মিশিগান

মিশিগানে গ্যাসের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৪.১৫ ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি বাড়ল ২০ সেন্ট

গ্যাসের দাম আবারও দৃশ্যমানভাবে বাড়ছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন একজন বিশ্লেষক। এএএ, দি অটো ক্লাব জানিয়েছে, মিশিগানের মোটরচালকরা এখন রেগুলার আনলেডেড গ্যাসের জন্য গড়ে প্রতি গ্যালনে ৪.১৫ ডলার দিচ্ছেন, যেখানে দেশজুড়ে গড় দাম ৪ ডলার। মিশিগানের এই দাম এক সপ্তাহ আগের চেয়ে ২০ সেন্ট বেশি, গত মাসের এই সময়ের চেয়ে ১১ সেন্ট বেশি এবং গত বছরের এই সময়ের চেয়ে ৯৯ সেন্ট বেশি।   এএএ প্রতি সোমবারে গ্যাসের দামের ট্রেন্ড রিপোর্ট প্রকাশ করে এবং দৈনিক আপডেটের একটি ডেটাবেস সংরক্ষণ করে। বর্তমান দাম অনুযায়ী, ১৫ গ্যালনের একটি ট্যাংকের জন্য মিশিগানের চালকরা প্রায় ৬২ ডলার দিচ্ছেন, যা ২০২৫ সালের আগস্টের সর্বোচ্চ দামের চেয়ে প্রায় ১১ ডলার বেশি।   গত সপ্তাহের তুলনায় মেট্রো ডেট্রয়েটের দৈনিক গড় গ্যাসের দাম বেড়েছে। মেট্রো ডেট্রয়েটের বর্তমান গড় প্রতি গ্যালনে ৪.০৯ ডলার, যা গত সপ্তাহের গড়ের চেয়ে প্রায় ১২ সেন্ট বেশি এবং গত বছরের এই সময়ের চেয়ে ৮৯ সেন্ট বেশি।   গ্যাসবাডির পেট্রোলিয়াম অ্যানালাইসিসের প্রধান প্যাট্রিক দে হান বলেছেন, টানা দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে গ্যাস ও ডিজেলের দাম বেড়েছে, যেখানে প্রতি গ্যালন ৪ ডলার হওয়াটা ক্রমেই সাধারণ হয়ে উঠছে এবং ডিজেলের জ্বালানি আবার প্রতি গ্যালনে ৫ ডলারের উপরে উঠে গেছে।   দে হান বলেন, চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরিস্থিতি বাজারে চাপ সৃষ্টি করে রাখলেও বিষয়টি এখন অপরিশোধিত তেলের চেয়ে বৈশ্বিক শোধন ক্ষমতার ওপর বেশি নির্ভর করছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে এবং রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের অব্যাহত হামলা ইতিমধ্যে চাপে থাকা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সংকুচিত করছে। মূল্য পরিবর্তনের চক্রে থাকা বাজারগুলোতে আগামী দিনগুলোতে দাম আরেক দফা লাফিয়ে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং মোটরচালকদের সামনের কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।

তাবাস্সুম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস ও সালাদ শাকসবজি তদন্ত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের প্রাদুর্ভাব, লেটুস কেনা ও খাওয়ায় সতর্কতার পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস ও অন্যান্য সালাদ শাকসবজিকে সন্দেহ করছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রমণ বেড়ে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছানোর পর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সালাদজাতীয় শাকসবজি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (MDHHS) জানিয়েছে, চলমান তদন্তে এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী লেটুস বা সালাদ শাকসবজির সঙ্গে সংক্রমণের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট কোনো পণ্য, উৎপাদক বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে সংক্রমণের উৎস হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি। এমডিএইচএইচএসের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান বলেন, "এখনও নিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যকে এই প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে বারবার লেটুস একটি সাধারণ খাদ্য হিসেবে সামনে এসেছে। তাই আমরা এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি, যাতে তারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিতে পারেন।"   স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মিশিগানে সাধারণত বছরে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের ঘটনা শনাক্ত হয়। কিন্তু চলতি প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছেছে, যা অঙ্গরাজ্যের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, Cyclospora নামের একটি পরজীবীর কারণে এই রোগ হয়। এতে সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী পানির মতো ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি এবং পেটের খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।   স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই রোগের ইনকিউবেশন বা সুপ্তকাল সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ইতোমধ্যে আরও অনেকে সংক্রমিত হলেও তাদের উপসর্গ পরে দেখা দিতে পারে। প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বেশ কয়েকটি সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছে এমডিএইচএইচএস। সংস্থাটি বলছে, সম্ভব হলে আগে থেকে ধোয়া ও প্যাকেটজাত লেটুস বা প্রস্তুত সালাদ না কিনে সম্পূর্ণ লেটুস কেনা ভালো। রান্নার আগে বাইরের দুই থেকে তিন স্তরের পাতা ফেলে দিতে হবে এবং ভেতরের পাতাগুলো পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।   যেসব শাকসবজি রান্না করে খাওয়া সম্ভব, সেগুলো অন্তত ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৫৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় রান্না করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কারণ, সাইক্লোস্পোরা পরজীবী সাধারণ রাসায়নিক জীবাণুনাশক এবং শুধু পানি দিয়ে ধোয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ দূর করা যায় না। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অতীতের বিভিন্ন সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে প্যাকেটজাত সালাদ, ধনেপাতা, তুলসী পাতা, রাস্পবেরি, স্নো পি এবং কাঁচা পেঁয়াজেরও সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল।   এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ স্পষ্ট করেছে, এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সুইমিং পুল বা অন্য কোনো বিনোদনমূলক জলক্রীড়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। যদিও সাঁতারের সময় পানি গিলে না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে বর্তমান তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু দূষিত খাদ্য, বিশেষ করে শাকসবজি।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত এখনো চলমান। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে জনসাধারণকে দ্রুত জানানো হবে। এর মধ্যে যাদের দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, বমিভাব বা তীব্র পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
অভিযুক্ত চার্লস ডিন পেসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে মাতাল চালকের গাড়িচাপায় একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় ভার্জিনিয়ার এক যুবকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় অভিযুক্তের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনসিদ্ধ সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল।   মিশিগানের ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, অভিযুক্ত চার্লস ডিন পেস (২৭) ভার্জিনিয়ার গ্লেন অ্যালেন এলাকার বাসিন্দা। গত ৩ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে ওকল্যান্ড কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। পরে ৭ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে চারটি দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটানোর চারটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়। আদালত তাকে জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বর্তমানে কারাগারেই রয়েছেন।   প্রসিকিউটর কারেন ম্যাকডোনাল্ড এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১ জুলাই মিশিগানের স্প্রিংফিল্ড টাউনশিপে ইন্টারস্টেট-৭৫ মহাসড়কের ইস্ট হলি রোডের কাছে দক্ষিণমুখী লেনে একটি ফোর্ড এফ-২৫০ পিকআপ ট্রাক চালাচ্ছিলেন পেস। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও তদন্তে দেখা গেছে, তিনি ঘণ্টায় ৯০ মাইলেরও বেশি গতিতে এক লেন থেকে আরেক লেনে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মিশিগান স্টেট পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা আইনি সীমার তিন গুণেরও বেশি ছিল।   এ দুর্ঘটনায় নিহত হন একই পরিবারের চার সদস্য। তারা হলেন জাকেরিয়া শ্যারন ডডসন (২৩), টিরি পাওয়েল (২৪) এবং তাদের দুই শিশু সন্তান নালানি পাওয়েল (৩) ও কার্টার পাওয়েল (২)। প্রসিকিউটর ম্যাকডোনাল্ড বলেন, "জাকেরিয়া, টিরি, নালানি ও কার্টারের মৃত্যু কোনো সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা ছিল না। অভিযুক্তের অভিযোগ অনুযায়ী মদ্যপ অবস্থায় দ্রুত ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্তই তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।"   ঘটনার পর নিহত পরিবারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যয় বহনে সহায়তার জন্য গোফান্ডমি প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের বিবরণে বলা হয়েছে, "আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। আমরা টিরি, জাকেরিয়া, নালানি এবং কার্টারের অকল্পনীয় মৃত্যুতে শোকাহত।"   সেখানে টিরিকে একজন স্নেহশীল বাবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো। অন্যদিকে জাকেরিয়াকে একজন যত্নশীল ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি সন্তানদের ভালোবাসা ও মমতায় বড় করে তুলছিলেন। প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ওই তহবিলে প্রায় ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ হয়েছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ডলার।   মিশিগানের আইন অনুযায়ী, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে কারও মৃত্যু ঘটালে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে।   সূত্র: পিপল ম্যাগাজিন, ফক্স ৫, ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয়

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
সুস্থ হয়ে চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানাতে কোরওয়েল হাসপাতালে ফিরেছেন ব্রুক ওয়েস্ট। ছবি: সংগৃহীত
কোমায় কাটিয়েছেন ছয় দিন, সুস্থ হয়ে চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানাতে হাসপাতালে ফিরলেন মার্কিন তরুণী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী ব্রুক ওয়েস্ট গুরুতর স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে টানা কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছয় দিন কোমায় থাকার কারণে তিনি নিজের স্কুলের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেননি। তবে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় সুস্থ হয়ে এবার সেই হাসপাতালেই ফিরে গিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।   দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে ব্রুক ওয়েস্টকে কোরওয়েল হেলথ বোমন্ট ট্রয় হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস (ADEM) নামে একটি বিরল স্নায়বিক রোগ শনাক্ত করেন। এ রোগে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে হঠাৎ করে ব্যাপক প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং রোগীর চলাফেরা, স্মৃতিশক্তি ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   ব্রুক জানান, গত ৮ মে স্কুলের সিনিয়র প্রম অনুষ্ঠানের আগে তার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল। কয়েক দিন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ওয়াকার ব্যবহার করে প্রম অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না, চিন্তাভাবনায় অস্পষ্টতা দেখা দেয় এবং আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।   ব্রুকের মা বনি ওয়েস্ট জানান, আইসিইউতে চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ের জন্য স্পাইনাল ট্যাপ, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ব্রুক খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা দিতে হয়। ব্রুকের বাবা জেসন ওয়েস্ট বলেন, শুরুতে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন না ঠিক কী রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। এতে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে ছিল।   ছয় দিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে তিনি অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিসে আক্রান্ত। এরপর তার পাঁচ দিন ধরে প্লাজমা এক্সচেঞ্জ থেরাপি করা হয়, যা তার অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ব্রুক নিজের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা তার জন্য বিশেষ আয়োজন করেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের একটি করিডোরজুড়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান চিকিৎসাকর্মীরা। পরে তার স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট হাসপাতালে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে স্নাতক সনদ তুলে দেন।   ব্রুক বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ছোট একটি অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু হাসপাতালের সবাই যেভাবে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, সেটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ। যদিও এখনও শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে ফিজিক্যাল ও অকুপেশনাল থেরাপি নিচ্ছেন।   এই অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ আরও বেড়েছে। আগামী শরৎ মৌসুমে তিনি গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন। ব্রুক বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবার কোরওয়েল হাসপাতালে ফিরে গেলে চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে করতালি, হাসি আর আলিঙ্গনের মাধ্যমে স্বাগত জানান।   হাসপাতালের নার্স ক্যাথি হামামেহ বলেন, ব্রুক তার সবচেয়ে স্মরণীয় রোগীদের একজন। একজন মা হিসেবে তিনি ব্রুকের মায়ের উদ্বেগ ও ভালোবাসার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পেরেছিলেন। তাই ব্রুকের সুস্থ হয়ে ওঠা তাকে ব্যক্তিগতভাবেও আনন্দ দিয়েছে।   তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ রোগীর পরবর্তী জীবনের খবর তারা জানতে পারেন না। কিন্তু ব্রুকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তার সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো যাত্রা কাছ থেকে দেখতে পেরেছেন, যা একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
দাদির ওপর হামলার ঘটনায় দণ্ডিত জর্ডান এলিংটন। ছবি: সংগৃহীত
৭৭ বছরের দাদির গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে হামলা, মিশিগানের যুবকের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ৭৭ বছর বয়সী দাদির গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এক ব্যক্তিকে ২০ থেকে ৪৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।   ম্যাকম্ব কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম জর্ডান এলিংটন (৩৪)। তিনি মিশিগানের ক্লিনটন টাউনশিপের বাসিন্দা। বুধবার (৮ জুলাই) ম্যাকম্ব কাউন্টি সার্কিট কোর্ট তাকে এই সাজা দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ এলিংটন তার ৭৭ বছর বয়সী দাদির গলায় একটি বেল্ট পেঁচিয়ে ধরেন এবং তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, “পরের বার আরও শক্ত করে টানব।”   ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে হামলার (Assault with a Dangerous Weapon) অভিযোগ আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে আদালত তাকে ওই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, এই অপরাধের জন্য প্রচলিত সাজা সাধারণত ২ থেকে ১৭ মাস কারাদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে তারা আদালতে যুক্তি দেন, একজন বয়স্ক পরিবারের সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তাই প্রচলিত নির্দেশিকার চেয়ে কঠোর সাজা হওয়া উচিত। বিচারক জেমস এম. বিয়ারনাট প্রসিকিউটরদের যুক্তির সঙ্গে একমত হয়ে এলিংটনকে ২০ থেকে ৪৮ মাস কারাভোগের আদেশ দেন।   রায়ের পর ম্যাকম্ব কাউন্টির প্রসিকিউটর পিটার জে. লুসিডো বলেন, “আমাদের প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বয়স্ক মানুষদের ভয়, নির্যাতন ও সহিংসতা ছাড়া জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে, বিশেষ করে নিজের পরিবারের মধ্যে, যেখানে তাদের সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করার কথা।” তিনি আরও বলেন, তার কার্যালয় প্রবীণদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।   মার্কিন আইন অনুযায়ী, কারাদণ্ডের ন্যূনতম সময় পার হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
এমিলি কারোলস্কি I ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে নবজাতকদের সেবায় নিয়োজিত নার্সের বাড়িতে মিলল ৮০টি মৃত বিড়াল, হতবাক স্থানীয়রা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এক নার্সের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গা শিউরে ওঠা এক বীভৎস দৃশ্য আবিষ্কার করেছে পুলিশ। এমিলি কারোলস্কি নামের ওই নার্সের বাড়ি থেকে প্রায় ৮০টি মৃত এবং ১০০টিরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি পেশায় কোরওয়েল হেলথের একজন নার্স প্র্যাকটিশনার, যিনি হাসপাতালে সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যার দায়িত্বে ছিলেন। এমন একটি সংবেদনশীল পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে চরম অবহেলা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রাণীদের আটকে রাখার এই ঘটনা স্থানীয় কমিউনিটিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সেখানকার ভয়াবহ দুর্গন্ধের কারণে রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ভাব ও মাথা ঘোরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের রেসপিরেটর বা বিশেষ শ্বাসযন্ত্র ব্যবহার করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বাড়িটি ছিল চরম নোংরা ও আবর্জনায় পূর্ণ। রান্নাঘরের বিভিন্ন স্থানে এবং এমনকি রেফ্রিজারেটরের ভেতরেও মৃত বিড়াল স্তূপ করে রাখা ছিল, যা দেখে উদ্ধারকর্মীরাও হতবাক হয়ে যান।   এই অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনার পর এমিলি কারোলস্কির বিরুদ্ধে প্রাণী নিষ্ঠুরতা এবং মৃত প্রাণী যথাযথভাবে সৎকার না করার অভিযোগে ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এত ভয়াবহ অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে মাত্র আড়াই হাজার ডলারের বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তির ওপর হাসপাতালে নবজাতক শিশুদের জীবনের ভার তুলে দেওয়া হয়েছিল, তার এমন ভয়াবহ মানসিকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এখন সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ডেমোক্রেটিক প্রার্থী মাহবুব খান (সংগ্রহীত)
মিশিগানের ৬১ নম্বর হাউস রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাহবুব খানের প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা অগ্রাধিকার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ৬১ নম্বর হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাহবুব খান নির্বাচনী প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেনিস মেন্টজারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   নির্বাচনী প্রচারণায় মাহবুব খান বলেছেন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য, শুধু কয়েকজনের জন্য নয়’—এই বার্তাকে সামনে রেখে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।   স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, জননিরাপত্তা জোরদার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় সহায়তা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষাকেও তিনি তাঁর নির্বাচনী এজেন্ডায় গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর নীতিনির্ধারণই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।   মাহবুব খান ঢাকা নবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল ওয়ারেশ খানের সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিশিগানে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি ঢাকা ডিভিশন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের সভাপতি। এছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের সাবেক সহ-সভাপতি, ASAAL মিশিগান চ্যাপ্টারের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, AMPAC-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মিশিগানের ১৩তম ডিস্ট্রিক্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   মিশিগানের ৬১তম হাউস ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে মাহবুব খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ ডেনিস মেন্টজার, যিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন। প্রাইমারিতে বিজয়ী প্রার্থী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর মুখোমুখি হবেন।   মিশিগানে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির একটি অংশের মতে, মাহবুব খানের প্রার্থিতা কেবল একটি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে তাঁর প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবাকে কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরায় ডিস্ট্রিক্টের ভোটারদের দৈনন্দিন জীবন-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: মিনহাজ চৌধুরী (বামে) ও মাইক ম্যাকফল (ডানে)। (সংগৃহীত)
মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট ১৪ এ প্রকাশ্য সমকামী বর্তমান স্টেট প্রতিনিধিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নির্বাচনী মাঠে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিনহাজ চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হাউস ডিস্ট্রিক্ট-১৪-এ আসন্ন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য প্রাইমারিতে বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতা মিনহাজ চৌধুরী। প্রাইমারিতে বিজয়ী প্রার্থী পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন।   দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক অধিকার, কমিউনিটি উন্নয়ন এবং দক্ষিণ এশীয়-আমেরিকানদের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মিনহাজ চৌধুরী বর্তমানে অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (ASAAL)-এর মিশিগান চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল এবং সংগঠনটির জাতীয় বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে কাজ করেছেন এবং আমেরিকান মুসলিম পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (AMPAC)-এর সঙ্গেও সম্পৃক্ত।   পেশাগত জীবনে তিনি ফোর্ড মোটর কোম্পানিতে কর্মরত। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়তা, সরকারি শিক্ষার মানোন্নয়ন, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ কমিউনিটি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাশ্রয়ী আবাসন এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা জোরদার করাও তার অন্যতম অঙ্গীকার।   অন্যদিকে, বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফল ২০২৩ সাল থেকে মিশিগান হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি হ্যাজেল পার্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং মেয়র প্রো টেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রকাশ্যে সমকামী (openly gay) এবং মিশিগান আইনসভার এলজিবিটিকিউ প্রতিনিধিদের একজন হিসেবে পরিচিত। তার নির্বাচনী প্রচারণায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সরকারি শিক্ষা, নাগরিক অধিকার, ক্ষুদ্র ব্যবসার উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।   ডিস্ট্রিক্ট-১৪-এর আওতায় সেন্টার লাইন, হ্যাজেল পার্ক, ম্যাডিসন হাইটস এবং ওয়ারেন শহরের অংশবিশেষ অন্তর্ভুক্ত। এলাকাটি জাতিগত ও সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময়। দক্ষিণ এশীয় ও বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে, ফলে এ নির্বাচন কমিউনিটির মধ্যেও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।   রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ প্রাইমারি নির্বাচন একদিকে বর্তমান প্রতিনিধির অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন, অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের আস্থারও পরীক্ষা। মিনহাজ চৌধুরী তার প্রচারণায় বাংলাদেশি-আমেরিকান, অভিবাসী পরিবার, শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, মাইক ম্যাকফল তার আইনসভায় কাজের অভিজ্ঞতা ও পূর্ববর্তী কার্যক্রমের ভিত্তিতে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।   আগামী ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির ফলই নির্ধারণ করবে, কে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ডিস্ট্রিক্ট-১৪-এর এই নির্বাচন শুধু স্থানীয় রাজনীতিতেই নয়, বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বের দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে কথা বলছেন স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী | ছবি: আমেরিকা বাংলা
ঝড়ে অন্ধকারে মিশিগানের বহু এলাকা, তীব্র গরমে দুর্ভোগে বাংলাদেশি পরিবার

মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৬০ মাইলের বেশি গতির দমকা হাওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডেট্রয়েট মেট্রো এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। পরে রাত ১১টা নাগাদ ডিটিই ও কনজিউমার্স এনার্জির সেবা এলাকাসহ পুরো মিশিগানে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়।     শনিবার সকাল পর্যন্তও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ডিটিই এনার্জি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত, উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চলছে।     এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক পরিবারও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান ও রেফ্রিজারেটর বন্ধ রয়েছে। ফলে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক পরিবার।   এ পরিস্থিতিতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলেন মিশিগান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ের পর থেকে তার নিজের বাসাতেও বিদ্যুৎ নেই।   মিনহাজ চৌধুরী বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই। প্রচণ্ড গরমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে সময় কাটছে। শুধু আমাদের নয়, আশপাশের অনেক বাংলাদেশি পরিবারেরও একই অবস্থা। সবাই অপেক্ষা করছেন কখন বিদ্যুৎ ফিরে আসবে।”   তিনি আরও বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে ইউটিলিটি কোম্পানির কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট একসঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া এবং বিদ্যুৎ না থাকলে নিরাপদ ও শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাডিসন হাইটসের মসজিদে হুমকির ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকির অভিযোগে মামলা করেছে ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের একটি মসজিদে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার হুমকি

মিশিগানের ম্যাডিসন হাইটসে একটি মসজিদে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক গৃহহীন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি ও কম্পিউটার ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হুমকির উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়, ধর্মীয় নেতারা এবং ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয়।   ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ক্রিস্টোফার লর্ডের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকির মিথ্যা অভিযোগ (False Threat of Terrorism) এবং কম্পিউটার ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত তার জামিন ৫ লাখ ডলার নগদে নির্ধারণ করেছেন।   তদন্তে জানা গেছে, গত ২৮ জুন বিকেলে ম্যাডিসন হাইটসের আমেরিকান ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার-এর ভয়েসমেইলে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা রেখে যায় অভিযুক্ত। সেখানে মসজিদের সদস্যদের হত্যার হুমকি, মুসলিমদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি এবং সহিংসতার ভাষা ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ।   ঘটনার পর মিশিগানের মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা এবং ইমামস কাউন্সিল অব মিশিগান এক সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের হুমকির তীব্র নিন্দা জানান। ইমামস কাউন্সিল অব মিশিগানের সহসভাপতি স্টিভ মুস্তাফা এলতুর্ক বলেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ ধরনের হুমকি নতুন নয়। তবে ২০২৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসলামবিদ্বেষমূলক ঘটনাগুলো আরও বেড়েছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণ।   ডিয়ারবর্ন হাইটসের ইসলামিক হাউস অব উইজডম-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মোহাম্মদ আলী এলাহী বলেন, ইসলামবিদ্বেষ বহুদিন ধরেই সমাজে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় নেতারা জানান, চলতি বছরে মিশিগানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা তাদের নথিভুক্ত ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েছে।   ধর্মীয় অধিকারকর্মী সাইয়েদ নাজাহ আল-হুসাইনি বলেন, এটি শুধু একটি মসজিদের বিরুদ্ধে হুমকি নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের নিরাপদে উপাসনার অধিকারের ওপর আঘাত। তার ভাষায়, গির্জা, সিনাগগ, মন্দির কিংবা মসজিদ, সব উপাসনালয়ই নিরাপদ থাকা উচিত।   সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘটনার ক্ষেত্রে প্রায়ই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাদের দাবি, অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানালেও ম্যাডিসন হাইটসের এই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত এফবিআই বা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেয়নি। এমনকি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এফবিআই মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও করেনি বলে তারা দাবি করেন।   এমলাইভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফবিআই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রসিকিউটর ক্যারেন ম্যাকডোনাল্ড বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপদে ধর্মীয় উপাসনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিগত সংকট বা মাদকাসক্তির কারণ থাকলেও ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, একই ব্যক্তি ট্রয় শহরের একটি রেস্তোরাঁর কর্মীকেও মদ্যপ অবস্থায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পৃথক তদন্তের আওতায় রয়েছেন। মিশিগান শাখার কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR-MI)-এর নির্বাহী পরিচালক ইমাম দাউদ ওয়ালিদ বলেন, উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে সহিংসতার হুমকিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত এবং এ ঘটনায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে তাদের সংগঠন।   এ ধরনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মসজিদ, সিনাগগ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা কিংবা হামলার হুমকির ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   সূত্র: MLive, Oakland County Prosecutor's Office

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানের মলে গুলির ঘটনা, তদন্তে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের শপিং মলে পরিচিত দুই পক্ষের বিরোধ মুহূর্তেই রূপ নেয় প্রাণঘাতী গোলাগুলিতে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরের একটি জনপ্রিয় শপিং মলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ গুলিবর্ষণে রূপ নিলে দুইজন নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আতঙ্কে ক্রেতা ও কর্মচারীরা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে মল থেকে বেরিয়ে যান।   ডিয়ারবর্ন পুলিশ জানিয়েছে, শহরের ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার শপিং মলে পরিচিত দুই পক্ষের একদল তরুণের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেটি মারামারিতে রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষ থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়।   ডিয়ারবর্ন পুলিশের প্রধান ইসা শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, এটি কোনো এলোমেলো বা উদ্দেশ্যহীন হামলা ছিল না। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিরা একে অপরের পরিচিত ছিলেন। মলে দেখা হওয়ার পর তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত গুলিবর্ষণে গড়ায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংঘর্ষে জড়িত উভয় পক্ষের কাছেই হ্যান্ডগান ছিল।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ দুইজনের একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপরজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয় বা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   গুলির শব্দ ছড়িয়ে পড়তেই পুরো শপিং মলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মল থেকে বের হওয়ার সময় একজন পথচারী একটি গাড়ির ধাক্কায় আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি গুলিবিদ্ধ ছিলেন না।   ঘটনার পরপরই ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার খালি করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মলটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিয়ারবর্ন পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনার পর মানুষকে দৌড়ে শপিং মল থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   মিশিগান অঙ্গরাজ্য পুলিশের স্পেশালিস্ট লেফটেন্যান্ট টাইরান হাওয়ার্ড জানান, রাজ্য পুলিশ তদন্তে ডিয়ারবর্ন পুলিশকে সহায়তা করছে। ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি স্থানীয় পুলিশের বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করেন। ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার ডেট্রয়েটের পশ্চিমে অবস্থিত ডিয়ারবর্ন শহরের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র। মলটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এখানে ১২৫টিরও বেশি দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে এবং প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে কেনাকাটা করতে আসেন।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সময় প্রতিবছরই বন্দুক-সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে ৫০০টিরও বেশি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে এবারের ঘটনাও নতুন করে জননিরাপত্তা ও অস্ত্র সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
বার্নি স্যান্ডার্স  ও ড. আবদুল এল-সায়েদক I ছবি: সংগৃহীত
মিশিগান সিনেট নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীর পাশে বার্নি স্যান্ডার্স, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোটি ডলার ব্যয়ের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আসন্ন ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবার প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন মুসলিম প্রার্থী ও চিকিৎসক ড. আবদুল এল-সায়েদকে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী লবি-সমর্থিত সুপার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিগুলো (সুপার প্যাক) এল-সায়েদকে পরাজিত করতে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্যান্ডার্স বলেন, ড. আবদুল এল-সায়েদকে হারাতে AIPAC-সংশ্লিষ্ট এবং অন্যান্য বিলিয়নিয়ার-অর্থায়িত সুপার প্যাক বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। তার দাবি, এসব গোষ্ঠী এমন প্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে, যারা প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেন এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে অবস্থান নেন।   বার্নি স্যান্ডার্সের মতে, ড. এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে দেখেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির সমর্থক। এছাড়া তিনি শ্রমজীবী মানুষের মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক ইউনিয়নের অধিকার শক্তিশালী করা এবং সরকারি ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে ভিন্নধর্মী অবস্থান নিয়েছেন।   একই পোস্টে স্যান্ডার্স ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তারও সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীগুলো নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করতে চায় এবং জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রার্থীদের পরাজিত করার চেষ্টা করছে।   তিনি সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থের প্রভাব নয়, ভোটারদের ঐক্যই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করতে পারে। তাই মিশিগানের ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ড. আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   ড. আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং মিশিগানের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তিনি এর আগে ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত হন।   অন্যদিকে, AIPAC (American Israel Public Affairs Committee) যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন। যদিও সংগঠনটি নিজে সুপার প্যাক নয়, তবে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যয়কারী সংগঠনগুলো বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থী সমর্থন বা বিরোধিতায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করে থাকে।   আগামী ৪ আগস্ট মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাইমারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে স্যান্ডার্সের এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং নির্বাচনী অর্থায়ন নিয়ে তার অভিযোগ ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে স্যান্ডার্সের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সুপার প্যাকগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের সুইমিং পুল থেকে মেয়রের ৭ বছর বয়সী ভাতিজা হারবে নাগির মরদেহ উদ্ধার | ছবি: আদম আলহারবি ফেসবুক
যুক্তরাষ্ট্রে সাত বছর বয়সী মেয়রের ভাতিজা নিখোঁজের পর সুইমিং পুলে মৃত উদ্ধার

আমেরিকার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামেক শহরের মেয়র আদম আলহারবির ৭ বছর বয়সী ভাতিজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিউইয়র্কের অ্যালবানি অঞ্চলের একটি সুইমিং পুল থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হারবে নাগি নামের ওই শিশুটি গত রোববার থেকে নিখোঁজ ছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডেট্রয়েট নিউজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই দুঃখজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে।   মেয়র আদম আলহারবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, তার ৭ বছর বয়সী ভাতিজা হারবে কথা বলতে পারত না এবং সে অটিজমে আক্রান্ত ছিল। রোববার একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান চলাকালীন সে হঠাৎ সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বাইরে চলে যায়। শিশুটির সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। ভাতিজার নিখোঁজের খবর পেয়ে মেয়র আলহারবি নিজে মিশিগান থেকে নিউইয়র্কে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন।   নিউইয়র্কের মেনান্দস গ্রামের পুলিশ প্রশাসন মঙ্গলবার জানায়, নিখোঁজ শিশুটির মরদেহ অবশেষে একটি আবাসিক এলাকার সুইমিং পুল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, শিশুটির প্রকৃতির প্রতি, বিশেষ করে পানির প্রতি ব্যাপক আকর্ষণ ছিল এবং সে প্রায়শই একা একা বাইরে ঘুরে বেড়াত। ধারণা করা হচ্ছে, মনের অজান্তেই সে সুইমিং পুলে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।   এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর মেনান্দস পুলিশ বিভাগ নিহতের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ পুরো এলাকায় তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট রাস্তাটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   মেয়র আদম আলহারবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, "এই কঠিন সময়ে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, প্রার্থনা করেছেন এবং সমবেদনা জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের এই সহানুভূতি আমাদের পরিবারকে শক্তি জুগিয়েছে।" আগামী বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ল্যাথামে শিশুটির শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে দুর্গা টেম্পলের পিকনিক যেন প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের বার্ষিক পিকনিক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) ওয়ারেন সিটির ভেটার্নস মেমোরিয়াল পার্কে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালি সপরিবারে অংশ নেন।   প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে এই বনভোজন যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়। অনুকূল আবহাওয়ায় ডেট্রয়েট ও আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রবাসীরা দিনভর আনন্দ-আড্ডা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে সময় কাটান। অনেকের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা-সাক্ষাৎ এবং নতুন প্রবাসীদের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগও তৈরি হয় এই আয়োজনে।   দিনের শুরুতেই শিশুদের বিভিন্ন খেলাধুলা, নারীদের ঐতিহ্যবাহী বালিশ খেলা এবং প্রবাসীদের প্রাণবন্ত আড্ডা জমে ওঠে। পাশাপাশি ছিল বারবিকিউর বিশেষ আয়োজন। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের আবহও ছড়িয়ে পড়ে পিকনিকে। অনেকেই প্রিয় দলের জার্সি পরে অংশ নেন এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচে মেতে ওঠেন।   দুপুরে অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় খাবার। খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের পর আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাফেল ড্র। এতে ৬৫ ইঞ্চি টেলিভিশন, ল্যাপটপ, রেফ্রিজারেটর, অ্যাপল এয়ারপড, সাউন্ড সিস্টেম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, প্রেশার কুকারসহ নানা আকর্ষণীয় পুরস্কার রাখা হয়।   ডেট্রয়েট দুর্গা টেম্পলের সভাপতি পংকজ দাশ জানান, এবার পিকনিকে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে সদ্য আসা অনেক নতুন প্রবাসীও এতে অংশ নিয়েছেন। সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সহযোগিতা করায় তিনি অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।   অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব যৌথভাবে পরিচালনা করেন মন্দিরের মিডিয়া ডিরেক্টর ও সাংবাদিক পার্থ সারথী দেব, সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল সূত্রধর এবং সহসভাপতি নিপেশ সূত্রধর।   বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে মিশিগানের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আসন্ন মিশিগান স্টেটের প্রাথমিক নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন প্রার্থীও অনুষ্ঠানে এসে প্রবাসীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
৭ বছর বয়সেই ২৫৫ পাউন্ড ওজন, বাবা-মায়ের অবহেলা ও চিকিৎসাবঞ্চনায় প্রাণ গেল এক শিশুর

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে চরম অবহেলা ও চিকিৎসাবঞ্চিত রেখে ৭ বছর বয়সী এক স্থূলকায় শিশুকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে তার বাবা-মাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ক্যাসপার নামের ওই শিশুটির মৃত্যুর সময় ওজন ছিল ২৫৫ পাউন্ড (প্রায় ১১৫ কেজি)। প্রসিকিউটরদের মতে, বাবা-মায়ের 'অভূতপূর্ব ও ভয়াবহ অবহেলার' কারণেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শিশুটির এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।   এই অমানবিক ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী ড্যামিয়েন ও'ব্রায়েন এবং তার স্ত্রী জেসিকা ও'ব্রায়েনকে (৪১) সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার, শিশু নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।   ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের (২০২৫ সালের) ৪ নভেম্বর। মিশিগানের ফ্লিন্ট টাউনশিপে ওই পরিবারের অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর বাড়ি থেকে জরুরি নম্বরে (৯১১) কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ক্যাসপারকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, 'ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি' বা হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিকতা থেকে হার্ট ফেইলিউরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, যার পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটক ছিল মাত্রাতিরিক্ত স্থূলতা।   মৃত্যুর সময় ৪ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ক্যাসপারের ওজন ছিল ২৫৫ পাউন্ড, যা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর নির্দেশিত ৭ বছর বয়সী শিশুদের স্বাভাবিক ওজনের (৫০ থেকে ৭৩ পাউন্ড) চেয়ে বহুগুণ বেশি।   জেনেসি কাউন্টির প্রসিকিউটর ডেভিড লেটন এই ঘটনাকে চরম নিষ্ঠুরতা হিসেবে উল্লেখ করে জানান, স্বাস্থ্যবীমা এবং বাবার ভালো আয় থাকা সত্ত্বেও ক্যাসপারকে জীবনে মাত্র একবার চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল এবং সে কখনো স্কুলেও যায়নি।   সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেদিন ক্যাসপার মারা যায়, সেদিন সকালেও ওই দম্পতি নিজেদের পোষা কুকুরের চিকিৎসার জন্য পশু চিকিৎসককে বাড়িতে ডেকেছিলেন। লেটন আরও জানান, সরকারি কোনো নথিতেই এই শিশুদের অস্তিত্ব ছিল না। বর্তমানে অভিযুক্ত দম্পতিকে জামিন ছাড়াই জেনেসি কাউন্টি জেলে আটক রাখা হয়েছে এবং আগামী ২ জুলাই তাদের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
অভিযুক্ত ছেলে l ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্মদাত্রী মাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল পাষণ্ড ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী নিজের মাকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অর্টনভিল এলাকার বাসিন্দা অ্যারন হুটিরা (৩৪) নামের ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে হামলা, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ, পারিবারিক সহিংসতা এবং আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত দুটি গুরুতর অপরাধের (ফেলোনি ফায়ারআর্ম) অভিযোগ আনা হয়েছে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত হুটিরা অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় তার মায়ের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালায়। শুধু তাই নয়, সে নিজের পাশাপাশি তার বাবা-মাকেও হত্যার হুমকি দেয়। এমনকি একপর্যায়ে সে তার সন্তানদের মায়ের দিকেও বন্দুক তাক করে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্বরোচিত এই হামলায় হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ওই মায়ের নাক ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ (ব্রেন ব্লিড) শরীরের বিভিন্ন স্থানে তিনি গুরুতর জখম হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত হুটিরাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। মারাত্মক হামলার জন্য তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা ৫ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আক্রমণের জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা ৩ হাজার ডলার জরিমানা, পারিবারিক সহিংসতার জন্য ৯৩ দিনের জেল এবং/অথবা ৫০০ ডলার জরিমানা এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অপরাধে আরও দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।   এ ঘটনায় ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রসিকিউটর ক্যারেন ম্যাকডোনাল্ড এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি ভুক্তভোগীদের জন্য পরিস্থিতিকে অনেক বেশি ভয়ংকর করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, নির্যাতনকারীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে নারীদের খুন হওয়ার ঝুঁকি প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। আহত মায়ের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি অভিযুক্তকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
কমিউনিটির বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময় করছেন স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রার্থী মাহবুব খান | ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানের রাজনীতিতে নতুন মুখ মাহবুব খান, ভোটারদের দিলেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-৬১ থেকে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাহবুব খানের উদ্যোগে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে এক মতবিনিময় ও ‘মিট অ্যান্ড গ্রীট’ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   গত শনিবার স্টার্লিং হাইটসের নিউ ডাউন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশি, ইয়েমেনি, পোলিশ এবং আমেরিকান কমিউনিটির ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন শ্রেণির পেশাজীবীরা অংশ নেন।   সভায় মাহবুব খান তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চান। পাশাপাশি স্টার্লিং হাইটস, ইউটিকা, ক্লিনটন টাউনশিপ ও মাউন্ট ক্লিমেন্স এলাকার সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য প্রাইমারি নির্বাচনে মাহবুব খান ডিস্ট্রিক্ট-৬১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি কমিউনিটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন।   ভোটারদের উদ্দেশে মাহবুব খান বলেন, “৪ আগস্ট ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সমর্থন আমার বিজয়ের পথ সুগম করবে। নির্বাচিত হলে আমি কমিউনিটির উন্নয়ন এবং মানুষের স্বার্থে কাজ করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করব।” এ সময় তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম সফল করতে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
২ হাজার ডলার কর বকেয়ার জেরে ২ লাখ ডলারের বাড়ি বিক্রি ৭৬ হাজারে, সুপ্রিম কোর্টে হেরে গেল পরিবার

মাত্র ২ হাজার ২৪১ ডলার কর বকেয়ার কারণে প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের একটি বাড়ি নিলামে বিক্রি হয়ে যায় ৭৬ হাজার ডলারে। সেই বাড়ির মালিক পরিবারের দাবি ছিল, সম্পত্তিটি প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হওয়ায় তারা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।   সোমবার দেওয়া সর্বসম্মত রায়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, কর বকেয়ার কারণে সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনো সম্পত্তি জব্দ করে নিলামে বিক্রি করলে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বাজারমূল্য নয়, বরং নিলামে পাওয়া প্রকৃত বিক্রয়মূল্যই বিবেচ্য হবে। মামলাটি মিশিগানের ইসাবেলা কাউন্টির পাং পরিবারকে ঘিরে। আদালতের নথি অনুযায়ী, পরিবারের প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের বাড়িটির বিপরীতে ২ হাজার ২৪১ ডলার ৯৩ সেন্ট সম্পত্তি কর বকেয়া ছিল। কর বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় কাউন্টি কর্তৃপক্ষ বাড়িটি জব্দ করে এবং পরে নিলামে বিক্রি করে। নিলামে বাড়িটির বিক্রয়মূল্য ছিল ৭৬ হাজার ৮ ডলার।   পাং পরিবারের দাবি, বাড়িটির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ডলার। সে হিসেবে তারা প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলারের সম্পত্তিগত মূল্য হারিয়েছেন। যদিও নিলাম থেকে প্রাপ্ত উদ্বৃত্ত অর্থ তাদের ফেরত দেওয়া হয়েছিল, তবুও তারা আদালতে যুক্তি দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী তাদের সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।   তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। নয় বিচারপতির সর্বসম্মত মতামতে বলা হয়, সংবিধান সরকারকে কোনো সম্পত্তির অনুমানভিত্তিক বাজারমূল্যের ওপর ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করে না। আদালতের মতে, উন্মুক্ত ও আইনসম্মত নিলামে যে মূল্য পাওয়া যায়, সেটিই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড।   রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, বাজারমূল্যকে বাধ্যতামূলক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করলে স্থানীয় সরকারগুলোর কর আদায় ও সম্পত্তি জব্দ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও জটিল এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   তবে আদালত মামলার একটি অংশ নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠিয়েছে। সেখানে সম্পত্তি জব্দ ও বিক্রির পুরো প্রক্রিয়া ন্যায্যভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পরিবারের অন্যান্য অভিযোগ পুনর্বিবেচনা করা হবে।   অন্যদিকে, ইসাবেলা কাউন্টি কর্তৃপক্ষ আদালতে জানিয়েছে, পাং পরিবার কর অব্যাহতির জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয়নি, কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপিলও করেনি। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে পাঠানো একাধিক নোটিশের পরও তারা বকেয়া কর পরিশোধে উদ্যোগ নেয়নি। ফলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তিটি জব্দ ও বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি করে কাউন্টি প্রশাসন।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কর বকেয়ার কারণে জব্দ হওয়া সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভবিষ্যতের মামলাগুলোতে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এটি সম্পত্তির মালিকদের অধিকার ও স্থানীয় সরকারের কর আদায়ের ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে চলমান বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে বাংলাদেশিদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, অনুমোদন পেল স্থায়ী ক্রিকেট মাঠ

মিশিগানের ওয়ারেন সিটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রিকেট অনুরাগীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটতে চলেছে। শহরের একটি পার্কে স্থায়ী ক্রিকেট ফিল্ড নির্মাণের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে ওয়ারেন সিটি প্রশাসন ও সিটি কাউন্সিল।   এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের স্বীকৃতি ও ধন্যবাদ জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগান (বিসিএএমআই) গত ৮ জুন রাতে একটি বিশেষ ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন ও ডিনার’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।   ওয়ারেন সিটির একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র লরি স্টোন। অনুষ্ঠানে সিটি কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও মেয়র প্রো টেম ডেভ ডোয়ার, কাউন্সিল ভাইস প্রেসিডেন্ট মেলোডি ম্যাগি, জোনাথান ল্যাফার্টি, মিন্ডি মুর এবং হেনরি নিউন্যান।   অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিসিএএমআই কমিটির সদস্য ইনাস আল রাজি। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট তায়েফুর রহমান এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইয়েদ আহমেদ। তারা মিশিগানে ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই খেলার গুরুত্ব এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।   এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কামাল রহমান। উপদেষ্টা পরিষদের অন্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোশাররফ চৌধুরী লিটু, ইফতেখার আহমেদ, সায়েল হুদা এবং নাজেল হুদা। প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য নাজেল হুদাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষ স্বীকৃতি ও ধন্যবাদ জানানো হয়।   ওয়ারেন সিটি সূত্রে জানা গেছে, সিটি প্রশাসন ‘শ পার্ক’ পুনর্উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। কয়েক মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই নির্মিত হচ্ছে ওয়ারেন সিটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট মাঠ।   বর্তমানে মাঠের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে পূর্ণাঙ্গ পিচ, আধুনিক প্র্যাকটিস নেটিং ব্যবস্থা এবং দর্শকদের জন্য বসার গ্যালারি থাকবে।   মাঠটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে স্থানীয় টুর্নামেন্টের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে।   এই অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে বাংলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি ঘোষণা । ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে বাংলা প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব সভাপতি সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সাহেল

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলা গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন বাংলা প্রেসক্লাব মিশিগানের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এনটিভির মিশিগান প্রতিনিধি সেলিম আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বাংলাভিশনের মিশিগান প্রতিনিধি সাহেল আহমেদ।   স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে মিশিগানের ওয়ারেন সিটির ১২ মাইলে অনুষ্ঠিত কণ্ঠভোটের মাধ্যমে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। নির্বাচনী কাউন্সিল সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী সভাপতি শাহেদুল হক এবং সঞ্চালনা করেন বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল রেজা (সুহেল)।   নতুন কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোস্তফা কামাল ও আরটিভির কামরুজ্জামান হেলাল। সহসাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কাওসার দেওয়ান। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মৃদুল কান্তি সরকার। কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন সোলায়মান আল মাহমুদ এবং প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহফুজুর রহমান শাহীন।   কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ডিবিসি টেলিভিশনের আশিকুর রহমান, গ্লোবাল টেলিভিশনের আসাদুজ্জামান সুহান, দৈনিক খোয়াইয়ের সম্পাদক শামীম আহসান, সুপ্রভাত মিশিগানের সম্পাদক চিন্ময় আচার্য্য এবং টিবিএন টেলিভিশনের তোফায়েল রেজা সুহেল।   নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে প্রবাসী সাংবাদিক মহলে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

Unknown মে ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
১৭ কোটি টাকার বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা, মিশিগানে বাঙালি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন অনন্যা চন্দ জেসি। ডেট্রয়েটের ক্যাস টেক হাইস্কুলের এই শিক্ষার্থী প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৭ কোটি টাকার শিক্ষা বৃত্তি অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।   অনন্যা মিশিগানপ্রবাসী বিশ্বেশ্বর চন্দ ও শেলী শীল দম্পতির দ্বিতীয় কন্যা। তার এই সাফল্যের খবরে স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।   নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনন্যা জানান, তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রি-মেড’ বিষয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এই অর্জন তাকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   অনন্যা বলেন, পড়াশোনা শেষ করে তিনি মেট্রো ডেট্রয়েট অঞ্চলের মানুষের সেবায় কাজ করতে চান।   শিক্ষাজীবনে অনন্যা একাডেমিক কৃতিত্বের পাশাপাশি নেতৃত্বমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি ‘ন্যাশনাল অনার সোসাইটি’র সভাপতি এবং ‘অ্যাকাডেমিক গেমস’-এর সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।   এ ছাড়া তিনি মিশিগান মেডিসিনের অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ ইনিশিয়েটিভের রিচ বোর্ড এবং ‘ওমেন অব বাংলাটাউন ইউথ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।   মেধার স্বীকৃতি হিসেবে অনন্যা ‘পালাজো স্ট্রজি’ পুরস্কারও অর্জন করেছেন। এই পুরস্কারের আওতায় ইতালিতে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। তবে সব সুযোগের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি।   নিজের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মা ও মেন্টরদের অবদানের কথা উল্লেখ করে অনন্যা বলেন, তাদের সমর্থন ও অনুপ্রেরণাই তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে।   কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনন্যার বার্তা, “কখনো নিজের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখবে না। মনে রাখবে, সাময়িক ব্যর্থতাও ভবিষ্যতের বড় সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।”  

Unknown মে ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের বিষয়ে আবেদনকারীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

বাংলাদেশিদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত: যে ৭টি বিষয় এখনই জানা জরুরি

তাবাস্সুম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০