সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইলহান ওমর

মার্কিন কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরকে ভিনেগার নিক্ষেপকারী চরমপন্থীর ১৪ মাসের কারাদণ্ড
মার্কিন কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরকে ভিনেগার নিক্ষেপকারী চরমপন্থীর ১৪ মাসের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করে আপেল সিডার ভিনেগার নিক্ষেপ করার দায়ে এক ব্যক্তিকে ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার মিনিয়াপোলিসের ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সাথে একটি আপস চুক্তির (প্লি এগ্রিমেন্ট) অংশ হিসেবে ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্টনি কাজমিয়ারজ্যাক এই সাজা মেনে নেন।   কারাদণ্ডের পাশাপাশি মুক্তির পর তাকে তিন বছর কড়া আইনি নজরদারিতে (সুপারভাইজড রিলিজ) থাকতে হবে এবং এই সময়ের মধ্যে তিনি 'স্কোয়াড' খ্যাত এই কংগ্রেসউইম্যানের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে পারবেন না।   গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ইলহান ওমরের আয়োজিত একটি টাউন হল সভায় এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে। সেসময় অ্যান্টনি হঠাৎ করে মঞ্চের দিকে তেড়ে যান এবং একটি সিরিঞ্জ থেকে পানি ও আপেল সিডার ভিনেগারের মিশ্রণ ইলহান ওমরের দিকে ছুঁড়ে মারেন।   এ সময় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন যে, ইলহান ওমর "মিনেসোটাকে বিভক্ত করছেন।" ওমরের নিরাপত্তারক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিবৃত্ত করেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও সেখানে উপস্থিত মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের সদস্য লাট্রিশা ভেতাওয়ের গায়ে কিছুটা ভিনেগার লাগায় পরবর্তীতে তিনি বমি করেছিলেন।   হামলার আগে নিজের এক প্রতিবেশীকে অ্যান্টনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন। তার ভাই তাকে একজন 'ডানপন্থী চরমপন্থী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিপক্ষে বিভিন্ন পোস্ট করতেন।   পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইলহান ওমর জানান, সোমালি অভিবাসীদের বহিষ্কার করার বিষয়ে ট্রাম্পের আদেশের ধীরগতি নিয়ে হামলাকারী ক্ষুব্ধ ছিলেন। ইলহান ওমর সোমালিদের রক্ষা করছেন, এমনটা ভেবেই তিনি তার ওপর হামলা চালান। তবে আদালতে বিচারক যখন তাকে হামলার কারণ জিজ্ঞেস করেন, তখন তিনি কেবল বলেন, "বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট।"   উল্লেখ্য, এই ঘটনার সময় মিনেসোটার টুইন সিটিস এলাকায় কেন্দ্রীয় ইমিগ্রেশন এজেন্টদের অভিযান এবং এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের কারণে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।   অন্যদিকে, অ্যান্টনির এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন যে, তিনি পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত এবং কয়েক বছর আগে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ার পর থেকে কড়া ওষুধের ওপর নির্ভরশীল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, আসামিপক্ষের মেমোতে অ্যান্টনির অ্যালকোহল আসক্তি এবং মানসিক ও আবেগজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার ইতিহাসও উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে এক টাউন হল সভায় কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের দিকে ভিনেগার ছোড়ার ঘটনায় সাজা পাচ্ছেন অ্যান্থনি কাজমিয়ারচাক। ছবি: সংগৃহীত
সভায় একটি সিরিঞ্জ থেকে ওমরের দিকে তরল ছোড়া ব্যক্তি আজ পাবেন সাজা

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে এক টাউন হল সভায় ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের দিকে ভিনেগার ছোড়ার ঘটনায় অ্যান্থনি কাজমিয়ারচাককে বৃহস্পতিবার সাজা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউটররা তার জন্য ১৪ মাসের কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছেন। জানুয়ারির ওই ঘটনায় ওমর আহত না হলেও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে মাটিতে ফেলে আটক করেন।    গত ২৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসের একটি টাউন হল সভায় দর্শকসারিতে থাকা কাজমিয়ারচাক হঠাৎ উঠে দাঁড়ান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি সিরিঞ্জ থেকে ওমরের দিকে তরল ছুড়ে দেন এবং চিৎকার করে বলেন, ওমর ‘মিনেসোটাকে বিভক্ত করছেন’। এরপর ওমরের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে মাটিতে ফেলে দেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তে জানা যায়, সিরিঞ্জে থাকা তরলটি ছিল পানি ও অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের মিশ্রণ।    ঘটনার পরও ওমর টাউন হল সভা চালিয়ে যান। হামলায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হননি। পরে কাজমিয়ারচাক ওমরের কাছে চিঠি লিখে তার কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি ওমরকে ভয় দেখিয়ে থাকলে সে জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।    কাজমিয়ারচাকের বিরুদ্ধে একজন মার্কিন কর্মকর্তাকে হামলার অভিযোগ আনা হয়। আদালতে আগের এক শুনানিতে বিচারক তাকে ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ঘটনার স্মৃতি তার কাছে অস্পষ্ট। প্রসিকিউটরদের আদালতে দেওয়া সাজা সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ঘটনার আগে তিনি অন্তত তিনজনকে বার্তা পাঠিয়ে ওই সভায় ওমরকে ঘিরে কিছু করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে নিজের পরিকল্পনার বিস্তারিত তাদের জানাননি।    প্রসিকিউটরদের নথিতে আরও বলা হয়েছে, সভায় যাওয়ার আগে কাজমিয়ারচাক প্রতিবেশীর সঙ্গে কুকুরের দেখাশোনা এবং জামিনদারের যোগাযোগের বিষয়ও ঠিক করেছিলেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা ঘটনাটিকে আগে থেকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন।    আদালতের নথি অনুযায়ী, কাজমিয়ারচাকের বয়স পঞ্চাশের মাঝামাঝি। তার দীর্ঘদিনের অ্যালকোহল ব্যবহারের সমস্যা এবং মানসিক ও আবেগজনিত নানা সমস্যার ইতিহাস রয়েছে বলেও প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে তার পারকিনসনস রোগ শনাক্ত হওয়ার পর আরও কিছু শারীরিক সমস্যার কথাও নথিতে উঠে এসেছে।    ঘটনার সময় মিনেসোটায় অভিবাসন তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। অপারেশন মেট্রো সার্জের আওতায় টুইন সিটিজ এলাকায় দুই হাজারের বেশি অভিবাসন কর্মকর্তা অভিযান চালিয়েছিলেন। এসব অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার এবং দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মিনেসোটায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।    সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি এবং দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সমালোচনার মুখে রয়েছেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কাজমিয়ারচাকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা এবং ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।    কাজমিয়ারচাক বৃহস্পতিবার সাজা পেলে মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হবে। প্রসিকিউটরদের সুপারিশ অনুযায়ী ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে কি না, নাকি আদালত ভিন্ন সাজা নির্ধারণ করবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ঘটনাটি আবারও রাজনৈতিক সমাবেশে নিরাপত্তা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আলোচনাকে সামনে এনেছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের সম্পদ নিয়ে রহস্য, ৩ কোটি ডলার থেকে ১ লাখে নামার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ওয়াচডগ গ্রুপ
যুক্তরাষ্ট্রে ইলহান ওমরের সম্পদ নিয়ে রহস্য, ৩ কোটি ডলার থেকে ১ লাখে নামার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ওয়াচডগ গ্রুপ

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরের সম্পদের বিশাল ফারাক নিয়ে চলমান একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত সহজে মেনে নেয়নি অভিযোগকারী ওয়াচডগ গ্রুপ 'ন্যাশনাল লিগ্যাল অ্যান্ড পলিসি সেন্টার'।   বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তারা এখন হাউজ এথিকস কমিটির কাছে ইলহান ওমরের বিস্তারিত আর্থিক নথিপত্র তলবের জোর দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি 'অফিস অব কংগ্রেশনাল কন্ডাক্ট' (ওসিসি) ৫-১ ভোটে এই তদন্ত খারিজ করার সুপারিশ করলে নতুন করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।   গত বছর নিজের সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ডলার উল্লেখ করলেও এ বছর তা অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে ১ লাখ ডলারের নিচে দেখিয়েছেন ইলহান ওমর। তার সবশেষ নথিতে দাবি করা হয়েছে, ওয়াইনারি সাম্রাজ্য ও রোজ লেক ক্যাপিটাল ভেঞ্চার ফার্ম থেকে তার স্বামী টিম মাইনেটের আয় ছিল মাত্র ২০০ ডলার।   সম্পদের এই বিশাল অসামঞ্জস্যের জন্য হিসাবরক্ষকের ভুলকে দায়ী করেছে ওমরের কার্যালয়। ওমরের মুখপাত্র জ্যাকলিন রজার্স জানান, শুরু থেকেই তারা স্পষ্ট করে বলেছেন যে কংগ্রেসওম্যান কোনো মিলিয়নেয়ার নন। তবে ওয়াচডগ গ্রুপের পল কামেনার এই অজুহাতকে 'হাস্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, হিসাবরক্ষক এতোটাই বোকা যে দায়ের কথা চিন্তা না করেই সম্পদের মূল্যায়ন করেছেন—এমন দাবি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়।   আগামী নির্বাচনের আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ৬০ দিনের 'ব্ল্যাকআউট পিরিয়ড'-এর পরপরই তদন্ত বাতিলের এই সুপারিশ সামনে আসে। নিয়মানুযায়ী এই সময়ে এথিকস কমিটি নতুন করে কোনো তদন্ত শুরু করতে পারে না। পল কামেনার হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমারেরও সমালোচনা করেছেন; কারণ, কমার প্রথমে ওমরের স্বামী টিম মাইনেটকে তলব করার কথা বললেও পরে তা এথিকস প্যানেলের ওপর ছেড়ে দেন।   অবশ্য ওসিসি-এর এই সুপারিশ হাউজ এথিকস কমিটির জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তিন জন রিপাবলিকান ও তিন জন ডেমোক্র্যাট সদস্য নিয়ে সমানভাবে বিভক্ত এই কমিটি নির্বাচনের পর তদন্তের বিষয়ে তাদের নিজস্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানিয়েছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
ভাইকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অভিযোগ, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে

ভাইকে বিয়ে করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার মাধ্যমে অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে যে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে রয়েছে, তা নিয়ে ফেডারেল তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওমরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে রক্ষণশীল ধারার উপস্থাপক বেনি জনসনের সঙ্গে আলাপকালে মুলিন ইলহান ওমরের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে চলমান তদন্তের কথা জানান। তিনি দাবি করেন, ওমর তাঁর ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার উদ্দেশ্যে তাকে বিয়ে করেছিলেন।   মুলিন বলেন, তদন্তে আরও কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে। ওমরের পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড যুক্ত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।   তবে মুলিন একই সঙ্গে বলেন, তদন্ত এখনো চলছে এবং কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে অভিবাসন আবেদনের সময় ওমর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার তাঁর শুরু থেকেই ছিল না, তাহলে তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।   মুলিনের বক্তব্যের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র চলমান তদন্ত সম্পর্কে নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিভাগটি চলমান তদন্ত, তদন্তের নির্দিষ্ট কৌশল বা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণত মন্তব্য করে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস সদস্যসহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।   ইলহান ওমর অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ভাইকে বিয়ের অভিযোগ বহু বছর ধরে অস্বীকার করে আসছেন। ২০১৬ সালে মিনেসোটা পাবলিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আহমেদ নুর সাঈদ এলমি তাঁর ভাই, এমন ইঙ্গিত ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর।   ওমর ২০০৯ সালে আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। ২০১৮ সালে তিনি আহমেদ আবদিসালান হিরসিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। ওমর তাঁর এলমির সঙ্গে সম্পর্ককে স্বল্পস্থায়ী বলে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, তাঁদের দাম্পত্য জীবনের বড় একটি সময় তারা আলাদা ছিলেন।   ওমরকে ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগ প্রথমে কয়েক বছর আগে অনলাইন আলোচনায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে অভিযোগটির পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত তথ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ওমর কোনো সময়ই এলমি তাঁর ভাই ছিলেন বা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য বিয়ে করেছিলেন, এমন দাবি স্বীকার করেননি।   সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান নেতারাও বিষয়টি আবার সামনে এনেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দুজনই প্রকাশ্যে ওমর অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ভ্যান্স মার্চে দাবি করেছিলেন, ওমর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে তাঁদের বিশ্বাস। ট্রাম্পও মে মাসে একই ধরনের অভিযোগ করেন।   তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি বিষয়টিকে শুধু পুরোনো রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে নয়, চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।   ইলহান ওমর ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর। ফলে তাঁকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া যায় না। কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে সরকার প্রমাণ করতে চাইলে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে পাওয়া নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে স্পষ্ট ও শক্ত প্রমাণ থাকতে হয় এবং বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অভিবাসন আইন এড়ানোর উদ্দেশ্যে জেনে-শুনে বিয়ে করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমন অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে।   তবে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এই অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো আদালতের রায় এখন পর্যন্ত নেই। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   ওমরের বিরুদ্ধে এই তদন্ত মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং মিনেসোটা থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। তাঁর অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে সামনে আসায় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে পারে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইলহান ওমরকে ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি ন্যান্সি মেসের, তুঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্ক
ইলহান ওমরকে ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি ন্যান্সি মেসের, তুঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক বিতর্ক

ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার বা ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি আবারও জোরালোভাবে তুলেছেন সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেস লিখেছেন, "ইলহান ওমরকে বিতাড়িত করার জন্য আজ একটি ভালো দিন হতে পারে।" মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত সহকর্মী ওমরের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে মেসের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য অবশ্য এটিই প্রথম নয়।   এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যান্সি মেস বলেছিলেন, সোমালিয়া চাইলে ওমরকে "ফিরিয়ে নিতে পারে"। সেসময় ওমরের কংগ্রেসের আসন ও নাগরিকত্ব বাতিলেরও দাবি জানান তিনি।   এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাউস ওভারসাইট কমিটিতে ওমরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘বিয়ে জালিয়াতি’র অভিযোগ তুলে তাঁর অভিবাসন রেকর্ড তলবের চেষ্টাও করেছিলেন মেস, যদিও কমিটি সেই অনুরোধ অনুমোদন করেনি।   তবে আইনি ও বাস্তব চিত্র হলো, ইলহান ওমর ২০০০ সাল থেকে একজন বৈধ মার্কিন নাগরিক। সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে ১৯৯৫ সালে শিশু বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব আইনি প্রক্রিয়ায় বা ‘ডিন্যাচুরালাইজেশন’-এর মাধ্যমে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব নয়।   আর এই বাতিলের জন্য ফেডারেল আদালতে জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। ওমরের বিরুদ্ধে যে বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়, তা বছরের পর বছর ধরে চর্চিত হলেও কখনোই তা প্রমাণিত হয়নি।   নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ও বিতাড়নের ডাককে বরাবরই উড়িয়ে দিয়েছেন ইলহান ওমর। ২০১৯ সাল থেকে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করা এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর মতে, এসব আক্রমণ তাঁর দৈনন্দিন রাজনৈতিক কাজ বা কংগ্রেসের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ও তাঁর স্বামী টিম মাইনেট l ছবি: সংগৃহীত
কোটিপতি থেকে রাতারাতি ‘আয় শূন্য’! ইলহান ওমরের স্বামীর আর্থিক হিসাবে বড় গরমিল

মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ও তাঁর স্বামী টিম মাইনেটের আর্থিক লেনদেন ও আয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সরকারের কাছে জমা দেওয়া ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, তাঁর স্বামীর বার্ষিক আয়ে ব্যাপক পতন ঘটেছে, যা মার্কিন রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলহান ওমরের সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর স্বামী টিম মাইনেট গত বছর তাঁর বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘রোজ লেক ক্যাপিটাল’ থেকে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বেতন গ্রহণ করেননি। ওই বিবরণীতে দেখানো হয়েছে যে, মাইনেটের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল ‘ইস্টক্রু’ (eStCru) নামের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি মদের ব্যবসা। চলতি বছরের শুরুতে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে ওই ব্যবসা থেকে তিনি মাত্র ২০০ থেকে ১,০০০ ডলার আয় করেছেন।   আয়ের এই নতুন হিসাব গত বছরের বিবরণীর সম্পূর্ণ বিপরীত। আগের বছরের নথিতে দাবি করা হয়েছিল যে, মাইনেটের ব্যবসায়ের আনুমানিক মূল্য ৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। সম্পদের এই অস্বাভাবিক ফুলেফেঁপে ওঠা সেসময় ব্যাপক জনস্বার্থ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। প্রবল সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে একটি সংশোধিত আর্থিক বিবরণী জমা দেওয়া হয়। সেখানে এই বিশাল সম্পদের পরিমাণ শূন্যতে নামিয়ে এনে দাবি করা হয় যে, পূর্বের হিসাবটি নিছকই একটি ‘অ্যাকাউন্টিং ভুল’ ছিল।   তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই সংশোধিত নথিতেও দেখানো হয়েছে যে, রোজ লেক ক্যাপিটাল একই সময়ে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ ডলার রাজস্ব আয় করেছে। পাশাপাশি মদের ব্যবসাটি বন্ধ হওয়ার আগে আরও কয়েক হাজার ডলার আয় করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। বছর ঘুরতেই হিসাবের এই আকাশপাতাল ব্যবধান সমালোচকদের মনে নতুন করে সন্দেহের দানা বাঁধতে সাহায্য করেছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ডেমোক্রেটিক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মাইনেট ২০২২ সালে তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোগী উইল হেইলারের সঙ্গে যৌথভাবে এই ‘রোজ লেক ক্যাপিটাল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।   এই পুরো বিতর্কের বিষয়ে ইলহান ওমরের একজন মুখপাত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-কে জানান, সংশোধিত বিবরণীটি এটাই প্রমাণ করে যে কংগ্রেসওম্যান কোনো কোটিপতি নন। তাঁর দাবি, মাইনেটের হিসাবরক্ষকদের অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রথম নথিটি তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে দায়ের উল্লেখ না করে কেবল সম্পদ দেখানো হয়েছিল, যার ফলে তাঁর স্বামীর মোট সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি মনে হয়েছিল। ওই মুখপাত্র আরও জানান, ভুল নজরে আসার পরপরই ইলহান ওমর স্বেচ্ছায় তা সংশোধন করেছেন এবং বর্তমান হিসাবটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সঠিক।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০