক্ষ্য ছিল না ১৭০ পাউন্ড ওজন কমানো। বরং তিনি সুস্থ জীবনযাপন শুরু করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কঠোর ডায়েট ও ব্যায়ামের পর ২০২৪ সালে তিনি মিসেস ফ্লোরিডা ইউনিভার্স খেতাব জেতেন। পরে ফ্লোরিডার প্রতিনিধিত্ব করে মিসেস ইউনিভার্স ইউএসএ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মিসেস ইউনিভার্স খেতাবও অর্জন করেন। তবে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া। চলতি বছরের জুলাইয়ে একটি ওপেন কাস্টিং কলের মাধ্যমে তাকে মিস মিশিগান ইউএসএ ২০২৬ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২৭ আগস্ট মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য মিস ইউএসএ প্রতিযোগিতার ৭৫তম আসরে মিশিগানের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। ৪১ বছর বয়সী উহলার এবার প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বয়স্ক অংশগ্রহণকারী। শুরুতে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, বিশের কোঠায় থাকা তরুণ প্রতিযোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি অনুভব করবেন। কিন্তু মিয়ামিতে এসে তার অভিজ্ঞতা হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। উহলার জানান, অন্য প্রতিযোগীরা তাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করছেন। এমনকি তরুণ প্রতিযোগীরাও তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। ফলে নিজের বয়সকে এখন তিনি দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বয়সের সঙ্গে পাওয়া অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘ ওজন কমানোর যাত্রা তাকে আত্মবিশ্বাস, পরিপক্বতা ও প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক প্রস্তুতি দিয়েছে। তিনি মনে করেন, মিস ইউএসএ এখন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা নয়; একজন প্রতিযোগী সমাজ ও মানুষের জন্য কী নিয়ে আসতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। উহলারের কাছে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার স্বপ্ন পূরণ নয়। তার নিজের ভাষায়, এটি তার জীবনের নতুন অধ্যায়। যে নারী কয়েক বছর আগে নিজের স্বাস্থ্যের জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন, তিনিই এখন দেশের অন্যতম বড় সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে চান।
মিশিগানে সরকারি চাকরি খুঁজছেন এমন প্রার্থীদের জন্য ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটে নতুন নিয়োগের সুযোগ এসেছে। আগস্টে প্রকাশিত একাধিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড ৬-ই৮ পদে স্থায়ী ফুলটাইম কর্মী নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক একটি বিজ্ঞপ্তিতে বেতন প্রতি দুই সপ্তাহে ১,৭৫৩.৬০ থেকে ২,৪১৭.৬০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। মিশিগান সিভিল সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড পদে মূলত সেক্রেটারি অব স্টেটের শাখা অফিসে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা দিতে হয়। গ্রাহকের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা, বিভিন্ন ট্রানজেকশন প্রসেস করা, সেবার নিয়ম ও বিকল্প পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া এবং নির্ভুলতার সঙ্গে কাজ করা এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে একটি বিষয় চাকরিপ্রার্থীদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার। ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড ৬ হলো এন্ট্রি লেভেল পদ, যেখানে সাধারণত হাই স্কুল শেষ করার সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন এবং নির্দিষ্ট ধরনের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু ৬-ই৮ গ্রেডটি অভিজ্ঞ পর্যায়ের পদ। মিশিগান সিভিল সার্ভিসের বর্তমান চাকরির স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, ই-৮ পর্যায়ে পৌঁছাতে ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড সিরিজে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি থাকলেই ৬-ই৮ পদে সরাসরি যোগ্যতা নিশ্চিত হয় না। এই পদে গাড়ির লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, গাড়ির টাইটেলসহ মিশিগান সেক্রেটারি অব স্টেটের বিভিন্ন সেবা সংক্রান্ত কাজও থাকতে পারে। কাজের ধরন অনুযায়ী গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং বিপুলসংখ্যক ট্রানজেকশন সামলানোর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। আগস্টে প্রকাশিত একটি ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট এইড ৬-ই৮ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী ফুলটাইম পদ হিসেবে প্রতি দুই সপ্তাহে ১,৭৫৩.৬০ থেকে ২,৪১৭.৬০ ডলার বেতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে বার্ষিক ৪৫,৫৯৩.৬০ থেকে ৬২,৮৫৭.৬০ ডলার পর্যন্ত বেতন দেওয়া হয়েছে। পদ, লোকেশন ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বেতন ও শেষ তারিখ ভিন্ন হতে পারে। মিশিগান স্টেট গভর্নমেন্টের ফুলটাইম কর্মীরা চাকরির ধরন ও যোগ্যতা অনুযায়ী হেলথ ইন্স্যুরেন্স, রিটায়ারমেন্ট সুবিধা, পেইড লিভসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান। এছাড়া রাজ্য সরকারের চাকরিতে কর্মীদের জন্য অন্যান্য আর্থিক ও ক্যারিয়ার সুবিধাও রয়েছে। আবেদন করতে হলে মিশিগান স্টেটের সরকারি চাকরির পোর্টালে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুঁজে আবেদন করতে হয়। আবেদন সাধারণত নিওগভ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইলেকট্রনিকভাবে জমা দিতে হয়। চাকরিপ্রার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট জব স্পেসিফিকেশন, পজিশন ডেসক্রিপশন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। মিশিগানের ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের চাকরিতে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকসহ অতিরিক্ত নিয়োগ শর্তও থাকতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট পদে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত যাচাই করা উচিত। আগস্টে প্রকাশিত কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শেষ তারিখ ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে একই গ্রেডের নতুন পদ আগস্টেই প্রকাশিত হয়েছে এবং কিছু বিজ্ঞপ্তির আবেদন সময়ও চলমান রয়েছে। ফলে মিশিগানে সরকারি চাকরি খুঁজছেন এমন প্রার্থীদের জন্য প্রতিটি নতুন পোস্টিং আলাদাভাবে দেখে দ্রুত আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা পাবলিক হাইস্কুলগুলোর বার্ষিক তালিকায় এবার রাজ্যের শীর্ষস্থান দখলের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে প্রথম ১২-এর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে মিশিগানের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি। গত ১৮ আগস্ট Patch-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৮ হাজার পাবলিক স্কুলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের এই তালিকা প্রকাশ করেছে ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট। মিশিগানের ব্লুমফিল্ড হিলস, হোয়াইট লেক এবং ট্রয়—এই তিনটি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত এই পাবলিক ম্যাগনেট স্কুলটি সারা দেশের মধ্যে ১২তম স্থান অর্জন করেছে। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট মূলত কলেজ প্রস্তুতি, রাজ্যভিত্তিক মূল্যায়নে দক্ষতা, স্নাতক পাসের হার এবং পাঠ্যক্রমের বিস্তৃতির মতো ছয়টি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এই র্যাংকিং তৈরি করে থাকে। ইন্টারন্যাশনাল একাডেমির নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতক পাসের হার ৯৯ শতাংশ। সব মিলিয়ে ১০০-এর মধ্যে ৯৯.৯৩ স্কোর অর্জন করেছে স্কুলটি। হুরন ভ্যালি স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট পল সালাহ এক ইমেইল বার্তায় এই সাফল্যকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের অসামান্য প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রাজ্যের সেরা এবং জাতীয় পর্যায়ে ১২তম স্বীকৃতি পাওয়াটা একটি অসাধারণ অর্জন, যা শিক্ষার্থীদের জন্য চমৎকার একাডেমিক সুযোগের বিষয়টি তুলে ধরে। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের মূল্যায়নে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেরা পাবলিক হাইস্কুল নির্বাচিত হয়েছে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মুরফ্রিজবোরোতে অবস্থিত সেন্ট্রাল ম্যাগনেট স্কুল। তবে মিশিগানের অন্যান্য স্কুলগুলোও এই জাতীয় তালিকায় বেশ ভালো অবস্থান তৈরি করেছে। WZZM13-এর সংবাদ অনুযায়ী, ক্লিনটন টাউনশিপের ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ম্যাকম্ব জাতীয় পর্যায়ে ২১তম এবং গ্র্যান্ড র্যাপিডসের সিটি হাই মিডল স্কুল ৬০তম স্থানে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ফলাফল মিশিগানের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নেরই একটি ইতিবাচক প্রতিচ্ছবি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হর্টনে লেকের পাড়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি এখন ক্রেতার অপেক্ষায়। চারপাশে নির্মল পানি, প্রশস্ত খোলা জায়গা এবং আধুনিক সব সুবিধা থাকা পাঁচ শয়নকক্ষের এই বাড়িটির বর্তমান তালিকামূল্য ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমান, যদিও বিনিময় হার অনুযায়ী টাকার অঙ্কে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। বাড়িটির ঠিকানা ২৬০ পাইন হিল লেক ড্রাইভ। রিয়েল এস্টেট তালিকায় বাড়িটি বিক্রির জন্য সক্রিয় রয়েছে। জ্যাকসন কাউন্টির হর্টনে অবস্থিত বাড়িটি পাইন হিল লেকের তীরে তৈরি। বিক্রির বিজ্ঞাপনে এটিকে এমন একটি আবাসন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে মিশিগানের উত্তরাঞ্চলের অবকাশযাপনের আবহ পাওয়া যাবে, কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে চার ঘণ্টা গাড়ি চালানোর প্রয়োজন হবে না। বাড়িটির আয়তন ৩ হাজার ৩৫৩ বর্গফুট। এতে পাঁচটি শয়নকক্ষ, চারটি বাথরুম এবং দুই গাড়ি রাখার গ্যারেজ রয়েছে। ২০১৭ সালে নির্মিত বাড়িটির নকশাকে আধুনিক প্রেইরি-ধাঁচের বিলাসবহুল স্থাপত্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বর্তমানে বাড়িটি বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রিয়েলম্যাক্স মিড-মিশিগান। বাড়িটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর লেকমুখী অবস্থান। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির প্রায় ৭৭ ফুট দীর্ঘ জলসীমা রয়েছে এবং এটি ফারওয়েল ও পাইনহিল হ্রদশ্রেণির সঙ্গে যুক্ত এলাকায় অবস্থিত। পাইন হিল লেকের পানি বসন্তের প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসা এবং স্বচ্ছ বলে বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির পেছনের দিক থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। বাড়ির পেছনে রয়েছে বড় আচ্ছাদিত প্যাটিও বা বসার জায়গা। সেখানে আরামদায়ক চেয়ার, পানিতে ডুবে আরাম করার জন্য স্থায়ী গরম পানির ব্যবস্থা, ঘোরানো যায় এমন টেলিভিশন এবং বাইরের রান্নাঘর রয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্য বা অতিথিদের নিয়ে দীর্ঘ সময় বাইরে বসে লেকের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। প্যাটিও থেকে ইটের তৈরি একটি পথ গিয়ে পৌঁছেছে আরেকটি আলাদা বসার জায়গায়। সেখানে রয়েছে অগ্নিকুণ্ড এবং খোলা আকাশের নিচে বসার ব্যবস্থা। ফলে সন্ধ্যায় লেকের পাশে বসে সময় কাটানো থেকে শুরু করে অতিথিদের নিয়ে আয়োজন, সবকিছুর জন্যই জায়গাটি উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির ভেতরে ঢুকলে বড় প্রবেশপথ থেকে একটি উন্মুক্ত নকশার বসার জায়গায় যাওয়া যায়। উঁচু ছাদ এবং লেকের দিকে থাকা বড় বড় জানালা ঘরগুলোতে প্রচুর প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জানালাগুলো থেকে লেকের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। প্রধান তলায় রয়েছে বসার ঘর, যেখানে পাথর দিয়ে তৈরি অগ্নিকুণ্ড রয়েছে। এর পাশেই আধুনিক রান্নাঘর। রান্নাঘরে রয়েছে ক্যামব্রিয়া কোয়ার্টজের প্রশস্ত দ্বীপ, স্টেইনলেস স্টিলের সরঞ্জাম এবং কাচের টাইলসের পেছনের দেয়াল। রান্নাঘর ও বসার জায়গার উন্মুক্ত বিন্যাস পুরো তলাটিকে আরও প্রশস্ত দেখায়। এই তলাতেই রয়েছে লেকমুখী দুটি শয়নকক্ষ এবং দেড়টি বাথরুম। ভেতরের সিঁড়িটি প্রচলিত সিঁড়ির মতো নয়। ভাসমান কাঠামোর এই সিঁড়ি একটি খোলা সংযোগপথের ওপর দিয়ে দ্বিতীয় তলায় পৌঁছেছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে আরও তিনটি শয়নকক্ষ ও দুটি পূর্ণাঙ্গ বাথরুম। বাড়িটির প্রধান শয়নকক্ষটি দ্বিতীয় তলায়। এর সঙ্গে রয়েছে আলাদা পোশাক রাখার ঘর এবং ব্যক্তিগত বাথরুম। বাথরুমে রয়েছে আলাদা রাখা বড় পানিতে ভেজার টব এবং ওপর থেকে বৃষ্টির মতো পানি পড়ার ব্যবস্থা করা ঝরনা। বাড়িটির নকশায় অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক বিনোদনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভেতর ও বাইরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা, তারবিহীন রেলিং, রান্নাঘরের ওপরে ঝুলন্ত ছাদ, বিশেষ নকশার আলোকসজ্জা এবং রঙ পরিবর্তন করা যায় এমন কলসহ বেশ কিছু আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া বাড়িতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা, প্রশস্ত কংক্রিটের প্রবেশপথ, সংরক্ষণাগার এবং পুরো বাড়ির জন্য স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ জেনারেটরও রয়েছে। এসব সুবিধার কারণে বাড়িটি শুধু ছুটির দিনে ব্যবহারের জন্য নয়, সারা বছর বসবাসের উপযোগী হিসেবেও বাজারজাত করা হচ্ছে। লেকের আশপাশেও রয়েছে দৈনন্দিন প্রয়োজন ও বিনোদনের বিভিন্ন সুযোগ। কাছেই নৌযানের জ্বালানি নেওয়ার জন্য একটি জলপথের ঘাট, আইসক্রিমের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং গলফ কোর্স রয়েছে। ফলে বাড়িতে থাকার পাশাপাশি আশপাশে বিনোদনের সুযোগও পাওয়া যাবে। বাড়িটি একটি ব্যক্তিগত শান্ত পরিবেশের আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। একই সঙ্গে মিশিগানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও এলাকার সঙ্গে এর যোগাযোগও তুলনামূলক সহজ। তালিকাভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, মনরো, টলেডো, নোভাই, নর্থভিল, ল্যান্সিং ও অ্যান আরবার থেকে বাড়িটি প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে। বাড়িটি প্রথমবার ২০২৬ সালের ৬ জুন ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার মূল্যে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ১৮-১৯ জুন এর দাম কমিয়ে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ডলার করা হয়। বর্তমানে সেটিই তালিকাভুক্ত মূল্য হিসেবে রয়েছে। লেকের পানির দৃশ্য, ব্যক্তিগত জলসীমা, বড় প্যাটিও, গরম পানির ব্যবস্থা, বাইরের রান্নাঘর এবং আধুনিক অভ্যন্তরীণ নকশা মিলিয়ে বাড়িটি মিশিগানের লেকফ্রন্ট আবাসনের একটি বিলাসবহুল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তাই যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা চান, তাদের জন্য বাড়িটি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরে আয়োজিত এক উগ্র ডানপন্থী ও ইসলামবিদ্বেষী সমাবেশে অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় জড়িত জেইক ল্যাংয়ের নেতৃত্বে একদল খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী ওই সমাবেশে অংশ নেন। এ সময় তারা হেনরি ফোর্ড সেন্টেনিয়াল লাইব্রেরি ভবন ঘেরাও করেন, যেখানে সিটি কাউন্সিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। সমাবেশের কথা আগেই জানতে পেরে কর্মকর্তারা তাদের নিয়মিত স্থান থেকে বৈঠকটি এই লাইব্রেরিতে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ‘খ্রিষ্টান ক্রুসেডার মার্চ’ নামের এই বিতর্কিত সমাবেশের নেতৃত্বে জেইক ল্যাংয়ের পাশাপাশি ডেট্রয়েটের যাজক লরেঞ্জো সিওয়েলও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ভবনের বাইরে জড়ো হওয়া শত শত বিক্ষোভকারী একপর্যায়ে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালান। ডিয়ারবর্নের পুলিশপ্রধান ইসা শাহিন এক বিবৃতিতে জানান, পুলিশ অত্যন্ত পেশাদারির সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিটি কাউন্সিলকে নির্বিঘ্নে তাদের কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ করে দিয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে শান্তি ভঙ্গ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের অনেকেই বহিরাগত এবং তারা নিউইয়র্ক ও টেনেসিসহ অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছিলেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আরব-আমেরিকান ও মুসলিম অধ্যুষিত শহর হিসেবে পরিচিত ডিয়ারবর্ন। সেখানে এ ধরনের উসকানিমূলক সমাবেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট পদপ্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। তিনি বহিরাগত এই আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে বলেন, তারা মিশিগানের চমৎকার সম্প্রীতি ও আমেরিকার আদর্শকে অবমাননা করে এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এসেছে। জেইক ল্যাং, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাইক রজার্সের মতো ব্যক্তিরা আমেরিকাকে ছোট করে দেখাতে চান উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মানুষ কীভাবে প্রার্থনা করে তার চেয়ে তারা কীসের জন্য প্রার্থনা করে, সেটিই সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়ার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছেছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আবদুল এল সাইদ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারিতে কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে মিশিগান থেকে ইউএস সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। নভেম্বরে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ইউএস সিনেটর। মিশিগানে ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ফল পরদিন নিশ্চিত হয়। ভোট গণনা রাত পেরিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত খুব অল্প ব্যবধানে স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলেন এল সাইদ। ফল ঘোষণার পর স্টিভেন্সও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সাধারণ নির্বাচনে সমর্থনের ঘোষণা দেন। এল সাইদের এই জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়। মিশিগানের ওপেন সিনেট আসনটি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি এবার উন্মুক্ত হয়েছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে আসনটি ধরে রাখা ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাইমারি জয়ের পর নিজের পারিবারিক ইতিহাসও সামনে আনেন এল সাইদ। মিশরীয় বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের সন্তান তিনি। তার বাবা মিশর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়ে ডেট্রয়েটে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন। এল সাইদ বলেছেন, তার বাবার সেই সিদ্ধান্ত না থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো হয়তো তার জীবনও মিশরেই কাটত। কিন্তু অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয়ের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক অবস্থানই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, রাজনীতিতে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব কমানো, শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং ইসরায়েলসহ বিদেশি সামরিক বাহিনীতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিরোধিতা তার প্রচারণার কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল। বিশেষ করে ইসরায়েল ইস্যুতে এল সাইদ ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্সের অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য ছিল। স্টিভেন্স ইসরায়েলের প্রতি জোরালো সমর্থনের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে এল সাইদ ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থ দেশের স্কুল, রাস্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন পূরণে ব্যয় হওয়া উচিত। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রাইমারিতে বিপুল পরিমাণ বাইরের অর্থও খরচ হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, এল সাইদের বিরুদ্ধে এবং স্টিভেন্সের পক্ষে কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করে বাইরের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। এর মধ্যে ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলোর ব্যয়ও ছিল উল্লেখযোগ্য। তারপরও অর্থের লড়াইয়ে অনেক পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছেন এল সাইদ। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে স্টিভেন্সের তুলনায় তিনি বড় ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন। এই ফলকে তাই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এল সাইদকে সমর্থন করেছিলেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজসহ প্রগতিশীল রাজনীতির কয়েকজন পরিচিত নেতা। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের একটি বড় অংশ স্টিভেন্সের পাশে ছিল। মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমারও প্রাইমারির শেষ দিকে স্টিভেন্সকে সমর্থন করেন। এ কারণে এল সাইদের জয়কে দলের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে প্রগতিশীল অংশের একটি বড় সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল নিয়ে তার অবস্থান অবশ্য তাকে রাজনৈতিক আক্রমণের মুখেও ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা তার বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। এল সাইদ ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের নীতির সমালোচনা এবং ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ এক বিষয় নয়। নিজের নির্বাচনী এলাকার ইহুদি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। রাজনীতিতে আসার আগে এল সাইদের পরিচিতি তৈরি হয়েছিল জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তিনি চিকিৎসক নন, বরং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে প্রশিক্ষিত একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও প্রশাসক। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট হেলথ ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো শহরের জনস্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন এল সাইদ। ডেট্রয়েটে দায়িত্ব পালনের সময় শিশু মৃত্যুহার কমানো, স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং স্কুলে সীসার ঝুঁকি শনাক্ত করার মতো বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে কাজ করেন তিনি। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবার জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পান এল সাইদ। সেই নির্বাচনেও তার প্রচারণার মূল বিষয় ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং রাজনীতিতে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব হ্রাস করা। সে প্রাইমারিতে তিনি গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন। আট বছর পর এবার ইউএস সিনেটের প্রাইমারিতে সেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নিয়েই বড় জয় পেয়েছেন তিনি। তবে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা এখনো সামনে। নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে এল সাইদের প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে রজার্স বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মনোনয়ন পেয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থনও তার সঙ্গে রয়েছে। মিশিগানকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজ্যটিতে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পেলেও সাধারণ নির্বাচনে এল সাইদের সামনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে। নভেম্বরের ফলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ও জড়িয়ে আছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মুসলিম ইউএস সিনেটর নির্বাচিত হননি। সেই ইতিহাস পরিবর্তনের সুযোগ এখন আবদুল এল সাইদের সামনে। মাইক রজার্সকে হারাতে পারলে মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের এই সন্তান শুধু মিশিগানের নতুন সিনেটরই হবেন না, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে ইউএস সিনেটে প্রবেশ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের সিটি কাউন্সিলের বৈঠককে ঘিরে উভয় পক্ষের বিক্ষোভকারীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। বৈঠকের বাইরে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে নাৎসি প্রতীকসংবলিত পোশাক পরতেও দেখা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মী জেক ল্যাং। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিয়ারবর্ন সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি হেনরি ফোর্ড সেন্টেনিয়াল লাইব্রেরিতে যান। ল্যাংয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি তার বিরোধিতাকারীরাও সেখানে জড়ো হন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ২ ডেট্রয়েটের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলার পর ল্যাং ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি দল লাইব্রেরির দিকে ছুটে যায়। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় এবং ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে নামে। বৈঠকের ভেতরে বক্তব্য দেওয়ার সময় ল্যাং খ্রিস্টান শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে অন্যরা প্রতিস্থাপন করছে বলে দাবি করেন। তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত কয়েকজন প্রতিবাদ জানান এবং তাকে উদ্দেশ করে কটূক্তিও করা হয় বলে ফক্স ২ জানিয়েছে। বাইরে একই সময়ে ল্যাংয়ের সমর্থক এবং তার ইসলামবিরোধী অবস্থানের বিরোধীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরিস্থিতির মধ্যে ডিয়ারবর্নের মেয়র আবদুল্লাহ হামুদ শহরের বহুত্ববাদী চরিত্রের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ডিয়ারবর্নকে মুসলিম ও আরব জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া একটি শহর হিসেবে উপস্থাপন করা হলে শুধু মুসলিম ও আরবদেরই আক্রমণ করা হয় না, বরং শহরের খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের অবদানও অস্বীকার করা হয়। ডিয়ারবর্নের কর্মকর্তারা আগে থেকেই বাসিন্দাদের সতর্ক করেছিলেন, যেন সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে প্রয়োজনীয় কাজ না থাকলে সেখানে না যান। পুলিশের পক্ষ থেকেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ প্রধান ইসা শাহিন জানিয়েছিলেন, শহরের বাইরের বিভিন্ন গোষ্ঠী বৈঠকে আসতে পারে বলে তারা খবর পেয়েছেন। এ কারণে বৈঠকের স্থানও পরিবর্তন করা হয়েছিল। এর আগে স্থানীয় খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারাও মেয়র ও পুলিশ প্রধানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে উত্তেজনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। সোমবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা ডিয়ারবর্নকে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানের শহর হিসেবে তুলে ধরেন এবং ঘৃণার পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেন। ডিয়ারবর্নের ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ শহরটিতে বড় আরব-আমেরিকান ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ইসলামবিরোধী বক্তব্য ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এর আগেও শহরটি জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। এবার ল্যাংয়ের ঘোষিত ‘ক্রিশ্চিয়ান ক্রুসেডার মার্চ’কে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করে। জেক ল্যাং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় অংশ নেওয়ার পর কারাদণ্ড ভোগ করেন। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান। এরপর তিনি ডানপন্থী ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ আয়োজন করে আসছেন। ডিয়ারবর্নের পুলিশ জানিয়েছে, ল্যাংয়ের বক্তব্য দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মতপ্রকাশের অধিকার বজায় রেখেই সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো এবং অংশগ্রহণকারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি মিশিগান স্টেট পুলিশ, ওয়েইন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়সহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত করা হয়। ল্যাংয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ডেট্রয়েটের যাজক ও ট্রাম্প সমর্থক লরেঞ্জো সেওয়েলেরও। সেওয়েল দাবি করেন, তিনি ইসলামবিরোধী নন; বরং ডিয়ারবর্নে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের জন্য সমান সুযোগের প্রশ্ন তুলতেই তিনি ল্যাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে শহরের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই সতর্ক করে আসছিলেন, বাইরের বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি স্থানীয় পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ডিয়ারবর্ন পুলিশ ও মিশিগানের আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিলের মিশিগান শাখাও বাসিন্দাদের বৈঠক এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিল। মঙ্গলবারের ঘটনাকে ঘিরে ডিয়ারবর্নে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী, পুলিশ ও সংবাদকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান থেকে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো।
যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম মিশিগানে টিউবিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক মা, তাঁর ৯ বছরের ছেলে এবং এক আত্মীয়কে প্রায় তিন দিন পর গভীর জঙ্গল থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মাসকিগন নদীতে টিউবিং করার সময় গাছের গুঁড়ির ধাক্কায় তাদের টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা নদীর এক দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েন। নিখোঁজ এই তিনজন হলেন ২৮ বছর বয়সী সারাহ ভিদা, তাঁর ছেলে কেডেন কোভালসিক এবং সারাহর ২৮ বছর বয়সী খালাতো বোন জ্যাজমিন হক। উদ্ধার অভিযানের হৃদয়স্পর্শী ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। গত ৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশকে খবর দেন। নদীর তীরে তাদের গাড়ি পাওয়ার পর পুলিশ, প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা, উদ্ধারকারী দল ও কুকুর ইউনিট ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। টানা তিন দিন পর কাদা-মাটিতে পায়ের ছাপ, ভাঙা ডালপালা, নুয়ে যাওয়া ঘাস ও নদীর পাশে পড়ে থাকা টিউবের সূত্র ধরে উদ্ধারকারীরা জঙ্গলের গভীরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকারীদের চিৎকারের জবাবে শিশু কেডেনের আওয়াজ শুনে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়। তখন তারা চরম ক্লান্তি, পানিশূন্যতা, শরীরজুড়ে কাটা-ছেঁড়া ও পোকামাকড়ের কামড়ে জর্জরিত ছিলেন। জানা যায়, এই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার জন্য তারা নদীর পানি পানের পাশাপাশি ফুল, গাছের ছাল এবং পিঁপড়া পর্যন্ত খেয়েছেন। উদ্ধারের সময় ৯ বছরের শিশু কেডেনকে এক কর্মকর্তা পিঠে করে জঙ্গল থেকে বের করে আনেন এবং চরম দুর্বল দুই নারীকে স্ট্রেচারে করে আনা হয়। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে বর্তমানে তারা সবাই সুস্থতার পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা ক্যামেরন রাইট এই ঘটনাকে ‘প্রায় অলৌকিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিন দিন ধরে জঙ্গলের মাঝে ভয়, ক্ষুধা আর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর পরিবারের সঙ্গে তাদের পুনর্মিলনের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন ও স্বস্তিদায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ২০২৭ সালের শরৎকালীন শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন এই পদ্ধতি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় আগের মতোই নম্বর ও অক্ষরভিত্তিক গ্রেড পাবে। তবে এসব গ্রেড তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত নথিতে প্রকাশ করা হবে না এবং প্রথম সেমিস্টারের ফল সামগ্রিক গড় ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত হবে না। এর পরিবর্তে শিক্ষাগত নথিতে উত্তীর্ণ অথবা কৃতকার্য নয়—এ ধরনের ফলাফল দেখানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পর প্রথম কয়েক মাস শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন পরিবেশ, কঠিন পড়াশোনা এবং ভালো ফল করার চাপ অনেক শিক্ষার্থীর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। এই চাপ কমিয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন বিষয় শেখা, বিভিন্ন ধরনের কোর্স নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার অর্থ এই নয় যে প্রথম সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মূল্যায়ন হবে না। শিক্ষকরা আগের মতোই পরীক্ষা, লিখিত কাজ এবং অন্যান্য শিক্ষাকাজের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবেন। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকৃত ফলাফল ও শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও পাবে। তবে প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল শিক্ষাগত নথিতে প্রকাশ না হলেও বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরীণভাবে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত গ্রেডের তথ্য সংরক্ষণ করবে। প্রয়োজনে শিক্ষাগত পরামর্শ, বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন একাডেমিক সুযোগের ক্ষেত্রে এসব তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে। প্রথম সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে আবার স্বাভাবিক গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হবে। তখন শিক্ষার্থীদের অক্ষরভিত্তিক গ্রেড শিক্ষাগত নথিতে যুক্ত হবে এবং সামগ্রিক গড় ফলাফলের হিসাবেও তা অন্তর্ভুক্ত হবে। এই নতুন পদ্ধতি মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য হবে না। এটি মূলত কলেজ অব লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টসের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমর্থকদের মতে, প্রথম সেমিস্টারের গ্রেডের চাপ কমলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে স্বস্তি পাবে এবং পড়াশোনায় নতুন বিষয় ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আরও আগ্রহী হবে। তবে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, গ্রেডের গুরুত্ব কমিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ ও দায়িত্ববোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় আশা করছে, এই পরীক্ষামূলক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য আরও ভালো পরিবেশ তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মিসাউকি কাউন্টিতে একাধিক স্থানে সংঘটিত গুলির ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর সন্দেহভাজনকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েক ঘণ্টা পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। মিশিগান স্টেট পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে এপি, আপ নর্থ লাইভ এবং অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরের আগে মিসাউকি কাউন্টির একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত একজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্ত চলাকালে পুলিশ আরও দুটি পৃথক স্থানে মরদেহ খুঁজে পায়। এর মধ্যে একটি মরদেহ হুইটলক লেকের কাছের বনাঞ্চলে এবং আরেকটি একটি পৃথক বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এতে নিহতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছায়। ঘটনার পর ৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যানকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে মিশিগান স্টেট পুলিশ। তাকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে সতর্কবার্তা দিয়ে এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে হুইটলক লেকের কাছাকাছি তার গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা হলে সেখানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি, তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে। মিশিগান স্টেট পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, "এটি শুধু তদন্তকারীদের জন্য নয়, পুরো সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি ঘটনা। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালাব এবং তদন্তে যা সামনে আসবে, সে বিষয়ে জনগণকে নিয়মিত জানানো হবে।" কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় এবং সন্দেহভাজনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। নিহতদের স্বজনদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পর পরিচয় জানানো হবে। হামলার উদ্দেশ্যও এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং একাধিক অপরাধস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। কর্মকর্তাদের মতে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। সূত্র: এপি, আপ নর্থ লাইভ, মিশিগান স্টেট পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কালামাজু শহরের নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটে গৃহহীন মানুষের তাঁবু ঘিরে গড়ে উঠেছে বড় একটি অস্থায়ী বসতি। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি তাঁবুতে বসবাস করছেন কয়েক ডজন মানুষ। তবে রাস্তার পাবলিক রাইট অব ওয়ে বা জনসাধারণের চলাচলের জায়গা তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী দিয়ে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবার সেগুলো সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ। সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্টের মধ্যে নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটের তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী সরিয়ে নিতে সেখানে বসবাসকারীদের ৭২ ঘণ্টার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সিটির ভাষ্য, রাস্তার জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা উন্মুক্ত ও চলাচলের উপযোগী রাখা তাদের দায়িত্ব। কালামাজু সিটির কমিউনিকেশনস ম্যানেজার মাইকেল স্মিথ বলেন, তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী রাস্তার রাইট অব ওয়ে বাধাগ্রস্ত করছে এবং এটি সিটি কোডের লঙ্ঘন। তাই বাধা দূর করতে সেখানে বসবাসকারীদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। সিটি কর্তৃপক্ষ এ কার্যক্রমকে ‘রিমুভাল’ এবং ‘রাইট অব ওয়ে এনফোর্সমেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এটিকে গৃহহীনদের শিবির ‘ক্লিয়ার’ বা ‘সুইপ’ করার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে না। স্থানীয়দের হিসাবে, ওই এলাকায় প্রায় ৩৪টি তাঁবু রয়েছে। সেখানে ৫০ জনের বেশি মানুষ বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক তাঁবুতে একাধিক মানুষ থাকেন। তাঁবুর বাইরে সাইকেল, কুলার, পোশাকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী দেখা গেছে। কয়েকজনের সঙ্গে পোষা প্রাণীও রয়েছে। শিবিরের একজন বাসিন্দা বলেন, পুলিশ এসে তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। না সরালে সিটি কর্তৃপক্ষ ডাম্পস্টার নিয়ে এসে সেগুলো সরিয়ে দিতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী মালিন্ডা ডগলাস বলেন, অনেক মানুষ তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার পর আবার এমন জায়গায় ফিরে যেতে পারেন, যেখান থেকে তাদের আগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে শিবির সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁরা কোথায় যাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে সিটির সার্ভিস কর্মীরা ওই এলাকায় গিয়ে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের কাজও করেন। তবে শিবিরে থাকা কয়েকজন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের পর তাঁদের কোথায় যাওয়ার ব্যবস্থা হবে, সে বিষয়ে কোনো পরিষ্কার পরিকল্পনা তাঁদের হাতে নেই। গত ১০ আগস্ট কালামাজু সিটি কমিশনের এক সভায় নর্থসাইড এলাকার এক বাসিন্দাও রাস্তাজুড়ে গড়ে ওঠা তাঁবুগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এলাকাটিকে ‘একটি ছোট শহর’ হিসেবে বর্ণনা করে সিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটের এই তাঁবু শিবিরটি মন্ত্রণালয় উইথ কমিউনিটির কাছাকাছি। ৫০০ নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি গৃহহীন মানুষের জন্য ডে শেল্টার হিসেবে কাজ করে। সেখানে গোসল ও বিশ্রামাগারের সুবিধাও রয়েছে। তাঁবু সরানোর পাশাপাশি গৃহহীন মানুষদের সহায়তার জন্যও কাজ করছে সিটি কর্তৃপক্ষ। কালামাজু ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির কমিউনিটি সার্ভিসেস টিম শিবিরে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে তাদের যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস অব কালামাজু, কালামাজু গসপেল মিনিস্ট্রিজ, মন্ত্রণালয় উইথ কমিউনিটি এবং কালামাজু কাউন্টি হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিসেসের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য শেল্টার স্পেস খোঁজা এবং বাসিন্দাদের বিভিন্ন সেবার সঙ্গে যুক্ত করার কাজ চলছে। তবে তাঁবু সরানোর সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এসব মানুষের পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হবে। একদিকে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত রাখার দায়িত্বের কথা বলছে সিটি কর্তৃপক্ষ, অন্যদিকে শিবিরে থাকা অনেক মানুষ নতুন করে আশ্রয় পাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে গ্রেফতারের পর বুকিং ছবি তোলার জন্য এক মুসলিম নারীকে হিজাব খুলতে বাধ্য করার ঘটনা নতুন নয়, বরং ২০২১ সালের। ওই ঘটনায় হেলানা বোয়ে নামের নারী প্রথমে ফের্নডেল শহরের কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন এবং পরে ফেডারেল মামলা করেন। মামলাটি ২০২২ সালে সমঝোতায় নিষ্পত্তি হয় এবং এরপর ফের্নডেল পুলিশ বুকিং ছবিতে মুসলিম নারীদের হিজাব রাখার অনুমতি দিয়ে নীতিও পরিবর্তন করে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ২১ জুন মিশিগানের এইট মাইল রোডে একটি ট্রাফিক স্টপ থেকে। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের মিশিগান শাখা বা কেয়ার মিশিগানের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ হেলানা বোয়ের গাড়ির লাইসেন্স প্লেট ট্যাগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তাকে থামায়। ট্রাফিক স্টপের সময় বোয়ে নিজেই পুলিশকে জানান, তার কাছে আত্মরক্ষার জন্য একটি টেজার রয়েছে। এর আগে তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য ডিভাইসটি সঙ্গে রাখতেন বলে তার আইনজীবীরা জানান। প্রয়োজনীয় পারমিট ছাড়া টেজার রাখার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ফের্নডেল পুলিশ ডিপার্টমেন্টে নিয়ে যায়। মূল বিরোধের শুরু হয় পুলিশ স্টেশনে বুকিং প্রক্রিয়ার সময়। কেয়ার মিশিগানের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে একজন পুরুষ অফিসার বোয়ের দেহ তল্লাশি করেন, যদিও একজন নারী পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এরপর বুকিং ছবি তোলার সময় ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তাকে হিজাব খুলতে বলা হয়। বোয়ের দাবি ছিল, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্য ছাড়া অপরিচিত পুরুষদের সামনে তিনি চুল প্রকাশ করেন না। হিজাব ছাড়া বুকিং ছবি তোলা এবং সেই ছবি স্থায়ী সরকারি রেকর্ডে থাকার বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল বলে তিনি জানান। ঘটনার পর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কেয়ার মিশিগান ফের্নডেল কর্তৃপক্ষের কাছে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়। সে সময় বিষয়টি সরাসরি ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের মামলা ছিল না। এটি ছিল ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক দাবি। পরে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় একই বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কোর্টে মামলা করা হয়। ফের্নডেল পুলিশ তখন বলেছিল, কর্মকর্তারা প্রচলিত ডিপার্টমেন্ট পলিসি অনুসরণ করেছিলেন। সে সময়কার পুলিশ প্রধান ডেনিস এমি স্বীকার করেন, বুকিংয়ের সময় চুলসহ পরিচয় শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য ধারণ করার নীতির অংশ হিসেবেই হিজাব খুলতে বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, ঘটনার পর নীতি পর্যালোচনা করে কমিউনিটির প্রয়োজনের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুযোগ রয়েছে। কেয়ার মিশিগানের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ড্রাইভার লাইসেন্স ও পাসপোর্টের ছবিসহ বিভিন্ন সরকারি পরিচয়পত্রে ধর্মীয় কারণে হিজাব রাখার সুযোগ রয়েছে। তাদের বক্তব্য ছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পরিচয় শনাক্ত করার প্রয়োজন থাকলেও এমন বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব, যাতে ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালের মে মাসে বোয়ে ও ফের্নডেল শহরের মধ্যে সমঝোতা হয়। সমঝোতার আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তিনি শেষ পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন এমন দাবি করার পক্ষে প্রকাশ্য তথ্য নেই। তবে সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ফের্নডেল কর্তৃপক্ষ তাদের নীতি পরিবর্তন করে। নতুন নীতিতে মুসলিম নারীদের বুকিং ছবি তোলার সময় হিজাব পরার অনুমতি দেওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া নারী বন্দিকে পুরুষ অফিসারের মাধ্যমে তল্লাশি না করার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ঘটনাটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এটিকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর। হিজাব খুলে বুকিং ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের শুরু ২০২১ সালে এবং মামলাটি ২০২২ সালেই সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। তবে ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেই আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য নজির হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে থাকা মুসলিমদের ‘ট্রোজান হর্স’ এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস। মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারিতে মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেন সাউথ ক্যারোলাইনার এই কংগ্রেসওম্যান। গত ৭ আগস্ট এক্সে দেওয়া পোস্টে মেস দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে থাকা প্রত্যেক মুসলিমই ‘ট্রোজান হর্স’ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রজাতন্ত্রের জন্য হুমকি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সব মুসলিম জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এরপর সিএনএনের একটি লাইভ সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে মেসকে প্রশ্ন করেন অ্যাঙ্কর ওমর জিমেনেজ। তিনি জানতে চান, মেস কি তাহলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পদে থাকা প্রত্যেক মুসলিমই দেশের জন্য হুমকি। জবাবে মেস বলেন, তিনি সব মুসলিমকে হুমকি হিসেবে দেখছেন না এবং তার উদ্বেগ মূলত ‘র্যাডিক্যাল ইসলাম’ নিয়ে। তবে জিমেনেজ মেসের আগের বক্তব্যের সঙ্গে এই ব্যাখ্যার অসঙ্গতি তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে সংবিধানের ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় পরীক্ষা আরোপ করা যায় না। সাক্ষাৎকারে মেস মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে আমেরিকানদের নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হতে পারে। তার এ বক্তব্যেরও পাল্টা প্রশ্ন করেন জিমেনেজ। কোনো মুসলিম রাজনীতিক নির্বাচিত হলেই অন্য ধর্মের মানুষের ওপর ইসলামি পোশাক বা ধর্মীয় অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়া হবে, এমন ধারণার সাংবিধানিক বা বাস্তব ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মেসের মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। মুসলিম পরিচয়ের এল-সায়েদের রাজনৈতিক উত্থানের পর তাকে ঘিরে ধর্মীয় পরিচয়কেন্দ্রিক আক্রমণও বেড়েছে। মেস নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকেও তার বক্তব্যে টেনে আনেন। তবে সমালোচনার মুখে মেস দাবি করেছেন, তার আপত্তি মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং তিনি যাকে ‘র্যাডিক্যাল ইসলামিক আইডিওলজি’ বলছেন, তার বিরোধিতা করছেন। সমালোচকেরা অবশ্য বলছেন, তার মূল পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো উগ্রপন্থী ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিবর্তে সরকারি পদে থাকা ‘প্রত্যেক মুসলিমকে’ একসঙ্গে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। মেসের মন্তব্যকে ইসলামবিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। বিতর্কটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নির্বাচিত পদে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোনো প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয়কে কতটা সামনে আনা উচিত, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে চাপ তৈরির অংশ হিসেবে মিশিগানে বসবাসরত ৬৮ বছর বয়সী এক অভিবাসীর ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১২ সালে তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশনের আদেশ দেওয়া হলেও পরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগই সেই আদেশ কার্যকর স্থগিত রেখেছিল। এখন দেশ না ছাড়ার কারণ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন তিনি। এমলাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি তার অসুস্থ স্ত্রীর প্রধান দেখাশোনাকারী। তার স্ত্রী একজন মার্কিন নাগরিক। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে ওই অভিবাসীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ২০১২ সালে ডিপোর্টেশনের আদেশ হওয়ার পরও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তার রিমুভাল স্থগিত করেছিল। ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান। কিন্তু চলতি বছর তাকে পাঠানো নোটিশে অভিযোগ করা হয়, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি। এর ভিত্তিতেই তার ওপর ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩৮ ডলারের জরিমানা ধার্য করা হয়। ডেট্রয়েটের ইমিগ্রেশন আইনজীবী রিম খ্রাইজাত ওই ব্যক্তির পক্ষে জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলের সঙ্গে তার স্ত্রীর চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের চিঠিও জমা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ওই নারী তার স্বামীর ওপর নির্ভরশীল এবং স্বামীই তার প্রধান পরিচর্যাকারী। তবে আইনজীবীর দাবি, আইসিই আপিলে তুলে ধরা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়েই জরিমানার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যখন একজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দিয়েছে, তখন পরবর্তী সময়ে সেই একই সময়ের জন্য তাকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করা কতটা যৌক্তিক। এ ঘটনা শুধু মিশিগানের একজন অভিবাসীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ডিপোর্টেশন অর্ডার থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা আরোপের নীতি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে এসব জরিমানা মওকুফ করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত আইসিই ডিপোর্টেশন অর্ডারের পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এক লাখ তিন হাজারের বেশি জরিমানার নোটিশ দিয়েছে। এসব জরিমানার সম্মিলিত পরিমাণ ৮৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ট্রাম্প প্রশাসন স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ উৎসাহিত করতে সিবিপি হোম অ্যাপ ব্যবহার করছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিরা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জরিমানা মওকুফের সুযোগ পেতে পারেন। তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও আইনজীবীদের একটি অংশ এই জরিমানা নীতির বিরুদ্ধে আদালতে গেছে। তাদের অভিযোগ, বিপুল অঙ্কের জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি মার্কিন সংবিধানের অতিরিক্ত জরিমানা নিষিদ্ধ করার বিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে একাধিক ফেডারেল মামলা চলছে। মিশিগানের ওই অভিবাসীর ঘটনা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ নীতির বাস্তব প্রভাবের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাদের পুরোনো ডিপোর্টেশন অর্ডার রয়েছে কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এ ধরনের জরিমানার নীতি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান আনন্দঘন ও দ্বীনি পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ আগস্ট মাদরাসার ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, আলেম-উলামা ও মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন মাওলানা জিল্লুর রহমান উদ্দিন ও মুফতি রবিউল ইসলাম। পরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিক্ষামূলক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্ব পরিচালনা করেন মাওলানা সাদিকুর রহমান ও মাওলানা মুহাম্মদ সালমান। শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত দ্বীনি জ্ঞান ও শিক্ষার বিভিন্ন দিক পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরে। পরবর্তীতে দারুল উলূম মিশিগানের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ তাজ উদ্দীন বক্তব্য দেন। তিনি মাদরাসার অগ্রগতি, ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব এবং নতুন প্রজন্মকে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ, আদব-আখলাক ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আরিফ বিল্লাহ হযরত মাওলানা শাহ হাকীম মুহাম্মদ আখতার (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা মাওলানা শায়খ আসগর হুসাইন হাফিযাহুল্লাহ। তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে নসিহত করেন। তাঁর বক্তব্যে দ্বীনি ইলম অর্জন, নেক আমল, উত্তম চরিত্র গঠন এবং মহান আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে মাওলানা বরকতুল্লাহ আশরাফ নাশিদ পরিবেশন করেন। পরে মাওলানা মুহাম্মদ সালমান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের মাঝে যোহরের নামাজ আদায় করা হয়। দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে উস্তাদদের পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী ও গিফট ব্যাগ বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিউনিটির সদস্যদের ব্যাপক অংশগ্রহণে পুরো মাদরাসা প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বক্তারা প্রবাসে বেড়ে ওঠা মুসলিম শিশু-কিশোরদের মধ্যে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, ইসলামী পরিচয়, আদব-আখলাক ও নৈতিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি একটি আদর্শ ও দ্বীনদার প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়। দারুল উলূম মিশিগানের ১২তম বার্ষিক গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অর্জনের স্বীকৃতির পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রচেষ্টা ও ত্যাগেরও উদযাপনে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, দারুল উলূম মিশিগানের উত্তরোত্তর উন্নতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Michigan) কলেজ অফ লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টস (এলএসএ) শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান 'মানসিক স্বাস্থ্য সংকট' মোকাবিলার লক্ষ্যে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ফল সেমিস্টার থেকে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল ট্রান্সক্রিপ্টে গোপন রাখা হবে। প্রচলিত লেটার গ্রেডের পরিবর্তে তাদের শুধুমাত্র 'পাস/নো ক্রেডিট' ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে এই পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি কলেজের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই এলএসএ কলেজ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্ত গ্রেড ব্যক্তিগতভাবে জানতে পারবেন এবং অধ্যাপকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও পাবেন। তবে এই ফলাফল কোনোভাবেই তাদের সিজিপিএ-তে (CGPA) যুক্ত হবে না। ট্রান্সক্রিপ্টে কেবল উল্লেখ থাকবে যে, প্রথম সেমিস্টারের সব কোর্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'পাস' বা 'নো ক্রেডিট' হিসেবে গণ্য হয়েছে। তবে একাডেমিক পুরস্কার, বৃত্তি, ইন্টার্নশিপ এবং অন্যান্য পেশাগত সুযোগের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে তাদের প্রকৃত গ্রেড সংরক্ষণ করা হবে। দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে শিক্ষার্থীদের গ্রেড যথারীতি তাদের ট্রান্সক্রিপ্ট এবং জিপিএ-তে যুক্ত হওয়া শুরু করবে। প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজের কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রেড গোপন রাখার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং প্রতিযোগিতার বদলে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে শুরুর দিকের চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি), ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, সোয়ার্থমোর কলেজ এবং ওয়েলেসলি কলেজের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আগে থেকেই অনুরূপ নীতি চালু রয়েছে। তবে এই নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। 'থেরাপি নেশন'-এর লেখক ও সাইকোথেরাপিস্ট জোনাথন আলপার্ট দ্য পোস্ট-কে বলেন, "আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে সাধারণ মানসিক চাপকেও একটি বড় ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খারাপ গ্রেড পাওয়া হতাশাজনক বা বিব্রতকর হতে পারে, কিন্তু এটি কোনোভাবেই মানসিকভাবে ক্ষতিকর নয়।" তিনি আরও বলেন, "কলেজের উচিত শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করা। কর্মক্ষেত্রে কোনো বস্ আপনার খারাপ পারফরম্যান্স গোপন রাখবেন না। তরুণদের বুঝতে হবে যে খারাপ লাগা মানেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয়।"
ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপের একটি অ্যাপার্টমেন্টে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ গিয়ে মা ও তাঁর শিশুকে বাথটাবে অচেতন অবস্থায় পায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুজনই পানিতে ডুবে গিয়েছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত মায়ের নাম ডেজিরি হুইলার। তিনি তিন সন্তানের মা ছিলেন। ঘটনাস্থলে মা ও শিশুকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয় হাসপাতালে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ ডুবে যাওয়া বলে জানিয়েছে। তবে ওকল্যান্ড কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তাঁদের মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ ও মৃত্যুর ধরন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তদন্তকারীরা বিষক্রিয়া পরীক্ষার ফলাফলেরও অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতিবেশীদের কাছে হুইলার ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। সন্তানদের সঙ্গে সবসময় তাঁকে দেখা যেত বলে জানান তারা। প্রতিবেশী লরি মেডারিস বলেন, হুইলার সন্তানদের সঙ্গে সবকিছুই করতেন। তিনি সবসময় হাসিখুশি থাকতেন। আরেক প্রতিবেশী সু ক্যারি জানান, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও হুইলারকে তাঁর ১৩ বছর বয়সী সন্তান ও দুই মাসের শিশুর সঙ্গে দেখেছিলেন। ক্যারি বলেন, হুইলার ও তাঁর দুই সন্তান বাইরে বেরিয়ে এসে তাঁকে প্রতিবেশী হিসেবে অভিবাদন জানান। শিশুটি কেমন আছে জানতে চাইলে হুইলার জানিয়েছিলেন, সে ভালো আছে। এরপর তাঁরা ঘরে ফিরে যান—সেটিই ছিল হুইলারকে জীবিত অবস্থায় দেখার শেষ মুহূর্ত। পরে ক্যারি পুলিশকে হুইলার ও তাঁর শিশুকে বাড়ি থেকে বের করে আনতে দেখেন। সেই সময় হুইলারের কিশোর সন্তানও ঘটনাস্থলে ছিল। ক্যারি জানান, পরিস্থিতি দেখে ওই কিশোর এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিল না। পরিবারের সদস্যদের কান্নার দৃশ্য এখনো তাঁর মনে বারবার ফিরে আসছে বলে জানান তিনি। মা ও শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা জানতে তদন্ত এখনো চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।