সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ফিলাডেলফিয়ায় কুখ্যাত পর্নোগ্রাফারের বাড়িতে বিপুল ভিডিও, নিখোঁজ ৭ নারীকে ঘিরে তদন্ত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১:৪১
ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক মিলিয়নের বেশি ডিজিটাল ফাইলের সূত্র ধরে অন্তত ৭ নিখোঁজ নারীর সন্ধান মিলেছে। ছবি: সংগৃহীত
ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক মিলিয়নের বেশি ডিজিটাল ফাইলের সূত্র ধরে অন্তত ৭ নিখোঁজ নারীর সন্ধান মিলেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক মিলিয়নের বেশি ছবি ও ভিডিওকে ঘিরে ভয়াবহ তদন্তে অন্তত ৭ নিখোঁজ নারীর সন্ধান মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের মধ্যে ৫ নারীকে মৃত বা মৃত অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা, আর আরও ২ নারী এখনো নিখোঁজ। তবে এখন পর্যন্ত ওই নারীদের কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি এবং হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে কাউকে অভিযুক্তও করা হয়নি। 

 

তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু ফিলাডেলফিয়ার অলনি এলাকার ওয়েস্ট চিউ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি। বাড়িটিতে দীর্ঘদিন বসবাস করতেন প্রয়াত রেমন্ড ‘আরসি’ হর্শ এবং তার ছেলে ইউজিন হর্শ। রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। তিনি যৌনধর্মী ছবি ও ভিডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার কাজের বড় একটি ডিজিটাল সংগ্রহ বাড়িটিতে সংরক্ষিত ছিল। 

 

ফিলাডেলফিয়া পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক ভ্যানোরে জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যালোচনা করেছেন। এর মধ্যেই ৫৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। আরও ২৫ জনকে শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের মতে, আরও বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও এখনো পর্যালোচনা করা বাকি। 

 

নতুন করে তদন্তে যুক্ত হয়েছে আরও দুই নারী। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ভিডিও ও ছবিতে প্রায় ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে অচেতন ও শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ দেখা গেছে। পরিবারটির অনুরোধে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আরেকটি ছবিতে মধ্য বিশের এক নারীকে আহত ও প্রাণহীন অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগে আরও তিন নারীকে শনাক্ত করে তাদের মৃত বলে ধারণা করেছিল পুলিশ। 

 

তদন্তে আলোচিত নারীদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো, মারিবেল ফ্রেসেস ও নিকোল ফুসারো। ফুসারো ২০১৮ সালে ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা একটি ভিডিওতে রেমন্ড হর্শকে তার গলায় বাঁধন দেওয়ার মতো আচরণ করতে দেখা যায়। তবে তার মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। আরও দুই নিখোঁজ নারী হলেন ব্লেয়ার টনজেলি ও অ্যামি ম্যাকহেল। টনজেলি ২০২৩ সালে নিখোঁজ হন। ম্যাকহেল ছিলেন রেমন্ড হর্শের সাবেক স্ত্রী এবং ২০১৬ সালে নিখোঁজ হন। 

 

তদন্তের শুরু হয় চলতি বছরের জুনে ইউজিন হর্শ গ্রেপ্তার হওয়ার পর। ফিলাডেলফিয়ায় তাকে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে আটক করা হয়। তার কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়পত্রও পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে ব্লেয়ার টনজেলির পরিচয়পত্র পাওয়ার পর তদন্তকারীদের নজর আরও গভীরভাবে ওই বাড়ির দিকে যায়। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ছবি, ভিডিও, কম্পিউটার সরঞ্জাম, রাসায়নিক পদার্থ এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। 

 

বাড়িতে পাওয়া রাসায়নিক পদার্থ নিয়েও তদন্ত চলছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে একটি কথিত ল্যাবরেটরির মতো জায়গা, বিভিন্ন রাসায়নিকের পাত্র এবং পাঁচটি ছাই রাখার পাত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু পাত্রে মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা রয়েছে। তবে এসব দেহাবশেষ নিখোঁজ নারীদের কারও কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তকারীরা রাসায়নিকগুলো কোনোভাবে প্রমাণ নষ্ট বা দেহাবশেষ গোপন করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। 

 

তদন্ত আরও জটিল হয়েছে কারণ রেমন্ড হর্শের তৈরি অনেক ছবি ও ভিডিওতে সহিংসতার দৃশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এসবের কিছু দৃশ্য সাজানো বা অভিনয় হতে পারে। আবার কিছু দৃশ্য বাস্তব সহিংসতার ঘটনাও হতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশঙ্কা। তাই ভিডিওতে দেখা প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ বলেছে, শুধু ভিডিওর দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করতে তারা সতর্কভাবে প্রমাণ যাচাই করছে। 

 

ফিলাডেলফিয়া পুলিশ ও এফবিআই যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। এফবিআই ফিলাডেলফিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়েইন জ্যাকবস জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে বাড়িটিতে আরও তল্লাশি চালানো হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের লক্ষ্য দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নয়, বরং উদ্ধার করা বিপুল ডিজিটাল তথ্যের প্রতিটি অংশ যথাসম্ভব যাচাই করে নিখোঁজ নারীদের পরিচয় ও তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজে বের করা। 

 

ইউজিন হর্শ বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়পত্রসংক্রান্ত ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে। তবে নিখোঁজ নারীদের মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। একইভাবে, রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধেও এসব ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা এখনো ডিজিটাল প্রমাণ, রাসায়নিক পদার্থ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত মিলিয়ে দেখছেন। 

 

তদন্তকারীদের হাতে থাকা তথ্যের মাত্র একাংশ এখনো পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফলে ফিলাডেলফিয়ার ওই বাড়িকে ঘিরে নিখোঁজ নারীদের রহস্যের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আরও তথ্য যাচাই ও নতুন তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাগুলোর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটদের আনা বিল আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা হারলে ‘মিস্টার ভেটো’ হওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের আনা বিল আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। তবে একের পর এক বিল বাতিল করার পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।   আগামী মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ঠিক আগে রোববার, ১ নভেম্বর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারের অংশে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালেও কীভাবে নিজের প্রশাসনের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চান।   ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তাঁর কাছে বিভিন্ন বিল পাঠাবে। তখন তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তাঁর ধারণা, এক বা দুই মাস এভাবে চলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধী দলের প্রস্তাবিত সব আইন তিনি মেনে নেবেন না। তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজবেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে এবং এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন হবে না।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে বিভিন্ন নির্বাচনী পূর্বাভাস। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।   ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। এই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের সম্পর্ক কেমন হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিল প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে তিনি সেটিতে স্বাক্ষর করতে পারেন অথবা ভেটো দিয়ে ফেরত পাঠাতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ভেটো দিলে সেটি অতিক্রম করে বিল আইনে পরিণত করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের সমর্থন প্রয়োজন হয়।   ফলে ডেমোক্র্যাটরা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ট্রাম্পের ভেটো অতিক্রম করা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের নতুন আইন পাসের উদ্যোগও বাধার মুখে পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত আরও দুটি বিলে ভেটো দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ দুই মেয়াদ মিলিয়ে তাঁর ভেটো দেওয়া বিলের সংখ্যা ১২টি।   এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা মাথায় রেখে হোয়াইট হাউস কয়েক মাস ধরে বিকল্প প্রশাসনিক পরিকল্পনা তৈরি করছে। এই পরিকল্পনায় কংগ্রেসের নতুন আইন ছাড়াই প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার আওতায় কোন কোন নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসননীতি, আমদানি শুল্ক, আবাসন ব্যয় এবং ফেডারেল সরকারের খরচসংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছেন ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং বাজেট পরিচালক রাসেল ভট।   তবে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করলেও প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের সব সাংবিধানিক কর্তৃত্ব এড়িয়ে যেতে পারবেন না। নতুন আইন প্রণয়ন, সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ অনুমোদনের মতো বিষয়ে কংগ্রেসের নির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশও আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে।   ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে। আর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে বিচারকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের অনুমোদন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পাবে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে হোয়াইট হাউসের আইনজীবীরা কংগ্রেসের সম্ভাব্য তদন্ত, নথিপত্র চাওয়া এবং কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে প্রশাসনকে পরামর্শ দিচ্ছেন।   তবে হোয়াইট হাউস রিপাবলিকানদের পরাজয় অনিবার্য বলে মনে করছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল তাই শুধু কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ধারণ করবে না, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়নের পথ তুলনামূলক সহজ থাকবে। আর ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক দরকষাকষি এবং ভেটো প্রয়োগের ঘটনা বাড়তে পারে।

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ৬:৯
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমপিএইচ ও পিএইচডি আবেদনের চমৎকার সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য চিকিৎসকদের স্কলারশিপ ফান্ডিং নিয়ে রয়েছে ২ টি ট্র্যাক, জানুন বিস্তারিত

ইরানে পারমাণবিক হামলার অনুমোদন দিতে পারেন ট্রাম্প, দাবি টাকার কার্লসনের। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে কয়েক দিনের মধ্যে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প, দাবি মার্কিন বিশ্লেষকের

যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন ঘিরে গু লিবর্ষণ

যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন ঘিরে গু লিবর্ষণ, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২৪ নি হত ও ৯৪ আ হত

গার্সিয়া সোর্তোর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে। তিনি কেন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন
'আমি এখনও জানি না কেন গুলি করল' আইসিইর গুলিতে বুকে আহত অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরে অভিবাসন enforcement অভিযানের সময় আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে বুকে গুরুতর আহত হন হন্ডুরাসের অভিবাসী হোসে গার্সিয়া সোর্তো। কাজে যাওয়ার পথে একটি ইন্টারস্টেট হাইওয়েতে তাঁকে থামানোর পর গুলি চালানো হয়। গার্সিয়া সোর্তোর অভিযোগ, গাড়ির জানালা ভেঙে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান কর্মকর্তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দাবি, অভিযানের সময় গাড়ি চালিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করায় এক কর্মকর্তা নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় গুলি চালান। ঘটনাটি নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য উঠে এসেছে।   নিউইয়র্ক টাইমসের ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে ওঠেন গার্সিয়া সোর্তো। পেশায় বাড়ির কাঠামো নির্মাণের শ্রমিক তিনি। প্রতিদিনের মতো কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে স্ত্রীকে বিদায় জানান। কাজ শেষে বাড়ি ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন তাঁকে। কিন্তু সেদিন সকালেই তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে আইসিই কর্মকর্তারা নজরদারি চালাচ্ছিলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। গার্সিয়া সোর্তোর ভাষ্য অনুযায়ী, ফিনিক্সের একটি ইন্টারস্টেট হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি তাঁকে থামার সংকেত দেয়। সেটিকে পুলিশের গাড়ি মনে করে তিনি থামেন। এরপর আইসিই কর্মকর্তারা তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে একজন কর্মকর্তা গাড়ির জানালা ভেঙে দেন। এরপর আরেক কর্মকর্তা পরপর দুটি গুলি চালান। প্রথম গুলিটি তাঁর শরীরের পাশ দিয়ে চলে গেলেও দ্বিতীয়টি সরাসরি বুকে লাগে।   গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে গাড়ি থেকে বের করে আনেন কর্মকর্তারা। গার্সিয়া সোর্তো নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তখন তিনি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কেন তাঁকে গুলি করা হলো। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বুঝতে পারছিলেন না কেন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গার্সিয়া সোর্তো ২০২৩ সালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। তবে তাঁর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান এবং অপরাধমূলক রেকর্ডের মধ্যে এই পার্থক্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।   অন্যদিকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, গার্সিয়া সোর্তো প্রথমে গাড়ি থামালেও আইসিই কর্মকর্তারা হেঁটে তাঁর গাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়ি চালিয়ে সরে যেতে শুরু করেন। তখন একজন কর্মকর্তা গাড়িটির চলার পথে ছিলেন। নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে ওই কর্মকর্তা দুটি গুলি চালান বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। এই বক্তব্যের সঙ্গে গার্সিয়া সোর্তোর বর্ণনার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে গাড়ি থামানোর পর কী ঘটেছিল, তিনি গাড়ি নিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না এবং গুলি চালানোর মুহূর্তে কর্মকর্তার অবস্থান কোথায় ছিল, সেসব বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর ভোরে এই গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় এক বছর পর প্রকাশিত প্রতিবেদনে গার্সিয়া সোর্তো তাঁর অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেদিন গাড়ি থামানোর পর কয়েকটি সাধারণ পোশাকের গাড়ি তাঁকে ঘিরে ফেলে। প্রায় সাতজন সশস্ত্র কর্মকর্তাকে দেখতে পান তিনি। তাঁদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল। একজন কর্মকর্তা গাড়ির দরজা খুলতে বললেও ভয় পেয়ে তিনি তা খুলতে রাজি হননি।   প্রতিবেদনে প্রকাশিত গাড়ির ছবিতে সামনের উইন্ডশিল্ডের যাত্রীর পাশ দিয়ে দুটি গুলি প্রবেশের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ধারণ করা ভিডিওতে গাড়িটিকে তিন দিক থেকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গাড়ি দিয়ে ঘিরে রাখতে দেখা যায়। অন্য পাশে ছিল উঁচু ঢালু জায়গা। গাড়ির সামনের চাকা যেদিকে ঘোরানো ছিল, সেটিও গুলির প্রবেশপথের সঙ্গে মিলিয়ে পর্যালোচনা করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। তবে গুলি চালানোর মুহূর্তের কোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গার্সিয়া সোর্তোকে গাড়ি থেকে বের করে রাস্তায় শুইয়ে হাতকড়া পরানো হয় বলে তিনি জানান। তাঁর শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তখন তাঁর মনে পড়ছিল স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানের কথা। তিনি আশঙ্কা করছিলেন, তাঁর মৃত্যু হলে সন্তানদের কী হবে।   পরে হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান, তাঁর হাত ও পা হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে আটকানো। সেখানে এফবিআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। গুলির আঘাত থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শরীরে গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার এক বছর পরও একটি গুলি তাঁর মেরুদণ্ডে আটকে রয়েছে। ঘটনার পর এফবিআই তদন্ত শুরু করেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের অক্টোবর ২০২৬ সালের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গার্সিয়া সোর্তোকে গুলি করার ঘটনায় তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। গুলি চালানো কর্মকর্তার পরিচয় কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও গার্সিয়া সোর্তো নিশ্চিত তথ্য পাননি।   আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই ঘটনার জেরে গার্সিয়া সোর্তোর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে। যদিও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তার জীবন বিপন্ন হওয়ার দাবি করেছে, সেই দাবির পক্ষে বিস্তারিত তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে গুলি চালানোর প্রয়োজনীয়তা ও পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গার্সিয়া সোর্তোকে অভিবাসন হেফাজতে রাখা হয়। পরে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে হন্ডুরাসের গুয়ালসিনসে এলাকায় বসবাস করছেন। তবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা এখনো তাঁর জীবনের অংশ হয়ে রয়েছে।   নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং অন্যদের অধিকাংশ আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্য এবং আইনপ্রণেতারা। সংবাদমাধ্যমটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব গুলির ঘটনায় ফেডারেল সরকার কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। গার্সিয়া সোর্তো বলেন, তিনি এখনো জানেন না কে তাঁকে গুলি করেছিলেন এবং কেন করেছিলেন। তাঁর আক্ষেপ, এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আর কিছুই হয় না। তাঁর মতো মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই বলেই মনে হয় তাঁর।   ঘটনার এক বছর পরও গার্সিয়া সোর্তোর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে। তিনি কেন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তের জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হয়েছে কি না, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো পাননি।  

প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্যবসায় শক্ত অবস্থান গড়ছেন বাংলাদেশিরা, বাড়ছে রাজনীতি ও সামাজিক প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্যবসায় শক্ত অবস্থান গড়ছেন বাংলাদেশিরা, বাড়ছে রাজনীতি ও সামাজিক প্রভাব

ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও তদন্তকারী দল। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবনের কাছে বিমান বিধ্বস্ত, ৯ আরোহীর সবাই নিহত

মিশিগান সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বদলে মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন হ্যালি স্টিভেন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাইমারিতে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই কি আবদুল এল-সায়েদকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন হ্যালির?

হামট্রাম্যাকের মেয়র পদপ্রার্থী মুহিত মাহমুদ। আদালতের রায়ে তাঁর মেয়র হওয়ার পথে বড় আইনি বাধা দূর হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের হ্যামট্রামিকের মেয়র হচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়েন কাউন্টির এক বিচারকের রায়ে হ্যামট্রামিক শহরের পরবর্তী মেয়র হিসেবে মুহিত মাহমুদের দায়িত্ব গ্রহণের পথ প্রশস্ত হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আবাসিক শর্ত পূরণের বিষয়ে চলা দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে এই যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে। ওয়েন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি জানিয়েছেন, আবাসিক কারণ দেখিয়ে মুহিত মাহমুদকে অযোগ্য ঘোষণার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর ফলে গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালট গণনার পর মুহিত মাহমুদের জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হতে যাচ্ছে।   গত ৩০ অক্টোবর দেওয়া এক আদেশে বিচারক ক্যাথলিন ওয়েন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসারসকে ওই ৩৭টি ব্যালট চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে মেয়র পদের দৌড়ে মুহিত মাহমুদ তার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বেশ এগিয়ে গেলেন। আদেশে বিচারক ক্যাথলিন ম্যাকার্থি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী মুহিত মাহমুদই হ্যামট্রামিক শহরের বৈধ মেয়র। আদালতে সাক্ষীদের জবানবন্দি ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসিক যোগ্যতা তার রয়েছে।   আদালতে শুনানির সময় মুহিত মাহমুদের অন্যান্য শহরে বাড়ি থাকার বিষয়টি উঠে আসে। তার স্ত্রী ও সন্তানরা মূলত ট্রয় শহরে বসবাস করেন বলেও জানানো হয়। তবে বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, পরিবারের অন্য শহরে বসবাসের এই বিষয়টি তাকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য প্রমাণ করে না। এর আগে গত ২২ অক্টোবর ওয়েন কাউন্টি সার্কিট কোর্টে এই সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবারের এই চূড়ান্ত রায়ের মধ্য দিয়ে মুহিত মাহমুদের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় আইনি বাধাটি দূর হলো।   এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পরদিন। ওইদিন হ্যামট্রামিক সিটি ক্লার্কের কার্যালয়ে খোলা খামের ভেতরে ৩৭টি ব্যালট পাওয়া যায়। এই ব্যালটগুলো নিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ব্যাপক আইনি বিতর্ক চলছিল। পরে গত সেপ্টেম্বরে এক বিচারক ওই ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেন। এরপর ১৬ অক্টোবর ওয়েন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসারস ব্যালটগুলো পর্যালোচনা করে। বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায় মুহিত মাহমুদ পেয়েছেন দুই হাজার ৮৯ ভোট এবং বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পেয়েছেন দুই হাজার ৭৭ ভোট।   নতুন গণনায় মুহিত মাহমুদ ১২ ভোটে এগিয়ে থাকলেও আবাসিক যোগ্যতার আইনি বিরোধ চলমান থাকায় ফলাফল চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এখন আদালতের রায়ে সেই সমস্যার সমাধান হলেও নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল অনুমোদন করেনি। তবে ওয়েন কাউন্টি বোর্ড অব ক্যানভাসারস খুব শিগগিরই ওই ৩৭টি ব্যালটের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও এর জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। উল্লেখ্য, বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে হ্যামট্রামিকের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   সংবাদ সূত্র: ওয়েন কাউন্টি সার্কিট কোর্টের নথি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২০:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ১৬ বছর বয়সী এমা জুরিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেয়েদের উৎসাহিত করতে ‘শি পারসিস্টস’ পডকাস্ট চালু করেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফারদিনা আলমের সাফল্য-সংগ্রামের গল্প তুলে ধরছে মার্কিন কিশোরীর পডকাস্ট

নির্বাচনের দুই দিন আগে আবদুল এল-সায়েদের পরিবর্তে মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন হ্যালি স্টিভেন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

শেষ মুহূর্তে আবদুল এল-সায়েদকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যানের

কর্মজীবীদের জন্য ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পরিচালনা করছে ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটির রবার্ট ই. সাইমন স্কুল অব বিজনেস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির পাশাপাশি এমবিএ করার সুযোগ, ভার্জিনিয়ায় ক্লেয়ারউড ইউনিভার্সিটির উদ্যোগ

0 Comments