যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ প্রজন্মের সুখ কমছে, জীবনে সবচেয়ে অসন্তুষ্ট জেন জি
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের নতুন জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মাত্র ৪৪ শতাংশ জীবনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। ২০১০ সালে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ ১৬ বছরে সন্তুষ্টির হার কমেছে ২০ শতাংশ পয়েন্ট। বর্তমানে বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে তরুণদের অবস্থান সবচেয়ে নিচে। অন্যদিকে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি বেড়েছে।
গ্যালাপ গত ৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ হাজার ১৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মে ও আগস্টে তিন দফায় অনলাইনে জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দারা অংশ নেন। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বর্তমান জীবন ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রত্যাশার ভিত্তিতে সন্তুষ্টির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্যালাপের হিসাবে, কোনো ব্যক্তি বর্তমান জীবনকে ১০-এর মধ্যে অন্তত ৭ এবং পাঁচ বছর পরের সম্ভাব্য জীবনকে অন্তত ৮ নম্বর দিলে তাঁকে ভালো অবস্থানে থাকা ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই পদ্ধতিতে ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে তরুণদের মাত্র ৪৪ শতাংশ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করেছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে বাকি ৫৬ শতাংশ তরুণ সব সময় অসুখী। জরিপে সামগ্রিক জীবন মূল্যায়ন এবং দৈনন্দিন সুখের অনুভূতি আলাদাভাবে পরিমাপ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি কমার বড় অংশ ঘটেছে ২০১৯ সালের পর। ওই বছর ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৫৭ শতাংশ ভালো অবস্থানে ছিলেন। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালে এই হার নেমে আসে ৩৯ শতাংশে। পরে ২০২৩ সালে বেড়ে ৫১ শতাংশ হলেও আবার কমতে শুরু করে। চলতি বছরের হিসাবে সেই হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ শতাংশে।
শুধু সামগ্রিক জীবন মূল্যায়ন নয়, দৈনন্দিন আনন্দের অনুভূতিতেও পরিবর্তন এসেছে। গ্যালাপের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৬৪ শতাংশ জানিয়েছেন, আগের দিন তাঁরা আনন্দ অনুভব করেছিলেন। ২০১৯ সালের তুলনায় এই হার ১৭ শতাংশ পয়েন্ট কম। একইভাবে গত এক বছরে নিজেদের অধিকাংশ লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন মাত্র ৩১ শতাংশ তরুণ। এই সূচকেও ২০১৯ সালের তুলনায় ১৩ শতাংশ পয়েন্ট পতন হয়েছে।
তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার তথ্যও উঠে এসেছে জরিপে। বর্তমানে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ২৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা বিষণ্নতায় ভুগছেন অথবা এ জন্য চিকিৎসা নিচ্ছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় এই হার ১১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। অন্যদিকে মাত্র ৪১ শতাংশ তরুণ সমবয়সীদের তুলনায় নিজেদের জীবনযাত্রার মান নিয়ে সন্তুষ্ট। এই হারও ২০১৯ সালের তুলনায় ১৪ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।
তবে শুধু জেন জি নয়, অন্য বয়সের মানুষের মধ্যেও জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি কমেছে। ৩০ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের মধ্যে বর্তমানে ৪৫ শতাংশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এই হার ছিল ৬২ শতাংশ। একইভাবে ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে সন্তুষ্টির হার দাঁড়িয়েছে ৪৬ শতাংশে। বিপরীতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার ২০০৮ সালের ৩৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৫৩ শতাংশ হয়েছে।
তরুণদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি কমার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আবাসন ব্যয়, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং চাকরির বাজার নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া ও বাসস্থান কেনার উচ্চ খরচ তরুণদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন কঠিন করে তুলতে পারে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কা এবং কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবে গবেষণাটি এসব বিষয়কে সন্তুষ্টি কমার একক বা নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও তরুণদের সুখ নিয়ে বৃহত্তর গবেষণায় আলোচিত হচ্ছে। গ্যালাপের সঙ্গে যুক্ত বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন ২০২৬-এ বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণদের জীবন মূল্যায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জরিপে পাওয়া ২০ শতাংশ পয়েন্ট পতনের পুরোটাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে হয়েছে, এমন প্রমাণ নেই। ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন পরিস্থিতি একসঙ্গে বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
গ্যালাপের এই গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টির দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন তুলে ধরেছে। একসময় তরুণদের জীবন মূল্যায়ন অন্য বয়সীদের তুলনায় বেশি ইতিবাচক থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি উল্টো। বিশেষ করে করোনা মহামারির পর তরুণদের সন্তুষ্টি কমার প্রবণতা গবেষকদের নজরে এসেছে। তবে জরিপটি ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় এর ফলাফল সব বয়সের জেন জি সদস্যের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য নয়।
সূত্র: গ্যালাপ
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য দারুণ এক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ‘হোমফার্স্ট ডাউন পেমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’-এর আওতায় যোগ্য ক্রেতারা বাড়ি কেনার প্রাথমিক ডাউন পেমেন্ট অথবা ক্লোজিং খরচ মেটাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো—কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দারা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। মূলত বাড়ির ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং প্রাথমিক খরচের কারণে যেসব পরিবার নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করতে পারছে না, তাদের পাশে দাঁড়াতেই নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এইচপিডি) এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। সম্প্রতি সেঞ্চুরি ২১-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে সম্ভাব্য ক্রেতাদের এই কর্মসূচির সুবিধা ও যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। এই কর্মসূচির আওতায় এক থেকে চার পরিবারের বসবাসের উপযোগী বাড়ি, কনডোমিনিয়াম এবং কো-অপারেটিভ অ্যাপার্টমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে শর্ত হলো, কেনা বাড়িটি আবেদনকারীর প্রধান বাসস্থান হতে হবে এবং তাকে অবশ্যই প্রথমবার বাড়ি ক্রেতা হতে হবে (অর্থাৎ গত তিন বছরের মধ্যে কোনো বাড়ির মালিক ছিলেন না)। সহায়তা পাওয়ার জন্য পরিবারের আয়সীমা সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হবে এবং আবেদনকারীদের এইচপিডি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি কেনাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এছাড়া ক্রেতার নিজস্ব তহবিল থেকে অন্তত ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার সক্ষমতা থাকা বাধ্যতামূলক। এই আর্থিক সহায়তা মূলত সাধারণ অনুদানের বদলে শর্তসাপেক্ষে মওকুফযোগ্য ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়, যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওই বাড়িতে বসবাসসহ আনুষঙ্গিক সব শর্ত পূরণ করলে পুরোপুরি মওকুফ হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের র্যান্ডলফ কাউন্টিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাঁচাতে কেনাকাটায় অতিরিক্ত ১০ সেন্ট ফি আরোপ
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ৩ লাখ ডলার আয়েও মাস শেষে টাকা থাকছে না অনেকের
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ প্রজন্মের সুখ কমছে, জীবনে সবচেয়ে অসন্তুষ্ট জেন জি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কেন্দ্রস্থল ম্যানহাটনে অবিশ্বাস্য কম দামে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। আপার ম্যানহাটনের ইনউড এলাকায় অবস্থিত 'ইনউড গার্ডেনস' নামক ২৩ তলাবিশিষ্ট একটি সমবায় আবাসন প্রকল্পে এক থেকে তিন শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য লটারির মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্যাচের তথ্য অনুযায়ী, ৪৫ কুপার স্ট্রিটে অবস্থিত এই প্রকল্পটি মূলত নিউইয়র্কের সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি 'মিচেল-লামা'-এর আওতাভুক্ত। এসব অ্যাপার্টমেন্টের প্রাথমিক ক্রয়মূল্য শুরু হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮২০ ডলার থেকে। তবে এটি কোনো মাসিক ভাড়া নয়, বরং অ্যাপার্টমেন্ট কেনার প্রাথমিক মূল্য। এর পাশাপাশি বাসিন্দাদের প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বহন করতে হবে, যার মধ্যে হিটিং সিস্টেম, গরম পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অ্যাপার্টমেন্টের আকার, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং বার্ষিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে ক্রয়মূল্য ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের ক্রয়মূল্য ১ হাজার ৮২০ ডলার এবং মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৭১৭.১৫ থেকে ৯০৯.৭১ ডলার, যার জন্য এক বা দুই সদস্যের পরিবারের বার্ষিক আয় ২৮ হাজার ৮৮১.৬০ থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ৬০০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। একইভাবে, দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের দাম ২ হাজার ৬৩০ থেকে ২ হাজার ৯১০ ডলার এবং তিন শয়নকক্ষের দাম ৩ হাজার ৬৩০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলোর মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ যথাক্রমে ৯২২.০৪ থেকে ১ হাজার ১২৪.৫২ ডলার এবং ১ হাজার ১৯১.৭৫ থেকে ১ হাজার ৪০৫.২০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের জন্য দুই থেকে চার সদস্যের পরিবারের আয়সীমা ৩৪ হাজার ৪৭১.৩০ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৩০ ডলার এবং তিন শয়নকক্ষের ক্ষেত্রে চার থেকে ছয় সদস্যের পরিবারের আয়সীমা ৪৭ হাজার ৯০২.৮০ থেকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ডলার হতে হবে। প্রকল্পটিতে বাসিন্দাদের জন্য ব্যক্তিগত খোলা বারান্দা, গাড়ি পার্কিং, কমিউনিটি কক্ষ, কম্পিউটার ব্যবহারের সুবিধা ও লন্ড্রিসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আগ্রহীরা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়াল (HCR) বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে 'HCR000211' প্রকল্প নম্বর ব্যবহার করে বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনের নিয়ম জানতে পারবেন। এছাড়া কাগজে মুদ্রিত আবেদনপত্রের জন্য সরাসরি ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের (২১২) ৯৪১-৫২৪০ নম্বরে যোগাযোগ করার সুযোগ রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের কড়া নির্দেশনা রয়েছে যে, একই পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক আবেদন করা যাবে না। মিচেল-লামা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে সাশ্রয়ী আবাসন দেওয়া হলেও, লটারিতে আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নিশ্চিত নয়। লটারির মাধ্যমে মূলত একটি অপেক্ষমাণ তালিকা তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে অ্যাপার্টমেন্ট খালি হওয়া সাপেক্ষে যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদনকারীদের বরাদ্দ দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারিয়েও মাসে ১ হাজার ডলার সাশ্রয়, তরুণীর অভিনব কৌশল
নিউইয়র্কে ক্যাথলিক যাজকদের যৌ ন নিপীড়নের শিকার ১,৩০০ জন, ক্ষতিপূরণ ৮০ কোটি ডলারের বেশি
নিউইয়র্কে শুটিং চলাকালে ছুরি হাতে হা মলার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২৩ বছরের যুবক
নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (NYPD) এক ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে তার অধস্তন এক নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে ক্রমাগত যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মারিয়া ডেলাক্রুজ (৩৩) নামের ওই ভুক্তভোগী নারী কর্মকর্তা সম্প্রতি ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টে একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আপার ওয়েস্ট সাইডের ট্রানজিট ডিস্ট্রিক্ট ১-এর তৎকালীন কমান্ডার ক্যাপ্টেন আমানজিৎ সান্ধু তার পদমর্যাদার অপব্যবহার করে কর্মপরিবেশকে চরম বিষাক্ত করে তুলেছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কমান্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সান্ধু নিয়মিত ডেলাক্রুজকে তার ব্যক্তিগত চালক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করেন। এরপর থেকেই তিনি ওই নারী কর্মকর্তার শরীর, চেহারা ও পোশাক নিয়ে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ এবং যৌন ইঙ্গিতমূলক মন্তব্য করতে থাকেন। এমনকি সান্ধু তাকে নিজের স্ত্রী ছেড়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন এবং নিজের অফিসে আপত্তিকর অবস্থায় তাকে ডেকে পাঠান। ডেলাক্রুজ বারবার এসব প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানালেও সান্ধু তার হয়রানি অব্যাহত রাখেন। ২০২৩ সালের বড়দিনের পার্টিতেও সান্ধু তাকে জোরপূর্বক নিজের সাথে রাত কাটানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে সহকর্মীদের মধ্যে নানা আপত্তিকর গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং ডেলাক্রুজকে নারী লকার রুমেও চরম বৈরী আচরণের মুখোমুখি হতে হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি ম্যানহাটন ট্রানজিট ব্যুরোর ডেপুটি চিফ স্টিভেন মাউরেলোর কাছে অভিযোগ জানালে, উল্টো তাকে যৌন হয়রানির মূল ঘটনাটি ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর (IAB) কাছে গোপন রাখার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে অন্য স্থানে বদলির প্রস্তাব দেওয়া হয়। ডেলাক্রুজ বদলি নিয়ে চলে গেলেও সান্ধুর হয়রানি থামেনি। ২০২৪ সালের শেষের দিকে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে ডেলাক্রুজকে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও, অশ্লীল ছবি এবং অত্যন্ত আপত্তিকর বার্তা পাঠাতে থাকেন। বর্তমানে হারলেমের ম্যানহাটন নর্থ প্যাট্রোল বরোতে কর্মরত ডেলাক্রুজ জানিয়েছেন, অন্য নারী পুলিশ কর্মকর্তারা যেন কর্মক্ষেত্রে মুখ খুলতে সাহস পান এবং নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই তিনি আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন। উল্লেখ্য, এই মামলাটি এনওয়াইপিডি-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা ধারাবাহিক যৌন কেলেঙ্কারির সর্বশেষ সংযোজন।
যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের বন্ড হিয়ারিং ছাড়াই বন্দি রাখার পক্ষে আদালতের রায়
কুরআনের আয়াতে অনুপ্রাণিত হয়ে নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাস থামিয়েছিলো যুবক, রক্ষা পেয়েছে ১৯ শিশু