- প্রচ্ছদ
- Topic
ইলহান ওমর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদত্যাগের দাবি এবং পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগের মধ্যেও কংগ্রেস নির্বাচনে আবারও জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা ইলহান ওমর। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেলকে পরাজিত করেন তিনি। এর মাধ্যমে টানা পঞ্চম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নিজের আসন ধরে রাখলেন সোমালীয় বংশোদ্ভূত এই মুসলিম রাজনীতিক। ইলহান ওমরের এবারের জয় এসেছে ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্ত ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে। গত অক্টোবরে তাঁর পরিচয় এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। এরপর তাঁকে কংগ্রেস থেকে অবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত ২১ অক্টোবর মার্কিন বিচার বিভাগের একটি আদালত-নথিতে ইলহান ওমরের নামের পাশাপাশি ‘ইলহান নুর সাঈদ এলমি’ নামটি উল্লেখ করা হয়। এর পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, ওমর ভুয়া পরিচয়ে কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই অভিযোগ তুলে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনকে ওমরের আসন শূন্য ঘোষণার আহ্বান জানান। তবে ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন ইলহান ওমর। তাঁর কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইলহান ওমরই তাঁর প্রকৃত নাম। আদালতের নথিতে বিকল্প একটি নাম উল্লেখ করা হলেও সেটি পরিচয় জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো আদালত তাঁকে পরিচয় জালিয়াতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেননি। এর আগে ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসভবনে অভিযান চালান হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তদন্তকারীরা। তাঁর শৈশবে জমা দেওয়া অভিবাসন ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য অসংগতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও পাসপোর্ট জব্দ করেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ওমর এই অভিযানকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। ইলহান ওমর ২০১৮ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সাল থেকে মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন। অভিবাসীদের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক সমতার পক্ষে অবস্থানের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত তিনি। এবারের নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেল, যিনি মিনেসোটা স্টেট প্যাট্রোলের সাবেক কর্মকর্তা। নাগেল নির্বাচনি প্রচারণায় সরকারি কর্মসূচিতে জালিয়াতি প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড এবং স্বাস্থ্যবিমা সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন। গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন ইলহান ওমর। সাধারণ নির্বাচনেও ভোটারদের সমর্থন ধরে রেখে তিনি কংগ্রেসে ফেরার পথ নিশ্চিত করেছেন। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের মেয়াদ শুরু হলে পঞ্চমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। সূত্র: সিবিএস নিউজ
মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ওঠা বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগকে 'প্রায় নিশ্চিতভাবেই সত্য' বলে মন্তব্য করে খোদ নিজ দলের ভেতরেই আলোড়ন তৈরি করেছেন মিনেসোটার এক বিশিষ্ট ডেমোক্র্যাট নেতা। মিনেসোটার সাবেক স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী রাজনৈতিক কৌশলবিদ জো রাডিনোভিচ গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ধারাবাহিক পোস্টে এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ইলহান ওমর এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি বিষয়টিকে ডানপন্থীদের ইসলামোফোবিক বা বর্ণবাদী ষড়যন্ত্র বলে যে দাবি করে আসছে, তা কোনোভাবেই সত্য নয়। এর পাশাপাশি ইলহান ওমরের আর্থিক লেনদেন নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোও সহজে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে বিচার করলে প্রমাণগুলো ওমরের পক্ষে যায় না বলে সতর্ক করেছেন তিনি। রাডিনোভিচের এই মন্তব্যের পর মিনিয়াপলিসের ডেমোক্র্যাটিক কর্মী ও ইলহান ওমরের নির্বাচনী প্রচারণার সাবেক কর্মকর্তা ব্রায়ানা রোজ লি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। ব্রায়ানা একে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন যে, এটি একটি সাজানো ষড়যন্ত্র। তবে রাডিনোভিচ তার অবস্থানে অনড় থেকে জানান, ওমরের দাবির পক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ নেই, বরং পর্যাপ্ত প্রমাণ বলছে যে এই নির্দিষ্ট অভিযোগটি সত্য। তিনি আরও বলেন, যারা এখনো ওমরের কথা বিশ্বাস করছেন, তারা আসলে চোখের সামনের অসংখ্য প্রমাণ এড়িয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, রাডিনোভিচ ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মিনেসোটা হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর সদস্য ছিলেন এবং তিনি মিনিয়াপলিসের বর্তমান মেয়র জেকব ফ্রের চিফ অফ স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে ডন স্যামুয়েলসের দুটি নির্বাচনী প্রচারণাও পরিচালনা করেছিলেন। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, অভিবাসন জালিয়াতির উদ্দেশ্যে তিনি ২০০৯ সালে তার নিজের ভাই আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করেছিলেন। সম্প্রতি তার অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত শুরু হওয়ার পর বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। গত ১২ অক্টোবর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনের (এইচএসআই) এজেন্টরা ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে তার পাসপোর্ট, ফোন এবং কম্পিউটার জব্দ করে। দশক পেরোনো নাগরিকত্বের ফর্মে ইলহান বা তার প্রয়াত পিতা নুর মোহাম্মদ কোনো জালিয়াতি করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বারাক ওবামার শাসনামলে এই বিয়ের জালিয়াতি নিয়ে প্রথম তদন্ত শুরু হলেও বাইডেন প্রশাসনে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ইলহান ওমরের কার্যালয় থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাডিনোভিচের মন্তব্যের জবাবে ওমরের নির্বাচনী প্রচারণা শিবির থেকে তাকে একজন 'মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি' ও 'রিপাবলিকানদের দালাল' বলে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে চলমান ফেডারেল তদন্তের সমালোচনা করে দেওয়া এক চিঠিতে সই করেননি ডেমোক্রেটিক পার্টির ৪০ জন প্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রতিনিধি পরিষদ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি, সাবেক সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা স্টেনি হোয়ার, জশ গটহাইমার, হেনরি কুয়েলার ও জ্যারেড গোল্ডেন। তবে চিঠিতে স্বাক্ষর না করার অর্থ তাঁরা তদন্তকে সমর্থন করছেন বা চিঠির বক্তব্যের বিরোধিতা করছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গত ২৬ অক্টোবর ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস সদস্য প্রমিলা জয়পালের নেতৃত্বে চিঠিটি প্রকাশ করা হয়। এতে প্রতিনিধি পরিষদের ১৭৫ জন সদস্য স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় ১২ অক্টোবর ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে পারে, এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মার্কওয়েইন মুলিনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনের ঠিক আগে একজন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্যের বাসায় তল্লাশি এবং তদন্তসংক্রান্ত খবর ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার এমন পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্বাক্ষরকারী আইনপ্রণেতারা। তাঁরা ওমরের পাশে থাকার কথা জানিয়ে তদন্তের কারণে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত না করার আহ্বান জানান। নিউজউইকের প্রতিবেদনে প্রকাশিত স্বাক্ষরকারীদের তালিকার সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের তালিকা মিলিয়ে ৪০ জনের নাম শনাক্ত করা হয়েছে। পেলোসি ও হোয়ার ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন জশ হার্ডার, কেটি ক্যাস্টর, জ্যারেড মোসকোভিটজ, এড কেইস, জেক অচিনক্লস, ক্রিস পাপাস, টম সুওজি, ডন ডেভিস, মার্সি ক্যাপ্টর, হেনরি কুয়েলার ও মারি গ্লুসেনক্যাম্প পেরেজ। নিউজউইক জানিয়েছে, এ বিষয়ে ওমর, পেলোসি, হোয়ারসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতার কার্যালয়ে ইমেইল পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত উত্তর পাওয়া যায়নি। ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তের সূত্রপাত তাঁর পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে ওঠা অভিযোগ থেকে। ১২ অক্টোবর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তকারীরা ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাসায় আদালতের অনুমোদিত পরোয়ানার ভিত্তিতে তল্লাশি চালান। তদন্তকারীরা ওমর বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে ভুল তথ্য দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তবে তদন্তের পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের ঘোষণা আসেনি। ওমর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীরা তল্লাশির বৈধতা ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে বিচার বিভাগের আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, তল্লাশির পরোয়ানা কার্যকরের কাজ তখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং তদন্তে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলমান থাকায় পরোয়ানার আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি এখনই প্রকাশ না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিচার বিভাগ। নিউজউইকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৪০ জনের মধ্যে আটজন এমন আসনে নির্বাচন করছেন, যেগুলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সংস্থা কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে চিঠিতে তাঁদের স্বাক্ষর না করার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত চিঠি।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া ফেডারেল তদন্ত ঘিরে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে শুরু হওয়া এই অভিবাসন তদন্ত বন্ধের দাবিতে দলের শীর্ষ নেতারা একজোট হলেও, বেশ কয়েকজন হাউজ ডেমোক্র্যাট ওমরের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে তল্লাশি চালায় ফেডারেল এজেন্টরা। এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিচার বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বিরুদ্ধে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ এনে একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ১৭৫ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য। তবে ২১৪ সদস্যের ককাসের মধ্যে প্রায় ৪০ জন ডেমোক্র্যাট ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। প্রমিলা জয়পালের নেতৃত্বে লেখা ওই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে পুনর্নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন ইলহান ওমর। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এ ধরনের তল্লাশি ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, যা মিনেসোটার নাগরিকদের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করার শামিল। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এমন কোনো তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্ল্যাঞ্চ নিজেও এর আগে এই নীতির কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি থেকে শুরু করে টম সুওজি, লরা গিলেন, জশ গটেইমার এবং মেরি গ্লুসেনক্যাম্প পেরেজের মতো নেতারা এই চিঠিতে সই করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকার জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের ঠিক আগে ওমরের মতো বিতর্কিত নেত্রীর সাথে নিজেদের জড়াতে চাইছেন না। বিশেষ করে ইসরায়েল এবং পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তার অতীতের স্পষ্টবাদী সমালোচনার কারণে রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশেই তারা এই দূরত্ব বজায় রাখছেন। চিঠিতে স্বাক্ষর না করার অর্থ অবশ্য এই নয় যে ওই আইনপ্রণেতারা তদন্তকে সমর্থন করেন বা ওমরকে দোষী ভাবছেন। মূলত ইলহান ওমর বা তার প্রয়াত পিতা অভিবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্রে জন্মসাল ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। গত ১২ অক্টোবর তার ডিসির বাসভবনে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি ফোন ও নোটবুক জব্দ করে ফেডারেল এজেন্টরা। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওমর এই তদন্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এর আগে রিপাবলিকানদের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা ইলহান ওমরের পাশে শক্তভাবে দাঁড়ালেও, এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। ২০২৩ সালে ইসরায়েল নিয়ে মন্তব্যের জেরে তাকে যখন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি থেকে অপসারণ করা হয়, তখন প্রতিটি ডেমোক্র্যাট সদস্য এর বিরোধিতা করেছিলেন। এমনকি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের পর ওমরের করা মন্তব্যের জেরে রিপাবলিকানরা তাকে তিরস্কার করার যে চেষ্টা করেছিল, ডেমোক্র্যাটদের জোরালো বিরোধিতায় ২১৩-২১৪ ভোটে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে বর্তমান চিঠিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডেমোক্র্যাট নেতার স্বাক্ষর না থাকাটা প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভোটারদের মন জয় করার তাগিদে রাজনৈতিকভাবে ওমরের প্রতি দলের শর্তহীন সমর্থন ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। এই বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য সুওজি, গিলেন, গটেইমার, পেলোসি এবং পেরেজের কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের বাসা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত সপ্তাহে তার বাড়িতে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্তের অংশ হিসেবে এই তল্লাশি চালানো হয়। তবে ওমর কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন এবং তদন্তটিকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার প্রচেষ্টা বলে সমালোচনা করেছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এমএস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তল্লাশির বিষয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত কথা বলেন ওমর। তিনি জানান, ভোরে প্রায় ছয়টার দিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তদন্তকারীরা আদালতের অনুমতিপত্র নিয়ে তার দরজায় হাজির হন। এরপর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মোবাইল ফোন, নোটবুক, সোমালি ভাষায় লেখা শিশুদের একটি বই এবং একটি পুরোনো ক্যামেরাসহ মোট ১৭টি সামগ্রী নিয়ে যান তদন্তকারীরা। ওমরের বাড়িতে তল্লাশির বিষয়টি গত ১২ অক্টোবর প্রকাশ্যে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, আদালতের অনুমোদন নিয়ে জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়েছে এবং এটি চলমান একটি ফেডারেল ফৌজদারি তদন্তের অংশ। তবে তদন্তের সবিস্তার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তটি ওমরের পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে এগোচ্ছে। এ বিষয়ে তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কাছে গ্র্যান্ড জুরির সমনও পাঠানো হয়েছে বলে তদন্ত সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর ১২ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে ২০০০ সালে দেশটির নাগরিকত্ব পান। নিজের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে কোনো অনিয়ম করেননি বলে দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ কীভাবে তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। তার মতে, এমন অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওমর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেস সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির একজন পরিচিত সমালোচক। তার বিরুদ্ধে তদন্তের সময় নিয়েও ডেমোক্র্যাট নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বাড়িতে এমন তল্লাশি চালানোকে তারা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাধারণত নির্বাচনের ঠিক আগে প্রার্থীকে প্রভাবিত করতে পারে, এমন প্রকাশ্য তদন্তমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার রীতি অনুসরণ করে, যদিও এ বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা সর্বক্ষেত্রে এক নয়। তল্লাশির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ওমর বলেন, তদন্তকারীরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তল্লাশিতে নেওয়া সামগ্রীর তালিকা তৈরি করেন এবং অন্য জিনিসপত্র আগের জায়গায় রেখে যান। তিনি তাদের আচরণকে অনধিকারচর্চামূলক হলেও ভদ্র বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এই ঘটনা তার বাড়িতে নিরাপদ বোধ করার অনুভূতিকে নষ্ট করেছে বলে জানান তিনি। ওমরের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। তদন্তের অভিযোগগুলোও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বললেও তিনি কংগ্রেসের দায়িত্ব ও নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের কথা জানাননি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর দাবি করেছেন যে, তিনি সাধারণ কর্মজীবীদের মতো 'দিন এনে দিন খাই' অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি 'এমএস নাউ' (MS NOW)-এর একটি সাক্ষাৎকারে নিজেকে সাধারণ কর্মজীবী দাবি করে তিনি জানান, চার সন্তান নিয়ে একটি ২০১৬ মডেলের টয়োটা ক্যামরি গাড়ি চালিয়ে একেবারে সাদামাটা জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। অথচ এর আগেই তার আর্থিক বিবরণীতে সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ মিলিয়ন (৩ কোটি) ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা নিয়ে বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া তদন্ত চলছে। গত বছর ইলহান ওমরের জমা দেওয়া আর্থিক বিবরণী ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। ওই নথিতে তার স্বামী টিম মাইনেটের নামে থাকা একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম ও একটি ওয়াইনারির বিপুল পরিমাণ শেয়ার দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ওমর দাবি করেন যে তার কাগজপত্রে ভুল ছিল এবং সংশোধিত বিবরণীতে নিজের সম্পদ ১৮ হাজার থেকে ৯৫ হাজার ডলারের মধ্যে বলে উল্লেখ করেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো নিশ্চিত করেছেন যে তার দল ওমরের এই আর্থিক বিবরণী নিয়ে তদন্ত করছে। উল্লেখ্য, কংগ্রেস সদস্য হিসেবে ওমর বছরে ১ লাখ ৭৪ হাজার ডলার বেতন পান, যা একজন সাধারণ পূর্ণকালীন মার্কিন কর্মীর গড় বেতনের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি ইলহান ওমরের নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়েও জোর তদন্ত চালাচ্ছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তদন্ত সংস্থা (এইচএসআই)। কয়েক দশক আগে তার বাবা যখন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন, তখন ওমরের বয়স ১৭ নাকি ১৮ ছিল—তা নিয়েই মূলত তদন্ত চলছে। এই তদন্তে জালিয়াতি প্রমাণিত হলে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হতে পারে। গত সপ্তাহে এইচএসআইয়ের এজেন্টরা তার ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে ভোরে অভিযান চালিয়ে প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করেন এবং তার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেন। সাক্ষাৎকারে ইলহান ওমর আরও জানান যে, বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ্যে চলে আসা এবং নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি ডিসির ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ২০১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে তিনি নিজের ভাইকে বিয়ে করেছিলেন বলে যে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে, সেটিকেও তিনি ওই সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরকে তিরস্কার এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকে সরানোর প্রস্তাব আটকে দিতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন চার রিপাবলিকান সদস্য। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে ২১৪-২১৩ ব্যবধানে প্রস্তাবটি আলোচনার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত পাস হয়। রিপাবলিকান চার সদস্য হলেন মাইক ফ্লাড, জেফ হার্ড, টম ম্যাকক্লিনটক ও কোরি মিলস। তাঁদের ভোটের কারণে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সরকারি ভোটের নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস। এতে মিনেসোটার প্রতিনিধি ইলহান ওমরকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক কমিটি এবং বাজেট কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের মৃত্যুর পর ওমরের মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পুনরায় প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেসের অভিযোগ ছিল, ওমরের বক্তব্য কার্কের মৃত্যু নিয়ে অসম্মানজনক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদ প্রস্তাবটি আর এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রস্তাবটি আটকে দেওয়ার পক্ষে ২১৪ জন ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন ২১৩ জন। পক্ষে ভোট দেওয়া সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ২১০ জন ডেমোক্র্যাট এবং চারজন রিপাবলিকান। অন্যদিকে, ভোটে অংশ নেওয়া ২১৩ জন বিপক্ষে অবস্থান নেন, যাঁদের সবাই রিপাবলিকান। পাঁচজন সদস্য ভোট দেননি। চার রিপাবলিকানের সমর্থন ছাড়া ফলাফল ভিন্ন হতে পারত এবং প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ পেত। এই ভোটে মূলত প্রস্তাবটি বিবেচনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সরাসরি ইলহান ওমরকে তিরস্কার করার পক্ষে বা বিপক্ষে চূড়ান্ত ভোট হয়নি। চার রিপাবলিকানের অবস্থানের পেছনে প্রক্রিয়াগত ও নীতিগত যুক্তিও উঠে আসে। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি টম ম্যাকক্লিনটক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওমরের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু আপত্তিকর বক্তব্যও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের আওতায় থাকতে পারে। অন্যদিকে, নেব্রাস্কার প্রতিনিধি মাইক ফ্লাড বিষয়টি আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপে নেওয়ার আগে প্রতিনিধি পরিষদের নীতিশাস্ত্রবিষয়ক কমিটির মাধ্যমে তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে ভোটটি শুধু ওমরের মন্তব্য ঘিরে বিতর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আইনপ্রণেতাদের বক্তব্যের স্বাধীনতা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন সামনে আনে। চার্লি কার্ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন পরিচিত রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী। ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে গুলিতে নিহত হন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ইলহান ওমর কার্কের কিছু রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন, যা রিপাবলিকানদের একাংশের ক্ষোভের কারণ হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ন্যান্সি মেসের আনা প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদে ওঠে। তবে ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট হয়, রিপাবলিকান দলের সব সদস্য এ বিষয়ে একই অবস্থান নেননি। ইলহান ওমর মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রগতিশীল রাজনীতির পরিচিত মুখ। তাঁর বিরুদ্ধে তিরস্কারের প্রস্তাব আটকে যাওয়ায় দুটি কমিটিতে তাঁর সদস্যপদ বহাল রাখার উদ্যোগটি সফল হয়। ঘটনাটি প্রতিনিধি পরিষদে দলীয় বিভাজনের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাবদিহি নিয়ে চলমান বিতর্ককেও সামনে এনেছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ক্লার্কের দপ্তর, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ডিএনএ প্রমাণ ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। ২০০৯ সালে সাবেক স্বামী আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করার সময় তিনি তাঁর ভাইকে বিয়ে করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে অভিযোগের সমর্থনে এই প্রমাণ কাজে লাগানো হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট। তবে অভিযোগটি এখনো প্রমাণিত নয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কেও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনটিতে তদন্ত সম্পর্কে অবগত কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই তদন্তে তথ্যদাতা, সরকারি নথি এবং সম্প্রতি পাওয়া ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, ইলহান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা। অভিযোগ অনুযায়ী, এলমিকে বিয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে সহায়তা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সূত্রগুলোর বক্তব্যের বাইরে ডিএনএ নমুনা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বা পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে, তা স্পষ্ট নয়। গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি চালায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তল্লাশিতে কিছু নথি ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাসায় তল্লাশি এবং ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য উপাদান মিলিয়ে অভিবাসন জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্র্যান্ড জুরির সামনে মামলা উপস্থাপনের ভিত্তি তৈরি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ওমরের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগপত্র দাখিল বা অপরাধ প্রমাণের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের আওতায় তাঁর আর্থিক বিবরণীও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো বলেছেন, আদালত সম্ভাব্য কারণের ভিত্তি না পেলে তল্লাশির পরোয়ানা অনুমোদন করতেন না। তবে এ বক্তব্য অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। সাবেক ফেডারেল কৌঁসুলি নেমা রাহমানি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হলে মূল ঘটনার কিছু অংশ তামাদি হওয়ার সময়সীমার বাইরে থাকলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট হিসেবে বিবেচনায় আসতে পারে। তদন্তের চূড়ান্ত আইনি পরিণতি কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ইলহান ওমর দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের সময়ও একই ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছিল। তখনকার তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অপরাধের পর্যাপ্ত প্রমাণ পাননি বলে সাবেক অভিবাসন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। বর্তমান তদন্তে ওমরের জন্মতারিখ ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত নথি এবং তাঁর প্রয়াত বাবা নুর ওমর মোহাম্মদের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওমরের আইনজীবীরা তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন এবং তল্লাশিতে জব্দ করা সামগ্রী ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে ওমরকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন এবং তল্লাশির সময় আদালতের নির্ধারিত শর্ত মানা হয়নি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তাদের আইনজীবী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আদালতের আদেশ এবং আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই কাজ করেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল ও আদালতের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে পরিবারের সঙ্গে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে দেশটির নাগরিকত্ব পান। তিনি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হিসেবে কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। তবে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস সদস্যের নাগরিকত্ব বাতিল বা তাঁকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নজিরবিহীন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ওয়াশিংটন পোস্ট।
মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব নিয়ে চলমান তদন্তের জেরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে ফেডারেল সরকারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে ফেডারেল এজেন্টদের তল্লাশির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ওবামা এই মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, কেবল প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করার কারণেই প্রশাসন ইলহান ওমরের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল ও তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ইলহান ওমর বা তাঁর বাবা ইমিগ্রেশন নথিতে কোনো ধরনের জালিয়াতি করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই তদন্তকে 'ভিত্তিহীন তত্ত্ব' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ওবামা। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে তিনি জানান, ইলহান মাত্র ১২ বছর বয়সে তাঁর বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ১৭ বছর বয়সে তাঁর বাবা যখন নাগরিকত্ব লাভ করেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তিনিও মার্কিন নাগরিক হন। ওবামার দাবি, তদন্তকারীরা এখন প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে ওই সময় ইলহানের বয়স ১৮ ছিল, যার ফলে তাঁকে আলাদাভাবে নাগরিকত্বের আবেদন করতে হতো। ওবামার মতে, একজন আইনমান্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর ফেডারেল সরকারের এমন চাপ প্রয়োগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তদন্তে নিজের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকার কথা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি পুরোপুরি বিচার বিভাগের হাতে। তবে একইসঙ্গে তিনি ইলহান ওমরকে ব্যক্তিগতভাবে 'পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত' বলে মন্তব্য করেছেন। ওবামা তাঁর বার্তায় নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল, সাবেক এফবিআই পরিচালক এবং ফেডারেল রিজার্ভের সদস্যদের বিরুদ্ধে নেওয়া ফেডারেল পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে, বর্তমান প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বারবার লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্বাস বা মতামতের কারণে কাউকে এভাবে হয়রানি করা মার্কিন গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির পরিপন্থী উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হলে ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসন এই একই বিপজ্জনক পথ অনুসরণ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের তল্লাশির পর তাঁর মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্ব বাতিল করতে হলে সরকারকে কঠোর আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং আদালতে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ তাঁর বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। এর কয়েক দিন পর সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার এখন পর্যন্ত তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেয়নি। মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০০০ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ফেডারেল তদন্তকারীরা তাঁর অভিবাসন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় জমা দেওয়া নথিতে কোনো ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় তাঁর বয়সসংক্রান্ত তথ্য এবং এ বিষয়ে তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য সঠিক ছিল কি না। তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তল্লাশির সময় ফেডারেল কর্মকর্তারা নথিপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং তাঁর পাসপোর্টসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইলহান ওমরের আইনজীবীরা এ তল্লাশির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জব্দ করা সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ বলেছে, আদালতের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের ভিত্তিতেই তল্লাশি চালানো হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়াকে ডিন্যাচারালাইজেশন বলা হয়। সাধারণত নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা আইনগতভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা না থাকার মতো বিষয় প্রমাণ করতে হয়। শুধু তদন্ত শুরু হওয়া কিংবা কোনো অভিযোগ ওঠার কারণে নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না। সরকারকে প্রযোজ্য আইনি মানদণ্ড পূরণ করে আদালতে মামলা করতে হবে। এ ধরনের মামলায় প্রমাণের ভিত্তি ও আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিএনএনের প্রতিবেদনে বোস্টন কলেজের অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ক্যানস্ট্রুমের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব একবার পাওয়ার পর তা বাতিল করার ক্ষেত্রে সরকারের জন্য আইনি বাধা অনেক উঁচু। নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা সফল করতে হলে সরকারকে শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। ফলে ইলহান ওমরের বাসায় তল্লাশি চালানো হলেও তা থেকে সরাসরি তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ইলহান ওমর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে এ তদন্তে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে সিএনএন জানিয়েছে। তদন্তের ফলাফল, সম্ভাব্য অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। নাগরিকত্ব বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয় কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ফোন জব্দ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসিতে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় ফোনটি জব্দ করা হয়। একই তদন্তে তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছেও তথ্য চেয়ে প্রায় এক ডজন সমন পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ষড়যন্ত্র এবং অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো সম্ভাব্য অপরাধের বিষয় খতিয়ে দেখছেন। তবে এখন পর্যন্ত ওমরের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনার তথ্য প্রকাশিত হয়নি। গত সোমবার, ১২ অক্টোবর, ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসায় তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। এর কয়েক দিন আগে, শুক্রবার তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাছে সমন পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্ত সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে। তদন্তটি মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একটি কেন্দ্রীয় গ্র্যান্ড জুরির কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। গ্র্যান্ড জুরি সম্ভাব্য অপরাধের প্রমাণ পর্যালোচনা করে এবং মামলায় অভিযোগ আনার যথেষ্ট ভিত্তি আছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। তবে ওমর নিজে এ পর্যায়ে সমন পাননি বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। তদন্তকারীরা মূলত ওমর ও তাঁর পরিবারের অভিবাসনসংক্রান্ত অতীত নথিপত্র পরীক্ষা করছেন। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া ওমর ১৯৯০-এর দশকে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। তদন্তের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, তাঁর জন্মতারিখসহ অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য ও নথিপত্রে কোনো অসংগতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত চললেও কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ওমরের বোনের সঙ্গেও কথা বলতে চান, তবে তাঁর সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করতে পারেননি। পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠানো সমনের মাধ্যমে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্ত পরিচালনা করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, মিনিয়াপোলিসের মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং বিচার বিভাগ। তদন্তের সম্ভাব্য অভিযোগের মধ্যে ষড়যন্ত্র ও অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্রে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার বিষয় রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণ বিবরণ বা জব্দ করা ফোন থেকে কী তথ্য পাওয়া গেছে, তা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। ইলহান ওমর এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নিয়ে ভিত্তিহীন বক্তব্য ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ তল্লাশিকে তিনি সেই চাপেরই নতুন ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেন। ওমরের মুখপাত্রের কাছ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে কোনো জবাব পাওয়ার কথা জানানো হয়নি। বিচার বিভাগও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচনে লড়ছেন ওমর। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রচলিত নীতিতে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে ভোটের ফল প্রভাবিত করতে পারে এমন প্রকাশ্য তদন্তমূলক পদক্ষেপ এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে। তবে এ ধরনের নীতি সব তদন্তে স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা তৈরি করে না। কংগ্রেস সদস্যের ফোন জব্দ করার ক্ষেত্রে আইনপ্রণেতাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও আইনসভায় বক্তব্য দেওয়ার স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, সরকার ওমরকে ‘খুব সতর্কভাবে’ পর্যবেক্ষণ করছে। পরে ওহাইওতে রিপাবলিকানদের একটি সমাবেশেও তিনি ওমরকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। ট্রাম্পের প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাও এর আগে ওমরের অভিবাসনসংক্রান্ত নথি নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে তদন্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ওমর ও তাঁর সমর্থকেরা যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে, তদন্তকারীরা কী ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ্যে আসেনি। ওমর মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য এবং প্রগতিশীল নারী আইনপ্রণেতাদের ‘দ্য স্কোয়াড’ নামে পরিচিত গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য। অভিবাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তাঁর অবস্থানের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প ও তাঁর সমর্থকদের সমালোচনার মুখে রয়েছেন। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি, ফোন জব্দ এবং পরিবারের সদস্যদের সমন পাঠানোর ঘটনা তাই রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সূত্র: এনবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স।
বামপন্থী এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) পুরোপুরি বিলুপ্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাড়িতে আকস্মিক অভিযান এবং নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তির ওপর ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিবর্ষণের ঘটনার জেরে এই বিলটি সামনে আনা হলো। ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজের উত্থাপিত 'রিইমাজিনিং সেফটি অ্যাক্ট' নামের এই বিলটিতে ডিএইচএস বিলুপ্তির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের অভিবাসন আটক কেন্দ্র বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এক বিবৃতিতে রামিরেজ জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে ডিএইচএসকে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৫ বছরের সন্তানের সামনে এক বাবাকে গুলি করা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওপর পরিচালিত অভিযান তারই উদাহরণ। তিনি ডিএইচএস ভেঙে দেওয়া, আইসিই বাতিল এবং নাগরিক অধিকার খর্ব করার চর্চা বন্ধের এখনই উপযুক্ত সময় বলে দাবি করেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিএইচএস গঠন করা হয়েছিল। তবে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কিছুদিন ধরেই আইসিই বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। এর মধ্যেই গত সোমবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) এজেন্টরা ইলহান ওমরের বাড়িতে অভিযান চালায়। সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত এই কংগ্রেসওম্যানের অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রের দীর্ঘস্থায়ী একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে এই তল্লাশি চালানো হয়। ইলহান ওমরের দাবি, তিনি বিচার ব্যবস্থার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন। 'রিইমাজিনিং সেফটি অ্যাক্ট' পাস হলে ডিএইচএস-এর বদলে 'ডিপার্টমেন্ট অফ কমিউনিটি সেফটি' নামে নতুন একটি বিভাগ চালু করা হবে, যা জননিরাপত্তা ও সহিংসতা রোধে কাজ করবে। ডিএইচএস-এর বর্তমান দায়িত্বগুলো বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হবে; যেমন—বিচার বিভাগ অভিবাসন প্রয়োগের দায়িত্ব নেবে এবং ট্রেজারি বিভাগ কাস্টমসের দায়িত্ব পালন করবে। তবে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত কংগ্রেসের উভয় কক্ষের অধিবেশন মুলতবি থাকায় এই বিলটি সহসাই আলোর মুখ দেখার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে কথিত অভিবাসন জালিয়াতির তদন্ত শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মিনেসোটার এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের ‘বর্ডার জার’ টম হোম্যান নিশ্চিত করেছেন যে, প্রগতিশীল ‘স্কোয়াড’ সদস্য ওমরের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি 'ফৌজদারি' তদন্ত পরিচালনা করছে। মূলত নিজের ভাইকে বিয়ে করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার পুরনো অভিযোগ থেকেই এই তদন্তের সূত্রপাত, যদিও ইলহান ওমর শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। প্রথম মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওমরকে এর আগেও একাধিকবার সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর ও অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী মাইকেল ওয়াইল্ডসের মতে, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা তদন্তকারীদের জন্য বেশ কঠিন একটি কাজ হবে। কারণ, আদালতে সফলভাবে বৈবাহিক জালিয়াতি প্রমাণের জন্য সরকারকে সন্দেহাতীতভাবে দেখাতে হবে যে, ওমর শুধুমাত্র মার্কিন অভিবাসন আইন ফাঁকি দিয়ে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে আহমেদ নুর সাইদ এলমিকে বিয়ে করেছিলেন। ওয়াইল্ডস জানান, বিয়ের পর যদি ওমর ও এলমি মনেও করে থাকেন যে এই বিয়ে এলমির মার্কিন অভিবাসনের পথ সহজ করবে, তবু আদালতে এটিকে জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করা হবে না। এ ধরনের মামলায় প্রমাণ দাখিল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চ মাপকাঠি পেরোতে হয়। তবে যদি প্রমাণ হয় যে তারা সত্যিই জালিয়াতি করেছেন, তাহলে ওমরের পাঁচ বছরের জেল, আড়াই লাখ ডলার জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ২০০৯ সালে হওয়া ওই বিয়ের কারণে আইনি সীমাবদ্ধতার জন্য সরাসরি ফৌজদারি মামলা করা কঠিন হতে পারে। এর বদলে ইলহান ওমরকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার (ডিন্যাচারালাইজেশন) পথ খোলা রয়েছে, যাকে টম হোম্যান একটি 'গুরুতর আইনি প্রক্রিয়া' বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এর জন্য প্রমাণ করতে হবে যে, ২০০০ সালে নাগরিকত্ব নেওয়ার সময় ওমর বা তার বাবা মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ওমরের দাবি, তার বাবা যখন নাগরিকত্ব পান, তখন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নাগরিক হয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের রেকর্ড ও অনলাইনে অনেকেই দাবি করছেন যে সে সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন না এবং তার জন্মতারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই অভিযোগের সত্যতা মিললে, কিংবা তার বাবাও যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকেন, তবে ওমরের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ইলহান ওমর জানান, ডিএইচএস থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং তার বিয়ে বা অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো তদন্তের বিষয়ে তিনি অবগত নন। ডানপন্থিরা সবসময় এমন অপপ্রচার চালায় বলে তিনি এই বিষয়টিকে পাত্তা দিচ্ছেন না। তবে মাইকেল ওয়াইল্ডস জানিয়েছেন, তদন্তের বিষয়ে ওমরের না জানাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সরকার নিজেদের আইনি প্রক্রিয়া গুছিয়ে আনার আগে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই তদন্তের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। পরিশেষে তিনি যোগ করেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও একজন কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন কোনো অভিযোগ আনা অনুচিত এবং প্রসিকিউশনকে অবশ্যই সঠিক প্রমাণ সাপেক্ষে অগ্রসর হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসউইম্যান ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করে আপেল সিডার ভিনেগার নিক্ষেপ করার দায়ে এক ব্যক্তিকে ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার মিনিয়াপোলিসের ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সাথে একটি আপস চুক্তির (প্লি এগ্রিমেন্ট) অংশ হিসেবে ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্টনি কাজমিয়ারজ্যাক এই সাজা মেনে নেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি মুক্তির পর তাকে তিন বছর কড়া আইনি নজরদারিতে (সুপারভাইজড রিলিজ) থাকতে হবে এবং এই সময়ের মধ্যে তিনি 'স্কোয়াড' খ্যাত এই কংগ্রেসউইম্যানের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ করতে পারবেন না। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ইলহান ওমরের আয়োজিত একটি টাউন হল সভায় এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে। সেসময় অ্যান্টনি হঠাৎ করে মঞ্চের দিকে তেড়ে যান এবং একটি সিরিঞ্জ থেকে পানি ও আপেল সিডার ভিনেগারের মিশ্রণ ইলহান ওমরের দিকে ছুঁড়ে মারেন। এ সময় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন যে, ইলহান ওমর "মিনেসোটাকে বিভক্ত করছেন।" ওমরের নিরাপত্তারক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিবৃত্ত করেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় কেউ আহত না হলেও সেখানে উপস্থিত মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিলের সদস্য লাট্রিশা ভেতাওয়ের গায়ে কিছুটা ভিনেগার লাগায় পরবর্তীতে তিনি বমি করেছিলেন। হামলার আগে নিজের এক প্রতিবেশীকে অ্যান্টনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন। তার ভাই তাকে একজন 'ডানপন্থী চরমপন্থী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিপক্ষে বিভিন্ন পোস্ট করতেন। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইলহান ওমর জানান, সোমালি অভিবাসীদের বহিষ্কার করার বিষয়ে ট্রাম্পের আদেশের ধীরগতি নিয়ে হামলাকারী ক্ষুব্ধ ছিলেন। ইলহান ওমর সোমালিদের রক্ষা করছেন, এমনটা ভেবেই তিনি তার ওপর হামলা চালান। তবে আদালতে বিচারক যখন তাকে হামলার কারণ জিজ্ঞেস করেন, তখন তিনি কেবল বলেন, "বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট।" উল্লেখ্য, এই ঘটনার সময় মিনেসোটার টুইন সিটিস এলাকায় কেন্দ্রীয় ইমিগ্রেশন এজেন্টদের অভিযান এবং এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের কারণে এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। অন্যদিকে, অ্যান্টনির এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন যে, তিনি পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত এবং কয়েক বছর আগে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়ার পর থেকে কড়া ওষুধের ওপর নির্ভরশীল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, আসামিপক্ষের মেমোতে অ্যান্টনির অ্যালকোহল আসক্তি এবং মানসিক ও আবেগজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার ইতিহাসও উল্লেখ করা হয়েছে।
মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে এক টাউন হল সভায় ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের দিকে ভিনেগার ছোড়ার ঘটনায় অ্যান্থনি কাজমিয়ারচাককে বৃহস্পতিবার সাজা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউটররা তার জন্য ১৪ মাসের কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছেন। জানুয়ারির ওই ঘটনায় ওমর আহত না হলেও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে মাটিতে ফেলে আটক করেন। গত ২৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসের একটি টাউন হল সভায় দর্শকসারিতে থাকা কাজমিয়ারচাক হঠাৎ উঠে দাঁড়ান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি সিরিঞ্জ থেকে ওমরের দিকে তরল ছুড়ে দেন এবং চিৎকার করে বলেন, ওমর ‘মিনেসোটাকে বিভক্ত করছেন’। এরপর ওমরের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে মাটিতে ফেলে দেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তে জানা যায়, সিরিঞ্জে থাকা তরলটি ছিল পানি ও অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের মিশ্রণ। ঘটনার পরও ওমর টাউন হল সভা চালিয়ে যান। হামলায় তিনি শারীরিকভাবে আহত হননি। পরে কাজমিয়ারচাক ওমরের কাছে চিঠি লিখে তার কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, তিনি ওমরকে ভয় দেখিয়ে থাকলে সে জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। কাজমিয়ারচাকের বিরুদ্ধে একজন মার্কিন কর্মকর্তাকে হামলার অভিযোগ আনা হয়। আদালতে আগের এক শুনানিতে বিচারক তাকে ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ঘটনার স্মৃতি তার কাছে অস্পষ্ট। প্রসিকিউটরদের আদালতে দেওয়া সাজা সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ঘটনার আগে তিনি অন্তত তিনজনকে বার্তা পাঠিয়ে ওই সভায় ওমরকে ঘিরে কিছু করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে নিজের পরিকল্পনার বিস্তারিত তাদের জানাননি। প্রসিকিউটরদের নথিতে আরও বলা হয়েছে, সভায় যাওয়ার আগে কাজমিয়ারচাক প্রতিবেশীর সঙ্গে কুকুরের দেখাশোনা এবং জামিনদারের যোগাযোগের বিষয়ও ঠিক করেছিলেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা ঘটনাটিকে আগে থেকে পরিকল্পিত হামলা হিসেবে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, কাজমিয়ারচাকের বয়স পঞ্চাশের মাঝামাঝি। তার দীর্ঘদিনের অ্যালকোহল ব্যবহারের সমস্যা এবং মানসিক ও আবেগজনিত নানা সমস্যার ইতিহাস রয়েছে বলেও প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে তার পারকিনসনস রোগ শনাক্ত হওয়ার পর আরও কিছু শারীরিক সমস্যার কথাও নথিতে উঠে এসেছে। ঘটনার সময় মিনেসোটায় অভিবাসন তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিল। অপারেশন মেট্রো সার্জের আওতায় টুইন সিটিজ এলাকায় দুই হাজারের বেশি অভিবাসন কর্মকর্তা অভিযান চালিয়েছিলেন। এসব অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার এবং দুই মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মিনেসোটায় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি এবং দীর্ঘদিন ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সমালোচনার মুখে রয়েছেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কাজমিয়ারচাকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টেও ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা এবং ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কাজমিয়ারচাক বৃহস্পতিবার সাজা পেলে মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হবে। প্রসিকিউটরদের সুপারিশ অনুযায়ী ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে কি না, নাকি আদালত ভিন্ন সাজা নির্ধারণ করবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ঘটনাটি আবারও রাজনৈতিক সমাবেশে নিরাপত্তা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সুরক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আলোচনাকে সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরের সম্পদের বিশাল ফারাক নিয়ে চলমান একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত সহজে মেনে নেয়নি অভিযোগকারী ওয়াচডগ গ্রুপ 'ন্যাশনাল লিগ্যাল অ্যান্ড পলিসি সেন্টার'। বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তারা এখন হাউজ এথিকস কমিটির কাছে ইলহান ওমরের বিস্তারিত আর্থিক নথিপত্র তলবের জোর দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি 'অফিস অব কংগ্রেশনাল কন্ডাক্ট' (ওসিসি) ৫-১ ভোটে এই তদন্ত খারিজ করার সুপারিশ করলে নতুন করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গত বছর নিজের সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ডলার উল্লেখ করলেও এ বছর তা অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে ১ লাখ ডলারের নিচে দেখিয়েছেন ইলহান ওমর। তার সবশেষ নথিতে দাবি করা হয়েছে, ওয়াইনারি সাম্রাজ্য ও রোজ লেক ক্যাপিটাল ভেঞ্চার ফার্ম থেকে তার স্বামী টিম মাইনেটের আয় ছিল মাত্র ২০০ ডলার। সম্পদের এই বিশাল অসামঞ্জস্যের জন্য হিসাবরক্ষকের ভুলকে দায়ী করেছে ওমরের কার্যালয়। ওমরের মুখপাত্র জ্যাকলিন রজার্স জানান, শুরু থেকেই তারা স্পষ্ট করে বলেছেন যে কংগ্রেসওম্যান কোনো মিলিয়নেয়ার নন। তবে ওয়াচডগ গ্রুপের পল কামেনার এই অজুহাতকে 'হাস্যকর' বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, হিসাবরক্ষক এতোটাই বোকা যে দায়ের কথা চিন্তা না করেই সম্পদের মূল্যায়ন করেছেন—এমন দাবি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়। আগামী নির্বাচনের আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ৬০ দিনের 'ব্ল্যাকআউট পিরিয়ড'-এর পরপরই তদন্ত বাতিলের এই সুপারিশ সামনে আসে। নিয়মানুযায়ী এই সময়ে এথিকস কমিটি নতুন করে কোনো তদন্ত শুরু করতে পারে না। পল কামেনার হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমারেরও সমালোচনা করেছেন; কারণ, কমার প্রথমে ওমরের স্বামী টিম মাইনেটকে তলব করার কথা বললেও পরে তা এথিকস প্যানেলের ওপর ছেড়ে দেন। অবশ্য ওসিসি-এর এই সুপারিশ হাউজ এথিকস কমিটির জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তিন জন রিপাবলিকান ও তিন জন ডেমোক্র্যাট সদস্য নিয়ে সমানভাবে বিভক্ত এই কমিটি নির্বাচনের পর তদন্তের বিষয়ে তাদের নিজস্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ভাইকে বিয়ে করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার মাধ্যমে অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে যে অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে রয়েছে, তা নিয়ে ফেডারেল তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওমরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে রক্ষণশীল ধারার উপস্থাপক বেনি জনসনের সঙ্গে আলাপকালে মুলিন ইলহান ওমরের অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে চলমান তদন্তের কথা জানান। তিনি দাবি করেন, ওমর তাঁর ভাইকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার উদ্দেশ্যে তাকে বিয়ে করেছিলেন। মুলিন বলেন, তদন্তে আরও কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে। ওমরের পরিবারের যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড যুক্ত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে মুলিন একই সঙ্গে বলেন, তদন্ত এখনো চলছে এবং কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে অভিবাসন আবেদনের সময় ওমর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অধিকার তাঁর শুরু থেকেই ছিল না, তাহলে তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়টি সামনে আসতে পারে। মুলিনের বক্তব্যের পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র চলমান তদন্ত সম্পর্কে নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিভাগটি চলমান তদন্ত, তদন্তের নির্দিষ্ট কৌশল বা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণত মন্তব্য করে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস সদস্যসহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। ইলহান ওমর অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ভাইকে বিয়ের অভিযোগ বহু বছর ধরে অস্বীকার করে আসছেন। ২০১৬ সালে মিনেসোটা পাবলিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আহমেদ নুর সাঈদ এলমি তাঁর ভাই, এমন ইঙ্গিত ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর। ওমর ২০০৯ সালে আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। ২০১৮ সালে তিনি আহমেদ আবদিসালান হিরসিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। ওমর তাঁর এলমির সঙ্গে সম্পর্ককে স্বল্পস্থায়ী বলে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, তাঁদের দাম্পত্য জীবনের বড় একটি সময় তারা আলাদা ছিলেন। ওমরকে ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগ প্রথমে কয়েক বছর আগে অনলাইন আলোচনায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে অভিযোগটির পক্ষে প্রকাশ্যে উপস্থাপিত তথ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ওমর কোনো সময়ই এলমি তাঁর ভাই ছিলেন বা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য বিয়ে করেছিলেন, এমন দাবি স্বীকার করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান নেতারাও বিষয়টি আবার সামনে এনেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দুজনই প্রকাশ্যে ওমর অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। ভ্যান্স মার্চে দাবি করেছিলেন, ওমর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিবাসন জালিয়াতি করেছেন বলে তাঁদের বিশ্বাস। ট্রাম্পও মে মাসে একই ধরনের অভিযোগ করেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রীর সর্বশেষ বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি বিষয়টিকে শুধু পুরোনো রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে নয়, চলমান ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। ইলহান ওমর ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর। ফলে তাঁকে সরাসরি বহিষ্কার করা হবে, এমন সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া যায় না। কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে সরকার প্রমাণ করতে চাইলে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে পাওয়া নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে স্পষ্ট ও শক্ত প্রমাণ থাকতে হয় এবং বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অভিবাসন আইন এড়ানোর উদ্দেশ্যে জেনে-শুনে বিয়ে করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমন অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে এই অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন কোনো আদালতের রায় এখন পর্যন্ত নেই। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত ও রাজনৈতিক বিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওমরের বিরুদ্ধে এই তদন্ত মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং মিনেসোটা থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। তাঁর অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে সামনে আসায় আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে পারে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার বা ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি আবারও জোরালোভাবে তুলেছেন সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেস লিখেছেন, "ইলহান ওমরকে বিতাড়িত করার জন্য আজ একটি ভালো দিন হতে পারে।" মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত সহকর্মী ওমরের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে মেসের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য অবশ্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যান্সি মেস বলেছিলেন, সোমালিয়া চাইলে ওমরকে "ফিরিয়ে নিতে পারে"। সেসময় ওমরের কংগ্রেসের আসন ও নাগরিকত্ব বাতিলেরও দাবি জানান তিনি। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাউস ওভারসাইট কমিটিতে ওমরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘বিয়ে জালিয়াতি’র অভিযোগ তুলে তাঁর অভিবাসন রেকর্ড তলবের চেষ্টাও করেছিলেন মেস, যদিও কমিটি সেই অনুরোধ অনুমোদন করেনি। তবে আইনি ও বাস্তব চিত্র হলো, ইলহান ওমর ২০০০ সাল থেকে একজন বৈধ মার্কিন নাগরিক। সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে ১৯৯৫ সালে শিশু বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব আইনি প্রক্রিয়ায় বা ‘ডিন্যাচুরালাইজেশন’-এর মাধ্যমে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব নয়। আর এই বাতিলের জন্য ফেডারেল আদালতে জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। ওমরের বিরুদ্ধে যে বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়, তা বছরের পর বছর ধরে চর্চিত হলেও কখনোই তা প্রমাণিত হয়নি। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ও বিতাড়নের ডাককে বরাবরই উড়িয়ে দিয়েছেন ইলহান ওমর। ২০১৯ সাল থেকে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করা এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর মতে, এসব আক্রমণ তাঁর দৈনন্দিন রাজনৈতিক কাজ বা কংগ্রেসের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে না।
মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর ও তাঁর স্বামী টিম মাইনেটের আর্থিক লেনদেন ও আয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সরকারের কাছে জমা দেওয়া ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, তাঁর স্বামীর বার্ষিক আয়ে ব্যাপক পতন ঘটেছে, যা মার্কিন রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলহান ওমরের সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর স্বামী টিম মাইনেট গত বছর তাঁর বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘রোজ লেক ক্যাপিটাল’ থেকে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বেতন গ্রহণ করেননি। ওই বিবরণীতে দেখানো হয়েছে যে, মাইনেটের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল ‘ইস্টক্রু’ (eStCru) নামের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি মদের ব্যবসা। চলতি বছরের শুরুতে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে ওই ব্যবসা থেকে তিনি মাত্র ২০০ থেকে ১,০০০ ডলার আয় করেছেন। আয়ের এই নতুন হিসাব গত বছরের বিবরণীর সম্পূর্ণ বিপরীত। আগের বছরের নথিতে দাবি করা হয়েছিল যে, মাইনেটের ব্যবসায়ের আনুমানিক মূল্য ৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। সম্পদের এই অস্বাভাবিক ফুলেফেঁপে ওঠা সেসময় ব্যাপক জনস্বার্থ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। প্রবল সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে একটি সংশোধিত আর্থিক বিবরণী জমা দেওয়া হয়। সেখানে এই বিশাল সম্পদের পরিমাণ শূন্যতে নামিয়ে এনে দাবি করা হয় যে, পূর্বের হিসাবটি নিছকই একটি ‘অ্যাকাউন্টিং ভুল’ ছিল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই সংশোধিত নথিতেও দেখানো হয়েছে যে, রোজ লেক ক্যাপিটাল একই সময়ে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ ডলার রাজস্ব আয় করেছে। পাশাপাশি মদের ব্যবসাটি বন্ধ হওয়ার আগে আরও কয়েক হাজার ডলার আয় করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। বছর ঘুরতেই হিসাবের এই আকাশপাতাল ব্যবধান সমালোচকদের মনে নতুন করে সন্দেহের দানা বাঁধতে সাহায্য করেছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ডেমোক্রেটিক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মাইনেট ২০২২ সালে তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোগী উইল হেইলারের সঙ্গে যৌথভাবে এই ‘রোজ লেক ক্যাপিটাল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই পুরো বিতর্কের বিষয়ে ইলহান ওমরের একজন মুখপাত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-কে জানান, সংশোধিত বিবরণীটি এটাই প্রমাণ করে যে কংগ্রেসওম্যান কোনো কোটিপতি নন। তাঁর দাবি, মাইনেটের হিসাবরক্ষকদের অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রথম নথিটি তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে দায়ের উল্লেখ না করে কেবল সম্পদ দেখানো হয়েছিল, যার ফলে তাঁর স্বামীর মোট সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি মনে হয়েছিল। ওই মুখপাত্র আরও জানান, ভুল নজরে আসার পরপরই ইলহান ওমর স্বেচ্ছায় তা সংশোধন করেছেন এবং বর্তমান হিসাবটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সঠিক।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।